08-12-2019 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 18-03-85 মধুবন


সন্তুষ্টতা
 


আজ উদার-সহৃদয় বাবা নিজের স্নেহী হৃদ্ সিংহাসনাসীন বাচ্চাদের সাথে অন্তরঙ্গ ও মনখোলা আলাপচারিতা করতে এসেছেন l উদারহৃদয়-মহোত্তম নিজের প্রকৃত হৃদয়বান বাচ্চাদের সাথে মন দেওয়া-নেওয়া করতে, মনের অবস্থা জানতে এসেছেন l আত্মাদের পিতা আত্মাদের সাথে অন্তরঙ্গভাবে মনখোলা বার্তালাপ করছেন l আত্মাদের (রূহ্) এই মনখোলা ও অন্তরঙ্গ আলাপচারিতা শুধু এই সময়ই অনুভব করতে পার l তোমরা সব আত্মাদের মধ্যে এত স্নেহের শক্তি আছে যে আত্মাদের রচয়িতা বাবাকে মনখোলা ও অন্তরঙ্গ আলোচনার জন্য নৈঃশব্দ্য (নির্বাণ) থেকে শব্দে নিয়ে আস l এমন শ্রেষ্ঠ আত্মা তোমরা যে বন্ধনমুক্ত বাবাকেও স্নেহের বন্ধনে বেঁধে ফেল l দুনিয়ার লোকে তাঁকে মুক্তিদাতা ব'লে ডাকছে, আর এমন বন্ধনমুক্ত বাবা বাচ্চাদের স্নেহের বন্ধনে সদা বেঁধে আছেন l তাঁকে বাঁধার ক্ষেত্রে তোমরা খুব নিপুণ l যখনই স্মরণ কর, বাবা হাজির, নয় কি ! হুজুর হাজির হয়ে যান l তাইতো আজ ডবল বিদেশি বাচ্চাদের সাথে তিনি আত্মিক আলাপচারিতা করতে এসেছেন l এখন এই সীজনে, বিশেষ টার্নও ডবল বিদেশিদের l মেজরিটি ডবল বিদেশিরাই এসেছে l মধুবন নিবাসী তো মধুবনের শ্রেষ্ঠ-স্থান-নিবাসী l একই স্থানে বসে বিশ্বের ভ্যারাইটি আত্মার মিলন মেলা দেখে l যারা এখানে আসে তারা ফিরে যায়, কিন্তু মধুবন নিবাসী তো সদাই থাকে l

আজ ডবল বিদেশি বাচ্চাদের বাবা বিশেষভাবে জিজ্ঞাসা করছেন, সবাই তোমরা সন্তুষ্টমণি হয়ে বাপদাদার মুকুটে জ্বলজ্বল করছ ? সবাইই সন্তুষ্টমণি ? সদা সন্তুষ্ট থাক ? কখনো নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট, কখনো বা ব্রাহ্মণ আত্মাদের প্রতি অসন্তুষ্ট, কখনো আবার নিজের সংস্কারের প্রতি অসন্তুষ্ট অথবা বায়ুমন্ডলের প্রভাবে অসন্তুষ্ট হও না তো ! সদা সব বিষয়ে তোমরা সন্তুষ্ট ? কখনো সন্তুষ্ট, কখনো অসন্তুষ্টকে সন্তুষ্টমণি বলবে ? সবাই তোমরা বলেছ না, যে তোমরা সন্তুষ্টমণি ? তারপরে আবার বলবে না তো 'আমরা তো সন্তুষ্ট, কিন্তু অন্যেরা অসন্তুষ্ট করে ! যা কিছুই হয়ে যাক, যারা সন্তুষ্ট আত্মা তারা কিন্তু কখনও নিজের সন্তুষ্টতার বিশেষত্ব ছাড়তে পারে না l সন্তুষ্টি ব্রাহ্মণ জীবনের বিশেষ গুণ বা জীবনের বিশেষ অলঙ্করণ l যেমন, কোনও প্রিয় বস্তু থাকলে তোমরা সেই প্রিয় বস্তুকে ছাড়তে পার না, সন্তুষ্টতা ততটাই বিশেষ, তোমাদের বিশেষত্ব l সন্তুষ্টতা ব্রাহ্মণ জীবনের পরিবর্তনের বিশেষ দর্পণ l সাধারণ জীবন আর ব্রাহ্মণ জীবন l সাধারণ জীবন অর্থাৎ কখনো সন্তুষ্টি কখনো অসন্তুষ্টি l ব্রাহ্মণ জীবনের সন্তুষ্টতার বিশেষত্ব দেখে অ-জ্ঞানীও প্রভাবিত হয় l এই পরিবর্তন অনেক আত্মাকে পরিবর্তন করার নিমিত্ত হয়ে যায় l সবার মুখ থেকে এটাই নিঃসৃত হয়, ইনি সদা সন্তুষ্ট অর্থাৎ খুশি থাকেন l যেখানে সন্তুষ্টতা সেখানে অবশ্যই খুশি আছে l অসন্তুষ্টি খুশি উধাও করে l ব্রাহ্মণ জীবনের এটাই মহিমা l সদা সন্তুষ্টতা না থাকলে জীবন সাধারণ l সন্তুষ্টতা সাফল্যের সহজ আধার l আত্মাদের সমস্ত ব্রাহ্মণ পরিবারের স্নেহী বানাতে সন্তুষ্টতা শ্রেষ্ঠ সাধন l যে সন্তুষ্ট থাকবে, তার প্রতি স্বতঃই সবার স্নেহ থাকবে l সন্তুষ্ট আত্মাকে সদা সকলেই নিজেদের কাছে নিয়ে আসতে বা শ্রেষ্ঠ সব কার্যে সহযোগী বানানোর চেষ্টা করবে l তাদের কোনো রকম প্রচেষ্টা করতে হবে না, তাদের কাছে নেওয়ার জন্য, সহযোগী বানানোর জন্য অথবা বিশেষ আত্মাদের লিস্টে আনার জন্য l ভাবতেও হবে না l বলতেও হবে না l সন্তুষ্টতার বিশেষত্ব নিজেই প্রতিটা কার্যে গোল্ডেন চ্যান্সেলর বানিয়ে দেয় l কার্যার্থে নিমিত্ত হওয়া আত্মাদের নিজে থেকেই সন্তুষ্ট আত্মাদের সংযোজিত করার সঙ্কল্প আসবেই এবং ক্রমাগত তাদের চান্স দিতে থাকবে l সন্তুষ্টতা সদা সকলের স্বভাব সংস্কারকে মিল করিয়ে দেয় l সন্তুষ্ট আত্মা কখনো কারও স্বভাব সংস্কারে ভীত হয় না l এমন সন্তুষ্ট আত্মাই তো হয়েছ, তাই না ! স্বয়ং ভগবান তোমাদের কাছে এসেছেন, তোমরা যাওনি ! ভাগ্য তোমাদের কাছে এসেছে l ঘরে বসেই ভগবানকে পেয়েছ, ভাগ্যপ্রাপ্তি হয়েছে l ঘরে বসেই সমুদায় ভান্ডারের চাবি পেয়েছ l যখন যেমন চাও, ভান্ডার তোমাদের, কারণ অধিকারী হয়ে গেছ, তাই না ? অতএব, এইভাবে সকলের কাছে আসার, সেবাতে কাছে আসার অনেক চান্সও নিজে থেকেই প্রাপ্ত হয় l বিশেষত্ব নিজেই তোমাকে সামনে এগিয়ে দেয় l যে সদা সন্তুষ্ট থাকে তার প্রতি সকলের স্বতঃই হৃদয়ের ভালোবাসা থাকে l উপরিগত ভালোবাসা নয় l এক হয়, কাউকে খুশি করানোর জন্য তাকে উপর-উপর ভালোবাসা, আর এক হয় হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা l মর্মাহত না হয় সেইজন্যও তোমাদের কখনো কখনো কাউকে কাউকে ভালোবাসতে হয় l যতই হোক, এমন আত্মারা সদাসর্বদা সেই ভালোবাসা নেওয়ার যোগ্য হয় না l সন্তুষ্ট আত্মাদের সদাই সকলের হৃদয়ের ভালোবাসা প্রাপ্ত হয় l কেউ পুরানো হোক বা নতুন, তার পরিচয়ে তাকে কেউ জানুক বা না জানুক, সন্তুষ্টতা নিজেই এমন আত্মার পরিচয় করিয়ে দেয় l প্রত্যেকের ইচ্ছা হবে তার সাথে কথা বলতে, তার সঙ্গে বসতে l তাহলে কি তোমরা এমন সন্তুষ্ট হয়েছ ? দৃঢ়তা তো আছে, তাই না ! এমন তো বলনা - সেইরকম হচ্ছি ! না ! সেইরকম হয়ে গেছ l

সন্তুষ্ট আত্মারা তো সদাই মায়াজিত l এই সভা সকল মায়াজিতের, তাই না ! মায়াতে ঘাবড়ে যাও না তো ! মায়া কার কাছে আসে ? সবার কাছেই তো আসে, আসে না ! এমন কেউ আছে যে বলে মায়া আসেই না ! আসে তো সবার কাছেই, কিন্তু কেউ ভয় পায় কেউ তাকে চিনে ফেলে, সেইজন্য সতর্ক হয়ে যায় l মর্যাদা-রেখার মধ্যে থাকা বাবার আজ্ঞাকারী বাচ্চারা দূর থেকেই মায়াকে চিনতে পারে l চিনতে দেরী করলে অথবা ভুল করলে, তখনই মায়াতে ভয় পেয়ে যায় l তোমরা গল্পের স্মৃতিরূপ শুনেছ যে সীতা কীভাবে প্রতারিত হয়েছিল, কিন্তু কেন ? কারণ চিনতে পারেনি l মায়ার স্বরূপ না চিনতে পারার কারণে প্রতারিত হয়েছে l যদি চিনতে পারত যে এ কোনও ব্রাহ্মণ নয়, ভিখারী নয় রাবণ, তবে শোক বাটিকার এত অনুভব করতে হতো না l কিন্তু অনেক পরে চিনতে পেরেছিল বলেই প্রবঞ্চিত হয়েছিল এবং প্রবঞ্চনার কারণে তাকে দুঃখও সইতে হয়েছিল l যোগী থেকে বিয়োগী হয়ে গেছে l সদা সাথে থাকা থেকে দূর হয়ে গেছে l প্রাপ্তিস্বরূপ আত্মা থেকে চিৎকার করা আহ্বায়ক হয়ে গেছে l কারণ ? জানার শক্তিমত্তার ঘাটতি l মায়ার রূপ জানার শক্তি কম হওয়ার কারণে মায়াকে বিতাড়ন করার পরিবর্তে নিজেই ঘাবড়ে যায় l চিনতে পারার শক্তি কম কেন হয়, ঠিক সময়ে চেনা যায় না, কিন্তু পরে চেনা যায় l এর কারণ ? কারণ সদা বাবার শ্রেষ্ঠ মতে চলে না l কোনো সময় স্মরণ করে, কোনো সময় করে না l কোন সময় উৎসাহ-উদ্দীপনায় থাকে, কোন সময় থাকে না l যারা সদা আজ্ঞার উল্লঙ্ঘন করে অর্থাৎ আজ্ঞা-রেখার ভিতরে না থাকার কারণে মায়া সেই সময় প্রতারণা করে l মায়ার পরখ করার শক্তি অনেক l মায়া দেখে যে ওই সময় তুমি দুর্বল আছ, আর সেই দুর্বলতার কারণে মায়া তোমাকে নিজের করে নিতে পারে l যে দরজা দিয়ে মায়া প্রবেশ করে, তা' হ'লো দুর্বলতা l সামান্যতম রাস্তা পেলেই সে তাড়াতাড়ি পৌঁছে যায় l আজকাল ডাকাতরা কি করে ! যদি-বা দরজা বন্ধও থাকে, সে ভেন্টিলেটর দিয়ে চলে আসে l সঙ্কল্পেও সামান্য দুর্বল হওয়া অর্থাৎ মায়াকে রাস্তা করে দেওয়া l সেইজন্য মায়াজিত হওয়ার অতি সহজ সাধন হলো সদা বাবার সঙ্গে থাকা l সাথে থাকা অর্থাৎ নিজে থেকেই মর্যাদা-রেখার ভিতরে থাকা l প্রত্যেক বিকারের ক্ষেত্রে বিজয়ী হওয়ার পরিশ্রম করা থেকে তোমরা নিস্তার পাবে l সদা তাঁর সাথে থাক তবে নিজে থেকেই বাবার মতো হয়ে যাবে l স্বতঃই সঙ্গের রঙ লেগে যাবে l বীজকে সরিয়ে শুধু শাখা কাটবার পরিশ্রম ক'রনা l একদিন কামজিত হলে, পরের দিন ক্রোধেজিত হয়ে গেলে, না l তোমরা সদাসর্বদা বিজয়ী l যখন বীজরূপ দ্বারা বীজের অবসান ঘটাবে, বারংবার পরিশ্রম করা থেকে নিজে থেকেই তোমরা রেহাই পাবে l শুধু বীজরূপ সাথে রাখ l তারপরে এই মায়ার বীজ এমন ভস্ম হয়ে যাবে যে আর কখনও সেই বীজ থেকে অংশ পর্যন্ত বেরোবে না l যে কোন ক্ষেত্রেই, দগ্ধ বীজ থেকে কখনো ফল উৎপন্ন হতে পারে না l

সুতরাং সাথে থাকো, সন্তুষ্ট থাকলে মায়া কি করবে ! সে নিজে স্যারেন্ডার করবে l মায়াকে সারেন্ডার করানোর কৌশল জান না ? যদি নিজে সারেন্ডার হও, তবে মায়া তোমার কাছে সারেন্ডার হয়েই আছে l তাহলে মায়া কি স্যারেন্ডার করেছে নাকি এখনো স্যারেন্ডার করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছ ? তোমাদের হাল-হকিকত কিরকম ? যেমন নিজেদের স্যারেন্ডার হওয়ার সেরিমনি পালন কর, ঠিক সেইভাবেই মায়াকে সারেন্ডার করানোর সেরিমনি উদযাপন করেছ, নাকি এখনও উদযাপন করতে হবে ? হোলি হওয়া অর্থাৎ সেরিমনি পালন করা হয়ে গেছে, দগ্ধ হয়ে গেছে l পরে ফিরে গিয়ে চিঠি লিখবে না তো, কি করি, মায়া এসে গেছে ! খুশির সমাচার লিখবে তো ? কতো সারেন্ডার সেরিমনি পালন করেছ, 'আমার নিজের তো হয়ে গেছে, কিন্তু অন্য আত্মাদের দ্বারাও মায়াকে সারেন্ডার করিয়েছি', এইরকমই চিঠি লিখবে, লিখবে না তোমরা ? আচ্ছা -

যতটা উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে এখানে এসেছ, বাপদাদাও সদা বাচ্চাদের সন্তুষ্ট আত্মারূপে ততটাই উৎসাহ-উদ্দীপনায় দেখতে আগ্রহী l ভালোবাসা তো তোমাদের আছেই l ভালোবাসার লক্ষণ - তোমরা এতদূর থেকে কাছে এসেছ l দিনরাত একমনে দিন গুনতে গুনতে এখানে পৌঁছে গেছ l প্রবল আকাঙ্ক্ষা যদি না থাকত তাহলে পৌঁছানোও কঠিন হতো l একান্ত আকাঙ্ক্ষা আছে ব'লেই তোমরা পাস হয়েছ l পাস সার্টিফিকেট তো পেয়ে গেছ, তাই না ! সব সাবজেক্টে পাস l তা' হলেও, বাপদাদা তোমরা সব বাচ্চাকে বাহবা দেন, কারণ তোমাদের চিনে নেওয়ার প্রখর দৃষ্টি আছে l দূরে থেকেও তোমরা বাবাকে চিনতে পেরেছ l যারা তাঁর সাথে অর্থাৎ এই দেশের যারা, তারা চিনতে পারে না l কিন্তু দূরে বসেও তোমরা চিনে গেছ l চিনে-জেনে বাবাকে আপন করেছ এবং বাবার হয়েছ l এইজন্য বাপদাদা বিশেষ বাহবা দেন l সুতরাং যেভাবে চিনে নেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছ, ঠিক সেইভাবেই মায়াজিত হওয়ার ক্ষেত্রেও নম্বর ওয়ান হয়ে বাবার থেকে সদা বাহবা নেওয়ার যোগ্য অবশ্যই হয়ে যাবে l যাতে মায়াতে সন্ত্রস্ত যে কোনো আত্মাকে বাপদাদা তোমাদের কাছে পাঠাতে পারেন এই ব'লে যে 'তাদের কাছে গিয়ে মায়াজিত হওয়ার অনুভব জিজ্ঞাসা কর l' এইরকম এক্সাম্পল হয়ে দেখাও l মোহজিত পরিবার যেমন প্রসিদ্ধ, তেমনই মায়াজিত সেন্টারও যেন প্রসিদ্ধ হয়, যেখানে মায়া কখনও আঘাত হানতে পারে না l মায়ার আসা একটা বিষয় আর আঘাত করা আরেক বিষয় l তাহলে, এক্ষেত্রেও তোমরা নম্বর নেবে, তাই না ! এতে নম্বর ওয়ান কে হবে ? লন্ডন, অস্ট্রেলিয়া হবে নাকি আমেরিকা হবে ? প্যারিস হবে, জার্মান হবে, ব্রাজিল হবে, কে হবে ? যে সেইরকম হবে l বাপদাদা এইরকম চৈতন্য মিউজিয়াম অ্যানাউন্স করবেন l আবুর মিউজিয়ামকে যেমন নম্বর ওয়ান বলা হয়, সেবাতেও আর উজ্জ্বলতার বিকাশেও l এইরকম মায়াজিত বাচ্চাদের মিউজিয়াম হতে দাও l এই সাহস আছে তোমাদের, আছে না ? তার জন্য এখন কতো সময় প্রয়োজন ? গোল্ডেন জুবিলিতেও তাদেরই পুরস্কৃত করা হবে, যারা প্রথমেই কিছু করে দেখাবে l লাস্টে এসে থাকলেও ফাস্ট হয়ে দেখাও l এমনকি ভারত থেকে আগতরাও রেস করুক l যাই হোক, তোমরা তাদেরও আগে যেতে পার l বাপদাদা সবাইকে সামনে যাওয়ার চান্স দিচ্ছেন l ৮ নম্বরের মধ্যে এসে যাও l আটই পুরস্কার লাভ করবে l এইরকম নয়, শুধু এক'ই পুরস্কৃত হবে l এমন ভাবছ না তো, লন্ডন আর অস্ট্রেলিয়া পুরানো, আমরা নতুন-নতুন এসেছি ! সবচেয়ে ছোট নতুন সেন্টার কোনটা ? সবচেয়ে ছোট যে হয়, সে সবার প্রিয় হয় l এমনিতেও ছোটদের বলা হয়, বড়রা তো বড়ই হয়, কিন্তু ছোটরা বাবা সমান হয় l সবাই করতে পারে, কোনও বড় ব্যাপার না l গ্রীস, ট্যাম্পা, রোম - এই সব ছোট সেন্টার l এরা তো মহা উল্লাসে থাকে l ট্যাম্পা কি করবে ? টেম্পল বানাবে ? যে আনন্দময়ী বচ্চি এসেছিল, তাদের বলেছিল যে ট্যাম্পাতে টেম্পল বানাতে l ট্যাম্পাতে যারাই যাবে তারা যেন তোমাদের প্রত্যেকের চৈতন্য মূর্তি দেখে উৎফুল্ল হয় l তোমরা সবাই শক্তিশালী তৈরি হয়ে যাও l তোমরা রাজগণ শুধু তৈরি হয়ে যাও, পরে তাড়াতাড়ি প্রজা তৈরি হয়ে যাবে l রয়্যাল ফ্যামিলি তৈরি হতে সময় লাগে l রয়্যাল ফ্যামিলির রাজধানী তৈরি হচ্ছে, তারপরে অনেক প্রজা এসে যাবে l এত আসবে যে তোমরা দেখে দেখে হয়রান হয়ে যাবে l তারপরে তোমরা বলবে, বাবা এবার বন্ধ কর ! যতই হোক, সর্বাগ্রে রাজ্য অধিকারী সিংহাসনাসীন তো হও ! মুকুটধারী, তিলকধারী যখন তৈরি হয়ে যাবে তখনই তো প্রজারা আচ্ছা হুজুর বলবে ! মুকুটধারী না হলে প্রজারা মান্যতা দেবে কীভাবে যে ইনি রাজা ? রয়্যাল ফ্যামিলি তৈরি হতে সময় লাগে l তোমরা ভালো সময় এসেছ যখন রয়্যাল ফ্যামিলিতে আসার অধিকার আছে l এখন প্রজা আসার সময় আসছে l রাজা হওয়ার লক্ষণ তো জানো, তাই না ! এখন থেকে স্বরাজ্য অধিকারী তথা বিশ্ব রাজ্য অধিকারী হয়ে যাও l এখন থেকে যারা রাজ্য অধিকারীদের নিকটবর্তী এবং সহযোগী হয়, তারা ওখানেও রাজ্য চালনায় সহযোগী হবে l এখন সেবায় সহযোগী, তারপরে রাজ্য চালনায় সহযোগী l সুতরাং এখন থেকে চেক করো l তোমরা রাজা নাকি কখনো রাজা কখনো প্রজা হয়ে যাও ! কখনো অধীন কখনো অধিকারী l তোমরা সবসময়ের রাজা ? তাহলে, কতো লাকি তোমরা ! এইরকম ভেব না যে তোমরা দেরিতে এসেছ l প্রকৃতপক্ষে যারা শেষে আসে তাদের ভাবতে হবে l তোমরা ভালো সময়ে এখানে পৌঁছেছ, সেইজন্যই তোমরা লাকি l এটা ভেবনা যে 'আমরা পরে এসেছি, রাজা হতে পারব কি পারব না ! রয়্যাল ফ্যামিলিতে আসতে পারব কিনা !' সদা এমন ভাবো, 'আমরা আসব না তো কে আসবে ?' আসতেই হবে, 'জানিনা এটা করতে পারব কিনা ! জানিনা, এটা হবে কি হবে না ....না; তোমরা জানো যে প্রতি কল্পে তোমরা করেছ, করছ এবং সদা করবে l বুঝেছ !

কখনও এটা ভেবো না যে তোমরা বিদেশি, এরা দেশি l এরা ইন্ডিয়ান তোমরা ফরেনার l তোমাদের নিয়ম-ধারা তোমাদের নিজস্ব, তাদেরটা তাদের নিজস্ব l এতো শুধু পরিচয়ের জন্য ডবল বিদেশি বলে l যেমন এখানেও বলে, এরা কর্ণাটকের, এরা ইউ. পি.র l ব্রাহ্মণ তো না ? ইন্ডিয়ান হোক বা বিদেশি হোক, সবাই ব্রাহ্মণ l তোমরা বিদেশি এই ভাবনাই রং l নতুন জন্ম কি তোমরা নাওনি ? পুরানো জন্ম তো হয়েছিল বিদেশে l নতুন জন্ম তো ব্রহ্মার কোলে হয়েছে, তাই না ! এটা শুধু পরিচয়ের জন্যই বলা হয় l কিন্তু সংস্কারে বা তোমাদের বোঝার অনুভূতিতে কখনো প্রভেদ আছে মনে ক'রনা l তোমরা ব্রাহ্মণ বংশের না ? আমেরিকা, আফ্রিকা বংশের তো নও, তাই নয় কি ? সবার পরিচয় কি দেবে ? শিববংশী ব্রহ্মাকুমার -কুমারী l একই বংশ হয়ে গেল, তাই না ! তোমাদের কথাতেও কখনো পার্থক্য রেখো না l ইন্ডিয়ান এইরকম করে, বিদেশি এইরকম করে, না ! আমরা সবাই এক l বাবা এক l রাস্তা এক l রীতি-নীতি এক l স্বভাব-সংস্কার এক l তবে দেশি আর বিদেশির প্রভেদ কীভাবে হতে পারে ? নিজেকে বিদেশি বলায় দূরের হয়ে যাবে l ব্রহ্মা বংশী সবাই আমরা ব্রাহ্মণ l আমি বিদেশি, আমি গুজরাতি...এইজন্যই এটা হয় l না, সবাই এক বাবার l এটাই তো বিশেষত্ব, বিভিন্ন সংস্কার মিলেমিশে এক হয়ে গেছে l বিভিন্ন ধর্ম, বিভিন্ন জাতি-বর্ণ সব সমাপ্ত হয়ে গেছে l তোমরা একের হয়ে গেছ অর্থাৎ সবাই এক হয়ে গেছ l বুঝেছ ! আচ্ছা !

সদা সন্তুষ্ট থাকা বিশেষ আত্মাদের, সদা সন্তুষ্টতার দ্বারা সেবায় সফলতা প্রাপ্তকারী বাচ্চাদের, সদা রাজ্য অধিকারী তথা বিশ্ব রাজ্য অধিকারী শ্রেষ্ঠ আত্মাদের, সদা নিশ্চয় দ্বারা সকল কার্যে নম্বর ওয়ান হয়, এমন বাচ্চাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার l

বরদান:-
সাধনসমূহকে নির্লিপ্ত এবং স্বতন্ত্র হয়ে কার্যে প্রয়োগ করে বেহদ-বৈরাগী ভব

বেহদের বৈরাগী অর্থাৎ কোনো কিছুর সাথে সম্বন্ধ নেই, সদা বাবার অত্যন্ত প্রিয় l এই ভালোবাসা প্রিয় বানায় l বাবার প্রিয় না হলে স্বতন্ত্র হতে পারবে না, আসক্তি থেকে যাবে l যে বাবার প্রিয়, সে সবরকম আকর্ষণের ঊর্ধ্বে অর্থাৎ নিরাসক্ত (স্বতন্ত্র) হবে, একেই বলে, নির্লিপ্ত স্থিতি l কোনোরকম আকর্ষণে প্রভাবিত হয় না l যারা রচনা এবং সাধন সমূহ নির্লিপ্ত হয়ে কার্যে পরিণত করে - সেইরকম বেহদ-বৈরাগীই রাজঋষি l

স্লোগান:-
হৃদয়ের স্বচ্ছতা-সত্যতা থাকলে ঈশ্বর খুশি হন l