০৯-০১-১৯ : প্রাতঃমুরলী ওঁম্ শান্তি! "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - প্রেমানুভবের সাথে বাবাকে স্মরণ করতে থাকবে। সদা শ্রীমৎ অনুসারে চলবে। পঠন-পাঠনের প্রতি সম্পূর্ণ রূপে মনোযোগী হলে, সবাই সম্মান জানাবে তোমায়"

প্রশ্ন:-

অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব কোন্ বাচ্চাদের হয় ?

উত্তর:-

(১) যে দেহী-অভিমানী হয়, সে যখনই কারও সাথে কথা বলে বা কাউকে কিছু বোঝায়, তখন তার মনের স্থিতি থাকে - 'আমি আত্মা, অন্য এক আত্মা ভাইয়ের সাথে কথা বলছি' । ভাই-ভাইয়ের এই দৃষ্টি যত দৃঢ় হবে ততই দেহী-অভিমানী ভাব আসতে থাকবে। (২) যে এই ধারণায় বিভোর হয়ে আছে, স্বয়ং ভগবানের 'ঈশ্বরীয় ছাত্র' আমি,- সে অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব করবেই।

গীত:-

কে এল আমার মনের দ্বারে....

ওঁম্ শান্তি!

এখানে স্বয়ং বাবা বসে বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছেন। কোনও সংস্থাতেই এমনটি হয় না, স্বয়ং বাবা বাচ্চাদেরকে বোঝায়। বাচ্চারা নিজেরাও তা জানে, তাদের সবারই এই একই পিতা। নিজেরা সবাই ভাই-ভাই। বাচ্চারাও ওয়ারিশনের অধিকারী হয়ে বাবার অবিনাশী আশীর্বাদী-বর্সা পায়। কল্প-চক্রের বিষয়টাকে ভালভাবে বোঝাতে হবে। একমাত্র এই সঙ্গমেই মুক্তি আর জীবনমুক্তি পাওয়া যায়। বি.কে.-রা যাবে জীবনমুক্তিতে আর বাদবাকীরা সবাই যাবে মুক্তিতে। একজনই সবার সদগতিদাতা, মুক্তিদাতা, দিশা নির্দেশক - এসব ওনার উদ্দেশ্যেই বলা হয়। রাবণের রাজত্বে কত অধিক সংখ্যায় মানুষ। রামরাজ্যে, একটি মাত্র আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম, তাদেরকে বলা হতো আর্য, যারা সংশোধিত হয়ে উন্নত হয়েছে। যারা সংশোধিত হয়নি তারা অনার্য। মর্মার্থ কেউ জানে না। এই সংশোধিতরাই আবার অসংশোধিত হলো কি প্রকারে? আর্য কিন্তু কোনও ধর্ম নয়। এরাই সংশোধিত হয়ে দেবী-দেবতা ছিল। ৮৪-বার জন্ম নিতে নিতে তারাই অসংশোধিত হয়। একদা যারা উচ্চ থেকেও অতি উচ্চে, পূজ্য ছিলো, তারাই এখন পূজারীতে পরিণত! "হাম সো"- এর যথার্থ অর্থ একমাত্র বাবাই বোঝাতে সক্ষম। সিঁড়ি অর্থাৎ কল্পের যুগের ভাগ ও ৮৪-জন্মের অদ্ভুত কাহিনিও বোঝাতে হবে। এমনটা নয় যে, আত্মাই পরমাত্মা, কিম্বা পরমাত্মাই আত্মা। এ এক বিশাল নাটক। এই তোমরাই একদা পূজ্য থাকো, তোমরাই পরে পূজারী হও, অর্থাৎ দেবতা থেকে ক্ষত্রিয়.. এই ভাবেই সিঁড়ি দিয়ে অবশ্যই নিম্নে নামতে হয়। তারও ৮৪-জন্মের নির্দিষ্ট হিসাব আছে, কে কত জন্ম পাবে। বাবা বলছেন- বাচ্চারা, নিজেদের জন্মের রহস্যই জানো না তোমরা, জানাচ্ছি শোনো। এই অবিনাশী নাটকের চিত্রপট একটি চক্রের মতন। সেই হিসাবেই তোমাদের দেবতা, ক্ষত্রিয় .... ইত্যাদি হতে হয়। যার মধ্যে শুরুর ২১-জন্মেরই যত খ্যাতি। বর্তমানের তমোপ্রধান লোকেরা তা জানেই না। কিন্তু বি.কে.-রা এখন সেইসব জ্ঞান অর্জন করেছে। তবুও সবাই বুঝতে পারে না। তাই তো বলা হয়, কোটির মধ্যে দু-একজন সেই জ্ঞানে জ্ঞানী হতে পারে, যারা দেবতা ধর্মের উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠবে। এ কোনও আশ্চর্যের ব্যাপার নয়।



সৃষ্টি-চক্রের বিষয়ে খুব ভালভাবে বোঝাতে হবে। কোনটা সত্যযুগ.... কোনটা কলিযুগ.....! সত্যযুগে লোকসংখ্যা থাকে অনেক কম। কল্প-বৃক্ষের (ঝাড়ের) আকার তখন অনেক ছোট থাকে যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই কল্পবৃক্ষের বিষয়টাই তো লোকেরা জানে না। আর ব্রহ্মার ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য জানে - এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়াই দায়। ব্রহ্মার মুখ-বংশাবলী ব্রাহ্মণের অবশ্যই প্রয়োজন, যাদেরকে দত্তক নেওয়া হয়। জাগতিক ব্রাহ্মণেরা তো গর্ভজাত সন্তান। একমাত্র বি.কে.-রাই প্রকৃত ব্রাহ্মণ, যাদের দত্তক হিসাবে স্বীকৃতি দেন ব্রহ্মাবাবা। এই রাবণের দুনিয়া তোমাদের বিদেশ-ভূমি। তাই বাবাকে এসে তা রাম-রাজ্যে রূপান্তরিত করতে হয়। ফলে ওনাকেও কারও না কারও শরীরে প্রবেশ তো করতেই হবে। 'কল্প-বৃক্ষের' ঝাড়ের চিত্রে দেখো, একেবারে উপরে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। বৃক্ষেরও জরাজীর্ণ অবস্থা। বাবা জানাচ্ছেন- অনেক জন্মের পর এখন যিনি অন্তিম জন্মে অর্থাৎ ৮৪-জন্মে পৌঁছে তপস্যারত অবস্থায় আছেন, আমি তার শরীরকেই আধার বানাই। ইনি কিন্তু ভগবান নন। লোকেরা ভগবানকে সর্বব্যাপী বলে। পাথর-নুড়িতেও ভগবান, এমন বলতে বলতে নিজেদের অবস্থাই এখন নুড়ি পাথরের মতন। কিন্তু, দেবতারা তো অনুপম-অনন্য। এই জ্ঞানের পাঠ পড়ে তোমরাও সেই পদ পেতে পারো। সত্যি কত উন্নত স্তরের এই জ্ঞানের পাঠ। দেবতাদের ভগবান-ভগবতীও বলা হয়। তারা পবিত্র থাকে এবং স্বয়ং ভগবানের দ্বারা এই ধর্মের স্থাপনা হয়। তাই ভগবান-ভগবতীও বলা চলে। যদিও প্রকৃত অর্থে ওনারা মহারাজা-মহারাণী। শ্রীলক্ষ্মী-শ্রীনারায়ণকে ভগবতী-ভগবান বলাটা এক প্রকারের অন্ধশ্রদ্ধাই। ভগবান তো কেবল এক ও একমাত্র৷ তাই বি.কে.-রা শিব আর শংকরের পার্থক্যকে বিশ্লেষণ করে বুঝিয়ে দেয়। তাতেও লোকেরা বলে, বি.কে.-রা দেবতাদেরও ছুড়ে ফেলে দেয়। একমাত্র বি.কে.-দের বুদ্ধিতেই সমগ্র সৃষ্টি চক্রের জ্ঞান আছে। কিন্তু যারা জ্ঞানে মহারথী কেবল তারাই খুব ভালভাবে তা বোঝাতে পারবে। অনেকেই এমন আছে, যদিও সে প্রচুর জ্ঞান শোনে, কিন্তু বুদ্ধিতে ধরে রাখে না কিছুই, তবে সে আর কি পদেরই বা আশা করতে পারে? এমন পাই-পয়সার বি.কে.-রা দাস-দাসীই হয়। ভবিষ্যতে তোমাদের সেসবের সাক্ষ্যাৎকারও হবে, কিন্তু তখন আর তা সংশোধনের কোনও উপায় থাকবে না। সময় ফুরিয়ে গেলে আর কিছুই যে করার থাকে না। তাই বাবা বার-বার সতর্ক করতে থাকেন। বাস্তবে এটাও হয় না, সবাই উচ্চ-পদের অধিকারী হবে। অনেকেরই মনের আধারটাই যে পরিস্কার নয়, মন-বুদ্ধি নোংরা-আবর্জনায় পূর্ণ। এর জন্য তো অনেক বেশী পুরুষার্থের প্রয়োজন। চিত্রগুলির সাহায্যে বোঝাবার অভ্যাস করো, যাতে ভবিষ্যতে তাদের অনুশোচনা না করতে হয়। এটাই আত্মার ভোজন। যা প্রত্যেককেই বোঝানো উচিত। ভয় পেয়ে পিছিয়ে এলে চলবে না। তোমরা যখন বড়-বড় জায়গায় প্রদর্শণী, মিউজিয়াম ইত্যাদি করবে, তোমাদের নাম-যশও চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে। ফর্ম ছাপিয়ে রাখবে, সবাই তাদের মতামতও যেন লিখে দেয় তাতে।



বাচ্চারা, তোমাদেরকে আরও বেশী করে করতে হবে এই ঈশ্বরীয় সেবা। তবে আগে বুঝে নিতে হবে নতুন দুনিয়া ও পুরাতন দুনিয়ার বিষয়ে, ইনি তেমন বুঝদার হবে কি না। এসব অতি সহজেই সবাই বুঝতে পারতো, যদি না কল্পের আয়ুকে এত লম্বা করে ভুল ব্যাখ্যা না করা হতো। এর কারণেই মানুষের মধ্যে এই দ্বিধার সৃষ্টি হয়েছে। শুরুতেই বাবার পরিচয় জানাতে হবে। অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব কেবল সে করতে পারবে, যে দেহী-অভিমানী ভাবে থাকবে। কেবল মুখে ভাষণ দিলেই হবে না, ভাষণের সময় মনে রাখতে হবে, আমিও আত্মা তারই ভাই। এক ভাই অপর ভাইকে বোঝাচ্ছে। এই আত্ম-অভিমানী ভাবে আসা - যা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। মুহূর্তে-মুহূর্তেই তা ভুলে যায় অনেকেই। তাই বাবা এই বিষয়কেই বেশী করে বোঝান বি.কে.-দেরকে। প্রবাদ প্রচলিত আছে যে, আত্মা আর পরমাত্মা উভয়েই পৃথক ছিল বহুকাল- এর মর্মার্থ কেবল তোমরা বি.কে.-রাই বুঝতে পারো। যারা মহারথী তারা নিজেদেরকে আত্মা ভেবে বাবাকে স্মরণ করার নিরলস অভ্যাসে অভ্যাসী, তবেই তো সে নিজেকে পাওয়ারফুল আত্মা ভাবতে পারবে। আর যে নিজেকে আত্মা ভাবতেই পারে না, তার তো কোনও ধারণাই হবে না। স্মরণের দ্বারাই যোগে বল আসবে। জ্ঞানকে বল বলা হয় না - যোগের বলকেই বলা হয় যোগবল। এই যোগবলের শক্তিতেই তোমরা বিশ্বের মালিক হও। অন্যদেরকেও নিজেদের মতন করে তৈরী করতে হবে তোমাদেরকেই। যতক্ষণ না পর্যন্ত অনেককে নিজেদের মতন করে তৈরী করতে পারছো, ততক্ষণ বিনাশ কার্য শুরুই হতে পারবে না। বড় কোনও যুদ্ধ-বিগ্রহ ইত্যাদি শুরু হলেও, তা কিন্তু আবার বন্ধও হয়ে যাবে। অনেকের কাছেই কত প্রকারের বোমা আছে, অথচ যা রাখার জিনিষ নয়। পুরোনো এই দুনিয়ার বিনাশ এবং আদি সনাতন ধর্মের স্থাপনা তো অবশ্যই হবে। তার আর বেশী দেরীও নেই। তখন সবাই একত্রে বলবে- এই মহাভারতে মহাভারী যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেই সময়ে ভগবানও থাকবেন এখানে। তখন তোমাদের খুবই মান্যতা দেবে লোকেরা, তখন তারা দলে-দলে আসতে থাকবে তোমাদের কাছে এখানে। তারাই বলবে- দেখো কেমন বি.কে.সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এই ঈশ্বরীয় বিদ্যালয়ে। এর মধ্যেই যে প্রকৃত শক্তি নিহিত আছে। যত বেশী স্মরণের যোগে থাকবে, তোমাদের আত্মাও ততই শক্তিশালী হতে থাকবে। বাবার সাথে স্মরণের যোগ লাগিয়ে অন্যদেরকেও সেই আলো দিতে পারবে তোমরা। এই ব্রহ্মা-দাদাও তেমনই বলেন- "আমার থেকেও ভাল সেবা করতে পারে এই বাচ্চারা।" এখনও অল্প সময় অবশিষ্ট আছে, অথচ যোগে যথার্থ রীতিতে বসে থাকতে পারে না কেউ। বাচ্চারা নিজেরাই তা বুঝতে পারে, যোগের অভ্যাসে তারা একটু পিছিয়েই আছে, তাই সেভাবে তীর লাগাতে পারে না তারা। ভগবানও কুমারীদের জ্ঞানের বাণে ভরপুর করে দেন। তোমরা হলে প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমার-ব্রহ্মাকুমারী, আর ইনি হলেন ব্রহ্মা, যিনি তোমাদেরকে সন্তানরূপে দত্তক নিয়েছেন। রচয়িতা কেবল একজনই, বাকীরা সবাই বিদ্যার্থী। যার মধ্যে ব্রহ্মাও আছে৷ অর্থাৎ এসব কিছুই রচনা। তোমরাই দেবতা হতে চলেছো। তাই তো এই দৈবী-গুণ ধারণ করছো। দুই-পা তো আর একত্রে চলতে পারে না। যেমন কেউ কেউ বালির উপরেই দাঁড়িয়ে আছে। যদিও বাবা তাদের নাম প্রকাশ করছেন না। কিন্তু বাবা যে সত্য বলছেন, তা বুঝতে পারছো। তোমরা বাচ্চারা একে অপরের স্বভাবকে বুঝে নিয়ে নিজেদের মধ্যে মিলেমিশে কাজ করবে।



বাচ্চারা, এখন তোমরা বুঝতে পারছো, একদা তোমরাই সেই মুকুটধারী ছিলে, যা আবারও তা হতে চলেছো। পূর্বে একথা অন্যেরা মানতে চাইতো না। ধীরে-ধীরে তারা এখন বুঝতে পারছে, যদিও তা বোঝার জন্য তেমন স্বচ্ছ বুদ্ধির দরকার। আর সেই বুদ্ধি থাকে আত্মার সাথেই। আত্মা সৎ-চিৎ-আনন্দ স্বরূপ। তাই তোমাদেরকে দেহী-অভিমানী ভাব ধারায় গড়ে তোলা হচ্ছে। কিন্তু যতক্ষণ না পর্যন্ত এই ধরায় বাবা আসেন না, ততক্ষণ কেউ দেহী-অভিমানী হতে পারে না। বাবা বলছেন- "আত্ম-অভিমানী ভব। অবিরাম যদি আমাকে স্মরণ করতে থাকো, তবেই আমার থেকে শক্তি নিতে পারো। এই (স্মরণের) ধর্মেই প্রচুর শক্তি আছে। সমগ্র বিশ্বের অধীশ্বরও হওয়া যায়। এ কি কম কথা। তোমরাও শক্তিশালী হও বাবার সাথে যোগযুক্ত হয়ে, এই যোগবলের দ্বারাই। এটাই নতুন ধরণের কথা, যা খুব ভালভাবে বোঝাতে হবে সবাইকে। আত্মাদের প্রকৃত বাবা কেবল একজনই, যিনি অসীম বেহদের পরমাত্মা। তিনিই নতুন দুনিয়ার রচয়িতা। শিবের এই কর্ম-কর্তব্যগুলি ব্যাখ্যা করে শোনাবে, উনি এসে কি কি করেন। লোকেরা তো কৃষ্ণ-জয়ন্তী ও শিব-জয়ন্তী দুটোই পালন করে। কিন্তু দুজনের মধ্যে বড় কে? --উচ্চতমেরও উচ্চে নিরাকার। কিন্তু উনি এমন কি করেছেন যে, ওনার নামে জয়ন্তী পালন করা হয়? আর কৃষ্ণই বা এমন কি করেছেন? শাস্ত্রে লেখা আছে, নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা সাধারণ এক বৃদ্ধের শরীরে অবস্থান করে নতুন স্থাপনার কার্য করেন। যদিও অনেক মত-মতান্তরও আছে এ বিষয়ে। কিন্তু শ্রীমৎ তো একটাই, যার দ্বারা তোমরা এত শ্রেষ্ঠ (মহান) হতে পারো। কোনও মানুষের মতে তো আর শ্রেষ্ঠ হওয়া যায় না। এই অমূল্য ঈশ্বরীয় শ্রীমৎ পুরো কল্পে একমাত্র এই সঙ্গমেই পাওয়া যায়। দেবতাদের কোনও মত হয় না। মানব থেকে দেবতা হতে পারলেই হলো। যারপর আর গুরু-গোঁসাইয়ের ব্যাপারটাই থাকে না। লোকেরা তাদের মত অর্থাৎ মনুষ্য মতই পেয়ে থাকে। এগুলিই যুক্তি সহযোগে বোঝাতে হবে বি.কে.-রা কেন রাজযোগী। হঠযোগীরা রাজযোগ শেখাতে পারে না। তারা তো নিবৃত্তি-মার্গের। প্রকৃত তীর্থযাত্রা করে প্রবৃত্তি-মার্গের লোকেরাই। যেহেতু তারা ঘর-সংসার-পরিবার সবেতেই আছে।



বাচ্চারা, কোনো কিছুতেই তোমরা মুষড়ে পড়ো না যেন। এই অবিনাশী ড্রামার চিত্রপট পূর্ব নির্ধারিত। বারংবার যার পুনরাবৃত্ত হতে থাকে। এই সেবাও তেমনই হচ্ছে, যেমনটি হয়েছিল কল্প পূর্বে। ড্রামার অনুসারেই তোমরা নিজ নিজ পুরুষার্থে আগ্রহী হও। তেমনটাই করো ঠিক যেমনটা করেছিলে কল্প পূর্বে। তোমরাও তা বুঝতে পারো, অন্যদের পুরুষার্থ করার চাল-চলন ও ধরণ দেখে। প্রদর্শনীতে তেমন গাইডকে গ্রুপের সাথে পাঠানো হয়, যে খুব ভালভাবে বোঝাতে সক্ষম। বাবা খুব ভাল রীতিতেই এই জ্ঞানের পাঠ পড়ান তোমাদের। কত সুন্দর ও সহজ ভাবে বিশাল অসীম-বেহদের বুদ্ধিতে গড়ে তোলেন তোমাদের! তোমাদেরও তেমনি আনন্দে বিভোর হতে হবে, প্রকৃত অর্থে কার সন্তান তোমরা। যেখানে স্বয়ং ভগবান তোমাদের শিক্ষক। আর যে এই জ্ঞানের পাঠ ধারণ করতে পারে না সে তো পালিয়ে যাবেই। ভগবানও তা বুঝতে পারেন, এই আত্মাধারী ওঁনার সন্তান নয়। অনেকেই দেখে, যারা নিজেদেরকে ভগবানের সন্তান ভেবে এতদিন এখানে পড়তে আসতো, তাদের কেউ কেউ এখন আর আসছেই না। কিন্তু যখন তার মধ্যে সেই উচিত বোধ জাগ্রত হলো, তারপর থেকে নিয়মিত পাঠ পড়তে আসতে লাগলো। এরপরেও যদি সে তেমন ভাবে যোগে অভ্যাসী হতে পারে, তবে আগামীতে অনেক উচ্চ পদের অধিকারীও হতে পারে। তখনি তারা একথা বুঝতে পারে, সত্যি কতটা সময় অপচয় করে ফেলেছে তারা, এই ঈশ্বরীয় পঠন-পাঠন মাঝপথে ছেড়ে দিয়ে। যাই হোক, এখন অবশ্যই বাবার থেকে আশীর্বাদী-বর্সা নিতেই হবে। বাবাকে স্মরণ করতে-করতে কিম্বা বাবা-বাবা জপতে-জপতে এক বিশেষ ধরণের রোমাঞ্চকর স্থিতির অনুভব হয়। যেহেতু,এই বাবা-ই তো তোমাদের এত উচ্চ পদ প্রাপ্ত করায়। সত্যি কত ভাগ্যশালী বি.কে.তোমরা। অতএব প্রতিটা মুহূর্তেই যেন বাবা স্মরণে থাকে। বাবার নির্দেশিত দিশায় চলতে থাকলে, উন্নতিও হতে থাকবে। তখন তোমাদেরও অন্যেরা অনেক সম্মান জানাবে। বাবা জানাচ্ছেন -অশিক্ষিত লোকেরা বিদ্বান লোকেদের সামনে নতজানু হয়। দেহ-অভিমানী আত্মাধারীরা দৈবী-গুণ ধারণ করতে পারে না। বি.কে.দের মুখ-মণ্ডলে সৌম্যভাব অবশ্যই থাকা উচিত। তাই তো বলা হয়, অতীন্দ্রিয় সুখের কথা জানতে হলে তাদের কথা শোনো, স্বয়ং ভগবান যাদের পড়াচ্ছেন। অতএব ভেবে দেখো, এই পাঠের প্রতি বি.কে.দের কত অধিক মনোযোগ দেওয়া উচিত এবং কিভাবে বাবার শ্রীমৎ অনুসারে চলা উচিত। তোমাদের এই যোগ-বলের শক্তিতেই সমগ্র বিশ্বে পবিত্রতা আসে। সত্যি, এ বড়ই আশ্চর্যের। গোবর্দ্ধন পাহাড়কেও তো তোমরা প্রত্যেকেই এক-এক আঙ্গুলের সহযোগিতা দিয়ে উঠিয়ে রেখেছিলে। আসলে তা এরই প্রতীক-যারা এই অপবিত্র বিকারী ছিঃ-ছিঃ দুনিয়াকে পবিত্র বানিয়ছিলো। *আচ্ছা!*



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ, ভালবাসা ও সুপ্রভাত। ঈশ্বরীয় পিতা নমন জানাচ্ছেন ওনার ঈশ্বরীয় সন্তানদের।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১. সত্য জ্ঞানকে বুদ্ধিতে ধারণ করার জন্য বুদ্ধিরূপী পাত্রকে পরিস্কার ও স্বচ্ছ করতে হবে। ব্যর্থ আবর্জনাগুলিকে বুদ্ধি থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।

২. দৈবীগুণগুলির ধারণা আর জ্ঞানের পঠন-পাঠনে সম্পূর্নরূপে মনোযোগী হয়ে অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব করতে হবে। সদা এতেই বিভোর হয়ে থাকতে হবে যে, আমি ভগবানের সন্তান, স্বয়ং ভগবান আমার শিক্ষক।

বরদান:-

প্রাপ্তি স্বরূপ হয়ে, 'কেন' এবং 'কি' প্রশ্নের উর্দ্ধে (বাইরে) থেকে সদা প্রসন্নচিত্ত হও

প্রাপ্তিস্বরূপ সম্পন্ন আত্মাদের কখনই কোনও বিষয়েই প্রশ্ন আসে না। তার চেহারায় এবং চাল-চলনে প্রসন্নতার ব্যক্তিত্ব লক্ষ্য করা যায় - একেই বলে সন্তুষ্টতা। প্রসন্নতা কম হওয়ার কারণ হল প্রাপ্তি কম আর প্রাপ্তি কম হওয়ার কারণ হলো- কোনও না কোনও সুপ্ত ইচ্ছা। অনেক সূক্ষ্ম ইচ্ছাও অপ্রাপ্তির দিকে টেনে নিয়ে যায়। এই কারণেই অল্পকালের ইচ্ছাগুলিকে ঝেড়ে ফেলে, প্রাপ্তিস্বরূপ হতে পারলে, তবেই সদা প্রসন্নচিত্ত হতে পারবে।

স্লোগান:-

পরমাত্ম প্রেমে লাভলীন হয়ে থাকলে মায়ার আকর্ষণ সমাপ্ত হয়ে যায়।