08.11.2019 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা ‐- বাবা হলেন অবিনাশী বৈদ্য, যিনি একটি মহামন্ত্র দ্বারাই তোমাদের সব দুঃখ দূর করে দেন"

প্রশ্নঃ -
মায়া তোমাদের মধ্যে কেন বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং কি কারণে ?

উত্তরঃ -
১) কেননা তোমরা হলে মায়ার সবচেয়ে বড় গ্রাহক । মায়ার গ্রাহক কমে যেতে শুরু করলেই সে বিঘ্ন সৃষ্টি করে ।
২) যখন অবিনাশী বৈদ্য তোমাদের ওষুধ দেন, তখন মায়া রূপী রোগ উথলে ওঠে, সেইজন্য বিঘ্ন আসলে ভয় পেও না। "মন্মনাভব" মন্ত্র দ্বারাই মায়া দূরে সরে যাবে।

ওম্ শান্তি ।
বাবা বাচ্চাদের বসে বোঝান, মানুষ 'মনের শান্তি, মনের শান্তি ' বলে হয়রান হয়ে যায় । রোজ বলেও থাকে ওম্ শান্তি । কিন্তু এর অর্থ না জানার কারণে শান্তি চাইতেই থাকে । বলেও থাকে আই এম আত্মা, আই এম সাইলেন্স (আমি আত্মা শান্ত এবং সাইলেন্স বা অন্তর্মুখী)। আমাদের স্বধর্মই হলো সাইলেন্স । তবে স্বধর্মই যখন শান্তি, তখন কেন শান্তি চেয়ে থাকে ? অর্থ না বোঝার কারণেই চাইতে থাকে । তোমরা বুঝেছ এটা হল রাবণ রাজ্য । কিন্তু ওরা তো ( লৌকিকের) বুঝতেই চায় না রাবণ সম্পূর্ণ দুনিয়াতে প্রধান আর বিশেষ করে ভারতের শত্রু । এইজন্যই রাবণকে জ্বালাতেই থাকে । এমন কোনো মানুষ আছে, যাকে প্রতিবছর জ্বালিয়ে আসছে? একে তো জন্ম-জন্মান্তর, কল্প-কল্পান্তর ধরে জ্বালিয়ে আসছে । কেননা এ হলো তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। ৫ বিকারের জালে সবাই ফেঁসে আছে । জন্মই হয় ভ্রষ্টাচার দ্বারা, সুতরাং এটা তো রাবণ রাজ্য । এই সময় অগাধ দুঃখ । এর নিমিত্ত কে ? রাবণ, এটা কারও জানা নেই দুঃখ কিসের কারণে হচ্ছে । রাজ্যটাই রাবণের । সবচেয়ে বড় শত্রু তো এই । প্রতি বছর তার কুশপুত্তলিকা তৈরি করে জ্বালিয়ে দেয় । প্রতি বছরই এর উচ্চতা বৃদ্ধি পেতেই থাকে, দুঃখও বৃদ্ধি পেতে থাকে । এতো বড় বড় সাধু, সন্ত, মহাত্মা ইত্যাদিরা আছে কিন্তু তাদের একজনও কেউ জানেনা যে, রাবণ-ই আমাদের শত্রু, যাকে আমরা প্রতি বছর জ্বালিয়ে আসছি, তারপর খুশির উৎসব পালন করে থাকে । ওরা ভাবে রাবণ মরেছে আর আমরা লঙ্কার মালিক হতে পেরেছি । কিন্তু মালিক হয় না । কত পয়সা খরচ করে । বাবা বলেন, তোমাদের অগুনতি টাকা পয়সা দিয়েছিলাম, সেসব কোথায় হারিয়েছ ? দশহরা উপলক্ষে লক্ষ টাকা খরচ করে । রাবণকে মেরে আবার লঙ্কা লুট করে (বিকারগ্রস্ত হয়ে যায়) । কিছুই জানেনা, কেন রাবণকে জ্বালানো হয় । এই সময় সবাই এর বিকারের জালে আটকে পড়ে আছে । অর্ধকল্প ধরে রাবণকে জ্বালিয়ে আসছে, কেননা তারা দুঃখী । তারা এটাও জানে রাবণের রাজ্যে আমরা খুব দুঃখী। এটা জানা নেই যে, সত্যযুগে ৫ বিকার থাকেনা । রাবণ জ্বালানো ইত্যাদি হয়না । ওদের জিজ্ঞাসা করো কবে থেকে এসব পালন করে আসছো ? বলবে অনাদিকাল ধরে হয়ে আসছে । রাখিবন্ধন কবে থেকে শুরু হয়েছিল ? বলবে অনাদিকাল ধরে হয়ে আসছে । সুতরাং এসব বিষয় বোঝার আছে, তাইনা । মানুষের বুদ্ধি কি হয়ে গেছে । না জানোয়ার, না মানুষ, কোনও কাজের নয় । স্বর্গ কি একদমই জানেনা । ভাবে - এই দুনিয়া ভগবান তৈরি করেছেন । দুঃখে তবুও ভগবানকে স্মরণ করে বলে হে ভগবান, এই দুঃখ থেকে মুক্ত কর । কিন্তু কলিযুগে তো সুখী হওয়া সম্ভব নয় । দুঃখ তো অবশ্যই ভোগ করতে হবে । সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতেই হবে । নতুন দুনিয়া থেকে পুরানো দুনিয়ার শেষ পর্যন্ত সমস্ত রহস্য বাবা এসে বুঝিয়ে বলেন । বাচ্চাদের কাছে এসে বলেন সমস্ত দুঃখের ওষুধ একটাই । তিনি অবিনাশী বৈদ্য, তাইনা । ২১ জন্মের জন্য সবাইকে দুঃখ থেকে মুক্ত করেন । লৌকিক বৈদ্যরা তো নিজেরাই রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে । ইনি হলেন অবিনাশী বৈদ্য । তোমরা এটা বুঝেছ - দুঃখ যেমন অগাধ সুখও তেমনি অগাধ । বাবা অগাধ সুখ প্রদান করেন । ওখানে (সত্য যুগে) দুঃখের চিহ্ন পর্যন্ত নেই । সুখী হওয়ারই ওষুধ । শুধুমাত্র আমাকে স্মরণ করলে পবিত্র সতোপ্রধান হয়ে যাবে, সব দুঃখ দূর হয়ে যাবে । তারপর শুধুই সুখ আর সুখ । গাওয়াও হয় বাবা দুঃখ হরণকারী, সুখ প্রদানকারী । অর্ধকল্পের জন্য তোমাদের সব দুঃখ দূর হয়ে যায়। তোমরা শুধু নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো ।

আত্মা আর জীব এই দুইয়েরই খেলা । নিরাকার আত্মা অবিনাশী, আর সাকার শরীর বিনাশী - এরই খেলা চলে । এখন বাবা বলেন, দেহ সহ দেহের সব সম্বন্ধকে ভুলে যাও । গৃহস্থ ব্যবহারে থেকেও এমনটাই ভাবো যে, আমাকে এবার ফিরে যেতে হবে । পতিত তো যেতে পারবে না সেইজন্য মামেকম্ স্মরণ করো, তবেই সতোপ্রধান হয়ে যাবে। বাবার কাছে ওষুধ আছে না ! বাবা এও বলেছেন, মায়া অবশ্যই বিঘ্ন সৃষ্টি করবে । তোমরা হলে রাবণের গ্রাহক, তাইনা ! মায়ার গ্রাহক চলে যাবে এরজন্য তো মায়া অবশ্যই মরিয়া হয়ে উঠবে । সুতরাং বাবা বোঝান, এ হলো ঈশ্বরীয় পঠন-পাঠন, কোনও ওষুধ নয় । ওষুধ হলো স্মরণের যাত্রা । এই একটা ওষুধ দ্বারাই তোমাদের সব দুঃখ দূর হয়ে যাবে, যদি আমাকে নিরন্তর স্মরণ করার পুরুষার্থ কর। ভক্তি মার্গে এমন অসংখ্য মানুষ আছে, যাদের মুখ চলতেই থাকে । কেউ না কেউ রাম মন্ত্র জপ করতেই থাকে, তারা গুরুর কাছ থেকে মন্ত্র পেয়েছে, এতোবার জপ তোমাদের করতেই হবে । ওদের বলা হয় রাম নাম জপকারী। একে বলে রাম নামের দান । এরকম অসংখ্য সংস্থা তৈরি হয়েছে । রাম-রাম জপ করতে থাকলে লড়াই, ঝগড়া করতে পারবে না, ব্যস্ত থাকবে । কেউ কিছু বললেও রেসপন্স করবে না। খুব অল্প সংখ্যকই এমন করে থাকে । এখানে বাবা বুঝিয়েছেন, মুখে রাম-রাম করার প্রয়োজন নেই । এ হলো অজপা জপ, নিরন্তর বাবাকে স্মরণ করে যাও । *বাবা বলেন, আমি রাম নই । রাম তো ত্রেতা যুগে ছিল, যার রাজত্ব ছিল, তাকে জপ করার প্রয়োজন নেই* । বাবা বলেন ভক্তি মার্গে এইভাবে স্মরণ করতে করতে, পূজা করতে করতে সিঁড়ির নীচেই নেমে এসেছো, কেননা তা হলো ব্যভিচারী । অব্যভিচারী একজনই, তিনি হলেন শিববাবা । উনিই বাচ্চারা তোমাদেরকে বোঝান, এ কেমন ভুল-ভুলাইয়া খেলা । যে বাবার কাছ থেকে অনন্ত জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় তাঁকে স্মরণ করলে মুখের চেহারাই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে । খুশিতে চেহারা উৎফুল্ল হয়ে ওঠে । মুখে সবসময় স্মিত হাসি থাকে । তোমরা জানো, বাবাকে স্মরণ করলে আমরা এমন হতে পারব । অর্ধকল্পের জন্য আমাদের সব দুঃখ দূর হয়ে যাবে । এমন নয় যে বাবা করবেন । তা কিন্তু নয়, এটা বুঝতে হবে আমরা যত বাবাকে স্মরণ করব, ততই সতোপ্রধান হতে পারব । এই লক্ষী-নারায়ণ বিশ্বের মালিক কত প্রফুল্ল চেহারা, এমনটাই হতে হবে । অনন্ত জগতের পিতাকে স্মরণ করলে অন্তরে খুশির অনুভব হয় যে আবার আমরা বিশ্বের মালিক হব । আত্মার খুশির সংস্কার-ই সাথে যাবে । তারপর ধীরে ধীরে কম হতে থাকবে । এই সময় মায়া তোমাদের ভীষণ ভাবে বিভ্রান্ত করে তুলবে । মায়া চেষ্টা করবে তোমাদের স্মরণ ভোলাবার । যাতে সবসময় এমন প্রফুল্ল চেহারায় না থাকতে পারো । নিশ্চয়ই কোনো না কোনো সময় বিভ্রান্তির শিকার হবে । মানুষ যখন রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তখন তাকে বলাও হয় শিববাবাকে স্মরণ করো, কিন্তু শিববাবা কে, সেটাই কেউ জানেনা, তবে কি ভেবে স্মরণ করবে ? কেন স্মরণ করবে ? তোমরা বাচ্চারা জানো, বাবাকে স্মরণ করলে আমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে পারব । দেবী-দেবতারা সতোপ্রধান তাইনা, তাকে বলা হয় দৈবী ওয়ার্ল্ড । মানুষের দুনিয়া বলা হয় না । মানুষ নামটাই থাকে না । বলা হয় অমুক দেবতা । ওটা হলো দৈবী রাজ্য, আর এ হলো হিউম্যান ওয়ার্ল্ড (মানুষের দুনিয়া)। এসবই বোঝার বিষয় । বাবাই এসে বোঝান, তাঁকে বলা হয় জ্ঞানের সাগর । বাবা অনেক ভাবে যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করেন । তারপর একদম অন্তিমের মহামন্ত্র দেন ‐‐ বাবাকে স্মরণ করলে তোমরা সতোপ্রধান হতে পারবে, আর তোমাদের সব দুঃখ দূর হয়ে যাবে । কল্প পূর্বেও তোমরা দেবী-দেবতা ছিলে । তোমাদের চেহারা দেবতাদের মতোই ছিল । ওখানে কেউই অযৌক্তিক কথাবার্তা বলতো না । এরকম কোনও কাজই সেখানে হয় না । ওটা হলো দৈবী রাজ্য । এটা হলো হিউম্যান ওয়ার্ল্ড, পার্থক্য আছে, তাইনা । এসবই বাবা বসে বোঝান । মানুষ তো মনে করে দৈবী রাজ্য ছিল লক্ষ বছর হয়ে গেছে । এখানে কাউকে দেবতা বলতে পারো না । দেবতারা তো স্বচ্ছ ছিল । মহান আত্মা দেবী-দেবতাদের বলা হয় । মানুষকে কখনোই বলা যায় না । এ হলো রাবণের দুনিয়া । রাবণ সবচেয়ে বড় শত্রু । এর মতো শত্রু কেউ হয় না । প্রতি বছর তোমরা রাবণকে জ্বালাও । এ কে ? কেউ-ই জানেনা । কোনো মানুষ তো নয়, এ হলো ৫ বিকার, সেইজন্যই একে রাবণ রাজ্য বলা হয় । ৫ বিকারের রাজ্য, তাইনা । সবার মধ্যে ৫ বিকার আছে । এই দুর্গতি আর সদ্গতির খেলা তৈরি হয়েই আছে । এখন তোমাদের সদ্গতির সময় সম্পর্কে বাবা বুঝিয়েছেন । দুর্গতির সময় সম্পর্কেও বুঝিয়েছেন । তোমরাই উত্তরণের সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠো, তারপর তোমরাই আবার নীচে নেমে আসো । শিবজয়ন্তী ভারতে অনুষ্ঠিত হয় । রাবণজয়ন্তীও ভারতেই অনুষ্ঠিত হয় । অর্ধকল্প হলো দৈবী দুনিয়া, লক্ষ্মী-নারায়ণ, রাম-সীতার রাজ্য। এখন তোমরা বাচ্চারা সবার বায়োগ্রাফি (জীবন কাহিনী) সম্পর্কে জানো ।

মহিমা যা কিছু সব তোমাদের । নবরাত্রিতে পূজা ইত্যাদি সব তোমাদের জন্য হয়ে থাকে । তোমরাই স্থাপনা কর । শ্রীমতে চলে তোমরা বিশ্বকে পরিবর্তন করো।সুতরাং শ্রীমতে সম্পূর্ণরূপে চলা উচিত, তাইনা । নম্বরানুসারে পুরুষার্থ করে থাকো । স্থাপনা হয়ে চলেছে । এরমধ্যে লড়াই ইত্যাদির কোনও প্রশ্নই নেই । এখন তোমরা বুঝেছ, এ হলো পুরুষোত্তম সঙ্গম যুগ, যা সম্পূর্ণ আলাদা । পুরানো দুনিয়ার শেষ, নতুন দুনিয়ার শুরু । বাবা আসেন-ই পুরানো দুনিয়াকে পরিবর্তন করতে । তোমাদের বোঝান তো অনেক কিছুই, কিন্তু বেশিরভাগই ভুলে যায় । ভাষণের পর স্মরণে আসে যে এই এই পয়েন্ট গুলো বোঝাতে হতো । হুবহু কল্পে-কল্পে যেমন স্থাপনা হয়েছিল ঠিক তেমনটাই হতে থাকবে। যে যেমন পদ প্রাপ্ত করেছিল সেটাই প্রাপ্ত হবে । সবাই একইরকম পদ পেতে পারে না । উচ্চ পদের অধিকারী যেমন থাকবে নিম্ন পদের অধিকারীও থাকবে । যে বাচ্চারা অনন্য, তারা অগ্রসর হতে হতে অনেক কিছুই অনুভব করবে ‐‐ এ বড়লোকের দাসী হবে, এ রাজপরিবারের দাসী হবে । এ বিরাট বড়লোক হবে, যাকে কখনও কখনও রাজপরিবারে আমন্ত্রণ জানানো হবে । সবাইকে তো আমন্ত্রণ করবে না, অনেকেই মুখ দেখানোরও সুযোগ পাবে না ।

শিববাবা ব্রহ্মা মুখ দ্বারা বোঝান। সামনে কী সবাই তাঁকে দেখতে পাবে ! তোমরা এখন বাবার সামনে এসেছো, পবিত্র হয়েছো । এমন কী হয় নাকি যে, অপবিত্র কেউ এখানে এসে বসলো, কিছু শুনলে সেও দেবতা হয়ে যাবে ! যদিও শোনার কিছুটা প্রভাব তো অবশ্যই পড়েই । না শুনলে আর আসবে না । সুতরাং প্রধান বিষয়ই বাবা বুঝিয়ে বলেন - "মন্মনাভব"। এই একটা মন্ত্র দ্বারাই তোমাদের সব দুঃখ দূর হয়ে যায় । "মন্মনাভব" ‐- এ কথা বাবা বলেন, তারপর টিচার হয়ে বলেন - "মধ্যাজী ভব" । ইনি একাধারে বাবা, টিচার এবং গুরু । এই তিনজন স্মরণে থাকলেও প্রফুল্ল চেহারা থাকবে । বাবা-ই এসে পড়ান, বাবা-ই সাথে করে নিয়ে যান । এমন বাবাকে কতো স্মরণ করা উচিত ! ভক্তি মার্গে বাবাকে তো কেউ জানেই না। শুধু এটুকুই জানে তিনি ভগবান, আমরা সবাই ব্রাদার্স । বাবার কাছ থেকে কি প্রাপ্তি হতে পারে, সেসব কিছুই জানেনা । তোমরা এখন বুঝেছ একজনই বাবা, আমরা ওঁনার বাচ্চারা সব ভাই-ভাই । এ হলো অনন্ত জগতের কথা, তাইনা । সব বাচ্চাদের টিচার হয়ে তিনি পড়াচ্ছেন । তারপর সবার হিসেব নিকেশ মিটিয়ে সঙ্গে করে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন । এই ছিঃ ছিঃ দুনিয়া থেকে ফিরে যেতে হবে, নতুন দুনিয়াতে আসার জন্য তিনি তোমাদের যোগ্য করে তোলেন । যারা যোগ্য হয়ে ওঠে, তারা সত্যযুগে আসে । আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) নিজের অবস্থা (স্থিতি) সদা একরস আর প্রফুল্ল চেহারা রাখার জন্য বাবা, টিচার আর সদ্গুরু তিনজনকেই স্মরণ করতে হবে । এখান থেকেই খুশির সংস্কার ভরপুর করতে হবে । অবিনাশী উত্তরাধিকারীর স্মৃতিতে চেহারা সবসময় ঝলমল করবে ।

২ ) শ্রীমতে চলে সম্পূর্ণ বিশ্বকে পরিবর্তন করার সেবা করতে হবে। ৫ বিকারে যে ফেঁসে আছে, তাকে বের করে আনতে হবে । নিজের স্বধর্ম সম্পর্কে পরিচয় দিতে হবে ।

বরদান:-
স্ব-রাজ্যের অধিকারী হয়ে নিজের সাথীদের স্নেহী সহযোগী করে তুলতে সমর্থ মাস্টার দাতা ভব

রাজা অর্থাত্ দাতা । দাতাকে কোনও কিছু বলতে বা চাইতে হয় না । নিজেরাই স্বেচ্ছায় রাজাকে স্নেহ উপহার প্রদান করে থাকে । তোমরাও স্ব-রাজ্যের অধিকারী হয়ে রাজা হয়ে ওঠো, তবে তোমাদেরও সহযোগের উপহার প্রদান করবে । যে স্ব-রাজ্যের অধিকারী হয়, তার সামনে লৌকিক, অলৌকিক সাথী জী হুজুর, জী হাজির, হা জী বলে স্নেহের সহযোগী হয়ে ওঠে । পরিবারের প্রতি অর্ডার কোরো না। নিজের কর্মেন্দ্রিয়কে অর্ডার অনুসারে রাখলে, তোমাদের সব সাথীরা তোমার স্নেহের সহযোগী হয়ে উঠবে ।

স্লোগান:-
সর্ব প্রাপ্তির সাধন থাকা সত্ত্বেও বৃত্তি অনাসক্ত হলে তবেই বলা হবে বৈরাগ্য বৃত্তি ।