09.02.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা তোমরা এখন অমরলোক স্থাপনের নিমিত্ত হয়েছ, যেখানে কোনও দুঃখ বা পাপ হবে না, ওটা হলো নির্বিকারী ওয়ার্ল্ড"

প্রশ্নঃ -
ঈশ্বরীয় পরিবারের চমকপ্রদ প্ল্যান (পরিকল্পনা) কোনটি ?

উত্তরঃ -
ঈশ্বরীয় পরিবারের প্ল্যান হলো "ফ্যামিলি প্ল্যানিং করা "। এক সত্য ধর্ম স্থাপন করে অনেক ধর্মের বিনাশ করা। মানুষ বার্থ কন্ট্রোল করার জন্য প্ল্যান তৈরি করে থাকে, বাবা বলেন ওদের প্ল্যান অনুসারে কাজ হবে না। আমিই এসে নতুন দুনিয়া স্থাপন করি অবশিষ্ট সব আত্মারা তখন উপরে ঘরে চলে যায়। অল্প সংখ্যক আত্মারাই থাকে।

ওম্ শান্তি ।
এটি একটি বাড়ি, বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি প্রতিষ্ঠান। বাচ্চারা, তোমাদের আত্মা জানে যে উনি হলেন শিববাবা। আত্মারা হলো শালগ্রাম। যার শরীর আছে, শরীর বলবে না যে আমার আত্মা। আত্মা বলে আমার শরীর। আত্মা হলো অবিনাশী, শরীর বিনাশী। এখন তোমরা নিজেদের আত্মা বলে জেনেছ। আমাদের বাবা শিব, তিনি হলেন সুপ্রীম ফাদার। আত্মা জানে তিনি আমাদের সুপ্রীম ফাদার, সুপ্রীম টিচার, এবং সুপ্রীম গুরুও। ভক্তি মার্গে আহ্বান করে বলে থাকে ও গড ফাদার, মৃত্যুর সময়ও ডেকে বলে হে ভগবান, হে ঈশ্বর। আহ্বান করে, তাইনা। কিন্তু কারো বুদ্ধিতেই যথার্থ রীতিতে বসেনি, ফাদার তো সব আত্মাদের একজনই। তারপরও ডেকে বলে- হে পতিত-পাবন, সুতরাং তিনি একজন গুরু, ডেকে বলে আমাদের দুঃখ থেকে মুক্ত করে শান্তিধামে নিয়ে চলো, সুতরাং তিনি একজনই বাবা, পতিত-পাবন এবং সদ্গুরু। সৃষ্টি চক্র কিভাবে ঘোরে, মানুষ ৮৪ জন্ম কিভাবে নিয়ে থাকে, অসীম জগতের হিস্ট্রি-জিয়োগ্রাফী তিনিই এসে শোনান সেইজন্য তিনি সুপ্রীম টিচার। অজ্ঞানতায় বাবা আলাদা,টিচার আলাদা, গুরুও আলাদা হয়। অসীম জগতের বাবা, টিচার এবং সদ্গুরু একজনই। কত পার্থক্য। অসীম জগতের পিতা বাচ্চাদের অনন্ত উত্তরাধিকার প্রদান করেন। লৌকিক পিতা সীমিত উত্তরাধিকার দিয়ে থাকে। সেখানে পড়াশোনাও সীমিত। ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি-জিয়োগ্রাফী সম্পর্কে কেউ জানেনা। এটাও কেউ জানেনা লক্ষ্মী-নারায়ণ কিভাবে রাজ্য পেয়েছিল ? কত সময় ধরে রাজ্য শাসন করেছিল ? ত্রেতায় রাম-সীতা কতদিন রাজ্য শাসন করেছে ? কিছুই জানে না। এখন বাচ্চারা তোমরা বুঝেছ অসীমের পিতা এসেছেন আমাদের শিক্ষা প্রদান করতে। এরপর বাবা সদ্গতির পথও বলে দেন। বাবা বলেন তোমরা ৮৪ জন্ম নিতে-নিতে পতিত হয়ে যাও, এখন পবিত্র হতে হবে। এটা হলো তমোপ্রধান দুনিয়া। প্রতিটি জিনিসকেই সতো, রজো এবং তমোর মধ্য দিয়ে আসতে হবে। এই যে সৃষ্টি তারও আয়ু আছে নতুন থেকে পুরানো, পুরানো থেকে আবার নতুন হয়। এটা তো সবাই জানে, ভারতই সত্যযুগে ছিল, সেখানে দেবী-দেবতাদের রাজ্য ছিল, আচ্ছা তারপর ওদের কী হয়েছে ? ওরা পুনর্জন্ম নিয়ে, সতোপ্রধান থেকে সতো, সতো থেকে রজো তমোতে এসেছে। এতবার জন্ম নিয়েছে। ভারতে ৫ হাজার বছর আগে যখন লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল তখন ওখানে মানুষের গড় আয়ু ছিল ১২৫ -১৫০ বছর। তাকে বলে অমরলোক। ওখানে কখনোই অকালে মৃত্যু হয় না। এটা হলো মৃত্যুলোক। অমরলোকে মানুষ অমর হয় ,আয়ু বৃদ্ধি পায়। সত্যযুগে পবিত্র গৃহস্থ আশ্রম ছিল, তাকে বলে নির্বিকারী ওয়ার্ল্ড। এখন হলো বিকারগ্রস্ত ওয়ার্ল্ড। বাচ্চারা তোমরা এখন জানো আমরা শিববাবার সন্তান। উত্তরাধিকার শিববাবার কাছ থেকেই পাওয়া যায়। এই দাদাও (ব্রহ্মা) ঐ দাদার (গ্রান্ড ফাদার) কাছ থেকেই উত্তরাধিকার পায়। ড্যাডির (পিতা) প্রপার্টির উপর সবার অধিকার থাকে। ব্রহ্মাকে বলা হয় প্রজাপিতা। আদম আর ইভ, আদম তার স্ত্রী। অসীমের পিতা হলেন নিরাকার গড ফাদার। প্রজাপিতা হলেন সাকার ফাদার। এনার নিজের শরীর আছে । শিববাবার নিজের শরীর নেই। সুতরাং তোমরা ব্রহ্মা বাবার মাধ্যমে শিববাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার পাও। দাদার (পিতামহ) সম্পত্তি তো বাবার দ্বারাই প্রাপ্ত হবে, তাইনা। ব্রহ্মা বাবার মাধ্যমে তোমরা শিববাবার দ্বারা মানুষ থেকে দেবতা হয়ে উঠছো। শিখ ধর্ম গ্রন্থে ওরা তাঁর মহিমা করেছেন "মানুষকে দেব-দেবীতে পরিণত করতে ঈশ্বরের বেশি সময় লাগেনি"। গুরুগ্রন্থে অনেক মহিমা করা হয়েছে। যেমন বাবা বলেন অল্ফ (ঈশ্বর)কে স্মরণ করলে বাদশাহী তোমাদের। এমনকি গুরু নানকও বলেছেন:- ঈশ্বরের নাম জপ কর, সুখ পাবে। ঐ নিরাকার অকালমূর্ত বাবারই মহিমা ওরা গেয়ে থাকে। বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করলে সুখ প্রাপ্ত হবে। সবাই পিতাকে স্মরণ করে, যখন লড়াই শেষ হবে, লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্যে শুধু একটি ধর্ম থাকবে। এটাই বোঝার বিষয়। ভগবানুবাচ পতিত-পাবন জ্ঞানের সাগর ভগবানকেই বলা হয়। উনিই দুঃখ হরণকারী সুখ প্রদানকারী। আমরা যখন বাবার সন্তান নিশ্চয়ই আমাদের সুখে থাকা উচিত। প্রকৃতপক্ষে ভারতবাসীরাই সত্যযুগে ছিল। বাকি সব আত্মারা শান্তিধামে ছিল, এখন তো সব আত্মারাই এখানে আসছে। এরপর আমরা গিয়ে দেবী-দেবতা হব। স্বর্গেও ভূমিকা পালন করতে হয়। এই পুরানো দুনিয়া হলো দুঃখ ধাম, নতুন দুনিয়া সুখধাম। ঘর যখন পুরানো হয়ে যায় তখন ওখান থেকে ইঁদুর, সাপ ইত্যাদি বেড়িয়ে আসে । এই দুনিয়াও তেমন হয়ে গেছে। এই কল্পের আয়ু ৫হাজার বছরের । এখন এর অন্তিম সময়। গান্ধীজীও চাইতেন যে নতুন দুনিয়া দিল্লি হোক, রাম রাজ্য হোক । কিন্তু এই কাজ তো বাবার। দেবতাদের রাজ্যকেই রাম রাজ্য বলে। নতুন দুনিয়াতে তো অবশ্যই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য হবে। রাধা-কৃষ্ণ দুজনেই ভিন্ন-ভিন্ন রাজধানীর, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তারা লক্ষ্মী-নারায়ণ হন। এই সময় তারা নিশ্চয়ই তেমনই কর্ম করছে। বাবা তোমাদের কর্ম-অকর্ম-বিকর্মের গতি সম্পর্কে বসে বুঝিয়েছেন। রাবণ রাজ্যে মানুষ যে কর্ম করবে তা বিকর্ম হয়ে যাবে। সত্য যুগে কর্ম অকর্ম হয়ে যায়। গীতাতেও এই বিষয়ে বলা হয়েছে, কিন্তু সেখানে নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। এটাই হলো ভুল। কৃষ্ণ জয়ন্তী হয় সত্যযুগে। শিব হলেন নিরাকার পরমপিতা। কৃষ্ণ সাকার মানুষ। প্রথমে শিব জয়ন্তী তারপর কৃষ্ণ জয়ন্তী ভারতেই পালন করা হয়। ভক্তি মার্গে শিবরাত্রি বলা হয়। বাবা এসে ভারতকে স্বর্গের রাজ্য দিয়ে থাকেন। শিব জয়ন্তীর পরে উদযাপিত হয় কৃষ্ণ জয়ন্তী, এই দুইয়ের মাঝখানে উদযাপন হয় রাখী কেননা পবিত্রতা প্রয়োজন। পুরানো দুনিয়ার বিনাশও হওয়া চাই। তারপর লড়াই শুরু হলে সব শেষ হয়ে যাবে আর তোমরা এসে নতুন দুনিয়াতে রাজত্ব করবে। তোমরা এই পুরানো দুনিয়া, মৃত্যুলোকের জন্য পড়াশোনা করছ না। তোমাদের পড়াশোনা হলো নতুন দুনিয়া অমরলোকের জন্য। এই রকম কোনো কলেজ হবে না। এখন বাবা বলছেন মৃত্যুলোকের অন্তিম সময় সেইজন্য দ্রুততার সাথে পঠন-পাঠন করে বিচক্ষণ হতে হবে । উনি বাবা, পতিত-পাবন, শিক্ষা প্রদান করেন। সুতরাং এটা হলো গড ফাদারলী ইউনিভার্সিটি। ভগবানুবাচ তাইনা। কৃষ্ণ তো সত্যযুগের প্রিন্স। সেও শিববাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করে। এই সময় সবাই ভবিষ্যতের জন্য উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে নিচ্ছে কেননা যত পড়বে ততই উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে। না পড়লে পদ কম হয়ে যাবে। যেখানেই থাকো না কেন, ঈশ্বরীয় পড়াশোনা কর । মুরলী তো বিদেশেও যায়।

বাবা রোজ সাবধান থাকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন ‐ বাচ্চারা, বাবাকে স্মরণ কর এর দ্বারা তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। আত্মার মধ্যে যে খাদ জমা হয়ে গেছে তা বেরিয়ে যাবে। আত্মাকে ১০০% পিওর হতে হবে। এখন আত্মা ইমপিওর (অপবিত্র)। ভক্তি তো মানুষ অনেক করে থাকে, তীর্থে যায়, মেলাতেও লক্ষ মানুষ যায়। এতো জন্ম-জন্মান্তর ধরে চলে আসছে। পরিশ্রম করে কত মন্দির ইত্যাদি করে তারপরও সিঁড়ি দিয়ে নামতেই থাকে (অধঃপতন হওয়া)। এখন তোমরা জান আমরা উত্তরণের কলা দ্বারা সুখধামে যাব, তারপর আবার নীচে নামব । কলা ক্রমশঃ হ্রাস পেতে থাকে। একটা নতুন বাড়ির চাকচিক্য ১০ বছর পরে অবশ্যই কমে যাবে। তোমরা নতুন দুনিয়া সত্যযুগে ছিলে। ১২৫০ বছর পরে রাম রাজ্য শুরু হয়েছিল, এখন তো সম্পূর্ণ তমোপ্রধান হয়ে গেছে। জনসংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দুনিয়া পুরানো হয়ে গেছে। ওরা তো ফ্যামিলি প্ল্যানিং-এর জন্য কত পরিকল্পনা করে বিমর্ষ হয়ে পড়ে। এই প্ল্যানিং তো গডফাদারের কাজ, সত্যযুগে ৯-১০ লক্ষ মানুষ থাকবে। বাকি সবাই নিজের ঘর সুইট হোমে চলে যাবে। এ হলো ঈশ্বরীয় ফ্যামিলি প্ল্যানিং। এক ধর্মের স্থাপনা, বাকি সব ধর্মের বিনাশ। বাবা নিজের কাজ করে চলেছেন। ওরা বলে (লৌকিকে) যদিও বিকারে যাও সন্তান যেন না হয়। এসব করে কখনোই কিছু হবে না। এই প্ল্যানিং অসীম জগতের বাবার হাতে রয়েছে। বাবা বলেন আমিই দুঃখ ধামকে সুখধাম নির্মাণ করি। প্রতি ৫ হাজার বছর পরে আমি আসি। কলিযুগের শেষে আর সত্যযুগের প্রথমে। এখন হলো সঙ্গম। যখন পতিত দুনিয়া থেকে পাবন দুনিয়া তৈরি হয়। পুরানো দুনিয়ার বিনাশ ঘটিয়ে নতুন দুনিয়া স্থাপন করা এটা একমাত্র বাবার কাজ। সত্যযুগে একটাই ধর্ম ছিল, এই লক্ষ্মী-নারায়ণ বিশ্বের মালিক, মহারাজা-মহারাণী ছিল । এটাও তোমরা জানো, এই মালা কার তৈরি। সবার উপরে শিববাবা তারপর যুগল দানা ব্রহ্মা-সরস্বতী। ওনাদের এই মালা যা বিশ্বকে নরক থেকে স্বর্গ, পতিত থেকে পাবন করে তোলে। যে সার্ভিস করে চলে যায় তার কথাই স্মরণে থাকে। সুতরাং বাবা বোঝান সত্যযুগে তোমরা পবিত্র ছিলে তাইনা! প্রবৃত্তি মার্গ পবিত্র ছিল। সুখে কেউ বাবাকে স্মরণ করে না। দুঃখেই সবাই স্মরণ করে। বাবা হলেন মুক্তিদাতা, দয়াশীল, ব্লিসফুল (সুখদাতা)। তিনিই এসে সবাইকে মুক্তি-জীবনমুক্তি দিয়ে থাকেন। তাঁকেই আহ্বান করে বলা হয়, তুমি এসে আমাদের সুইট হোমে নিয়ে চলো। এখন সুখ নেই। এ হলো প্রজার উপর প্রজার রাজ্য শাসন। সত্যযুগেও রাজা-রাণী, প্রজা থাকে। বাবা বলেন দেখ তোমরা কেমন বিশ্বের মালিক হয়ে ওঠো, ওখানে তোমাদের কাছে অগাধ ধন থাকে। সোনার তৈরি ইঁট দিয়ে বাড়ি তৈরি হয়। মেশিন থেকে সোনার ইঁট বেরিয়ে আসে। তারপর তার উপরে হীরে-জহরত দিয়ে মোড়ানো হয়। দ্বাপরেও কত হীরে ছিল, যা লুট করে নিয়ে গেছে। এখন তো অল্প সোনাও দেখা যায় না। এসবই ড্রামায় নির্ধারিত। বাবা বলেন আমি প্রতি ৫ হাজার বছর পরে আসি। পুরানো দুনিয়া বিনাশের জন্য অটোম্যাটিক বোমা ইত্যাদি তৈরি হয়েছে। এটা হলো সায়েন্স। বুদ্ধি দিয়ে এমনই সব জিনিস আবিষ্কার করেছে যার দ্বারা নিজের কুলকেই বিনাশ করবে। এসব তো রেখে দেওয়ার জন্য তৈরি হয়নি। রিহার্সাল চলতেই থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত রাজধানী স্থাপন না হচ্ছে ততক্ষণ লড়াই হবে না। প্রস্তুতি চলছে লড়াইয়ের, এর সাথে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও হবে। এতো মানুষ থাকবে না।

এখন বাচ্চাদের এই পুরানো দুনিয়াকে ভুলে যেতে হবে। শুধু সুইট হোম স্বর্গের বাদশাহীকে স্মরণ করতে হবে। যেমন নতুন ঘর তৈরি হলে বুদ্ধিতে শুধু নতুন ঘরই স্মরণে থাকে তাইনা! এখন নতুন দুনিয়া স্থাপন হচ্ছে। বাবা হলেন সবার সদ্গতি দাতা। সব আত্মারা চলে যাবে, শুধু শরীর এখানে শেষ হয়ে যাবে। আত্মা পবিত্র হবে বাবার স্মরণ দ্বারা, পবিত্র অবশ্যই হতে হবে। দেবতারা পবিত্র তাই না ! তাদের সামনে কখনও বিড়ি, তামাক ইত্যাদি রাখা হয় না, ওরা হলো বৈষ্ণব। সত্যযুগকে বিষ্ণুপুরী বলা হয়। ওটা হলো নির্বিকারী দুনিয়া। এটা বিকারগ্রস্ত দুনিয়া। এখন নির্বিকারী দুনিয়াতে যেতে হবে। সময় অল্প, এটা নিজেরাই বুঝেছ অটোম্যাটিক বোমা দ্বারা সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। লড়াই তো হবেই। ওরা বলে আমাদের কেউ প্রেরণা দেয়,যা আমরা বানিয়ে থাকি। ওরা জানে যে নিজের কুলেরই বিনাশ হতে চলেছে। কিন্তু না বানিয়ে থাকতে পারে না। শঙ্কর দ্বারা বিনাশ এও ড্রামায় নির্ধারিত। বিনাশ সামনে অপেক্ষা করছে। জ্ঞান যজ্ঞ দ্বারাই বিনাশ প্রজ্জ্বলিত হয়েছে। এখন তোমরা স্বর্গের মালিক হওয়ার জন্য অধ্যয়ন করছ। এই পুরানো দুনিয়া শেষ হয়ে নতুন তৈরি হবে। এই চক্র ঘুরতেই থাকে। হিস্ট্রি মাস্ট রিপিট ( ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি অবশ্যই হবে)। প্রথমে আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম ছিল তারপর চন্দ্র বংশী ক্ষত্রিয় ধর্ম;এরপর ইসলাম, বৌদ্ধ ইত্যাদি ধর্ম এসেছে। বিনাশের পরে নিশ্চয়ই প্রথম নম্বরেই আসবে (সনাতন ধর্ম)। বাচ্চারা তোমাদের কে পড়াচ্ছেন ? নিরাকার শিববাবা, উনিই শিক্ষক এবং সদ্গুরু। তিনি এসেই শিক্ষা প্রদান করেন, সেইজন্যই লেখা হয়েছে শিব জয়ন্তী থেকে গীতা জয়ন্তী। গীতা জয়ন্তী থেকে শ্রী কৃষ্ণ জয়ন্তী। ( পরমপিতা শিব দ্বারা গীতা রচনা, গীতা পাঠ দ্বারা শ্রী কৃষ্ণ হয়ে ওঠা) । শিববাবা সত্যযুগের স্থাপনা করেন। কৃষ্ণপুরী সত্য যুগকে বলা হয়। তোমাদের কোনও সাধু, সন্ত, মানুষ পড়াচ্ছেন না। ইনি হলেন দুঃখ হরণকারী, সুখ কর্তা, অসীম জগতের পিতা। ২১ জন্মের জন্য তোমাদের উত্তরাধিকার প্রদান করেন। বিনাশ তো হবেই, এই সময়ের জন্যই বলা হয় কিছু মানুষের সম্পদ ধুলায় মিশে যাবে, কিছু মানুষের সম্পদ সরকার নিয়ে নেবে। প্রচুর চুরি ইত্যাদিও হবে। আগুনও লাগবে। এই যজ্ঞে সব স্বাহা হবে। কোথাও অল্প-স্বল্প আগুন লাগলেও এখন তা নিভে যাবে। এরজন্য কিছু সময় দিতে হবে, সব নিজেদের মধ্যে লড়াই করবে, ছাড়ানোর জন্যও কেউ থাকবে না। রক্তের নদী বয়ে যাওয়ার পর দুধের নদী বইবে। যাকে বলে অকারণে রক্তপাত। বাচ্চারা সাক্ষাতকার করেছে আবারও সেই সময় তোমরা সবকিছু চর্ম চক্ষু দিয়ে দেখতে পাবে। বিনাশের আগে বাবাকে স্মরণ করলে তমোপ্রধান থেকে আত্মা সতোপ্রধান হয়ে উঠবে। বাবা নতুন দুনিয়া স্থাপন করার জন্য তোমাদের তৈরি করছেন। রাজধানী সম্পূর্ণ স্থাপন হলে তারপর বিনাশ হবে। আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বিষ্ণুপুরীতে যাওয়ার জন্য নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে। সম্পূর্ণ পবিত্র হতে হবে, অশুদ্ধ খাওয়া দাওয়া পানাহার (অশুদ্ধ পানীয়) ত্যাগ করতে হবে। বিনাশের আগেই নিজের সবকিছু সফল করতে হবে।

২ ) দ্রুততার সাথে পঠন-পাঠন দ্বারা হুঁশিয়ার হতে হবে। কোনো রকম বিকর্ম যাতে না হয় তার প্রতি মনোযোগী হতে হবে।

বরদান:-
ত্যাগ আর তপস্যা দ্বারা সেবায় সফলতা অর্জনকারী প্রকৃত সেবাধারী ভব

সেবাতে সফলতার মুখ্য সাধন হলো ত্যাগ আর তপস্যা। ত্যাগ অর্থাত্ মনসা সঙ্কল্পেও ত্যাগ, কোনও পরিস্থিতির কারণে, মর্যাদার কারণে, বাধ্য হয়ে ত্যাগ করা সেটা কিন্তু ত্যাগ নয়। জ্ঞান স্বরূপ দ্বারা, সঙ্কল্পেও ত্যাগী হও আর তপস্বী অর্থাত্ সদা বাবার ভালোবাসায় (লগনে) লভলীন, জ্ঞান, প্রেম,আনন্দ, সুখ, শান্তির সাগরে সমাহিত হয়ে যাওয়া। এরকম ত্যাগী, তপস্বীই সেবায় সফলতা প্রাপ্ত করতে সমর্থ প্রকৃত সেবাধারী হয়।

স্লোগান:-
নিজের তপস্যার দ্বারা শান্তির ভাইব্রেশন (প্রকম্পন) ছড়িয়ে দেওয়াই হলো বিশ্ব সেবাধারী হওয়া।