08-11-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 01-10-87 মধুবন


"ঈশ্বরীয় স্নেহ - জীবন পরিবর্তনের ফাউন্ডেশন"


আজ স্নেহের সাগর তাঁর স্নেহী বাচ্চাদের সাথে মিলিত হতে এসেছেন । বাবা আর বাচ্চাদের স্নেহ বিশ্বকে স্নেহের সূত্রে বাঁধছে। যখন স্নেহের সাগর আর স্নেহ সম্পন্ন নদী গুলির মেলা হয়, তখন স্নেহ পূর্ণ নদীও বাবা সম মাস্টার স্নেহের সাগর হয়ে যায় । সেইজন্য বিশ্বের আত্মারা স্নেহের অনুভবের দ্বারা স্বতঃতই সমীপে আগত হচ্ছে। পবিত্র ভালোবাসা বা ঈশ্বরীয় পরিবারের ভালোবাসার দ্বারা একেবারেই এ বিষয়ে অজানা এইরূপ আত্মারাই হোক কিম্বা দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত পাথর সম হয়ে যাওয়া আত্মারাই হোক না কেন, এমন পাথর সম আত্মারাও ঈশ্বরীয় পরিবারের স্নেহের পরশে গলে জল হয়ে যায়। এটাই হল ঈশ্বরীয় পরিবারের ভালোবাসার কামাল। যতই নিজেকে সরিয়ে নিতে চাক না কেন, কিন্তু ঈশ্বরীয় ভালোবাসা চুম্বকের মতো স্বতঃতই তাদেরকে সমীপে নিয়ে আসে। একেই বলা হয় ঈশ্বরীয় স্নেহের প্রত্যক্ষ ফল । যতই কেউ নিজেকে ভিন্ন মত পথের মনে করে থাকুক, ঈশ্বরীয় স্নেহ সহযোগী বানিয়ে 'নিজেদের মধ্যে এক হয়ে' অগ্রসর হওয়ার সূত্রে আবদ্ধ করে দেয়। এরূপ অনুভব করেছ তো তোমরা, তাই না !

স্নেহ প্রথমে সহযোগী বানায়, সহযোগী বানাতে বানাতে স্বতঃতই সময় মতো সকলকে সহজযোগীও বানিয়ে তোলে। সহযোগী হওয়ার লক্ষণ হল - আজ সহযোগী, কাল সহজ-যোগী হয়ে উঠবে। ঈশ্বরীয় স্নেহ হল পরিবর্তনের ফাউন্ডেশন (ভিত) বা জীবন পরিবর্তনের বীজ স্বরূপ । যে আত্মাদের মধ্যে ঈশ্বরীয় স্নেহের অনুভূতির বীজ পড়ে যায়, এই বীজ সহযোগী হয়ে ওঠার বৃক্ষকে স্বাভাবিকভাবেই তৈরী করতে থাকবে এবং সময় মতো তার মধ্যে সহজযোগী হয়ে ওঠার ফল দেখা দেবে। কেননা পরিবর্তনের বীজ ফল অবশ্যই দেখায়। কেবল কোনো ফল তাড়াতাড়ি বের হয়, কোনো ফল সময় মতো নির্গত হয়। চারিদিকে তাকিয়ে দেখো, তোমরা হলে মাস্টার স্নেহের সাগর, বিশ্ব - সেবাধারী বাচ্চারা, তোমরা কোন্ কার্য করছো ? সবাই তোমরা বিশ্বে ঈশ্বরীয় পরিবারের স্নেহের বীজ বপন করছো। যেখানেই তোমরা যাও - কোনো নাস্তিক কিম্বা আস্তিক, বাবাকে তারা যদি নাও জানে বা নাও মানে কিন্তু তারা এটা অবশ্যই অনুভব করে যে, এমন ঈশ্বরীয় পরিবারের ভালোবাসা যা তোমরা শিববংশী ব্রহ্মাকুমার ব্রহ্মাকুমারীদের থেকে তারা পায়, এ আর কোনো স্থান থেকেই পাওয়া যায় না। আর এও তারা মানে যে, এই স্নেহ বা ভালবাসা সাধারণ নয়। এ হল অলৌকিক ভালবাসা বা ঈশ্বরীয় স্নেহ। তো ইন-ডাইরেক্ট নাস্তিক থেকে আস্তিক হয়ে গেল না ! এ হল ঈশ্বরীয় ভালোবাসা। তো এটা কোথা থেকে এল ? কিরণ সূর্যকে স্বতঃতই প্রমাণিত করে দেয়। ঈশ্বরীয় ভালোবাসা, অলৌকিক স্নেহ, নিঃস্বার্থ স্নেহ স্বতঃতই দাতা বাবাকেই প্রমাণিত করে। ইন-ডাইরেক্ট ঈশ্বরীয় স্নেহের দ্বারা স্নেহের সাগর বাবার সাথে তাদের সম্বন্ধ জুড়ে যায়। কিন্তু তারা তা জানে না। কেননা বীজ প্রথমে গুপ্ত থাকে, বৃক্ষ স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়। তো ঈশ্বরীয় স্নেহের বীজ সকলকে সহযোগী তথা সহজযোগী, প্রত্যক্ষ রূপে সময়ানুসারে প্রত্যক্ষ করাচ্ছে এবং করাতে থাকবে। তো সকলেই ঈশ্বরীয় স্নেহের বীজ বপন করবার সেবা করেছো। সহযোগী বানানোর শুদ্ধ ভাবনা আর শুভ কামনার বিশেষ দুটি পাতাও প্রত্যক্ষ করা গেছে । এখন সেই কান্ড বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়ে প্রত্যক্ষ ফল দেখাবে। বাপদাদা সকল বাচ্চাদের ভ্যারাইটি ( ভিন্ন ভিন্ন) প্রকারের সেবাকে দেখে প্রফুল্লিত হন। ভাষণকারী বাচ্চারাই হোক বা স্থূল সেবায় রত বাচ্চারা - সকলের সহযোগের সেবার দ্বারা সফলতার ফল প্রাপ্ত হয়। তোমরা যারা পাহারা দিচ্ছ কিম্বা বাসনপত্র সামলাচ্ছ, পাঁচটি আঙ্গুলের দ্বারাই যেমন যে কোনও কাজকে শ্রেষ্ঠ রূপ প্রদান করা সম্ভব হয়, বড় বড় কাজও সহজেই হয়ে যেতে পারে, তেমনই এক একজন ব্রাহ্মণ বাচ্চার সহযোগের দ্বারা যতখানি ভাবা হয়েছিল যে, এই রকম এই রকম হবে, সেই ভাবনাকে ছাপিয়ে গিয়ে হাজার গুণ অধিক সহজে কার্য সম্পাদিত হয়ে গেছে। কতখানি কামাল বল তো সকলের ! যারাই কার্যে সহযোগী হয়েছ - পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে হোক বা টেবিল পরিস্কার যারা করেছ, প্রত্যেকের সহযোগের রেজাল্ট (পরিণাম/ফলাফল) হল সফলতা। এই সংগঠনের শক্তি হল মহান। বাপদাদা দেখছিলেন কেবলমাত্র মধুবনে আগত বাচ্চারাই নয়, যারা সাকারে উপস্থিত ছিল না, চতুর্দিকের ব্রাহ্মণ বাচ্চাদের, তা দেশের হোক কিম্বা বিদেশের - সকলের মনের শুভ ভাবনা আর শুভ কামনার সহযোগ ছিল। এই সকল আত্মাদের শুভ ভাবনা, শুভ কামনার কেল্লা আত্মাদেরকে পরিবর্তন করে নেয়। নিমিত্ত শক্তিরাও ছিল, পান্ডবরাও ছিল, নিমিত্ত সেবাধারী বিশেষ ভাবে সকল কার্যে নিমিত্ত হয়েই থাকেন। কিন্তু বায়ুমন্ডলের কেল্লা সকলের সহযোগিতার দ্বারাই প্রস্তুত হয়। নিমিত্ত হওয়া বাচ্চাদেরকে বাপদাদা অভিনন্দন জানাচ্ছেন । কিন্তু সবচেয়ে অধিক অভিনন্দন বাপদাদা সকল বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন । বাবাকে বাচ্চারা অভিনন্দন কী দিয়ে জানাবে ? কেননা বাবা তো অব্যক্ত হয়ে গেছেন। ব্যক্ততে বাচ্চাদেরকে নিমিত্ত বানিয়েছেন । সেইজন্য বাপদাদা সর্বদা বাচ্চাদের গীত গেয়ে থাকেন। তোমরা বাবার গীত গাও, বাবা তোমাদের গীত গান। তোমরা যা কিছু করেছো, খুব ভালো করেছো। ভাষণ যারা করেছো তারা খুব সুন্দর ভাষণ দিয়েছো। যারা স্টেজ সাজিয়েছো, তারা খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়েছো আর বিশেষ যোগযুক্ত ভোজন যারা বানিয়েছো, খাবার পরিবেশন যারা করেছো, সব্জি যারা কেটেছো...। প্রথমে ফাউন্ডেশন তো সব্জি কাটা। সব্জি না কাটা হলে ভোজন কীভাবে তৈরী হবে ? সকল ডিপার্টমেন্টের (সর্ব প্রকারের) অলরাউন্ডার সেবার নিমিত্ত থেকেছো। আগেও বলেছি না - যারা পরিস্কার বা সাফাই করে, তারা যদি তা না করে, তাহলেও সেবা সম্পূর্ণতা পাবে না। এক একজনের চেহারা যদি ঈশ্বরীয় স্নেহ সম্পন্ন না হত, তবে সেবা কীভাবে সফলতা লাভ করত ? প্রত্যেকে যে যে কার্য সম্পাদন করেছে, স্নেহ পূর্ণ ভাবেই করেছে। সেইজন্য তাদের মধ্যেও স্নেহের বীজ পড়েছে। উৎসাহ - উদ্দীপনা ছিল। বিভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও স্নেহের সূত্রের কারণে একতারই কথা বলে গেলেন তারা। এটা বায়ুমন্ডলের ছত্রছায়ার বিশেষত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে। বায়ুমন্ডল ছত্রছায়া হয়ে ওঠে। তো ছত্রছায়ার ভিতরে হওয়ার কারণে যেমন সংস্কারেরই হোন না কেন, স্নেহের প্রভাব সমায়িত হয়ে ছিল। সকলের অনেক অনেক দায়িত্বভার ছিল। সকলেই সেবা করেছে। তারা হয়ত ভিন্ন কিছু বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বলতে পারেননি। তার কারণ হল বায়ুমন্ডল। মনে মনে অন্য কিছু হয়ত ভেবেছিলেন কিন্তু মুখ থেকে সে'সব প্রকাশিতই হল না, কারণ তোমাদের সকলের জীবনের পরিবর্তনকে প্রত্যক্ষভাবে দেখে তাদের মধ্যেও পরিবর্তনের প্রেরণা স্বতঃতই আসছিল। তার প্রত্যক্ষ প্রমাণও তো তোমরা দেখলে। তাই না ! শাস্ত্রের প্রমাণের থেকেও বড় প্রমাণ হল প্রত্যক্ষ প্রমাণ। প্রত্যক্ষ প্রমাণের সামনে আর সকল প্রমাণ সমায়িত হয়ে যায়। এই হল সেবার রেজাল্ট। এখনও সেই স্নেহের সহযোগের বিশেষত্বের দ্বারা আরও সমীপে আনতে থাকবে, তবে অন্যরাও সহযোগের দ্বারা অগ্রসর হতে থাকবে। তথাপি প্রত্যক্ষতার আওয়াজ জোরালো হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সত্তা সমূহের সহযোগিতা প্রাপ্ত হবে। বিশেষ ভাবে সত্তা সমূহ মিলিত ভাবে যখন আওয়াজ জোরালো করবে তখনই প্রত্যক্ষতার পর্দা বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হবে। বর্তমান সময়ে তোমরা সেবার যে প্ল্যান বানিয়েছো, সে তো এরই জন্য বানিয়েছো, তাই না ! সকল উইঙ্গ এর অর্থাৎ সকল সত্তার সকলে যখন সম্পর্কে আসবে, সহযোগে আসবে, স্নেহতে আসবে, তখনই তারা সম্বন্ধে এসে সহজযোগী হয়ে যাবে। কোনো সত্তা যদি সহযোগে না আসে, তবে সকলের সহযোগিতার যে কার্য রয়ে গেছে, তা সফল কীভাবে হবে ? এখন ফাউন্ডেশন পড়েছে বিশেষ সত্তার। ধর্ম সত্তা দ্বারা ফাউন্ডেশন সূচিত হল। স্নেহের প্রভাব দেখলে, তাই না ! লোকে তোমাদেরকে বলত না - এই যে এত এত সংখ্যায় জড়ো হচ্ছে, এদেরকে কীভাবে ডেকে নিয়ে আসো তোমরা ? লোকেরা আশ্চর্য হয়ে যেত এই ভেবে, তাই না ! কিন্তু ঈশ্বরীয় স্নেহের সূত্র একটা তো ছিল, তাই না ! সেইজন্য মতের বিবিধতা থাকলেও সহযোগী হওয়ার ভাবনা একটিই ছিল। ঠিক তেমনই এখন সকল সত্তা গুলিকে সহযোগী বানাও। হচ্ছেও, কিন্তু আরও সমীপ, সহযোগী বানাতে থাকো। কেননা এখন গোল্ডেন জুবিলী (সুবর্ণ জয়ন্তী) সমাপ্ত হল, তো এখন থেকে প্রত্যক্ষতার সময় এসে গেল। ডায়মন্ড জুবিলী অর্থাৎ প্রত্যক্ষতার স্লোগান জোরালো করা। তো এই বছর থেকে প্রত্যক্ষতার পর্দা এখন উন্মোচিত হওয়া শুরু হয়েছে। একদিকে বিদেশের দ্বারা ভারতে প্রত্যেক্ষতা হয়েছে, অন্যদিকে নিমিত্ত মহামন্ডলেশ্বরদের দ্বারা কার্যকে শ্রেষ্ঠত্বের সফলতা । বিদেশে ইউনাইটেড নেশন (U. N.) নিমিত্ত হয়েছে। তারাও অনেক স্বনামধন্য, ভারতেও নামকরা সব ধর্ম সত্য রয়েছে। তো ধর্মসত্তাধারী ধর্ম-আত্মাদের দ্বারা প্রত্যক্ষতা হওয়া - এটাই হল প্রত্যক্ষতার পর্দা উন্মোচিত হওয়ার সূচনা । অর্থাৎ পর্দা খোলা শুরু হয়েছে । বিদেশের বাচ্চারা যে কার্যের জন্য নিমিত্ত হয়েছে, সেটাও বিশেষ কার্য ছিল । প্রত্যক্ষতার বিশেষ কার্যে এই কার্যের কারণে তারা নিমিত্ত হয়ে গেছে। অতএব বাপদাদা বিদেশের বাচ্চাদেরকে এই অন্তিম প্রত্যক্ষতার হীরো পার্টে নিমিত্ত হওয়ার সেবার বিশেষ অভিনন্দন জানাচ্ছেন । ভারতে আলোড়ন তো ফেলে দিতে পেরেছে, তাই না ! সকলের কানে আওয়াজ পৌঁছে গেছে। এখন বিদেশের জোরালো আওয়াজ ভারতের কুম্ভকর্ণদের জাগানোর নিমিত্ত তো হয়ে গেছে। কিন্তু এখন কেবল আওয়াজ গেছে, এখন আরো জাগাতে হবে, ওঠাতে হবে। এখন কেবল কান পর্যন্ত আওয়াজ পৌঁছেছে। ঘুমন্ত মানুষের কানে আওয়াজ গেলে সে কেবল একটু নড়েচড়ে ওঠে। সোরগোল তো ফেলতে হবে, তাই না ! তো ওইটুকুই হয়েছে। সোরগোলের মধ্যে একটু জেগেছে, ভাবছে কিছু একটা হচ্ছে। জাগলে তবেই জোরদার আওয়াজ শুরু করবে। তবুও পূর্বের তুলনায় এখন আওয়াজ একটু জোরালো হয়েছে। এইরকম কামাল তখনই হবে, যখন সকল সত্তাধারীরা একত্রে স্টেজে গিয়ে স্নেহের মিলন করবে। সকল সত্তার আত্মাদের দ্বারা ঈশ্বরীয় কার্যের প্রত্যক্ষতার যাতে সূচনা হলে তখন প্রত্যক্ষতার পর্দা সম্পূর্ণ খুলবে। সেইজন্য, এখন যে প্রোগ্রাম বানাচ্ছ, তাতে এই লক্ষ্য রেখেছ যে, সকল সত্তার স্নেহ - মিলন যাতে হয়। সকল উইঙ্গের স্নেহ - মিলন তো হতেই পারে। যেমন সাধারণ সাধুদের আমন্ত্রণ জানানো কোনো বড় ব্যাপার নয়, কিন্তু এই মহামন্ডলেশ্বরদেরকে তোমরা আমন্ত্রণ দিয়েছ ! শংকরাচার্য যদি উপস্থিত থাকতেন তবে এই সংগঠনের শোভা আরও বৃদ্ধি পেত। কিন্তু তার সেই ভাগ্য এখন জাগবে। ভিতরে ভিতরে তো তবুও তিনি সহযোগী আছেনই। পরিশ্রম বাচ্চারা ভালোই করেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের মতামতের কথাও মাথায় রাখতে হয়। সেইদিনও আসবে যখন সকল সত্তাধারীরা মিলে বলবে - শ্রেষ্ঠ সত্তা, ঈশ্বরীয় সত্তা, আধ্যাত্মিক সত্তা হল একমাত্র পরমাত্ম - সত্তাই। তার জন্য দীর্ঘকালীন প্ল্যান নিয়েছ তোমরা, তাই না ! এতটা সময় এইজন্যই পেয়েছ, যাতে সকলকে স্নেহের সূত্রে বেঁধে সমীপে আনতে পারো। এই স্নেহ চুম্বক হয়ে যাবে, যাতে সবাই একসাথে সংগঠনের রূপে বাবার স্টেজে পৌঁছাতে পারে। এইরূপ প্ল্যান বানিয়েছ, তাই না ! আচ্ছা !

সেবাধারীদের সেবার প্রত্যক্ষ ফলও প্রাপ্ত হয়েছে। এখন নতুন বাচ্চাদের নম্বর, তাই না ! তোমরা বাপদাদার সাথে মিলিত হতে হতে এখন বাণপ্রস্থ অবস্থায় পৌঁছে গেছ। এখন তোমাদের ছোট ছোট ভাই বোনেদের টার্ন দিচ্ছ তোমরা। ইচ্ছা তো সকলের বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। তখন কী করবে ? অন্যদেরকে সুযোগ দেওয়াও নিজেও তৃপ্তির অনুভব করা। কেননা পুরানোরা তো নিজেরা অনুভাবী, প্রাপ্তি স্বরূপ। তো প্রাপ্তি স্বরূপ আত্মারা সর্বদা অন্যদের প্রতি শুভ ভাবনা রাখে, অন্যদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় সহায়তা করে। নাকি মনে করো আমরা তো আগে পেয়ে নিই ! এতেও নিঃস্বার্থ হতে হবে। সুবুদ্ধিসম্পন্ন তোমরা ।আদি - মধ্য - অন্তকে তোমরা বোঝো। সময়কে বোঝো। প্রকৃতির প্রভাবকেও তোমরা বোঝো। ড্রামার পার্টকে তোমরা বোঝো। বাপদাদাও সর্বদাই বাচ্চাদের সাথে মিলিত হতে চান। যখন বাচ্চারা মিলিত হতে চায়, তার আগে বাপদাদা চান, তখন বাচ্চারাও চায়। কিন্তু বাবারও সময়কে এবং প্রকৃতিকেও দেখতে হয়। বাবা যখন এই দুনিয়াতে আসেন তখন দুনিয়ার সব বিষয় গুলিকে দেখতে হয়। যখন এ সবের থেকে দূরে অব্যক্ত লোকে থাকেন, তখন সেখানে তো জলের, সময়ের, থাকবার স্থানের বা অন্য কোনো সমস্যাই সেখানে নেই। গুজরাট পাশেই রয়েছে। তাই এর ফল তো কিছুটা ওরা নিতে পারে। "যথা আজ্ঞা"র ("হা জী") পাঠ পাকা তাদের আর যেখানেই থাকার স্থান মিলে যায়, তারা সেখানেই থেকে যায়। সকল পরিস্থিতিতে খুশীতে থাকার বিশেষত্ব রয়েছে তাদের। গুজরাটেও ভালো সেবা হচ্ছে। সেবার উৎসাহ - উদ্দীপনা নিজেকেও নির্বিঘ্ন বানায়, অন্যদেরও কল্যাণ করতে থাকে। সেবা ভাবের সফলতা রয়েছে। সেবা ভাব-এ যদি 'অহম্ ভাব" এসে গেল, তবে সেটাকে সেবা-ভাব বলা যাবে না। সেবা ভাব সফলতা প্রদান করে। অহম্ - ভাব যদি মিক্সড হয়ে যায়, তবে পরিশ্রমও বেশী করতে হয়। সময়ও বেশী যায়। তারপর নিজেরও সন্তুষ্টতা আসে না। সেবা - ভাব যে সব বাচ্চাদের আছে, তারা নিজেরাও এগিয়ে যায় আর অন্যদেরকেও এগিয়ে নিয়ে যায়। সর্বদাই উড়তি কলার অনুভব করে। সাহসও ভালো রাখে তারা। যেখানে সাহস আছে, সেখানে বাপদাদার সহায়তাও সকল কার্যে সব সময়ই রয়েছে।

মহারথী হলই মহাদানী। যে সব মহারথী সেবার উদ্দেশ্যে এসেছে, তারা মহাদানী, বরদানী, তাই তো ? অন্যদেরকে সুযোগ দেওয়া - এটাও হল মহাদান, বরদান। সময় যেইরূপ সেই অনুযায়ী ভূমিকাও পালন করার বিষয়েও সকল হারানিধি বাচ্চাই সব সময়ই সহযোগী থেকেছে এবং থাকবে। ইচ্ছা তো থাকবেই, কেননা এ হল শুভ ইচ্ছা। কিন্তু তাকে আড়াল করে নিতে জানে। সেইজন্যই সকলে সদা সন্তুষ্ট ।

বাপদাদাও চান যে, এক একজন বাচ্চার সাথে মিলিত হতে আর তাতে যেন সময়ের কোনো সীমা না থাকে। কিন্তু তোমাদের দুনিয়াতে এই সকল সীমা গুলিকেও দেখতে হয়। নইলে এক একজন বিশেষ রত্নের মহিমা বাপদাদা যদি গাইতে থাকেন, তবে তো কতো বড় হয়ে যাবে। এক একজন বাচ্চার বিশেষত্বের তো এক একটি গানই তৈরী করে ফেলা যাবে। কিন্তু... সেইজন্যই তো বলছি বতনে এসো, যেখানে কোনো কিছুরই কোনো সীমা নেই। আচ্ছা।

সদা ঈশ্বরীয় স্নেহে সমায়িত থাকা, সর্বদা প্রতিটি সেকেন্ডে সকলের সহযোগী হয়ে যাওয়া, সদা প্রত্যক্ষতার পর্দাকে উন্মোচিত করে বাবাকে বিশ্বের সামনে প্রত্যক্ষকারী সদা সকল আত্মাদেরকে প্রত্যক্ষ - প্রমাণ - স্বরূপ হয়ে আকর্ষণকারী, সদা বাবা এবং সকলের সকল কার্যে সহযোগী হয়ে একটিই নামকে প্রসিদ্ধকারী, এমন বিশ্বের ইষ্ট বাচ্চাদেরকে বিশ্বের বিশেষ বাচ্চাদেরকে বাপদাদার অতি স্নেহ সম্পন্ন স্মরণের স্নেহ-সুমন । তার সাথে সাথে সকল দেশ বিদেশের বাবার সামনে পৌঁছে যাওয়া বাচ্চাদেরকে সেবার জন্য অভিনন্দনের সাথে সাথে বিশেষ স্মরণের স্নেহ-সুমন গ্রহণ কোরো।

বরদানঃ-
নলেজফুলের বিশেষত্বের দ্বারা সংস্কার গুলির সংঘাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা কমল পুষ্প সম স্বতন্ত্র আর সাক্ষী ভব

সংস্কার তো অন্তিম সময় পর্যন্ত কারো দাসী তো কারো রাজা হয়ে থাকবে। সংস্কার বদলানোর জন্য অপেক্ষা করবে না। বরং আমার উপরে কারো কোনো প্রভাব যেন না পড়ে। কেননা এক তো প্রত্যেকের সংস্কার আলাদা, দ্বিতীয়তঃ মায়ার রূপ নিয়েও আসে। সেইজন্য যে কোনো বিষয়ের সমাধান মর্যাদার গন্ডীর মধ্যে থেকে করো। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কার থাকলেও যাতে সংঘাত না বাঁধে, তার জন্য নলেজফুল হয়ে কমল পুষ্প সম স্বতন্ত্র এবং সাক্ষী হয়ে থাকো।

স্লোগানঃ-
জোর জবরদস্তি কিম্বা পরিশ্রমের পরিবর্তে মনোরঞ্জনের সাথে পুরুষার্থ করো।