08.09.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


প্রশ্নঃ -
তোমাদের এই ব্রাহ্মণ ধর্মে সবথেকে অধিক শক্তিশালী কি এবং তা কিভাবে ?

উত্তরঃ -
তোমাদের এই ব্রাহ্মণ ধর্ম এমনই, যা সম্পূর্ণ বিশ্বের সদগতি শ্রীমত অনুসারে করে দেয় । ব্রাহ্মণই সম্পূর্ণ বিশ্বকে শান্ত বানিয়ে দেয় । তোমরা ব্রাহ্মণ কুলভূষণ দেবতাদের থেকেও উচ্চ, তোমরা বাবার কাছে এই শক্তি পাও । তোমরা ব্রাহ্মণরা বাবার সাহায্যকারী হও, তোমরাই সবথেকে বড় উপহার পাও । তোমরাই সম্পূর্ণ ব্রহ্মাণ্ড এবং বিশ্বের মালিক হও ।

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি, আত্মিক সন্তানদের আত্মাদের পিতা বসে বোঝান । আত্মারূপী সন্তানরা জানে যে, আত্মাদের পিতা অবশ্যই প্রতি পাঁচ হাজার বছর অন্তর আসেন । এর নাম কল্প রেখে দিয়েছে, যা বলতেই হয় । এই ড্রামা বা সম্পূর্ণ সৃষ্টির আয়ু পাঁচ হাজার বছর, এই কথা এক বাবা বসেই বোঝান । একথা কখনোই কোনো মানুষের মুখ থেকে শুনতে পাবে না । তোমরা আত্মা রূপী বাচ্চারা এখানে বসে আছো । তোমরা জানো যে, বরাবর আমাদের অর্থাৎ আত্মাদের বাবা হলেন ওই একজনই । বাবা বসেই বাচ্চাদের নিজের পরিচয় দেন । যা কোনো মানুষই জানে না । কেউই জানে না যে, গড বা ঈশ্বর কি বস্তু, যেহেতু ওঁনাকে গড ফাদার বাবা বলা হয়, তাই তাঁর প্রতি অনেক প্রেম থাকা উচিত । তিনি যখন অসীম জগতের পিতা, তাহলে অবশ্যই তাঁর থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার পাওয়া যাবে । ইংরাজীতে খুব সুন্দর শব্দ বলা হয় - হেভেনলী গড ফাদার । হেভেন বলা হয় নতুন দুনিয়াকে, আর হেল বলা হয় পুরানো দুনিয়াকে, তবুও স্বর্গকে কেউই জানে না । সন্ন্যাসীরা তো মানেই না । তাঁরা কখনোই এমন বলবেন না যে, বাবা হলেন স্বর্গের রচয়িতা। হেভেনলী গড ফাদার - এই শব্দ খুবই মিষ্টি, আর হেভেনও বিখ্যাত । বাচ্চারা, তোমরা যারা সেবাপরায়ণ, তাদের বুদ্ধিতে হেভেন এবং হেলের সম্পূর্ণ চক্র, সৃষ্টির আদি - মধ্য, অন্ত ঘুরতে থাকে, কিন্তু সবাই তো একরস সেবাপরায়ণ হয় না ।

তোমরা আবার নিজের রাজধানী স্থাপন করছো । তোমরা বলবে, আমরা আত্মারূপী বাচ্চারা বাবার শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠ মতে চলছি । উঁচুর থেকেও উঁচু হলো বাবার শ্রীমত । শ্রীমদ্ভগবদগীতারও মহিমা আছে । এ হলো এক নম্বর শাস্ত্র । বাবার নাম শুনলেই চট করে তাঁর উত্তরাধিকার স্মরণে এসে যায় । এই দুনিয়াতে কেউই জানে না যে, গড ফাদারের থেকে কি পাওয়া যায় । বেশীরভাগ বলে থাকে - প্রাচীন যোগ, কিন্তু বুঝতেই পারে না যে, এই প্রাচীন যোগ কে শিখিয়েছেন ? ওরা তো কৃষ্ণের কথাই বলবে, কারণ গীতাতে কৃষ্ণের নাম দিয়ে দিয়েছে । এখন তোমরা বুঝতে পারো যে, বাবাই রাজযোগ শিখিয়েছেন, যাতে সবাই মুক্তি আর জীবনমুক্তি পায় । তোমরা এও বুঝতে পারো যে, এই ভারতেই শিববাবা এসেছিলেন, তাঁর জয়ন্তীও এখানেই পালন করা হয়, কিন্তু গীতাতে নাম গুপ্ত করে দেওয়ার কারণে মহিমাও গুপ্ত হয়ে গিয়েছে । যাঁর থেকে সম্পূর্ণ দুনিয়া সুখ - শান্তি প্রাপ্ত করে, সেই বাবাকেই সবাই ভুলে গেছে । একে বলা হয়, একমাত্র ভুলের নাটক । বড়র থেকেও বড় ভুল হলো এই যে, বাবাকে কেউই জানে না । কখনো বলে দেয়, তিনি নাম - রূপ থেকে পৃথক, আবার বলে দেয়, তিনিই কচ্ছপ - মৎস অবতার । তিনিই নুড়ি - পাথরের মধ্যে আছেন । ভুলের পরে ভুল হয়ে যেতে থাকে । সিঁড়ি নীচে নামতেই থাকে । কলাও কম হতে থাকে, মানুষ তমোপ্রধান হতে থাকে । ড্রামার নিয়ম অনুসারে যেই বাবা স্বর্গের রচয়িতা, যিনি ভারতকে স্বর্গের মালিক বানিয়েছেন, তাঁকে কোণায় কোণায়, নুড়ি - পাথরের মধ্যে বলে দেয় । বাবা এখন বোঝাচ্ছেন, তোমরা কিভাবে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে এসেছো, কেউই কিছু জানে না । ড্রামা কি, একথা জিজ্ঞেস করতে থাকে । এই দুনিয়া কবে থেকে শুরু হয়েছে ? নতুন সৃষ্টি কবে ছিলো, তখন বলে দেবে লাখ বছর আগে । মানুষ মনে করে যে, পুরানো দুনিয়াতে তো এখনো অনেক বছর অবশিষ্ট আছে, একেই অজ্ঞান অন্ধকার বলা হয় । এমন মহিমাও আছে যে, জ্ঞানের কাজল সদগুরু দিয়েছিলেন, অজ্ঞান অন্ধকারের বিনাশ হয়েছিলো । তোমরা বুঝতে পারো যে, রচয়িতা বাবা অবশ্যই স্বর্গের রচনাই করবেন । বাবা এসেই নরককে স্বর্গ বানান । রচয়িতা বাবা এসেই এই সৃষ্টির আদি - মধ্য এবং অন্তের জ্ঞান শোনান । তিনি অন্তিম সময়েই আসেন । সময় তো লাগেই, তাই না । বাচ্চাদের এও বোঝানো হয়েছে যে, জ্ঞানে এতটা সময় লাগে না, যতটা স্মরণের যাত্রায় লাগে । ৮৪ জন্মের কাহিনী তো যেন এক গল্প, আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর পূর্বে কার রাজত্ব ছিলো, সেই রাজ্য কোথায় গেলো ?

বাচ্চারা, তোমাদের এখন সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে । তোমরা হলে কতো সাধারণ, অজামিলের মতো পাপী, অহল্যা, কুব্জাদের মতো, ভিলনীদের মতো পতিতদেরও বাবা কতো উঁচু বানান । বাবা বোঝান যে - তোমরা কি থেকে কি হয়ে গেছো । বাবা এসে বোঝান - এখন পুরানো দুনিয়ার অবস্থা দেখো কেমন ? মানুষ কিছুই জানে না যে, সৃষ্টিচক্র কিভাবে ঘুরতে থাকে ? বাবা বলেন যে, তোমরা তোমাদের বুকে হাত রেখে নিজেকে জিজ্ঞেস করো - আগে এইসব কথা জানতে কি ? কিছুই জানতে না । তোমরা এখন জানো যে, বাবা আবারও এসে আমাদের এই বিশ্বের বাদশাহী দেন । কারোর বুদ্ধিতেই একথা আসবে না যে, বিশ্বের বাদশাহী কি ? বিশ্ব অর্থাৎ সম্পূর্ণ দুনিয়া । তোমরা জানো যে, বাবা আমাদের এমন রাজ্য দেন, যা অর্ধেক কল্প কেউই আমাদের থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে না । বাচ্চারা, তাই তোমাদের কতো খুশী হওয়া উচিত । তোমরা বাবার থেকে কতবার এই রাজত্ব নিয়েছো । বাবা সত্য, তিনি সত্য শিক্ষক, তিনিই আবার সদগুরু । কখনোই তোমরা আগে শোনো নি । এখন অর্থ সহিত তোমরা বুঝতে পারো । তোমরা তো বাচ্চা, বাবাকে তো স্মরণ করতেই পারো । আজকাল ছোটবেলাতেই গুরু করা হয় । গুরুর চিত্র তৈরী করে গলায় ধারণ করে অথবা ঘরে রেখে দেয় । এখানে তো আশ্চর্যের -- বাবা, টিচার, সদগুরু সব একই । বাবা বলেন, আমি তোমাদের সাথে করেই নিয়ে যাবো । তোমাদের যখন জিজ্ঞেস করবে, তোমরা কি পড়ো ? বলবে, আমরা নতুন দুনিয়ার রাজত্ব প্রাপ্ত করার জন্য রাজযোগের অভ্যাস করি । এ হলোই রাজযোগ । যেমন ব্যরিস্টারের যোগ হয়, তাহলে বুদ্ধির যোগ অবশ্যই ব্যরিস্টারের প্রতিই যাবে । টিচারকে তো অবশ্যই স্মরণ করবে, তাই না । তোমরা বলবে, আমরা স্বর্গের রাজত্ব প্রাপ্ত করার জন্যই এই পড়া পড়ি । তোমাদের কে পড়ান ? শিববাবা ভগবান । তাঁর নাম তো একই, যা চলে আসছে । রথের নাম তো নেই । আমার নামই হলো শিব । বাবা শিব আর রথ ব্রহ্মা বলা হবে । এখন তোমরা জানো যে, তিনি কতো সুন্দর, শরীর তো একটাই । এনাকে ভাগ্যশালী রথ কেন বলা হয় ? কেননা এনার মধ্যে শিববাবার প্রবেশতা হয়, তাই অবশ্যই দুই আত্মা হলো । এও তোমরাই জানো, আর কারোরই তো এই কথা খেয়ালে আসে না । এখন দেখানো হয়, ভাগীরথ গঙ্গাকে নিয়ে এসেছিলো । সে কি জল নিয়ে এসেছিলো ? এখন তোমরা প্রত্যক্ষভাবে দেখো যে -- কি নিয়ে এসেছিলো, কে নিয়ে এসেছিলো ? কে প্রবেশ করেছিলেন ? বাবা প্রবেশ করেছিলেন তো, তাই না । মানুষের মধ্যে জল তো প্রবেশ করবেই না । জটা দিয়ে জল তো আর প্রবাহিত হবেই না । এই বিষয়ে মানুষ কখনো খেয়ালও করে না । এমন বলাও হয় যে - ধর্মই শক্তি । ধর্মে শক্তি আছে । তোমরা বলো, সবথেকে বেশী কোন ধর্মে শক্তি আছে ? ব্রাহ্মণ ধর্মে, হ্যাঁ, এ ঠিক, যা কিছুই শক্তি আছে, তা ব্রাহ্মণ ধর্মেই আছে । আর কোনো ধর্মে কোনো শক্তি নেই । তোমরা এখন হলে ব্রাহ্মণ । ব্রাহ্মণরা বাবার থেকে শক্তি পায়, যাতে তোমরা এই বিশ্বের মালিক হয়ে যাও । তোমাদের মধ্যে কতো বেশী শক্তি আছে । তোমরা বলবে যে, আমরা ব্রাহ্মণ ধর্মের । কারোর বুদ্ধিতে একথা বসবে না । যদিও বিরাট রূপ বানানো হয়েছে, তবুও তা অর্ধেক । মুখ্য রচয়িতা আর তাঁর প্রথম রচনাকে কেউই জানে না । বাবা হলেন রচয়িতা, তারপর ব্রাহ্মণ হলো শিখা, এতে শক্তি আছে । বাবাকে কেবল স্মরণ করলেই শক্তি অর্জন করা যায় । বাচ্চারা তো অবশ্যই নম্বরের ক্রমানুসারে তৈরী হবে, তাই না । তোমরা এই দুনিয়াতে হলে সর্বোত্তম ব্রাহ্মণ কুলভূষণ । তোমরা দেবতাদের থেকেও উচ্চ । তোমরা এখন শক্তি অর্জন করো । সবথেকে বেশী শক্তি আছে ব্রাহ্মণ ধর্মে । ব্রাহ্মণরা কি করে ? সম্পূর্ণ বিশ্বকে তারা শান্ত বানিয়ে দেয় । তোমাদের ধর্ম এমনই, যা শ্রীমতের দ্বারা সকলেরই সদগতি করে । তাই তো বাবা বলেন, আমি তোমাদের নিজের থেকেও উচ্চ বানাই । তোমরা ব্রহ্মাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে সম্পূর্ণ বিশ্বের মালিক হও । তোমরাই সম্পূর্ণ বিশ্বের উপর রাজত্ব করবে । এখন তো গাওয়া হয় - ভারত আমাদের দেশ । কখনো মহিমার গান করে, কখনো আবার বলে - ভারতের কি অবস্থা । জানেই না যে, ভারত কবে এতো উচ্চ ছিলো ! মানুষ তো মনে করে স্বর্গ অথবা নরক এখানেই । যার অর্থ, মোটর ইত্যাদি আছে, সে মনে করে, আমি স্বর্গে আছি । একথা বুঝতেই পারে না যে, নতুন দুনিয়াকেই স্বর্গ বলা হয় । এখানে সবকিছুই শিখতে হবে । সায়েন্সের শিক্ষাও ওখানে আবার কাজে আসে । এই সায়েন্সও ওখানে সুখ প্রদান করে । এখানে তো এই সবকিছুতে অল্পকালের সুখ । বাচ্চারা, ওখানে তোমাদের জন্য এইসব স্থায়ী সুখ হয়ে যাবে । এখানে সবকিছুই শিখতে হবে, যেই সংস্কার তোমরা আবার ওখানে নিয়ে যাবে । নতুন আত্মারা কেউই আসবে না, যারা এই জ্ঞান শিখবে । এখানকার বাচ্চারাই সায়েন্স শিখে ওখানে যায় । তারা সব খুব ভালোভাবে শিখেই যাবে । সব সংস্কারই এখান থেকে নিয়ে যাবে, যা ওখানে কাজে আসবে । এখন হলো অল্পকালের সুখ । এরপর এই বোম্বস ইত্যাদিই সব শেষ করে দেবে । মৃত্যু ছাড়া এই শান্তির রাজ্য কিভাবে আসবে ? এখানে তো অশান্তির রাজ্য । এও তোমাদের মধ্যে নম্বরের ক্রমানুসারেই বুঝতে পারবে যে, আমরা প্রথম প্রথম নিজের ঘরে ফিরে যাবো তারপর সুখধামে আসবো । সেই সুখধামে বাবা তো আসেনই না । বাবা বলেন যে, আমারও তো বাণপ্রস্থ রথ চাই, তাই না । আমি ভক্তিমার্গেও সকলেরই মনকামনা পূরণ করে এসেছি । সন্দেশীদেরও দেখানো হয়েছে - ভক্তরা কিভাবে তপস্যা পূজা ইত্যাদি করে, দেবীদের সাজিয়ে, পূজা করে তারপর আবার সমুদ্রে ডুবিয়ে দেয় । এতে কতো খরচ হয় । তোমরা জিজ্ঞেস করো, এ কবে থেকে শুরু হয়েছে ? তখন বলবে, পরম্পরা ধরে চলে আসছে । মানুষ কতো বিভ্রান্ত হতে থাকে । এও সব ড্রামা । বাবা বারবার বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলেন, আমি তোমাদের খুবই মিষ্টি বানাতে এসেছি । এই দেবতারা কতো মিষ্টি । এখন তো মানুষ কতো কটু । বাবাকে যারা অনেক সাহায্য করেছিলো, তাদেরই পূজা করতে থাকে । তোমাদেরও পূজা হয়, এবং তোমরাও উচ্চ পদ প্রাপ্ত করো । বাবা নিজেই বলেন, আমি তোমাদের নিজের থেকেও উঁচু বানাই । উঁচুর থেকেও উঁচু ভগবানের হলো শ্রীমৎ । কৃষ্ণের শ্রীমৎ তো আর বলা হবে না । গীতাতেও শ্রীমৎ বিখ্যাত । কৃষ্ণ তো এই সময় বাবার থেকে উত্তরাধিকার নিচ্ছেন । কৃষ্ণের আত্মার রথেই বাবা প্রবেশ করেছেন । এ কতো আশ্চর্যের কথা । কখনোই একথা কারোর বুদ্ধিতেই আসবে না । যারা বুঝবে, তাদেরও বুঝতে অনেক পরিশ্রম লাগে । বাবা কতো ভালোভাবে বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলেন । বাবা লেখেন, সর্বোত্তম ব্রহ্মা মুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণ । তোমরা উচ্চ সেবা করো, তাই এই উপহার পাও । তোমরা যখন বাবার সাহায্যকারী হও, তখন পুরুষার্থের নম্বর অনুসারে সবাই উপহার পায় । তোমাদের মধ্যেও অনেক শক্তি আছে । তোমরা মানুষকে স্বর্গের মালিক করতে পারো । তোমরা হলে আত্মা রূপী সেনা । তোমরা যদি এই ব্যাজ না লাগাও তাহলে মানুষ কিভাবে বুঝবে যে, এরাও আত্মিক মিলিটারী । মিলিটারীর লোকেরা সবসময় ব্যাজ পড়ে থাকে । শিববাবা হলেন নতুন দুনিয়ার রচয়িতা । ওখানে এই দেবতাদের রাজ্য ছিলো, এখন আর নেই । এখন বাবা বলেন মনমনাভব । দেহ সহিত সব সম্বন্ধ ত্যাগ করে আমাকে (মামেকম ) স্মরণ করো, তাহলে কৃষ্ণের সাম্রাজ্যে এসে যাবে । এতে তো লজ্জার কোনো কথা নেই । তোমাদের বাবার স্মরণ থাকবে । বাবা এনার জন্যও বলেন, ইনি নারায়ণের পূজা করতেন, নারায়ণের মূর্তি সঙ্গে থাকতো । চলতে - ফিরতে তাঁকেই দেখতেন । বাচ্চারা এখন তো তোমাদের জ্ঞান আছে, তাই ব্যাজ তো অবশ্যই লাগিয়ে রাখা উচিত । তোমরাই নর থেকে নারায়ণ হবে । তোমরাই রাজযোগ শেখাও । নর থেকে নারায়ণ বানানোর সেবা তোমরাই করো । তোমাদের নিজেদের দেখতে হবে, আমাদের মধ্যে কোনো অবগুণ তো নেই ?

বাচ্চারা, তোমরা বাপদাদার কাছে আসো, বাবা হলেন শিববাবা আর দাদা হলেন তাঁর রথ । বাবা তো অবশ্যই রথের দ্বারাই মিলিত হবেন, তাই না । তোমরা বাবার কাছে আসো রিফ্রেশ হতে । সম্মুখে বসলেই স্মরণে আসে । বাবা তোমাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছেন । বাবা যখন সম্মুখে বসে আছেন তখন খুব বেশী করে স্মরণে আসা উচিত । ওখানেও তোমরা রোজ স্মরণের যাত্রাকে বৃদ্ধি করতে পারো । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) নিজেকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে যে, আমাদের মধ্যে কোনো অবগুণ নেই তো ? দেবতারা যেমন মিষ্টি, তেমন মিষ্টি হয়েছি কি ?

২) বাবার শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠ মতে চলে নিজের রাজধানী স্থাপন করতে হবে । সেবাপরায়ণ হওয়ার জন্য এই সৃষ্টির আদি - মধ্য এবং অন্তের, স্বর্গ এবং নরকের জ্ঞান বুদ্ধিতে ঘোরাতে হবে ।

বরদান:-
শ্রেষ্ঠ ভাবনার আধারে সকলকে শান্তি এবং শক্তির কিরণ দান করে বিশ্ব কল্যাণকারী ভব

বাবার সঙ্কল্প এবং বাণীতে, নয়নে যেমন সদা কল্যাণের ভাবনা বা কামনা আছে, বাচ্চারা, তেমনই যেন তোমাদের সঙ্কল্পে বিশ্ব কল্যাণের ভাবনা বা কামনা পরিপূর্ণ থাকে । কোনো কার্য করার সময় বিশ্বের সর্ব আত্মা যেন সামনে হাজির থাকে । মাস্টার জ্ঞান সূর্য হয়ে শুভ ভাবনা বা শ্রেষ্ঠ কামনার আধারে শান্তি এবং শক্তির কিরণ দান করতে থাকো, তখনই বলা হবে বিশ্ব কল্যাণকারী, কিন্তু এরজন্য সর্ব বন্ধন মুক্ত, স্বতন্ত্র হও ।

স্লোগান:-
"আমিত্ব ভাব এবং আমার ভাব" এ হলো দেহবোধের দ্বার । এখন এই দ্বারকে বন্ধ করো ।