09.09.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা সেন্সিবল হয়েছো তাই উপার্জন করার অনেক শখ থাকা উচিত। ব্যবসা ইত্যাদি থেকে সময় বের করে বাবাকে স্মরণ করো তাহলে উপার্জন হতে থাকবে

প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা, তোমরা এখন কোন্ শ্রীমৎ প্রাপ্ত করো, যা আর কখনোই প্রাপ্ত হয় না ?

উত্তরঃ -
১) তোমাদেরকে এই সময় বাবা শ্রীমৎ দেন - মিষ্টি বাচ্চারা, সকালে উঠে বাবার স্মরণে বসো তাহলে সম্পূর্ণ বর্সা প্রাপ্ত হবে। ২) গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে পদ্ম ফুলের মতন থাকো, এমন শ্রীমৎ অন্য সৎসঙ্গে কখনও প্রাপ্ত হয় না। সেই সব সৎসঙ্গে বাবা ও বর্সার (স্বর্গের অধিকার) ব্যাপারই নেই।

গীতঃ-
তুমি মাতা, তুমি পিতা....

ওম্ শান্তি ।
এই ভারতে বিশেষভাবে এবং সমগ্র দুনিয়ায় সাধারণভাবে অনেক রকমের সৎসঙ্গ হয়। এমন কোনও সৎসঙ্গ বা চার্চ বা মন্দির নেই যেখানে মানুষের বুদ্ধিতে থাকবে যে আমরা এই উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি। এখানে তোমরা বাচ্চারা বসে আছো, সব সেন্টারে নিজের অসীম জগতের পিতার স্মরণে বসে আছো - এই সঙ্কল্প নিয়ে যে, আমরা আমাদের পিতার কাছে সুখধামের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি। এমনভাবে অন্য কোনও সৎসঙ্গ বা চার্চে বোঝানো হয় না। বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতেই আছে। তোমরা বাচ্চারা জানো যে আমরা অসীম জগতের পিতার স্মরণে বসে আছি। নতুন দুনিয়া স্বর্গের অধিকার প্রাপ্ত করছি। সব বাচ্চারা এক পিতার কাছে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছে। অসংখ্য বাচ্চারা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সবাই শ্রীমৎ প্রাপ্ত করে, সকালে উঠে বাবাকে স্মরণ করো। আমরা বাবার কাছে এই উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি। আমরা সেই পিতার সন্তান হয়েছি। আত্মা এখন পরিচয় প্রাপ্ত করে বাবার কাছে। বাবা নির্দেশ দেন আমাকে স্মরণ করো এবং গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে পদ্ম ফুলের মতন পবিত্র থাকো। সবাইকে তো এখানে এসে বসতে হবে না। স্কুলে পড়াশোনা করে নিজের বাড়িতে ফিরে যায়। প্রত্যেকটি ছাত্র ছাত্রী নিজের টিচারের কাছে উত্তরাধিকার নিতে পারে। এখানেও সেইরকম। রোজ পড়া করে ঘরে গিয়ে ব্যবসা ইত্যাদি করো। তোমরা হলে গৃহস্থী এবং স্টুডেন্টও। গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে পদ্ম ফুলের মতন থাকতে হবে। এমন কথা কোনও সন্ন্যাসী ইত্যাদিরা বলে না। এখানে তোমরা প্রাক্টিক্যালে বসে আছো। গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে পবিত্র হও। পবিত্র হয়ে পরম পিতা পরমাত্মাকে কেউ আর স্মরণ করে না। যদিও গীতা পাঠ করে, শোনে কিন্তু স্মরণ তো করে না তাইনা। বলা ও করায় তফাৎ থেকে যায়। তোমরা জানো আমাদের বাবা হলেন নলেজফুল, তাঁর সম্পূর্ণ ড্রামার, চক্রের নলেজ আছে। এখন আমরাও নলেজ প্রাপ্ত করছি। এই চক্র খুবই সুন্দর । এই যুগ পুরুষোত্তম যুগ হওয়ার দরুন তোমাদের এই জন্মও হল পুরুষোত্তম। এক্সট্রা মাস থাকে তাইনা।

তোমরা বাচ্চারা জানো যে, আমরা যথাযথ ভাবে বাবার কাছে পুরুষোত্তম হচ্ছি। মর্যাদা পুরুষোত্তম, আমরা পুনরায় হতে চলেছি। পুনরায় ৮৪-র চক্র পরিক্রমা করা হয়, এই জ্ঞান বুদ্ধিতে আছে। অন্য কোনো সৎসঙ্গে এই জ্ঞান বোঝানো হয় না। তোমরা বুঝেছো আমাদেরকে দেবতায় পরিণত হতে হবে। একমাত্র বাবা দেবতায় পরিণত করেন। এই লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র দ্বারা তোমরা ভালো ভাবে বোঝাতে পারো। যথাযথভাবে ব্রহ্মার দ্বারা যোগবলের আধারে এনারা এই পদমর্যাদা প্রাপ্ত করেছেন। এইরূপ বুদ্ধিতে ইমার্জ করা উচিত। ব্রহ্মা-সরস্বতী, লক্ষ্মী-নারায়ণের দুই রূপ দেখানো হয়েছে। ব্রহ্মা-সরস্বতীর প্রজাও দেখাতে হবে। প্রত্যেকটি কথা খুব ভালো ভাবে বিচার বিশ্লেষণ করা উচিত। বাবা বলেন - আমাকে স্মরণ করো। ব্রহ্মাকেও বলেন আমাকে স্মরণ করো তাহলে দেবতা হবে। অর্থাৎ ব্রহ্মা মুখ বংশী সবাইকেই বললেন আমাকে স্মরণ করো। কীভাবে স্মরণ করবে, সেই কথাও বুদ্ধিতে আছে। চিত্রও সামনে রাখা আছে। এই চিত্রের দ্বারা বোঝানো খুব সহজ। বাবার পরিচয় দিতে হবে। প্রদর্শনীতেও এই কথাটি বোঝাও। তোমাদের এই দৃঢ় নিশ্চয় আছে যে, সঠিকভাবে শিববাবা হলেন সকলের অসীমের পিতা। সেই অনুযায়ী আমাদের অসীমের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হওয়া উচিত। আমরা নিরাকারী আত্মারা হলাম ভাই-ভাই। যখন সাকারে আসবে তখন ভাই-বোন হবে, তখন পড়াশোনা করতে পারবে। ভাই-বোন হবে ব্রহ্মার সন্তানরা। স্বর্গের অধিকার বাবার কাছে প্রাপ্ত হয়। এই কথাটি বুদ্ধিতে বসাতে হবে। যাকেই বোঝাবে প্রথমে তাকে বাবার পরিচয় দাও। আমাদের হল ব্রাদারহুড, সর্বব্যাপী বললে ফাদারহুড হয়ে যায়। ফাদারহুড হলে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে কীভাবে। ফাদার-ফাদার বলে পতন হয়েছে। অধিকার কিছু প্রাপ্ত হয়নি। এখন ব্রাদারহুড নিশ্চয় করলেই স্বর্গের অধিকার প্রাপ্ত হবে। অতএব সেই বিষয়ে ভালো ভাবে বোঝালে বুদ্ধিতে যে অষ্ট দেবতাদের বাস আছে (ভক্তির), সেসব বেরিয়ে যাবে। তোমরা বলো দুই পিতা আছেন। রূহানী পিতা অর্থাৎ আত্মাদের পিতার দ্বারা সর্বের সদগতি হবে, তিনিই সুখ-শান্তির উত্তরাধিকার প্রদান করেন। সবাই সুখী হয়ে যায়। তাঁকে বলা হয় হেভেনলি গড ফাদার, স্বর্গের রচয়িতা। প্রথমে বাবার প্রভাব বুদ্ধিতে বসাতে হবে। শিববাবা হলেন আত্মাদের পিতা অসীমের পিতা। তাঁকেই পতিত-পাবন বলা হয়। তোমরা আত্মারা হলে পরমপিতা পরমাত্মার সন্তান। এই নিশ্চয়কে পাকা করো। এই মুখ্য কথাটি সর্ব প্ৰথমে বুদ্ধিতে বসাতে হবে। এই কথা বুঝলে খুশীর পারদ ঊর্ধ্বে থাকবে তবেই বলবে যে আমরা বাবাকে নিশ্চয়ই স্মরণ করবো। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আছে, আমরা বাবাকে স্মরণ করে বিশ্বের মালিক হবো। এই খুশী থাকবে অনেক। বুদ্ধিমান যদি হয় আর বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ নিশ্চয় যদি থাকে তাহলে বলবে এমন অসীমের পিতা যিনি ব্রহ্মা বাবার মধ্যে আসেন, সবচেয়ে প্রথমে তাঁর সঙ্গে দেখা করি। শিববাবা, ব্রহ্মার দ্বারাই আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। তোমরা আত্মারা তো তাঁর সঙ্গে দেখা করোনি তাহলে স্মরণ করবে কীভাবে। বাচ্চারা অ্যাডপ্ট হলে তো স্মরণ করতে পারবে। অ্যাডপ্ট না হলে স্মরণে আসবে কীভাবে। প্রথমে তাঁর আপন হও। এমন পিতার সঙ্গে তো শীঘ্রাতিশীঘ্র দেখা করা উচিত। বাবাও জিজ্ঞাসা করবেন তোমরা নিজেদেরকে আত্মা নিশ্চয় করো ? আত্মারা, আমি তোমাদের পিতা। শিববাবা তোমাদের সঙ্গে কথা বলছেন। আমি আত্মার পিতা, উনি হলেন তোমারও পিতা। উনি জিজ্ঞাসা করেন তোমাদের কি নিশ্চয় আছে যে, সব আত্মাদের পিতা হলেন একজনই। তিনিই স্বর্গের অধিকার প্রদান করবেন। পবিত্র অবশ্যই হতে হবে। কেবল তাঁকে স্মরণে রেখে অন্য সবকিছু ভুলে যেতে হবে। তোমরা আত্মারা পরমধাম ঘর থেকে অশরীরী (শরীর হীন) এসেছিলে তাইনা ! কোনও দেহ, সম্বন্ধ ছিল না। আত্মা যখন শরীরে প্রবেশ করে, বড় হলে তবে তাকে বোঝানো হয় যে, ইনি তোমার পিতা, ইনি অমুক। আত্মা তো সব সম্বন্ধ থেকে ডিটাচ বা পৃথক। আত্মা চলে গেলে বলা হয় - তুমি মরলে তোমার জন্য দুনিয়াটাও মৃত হয়ে যায়। বন্ধনহীন হয়ে যায়। যতক্ষণ না অন্য শরীর প্রাপ্ত হচ্ছে। মাতার গর্ভে গিয়ে জন্ম নিলে, বুদ্ধিমান হবে তারপরে আসে সম্বন্ধের কথা। সুতরাং এখানেও বাচ্চারা তোমাদের বোঝাতে হবে। জীবিত অবস্থায় থেকে সবকিছু ভুলে যেতে হবে। এক মাত্র বাবাকে স্মরণ করতে হবে - এই হল অব্যভিচারী স্মরণ। একেই যোগ বলা হয়। এখানে তো মানুষ অনেককে স্মরণ করে। তোমাদের হল অব্যভিচারী স্মরণ। আত্মা জানে যে এইসব শরীরের সম্বন্ধ গুলি সমাপ্ত হয়ে যাবে। আমাদের সম্বন্ধ একমাত্র বাবার সঙ্গে, বাবাকে যত স্মরণ করবে, বিকর্ম বিনাশ হবে। এমনও নয় কোনও আত্মীয় স্বজনকে স্মরণ করলে বিকর্ম সৃষ্টি হবে। না, বিকর্ম তখন সৃষ্টি হবে যখন কোনও ভুল কর্ম করবে। বাকি অন্য কাউকে স্মরণ করলে বিকর্ম হবে না ঠিকই, সময় নষ্ট অবশ্যই হবে। এক বাবাকে স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হয়। এই যুক্তি হল পাপ বিনষ্ট করার। বাকি সম্বন্ধ ইত্যাদি তো স্মরণে থাকে। জীবিকা নির্বাহ করার জন্য ব্যবসা ইত্যাদি সব করো কিন্তু যত সময় পাও বাবাকে স্মরণ করতে থাকো, তাহলে খাদ বেরিয়ে যাবে। এই হল মুখ্য কথা। অন্তরে এই চিন্তন করো যে, পতিত থেকে পবিত্র কীভাবে হবে। বাবাকে স্মরণ করতে হয়। গৃহস্থ ব্যবহারে থাকতে হবে। সন্ন্যাসীরা শরীর ত্যাগ করে গৃহস্থীদের কাছেই জন্ম নেয়। এমন তো হয় না যে , তারা জন্ম জন্মান্তরের জন্য পবিত্র হয়ে যায়। পবিত্র দুনিয়া তো এখন নেই। এ হল পতিত দুনিয়া। এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। পতিত দুনিয়ায় থাকার দরুন কিছু খামতি তো অবশ্যই আছে। যদিও দুনিয়া আছেই দুটি। পতিত দুনিয়া ও পবিত্র দুনিয়া, পবিত্র দুনিয়ায় দেবতারা ছিল তাই বোঝানো খুব সহজ হবে। এই পতিত দুনিয়ার এখন বিনাশ হবে। বিনাশের পূর্বে অসীমের পিতার কাছে উত্তরাধিকার নিতে হবে। বাবা বলেন - দেহের সম্বন্ধ ত্যাগ করে নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করো এবং বাবাকে স্মরণ করো তাহলে তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। বাবা বলেন - তোমরা আমাকে পতিত-পাবন বলো তাইনা। গঙ্গায় ডুব দেয় এমন অনেক মানুষ আছে। এমন করে কি পবিত্র হয়ে যাবে ? প্রদর্শনীতে খুব ভালোভাবে বোঝাতে হয়। প্রজাপিতা তো এখানেই চাই। নীচে এই ব্রহ্মা এবং ব্রহ্মাকুমার-কুমারী তপস্যা করছে। সুতরাং এই কথা ভালো ভাবে বোঝানো উচিত। যাকেই বোঝাবে সততার সাথে বোঝাবে। মিন মিন করলে নাম বদনাম করবে। যখন দেখবে কোথাও সংশয় আছে তখন বলবে একটু অপেক্ষা করুন আমি অন্য বোনকে ডেকে আনছি। একে অপরের চেয়ে তীক্ষ্ণ হয়ে থাকে তাইনা। প্রদর্শনী বা মেলায় পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত যে, সঠিকভাবে বোঝাচ্ছি কিনা। কেউ তর্ক বিতর্ক করে না তো ? গেটের সামনে পরিচিত কেউ থাকা উচিত। অনেক রকমের মানুষ আসে তাইনা। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিশ্চয়ই রিগার্ড দেবে। তফাৎ তো নিশ্চয়ই থাকবে। এতে এইরকম ভাবনা যেন না আসে যে এর প্রতি ভালোবাসা আছে, তার প্রতি নেই। দুই রকমের দৃষ্টি আছে, না। একে দ্বৈত দৃষ্টি বলা হয় না। তারা ভাববে এখানে বড় বড় ব্যক্তিদেরকে আপ্যায়ন করা হয়। সার্ভিসেবল আত্মার আদর যত্ন তো করতেই হবে তাইনা। কেউ বাড়ি বানিয়ে দিয়েছে তো তাদের অবশ্যই যত্ন নেওয়া হবে তাইনা। তোমাদের জন্যই তো বাড়ি ইত্যাদি বানানো হয়েছে। যে পরিশ্রম করে রাজা হয় তার সেবা যত্ন তো প্রজারা অটোমেটিক্যালি করবেই, তাইনা। কম পদ মর্যাদার চেয়ে, উঁচু পদ মর্যাদাধারীদের অবশ্যই আপ্যায়ন করা হবে। অসীম দুনিয়ার পিতার সন্তান হল সমগ্র দুনিয়ার আত্মারা। কিন্তু জন্ম নিয়েছে ভারতে। ভারতবাসী যারা প্রথমে উঁচুতে ছিল, এখন নীচে নেমে এসেছে। তাই বাবা বলেন আমি এসেছি পড়াতে। আমি ভারতে আসি তখন সকলের কল্যাণ হয়। ইনপার্টিকুলার, ইনজেনারেল তো হয়, তাইনা। এখন ভারতই হল নরক, পুনরায় স্বর্গে পরিণত হবে। অতএব ভারতেই তো যাবে তাইনা ! অন্যত্র গিয়ে কি করবে। ভারতেই ভক্তি মার্গে সর্ব প্রথমে সোমনাথের বিশাল মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল। যেমন বিশাল চার্চ বিদেশে তৈরি হবে কারণ পোপের দ্বারা পরিচালিত রাজত্ব। সব চার্চ গুলি একরকমের নয়। নম্বর অনুসারে তো হবেই তাইনা। সোমনাথের মন্দির অসংখ্য হীরে জহরতে ভরপুর ছিল, মুসলমান ইত্যাদি এসে লুট করেছে। ভারত অনেক বিত্তবান ছিল। চার্চ লুট করে কি প্রাপ্ত হবে। মানুষ তো ধনের জন্য ছুটে বেড়ায় তাইনা। মুহম্মদ গজনী কতো লুট করে নিয়ে গেছে। তারপরে ইংরেজরা এল, তারাও ধন পাঠিয়েছে এখান থেকে। অনেক ধন নিয়ে গেছে। এখন সেইসব তোমরা ফিরে পাচ্ছো, কোটি কোটি টাকা দিচ্ছে তারা। এইসব সময় অনুযায়ী প্রাপ্ত হচ্ছে। হিসেব সঠিক না হলে সময় অনুসারে চলবে কীভাবে। বাবা বোঝান এই ড্রামা কীভাবে রচনা হয়েছে। এই দেওয়া নেওয়ার হিসাব কীভাবে তৈরি হয়েছে। তবুও বাচ্চারা তোমাদেরকে এখন স্বর্গের মালিক হতে হবে। ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি জিওগ্রাফির চক্র কীভাবে আবর্তিত হয় সেসব বাচ্চাদেরকে বোঝানো হয়েছে। তাও বলেন বাচ্চারা, মন্মনাভব। এই সব পুনরায় রিপিট হবে। প্রত্যেকটি জিনিস সতো থেকে তমোপ্রধান হয়ে যাবে। দিনের বেলায় চাকরী বা ব্যবসা ইত্যাদি করো, সেই সময়টা বাদে বাকি যতখানি সময় পাবে আমাকে স্মরণ করো। ব্যবসা ইত্যাদি করাকালীনও তো কিছু সময় পাও। অনেকের এমন সার্ভিস থাকে, শুধু সিগনেচার করে, ব্যস্। অনেকেই ফ্রি থাকে। তবুও রাত তো নিজের হাতে থাকে। দিনের বেলায় শরীর নির্বাহের জন্য উপার্জন করো, রাতের বেলায় আত্মিক উপার্জন করো। এই উপার্জন হল ২১ জন্মের জন্য। বলা হয় এক সেকেন্ড, আধা সেকেন্ড - যতখানি সম্ভব বাবার স্মরণে থাকো তাহলে তোমাদের অনেক উপার্জন হবে। যে সেন্সিবল হবে সে বুঝবে যে সঠিকভাবে অনেক উপার্জন করা সম্ভব। কেউ কেউ চার্টও লেখে - আমরা এতখানি সময় স্মরণ করি। অজ্ঞান অবস্থায় বা জ্ঞানহীন অবস্থায় অনেকে নিজের দিনচর্যা লেখে। তোমরাও চার্ট লিখলে অ্যাটেনশন থাকবে। কোনো সময় নষ্ট হবে না। কোনো বিকর্ম হয়নি তো। আচ্ছা !

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) কোনও দেহধারীকে স্মরণ করে নিজের সময় নষ্ট করবে না। এমন কোনো ভুল কর্ম করবে না যাতে বিকর্ম হয় ।

২ ) জীবিত অবস্থায় সব কিছু ভুলে এক মাত্র বাবাকে স্মরণ করতে হবে। শরীর নির্বাহের জন্য কর্মও করতে হবে। তার সঙ্গে সেন্সিবল হয়ে রাত্রে এই অবিনাশী উপার্জন করতে হবে। স্মরণের চার্ট রাখতে হবে।

বরদান:-
অসীমের বৈরাগ্য বৃত্তির দ্বারা নষ্টমোহ স্মৃতি স্বরূপ হয়ে অচল-অটল ভব

যে বাচ্চারা সদা অসীমের বৈরাগ্য বৃত্তিতে থাকে তারা কখনও কোনও দৃশ্য দেখে ঘাবড়ে যায় না বা অস্থির হয়ে যায় না, সদা অচল- অনড় হয়ে থাকে । কারণ অসীমের বৈরাগ্য বৃত্তির দ্বারা নষ্টমোহ স্মৃতি স্বরূপ হয়ে যায়। একটু কিছু দেখে অংশ মাত্রও যদি অস্থিরতা অনুভব হয় বা মোহ উৎপন্ন হয় তবে অঙ্গদের মতন অটল অনড় বলা হবে না। অসীমের বৈরাগ্য বৃত্তিতে গম্ভীর ভাবের সাথে মনোমুগ্ধকর স্থিতিও সমায়িত থাকে।

স্লোগান:-
রাজ্য অধিকারী হওয়ার সাথে সাথে অসীমের বৈরাগী হয়ে থাকা, এটাই হল রাজঋষির নিদর্শন।