০৯‌-০৩-১৯ প্রাতঃমুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- বারে বারে বাবা আর তাঁর অবিনাশী উত্তরাধিকারকে স্মরণ কর, বাবা হলেন আত্মিক (রূহানী) সার্জেন, তোমাদের নিরোগ হওয়ার ওষুধ বলে দেন -- বাচ্চারা আমাকে স্মরণ কর"

প্রশ্ন:-

নিজের সাথে নিজে কোন্ কথা বললে খুব আনন্দ হবে ?

উত্তর:-

নিজের সাথে কথা বল- এই চোখ দিয়ে যা কিছু দেখছ সব শেষ হয়ে যাবে । শুধুমাত্র আমি আর বাবাই থাকব । মিষ্টি বাবা আমাকে স্বর্গের মালিক বানিয়ে দেন । এমন এমন সব কথা বলো। একান্তে চলে যাও, তাতে খুব আনন্দ হবে* ।

ওম্ শান্তি ।

পরমপিতা শিব ভগবানুবাচ। মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চাদের সঙ্গম যুগ প্রতিটি পদক্ষেপে স্মরণে থাকা উচিত । এও তোমরা বাচ্চারাই জান, নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে । বুদ্ধিতে স্মরণ থাকা চাই - আমরা এখন পুরুষোত্তম সঙ্গম যুগে পুরুষোত্তম হয়ে উঠছি । আর এই যে রাবণের শিকল তা থেকে বাবা আমাদের মুক্ত করতে এসেছেন । যেমন কোনও পাখিকে যদি খাঁচা থেকে বের করে দেওয়া হয়, তবে সে খুব খুশিতে উড়ে সুখ অনুভব করতে থাকে । তোমরা, বাচ্চারাও জান এ হল রাবণের খাঁচা । এখানে অনেক রকমের দুঃখ । এখন বাবা এসেছেন এই খাঁচা থেকে বের করার জন্য । মানুষই শাস্ত্রে লিখেছে দেবতা আর অসুরদের মধ্যে লড়াই হয়েছিল, তারপর দেবতারাই জয়ী হয় । প্রকৃতপক্ষে লড়াইয়ের কোনও প্রশ্নই নেই । তোমরা এখন অসুর থেকে দেবতা হয়ে উঠছ। আসুরি রাবণ অর্থাত্ ৫ বিকারের উপর জয়লাভ করছ, রাবণ সম্প্রদায়ের উপরে নয়। ৫ বিকারকেই রাবণ বলা হয় । অন্য কাউকে পোড়ানোর ব্যাপার নেই । তোমরা বাচ্চারা খুব উৎফুল্ল হয়ে ওঠো যে, আমরা এখন এমন এক দুনিয়াতে যেতে চলেছি, যেখানে না আছে গরম, না আছে ঠান্ডা । সেখানে সবসময়ই বসন্ত ঋতু বিরাজ করে । সত্য যুগ - স্বর্গের বসন্ত ঋতু এখনই আসতে চলেছে। এখানে (হদ) বসন্ত ঋতু তো অল্প সময়ের জন্য আসে । ওখানে বসন্ত ঋতু তোমাদের জন্য অর্ধকল্পের জন্য আসবে । ওখানে গরম ইত্যাদি নেই । গরমে মানুষ কত কষ্ট পায়, মারাও যায় । এই সব দুঃখজনক পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমাদের অবিনাশী সার্জন খুব সহজ ওষুধ বলে দেন । এই জগতের সার্জেনদের (হদের) কাছে গেলে অনেক রকমের ওষুধ ইত্যাদির কথা মনে আসবে । এখানে এই সার্জেনের কাছে কোনও ওষুধ নেই । ওঁনাকে শুধু স্মরণ করলেই সব রোগ থেকে মুক্ত হওয়া যায় আর কোনো ওষুধ ইত্যাদি কিছুই নেই ।



বাচ্চারা বলে আজ সেমিনার করব- কিভাবে চার্ট লেখা উচিত, বাবাকে কিভাবে স্মরণ করা উচিত এই বিষয়ের উপরই সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে । বাবা তো কোন রকম কষ্ট দেন না যে বসে বসে লেখ, কাগজ নষ্ট কর । প্রয়োজনই নেই । বাবা শুধু বলেন বুদ্ধি দিয়ে বাবাকে স্মরণ কর । অজ্ঞান কালে লৌকিক বাবাকে স্মরণ করার জন্য চার্ট তৈরি করা হয় কী ! এর মধ্যে (স্মরণের জন্য) লেখালেখির কোনও প্রয়োজন নেই । বাবাকে বাচ্চারা বলে-- বাবা, আমরা তোমাকে ভুলে যাই, কেউ শুনলে কি বলবে ? তোমরাই তো বলে থাক, বেঁচে থাকতেই আমরা বাবার হয়ে গেছি । কেন হয়েছ ? বাবার কাছ থেকে বিশ্বের বাদশাহী পাওয়ার জন্য অবিনাশী উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে । তারপরও এমন বাবাকে তোমরা কি করে ভুলে যাও ? বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে হলে তাঁকে স্মরণ করতে হবে, দৈবীগুণও ধারণ করতে হবে । এর মধ্যে লেখার কি আছে ? প্রত্যেকে নিজের অন্তর্মনকে কাছে প্রশ্ন কর। নারদের দৃষ্টান্ত আছে, নারদ নিজেই বলে থাকে যে অনেক বড় ভক্ত । তোমরাও জান, জন্ম-জন্মান্তরের আমরা ছিলাম পুরানো ভক্ত । এমন মিষ্টি বাবাকে স্মরণ করে আমরা কতটা খুশি হয়ে উঠি। যে যত স্মরণ করবে সে-ই লক্ষ্মী-নারায়ণকে বরণ করার যোগ্যতা অর্জন করবে । কোনও গরিবের সন্তান বিত্তবানের কোলে দত্তক রূপে গেলে কত খুশি হয়ে ওঠে । বাবাকে আর তার সম্পত্তিকেই স্মরণ করতে থাকে । এখানে তো এমন অনেকেই আছে যাদের বেহদের বাবার বাচ্চা হয়েও রাজ্য ভাগ্য ভোগ করার মতো বুদ্ধিই নেই । আশ্চর্যজনক । যে বাবা স্বর্গের মালিক করে তোলেন, তাঁকেই স্মরণ করতে পারেনা । বাবা বাচ্চাদের দত্তক নিয়ে থাকেন, এমন বাবাকে স্মরণ না করা, এতো আশ্চর্যের ব্যাপার । বারে বারে বাবা আর তাঁর প্রপার্টি স্মরণে আসা উচিত ।

বাবা বলেন- মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চারা, তোমরা আমাকে ডেকেছ তোমাদের অ্যাডপ্ট করার জন্য । বাবাকে আহ্বান করা হয়, তাই না! বাবাই স্বর্গের স্থাপনা করেন, স্বর্গের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রদান করেন । তোমরাই ডেকে বল -- বাবা, আমরা পতিত, আমাদের এসে তুমি কোলে তুলে নাও । নিজেরাই বলে থাক আমরা পতিত, কাঙাল, ছিঃ ছিঃ, কানাকড়ির মতো মূল্যহীন । বেহদের বাবাকে তোমরা ভক্তি মার্গ থেকে ডাক । (ভক্তি দ্বাপর থেকে শুরু)। এখন বাবা বলেন ভক্তি মার্গেও তোমরা এতো দুঃখে ছিলে না । এখন দেখো মানুষের কত দুঃখ । বাবা এসেছেন যখন, তবে নিশ্চয়ই এখন বিনাশের সময় । তোমরা জান এই লড়াই-এর পর কত জন্ম, কত বছর আর লড়াইয়ের কোনও নামই থাকবে না, আর কখনোই লড়াই হবে না । না কোনও দুঃখ, রোগ ইত্যাদির নাম থাকবে । এখন তো কত রকমের অসুখ-বিসুখ ।

বাবা বলেন-- মিষ্টি বাচ্চারা, আমি তোমাদের সব দুঃখ থেকে মুক্তি দেব । তোমরা স্মরণ করে বল -- হে ভগবান, তুমি এসে আমাদের দুঃখ হরণ করে সুখ, শান্তি প্রদান কর । এই দুটি জিনিস সবাই কামনা করে । এখানে হল অশান্তি । শান্তির জন্য যে রায়( পরামর্শ) দিয়ে থাকে তাকে পুরস্কৃত করা হয় । বিচারক তো নিজেই জানেনা শান্তি কাকে বলে। শান্তি তো মিষ্টি বাবা ছাড়া আর কারও দ্বারাই প্রাপ্ত হবে না ।তোমরা কত পরিশ্রম কর বোঝানোর জন্য, তারপরও বোঝেনা । তোমরা গভর্নমেন্টকে লিখতে পার -- শুধু শুধু টাকা পয়সার অপচয় কেন করছ ? শান্তির সাগর একজনই বাবা, উনিই এসে বিশ্বে শান্তি স্থাপন করেন । গভর্নমেন্টের উচ্চ পদাধিকারীকে ভালো কাগজে সত্যতার সাথে চিঠি লেখা উচিত । কেউ ভালো কাগজ দেখে বোঝে যে নিশ্চয়ই এটা কোনও বড় ( নামীদামি, প্রতিষ্ঠিত) মানুষের লেখা চিঠি । তাদের বল, বিশ্বে শান্তির জন্য যা তোমরা বলছ, আগে কবে সেটা হয়েছে, যা পুনরায় ঐ ভাবেই ফিরে আসবে ? নিশ্চয়ই কখনও পাওয়া গিয়েছিল । তোমাদের তা জানা আছে, তোমরা তিথি, তারিখ সব লিখতে পার, বাবাই এসে বিশ্বে শান্তি স্থাপন করেছিলেন, সে সময় ছিল সত্য যুগ । এই লক্ষ্মী-নারায়ণ হচ্ছে রাজবংশের চিহ্ন । ব্রহ্মা আর তোমরা ব্রাহ্মণদের পার্ট কারও জানা নেই। প্রধান পার্ট তো ব্রহ্মার তাই না! তিনিই রথ, যে রথ অবলম্বন করে বাবা এত কার্য সম্পন্ন করেন । তার নামই হল পদ্মগুণ ভাগ্যশালী রথ । ভাবনা চিন্তা কর - কিভাবে কাকে বোঝাবে ? মানুষের তো কত রকম নেশা থাকে । এখন তোমাদের, সবাইকে বাবার পরিচয় দিতে হবে । জ্ঞান তো আছে শুধুই জ্ঞানের সাগর বাবার কাছে । উনি যখন আসেন তখনই এই জ্ঞান প্রদান করেন । তাঁর আগে এই জ্ঞান কেউ -ই দিতে পারে না । ভক্তি তো সব ভক্তই করে থাকে কিন্তু জ্ঞান একজন বাবাই দিয়ে থাকেন । জ্ঞানের জন্য কোনও স্থায়ী পুস্তক তৈরি হয় না । জ্ঞান তো কান দ্বারাই শুনতে হয় । যে সব বই ইত্যাদি তোমরা রাখ সবই অস্থায়ী । এ সবই শেষ হয়ে যাবে । তোমরা নোটস -এ ও লিখে থাক এ সবই শেষ হয়ে যাবে । এসব লেখ শুধুমাত্র নিজের পুরুষার্থের জন্য । বাবা বলেন টপিক্স (পয়েন্টস) এর লিস্ট তৈরি করলে স্মরণে আসবে কিন্তু এটা তো জান যে এই পুস্তক ইত্যাদি কিছুই থাকবে না । তোমাদের বুদ্ধিতে শুধুমাত্র স্মরণ চলবে । আত্মা সম্পূর্ণরূপে বাবার মতো পরিপূর্ণ হয়ে যাবে ( গুণ ও শক্তিতে)। আর যা কিছু পুরনো জিনিস - এই চোখ দিয়ে দেখছ সব শেষ হয়ে যাবে । শেষে গিয়ে কিছুই থাকবে না ।



বাবা হলেন অবিনাশী সার্জন, আত্মাও অবিনাশী । এক শরীর ছেড়ে অন্য শরীর ধারণ করে । আত্মা যে শরীরই গ্রহণ করুক না কেন ছিঃ ছিঃ শরীরই প্রাপ্ত হবে (পতিত,বিকারগ্রস্ত) । এখন তোমরা জান আমরা শ্রেষ্ঠাচারী হচ্ছি । বাবা-ই করে তোলেন । সাধু-সন্ত ইত্যাদিরা কখনোই শ্রেষ্ঠাচারী করে তুলতে পারে না । বাবাই তোমাদের শ্রেষ্ঠাচারী করে তোলেন । বাবা বলেন-- মিষ্টি বাচ্চারা, আমি তোমাদের চোখের ওপরে বসিয়ে নিয়ে যাব । আত্মাও এখানে এসে নয়নে বসে । বাবা বলেন, হে আত্মারা - তোমাদের সবাইকে আমি প্রসন্ন করে নিয়ে যাব । অল্প সময় বাকী আছে । এখন পরিশ্রম (পুরুষার্থ) কর । নিজের অন্তর্মনকে জিজ্ঞাসা কর - আমি মিষ্টি বাবাকে কতটুকু স্মরণ করি ? হীর আর রঞ্ঝার (পাঞ্জাবের এক ট্র্যাজিক রোমান্স আখ্যান) মধ্যে বিকারের ভালোবাসা ছিল না । ছিল পবিত্র ভালোবাসা । একে অপরকে স্মরণ করত আর সামনে এসে হাজির হতো, দুজনে দুজনের সাথে মিলিত হতো । বাবা বলেন তোমরাও এমন হয়ে ওঠো । ওরা হল এক জন্মের প্রেমিক প্রেমিকা, তোমরা হলে জন্ম -জন্মান্তরের জন্য । এসব কথা এ সময়ের জন্যই । আশিক -মাশুক এই শব্দ স্বর্গে নেই । ওরা পবিত্র থাকে, মন্সা দ্বারাই মনে করে । সামনে দেখে খুশি হয়ে ওঠে । তোমরা বাচ্চাদের এই সময় দেখার মতো কিছুই নেই । এই সময় তোমরা শুধু নিজেকে আত্মা মনে কর আর প্রিয়তম বাবাকে স্মরণ কর । আত্মা মনে করে বাবাকে অত্যন্ত খুশির সাথে স্মরণ করতে হবে । বাবা বুঝিয়েছেন ভক্তি মার্গে তোমরা এমনই আশিক ছিলে যে মাশুকের প্রতি সমর্পিত হয়ে যেতে। বলতে তুমি এলেই তোমার প্রতি সমর্পিত হব । এখন মাশুক এসেছেন, সবাইকে সুন্দর করে তুলতে । যে যেমন তেমনই তৈরি করার চেষ্টা করে । তোমরা সুন্দর হলে শরীরও সুন্দর পাবে । আত্মাতেই খাদ পড়ে । এখন তোমরা আমাকে স্মরণ করলে আত্মা থেকে খাদ বেড়িয়ে যাবে । এইজন্য তোমরা বাচ্চারা আসো । পাদ্রিরা যখন হেঁটে যায় সম্পূর্ণ সাইলেন্সে থাকে । হাতে মালা কাউকে দেখায় না । ধীরে ধীরে চলতে থাকে । ওরা ক্রাইস্টকে স্মরণ করে । বাবাকে তো জানে না । আমার জন্য বলে দেয় নাম-রূপ হীন । বিন্দুকে কিভাবে দেখবে! কিভাবে স্মরণ করবে কেউ জানেনা । তোমরা এখন জেনেছ তাই এখানে আসছ। মধুবনের মহিমা আছে । এ হল সত্য-সত্য মধুবন, যেখানে তোমরা আসো। যতটা সম্ভব একান্তে বসে স্মরণ কর। কাউকে দেখ না । উপরে তো ছাদ আছে, বাবাকে স্মরণ করতে ভোরবেলায় ছাদে চলে যাও । খুব ভালো লাগবে । চেষ্টা কর রাতে ১টা ২ টার সময় উঠে যাওয়ার । তোমরা নিদ্রাকে জয় করতে প্রসিদ্ধ । রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়, তারপর ১টায় বা ২টোয় উঠে ছাদে গিয়ে একান্তে বসে স্মরণের যাত্রা করতে থাক। অনেক জমা করতে হবে । বাবাকে স্মরণ করতে, বাবার মহিমা করতে ব্যস্ত হয়ে পড় । নিজেদের মধ্যেও এ নিয়ে মতামত না। বাবা কত মিষ্টি, ওঁনার স্মরণেই পাপ বিনষ্ট হবে । অনেক সঞ্চয় করতে পার । সুযোগও এখানে ভালো পাওয়া যায় । ঘরে তোমরা করতে পারবে না । সময়ই পাওয়া যায় না । দুনিয়ার ভাইব্রেশন আর পরিবেশ অত্যন্ত খারাপ । ওখানে এতো স্মরণের যাত্রা হবে না । এখন এর মধ্যে বিশেষ আর কি লেখার আছে । প্রেমিক-প্রেমিকারা কি কিছু লেখে ! অন্তর্মনে দেখ আমি কাউকে দুঃখ দিই নি তো ! কতজনকে স্মরণ করিয়েছি ? এখানে আমরা আসি সঞ্চয় করতে সুতরাং এটাই চেষ্টা কর । উপরে ছাদে গিয়ে একান্তে বস । খাজানা জমা কর । এ সময় হল জমা করার । ৫-৭ দিনের জন্য আসো তোমরা। মুরলী শুনে একান্তে গিয়ে বস । এখানে তো ঘরেই বসে আছ, বাবাকে স্মরণ করলে তোমাদের কিছু না কিছু জমা হয়ে যাবে । অনেক মাতারা বন্ধনে জড়িয়ে আছে । স্মরণ করে বলে- শিব বাবা এই বন্ধন থেকে মুক্ত কর । বিকার পরিপূর্ণ করতে কত অত্যাচার করে । খেলায় দেখানো হয়েছে না- দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ করেছে । তোমরা সবাই দ্রৌপদী, তাইনা! সুতরাং বাবাকে স্মরণ করতে থাক । বাবা অনেক যুক্তি বলে দেন । এর মধ্যে স্নান ইত্যাদির কোনও ব্যপার নেই । তবে হ্যা, ল্যাট্রিনে গেলে স্নান অবশ্যই করা উচিত । মানুষ তো স্নান করার সময়ও কোনও দেবতা বা ভগবানকে স্মরণ করে। প্রধান কথাই হল স্মরণ । জ্ঞান তো অনেক প্রাপ্ত হয়েছে । ৮৪ চক্রের জ্ঞান । নিজের অন্তর্মনে বসে দেখ, নিজেকে জিজ্ঞাসা কর-- এমন মিষ্টি বাবা যিনি আমাদের স্বর্গের মালিক করে তোলেন তাঁকে সারাদিনে কতটা স্মরণ করেছি ? মন ছুটে বেড়ায়নি তো ! কোথায় ছুটবে, দুনিয়া তো নেই-ই । এ সবই শেষ হয়ে যাবে । আমি আর বাবাই থাকব । এমন সব কথা অন্তর্মনে বললে খুব মজা লাগবে । এখানে সে-ই আসে, যে অনেক পুরানো ভক্ত, যে আসেনা সে বুঝে নাও এখনকার ভক্ত । সে দেরিতে আসবে । শুরু থেকেই ভক্তি করছে যারা তারা অবশ্যই বাবার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার নিতে আসবে । এ হল গুপ্ত পরিশ্রম । যে ধারণা করতে সক্ষম নয় তার দ্বারা কোনও পরিশ্রম হয় না । *এখানে তোমরা আসো রিফ্রেশ হতে । নিজেই পরিশ্রম কর (স্মরণের যাত্রায় থাকা) । এক সপ্তাহেই এত সঞ্চয় করতে পার যে, যা ১২ মাসেও হবে না । এখানে ৭ দিনে সম্পূর্ণ পরিশ্রমের ফসল প্রাপ্ত করতে পার* । বাবা পরামর্শ দেন । আচ্ছা!



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন, স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী সন্তানদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।পরমপিতা শিব ভগবানুবাচ। মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চাদের সঙ্গম যুগ প্রতিটি পদক্ষেপে স্মরণে থাকা উচিত । এও তোমরা বাচ্চারাই জান, নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে । বুদ্ধিতে স্মরণ থাকা চাই - আমরা এখন পুরুষোত্তম সঙ্গম যুগে পুরুষোত্তম হয়ে উঠছি । আর এই যে রাবণের শিকল তা থেকে বাবা আমাদের মুক্ত করতে এসেছেন । যেমন কোনও পাখিকে যদি খাঁচা থেকে বের করে দেওয়া হয়, তবে সে খুব খুশিতে উড়ে সুখ অনুভব করতে থাকে । তোমরা, বাচ্চারাও জান এ হল রাবণের খাঁচা । এখানে অনেক রকমের দুঃখ । এখন বাবা এসেছেন এই খাঁচা থেকে বের করার জন্য । মানুষই শাস্ত্রে লিখেছে দেবতা আর অসুরদের মধ্যে লড়াই হয়েছিল, তারপর দেবতারাই জয়ী হয় । প্রকৃতপক্ষে লড়াইয়ের কোনও প্রশ্নই নেই । তোমরা এখন অসুর থেকে দেবতা হয়ে উঠছ। আসুরি রাবণ অর্থাত্ ৫ বিকারের উপর জয়লাভ করছ, রাবণ সম্প্রদায়ের উপরে নয়। ৫ বিকারকেই রাবণ বলা হয় । অন্য কাউকে পোড়ানোর ব্যাপার নেই । তোমরা বাচ্চারা খুব উৎফুল্ল হয়ে ওঠো যে, আমরা এখন এমন এক দুনিয়াতে যেতে চলেছি, যেখানে না আছে গরম, না আছে ঠান্ডা । সেখানে সবসময়ই বসন্ত ঋতু বিরাজ করে । সত্য যুগ - স্বর্গের বসন্ত ঋতু এখনই আসতে চলেছে। এখানে (হদ) বসন্ত ঋতু তো অল্প সময়ের জন্য আসে । ওখানে বসন্ত ঋতু তোমাদের জন্য অর্ধকল্পের জন্য আসবে । ওখানে গরম ইত্যাদি নেই । গরমে মানুষ কত কষ্ট পায়, মারাও যায় । এই সব দুঃখজনক পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমাদের অবিনাশী সার্জন খুব সহজ ওষুধ বলে দেন । এই জগতের সার্জেনদের (হদের) কাছে গেলে অনেক রকমের ওষুধ ইত্যাদির কথা মনে আসবে । এখানে এই সার্জেনের কাছে কোনও ওষুধ নেই । ওঁনাকে শুধু স্মরণ করলেই সব রোগ থেকে মুক্ত হওয়া যায় আর কোনো ওষুধ ইত্যাদি কিছুই নেই ।



বাচ্চারা বলে আজ সেমিনার করব- কিভাবে চার্ট লেখা উচিত, বাবাকে কিভাবে স্মরণ করা উচিত এই বিষয়ের উপরই সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে । বাবা তো কোন রকম কষ্ট দেন না যে বসে বসে লেখ, কাগজ নষ্ট কর । প্রয়োজনই নেই । বাবা শুধু বলেন বুদ্ধি দিয়ে বাবাকে স্মরণ কর । অজ্ঞান কালে লৌকিক বাবাকে স্মরণ করার জন্য চার্ট তৈরি করা হয় কী ! এর মধ্যে (স্মরণের জন্য) লেখালেখির কোনও প্রয়োজন নেই । বাবাকে বাচ্চারা বলে-- বাবা, আমরা তোমাকে ভুলে যাই, কেউ শুনলে কি বলবে ? তোমরাই তো বলে থাক, বেঁচে থাকতেই আমরা বাবার হয়ে গেছি । কেন হয়েছ ? বাবার কাছ থেকে বিশ্বের বাদশাহী পাওয়ার জন্য অবিনাশী উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে । তারপরও এমন বাবাকে তোমরা কি করে ভুলে যাও ? বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করতে হলে তাঁকে স্মরণ করতে হবে, দৈবীগুণও ধারণ করতে হবে । এর মধ্যে লেখার কি আছে ? প্রত্যেকে নিজের অন্তর্মনকে কাছে প্রশ্ন কর। নারদের দৃষ্টান্ত আছে, নারদ নিজেই বলে থাকে যে অনেক বড় ভক্ত । তোমরাও জান, জন্ম-জন্মান্তরের আমরা ছিলাম পুরানো ভক্ত । এমন মিষ্টি বাবাকে স্মরণ করে আমরা কতটা খুশি হয়ে উঠি। যে যত স্মরণ করবে সে-ই লক্ষ্মী-নারায়ণকে বরণ করার যোগ্যতা অর্জন করবে । কোনও গরিবের সন্তান বিত্তবানের কোলে দত্তক রূপে গেলে কত খুশি হয়ে ওঠে । বাবাকে আর তার সম্পত্তিকেই স্মরণ করতে থাকে । এখানে তো এমন অনেকেই আছে যাদের বেহদের বাবার বাচ্চা হয়েও রাজ্য ভাগ্য ভোগ করার মতো বুদ্ধিই নেই । আশ্চর্যজনক । যে বাবা স্বর্গের মালিক করে তোলেন, তাঁকেই স্মরণ করতে পারেনা । বাবা বাচ্চাদের দত্তক নিয়ে থাকেন, এমন বাবাকে স্মরণ না করা, এতো আশ্চর্যের ব্যাপার । বারে বারে বাবা আর তাঁর প্রপার্টি স্মরণে আসা উচিত ।

বাবা বলেন- মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চারা, তোমরা আমাকে ডেকেছ তোমাদের অ্যাডপ্ট করার জন্য । বাবাকে আহ্বান করা হয়, তাই না! বাবাই স্বর্গের স্থাপনা করেন, স্বর্গের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রদান করেন । তোমরাই ডেকে বল -- বাবা, আমরা পতিত, আমাদের এসে তুমি কোলে তুলে নাও । নিজেরাই বলে থাক আমরা পতিত, কাঙাল, ছিঃ ছিঃ, কানাকড়ির মতো মূল্যহীন । বেহদের বাবাকে তোমরা ভক্তি মার্গ থেকে ডাক । (ভক্তি দ্বাপর থেকে শুরু)। এখন বাবা বলেন ভক্তি মার্গেও তোমরা এতো দুঃখে ছিলে না । এখন দেখো মানুষের কত দুঃখ । বাবা এসেছেন যখন, তবে নিশ্চয়ই এখন বিনাশের সময় । তোমরা জান এই লড়াই-এর পর কত জন্ম, কত বছর আর লড়াইয়ের কোনও নামই থাকবে না, আর কখনোই লড়াই হবে না । না কোনও দুঃখ, রোগ ইত্যাদির নাম থাকবে । এখন তো কত রকমের অসুখ-বিসুখ ।

বাবা বলেন-- মিষ্টি বাচ্চারা, আমি তোমাদের সব দুঃখ থেকে মুক্তি দেব । তোমরা স্মরণ করে বল -- হে ভগবান, তুমি এসে আমাদের দুঃখ হরণ করে সুখ, শান্তি প্রদান কর । এই দুটি জিনিস সবাই কামনা করে । এখানে হল অশান্তি । শান্তির জন্য যে রায়( পরামর্শ) দিয়ে থাকে তাকে পুরস্কৃত করা হয় । বিচারক তো নিজেই জানেনা শান্তি কাকে বলে। শান্তি তো মিষ্টি বাবা ছাড়া আর কারও দ্বারাই প্রাপ্ত হবে না ।তোমরা কত পরিশ্রম কর বোঝানোর জন্য, তারপরও বোঝেনা । তোমরা গভর্নমেন্টকে লিখতে পার -- শুধু শুধু টাকা পয়সার অপচয় কেন করছ ? শান্তির সাগর একজনই বাবা, উনিই এসে বিশ্বে শান্তি স্থাপন করেন । গভর্নমেন্টের উচ্চ পদাধিকারীকে ভালো কাগজে সত্যতার সাথে চিঠি লেখা উচিত । কেউ ভালো কাগজ দেখে বোঝে যে নিশ্চয়ই এটা কোনও বড় ( নামীদামি, প্রতিষ্ঠিত) মানুষের লেখা চিঠি । তাদের বল, বিশ্বে শান্তির জন্য যা তোমরা বলছ, আগে কবে সেটা হয়েছে, যা পুনরায় ঐ ভাবেই ফিরে আসবে ? নিশ্চয়ই কখনও পাওয়া গিয়েছিল । তোমাদের তা জানা আছে, তোমরা তিথি, তারিখ সব লিখতে পার, বাবাই এসে বিশ্বে শান্তি স্থাপন করেছিলেন, সে সময় ছিল সত্য যুগ । এই লক্ষ্মী-নারায়ণ হচ্ছে রাজবংশের চিহ্ন । ব্রহ্মা আর তোমরা ব্রাহ্মণদের পার্ট কারও জানা নেই। প্রধান পার্ট তো ব্রহ্মার তাই না! তিনিই রথ, যে রথ অবলম্বন করে বাবা এত কার্য সম্পন্ন করেন । তার নামই হল পদ্মগুণ ভাগ্যশালী রথ । ভাবনা চিন্তা কর - কিভাবে কাকে বোঝাবে ? মানুষের তো কত রকম নেশা থাকে । এখন তোমাদের, সবাইকে বাবার পরিচয় দিতে হবে । জ্ঞান তো আছে শুধুই জ্ঞানের সাগর বাবার কাছে । উনি যখন আসেন তখনই এই জ্ঞান প্রদান করেন । তাঁর আগে এই জ্ঞান কেউ -ই দিতে পারে না । ভক্তি তো সব ভক্তই করে থাকে কিন্তু জ্ঞান একজন বাবাই দিয়ে থাকেন । জ্ঞানের জন্য কোনও স্থায়ী পুস্তক তৈরি হয় না । জ্ঞান তো কান দ্বারাই শুনতে হয় । যে সব বই ইত্যাদি তোমরা রাখ সবই অস্থায়ী । এ সবই শেষ হয়ে যাবে । তোমরা নোটস -এ ও লিখে থাক এ সবই শেষ হয়ে যাবে । এসব লেখ শুধুমাত্র নিজের পুরুষার্থের জন্য । বাবা বলেন টপিক্স (পয়েন্টস) এর লিস্ট তৈরি করলে স্মরণে আসবে কিন্তু এটা তো জান যে এই পুস্তক ইত্যাদি কিছুই থাকবে না । তোমাদের বুদ্ধিতে শুধুমাত্র স্মরণ চলবে । আত্মা সম্পূর্ণরূপে বাবার মতো পরিপূর্ণ হয়ে যাবে ( গুণ ও শক্তিতে)। আর যা কিছু পুরনো জিনিস - এই চোখ দিয়ে দেখছ সব শেষ হয়ে যাবে । শেষে গিয়ে কিছুই থাকবে না ।



বাবা হলেন অবিনাশী সার্জন, আত্মাও অবিনাশী । এক শরীর ছেড়ে অন্য শরীর ধারণ করে । আত্মা যে শরীরই গ্রহণ করুক না কেন ছিঃ ছিঃ শরীরই প্রাপ্ত হবে (পতিত,বিকারগ্রস্ত) । এখন তোমরা জান আমরা শ্রেষ্ঠাচারী হচ্ছি । বাবা-ই করে তোলেন । সাধু-সন্ত ইত্যাদিরা কখনোই শ্রেষ্ঠাচারী করে তুলতে পারে না । বাবাই তোমাদের শ্রেষ্ঠাচারী করে তোলেন । বাবা বলেন-- মিষ্টি বাচ্চারা, আমি তোমাদের চোখের ওপরে বসিয়ে নিয়ে যাব । আত্মাও এখানে এসে নয়নে বসে । বাবা বলেন, হে আত্মারা - তোমাদের সবাইকে আমি প্রসন্ন করে নিয়ে যাব । অল্প সময় বাকী আছে । এখন পরিশ্রম (পুরুষার্থ) কর । নিজের অন্তর্মনকে জিজ্ঞাসা কর - আমি মিষ্টি বাবাকে কতটুকু স্মরণ করি ? হীর আর রঞ্ঝার (পাঞ্জাবের এক ট্র্যাজিক রোমান্স আখ্যান) মধ্যে বিকারের ভালোবাসা ছিল না । ছিল পবিত্র ভালোবাসা । একে অপরকে স্মরণ করত আর সামনে এসে হাজির হতো, দুজনে দুজনের সাথে মিলিত হতো । বাবা বলেন তোমরাও এমন হয়ে ওঠো । ওরা হল এক জন্মের প্রেমিক প্রেমিকা, তোমরা হলে জন্ম -জন্মান্তরের জন্য । এসব কথা এ সময়ের জন্যই । আশিক -মাশুক এই শব্দ স্বর্গে নেই । ওরা পবিত্র থাকে, মন্সা দ্বারাই মনে করে । সামনে দেখে খুশি হয়ে ওঠে । তোমরা বাচ্চাদের এই সময় দেখার মতো কিছুই নেই । এই সময় তোমরা শুধু নিজেকে আত্মা মনে কর আর প্রিয়তম বাবাকে স্মরণ কর । আত্মা মনে করে বাবাকে অত্যন্ত খুশির সাথে স্মরণ করতে হবে । বাবা বুঝিয়েছেন ভক্তি মার্গে তোমরা এমনই আশিক ছিলে যে মাশুকের প্রতি সমর্পিত হয়ে যেতে। বলতে তুমি এলেই তোমার প্রতি সমর্পিত হব । এখন মাশুক এসেছেন, সবাইকে সুন্দর করে তুলতে । যে যেমন তেমনই তৈরি করার চেষ্টা করে । তোমরা সুন্দর হলে শরীরও সুন্দর পাবে । আত্মাতেই খাদ পড়ে । এখন তোমরা আমাকে স্মরণ করলে আত্মা থেকে খাদ বেড়িয়ে যাবে । এইজন্য তোমরা বাচ্চারা আসো । পাদ্রিরা যখন হেঁটে যায় সম্পূর্ণ সাইলেন্সে থাকে । হাতে মালা কাউকে দেখায় না । ধীরে ধীরে চলতে থাকে । ওরা ক্রাইস্টকে স্মরণ করে । বাবাকে তো জানে না । আমার জন্য বলে দেয় নাম-রূপ হীন । বিন্দুকে কিভাবে দেখবে! কিভাবে স্মরণ করবে কেউ জানেনা । তোমরা এখন জেনেছ তাই এখানে আসছ। মধুবনের মহিমা আছে । এ হল সত্য-সত্য মধুবন, যেখানে তোমরা আসো। যতটা সম্ভব একান্তে বসে স্মরণ কর। কাউকে দেখ না । উপরে তো ছাদ আছে, বাবাকে স্মরণ করতে ভোরবেলায় ছাদে চলে যাও । খুব ভালো লাগবে । চেষ্টা কর রাতে ১টা ২ টার সময় উঠে যাওয়ার । তোমরা নিদ্রাকে জয় করতে প্রসিদ্ধ । রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়, তারপর ১টায় বা ২টোয় উঠে ছাদে গিয়ে একান্তে বসে স্মরণের যাত্রা করতে থাক। অনেক জমা করতে হবে । বাবাকে স্মরণ করতে, বাবার মহিমা করতে ব্যস্ত হয়ে পড় । নিজেদের মধ্যেও এ নিয়ে মতামত না। বাবা কত মিষ্টি, ওঁনার স্মরণেই পাপ বিনষ্ট হবে । অনেক সঞ্চয় করতে পার । সুযোগও এখানে ভালো পাওয়া যায় । ঘরে তোমরা করতে পারবে না । সময়ই পাওয়া যায় না । দুনিয়ার ভাইব্রেশন আর পরিবেশ অত্যন্ত খারাপ । ওখানে এতো স্মরণের যাত্রা হবে না । এখন এর মধ্যে বিশেষ আর কি লেখার আছে । প্রেমিক-প্রেমিকারা কি কিছু লেখে ! অন্তর্মনে দেখ আমি কাউকে দুঃখ দিই নি তো ! কতজনকে স্মরণ করিয়েছি ? এখানে আমরা আসি সঞ্চয় করতে সুতরাং এটাই চেষ্টা কর । উপরে ছাদে গিয়ে একান্তে বস । খাজানা জমা কর । এ সময় হল জমা করার । ৫-৭ দিনের জন্য আসো তোমরা। মুরলী শুনে একান্তে গিয়ে বস । এখানে তো ঘরেই বসে আছ, বাবাকে স্মরণ করলে তোমাদের কিছু না কিছু জমা হয়ে যাবে । অনেক মাতারা বন্ধনে জড়িয়ে আছে । স্মরণ করে বলে- শিব বাবা এই বন্ধন থেকে মুক্ত কর । বিকার পরিপূর্ণ করতে কত অত্যাচার করে । খেলায় দেখানো হয়েছে না- দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ করেছে । তোমরা সবাই দ্রৌপদী, তাইনা! সুতরাং বাবাকে স্মরণ করতে থাক । বাবা অনেক যুক্তি বলে দেন । এর মধ্যে স্নান ইত্যাদির কোনও ব্যপার নেই । তবে হ্যা, ল্যাট্রিনে গেলে স্নান অবশ্যই করা উচিত । মানুষ তো স্নান করার সময়ও কোনও দেবতা বা ভগবানকে স্মরণ করে। প্রধান কথাই হল স্মরণ । জ্ঞান তো অনেক প্রাপ্ত হয়েছে । ৮৪ চক্রের জ্ঞান । নিজের অন্তর্মনে বসে দেখ, নিজেকে জিজ্ঞাসা কর-- এমন মিষ্টি বাবা যিনি আমাদের স্বর্গের মালিক করে তোলেন তাঁকে সারাদিনে কতটা স্মরণ করেছি ? মন ছুটে বেড়ায়নি তো ! কোথায় ছুটবে, দুনিয়া তো নেই-ই । এ সবই শেষ হয়ে যাবে । আমি আর বাবাই থাকব । এমন সব কথা অন্তর্মনে বললে খুব মজা লাগবে । এখানে সে-ই আসে, যে অনেক পুরানো ভক্ত, যে আসেনা সে বুঝে নাও এখনকার ভক্ত । সে দেরিতে আসবে । শুরু থেকেই ভক্তি করছে যারা তারা অবশ্যই বাবার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার নিতে আসবে । এ হল গুপ্ত পরিশ্রম । যে ধারণা করতে সক্ষম নয় তার দ্বারা কোনও পরিশ্রম হয় না । *এখানে তোমরা আসো রিফ্রেশ হতে । নিজেই পরিশ্রম কর (স্মরণের যাত্রায় থাকা) । এক সপ্তাহেই এত সঞ্চয় করতে পার যে, যা ১২ মাসেও হবে না । এখানে ৭ দিনে সম্পূর্ণ পরিশ্রমের ফসল প্রাপ্ত করতে পার* । বাবা পরামর্শ দেন । আচ্ছা!



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন, স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী সন্তানদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১. একান্তে বসে বাবার স্মরণে উপার্জন জমা করতে হবে। নিজের অন্তর্মনকে চেক করতে হবে-- স্মরণ করার সময় মন ছুটে বেড়ায়নি তো ? আমরা কত সময় মিষ্টি বাবাকে স্মরণ করি ?

২. সবসময় এই খুশিতে থাকতে হবে যে আমাকে বাবা রাবণের শিকল থেকে মুক্ত করেছেন । এখন আমি এমন দুনিয়াতে যেতে চলেছি যেখানে না আছে গরম না আছে ঠান্ডা । সেখানে চির বসন্ত ঋতু বিরাজ করে ।

বরদান:-

আধ্যাত্মিক (রূহানী) নেশা দ্বারা পুরানো দুনিয়াকে ভুলে যেতে সমর্থ স্বরাজ্য তথা বিশ্ব রাজ্য অধিকারী ভব ।

সঙ্গম যুগে যে বাবার অবিনাশী উত্তরাধিকারের অধিকারী, সে-ই স্বরাজ্য আর বিশ্ব রাজ্যের অধিকারী হতে পারে। আজ স্বরাজ্য, কাল বিশ্বের রাজত্ব হবে । এ তো আজ - কালেরই কথা। এমন অধিকারী আত্মা আধ্যাত্মিক (রূহানী) নেশায় থাকে আর এই নেশা পুরানো দুনিয়াকে সহজেই ভুলিয়ে দেয় । অধিকারী কখনোই কোনও বস্তু, কোনও ব্যক্তি বা সংস্কারের অধীন হতে পারে না । তাকে এই জগতের (হদের) কিছু ছাড়তে হয় না, খুব সহজেই তা ছেড়ে যায় ।

স্লোগান:-

প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি ঈশ্বরীয় খাজানাকে সফল করে তুলতে সমর্থ যে, সে-ই সফলতার প্রতিমূর্তি হয়ে ওঠে*।