08-03-2020 প্রাতঃ মুরলি "অব্যক্ত বাপদাদা" ওম্ শান্তি ০৪-১২-৮৫ মধুবন


*সঙ্কল্পের ভাষা- সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষা*

আজ বাপদাদার সামনে ডবল রূপে ডবল সভা আয়োজিত হয়েছে l উভয় সভাই স্নেহী বাচ্চাদের সভা l এক, সাকার রূপধারী বাচ্চাদের সভা, দুই, আকাররূপী স্নেহী স্বরূপ বাচ্চাদের সভা l স্নেহের সাগর বাবার সাথে মিলনোৎসব উদযাপন করতে চতুর্দিকের আকার রূপধারী বাচ্চারা বাপদাদার সামনে তাদের স্নেহ প্রত্যক্ষ করাচ্ছে l বাপদাদা সব বাচ্চার স্নেহের সঙ্কল্প, হৃদয়ের বিভিন্ন উৎসাহব্যঞ্জক সঙ্কল্প, সেইসঙ্গে তাদের হৃদয়ের বিভিন্ন ভাবনার সাথে স্নেহ-সম্বন্ধের অধিকার থেকে বলা তাদের অধিকার রূপের মিষ্টি-মধুর বিষয়গুলো শুনছেন l প্রত্যেক বাচ্চা নিজের হৃদয়ের অবস্থা, নিজেদের বিভিন্ন প্রবৃত্তির পরিস্থিতির অবস্থা, চোখের ভাষায় সেবা-সমাচারের অবস্থা, স্নেহের শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্পের ভাষায় বাবার সামনে ব্যক্ত করছে l বাপদাদা সব বাচ্চার অন্তরঙ্গ ও মনখোলা আলাপচারিতা তিন রূপে শুনছেন l *এক, চোখের ভাষায়, দুই - ভাবনার ভাষায় এবং তিন - সঙ্কল্পের ভাষায় বাক্যালাপ করছে* l মুখের ভাষা তো কমন ভাষা l সেক্ষেত্রে এই তিন প্রকার ভাষা রুহানী যোগী জীবনের ভাষা, যা আত্মা রূপী বাচ্চারা এবং আত্মাদের পিতা জানেন ও অনুভব করেন l তোমাদের স্থিতি যত অন্তর্মুখী এবং সুইট সাইলেন্স স্বরূপে স্থিত হবে, ততই এই তিন ভাষা দ্বারা সকল আত্মাকে অনুভব করাতে পারবে l এই অলৌকিক ভাষা কতো শক্তিশালী ! মুখের ভাষা শুনে এবং শুনিয়ে মেজরিটি লোক ক্লান্ত হয়ে গেছে ! মুখের ভাষায় কোনও বিষয়কে স্পষ্ট করতে সময়ও লাগে l কিন্তু চোখের ভাষা ইশারা দেওয়ার ভাষা l মনের ভাবনার ভাষা তোমাদের মুখের অভিব্যক্তিতে প্রত্যক্ষ হয় l মুখের ভাব মনের ভাবনাকে প্রত্যক্ষ করায় l যেমন, যখন কেউ কারও সামনে উপস্থিত হ'লে, সেই ব্যক্তির উপস্থিতি স্নেহপূর্বক হোক বা শত্রু মনোভাবাপন্ন, অথবা স্বার্থ উদ্দেশ্যে, তার মনোভাব চোখে মুখে স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয় l কে কোন ভাবনার সাথে এসেছে সেটা চোখে ফুটে ওঠে l সুতরাং, ভাবনার ভাষা তোমরা মুখের ভাব থেকে জানতেও পার, বলতেও পার l একইরকম ভাবে, সঙ্কল্পের ভাষাও অতি শ্রেষ্ঠ ভাষা, কারণ সঙ্কল্প শক্তি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ শক্তি, মূল শক্তি l আর এই সঙ্কল্পের ভাষা সবচেয়ে তীব্রগতির ভাষা l যে যতই দূরে থাকুক, যোগাযোগের কোনও মাধ্যম না থাকলেও, তোমরা সঙ্কল্পের ভাষায় যে কোনও কাউকে মেসেজ দিতে পার l অন্তে এই সঙ্কল্পের ভাষাই কাজে আসবে l সায়েন্সের সাধন যখন ফেল হয়ে যায় অর্থাৎ বিকল হয়ে যায় তখন এই সাইলেন্সের সাধন প্রয়োজন হবে l যতই হোক, কোনো কানেকশন জুড়তে লাইন সদা ক্লিয়ার হওয়া আবশ্যক l যতোধিক তোমরা 'এক বাবা' এবং তাঁর দেওয়া নলেজে ও সেই নলেজ দ্বারা সেবাতে সদা বিজি থাকার অভ্যাসী হবে, ততোধিক শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্পে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে লাইন ক্লিয়ার হবে l ব্যর্থ সঙ্কল্পই ডিস্টার্বেন্সের কারণ l যত বেশি ব্যর্থ সমাপ্ত হয়ে শক্তিশালী সঙ্কল্প উৎপন্ন হবে, সঙ্কল্পের শ্রেষ্ঠ ভাষা ততই স্পষ্ট অনুভব করবে l ঠিক যেমন লোকে মুখের ভাষা অনুভব করে l সঙ্কল্পের ভাষা সেকেন্ডে মুখের ভাষা থেকে অনেক বেশি কাউকে অনুভব করাতে পার l সেকেন্ডে জীবনমুক্তির যে গায়ন আছে, তা' অনুভব করাতে পার l

অন্তর্মুখী আত্মাদের ভাষা এই অলৌকিক ভাষা l এখন সময় অনুসারে, এই ভাষা দ্বারা সহজে তোমরা সফলতা প্রাপ্ত করবে l পরিশ্রমও কম, সময়ও কম l কিন্তু সফলতা সহজ, সেইজন্য এখন এই অধ্যাত্ম ভাষা অভ্যাসে পরিণত কর l তাইতো, আজ বাপদাদাও বাচ্চাদের এই তিন ধরণের ভাষা শুনছেন এবং সব বাচ্চাকে রেসপন্স দিচ্ছেন l সবার অতি স্নেহস্বরূপ দেখে বাপদাদা সেই স্নেহ, স্নেহের সাগরে মিশিয়ে দিচ্ছেন l সবার স্মরণ সদাসর্বদার জন্য স্মারক রূপ হওয়ার বরদান দিচ্ছেন l সবার মনের বিভিন্ন ভাব জেনে সব বাচ্চার প্রতি সর্বভাবের রেসপন্স, সদা নির্বিঘ্ন ভব, সমর্থ ভব, সর্বশক্তিসম্পন্ন ভব'র শুভ ভাবনা এইভাবে দিচ্ছেন l বাবার শুভ ভাবনা যা কিনা বাচ্চাদেরও শুভ কামনা, পরিস্থিতি অনুযায়ী সহযোগের যা কিছু ভাবনা বা শুভ কামনা আছে, সেই সব শুভ কামনা বাপদাদার শ্রেষ্ঠ ভাবনার সাথে নিরন্তর সম্পন্ন হতে থাকবে l এগিয়ে যেতে যেতে কখনো কখনো কিছু বাচ্চার সামনে অতীতের হিসেবনিকেশ পরীক্ষা রূপে উপস্থিত হয় l হয় তা' দেহ-ব্যাধি রূপে বা মনের ব্যর্থ তুফান রূপে, অথবা সম্বন্ধ-সম্পর্ক রূপে আসে l অতি অভেদ্যরূপ সহযোগীদের থেকেও সহযোগের পরিবর্তে সামান্য হলেও মতবিরোধ হয় l যেমনই হোক, এই সব পুরানো হিসেবনিকেশ, পুরানো ঋণ শোধ হয়ে যাচ্ছে l অতএব, এই চাঞ্চল্যের মধ্যে না গিয়ে যদি বুদ্ধিকে শক্তিশালী বানাও, তবে বুদ্ধিবল দ্বারা এই পুরানো ঋণ, ঋণ হিসেবে অনুভূত হওয়ার পরিবর্তে নিরন্তর পাস হওয়ার জন্য তোমরা সেগুলোর প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করবে l কি হয়, বুদ্ধিবল না থাকার কারণে ঋণ এক বোঝারূপে তোমরা অনুভব কর, আর বোঝা হওয়ার কারণে বুদ্ধি দ্বারা যে যথার্থ নির্ণয় হওয়া উচিত তা' নির্ণয় করতে তোমরা অপারগ হও এবং যথার্থ নির্ণয় না হওয়ার কারণে বোঝা তোমাদের আরও নিচে নামিয়ে আনে l সফলতার উচ্চতায় পৌঁছাতে পার না, এই কারণে চুকিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা' আরও বেড়ে যায় l সেইজন্য পুরানো ঋণ চুকানোর সাধন হলো, সদা নিজের বুদ্ধি ক্লিয়ার রাখ l বুদ্ধিতে কোনও বোঝা রেখ না l বুদ্ধিকে যত হালকা রাখবে বুদ্ধিবল ততই সহজভাবে সফলতা প্রাপ্ত করাবে l সুতরাং ঘাবড়ে যেও না l ব্যর্থ সঙ্কল্প যাতে এমন বোঝা উৎপন্ন হয় - 'কেন হলো, কি হলো, হয়তো এটা এইরকমই', সেই ব্যর্থ সঙ্কল্প সমাপ্ত করে বুদ্ধির লাইন ক্লিয়ার রাখ, হালকা রাখ l আর তখন তোমাদের মনোবল ও বাবার সহায়তায় তোমরা নিরন্তর সফলতা অনুভব করবে l বুঝেছ !

ডবল লাইট হওয়ার পরিবর্তে তোমরা ডবল বোঝা নিয়ে নাও l এক - অতীতের হিসেবনিকেশ, দুই - ব্যর্থ সঙ্কল্পের বোঝা, তোমাদের ওপরে নিয়ে যাবে নাকি নিচে নামিয়ে আনবে ? সেইজন্য বাপদাদা সব বাচ্চার অ্যাটেনশন ফেরাচ্ছেন, তোমাদের বুদ্ধির বোঝা সদাসর্বদা চুকিয়ে দাও l যে কোন ধরণের বোঝা বুদ্ধিযোগকে হিসেবনিকেশের কষ্টভোগে পরিবর্তন করে, সেইজন্য সদা নিজের বুদ্ধি হালকা রাখ l তাহলে যোগবল, বুদ্ধিবল কষ্টভোগ সমাপ্ত করবে l

সেবার জন্য সকলের উদ্যম বিভিন্ন রূপে বাপদাদার কাছে পৌঁছেছে l যাই হোক না কেন, প্রকৃত হৃদয়ে নিঃস্বার্থ ভাব থেকে কেউ সেবা করলে, তেমন হৃদয়ের প্রতি প্রভু সহায় হন l আর প্রভুর সেই সহায় হওয়ার লক্ষণ - হৃদয়ে সন্তুষ্টতা এবং সেবায় সাফল্য l যা কিছু এখনও পর্যন্ত করেছ আর করছ সেই সব ভালো l তোমাদের অগ্রগতি হিসেবে আরও অধিকতর ভালো হবেই হবে l সেইজন্য চতুর্দিকের বাচ্চাদের বাপদাদা বরদান দিচ্ছেন, সদা উন্নতি কর এবং বিধিপূর্বক পরিব্যাপ্তি ঘটাও l এই বরদানের সাথে বাপদাদা লক্ষ কোটি গুন স্মরণ-স্নেহ দিচ্ছেন l বাপদাদা সব বাচ্চাকে তাদের হস্তলিখিত পত্র এবং মনোপত্র, উভয় পত্রের রেসপন্স অভিনন্দনের সাথে দিচ্ছেন l *সদা শ্রেষ্ঠ জীবনে বেঁচে থাকতে শ্রেষ্ঠ পুরুষার্থ কর l* স্নেহের এমন শ্রেষ্ঠ ভাবনার সাথে সবাইকে বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ, আর নমস্কার l

০৮/০৩/২০২০ মধুবন "অব্যক্ত-বাপদাদা" ওম্ শান্তি ০৮/১২/৮৬

*বালক তথা মালিক*

আজ বাপদাদা নিজের শক্তি সেনাদের দেখছেন, এই অধ্যাত্মমুখী শক্তিসেনা মনোজিত, জগতজিত হয়েছে ? মনোজিত অর্থাৎ মনের ব্যর্থ সঙ্কল্প ও নাকারাত্মক সঙ্কল্পজিত l এইরকম বিজয়ী বাচ্চারা বিশ্বের রাজ্য অধিকারী হয় l সেইজন্য গায়ন আছে, যে মন জয় করে, সে জগতজিত l এই সময় তোমরা যত বেশি সঙ্কল্প শক্তি রাখ অর্থাৎ মনকে স্ব-অধিকারে রাখ, ততই বিশ্ব-রাজত্বের অধিকারী হও l এখন এই সময়ে তোমরা ঈশ্বরীয় বালক আর এখনের বালকই বিশ্বের মালিক হবে l বালক হওয়া ব্যতীত তোমরা মালিক হতে পারবে না l সীমিত পরিসরের মালিক হওয়ার যা সীমিত আকাঙ্ক্ষা আছে, সেই সব সমাপ্ত ক'রে সীমিত পরিসরের মালিক ভাব থেকে বালক ভাবাস্থায় আসতে হবে, শুধুমাত্র তখনই বালক তথা মালিক হতে পারবে l এই কারণে ভক্তিমার্গে, দেশের অনেক বড় মালিক হতে পারে, ধনের মালিক হতে পারে, পরিবারের মালিক হতে পারে, কিন্তু বাবার সামনে সবাই "আমি তোমার বালক" বলে প্রার্থণা করে l 'আমি অমুক মালিক' - এইরকম কখনো বলবে না l তোমরা ব্রাহ্মণ বাচ্চারাও বালক হও এবং এই কারণে তোমরা এখন নিশ্চিন্ত বাদশাহ আর ভবিষ্যতে বিশ্বের মালিক, অর্থাৎ বাদশাহ হও l 'আমিই বালক তথা মালিক', এই স্মৃতি সদা নিরাহঙ্কার, নিরাকার স্থিতির অনুভব করায় l বালক হওয়া অর্থাৎ সীমিত পরিসরের জীবন পরিবর্তন হওয়া l যখন তোমরা ব্রাহ্মণ হয়েছিলে, ব্রাহ্মণ জীবনের প্রথম এবং সবচেয়ে সহজ পাঠ কোনটা পড়েছিলে ? বাচ্চারা বলেছে, *"বাবা"* আর বাবা বলেছেন, *"বাচ্চা"* অর্থাৎ *বালক l* এই এক শব্দের পাঠ তোমাদের নলেজফুল বানায় l যদি তোমরা 'বালক' অথবা 'বাচ্চা' এই এক শব্দ অধিগত কর, তাহলে শুধু এই এক বিশ্বের নয়, তিন লোকের নলেজ তোমরা পড়ে নিয়েছ l আজকের দুনিয়ায় কতই না নলেজফুল লোক হবে, কিন্তু তিন লোকের নলেজ তারা জানতে পারে না l এই ব্যাপারে তোমরা যারা 'একশব্দ' পড়েছ তাদের সামনে অতি নলেজফুলও অজ্ঞ l কতো সহজে তোমরা এমন মাস্টার নলেজফুল হয়েছ ! *বাবা আর বাচ্চা* - এই এক শব্দজ্ঞানে সবকিছু সমাহিত হয়ে আছে l যেমন, বীজে সম্পূর্ণ বৃক্ষ বিদ্যমান l তাইতো বালক তথা বাচ্চা হয়ে ওঠার অর্থ সদাসর্বদার জন্য মায়ার থেকে রক্ষা পাওয়া l মায়ার থেকে সুরক্ষিত থাকো, অর্থাৎ 'আমি বাচ্চা' সদা এই স্মৃতি বজায় রাখ l সদা এই স্মৃতিতে থাক, 'আমি বাচ্চা হয়েছি' অর্থাৎ রক্ষা পেয়েছি l এই পাঠ কঠিন কি ? সহজ, তাই না ! তাহলে বিস্মৃত কেন হও ? কিছু বাচ্চা এমন ভাবে যে তারা ভুলতে চায় না, কিন্তু ভুলে যায় l কেন ভুলে যাও ? তখন তারা বলে, দৃঢ়মূল সংস্কার বা পুরানো সংস্কার l কিন্তু যখন মরজীবা হয়েছ তখন মরণের সময় কি কর ? দাহ সংস্কার কর, তাই না ? তাহলে তো পুরানোর সংস্কার করেছ, তবেই তো নতুন জন্ম নিয়েছ সংস্কার যখন করেই নিয়েছ, তখন পুরানো সংস্কার কোথা থেকে আসে ? শরীরের দাহ সংস্কার হলে তো নাম রূপ সমাপ্ত হয়ে যায় l যদি নাম নেওয়াও হয়, তবে বলা হয় অমুকে ছিল l 'আছে' তা'তো বলবে না l সুতরাং শরীরের সংস্কার হওয়ার পরে শরীর সমাপ্ত হয়ে গেছে l ব্রাহ্মণ জীবনে কার সংস্কার করো ? তোমাদের শরীর তো সেই একই আছে l কিন্তু তোমরা তোমাদের পুরানো সংস্কার, পুরানো স্মৃতির, পুরানো স্বভাবের সংস্কার যখন কর, তখনই বলা হয় মরজীবা l যখন সেই সংস্কার তোমরা করেই নিয়েছ, তাহলে পুরানো সংস্কার কোথা থেকে আসে ! দাহ সংস্কার হয়ে গেছে এমন কেউ যদি তোমাদের সামনে এসে উপস্থিত হয় তাহলে তোমরা কি বলবে ? ভূতই তো বলবে, তাই না ! সুতরাং, এখানেও সংস্কার (শোধন) হওয়া পুরানো সংস্কার যদি জাগ্রত হয়ে যায় তবে কি বলবে ? সেটাও তো তোমরা মায়ার ভূত বলবে, নয় কি ? ভূতকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাই না ! তারা বর্ণন পর্যন্ত করে না l সেগুলো তোমাদের পুরানো সংস্কার বলে নিজেরাই নিজেদের প্রতারিত কর l যদি তোমাদের পুরানো জিনিস ভালো লাগে, তাহলে প্রকৃতপক্ষে সবচেয়ে যা পুরানো, তোমাদের আদিকালের সমুদায় সংস্কার স্মরণ কর l ওইগুলো তো সব মধ্যকালের সংস্কার ছিল, সবচেয়ে তো পুরানো হয়নি l মধ্যকে মধ্যভাগ বলে, সুতরাং মধ্যকাল অর্থাৎ মধ্যভাগকে স্মরণ করার অর্থ জলাবর্তের মাঝে হয়রান হওয়া l অতএব, কখনও এমন দুর্বল বিষয়ের চিন্তা ক'রোনা l এই দু'টো বিষয় সদা স্মরণে রাখ, 'বালক যে, সেই মালিক l' বালক ভাবের স্মৃতি স্বতঃই মালিকভাবের স্মৃতি নিয়ে আসে l কীভাবে বালক হবে, তোমরা তা' জানো না ?

বালক হও অর্থাৎ সমস্ত বোঝা থেকে হালকা হও l কখনো 'তোমার', কখনো 'আমার' বলা, এটাকে কঠিন করে তোলে l যখন কোনও কিছু কঠিন অনুভব কর তখন তোমরা বলো, 'তোমার কাজ, তুমিই জানো !'

আর যখন সহজ হয় তখন বলো 'আমার l' আমিত্বভাব সমাপ্ত হওয়া অর্থাৎ 'বালক তথা মালিক' হওয়া l বাবা তো বলেন, বেগার হও l এই শরীর রূপী ঘরও তোমার নয় l তোমরা এটা লোন পেয়েছ l শুধু ঈশ্বরীয় সেবার জন্য বাবা লোন দিয়ে তোমাদের ট্রাস্টি বানিয়েছেন l এটা ঈশ্বরীয় আমানত, যা তোমাদের কাছে গচ্ছিত আছে l তোমাদের যা কিছু ছিল 'সবকিছু তোমার' বলে বাবাকে দিয়ে দিয়েছ l এই প্রতিজ্ঞা তো তোমরা করেছিলে, নাকি ভুলে গেছ ? তোমরা এই প্রতিজ্ঞা করেছ, নাকি অর্ধেক তোমার, অর্ধেক আমার ? 'বাবা তোমার' বলার পরে যদি নিজের মনে করে তোমরা নিজেদের কার্যে লাগাও তাহলে কি হবে ? তা' থেকে তোমাদের সুখ অনুভব হবে ? সফলতা লাভ হবে ? অতএব, তোমরা সেটা তোমাদের ওপরে ন্যস্ত আমানত মনে করে, 'তোমার' অর্থাৎ সবই বাবার মনে করে চললে, নিজে থেকেই বালক তথা মালিকভাবের খুশিতে, তুরীয় আনন্দে থাকবে l বুঝেছ ? সুতরাং এই পাঠ সদা নিপুণভাবে কর l এই পাঠে তোমরা সিদ্ধহস্ত, তাই না ? নাকি নিজের নিজের জায়গায় ফিরে গিয়ে আবার ভুলে যাবে ? স্মৃতিমান হও l আচ্ছা !

সদা তুরীয় আনন্দে থাকা (রুহানী নেশায়) 'বালক তথা মালিক' বাচ্চাদের, যারা সদা বালকভাব অর্থাৎ নিশ্চিন্ত বাদশাহ ভাবের স্মৃতিতে থাকে, যারা তাদের ওপরে ন্যস্ত আমানত সদা ট্রাস্টি হয়ে সেবায় নিয়োজিত করে, সদা নবোদ্যমে, নবোৎসাহে থাকে, এমন বাচ্চাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ এবং নমস্কার l

*বরদানঃ-*

"বিশেষ" শব্দের স্মৃতি দ্বারা সম্পূর্ণতার অভীষ্ট লক্ষ্য প্রাপ্ত করে স্ব-পরিবর্তক ভব*

সদা এই স্মৃতি বজায় রাখ - *আমি 'বিশেষ' আত্মা, 'বিশেষ' কার্যের নিমিত্ত এবং বিশেষত্ব প্রদর্শনকারী l* এই বিশেষ শব্দ বিশেষভাবে স্মরণে রাখ, তোমাদের কথন বিশেষ হবে, দেখা বিশেষ হবে, যা কিছু কর তা' বিশেষ হতে হবে, ভাবনাও বিশেষ হতে হবে... সবকিছুতে বিশেষ হলে সহজে স্ব-পরিবর্তক তথা বিশ্ব পরিবর্তক হয়ে যাবে এবং সম্পূর্ণতা প্রাপ্ত করার যে লক্ষ্য রয়েছে, সেই অভীষ্টসিদ্ধি সহজেই প্রাপ্ত করে নিতে পারবে l

*স্লোগানঃ-*

বিঘ্নে ভীত হওয়ার পরিবর্তে পেপার মনে করে সেগুলো পার কর l*