০৮-০৩-১৯ প্রাতঃমুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - বিচার সাগর মন্থন করে একটা এমন বিষয় (টপিক) বের করো যে সব জায়গায় একই টপিকের উপর ভাষণ চলবে, এটাই হল তোমাদের ইউনিটি"

প্রশ্ন:-

কি ধরণের পরিশ্রম করতে করতে তোমরা বাচ্চারা পাশ উইথ অনার হয়ে যেতে পারো?

উত্তর:-

কর্ম-বন্ধনের ঊর্ধ্বে থাকো। যখন কারোর সঙ্গে কথা বলো তো আত্মা ভাই মনে করে ভাইকে দেখো। বাবার থেকে শুনলেও বাবাকে ভ্রূকুটিতে দেখো। ভাই-ভাই এর দৃষ্টিতে সেই স্নেহ আর সম্বন্ধ পরিপক্ক হয়ে যাবে। এটাই পরিশ্রমের কাজ, এতেই পাশ উইথ অনার হবে। উচ্চ পদ প্রাপ্ত করবে যে বাচ্চারা, এই পুরুষার্থ তারা অবশ্যই করবে*।

ওম্ শান্তি।

মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চাদের বোঝানো হয়েছে এটা হল মৃত্যুলোক, এর প্রতি তুলনা রূপে অমরলোকও আছে। ভক্তি মার্গে দেখানো হয় শঙ্কর পার্বতীকে অমরকথা শুনিয়েছিল। এখন অমরলোকে তো তোমরা যাও। শঙ্কর তো আখ্যান শোনায় না। আখ্যান শোনান জ্ঞান সাগর কেবল এক শিববাবা। শঙ্কর কোনো জ্ঞান সাগর নয়, যে আখ্যান শোনাবে। এই রকম সব বিষয়ের উপরে বাচ্চারা, তোমাদের বোঝাতে হবে। মৃত্যুর উপর কি ভাবে বিজয় প্রাপ্ত করা হয়, এই যে জ্ঞান (নলেজ) এটাই অমর করে, এতে আয়ু বাড়তে থাকে, ওখানে মৃত্যু হয় না। এখানে তোমরা ৫ বিকার বা রাবণের উপর বিজয় প্রাপ্ত করলে রাম রাজ্য বা অমরলোকের মালিক হও। মৃত্যুলোকে হল রাবণ রাজ্য, অমরলোকে হল রাম রাজ্য। দেবতাদের কখনো মৃত্যু গ্রাস করে না। ওখানে মৃত্যুর মিছিল হয় না। তাই এই টপিকও খুবই ভালো- মানুষ মৃত্যুর উপর কি করে বিজয় পেতে পারে। এ সবই হল জ্ঞানের কথা।ভারত অমরলোক ছিল, কত লম্বা আয়ু ছিল। সর্পের উদাহরণও সত্যযুগের জন্য। তারা এক চামড়ার খোলস ছেড়ে স্বাভাবিক ভাবে আরেকটি নেয়, একে বলা হয় বেহদের বৈরাগ্য। এখানে জানা আছে যে সম্পূর্ণ দুনিয়ার বিনাশ হবে। এই পুরোনো শরীরও ছাড়তে হবে। এটা ৮৪ জন্মের পুরানো চামড়া।অমরলোকে এরকম হয় না। ওখানে আবার মনে করে এখন শরীর বড়, জরাজীর্ণ হয়ে গেছে, একে ছেড়ে নতুন শরীর নেবে। আবার সাক্ষাৎকারও হয়, বুঝতে পারাটাকেই সাক্ষাৎকার বলা হয়ে থাকে। আমাদের এখন নতুন চামড়া তৈরী হচ্ছে। পুরানোটা এখন ছাড়তে হবে। সত্যযুগেও ঐরকমই হয়। সেটাকে বলা হয় অমরলোক, যেখানে মৃত্যু আসে না। নিজের থেকেই সময় মতো শরীর ছেড়ে দেয়। কচ্ছপের উদাহরণও এখানকার। কর্ম করে আবার অন্তর্মুখী হয়ে যায়। এই সময়ের উদাহরণ আবার ভক্তি মার্গেও কপি করে, কিন্তু শুধুই নাম মাত্র। তারা কিছুই বোঝে না। এখন তো তোমরা বোঝো রাখী বন্ধন উৎসব, দশহরা, দীপমালা, হোলি ইত্যাদি সব হল এই সময়ের। যা ভক্তি মার্গে চলে এসেছে। এই রকম ব্যাপার সত্যযুগে ছিল না। এখন এই ধরনের টপিক লেখো। মানুষ মৃত্যুর উপর বিজয় কি ভাবে প্রাপ্ত করতে পারে ? মৃত্যুলোক থেকে অমরলোকে কি ভাবে যেতে পারে ? এই ধরনের কথার উপর বোঝানোর জন্য প্রথমে লেখার দরকার হয়। যে রকম নাটকের স্টোরি লেখা হয়- আজ অমুক নাটক আছে। তোমাদেরও পয়েন্টসের লিস্ট থাকবে, আজ এই টপিকের উপর বোঝানো হবে। রাবণ রাজ্য থেকে দৈবী রাজ্যতে কিভাবে যাওয়া যায় ? এই ব্যাখ্যা যদিও একই। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের টপিক শুনলে মানুষ খুশী হবে যে বেহদের বাবার থেকে অনন্তের উত্তরাধিকার কিভাবে পাওয়া যায় ? যেরকম সন্ন্যাসীদের খবর কাগজে পড়ে - আজ ১২৫ জন সন্ন্যাসী যজ্ঞ রচনা করেছেন, তাতে এটা-ওটা শোনাবে। এখানে তো বাবা বলেন - *আমি এক-ই বার যজ্ঞ রচনা করি, যাতে সমস্ত পুরোনো দুনিয়া অর্পণ হয়ে যায়*। তারা তো অনেক যজ্ঞ রচনা করে। অনেক শোভা যাত্রা ইত্যাদি করে। এখানে তো তোমরা জানো, এই রুদ্র শিববাবার একটাই যজ্ঞ, যাতে সমস্ত পুরানো দুনিয়া অর্পিত হয়ে যায়, নতুন দুনিয়ার স্থাপনা হয়ে যায় আর তোমরা গিয়ে দেবতা হয়ে যাও। এটাও বাবা তোমাদের বোঝান। রচয়িতা বাবা এসেই নিজের আর রচনার আদি-মধ্য-অন্তের সমস্ত নলেজ দেন আর রাজযোগও শেখান। সত্যযুগে থাকেই পবিত্র দেবতারা। তারা রাজত্বও করেন। সেটাকে বলা হয় আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম। এটাও টপিক রাখতে পারো যে আদি সনাতন সত্যযুগী দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা কিভাবে হচ্ছে, বিশ্বে শান্তি কিভাবে স্থাপন হচ্ছে- এসে বোঝো। পরমপিতা পরমাত্মা ছাড়া বিশ্বে শান্তি স্থাপন করার রায় আর কেউ দিতে পারে না। এখানে রায় যিনি দেন সেও প্রাইজ পায়। বিশ্বে শান্তি স্থাপন করার প্রাইজ কিভাবে আর কে দেন, এটাও হলো টপিক। ঐরকম বিচার সাগর মন্থন করে টপিক বের করা চাই। এইরকম ব্যবস্থা করা হোক যে সব জায়গায় একই টপিক নেওয়া হবে, সকলের মধ্যে কানেকশন থাকবে। ঐরকম লিস্ট তৈরী করে প্রথমে নির্দেশ দিতে হবে। তারপর সংবাদ দিল্লিতেও যেন পৌঁছায় । সবাই যাতে জানতে পারবে যে, সব জায়গায় ঐরকম ভাষণ হচ্ছিল, একেই বলা হয় ইউনিটি। সমস্ত দুনিয়াতে ডিস্-ইউনিটি। রাম রাজ্যের মহিমা আছে- বাঘে-গরুতে একসাথে জল পান করে। ত্রেতাতে ঐরকম মহিমা আছে, তো সত্যযুগে কি না হবে ! এছাড়া শাস্ত্রে তো নানান রকমের কথা লিখে দিয়েছে। তোমরা তো বাবার থেকে একই কথা শোনো। দুনিয়াতে অনেক কথা বলা হতে থাকে। দ্বাপর থেকে শুরু করে কলিযুগ পর্যন্ত যা কিছু শাস্ত্র ইত্যাদি চলে এসেছে, ওখানে তো (সত্যযুগে) ওসব হয় না। ভক্তি মার্গের সব কথা সম্পূর্ণ হয়ে যায়। এখানে তোমরা যা কিছু দেখছো, সে সব হলো ইবিল। ওসব দেখেও দেখো না, শুনেও শুনো না। এখন বাবা যা বোঝাচ্ছেন সেটাই বুদ্ধিতে রাখো।



আমরা সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণরা কত উচ্চ। দেবতাদের থেকেও উচ্চতম। এই সময় আমরা ঈশ্বরীয় সন্তান, ধীরে ধীরে সংখ্যায় ক্রমশ বাড়তে থাকি। এত সহজ কথাও কারও বুদ্ধিতে আসে না। আমরা হলাম ঈশ্বরীয় সন্তান, তাই অবশ্যই স্বর্গের মালিক হওয়া চাই। কারণ সেই বাবা-ই স্বর্গের স্থাপনা করেন। কোটি কোটি বছর বলে দেওয়ার জন্য কোন কথা স্মরণে থাকে না। বাবা এসে স্মরণ করান, এটা তো ৫ হাজার বছরের ব্যাপার। তোমরা দেবী-দেবতা ছিলে। এখন আবার তোমাদের সেটাই তৈরী করছি। সামনে শোনার জন্য কতো খুশী আর রিফ্রেশমেন্ট আসে। যে বাচ্চারা জ্ঞানী, বুঝদার তাদের বুদ্ধিতে আসে- আমার তো বাবার থেকে অবশ্যই উত্তরাধিকার নিতে হবে। বাবা নতুন দুনিয়া রচনা করলে বাচ্চাদের অবশ্যই নতুন দুনিয়াতে থাকা চাই। এক বাবারই তো বাচ্চা সবাই। সবার ধর্ম, সবার বাসস্থান, আসা-যাওয়া সব আলাদা রকমের। কি করে মূলবতনে গিয়ে বাস করবে, এটাও বুদ্ধিতে আছে। মূলবতনে আত্মাদের শ্রেণীবদ্ধ সারণী (সিজরা) আছে, সূক্ষ্ম বতনে শ্রেণীবদ্ধ সারণী দেখানো যায় না। ওখানে যা কিছু দেখানো হয় সে সব হলো সাক্ষাৎকারের কথা। এই সব ড্রামাতে লিপিবদ্ধ আছে। সূক্ষ্মবতনেও যায়। ওখানে মুভি চলে। মাঝে, মুভিরও ড্রামা বানানো হয়েছিল। তারপর টকী বানানো হয় । সাইলেন্সের তো ড্রামা হতে পারে না। বাচ্চারা জানে আমরা সাইলেন্সে কি ভাবে থাকি। যেরকম ওখানে (মূলবতনে) আত্মাদের বংশানুক্রমিক বৃক্ষ-ঝাড় আছে, সেরকম এখানে মানুষের আছে। তো ঐরকম কথা বুদ্ধিতে রেখে তোমরা ভাষণ করতে পার। তবুও এই ঈশ্বরীয় পড়াতে টাইম লাগে। পড়তে পড়তে হয়ত এ সব বুঝেও যাবে, কিন্তু স্মরণের যাত্রা কোথায় ? যাতে ধারণা আর খুশী থাকবে ? এখন তোমরা যথার্থ নিয়মে যোগ শিখছ। বাচ্চাদের বুঝিয়েছি- সবাইকে ভাই-ভাই দেখো। আত্মার আসন তো এটাই, তাই ভগীরথ বাবার সিংহাসনও প্রসিদ্ধ। যখন কাউকে বোঝাবে, তখন ভাবো যে, আমি ভাইদের বোঝাচ্ছি। এই দৃষ্টিই থাকবে - এতেই অনেক পরিশ্রম। পরিশ্রমের দ্বারাই উচ্চ পদ প্রাপ্ত হয়। বাবাও ঐরকম দেখবে, বাবার নজরও ভ্রূকুটির মাঝখানে যাবে। আত্মা তো ছোট বিন্দু। আত্মাই তো শোনে। বাবাও এখানে আছেন তো ভাইও (ব্রহ্মার আত্মা)এখানে আছেন। এই রকম বুদ্ধিতে থাকলে, তোমরাও যেন জ্ঞান সাগরের সন্তান, জ্ঞান সাগর হয়ে যাও। তোমাদের জন্য তো এটা খুবই সহজ । গৃহস্থ ব্যবহারে যারা থাকে তাদের জন্য এই অবস্থায় আসা কিছুটা শক্ত । এখানে বসে শুনে তারপর বাড়ি ফিরে গেলে, সেখানকার পরিবেশ আবার ভিন্ন । এখানে সহজ। বাবা খুব যুক্তি বলে দেন - নিজেকে আত্মা মনে করো, বাবাকে স্মরণ করো। ইনিও ভাই, এই দৃষ্টি দ্বারা কর্মবন্ধনের থেকে অতীত হয়ে যাবে। শরীরেরও বিস্মরণ ঘটে, শুধু বাবাই স্মরণে থাকে। এর জন্য পরিশ্রম করতে থাকলে তবে পাশ উইথ অনার হবে। ঐরকম অবস্থা খুব কমেরই থাকে। বিশ্বের মালিকও সে-ই হয়। অষ্ট রত্নের মালা বলে কথা। তাই পুরুষার্থ করতে হবে। উচ্চ পদ যারা পাবে যে কোনো প্রকারে তারা পুরুষার্থ অবশ্যই করতে থাকবে। এতে দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই। ভাই-ভাই এর দৃষ্টি, স্নেহের সম্বন্ধ হয়ে যায়। কুদৃষ্টি সেখানে থেমে যায়, সেই জন্য বাবা বলেন তোমাদের গুহ্য গুহ্য বিষয় শোনাচ্ছি । এতে অভ্যাস করা পরিশ্রমের কাজ। এখানেও বসে আছ তো নিজেকে আত্মা মনে করো। আত্মাই শ্রবণ করে। শ্রবণে সক্ষম আত্মাকে তোমরা দেখো। মানুষ তো বলে দেয় আত্মা নির্লেপ। তবে কি শরীর শোনে ? শরীর শোনে - এটা তো ভুল । বাবা তোমাদের গুহ্য গুহ্য বিষয় শোনান । বাচ্চাদের তো পরিশ্রম করতে হবে। যে পূর্ব কল্পে তৈরী হয়েছিল সে অবশ্যই পরিশ্রম করবে। নিজের অনুভবও শোনাবে- ঐরকম ভাবে শুনতে শুনতে আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে। আমি আত্মাকেই শোনাই- "তোমার মন আমাতে নিযুক্ত করো ("মন্মনাভব"। আবার সে ওকে, ও তাকে বলে--" মন্মনাভব" অর্থাৎ বাবাকে স্মরণ করো। এটা হল গুপ্ত পরিশ্রম। যেরকম পড়াশুনাও একান্তে বৃক্ষের নীচে গিয়ে অভ্যাস করে, সেটা হল স্থূল ব্যাপার। এটা তো প্র্যাক্টিস করার ব্যাপার। প্রতিদিন তোমাদের এই প্র্যাকটিস বাড়তে থাকবে। তোমরা নতুন নতুন কথা শোনাও না। যেটা তোমরা এখন শুনছ সেটা আবার নতুন নতুন এসে শুনবে। কেউ বলে আমি দেরীতে এসেছি। আরে তুমি তো আরো-ই ফার্স্টক্লাস গুহ্য সব কথা শুনছ, যাতে পুরুষার্থ করলেই উচ্চ পদ প্রাপ্ত হয়। আরোই ভালো। মায়া তো শেষ পর্যন্ত ছাড়ে না। মায়ার লড়াই চলতে থাকে। যতক্ষণ না তোমাদের বিজয় প্রাপ্ত হচ্ছে। আবার অনায়াসেই তোমরা চলে যাবে। যে যত স্মরণ করবে, মনে করবে আমি বাবার কাছে যাচ্ছি, শরীর ছেড়ে দেয়। বাবা দেখেছেন ঐরকম ব্রহ্মতে লীন হওয়ার লক্ষ্য যারা রাখে তারা যখন শরীর ছাড়ে তো একদম নীরব হয়ে যায়। এছাড়া মোক্ষ তো কেউ পায় না, ফিরেও যেতে পারে না। নাটকে তো সব অ্যাক্টার্স দরকার। শেষে সবাই এসে যায়। যখন একজনও থাকবে না তখন ফিরে যাবে। যে কোনো মানুষ, সবাই চলে যাবে। তবে কিছু বাঁচবে। তারা বলবে সবাইকে সী-অফ করেছি। এই সময় সত্যযুগের স্থাপনা হচ্ছে। কতো শতকোটি মানুষ। সবাইকে আমরা সী-অফ করে আবার নিজের রাজধানীতে চলে যাব। জাগতিক দুনিয়ায় মানুষ বড়জোর ৪০-৫০ জনকে সী-অফ করবে। তোমরা কত জনকে সী-অফ করো। সব আত্মারা মশার ঝাঁকের মতো শান্তিধামে চলে যাবে। তুমি এসেছ সাথে নিয়ে যেতে আর সবাই কে পাঠানোর জন্য। তোমার ব্যাপার হলো ওয়ান্ডারফুল। এ তো কোটি কোটি মানুষ যাবে। ওদের সী-অফ করবে। সবাই মূলবতনে ফিরে যাবে। তোমরা মূলধামে গেলে, সেখানকার সংখ্যা বৃদ্ধি হতে থাকবে । বংশ বৃক্ষ (সিজরা) ক্রমাগত বড় হয়ে যাবে। তারপর রুন্ড মালা (বিষ্ণুর মালা), রুদ্রমালাতে (শিবের মালা) পরিণত হবে। এও তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে, রুদ্র মালা কি ভাবে রুন্ড মালা হয়। তোমাদের মধ্যে যাদের বিশাল বুদ্ধি তারাই এসব বুঝতে পারবে। বাবাকে যাতে বাচ্চারা স্মরণ করতে পারে তার জন্য রকম নানা রকম ভাবে বাবা বোঝাতে থাকেন । আমরা রুদ্রমালাতে গিয়ে রুন্ড মালাতে আসব (সুখধামে) । তারপর নম্বর অনুযায়ী আসতে থাকবে। কতো বড় রুদ্র মালা তৈরী হতে থাকে। এই জ্ঞানকে কেউই জানে না। কোথা থেকে এর আদি, এ বিষয়ে, এই জ্ঞানের বিষয়ে কেউই জানে না। একমাত্র তোমরা সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণরাই জানো। এই সঙ্গম যুগকে স্মরণ করলে সমস্ত নলেজ বুদ্ধিতে এসে যাবে।



তোমরা তো লাইট হাউস। সবাইকে নির্দিষ্ট ঠিকানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। তোমরা কি ভাবে ভালো লাইট হাউস হয়ে ওঠো ? এরকম কোনো কথাই নেই যা তোমাদের বোধগম্য নয়। তোমরা একাধারে সার্জেন, মহাজন, আবার ধোপাও। তোমাদের মধ্যে সব বিশেষত্বই এসে যায়। তোমাদেরও মহিমা হয়ে যায়, কিন্তু তা হয় নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে। যেমন যেমন কর্তব্য করতে থাকো তেমন তেমন খ্যাতি হয়। বাবা যে ডাইরেকশন দেন, তার উপর চিন্তন করা, সেমিনার করা বাচ্চারা, এ হল তোমাদের কাজ। বাবা কিছু বারণ করেন না। আচ্ছা, বেশী বলে কি লাভ ? বাবা বলেন "মন্মনাভব" । বাবা তোমাদের কতো পুষ্টিকর জিনিস খাওয়াচ্ছেন। আচ্ছা।



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন, স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী সন্তানদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার:-

১. সর্বদা এই নেশা যেন থাকে যে, আমরা সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণ, দেবতাদের থেকেও উচ্চ, কারণ এখন আমরা ঈশ্বরীয় সন্তান, আমরা হলাম মাষ্টার জ্ঞান সাগর। সব রকমের বিশেষত্বে আমরা পরিপূর্ণ হয়ে উঠি।

২. যা বাবা বোঝান সেটাই বুদ্ধিতে রাখতে হবে, এছাড়া আর কোনো কিছুই শুনেও শুনো না, দেখেও দেখো না। হিয়র নো ইভিল, সী নো ইভিল।

বরদান:-

মায়ার ছায়া থেকে বেরিয়ে স্মরণের ছত্রছায়ায় থাকা চিন্তা মুক্ত বাদশাহ ভব

যে সর্বদা বাবার স্মরণের ছত্রছায়ার নীচে থাকে, সে নিজেকে সর্বদা সেফ অনুভব করে। মায়ার ছত্রছায়ার থেকে বাঁচার উপায় হল বাবার ছত্রছায়া। ছত্রছায়ায় থাকে যে, সে সদা চিন্তা মুক্ত বাদশাহ হবে।যদি কোনো চিন্তা থাকে, তবে খুশী চলে যায়। খুশী চলে গেলে, দুর্বল হলে, মায়ার ছত্রছায়ার প্রভাব পড়ে যায়। কারণ দূর্বলতাই মায়াকে আহ্বান করে। মায়ার ছায়া স্বপ্নতেও পড়ে গেল তো খুবই দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়, তাই সর্বদা ছত্রছায়ার নীচে থাকো।

স্লোগান:-

বোধশক্তির স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে অলসতার লুজ স্ক্রুকে টাইট করে সর্বদা অ্যালার্ট থাকো*।