09.01.2023 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - জীবন্মৃত যদি হয়ে থাকো তবে সবকিছু ভুলে যাও, এক বাবা যা শোনান, তাই শোনো আর বাবাকে স্মরণ করো, তোমার সঙ্গেই বসবো"

প্রশ্নঃ -
সদ্গতি দাতা বাবা বাচ্চাদের সদ্গতির জন্য কোন্ শিক্ষা দেন ?

উত্তরঃ  
বাবা বলেন - বাচ্চারা, সদ্গতিতে যাওয়ার জন্য অশরীরী হয়ে বাবা আর চক্রকে স্মরণ করো । যোগের দ্বারা তোমরা এভারহেলদি, নিরোগী হয়ে যাবে । তারপর তোমাদের কোনো কর্মের ভোগ করতে হবে না ।

প্রশ্নঃ -
যাদের ভাগ্যে স্বর্গের সুখ নেই, তাদের নিদর্শন কি হবে ?

উত্তরঃ -
তারা জ্ঞান শোনানোর সময় বলবে যে, আমাদের কাছে সময়ই নেই । তারা কখনোই ব্রাহ্মণ বংশের হবে না । তারা জানতেই পারবে না যে, ভগবানও কখনো কোনো রূপে আসেন ।

গীতঃ-
তোমাকে ডাকতে যে মন চায়...

ওম্ শান্তি ।
ভগবান ভক্তদের বসে বোঝান । ভক্তরা হলো ভগবানের সন্তান । সবাই হলো ভক্ত । বাবা হলেন একজন । তাই বাচ্চারা চায়, এক জন্ম অন্তত বাবার সাথে থেকে দেখতে । দেবতা জন্মও অনেক কাটিয়েছো । আসুরী সম্প্রদায়ের সঙ্গেও অনেক জন্ম কেটে গেছে । এখন ভক্তদের মন চায় যে, এক জন্ম তো ভগবানের সাথে থেকে দেখি । তোমরা এখন ভগবানের হয়েছো, জীবন্মৃত হয়েছো তাই ভগবানের সঙ্গে থাকো । এই যে অমূল্য অন্তিম জীবন, এতে তোমরা পরমপিতা পরমাত্মার সঙ্গে থাকো । গায়নও আছে -- তোমার সাথেই খাবো, তোমার কাছেই বসবো, তোমার থেকেই শুনবো...। যে জীবন্মৃত হয়, তার জন্য এই জন্ম ভগবানের সাথে থাকা হয়ে যায় । এই এক জন্মই হলো উঁচুর থেকেও উঁচু জন্ম । বাবাও একবারই আসেন আর কখনোই আসবেন না । তিনি একবার এসেই বাচ্চাদের সব কামনা পূরণ করেন । ভক্তিমার্গে মানুষ অনেক কামনা করে । সাধুসন্ত, মহাত্মা, দেবী - দেবতাদের থেকে অর্ধেক কল্প ধরে কামনা করতে থাকে আর দ্বিতীয়তঃ জপ-তপ, দান-পুণ্য ইত্যাদিও জন্মের পর জন্ম করেই এসেছে । মানুষ কতো শাস্ত্র পাঠ করে । কতো শাস্ত্র, ম্যাগাজিন ইত্যাদি বানায়, পরিশ্রান্তই হয় না । তারা মনে করে এতেই ভগবানকে প্রাপ্ত করবে, কিন্তু বাবা এখন নিজেই বলেন - তোমরা জন্ম - জন্মান্তর ধরে যা কিছুই পড়েছো আর এই যে সব শাস্ত্র ইত্যাদি পাঠ করো, এর দ্বারা আমাকে প্রাপ্ত করা যাবে না । অনেক বইপত্র ইত্যাদি আছে । খ্রীস্টানরাও কতকিছু শেখে । তারা অনেক ভাষাতে কতকিছু লিখেও থাকে । মানুষ পড়তেই থাকে । বাবা এখন বলেন, তোমরা যা কিছুই পড়েছো সেইসব ভুলে যাও, অথবা বুদ্ধির দ্বারা তা সমাপ্ত করো । মানুষ অনেক বই পড়ে । এইসব বইয়ে থাকে, অমুকে ভগবান, অমুকে অবতার । বাবা এখন বলেন, আমি নিজেই আসি আর যারা আমার হয় তাদের আমি বলি, এইসব কথা ভুলে যাও । সম্পূর্ণ দুনিয়ার, এমনকি তোমাদের বুদ্ধিতেও যে কথা ছিলো না, সেই কথা আমি এখন তোমাদের শোনাই । তোমরা বাচ্চারা এখন বুঝতে পারো, বরাবর বাবা যা বোঝান, তা কোনো শাস্ত্র ইত্যাদিতে নেই । বাবা অতি গুহ্য এবং রমণীয় কথা বোঝান । তিনি তোমাদের এই ড্রামার আদি - মধ্য - অন্ত এবং রচনা আর রচয়িতার সমাচার শোনান । তবুও তিনি বলেন - আচ্ছা, বেশী না পারো তো দুটি অক্ষর স্মরণে রেখো -- মন্মনাভব আর মধ্যাজী ভব । এই শব্দ তো ভক্তিমার্গের গীতার, কিন্তু বাবা এর অর্থ খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে বলেন । ভগবান তো সহজ রাজযোগ শিখিয়েছেন, তিনি কেবল বলেন - আমি তোমাদের বাবা, তোমরা কেবল আমাকে স্মরণ করো । ভক্তিতেও মানুষ অনেক স্মরণ করতো । গান গেয়েও থাকে, দুঃখে স্মরণ করে, সুখে করে না কেউ... তবুও কিছুই বুঝতে পারে না । তাহলে অবশ্যই সত্যযুগ আর ত্রেতাযুগে সুখের দুনিয়া আছে তাহলে স্মরণ কেন করবে? এখন মায়ার রাজত্বে সকলের দুঃখ হয়, তাই তো বাবাকে স্মরণ করে আর আবার সত্যযুগে অগাধ সুখের কথাও স্মরণে আসে । ওই সুখের দুনিয়াতে তারাই ছিলো, যারা সঙ্গম যুগে বাবার কাছ থেকে রাজযোগ আর জ্ঞান শিখেছিলো । বাচ্চাদের মধ্যে দেখো কতো অক্ষর জ্ঞানহীনও আছে । তাদের জন্য তো আরো ভালো, কেননা তাদের বুদ্ধিযোগ অন্য কোথাও চলে যায় না । এখানে তো কেবল মৌন থাকতে হবে । মুখেও কিছু বলবে না । তোমরা কেবল বাবাকে স্মরণ করতে থাকো তাহলেই বিকর্ম বিনাশ হয়ে যাবে । তখন আমি সাথে করে নিয়ে যাবো । এই কথা কিছু না কিছু গীতাতেও আছে । প্রাচীন ভারতের ধর্মশাস্ত্র হলো একটাই । এই ভারত একসময় নতুন ছিলো, এখন তা পুরানো হয়ে গেছে । শাস্ত্র তো একটাই হবে, তাই না । বাইবেল যেমন একটা, যখন থেকে খ্রীস্টান ধর্ম স্থাপন হয়েছে, তখন থেকে অন্ত পর্যন্ত তাদের শাস্ত্র একটাই । ক্রাইস্টেরও অনেক মহিমা করা হয় । বলা হয়, উনি শান্তি স্থাপন করেছিলেন । এখন উনি এসে তো খ্রীস্টান ধর্মের স্থাপনা করেছিলেন, ওখানে শান্তির তো কোনো কথাই নেই । যারা আসতে থাকে, মানুষ তাদের মহিমাই করতে থাকে কেননা তারা নিজের মহিমা ভুলে গেছে । বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ইত্যাদিরা নিজের ধর্ম ছেড়ে অন্যের মহিমা করবে না । ভারতবাসীদের নিজের তো কোনো ধর্মই নেই । এও ড্রামাতেই নির্ধারিত আছে । মানুষ যখন সম্পূর্ণ নাস্তিক হয়ে যায়, তখনই বাবা আসেন ।

বাবা বোঝান - বাচ্চারা স্কুলে যেসব বই পড়ানো হয়, সেখানে তবুও কোনো লক্ষ্য থাকে । তাতে লাভ আছে কেননা উপার্জন হয় । পদ প্রাপ্ত হয় । বাকি শাস্ত্র ইত্যাদি যাই পাঠ করে, তাকে অন্ধ শ্রদ্ধা বলা হয় । পড়াকে কখনো অন্ধ শ্রদ্ধা বলা হবে না । এমনও নয় যে অন্ধ শ্রদ্ধার সাথে পড়াশোনা করে । এর পড়াতে ব্যারিস্টার, ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি তৈরী হয়, একে কিভাবে অন্ধ শ্রদ্ধা বলা হবে । সেও পাঠশালা । এ কোনো সৎসঙ্গ নয় । লেখা হয়েছে ঈশ্বরীয় বিশ্ববিদ্যালয় । তাহলে বোঝা উচিত ঈশ্বরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যালয় হবে । তাও বিশ্বের জন্য । সবাইকে খবর দিতে হবে যে, দেহ সহ দেহের সব ধর্ম ত্যাগ করে নিজের স্বধর্মে স্থির হও আর নিজের বাবাকে স্মরণ করো তাহলে অন্তিম কালে মতি তেমনই গতি হয়ে যাবে । নিজের চার্টও লিখতে হবে যে কতো সময় যোগে থাকে । এমন নয় যে সবাই রোজ নিয়ম করে চার্ট লিখবে । তা নয়, ক্লান্ত হয়ে যায় । বাস্তবে কি করতে হবে ? রোজ নিজের মুখ আয়নায় দেখতে হবে, তখনই জানতে বা বুঝতে পারবে যে, আমি লক্ষ্মীকে বা সীতাকে বরণের উপযুক্ত হয়েছি, নাকি প্রজাতে চলে যাবে ? তীব্র পুরুষার্থ করানোর জন্য চার্ট লেখার কথা বলা হয় আর দেখতেও পাবে যে, আমরা কতো সময় শিববাবাকে স্মরণ করি? সম্পূর্ণ দিনচর্যা সামনে এসে যায় । যেমন ছোটোবেলা থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ জীবন তো স্মরণে থাকে, তাই না । তাহলে একদিনের স্মরণ কি মনে থাকবে না । দেখতে হবে যে, আমরা বাবাকে আর চক্রকে কতো সময় ধরে স্মরণ করি? এমন অভ্যাস করলে রুদ্রমালাতে গ্রথিত হওয়ার জন্য শীঘ্র দৌড় লাগাবে । এ হলো যোগের যাত্রা, যা আর কেউই জানে না তাহলে তারা কিভাবে শেখাবে । তোমরা জানো যে, এখন বাবার কাছে ফিরে যেতে হবে । বাবার উত্তরাধিকারই হলো রাজত্ব, তাই এর নাম রাখা হয়েছে রাজযোগ ।

তোমরা সবাই হলে রাজঋষি । ওরা হলো হঠযোগ ঋষি । ওরাও পবিত্র থাকে । রাজত্বে তো রাজা, রানী, প্রজা সবাইকেই চাই । সন্ন্যাসীদের মধ্যে তো আর রাজা - রানী নেই । ওদের হলো দেহের বৈরাগ্য, তোমাদের হলো অসীম জগতের বৈরাগ্য । ওরা ঘরবাড়ি ত্যাগ করে কিন্তু এই বিকারী দুনিয়াতেই থাকে । তোমাদের হলো এই দুনিয়ার পরে স্বর্গ, দৈবী বাগিচা । তাই ওই কথাই স্মরণে আসবে । এই কথা তোমরা বাচ্চারাই বুদ্ধিতে রাখতে পারো । অনেকেই আছে যারা চার্ট লিখতেও পারে না । চলতে - চলতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে । বাবা বলেন - বাচ্চারা, নোট করো যে, তোমরা কতো সময় তোমাদের অতি প্রিয় বাবাকে স্মরণ করেছো? যে বাবাকে স্মরণ করেই তোমাদের উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে হবে । যখন রাজত্বের উত্তরাধিকার নিতে হবে তখন প্রজাও তৈরী করতে হবে । বাবা যখন স্বর্গের রচয়িতা তখন তাঁর থেকে তো স্বর্গের উত্তরাধিকারই প্রাপ্ত হওয়া উচিত । অনেকেই আছে যারা স্বর্গের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে । বাকিরা কেবল শান্তি প্রাপ্ত করে । বাবা সকলকেই বলেন, বাচ্চারা দেহ সহ দেহের সব সম্বন্ধকে ভুলে যাও । তোমরা অশরীরী এসেছিলে, ৮৪ জন্ম ভোগ করেছিলে, এবার আবার অশরীরী হও । খ্রীস্টান ধর্মের মানুষদেরও বলা হবে যে, তোমরা ক্রাইস্টের পিছনে এসেছো । তোমরাও শরীর ছাড়া এসেছিলে তারপর শরীর ধারণ করে ভূমিকা পালন করেছো, এখন তোমাদের পার্টও সম্পূর্ণ হয়ে এসেছে । কলিযুগের অন্তিম সময় এসে গেছে । তোমরা এখন বাবাকে স্মরণ করো, মুক্তিধামে যারা যাবে, তারা শুনে খুব খুশী হবে । তারা তো মুক্তিই চায় । ওরা মনে করে জীবনমুক্তি (সুখ) লাভ করে আবার তো দুঃখেই আসবো, এর থেকে তো মুক্তি ভালো । এ তো জানে না, ওখানে তো অনেক সুখ । আমরা আত্মারা পরমধামে বাবার সঙ্গে থাকি, কিন্তু এখন পরমধামকে ভুলে গেছি । বলা হয়, বাবা সমস্ত ম্যাসেঞ্জারদের পাঠিয়ে দেন । বাস্তবে কেউই পাঠায় না । এই সমস্ত ড্রামা তৈরীই আছে । আমরা তো সম্পূর্ণ ড্রামাকেই জেনে গেছি । বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে বাবা এবং চক্রের স্মরণ আছে, তাহলে তোমরা অবশ্যই চক্রবর্তী রাজা হবে । মানুষ তো মনে করে এখানে অনেক দুঃখ, তাই মুক্তি চায় । এই দুই অক্ষর 'গতি আর সদ্গতি' এ চলেই আসছে, কিন্তু এর অর্থ কেউই জানে না । বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, সকলের সদ্গতি দাতা একমাত্র বাবাই, বাকি সবাই পতিত । সম্পূর্ণ দুনিয়াই পতিত । এই অক্ষর শুনেও আবার কেউ কেউ বিগড়ে যায় । বাবা বলেন যে, তোমরা এই শরীরকে ভুলে যাও । তোমাদের আমি অশরীরী পাঠিয়েছিলাম । এখনো আবার অশরীরী হয়েই আমার সাথে যেতে হবে । একে নলেজ অথবা শিক্ষা বলা হয় । এই শিক্ষার দ্বারাই সদ্গতি হয় । যোগের দ্বারা তোমরা এভারহেলদি হও । তোমরা সত্যযুগে খুবই সুখী ছিলে । তোমাদের কোনো জিনিসের অভাব ছিলো না । দুঃখ দেওয়ার মতো কোনো বিকারও ছিলো না । তোমাদের মোহজিৎ রাজার কাহিনী শোনানো হয় । বাবা বলেন, আমি তোমাদের এমন কর্ম শেখাই, যাতে তোমাদের কখনো কর্মের ভোগ করতে হয় না । ওখানে এমন ঠান্ডাও থাকবে না । এখন তো পাঁচ তত্ত্বও তমোপ্রধান । কখনো খুব গরম, কখনো আবার খুব ঠান্ডা । ওখানে এমন কোনো বিপর্যয় হয় না । সর্বদা বসন্ত ঋতু থাকে । ওখানে প্রকৃতি হলো সতোপ্রধান । এখন প্রকৃতি হলো তমোপ্রধান । তাহলে ভালো মানুষ কিভাবে থাকতে পারে । ভারতের এতো বড় বড় বিত্তবানরা সন্ন্যাসীদের পিছনে ঘুরতে থাকে । ওদের কাছে বাচ্চারা যখন যায় তখন বলবে সময় নেই । এতে বোঝা যায় যে, এদের ভাগ্যে স্বর্গ সুখ নেই । ব্রাহ্মণ বংশের হয়ই না, এরা জানেই না যে, ভগবান কিভাবে এবং কখন এখানে আসেন ! তারা শিব জয়ন্তী পালন করে কিন্তু শিবই যে ভগবান, তা সবাই বুঝতেই পারে না । তাঁকে যদি পরমপিতা পরমাত্মা মনে করতো তাহলে শিব জয়ন্তীর দিন ছুটির দিন পালন করতো । বাবা বলেন যে, আমার জন্মও এই ভারতেই হয় । মন্দিরও এখানেই আছে । অবশ্যই তাহলে কোনো শরীরে প্রবেশ করেছিলেন । এমন দেখানো হয় যে, দক্ষ প্রজাপতি যজ্ঞ রচনা করেছিলেন । তাহলে কি তাঁর মধ্যে এসেছিলেন ! এমনও বলে না । শ্রীকৃষ্ণ তো সত্যযুগে থাকেন । বাবা নিজেই বলেন, আমাকে ব্রহ্মা মুখ দ্বারা ব্রাহ্মণ বংশাবলী রচনা করতে হবে । তোমরা কাউকে এমনও বোঝাতে পারো, বাবা কতো সহজভাবে বোঝান যে, তোমরা কেবল আমাকে স্মরণ করো কিন্তু মায়া এতো প্রবল যে, স্মরণ করতেই দেয় না । মায়া অর্ধেক কল্পের শত্রু । এই শত্রুকেই জয় করতে হবে । ভক্তিমার্গে মানুষ ঠান্ডার সময়ও স্নান করতে যায় । কতো ধাক্কা খায় । দুঃখ সহ্য করে । এখানে তো পাঠশালা, এখানে পড়তে হবে, এখানে তো ধাক্কা খাওয়ার কোনো কথাই নেই । পাঠশালাতে অন্ধ বিশ্বাসের কোনো কথাই নেই । মানুষ তো অনেক অন্ধ বিশ্বাসে আটকে আছে । তারা কতো গুরু করে, কিন্তু মানুষ তো কখনোই মানুষের সদ্গতি করতে পারে না । যারাই মানুষকে গুরু করে, সে তো অন্ধ বিশ্বাস হয়ে গেলো, তাই না । আজকাল ছোটো বাচ্চাদেরও গুরু করায় । না হলে নিয়ম হলো বাণপ্রস্থে গুরু করার । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন এবং সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) তীব্র পুরুষার্থ করার জন্য স্মরণের চার্ট অবশ্যই রাখতে হবে । রোজ আয়নাতে নিজের মুখ দেখতে হবে । চেক করতে হবে - আমরা আমাদের অতি প্রিয় বাবাকে কতটা সময় স্মরণ করি ।

২ ) যা কিছু পূর্বে পড়েছি তা ভুলে মৌন থাকার অভ্যাস করতে হবে । মুখে কিছুই বলবে না । বাবার স্মরণে বিকর্ম বিনাশ করতে হবে ।

বরদান:-
প্রতিটি বিষয়ে মুখে বা মনে 'বাবা - বাবা' বলে আমিত্ব ভাবকে সমাপ্ত করে সফলতা মূর্তি ভব

তোমরা অনেক আত্মাদের উৎসাহ - উদ্দীপনা বৃদ্ধির নিমিত্ত বাচ্চারা কখনোই আমিত্ব ভাবে এসো না । 'আমি করেছি' -- এমন নয় । বাবা আমাকে নিমিত্ত করেছেন । 'আমি-র' পরিবর্তে 'আমার বাবা', আমি করেছি, আমি বলেছি - এমন নয় । বাবা করিয়েছেন, বাবা করেছেন -- এমন ভাবলে সফলতামূর্তি হয়ে যাবে । তোমাদের মুখ থেকে যত 'বাবা - বাবা' শব্দ নির্গত হবে, ততই অনেককে বাবার বানাতে পারবে । সকলের মুখ থেকে এই কথাই যেন নির্গত হয় যে, এর যে কোনো অবস্থায় আর কথাতে কেবল বাবাই আছে ।

স্লোগান:-
সঙ্গম যুগে নিজের তন, মন, ধনকে সফল করা আর সর্ব সম্পদ বৃদ্ধি করাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ ।