০৯-০২-১৯ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- তোমাদের তন-মন-ধন দিয়ে রূহানী সেবা করতে হবে, আধ্যাত্মিক (রূহানী) সেবার দ্বারা-ই ভারত স্বর্ণ যুগে (গোল্ডেন এইজে) পরিণত হবে"

প্রশ্ন:-

চিন্তা মুক্ত থাকার জন্য সদা কোন্ কথাটি স্মরণে রাখবে ? তোমরা নিশ্চিন্ত কখন থাকতে পারবে ?

উত্তর:-

নিশ্চিন্ত থাকার জন্যে সদা স্মরণে রাখবে এই ড্রামা হল একদম অ্যাকুরেট (যথাযথ) । যা কিছু ড্রামা অনুযায়ী চলছে সবই একদম অ্যাকুরেট। কিন্তু বাচ্চারা, এখন তোমরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারবে না, যখন তোমাদের কর্মাতীত অবস্থা হবে, তখন তোমরা নিশ্চিন্ত হবে। এর জন্যে যোগ খুব ভালো হওয়া উচিত। যোগী ও জ্ঞানী বাচ্চারা তখন গুপ্ত থাকতে পারবে না" ।

ওম্ শান্তি ।

পতিত-পাবন শিব ভগবানুবাচ। বাবা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে দেহধারী মানুষকে কখনও ভগবান বলা যায় না। মানুষ এও জানে, পতিত-পাবন হলেন ভগবান। শ্রীকৃষ্ণকে পতিত-পাবন বলা হবে না। বেচারা জগতের মানুষ খুবই বিভ্রান্ত হয়ে আছে। ভারতে যখন সূতোর জট পাকিয়ে যায়, তখন শিববাবাকে আসতে হয়। বাবা ব্যতীত সেই জটিলতা কেউ সরল করতে পারবে না। তিনি-ই হলেন পতিত-পাবন শিববাবা, যাঁকে শুধুমাত্র তোমরা বাচ্চারাই জান। তাও আবার নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে। যদিও এখানে বসে আছে, প্রতিদিন শুনছে তবুও স্মরণে আসবে না যে আমরা শিববাবার কাছে বসে আছি, তিনি ব্রহ্মার মধ্যে বিরাজিত আছেন, আমাদের পড়াচ্ছেন, পবিত্র করছেন, যুক্তি বলে দিচ্ছেন।



তোমরা স্ব দর্শন চক্রধারী হয়ে রচয়িতা ও রচনার নলেজ পেয়ে কাম বিকারকে জয় করে জগৎজিত হও। অর্থাৎ আমাদের পিতা পতিত-পাবনও হলেন। নতুন রচনার রচয়িতাও হলেন তিনি। এখন তোমরা বেহদের রাজ্য প্রাপ্ত করার পুরুষার্থ কর। প্রত্যেকে বুঝেছে যে আমরা শিববাবার কাছে রাজ্য-ভাগ্য প্রাপ্ত করছি। এই কথাও যথার্থ ভাবে বুঝতে পারে না। কেউ একটু জানে, কেউ তো একেবারেই জানে না। শিববাবা তো বলেন আমি হলাম পতিত-পাবন। আমাকে এসে কেউ জিজ্ঞাসা করলে আমি নিজের পরিচয় দিতে পারি। তোমাদেরও তো বাবা নিজের পরিচয় দিয়েছেন, তাই না ! শিববাবা বলেন, আমি সাধারণ দেহে প্রবেশ করি। ব্রহ্মার এই দেহ হল সাধারণ দেহ। কল্পবৃক্ষের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন । পতিত দুনিয়ায় তিনি দাঁড়িয়ে আছেন দেখানো হয় এবং তারপরে এর নীচে তপস্যা করছেন । তাদের তপস্যা করা শিববাবা শেখাচ্ছেন। রাজযোগ শিববাবা শেখাচ্ছেন। নীচে আছেন আদি দেব, উপরে আছেন আদি নাথ। তোমরা বাচ্চারা বোঝাতে পার আমরা ব্রাহ্মণরা হলাম শিববাবার সন্তান । তোমরাও শিববাবার সন্তান কিন্তু তোমরা জান না। ভগবান হলেন এক, বাকিরা সবাই হল ব্রাদার্স। বাবা বলেন আমি নিজের বাচ্চাদেরই পড়াই। যারা আমার পরিচয় জানে তাদেরই পড়িয়ে দেবতায় পরিণত করি। ভারত-ই স্বর্গ ছিল, এখন নরক হয়েছে। যে কাম বিকারকে জয় করবে সে-ই জগৎজিত হবে। আমি স্বর্ণ জগতের স্থাপনা করছি। অনেক বার এই ভারত স্বর্ণ যুগ ছিল, তারপরে লৌহ যুগে এল - সে কথা কেউ জানে না। রচয়িতা ও রচনার আদি, মধ্য, অন্তকে কেউ জানে না। আমি হলাম নলেজফুল। এটাই হল মুখ্য লক্ষ্য বস্তু (এইম অবজেক্ট) । আমি এনার সাধারণ দেহে প্রবেশ করে নলেজ প্রদান করি। এখন তোমরাও পবিত্র হও। এই বিকার গুলি জয় করলে তোমরা জগৎজিত হবে। এই সব বাচ্চারা পুরুষার্থ করছে। তন-মন-ধন দ্বারা আধ্যাত্মিক (রূহানী) সেবা করে, দৈহিক নয়। একে স্পিরিচুয়াল নলেজ বলা হয়। এটা ভক্তি নয়। *ভক্তির যুগ হল দ্বাপর-কলিযুগ, যাকে ব্রহ্মার রাত বলা হয় এবং সত্যযুগ-ত্রেতাকে বলা হয় ব্রহ্মার দিন*। কোনও গীতাপাঠী এলে তাদেরও বোঝাবে গীতায় ভুল আছে। গীতা কে গায়ন করেছে, রাজ যোগ কে শিখিয়েছে, কে বলেছে কাম বিকারকে জয় করলে তোমরা জগৎজিত হবে ? এই লক্ষ্মী -নারায়ণও জগৎজিত হয়েছে, তাই না ! এনার (ব্রহ্মার) ৮৪ জন্মের রহস্য বসে বোঝাও। তিনি যে-ই হোন, নলেজ নিতে তো এখানেই আসতে হবে, তাই না। আমি তো বাচ্চাদের পড়াই। কিন্তু তোমাদের মধ্যেও অনেকেই আছে যে এইটুকুও বোঝে না। তাই তো কথিত আছে, কোটিতে কেউ (তার মধ্যেও বিশেষ কেউ) । আমি কে, আমি কেমন, কেউ তা ৫ পার্সেন্টও জানে না। তোমাদের, বাবাকে জেনে পুরোপুরি স্মরণ করতে হবে। মামেকম্ স্মরণ করো না কেন ? বলে বাবা ভুলে যাই। আরে, তোমরা বাবাকে স্মরণ করতে পার না। যদিও বাবা বোঝেন স্মরণ করা খুবই পরিশ্রমের কাজ, তবুও পুরুষার্থ করানোর জন্যে তোমাদের পাম্প করতে থাকেন। আরে, যে বাবা তোমাদের ক্ষীর সাগরে নিয়ে যান, বিশ্বের মালিক করেন, তাঁকেই ভুলে যাও ! মায়া অবশ্যই ভুলিয়ে দেবে। টাইম লাগবে । এমনও নয় মায়া তো ভুলিয়ে দেবে তাই ঢিলেঢালা হয়ে বসে যাবে। না, পুরুষার্থ অবশ্যই করতে হবে। কাম বিকারকে জয় করতে হবে। মামেকম্ স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হবে। যেমন বাচ্চারা আমি তোমাদের বলি, তেমনই কোনও বড় জাজ এলে তাকেও বাবা বলবেন - "বাচ্চা" কারণ আমি হলাম উঁচু ভগবান। উঁচু পাঠ তো আমি-ই পড়াই, প্রিন্স-প্রিন্সেস পদ প্রাপ্ত করার জন্য। বাবা বলেন, আমি এনাকে(ব্রহ্মাবাবাকে) পড়াই। ইনি পরে শ্রীকৃষ্ণ হন। ব্রহ্মা-সরস্বতী, তাঁরা পরে লক্ষ্মী-নারায়ণ হবেন। এই প্রবৃত্তি মার্গ প্রচলিত আছে। নিবৃত্তি মার্গের মানুষ রাজ- যোগ শেখাতে পারেনা। রাজা-রানী দুই-ই চাই। বিদেশে গিয়ে বলে আমরা রাজযোগ শেখাই। কিন্তু তারা তো সুখকে কাক বিষ্ঠা সমান বলে দেয়, তো রাজযোগ শেখাবে কিভাবে। তো বাচ্চাদের উদ্দীপনা থাকা উচিত। কিন্তু বাচ্চারা এখনও ছোট, পূর্ণ বয়স্ক হয়নি। পরিপক্ক হওয়ার সাহস চাই।



বাবা বলেন - এ হল রাবণ সম্প্রদায়। তোমরা আহ্বান কর, পতিত-পাবন এসো । তো এটা পতিত দুনিয়া ? না পবিত্র দুনিয়া ? তোমরা বুঝেছ যে আমরা হলাম নরকবাসী। এসময় কি দৈব সম্প্রদায় আছে ? রামরাজ্য আছে ? তোমরা কি রাবণ রাজ্যের নও ? এখন রাবণ রাজ্যে সকলে অসুরী বুদ্ধি সম্পন্ন । এখন অসুরী বুদ্ধিকে দৈবী বুদ্ধিতে পরিণত করবে কে ? এমন ৪-৫ টি প্রশ্ন কর, তো মানুষ চিন্তায় পড়ে যাবে। বাচ্চারা, তোমাদের কাজ হল বাবার পরিচয় দেওয়া। কল্পবৃক্ষের ধীরে ধীরে বৃদ্ধি হয়। তারপরে অনেক বৃদ্ধি হবে। মায়াও ঘোল খাইয়ে একদম নীচে ফেলে দেয়। বক্সিং খেলায় অনেকে মরে, এখানেও । বিকারে গেল আর মরল । তখন আবার নতুন করে পুরুষার্থ শুরু করতে হয়। বিকার একদম মেরে দেয়। যেটুকু মরচে দূর করে পতিত থেকে পবিত্র হয়ে উঠেছিল, সব উপার্জিত ধন শেষ হয়ে যায়। আবার নতুন করে পরিশ্রম করতে হয়। এমন নয় যে, তাদের এখানে অ্যালাও করা হবে না। না, তাদের বোঝাতে হবে যা কিছু স্মরণের যাত্রা করেছ, যা পড়েছ সব শেষ হয়ে গেছে। একদম মুখ থুবড়ে পড়ে । যদি বারংবার নীচে পড়বে, তাহলে তখন বলা হবে গেট আউট। দুই, একবার দেখা হবে। দুই বার ক্ষমা করা হবে, তারপরে কেস হোপ্ লেস হয়ে যাবে। আবার আসবে, কিন্তু একদম ডার্টি ক্লাসে। সেক্ষেত্রে এমনই তো বলা হবে, তাইনা। যারা একদমই কম পদ প্রাপ্ত করে তাদের বলা হবে ডার্টি ক্লাস। দাস-দাসী, চন্ডাল, প্রজাদেরও চাকর-বাকর হয়, তাই না। বাবা তো জানেন আমি এদের পড়াচ্ছি। প্রতি ৫ হাজার বছর পরে এসে পড়াই। তারা লক্ষ বছর বলে দেয়। ভবিষ্যতে এও বলতে পারে যে একেবারে ৫ হাজার বছরের কথা। সেটাই হল মহাভারী লড়াই। কিন্তু স্মরণের যাত্রায় তারা থাকতে পারবে না। দিন দিন টু লেট হতে থাকবে। বলাও হয়, অনেক সময় গেছে কিছুটা আর বাকি .... । এইসব এখনকার কথা। একটু সময় আছে পবিত্র হওয়ার। লড়াই সামনে দাঁড়িয়ে আছে। নিজেকে জিজ্ঞেস করতে হবে - আমরা কি স্মরণের যাত্রায় আছি ? যখন নতুন কেউ আসে তো বাচ্চাদের দিয়ে ফর্ম অবশ্যই ভরাতে হবে। যখন ফর্ম ভরবে তারপরে তাদের বোঝানো হবে। যদি কেউ বুঝতে না চায় তবে সে ফর্ম ভরবে কেন ? এমন তো অনেকে আসে। বলো, তোমরা যে বাবাকে আহ্বান কর - পতিত-পাবন এসো অর্থাৎ নিশ্চয়ই এই দুনিয়াটা পতিত, তবেই তো বলা হয় এসে পবিত্র কর। তারপরে কেউ পবিত্র হয়, কেউ হয়না। বাবার কাছে অনেক পত্র বা চিঠি আসে। সবাই লেখে শিববাবা কেয়ার অফ ব্রহ্মা। শিববাবাও বলেন - আমি সাধারণ দেহে প্রবেশ করি। এনাকে ৮৪ জন্মের কাহিনী শোনাই। আর কোনো মানুষ রচয়িতা ও রচনার আদি-মধ্য-অন্তকে জানে না। এখন বাবা-ই তোমাদের বলছেন। এই সব চিত্র ইত্যাদিও বাবা দিব্য দৃষ্টি দিয়ে তৈরি করেছেন।



বাবা তোমাদের অর্থাৎ আত্মাদের পড়ান। আত্মারা চট করে অশরীরী হয়ে যায়। এই শরীর থেকে নিজেকে পৃথক ভাবতে হবে, বাবা বলেন - বাচ্চারা, দেহী-অভিমানী হও, অশরীরী হও। আমি আত্মাদের পড়াই। এই মেলা হল আত্মা ও পরমাত্মার, একেই সঙ্গমের মেলা বলা হয়। বাকি গঙ্গা নদী পবিত্র করতে পারে না। সাধু, সন্ত, ঋষি, মুনি ইত্যাদি সবাই স্নান করতে যান। এবারে গঙ্গা নদী পতিত-পাবনী হবে কিভাবে ? ভগবানুবাচ আছে না - কাম হল মহা শত্রু, এই বিকারকে জয় করলে তোমরা জগৎজিত হয়ে যাবে। গঙ্গা বা সাগর তো বলা যায় না। এইসব জ্ঞান সাগর বাবা বোঝান, এই বিকারকে জয় করতে মামেকম্ স্মরণ করো তো তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। দৈবী গুণ ধারণ করো, কাউকে দুঃখ দিও না। এক নম্বর দুঃখ হল কাম কাটারী চালানো। এই বিকার-ই আদি, মধ্য, অন্ত দুঃখ দেয়। সত্যযুগে এইসব হয় না। সেটা হল পবিত্র দুনিয়া, সেখানে কেউ পতিত থাকে না। যেমন তোমরা যোগ বলের দ্বারা রাজ্য নাও, তেমনই সেখানে যোগবলের দ্বারা সন্তান জন্ম হয়। সেখানে রাবণ রাজ্য নেই। তোমরা রাবণ দহন কর, কোন্ সময় থেকে তা আরম্ভ হয়েছে, তোমরা জানো না। রামরাজ্যে রাবণ থাকে না। এইসব বুঝবার বিষয়, যা বাবা বসে বোঝান। বাবা বোঝান খুব ভালো কিন্তু কল্প-কল্প যে যতটা পড়া করেছে, ততই পড়ে। পুরুষার্থ দ্বারা সম্পূর্ণটা জানা যায়। স্থূল সেবারও সাবজেক্ট আছে, মন দ্বারা নয় তো বাণী দ্বারা, কর্ম দ্বারা। *বাণী দ্বারা সেবা তো খুবই সহজ। সর্ব প্রথম হল মন দ্বারা অর্থাৎ মন্মনাভব, স্মরণের যাত্রায় থাকতে হবে। নিজেকে আত্মা ভেবে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। বাবার কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে*। অনেকে বাবাকে স্মরণ করতে পারে না। এমন বলা হবে না যে জ্ঞান স্মরণ করতে অসমর্থ। মামেকম্ স্মরণ করতে অপারগ। স্মরণ না করলে শক্তি পাবে কোথা থেকে। *বাবা হলেন সর্ব শক্তিমান, তাঁকে স্মরণ করলেই শক্তি আসবে, একেই ধার বলা হয়। কর্ম যদি কেউ ভালো করে তো শ্রেষ্ঠ পদ মর্যাদা লাভ করবে। কর্ম না করলে কিছুই পদ পাবে না। চারটে সাবজেক্ট তো আছে, তাই না ! এসব হল গুপ্ত বিষয়, গভীরে গিয়ে বুঝতে হবে। তারা তো যোগ-যোগ বলতে থাকে, কিন্তু বুঝতে পারে না যে, তোমরা যোগের দ্বারা বিশ্বের বাদশাহী প্রাপ্ত কর। যোগবল দ্বারা সন্তান জন্ম হয়। এই কথাও কেউ জানে না। তোমাদের বোঝানো হয় তবু অর্ধকল্প পরে তোমরা মায়ার দাস হয়ে যাও। তারপর মায়া তোমাদের এখনও ছাড়ে না। এখন তোমাদের শিববাবার গোলাম হতে হবে। কোনও দেহধারীর দাস নয়। বোন-ভাইও এখন বলা হয় - পবিত্র হওয়ার জন্যে। তারপরে তো এর থেকেও ঊর্ধ্বে যেতে হবে। ভাই-ভাই বুঝতে হবে। ভাই-বোনের দৃষ্টিও নয়(আত্মা-আত্মা) । ড্রামা অনুযায়ী যা কিছু চলছে, সবই অ্যাকুরেট (যথাযথ)। ড্রামা একেবারে অ্যাকুরেট। শিববাবা তো হলেন সদা চিন্তা মুক্ত, ব্রহ্মা বাবার অবশ্যই চিন্তা থাকবে। চিন্তা মুক্ত বা নিশ্চিন্ত তখনই হবেন, যখন কর্মাতীত অবস্থা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত কিছু না কিছু হয়। যোগ ভালো চাই। যোগের জন্যে বাবা এখন জোর দেন। এর জন্যে বলা হয় ক্ষণে ক্ষণে ভুলে যাও। বাবা অনুযোগ করেন, যে বাবা তোমাদের এত খাজানা দেন তাঁকেই তোমরা ভুলে যাও। বাবা জানেন, কার জ্ঞান আছে, কার নেই। জ্ঞানী কখনও গুপ্ত থাকবে না। সে সাথে সাথে সার্ভিস করে প্রমাণ দেবে। অতএব এইসব হল বুঝবার বিষয় । আচ্ছা !



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ, ভালবাসা ও সুপ্রভাত ! ঈশ্বরীয় পিতা ওঁনার ঈশ্বরীয় সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্যে মুখ্য সার :-

১. মায়ার বক্সিং-এ হারবে না। পুরুষার্থে ঢিলেঢালা হয়ে বসে যাবে না। সাহসের সঙ্গে সেবা করতে হবে।

২. এই ড্রামাটি হল অ্যাকুরেট, তাই কোনও বিষয়েরই চিন্তা করবে না। কর্মাতীত অবস্থা পাওয়ার জন্য একমাত্র বাবা-র স্মরণে থাকতে হবে, কোনও দেহধারীর গোলাম হবে না।

বরদান:-

"বেহদের বৈরাগ্য বৃত্তি দ্বারা" (অসীমের অনাসক্ত বৃত্তি) সর্ব আসক্তি মুক্ত প্রকৃত সত্য রাজঋষি ভব

রাজঋষি অর্থাৎ এক দিকে রাজ্য অন্য দিকে ঋষি অর্থাৎ অসীমের (বেহদের) বৈরাগী। যদি কোথাও নিজের প্রতি, কোনও ব্যক্তির প্রতি, কোনও বস্তুর প্রতি আসক্তি আছে, তো রাজঋষি নয়। যার সঙ্কল্প মাত্রও এতটুকুও আসক্তি আছে তার দুই নৌকায় পা রয়েছে, সে তখন না এদিকের রইল, না ওদিকের। তাই রাজঋষি হও, বেহদের বৈরাগী হও অর্থাৎ এক পিতা অন্য কেউ নয় - এই পাঠটি পাকা করো।

স্লোগান:-

ক্রোধ হল অগ্নি রূপ যা নিজেকেও দহন করে এবং অন্যকেও ।