09.10.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


প্রশ্নঃ -
ভক্তরা ভগবানকে সর্বশক্তিমান বলে থাকে আর তোমরাও বল, কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যে কি পার্থক্য রয়েছে ?

উত্তরঃ -
ভক্তরা বলে ভগবান সবকিছু করতে পারেন, সবকিছুই তাঁর হাতের মধ্যে। তোমরা জান বাবা বলেছেন আমিও স্বয়ং এই ড্রামায় আবদ্ধ। ড্রামা সর্বশক্তিমান। বাবাকে সর্বশক্তিমান এইজন্যই বলা হয় কেননা সবাইকে সদ্গতি প্রদান করার শক্তি ওঁনার মধ্যেই রয়েছে। তিনি এসে এমনই এক রাজ্য স্থাপনা করেন যা কখনও কেউ ছিনিয়ে নিতে পারে না।

ওম্ শান্তি ।
কে বললেন ? বাবা বললেন । ওম্ শান্তি ‐ এটা কে বলেছেন ? দাদা বলেছেন। বাচ্চারা এখন তোমরা জেনেছ উচ্চ থেকে উচ্চ তাঁর মহিমা কত প্রসিদ্ধ। বলা হয় সর্বশক্তিমান তিনি কিই না করতে পারেন । ভক্তি মার্গে ভক্তরা সর্বশক্তিমান শব্দের অর্থ বৃহত্তর কিছু মনে করে। বাবা বলেন ড্রামানুসারেই সবকিছু হয়ে থাকে, আমি কিছুই করিনা। আমিও এই ড্রামার বন্ধনে আবদ্ধ। শুধুমাত্র বাবাকে স্মরণ করলে নিজেরাই সর্বশক্তিমান হয়ে ওঠো। পবিত্র হয়ে তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাও । বাবা সর্বশক্তিমান, তাই ওঁনাকে শেখাতে হয় বাচ্চারা, আমাকে স্মরণ করলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে তারপর সর্বশক্তিমান হয়ে বিশ্বে রাজত্ব করবে। শক্তি না থাকলে রাজত্ব কিভাবে করবে । শক্তি পাওয়া যায় যোগ দ্বারা সেইজন্যই ভারতের প্রাচীন যোগের এতো মাহাত্ম্য।

তোমরা বাচ্চারা নম্বরানুসারে স্মরণ করে খুশি প্রাপ্ত করে থাক।তোমরা জান আমরা আত্মারা বাবাকে স্মরণ করে, বিশ্বে রাজত্ব করব । এমন শক্তি কারো নেই যে, ছিনিয়ে নিতে পারে। উচ্চ থেকে উচ্চতর বাবার মহিমা সবাই করে কিন্তু না বুঝে । একজন মানুষও নেই যে জানে এটা একটা নাটক । যদি জানতো এটা একটা নাটক তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্মরণে থাকা উচিত ছিল। নয়তো নাটক বলাই ভুল হয়ে যায়। বলাও হয়ে থাকে এ হলো সৃষ্টি রঙ্গমঞ্চের নাটক, আর আমরা ভূমিকা পালন করে আসছি । সুতরাং এই নাটকের আদি-মধ্য-অন্তকে তো জানা উচিত, তাইনা। এটাও বলা হয় আমরা উপর থেকে আসি তবেই তো জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে না! সত্যযুগে অল্প সংখ্যক মানুষ ছিল, এতো আত্মা কোথা থেকে এসেছে, এ বিষয়ে কারো জানা নেই যে এ হলো অনাদি অবিনাশী পূর্ব নির্ধারিত ড্রামা। যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রিপিট হতেই থাকে। তোমরা বায়োস্কোপ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখ, আবারও যদি দ্বিতীয়বার দেখ তাহলেও প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। ন্যুনতম পার্থক্য হবে না।

বাবা মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চাদের বসে কতভাবে বোঝান। বাচ্চারাও বলে কত মিষ্টি বাবা । বাবা তুমি কত মিষ্টি । বাবা, এখন তো আমরা তোমার সাথে আমাদের সুখধামে যেতে চলেছি। *এখন তো জেনেছি আত্মা পবিত্র হলে ওখানে দুধ-ও পবিত্র পাব । শ্রেষ্ঠাচারী মায়েরা কত মিষ্টি হয়, সময় মতো বাচ্চাকে নিজেই দুধ পান করিয়ে থাকেন। বাচ্চার কান্নাকাটি করার কোনও প্রয়োজনই পড়ে না। এসব বিষয়েও মনন করা উচিত।* অমৃতবেলায় বাবার সাথে বাক্যালাপ করলে কত আনন্দ হয়। বাবা তুমি কত সুন্দর যুক্তি দিয়ে বোঝাও শ্রেষ্ঠাচারী রাজ্য স্থাপন করার কথা, আমরা শ্রেষ্ঠাচারী মায়ের কোলে যাব । অনেকবার আমরা ঐ নতুন সৃষ্টিতে গেছি। আমাদের খুশির দিন আবারও আসছে। খুশি-ই পুষ্টি প্রদান করে, যার জন্য গায়ন আছে তোমরা যদি অতীন্দ্রিয় সুখ সম্পর্কে জানতে চাও তবে গোপ এবং গোপীদের জিজ্ঞাসা কর। এখন তোমরা অনন্ত জগতের বাবাকে পেয়েছ । বাবাই আমাদের স্বর্গের শ্রেষ্ঠাচারী মালিক করে তোলেন। কল্পে-কল্পে আমরা নিজেদের রাজ্য ভাগ্য গ্রহণ করে থাকি। আমরা পরাজয়ের অভিজ্ঞতা লাভ করি এবং তারপর জয় প্রাপ্ত করি। এখন বাবাকে স্মরণ করলেই রাবণের উপর জয়লাভ করে আমরা পবিত্র হতে পারব। সত্যযুগে লড়াই, দুঃখ ইত্যাদির কোনও চিহ্নমাত্র নেই, কোনও খরচ নেই। ভক্তি মার্গে জন্ম-জন্মান্তর ধরে কত খরচ করেছি । এখন অর্ধ কল্প আর আমাদের গুরুর প্রয়োজন নেই। এবার আমরা শান্তিধাম , সুখধামে যাব । বাবা বলেন তোমরা সুখধামের পথিক । এখন দুঃখ ধাম থেকে সুখধামে যেতে হবে। বাঃ আমাদের বাবা, কেমন আমাদের ঈশ্বরীয় পঠন-পাঠন করাচ্ছেন। আমাদের স্মৃতি স্মারক-ও এখানেই রয়েছে। কত চমকপ্রদ বিষয়। দিলওয়ারা মন্দিরের কত অপার মহিমা। আমরা এখন রাজযোগ শিখছি । তার স্মৃতি চিহ্ন তো অবশ্যই তৈরি হবে তাইনা। এই মন্দির হুবহু আমাদের স্মৃতি স্মারক । বাবা, মাম্মা এবং আরও অনেক বাচ্চারা বসে আছে। নিচে বসে যোগ শিখছেন, উপরে স্বর্গের রাজত্ব।

কল্প বৃক্ষ কত পরিষ্কারভাবে দেখানো হয়েছে। বাবা কিভাবে সাক্ষাত্কার করিয়েছেন তার চিত্র-ও তৈরি করা হয়েছে। বাবাই সাক্ষাত্কার করিয়েছেন তারপর সংশোধন-ও করিয়ে দিয়েছেন, কত চমকপ্রদ নতুন নলেজ। এই নলেজ সম্পর্কে কেউ-ই জানে না। বাবাই বসে বোঝান মানুষ কতখানি তমোপ্রধান হয়ে গেছে । জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েই চলেছে । ভক্তিও বৃদ্ধি পেতে পেতে তমোপ্রধান হয়ে গেছে। তোমরা এখন সতোপ্রধান হওয়ার পুরুষার্থ করছ। গীতাতেও "মন্মনাভব" শব্দটি আছে। শুধু এটাই জানে না যে ভগবান কে । বাচ্চারা তোমাদের এখন অমৃতবেলায় উঠে বিচার সাগর মন্থন করতে হবে ,কিভাবে মানুষের কাছে ভগবানের পরিচয় দেব । ভক্তি মার্গেও মানুষ ভোরবেলায় উঠে ঘরে বসেই ভক্তি করে । সেটাও বিচার সাগর মন্থন করা হলো তাইনা। এখন তোমরা জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র পেয়েছ। বাবা তৃতীয় নেত্রর কথা শুনিয়ে থাকেন। একেই পরে তিজরীর কথা ( তৃতীয় নেত্র প্রাপ্তকারী) বলা হয়েছে। তিজরীর কথা, অমরত্বের কথা, সত্যনারায়ণের কথা সবারই জানা। এসব কথা একমাত্র বাবাই এসে শোনান যা পরবর্তীতে ভক্তি মার্গে শোনানো হয়। জ্ঞান দ্বারা তোমরা নির্বিকারী হয়ে ওঠো, সেইজন্যই দেবতাদের পদ্মপতি বলা হয়। দেবতারা অগাধ ধনবান ও কোটিপতি হয়ে থাকে। কলিযুগে দেখ আর সত্যযুগেও দেখ - রাতদিনের পার্থক্য। সম্পূর্ণ দুনিয়া পরিষ্কার হতে তো সময় লাগে না! এ হলো অনন্ত দুনিয়া। ভারত তার অবিনাশী খন্ড । কখনোই সম্পূর্ণ লুপ্ত হয়ে যায় না। অর্ধকল্প একটাই খন্ড থাকে। তারপর নম্বরানুসারে অন্যান্য খন্ডের উত্থান হয়। বাচ্চারা তোমরা কত জ্ঞান প্রাপ্ত করে থাক। সবাইকে বল -ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি-জিওগ্রাফীর পুনরাবৃত্তি কিভাবে হয় -এসে শোন। প্রাচীন ঋষি, মুনিদের কত সম্মান, কিন্তু তারাও সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তকে জানে না। ওরা হলো হঠযোগী । কিন্তু ওদের মধ্যে পবিত্রতা আছে যার মাধ্যমে ভারতকে ধরে রাখে । নয়তো ভারতের যে কি হতো কে জানে! যখন কোনও বিল্ডিং রঙ করা হয় তখন তার শোভা বৃদ্ধি পায় । ভারতও পবিত্র ছিল, এখন পতিত হয়ে গেছে। ওখানে তোমাদের সুখ দীর্ঘ সময় ধরে চলে । তোমাদের কাছে অগাধ ধন সম্পত্তি থাকে। তোমরা ভারতেই ছিলে, তোমাদের রাজত্ব ছিল, যেন গতকালের ঘটনা। পরবর্তী কালে অন্যান্য ধর্ম এসেছে। সেই ধর্মাবলম্বীরা কিছু সংস্কার এনে প্রসিদ্ধ হয়েছে। তারাও এখন সবাই তমোপ্রধান হয়ে গেছে। বাচ্চারা, তোমাদের কত খুশি হওয়া উচিত। এসব বিষয়ে নতুন যারা আসে তাদের শেখানো উচিত নয়। প্রথমে বাবার পরিচয় দিতে হবে। জিজ্ঞাসা করতে হবে, বাবার নাম, রূপ, দেশ, কাল সম্পর্কে জান? উচ্চ থেকে উচ্চ বাবার ভূমিকা তো শ্রেষ্ঠতম হবে, তাইনা। এখন তোমরা জান বাবাই আমাদের ডায়রেকশন দিচ্ছেন। তোমরা পুনরায় নিজেদের রাজধানী স্থাপন করতে চলেছ। বাচ্চারা তোমরা আমার সহযোগী। তোমরা পবিত্র হয়ে উঠছ। তোমাদের জন্য পবিত্র দুনিয়া অবশ্যই স্থাপন হবে। তোমরা এটা লিখতে পার যে, পুরানো দুনিয়া পরিবর্তন হতে চলেছে। তারপর এখানে সূর্য বংশী-চন্দ্র বংশীয় রাজত্ব হবে। তারপর আবার রাবণ রাজ্য শুরু হবে। চিত্র দেখিয়ে বোঝাতে মিষ্টি লাগে, এর মধ্যে তিথি-তারিখ সব লেখা আছে। ভারতের প্রাচীন রাজযোগ অর্থাত্ স্মরণ। স্মরণে বিকর্ম বিনাশ হয় আর ঈশ্বরীয় পঠন-পাঠনে রাজ্য প্রাপ্ত হয়। দৈবীগুণ ধারণ করতে হবে। তবে হ্যাঁ, প্রবল রূপে মায়ার তুফান আসবে। অমৃতবেলায় উঠে বাবার সাথে বাক্যালাপ অতি মধুর। ভক্তি আর জ্ঞান দুইয়ের জন্যই এই সময় খুব ভালো। মিষ্টি-মিষ্টি কথা বলা উচিত।

এখন আমরা শ্রেষ্ঠাচারী জগতে যেতে চলেছি । বাবা কতভাবে ঈশ্বরীয় নেশা বৃদ্ধি করিয়ে থাকেন। এমন-এমন সব বিষয়ে কথা বললেও তোমাদের উপার্জন হবে। শিববাবা তোমাদের নরকবাসী থেকে স্বর্গবাসী করে তুলছেন । প্রথমেই আমরা এসে অলরাউন্ড ভূমিকা পালন করে থাকি । এখন বাবা বলছেন এই ছিঃ ছিঃ পোশাক ত্যাগ কর । দেহ সহ সম্পূর্ণ দুনিয়াকে ভুলে যাও। এটাই হলো অনন্ত সন্ন্যাস । ওখানে তোমরা বৃদ্ধ হলে সাক্ষাত্কার হবে যে এবার শরীর ত্যাগ করে আবার বাচ্চা হব । খুশি অনুভব হয় । শৈশব সবচেয়ে সুন্দর সময় । এমন সব বিষয়ে অমৃতবেলায় উঠে বিচার সাগর মন্থন করতে হবে। পয়েন্টস বের করে মনন করলে ঘন্টা-দেড় ঘন্টা কেটেই যায়। যত অভ্যাস বাড়বে ততই খুশির অনুভব বৃদ্ধি পাবে। খুব মজা লাগবে। ঘুরতে-ফিরতেও স্মরণ করতে হবে। অবসর অনেক ,তবে বিঘ্ন যে আসবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কাজকর্মে মানুষের ঘুম আসেনা। আলসে মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে। তোমরা যতটা পার শিববাবাকে স্মরণ কর। তোমাদের বুদ্ধিতে আছে শিববাবার জন্য আমরা ভোজন তৈরি করি। ভোজন অতি শুদ্ধতার সাথে বানানো উচিত। এমন কিছু যেন না হয় যাতে খিটমিট লেগে যায়। বাবা স্বয়ং-ও স্মরণ করে থাকেন । আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) অমৃতবেলায় উঠে বাবার সাথে মধুর বাক্যালাপ করতে হবে। প্রতিদিন খুশির অতীন্দ্রিয় সুখ অনুভব করতে হবে।

২ ) সত্যযুগের রাজধানী স্থাপন করার কাজে বাবার সম্পূর্ণ সহযোগী হওয়ার জন্য পবিত্র হতে হবে। স্মরণ দ্বারা বিকর্ম বিনাশ করতে হবে, শুদ্ধতার সাথে ভোজন বানাতে হবে।

বরদান:-
স্ব-স্থিতি দ্বারা পরিস্থিতির উপর বিজয় প্রাপ্তকারী সঙ্গমযুগী বিজয়ী রত্ন ভব

পরিস্থিতির উপর বিজয় প্রাপ্ত করার সাধন হলো স্ব-স্থিতি। এই দেহও পর, স্ব- এর নয় (নিজের নয়)। স্ব -স্থিতি বা স্বধর্ম সদা সুখের অনুভব করিয়ে থাকে আর প্রকৃতি-ধর্ম অর্থাত্ পর ধর্ম বা দেহের স্মৃতি কোনও না কোনও ভাবে দুঃখের অনুভব করিয়ে থাকে। সুতরাং যে স্ব-স্থিতিতে থাকে সে সবসময়ই সুখ অনুভব করে থাকে, তার কাছে দুঃখের লহর (ঢেউ) আসতেই পারে না। সে সঙ্গম যুগের বিজয়ী রত্ন হয়ে যায়।

স্লোগান:-
পরিবর্তন শক্তি দ্বারা ব্যর্থ সংকল্পের ঢেউয়ের গতিকে সমাপ্ত কর।
 


*মাতেশ্বরীজীর অমূল্য মহাবাক্য*

*"এই অবিনাশী ঈশ্বরীয় জ্ঞান প্রাপ্ত করার জন্য কোনো ভাষা শেখার প্রয়োজন পড়ে না"*

আমাদের যে ঈশ্বরীয় জ্ঞান, সেটা অতি সহজ আর মিষ্টি মধুর । এর দ্বারা জন্ম-জন্মান্তরের জন্য উপার্জন সঞ্চিত হয়। এই জ্ঞান এতোটাই সহজ, যে কোনো মহান আত্মা, বা অহল্যার মতো পাথর বুদ্ধি সম্পন্ন, যে কোনো ধর্মের বালক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ যে কেউ-ই এই জ্ঞান প্রাপ্ত করতে পারে। দেখো, এতো সহজ বিষয়কেও দুনিয়ার মানুষ কঠিন বলে মনে করে। কেউ-কেউ ভাবে অনেক বেদ, শাস্ত্র, উপনিষদ পড়ে বিদ্বান হবে, কিন্তু তার জন্যও ভাষা শিখতে হয়। অনেক হঠযোগ করলে তবেই তা প্রাপ্ত হবে। আর এখানে তো নিজের অনুভব দ্বারাই উপলব্ধি হয়েছে যে এই জ্ঞান অতিব সহজ আর সরল কেননা স্বয়ং পরমাত্মা পড়াচ্ছেন, এর মধ্যে না কোনও হঠক্রিয়া আছে, না জপ-তপ আছে, না শাস্ত্রবাদী পন্ডিত হতে হবে, আ না এরজন্য সংস্কৃত ভাষা শেখার প্রয়োজন পড়বে। এ তো অতি সহজ স্বাভাবিক, শুধুমাত্র আত্মার সাথে পরমপিতা পরমাত্মার যোগযুক্ত হওয়া। কেউ যদি এই জ্ঞানকে ধারণ না করে শুধুমাত্র যোগ করে, তাহলেও অনেক লাভবান হতে পারবে। এর দ্বারা প্রথমতঃ পবিত্র হওয়া যায়, দ্বিতীয়তঃ কর্মবন্ধন ভস্মীভূত হয়ে কর্মাতীত অবস্থা প্রাপ্ত হয়, এতোটাই শক্তি এই সর্বশক্তিমান পরমাত্মার স্মরণ। যদিও সাকার ব্রহ্মা শরীর দ্বারা আমাদের যোগ শেখাচ্ছেন, কিন্তু স্মরণ ডাইরেক্ট ঐ জ্যোতি স্বরূপ শিব পরমাত্মাকেই করতে হবে, ঐ স্মরণ দ্বারাই কর্ম বন্ধনের ময়লা দূর হবে। আচ্ছা!