09-02-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 20-11-85 মধুবন


সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণদের অনন্য, মনোরম, শ্রেষ্ঠ সংসার


আজ ব্রাহ্মণদের রচয়িতা বাবা নিজের ছোট, আলোক-সুন্দর তথা অলৌকিকতার সংসার দেখছেন l এই ব্রাহ্মণ সংসার সত্যযুগী সংসার থেকেও অতি অনুপম আর অতি মনোরম l এই অলৌকিক সংসারের ব্রাহ্মণ আত্মারা কতো শ্রেষ্ঠ আর বিশেষ ! দেবতা স্বরূপ থেকেও এই ব্রাহ্মণ স্বরূপ বিশেষ l এই ব্রাহ্মণ সংসারের মহিমা এর স্বতন্ত্রতা l এই সংসারের প্রত্যেক আত্মা বিশেষ l প্রত্যেক আত্মাই স্বরাজ্যধারী রাজা l প্রত্যেক আত্মা স্মৃতির তিলকধারী, অবিনাশী তিলকধারী, স্বরাজ্য তিলকধারী, পরমাত্ম হৃদয়-সিংহাসনাসীন l সুতরাং সব আত্মাদের এই সুন্দর সংসারের মুকুট সিংহাসন আর তিলক থাকে l এমন সংসার সারা কল্পে কখনো শুনেছ বা দেখেছ ! যে সংসারের প্রত্যেক ব্রাহ্মণ আত্মার এক বাবা, একই পরিবার, একই ভাষা, একই নলেজ অর্থাৎ জ্ঞান, জীবনে একই শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য, একই বৃত্তি, একই দৃষ্টি, একই ধর্ম এবং একই ঈশ্বরীয় কর্ম ! এমন সংসার যেমন ছোট তেমনই মনোমুগ্ধকর l এইভাবে, তোমরা সব ব্রাহ্মণ আত্মা তোমাদের মনে গীত গাও, আমাদের ছোট এই সংসার অতি অনুপম, অতি মনোহর l এই গীত গাও তোমরা ? এই সঙ্গমযুগী সংসার দেখে উৎফুল্ল হও ? কতো অনন্য সংসার ! এই সংসারের দিনচর্যাই স্বতন্ত্র l নিজের রাজ্য, নিজের নিয়ম, নিজের রীতি-নীতি, কিন্তু রীতিও উচ্চমার্গীয়, প্রীতিও অসামান্য l এইরকম সংসারবাসী ব্রাহ্মণ আত্মা তোমরা, তাই না ! এই সংসারেই তো থাক তোমরা, নয় কি ? কখনো নিজের সংসার ছেড়ে পুরানো সংসারে চলে যাও না তো ? এই কারণেই পুরানো সংসারের লোক বুঝতে অপারগ এইসব ব্রাহ্মণ কারা ! তারা তো বলে যে ব্রহ্মাকুমারীদের আচার-আচরণ তাদের নিজস্ব l জ্ঞান তাদের নিজস্ব l তোমাদের সংসারই যখন নতুন তখন সবকিছুই নতুন আর অনুপমই তো হবে, তাই নয় কি ! তোমরা সবাই নিজের দিকে দেখ, নতুন সংসারের জন্য নতুন সঙ্কল্প, নতুন ভাষা, নতুন কর্ম আছে তোমাদের ? এইরকম পর্যায়ে অনন্য সাধারণ হয়েছ তোমরা ? কোনো রকম পুরানো ভাব থেকে যায়নি তো ! সামান্যতমও পুরানো ভাব থাকলে পুরানো দুনিয়ার দিকে আকৃষ্ট করবে আর উঁচু সংসার থেকে নিচের সংসারে চলে যাবে l উঁচু অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ হওয়ার কারণে তারা স্বর্গকে উঁচু দেখায় আর নরককে নিচু l সঙ্গমযুগী স্বর্গ সত্যযুগী স্বর্গ থেকেও উঁচু, কারণ এখন তোমরা উভয় দুনিয়ার নলেজফুল হয়েছ l এখানে, সবকিছু দেখে এবং জেনে তোমরা পৃথক হয়েও প্রিয় হয়েছ, সেইজন্য তোমরা মধুবনকে স্বর্গ মনে কর l তোমরা তো বলো, স্বর্গ দেখতে চাইলে এখন দেখ l ওখানে স্বর্গের বর্ণন তোমরা করবে না l এখন বুদ্ধীন্দ্রিয় দ্বারা তোমরা বলো যে আমরা স্বর্গ দেখেছি ! তোমরা লোককে চ্যালেঞ্জ করো যে স্বর্গ দেখতে চাইলে এখানে এসে দেখ l এইভাবেই তো তোমরা বলো, তাই না ! আগে তোমরা ভাবতে, শুনতে যে স্বর্গের পরীরা খুব সুন্দর হয়, কিন্তু কেউ তাদের দেখেনি l স্বর্গে এই এই হয়, এর সম্বন্ধে তোমরা অনেক শুনেছ কিন্তু এখন নিজেই স্বর্গের সংসারে পৌঁছে গেছ l নিজেই স্বর্গের পরী হয়ে গেছ l শ্যাম থেকে সুন্দর হয়ে গেছ, তাই না ! ডানা তো পেয়েছ, না ? জ্ঞান আর যোগের এমন অপরূপ পাখা পেয়েছ যা দিয়ে তোমরা তিন লোকে ভ্রমণ করতে পার l এমনকি সাইন্সটিস্টদের কাছেও এমন তীব্রগতির সাধন নেই l সবাই তোমরা পাখা পেয়েছ ? কেউ বাকি থেকে যায়নি তো ! এই সংসারেরই গায়ন আছে - 'অপ্রাপ্ত কোনও বস্তু নেই ব্রাহ্মণ সংসারে l' এই কারণে গায়ন আছে, এক বাবাকে পেয়ে সবকিছু পেয়ে গেছি l শুধুমাত্র এক দুনিয়াই নয়, বরং তিন লোকের মালিক হয়ে যাও l এই সংসারের গায়ন আছে, সকলেই সদা দোলায় দুলতে থাকে l দোলায় দোলা ভাগ্যের লক্ষণ, এমন বলা হয় l এই সংসারের বিশেষত্ব কি ? কখনো অতীন্দ্রিয় সুখের দোলায় দোলে, কখনো খুশির দোলায় দোলে, কখনো শান্তির দোলায়, কখনো জ্ঞানের দোলায় দোলে l পরমাত্ম-কোলের দোলায় দোলে l পরমাত্ম-কোল অর্থাৎ স্মরণে আত্মহারা অবস্থার দোলা l ঠিক যেমন পরমাত্ম স্মরণে তোমরা তন্ময় হয়ে যাও, নিমজ্জিত হও l এই অলৌকিক কোল সেকেন্ডে অনেক জন্মের দুঃখ বেদনা ভুলতে তোমাদের সমর্থ করে তোলে l এইভাবে তোমরা সবাই দোলায় নিরন্তর দুলতে থাক l

কখনো স্বপ্নেও ভেবেছিলে যে এইরকম সংসারের অধিকারী হবে ! বাপদাদা আজ তাঁর নিজের প্রিয় সংসার দেখছেন l এই সংসার পছন্দ হয় ? তৃপ্তিদায়ক লাগে ? কখনো এক পা সেই সংসারে, এক পা এই সংসারে রাখ না তো ? ৬৩ জন্ম ওই সংসার দেখে নিয়েছ, অনুভব করেছ l কি পেয়েছ ? কিছু লাভ করেছ নাকি হারিয়েছ ? তন খুইয়েছ, মনের সুখ-শান্তি হারিয়েছ আর ধনও খুইয়েছ l সমস্ত সম্বন্ধ তোমরা হারিয়ে ফেলেছ l বাবা যে সুন্দর তন দিয়েছিলেন, তা' কোথায় হারিয়েছ ! যদি তোমরা ধনও একত্রিত কর তো সেটা কালোধন l স্বচ্ছ ধন কোথায় গেল ? যদি কিছু থাকেও তো তা' কাজের নয় l বলো তো কোটিপতি কিন্তু তা' দেখাতে পার ? তাহলে তো সবকিছুই হারিয়েছ, তবুও যদি তোমাদের বুদ্ধি সেদিকেই টানে, তবে কি বিচক্ষণ বলবে ! অতএব, নিজের এই শ্রেষ্ঠ সংসারকে সদা স্মৃতিতে রাখ l এই সংসারের এই জীবনের বিশেষত্ব সদা স্মৃতিতে রেখে সমর্থ হও l স্মৃতিস্বরূপ হও, তাহলে নিজে থেকেই নষ্টমোহ হয়ে যাবে l পুরানো দুনিয়ার কোনও জিনিস বুদ্ধিতে স্বীকার ক'রনা l স্বীকার করা অর্থাৎ প্রবঞ্চিত হওয়া l প্রবঞ্চিত হওয়া অর্থাৎ দুঃখ নেওয়া l সুতরাং, কোথায় থাকতে হবে ? শ্রেষ্ঠ সংসারে নাকি পুরানো সংসারে l প্রভেদ সদা স্পষ্টতঃ ইমার্জ রূপে বজায় রাখ, সেটা কি আর এটা কি !

এইরকম ছোট এবং অসামান্য সংসারে থাকা ব্রাহ্মণ আত্মাদের, সদা সিংহাসনাসীন আত্মাদের, সদা দোলায় দোদুল্যমান আত্মাদের, সদা স্বতন্ত্র এবং পরমাত্ম অনুরাগী বাচ্চাদের পরমাত্ম-স্মরণ, পরমাত্ম-স্নেহ আর নমস্কার l

সেবাধারী টিচার বোনেদের সাথে:- সেবাধারী অর্থাৎ ত্যাগী তপস্বী আত্মা l সেবার ফল তোমরা সদাই লাভ করো, কিন্তু ত্যাগ আর তপস্যার দ্বারা তোমরা অগ্রচালিত হতে থাকবে l লক্ষ্য ঠিক রাখ, সদা নিজেকে বিশেষ আত্মা মনে করে সেবা করতে হবে এবং সেবার প্রমাণ দিতে হবে l লক্ষ্য যত দৃঢ় হবে বিল্ডিংও ততই মজবুত হবে l সুতরাং নিজেদের সেবাধারী মনে করে নিরন্তর সামনে এগিয়ে চলো l যেমন বাবা তোমাদের সযত্নে নির্বাচন করেছেন, ঠিক সেভাবেই তোমরাও প্রজাদের নির্বাচন কর l নিজেরা সদা নির্বিঘ্ন হয়ে সেবাকেও নিরন্তর নির্বিঘ্ন বানাও l সেবা তো সবাই করে কিন্তু সেবা নির্বিঘ্ন হওয়া উচিত, আর এতেই তোমরা নম্বর প্রাপ্ত কর l তোমরা যেখানেই থাক, সেখানে তোমরা সব স্টুডেন্টের বিঘ্ন থেকে বিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন, সেখানে বিঘ্ন-তরঙ্গ উৎপন্ন হতে দিও না l বাতাবরণ শক্তিশালী হতে দাও l একেই বলে, নির্বিঘ্ন আত্মা l এই লক্ষ্য রাখ, স্মরণের এমন বাতাবরণ হবে যে কোনরকম বিঘ্ন আসতে পারবে না l সুতরাং নির্বিঘ্ন হয়ে বিঘ্ন-বিমুক্ত সেবাধারী হও l

বিভিন্ন গ্রুপের সাথে :- ১) "সেবা করো আর সন্তুষ্টি নাও" l শুধুমাত্র সেবা নয়, বরং এমনভাবে সেবা করো যাতে সন্তুষ্টি থাকে এবং সকলের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয় l আশীর্বাদ-পূর্ণ সেবা সহজেই তোমাদের সফলতা লাভ করায় l প্ল্যান অনুযায়ী সেবা তো করতে হবেই আর অনেক কর l খুশির সাথে, উদ্যমের সাথে কর, কিন্তু এই খেয়াল অবশ্যই রাখ, যে সেবা আমি করেছি তা'তে কি আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়েছি ? নাকি শুধুই পরিশ্রম করেছি l যেখানে আশীর্বাদ থাকবে সেখানে পরিশ্রম হবে না l সুতরাং এখন লক্ষ্য রাখ, যার সাথেই তোমরা সম্পর্কে আসবে তার থেকে অবিরত আশিস নিতে হবে l যখন সবার আশীর্বাদ নেবে তখন অর্ধেক কল্প তোমাদের জড় চিত্র নিরন্তর আশীর্বাদ দিয়ে যাবে l তোমাদের ছবির কাছে তারা আশীর্বাদই তো নিতে আসে, তাই না ? দেবী-দেবতার মূর্তির কাছে তারা আশীর্বাদ নিতে যায়, যায় না ? এই সময় তোমরা প্রত্যেকের থেকে আশীর্বাদ জমা করো, তবেই তো তোমাদের ছবির মাধ্যমে নিরন্তর আশীর্বাদ দিতে থাকো l ফাংশন করো, ব়্যালি (rally) করো... ভি. আই. পি.দের, আই. পি.দের সার্ভিস করো, সবকিছু করো কিন্তু আশীর্বাদ থাকবে এমন সেবা করো l

(আশীর্বাদ নেওয়ার সাধন কি ?)'হাঁ জী'র পাঠ অর্থাৎ 'সর্বক্ষেত্রে সদা প্রস্তুত'-এর পাঠ মজবুত হতে দাও l কখনও কাউকে না না ব'লে সাহসহীন বানিও না l যেমন ধর, যদি কেউ ভুলও ( রং) হয়, তৎক্ষণাৎ তাকে বলোনা, 'তুমি ভুল' l প্রথমে তাকে আশ্বাস দাও, সাহস দাও l তাকে হ্যাঁ বলো আর তারপরে তাকে বোঝাও সে বুঝে যাবে l যদি প্রথম থেকেই তাকে 'না' বলো তবে তার যে সামান্যও সাহস হবে সেটাও শেষ হয়ে যাবে l রং হতেও পারে, কিন্তু যদি তুমি তাকে বলো তুমি রং, সে কখনো নিজেকে রং ভাববে না, সেইজন্য প্রথমে তাকে হ্যাঁ বলো, সাহস বাড়াও, আর তখন সে নিজেই নিজের জাজমেন্ট করে নেবে l রিগার্ড দাও l এই বিধি শুধু আপন করে নাও l যদি রং হয়ও প্রথমে 'ভালো' বলো, প্রথমে তার সাহস আসতে দাও l কেউ যদি ভূপতিত হয়, তবে কি তাকে আরও ধাক্কা দেবে নাকি উঠাবে ?....তাকে সাহচর্য দিয়ে আগে দাঁড় করাও l একেই বলে উদারতা l যারা সহযোগী হবে তাদের সবসময় সহযোগী বানাও l তুমিও সামনে, আমিও সামনে l একসাথে এগিয়ে চলো l হাতে হাত মিলিয়ে চললে সফলতা হবে আর সন্তুষ্টতার আশীর্বাদ তোমরা লাভ করবে l এমন আশীর্বাদ নিতে মহান হও, তবে সেবায় স্বতঃই মহান হয়ে যাবে l

সেবাধারীদের সাথে :- সেবা করতে করতে নিজেদের কর্মযোগী স্থিতিতে স্থিত হওয়ার অনুভব কর ? নাকি কর্ম করাকালীন স্মরণ কম হয়ে যায় আর কর্মে বুদ্ধি বেশি থাকে ! কারণ স্মরণে থেকে কর্ম করলে সেই কর্ম করতে কখনো ক্লান্তি অনুভূত হয় না l যারা স্মরণে থেকে কর্ম করে তারা সদাসর্বদা খুশির অনুভব করবে l কর্মযোগী হয়ে কর্ম কর অর্থাৎ সেবা কর, তাই না ? কর্মযোগী হওয়ার অভ্যাসে রত সকলেই সদা প্রতি পদে তাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ শ্রেষ্ঠ বানায় l ভবিষ্যৎ-খাতা সদা পরিপূর্ণ এবং বর্তমানও সদা শ্রেষ্ঠ l এইরকম কর্মযোগী হয়ে তোমাদের সেবার পার্ট প্লে কর, ভুলে যাও না তো ? মধুবনে সেবাধারী রয়েছে আর তাই মধুবন নিজে থেকেই বাবাকে স্মরণ করায় l সর্বশক্তির ভান্ডার সঞ্চয় করেছ তো, তাই না ! এত সঞ্চয় করেছ যে তোমরা সদা ভরপুর থাকবে l সঙ্গমযুগে তোমাদের ব্যাটারী সবসময় চার্জড থাকে l দ্বাপর থেকে ব্যাটারী দুর্বল হতে থাকে l সঙ্গমে সদা পরিপূর্ণ, সদা চার্জড l সুতরাং মধুবনে ব্যাটারী ভরতে আস না, মিলন উদযাপন করতে আস l বাবা আর বাচ্চাদের মধ্যে স্নেহ আছে, সেইজন্য পরস্পরের সাথে মিলিত হওয়া, তাঁর থেকে শোনা, এটা সঙ্গমযুগের উৎসব-উল্লাস l আচ্ছা l

ইয়ুথ ব়্যালীর সফলতার জন্য বাপদাদার বরদানী মহাবাক্য
তোমরা ইয়ুথ উইং তৈরি করতে পার l যাই করো, সন্তুষ্টতা এবং সফলতা যেন থাকে, আর তো সেবার জন্যই জীবন l নিজের উৎসাহ-উদ্দীপনায় যদি কেউ কার্য করে, তবে তা'তে কোনও বাধা নেই l প্রোগ্রাম আছে, তোমরা মনে করছ তোমাদের করতে হবে তখন সেটা অন্যরকম হয়ে যায় l কিন্তু নিজের উৎসাহ-উদ্দীপনায় কেউ যদি কার্য করতে চায় তো কোনও লোকসান নেই l যেখানেই যাবে সেখানে যার সাথেই সাক্ষাৎ হবে, অন্য যে কেউ দেখবে, সেটাতেই সেবা l শুধুমাত্র কথনই সেবা হয় না, তোমাদের চেহারা যেন সদা উৎফুল্ল থাকে l লক্ষ্য রাখ, উৎসাহ-উদ্দীপনায় খুশির সাথে আধ্যাত্ম খুশির ঝলক প্রদর্শন করে এগিয়ে যেতে হবে l শুধুমাত্র বাধ্যবাধকতায় যেন কেউ সেবা ক'রনা l প্রোগ্রাম হয়ে আছে, সুতরাং করতেই হবে, এইরকম ব্যাপার নয়, তারা নিজের উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে যদি করে তাহলে তো সেটা ভালোই l

যদি কারও মধ্যে উদ্যম না থাকে তবুও করতে হবে, তেমন ব্যাপার নয়, তাদের করার দায়বদ্ধতা নেই l কার্যতঃ গোল্ডেন জুবিলির আগে পর্যন্ত সব এরিয়া কভার করার যে লক্ষ্য ছিল, আর তাই, যারা পায়ে হেঁটে তাদের গ্রুপে আসবে, ঠিক তেমনই যারা বাসে আসে তারাও যেন সেখানে থাকে l বাসে করে প্রত্যেক জোন বা প্রত্যেক এরিয়ায় সেবা করে তারা দিল্লি পৌঁছাতে পারে l দু'রকম গ্রুপ বানাও l একটা গ্রুপ যারা বাসে করে আসার পথে সেবা করে আসে, আরেকটা গ্রুপ পায়ে হেঁটে l ডবল হয়ে যাবে l তোমরা তো ইয়ুথ, করতে পার, পার না তোমরা ! তাদের শক্তি কোথাও তো প্রয়োগ করতে হয়ই, এটা বরং ভালো হবে যদি সেই শক্তি সেবাতে লাগে l তখন উভয় অভিপ্রায় সফল হয়ে যায়, সেবাও সফল হবে আর তোমরা যে নাম রেখেছ 'পদযাত্রা', তো সেটাও সফল হবে l যদি বিভিন্ন স্টেট আগে থেকেই তাদের (পদযাত্রীদের)ইন্টারভিউ নেওয়ার ব্যবস্থা করে, তাহলে অটোমেটিক্যালি আওয়াজ ছড়িয়ে পড়বে l যতই হোক, আধ্যাত্মিক পদযাত্রা হিসেবে এটা প্রতীয়মান হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন l পদযাত্রা যেন শুধু দৃশ্যতঃ না হয়, আধ্যাত্মিকতা এবং খুশির ঝলকও যেন তা'তে থাকে l তখনই নতুনত্ব প্রতীয়মান হবে l অন্যান্য লোকের পদযাত্রার মতো যেন সাধারণ দৃষ্টিগোচর না হয়, বরং তা' এমন প্রতীয়মান হতে দাও যে তোমরা ডবল যাত্রী, একক যাত্রা কর না l তোমরা স্মরণের যাত্রাও কর, পদযাত্রাও কর l ডবল যাত্রার প্রভাব যদি মুখমন্ডলে দেখা যায় তাহলে সেটা ভালো l

বিশ্বের রাজনেতাদের প্রতি বাপদাদার মধুর সন্দেশ
বিশ্বের প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতা নিজের দেশ এবং দেশবাসীকে প্রগতির পথে নিয়ে যাওয়ার শুভ ভাবনা, শুভ কামনায় নিজ নিজ কার্যে তৎপর l যাই হোক, তাদের ভাবনা অনেক শ্রেষ্ঠ হলেও, প্রত্যক্ষ প্রমাণ যেমন হওয়া উচিত তেমন হয় না - এটা কেন ? কারণ আজকের লোকের মধ্যে এবং নেতাদেরও অনেকের মধ্যে মনের ভাবনা, সেবার ভাব, প্রেম ভাবের পরিবর্তে তা' স্বার্থ ভাবে, ঈর্ষা ভাবে বদলে গেছে l সেইজন্য এই ফাউন্ডেশনকে সমাপ্ত করার জন্য প্রাকৃতিক শক্তি, বৈজ্ঞানিক শক্তি, ওয়ার্ল্ডলি নলেজের শক্তি, রাজ্যের অথরিটির শক্তি দ্বারা তারা অনেক প্রচেষ্টা করেছে, কিন্তু বাস্তবিক সাধন স্পিরিচুয়াল পাওয়ার, যার মাধ্যমে মনের ভাবনা সহজে পরিবর্তন হতে পারে l সেইদিকে অ্যাটেনশনের অভাব রয়েছে, সেইজন্য পরিবর্তিত ভাবনার বীজ সমাপ্ত হয় না l অল্প সময়ের জন্য দমিত হয়ে থাকে l কিন্তু সময় অনুসারে আরও উগ্ররূপে প্রত্যক্ষীভূত হয় l সেইজন্য স্পিরিচুয়াল বাবার স্পিরিচুয়াল বাচ্চাদের তথা আত্মাদের প্রতি এই সন্দেশ - সদা নিজেকে স্পিরিট (সোল) মনে করে স্পিরিচুয়াল বাবার সঙ্গে সম্বন্ধ জুড়ে স্পিরিচুয়াল শক্তি নিয়ে নিজের মনের নেতা হও, তবেই রাজ্য নেতা হয়ে অন্যদেরও মনের সব ভাবনার পরিবর্তন করতে পারবে l তোমাদের মনের সঙ্কল্প আর লোকের প্র্যাকটিক্যাল কর্ম এক হয়ে যাবে l দুইয়ের সহযোগে সফলতার প্রত্যক্ষ প্রমাণ অনুভব হবে l স্মরণে রাখতে হবে যে সেলফ রুল অধিকারীই সদা রাজনেতার রুল অধিকারীর যোগ্য হতে পারবে এবং স্বরাজ্য তোমাদের স্পিরিচুয়াল ফাদারলি বার্থ রাইট l এই বার্থ রাইটের শক্তি দ্বারা সদা রাইটিয়াস
অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণতার শক্তিও অনুভব করবে আর সাদা সফল হবে l

বরদান:-
সংগঠনে থাকাকালীন লক্ষ্য এবং গুণকে সমান বানিয়ে সদা শক্তিশালী আত্মা ভব

সংগঠনে পরস্পরকে দেখে তোমাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা হতে পারে, তাহলে অসাবধানতা বা আলস্যও আসতে পারে l তোমরা তখন ভাবো ইনিও এটা করেছেন, আমিও যদি করি তো কি হবে ? সেইজন্য সংগঠন থেকে শ্রেষ্ঠ হওয়ার সহযোগ নাও l সব কর্ম করার আগে এই বিশেষ অ্যাটেনশন এবং লক্ষ্য রাখতে হবে যে নিজেকে সম্পন্ন বানিয়ে স্যাম্পল হতে হবে l আমাকে এইরকম হয়ে অন্যকেও করাতে হবে l তারপরে বারংবার এই লক্ষ্য ইমার্জ করো l সবসময় তোমার লক্ষ্যের সাথে এর গুণকে সমকক্ষ করে তোল, তবেই শক্তিশালী হয়ে যাবে l

স্লোগান:-
লাস্টে ফাস্ট (দ্রুত) যেতে হলে সাধারণ আর ব্যর্থ সঙ্কল্পে সময় নষ্ট ক'রনা l