09.11.2019 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদের এই স্মরণে যোগযুক্ত হওয়াটা খুবই ওয়ান্ডারফুল। যেহেতু একজনই বাবা, টিচার আর সদগুরু তাই এই তিন সম্পর্ক একসাথেই স্মরণ করা হয়ে যায়"

প্রশ্নঃ -
কোনও বাচ্চাকে মায়া যখন অহংকারী বানিয়ে দেয়, তখন কিসের প্রতি ডোন্ট কেয়ার করা করা উচিত ?

উত্তরঃ -
অহংকারী বাচ্চারা যখন দেহ-অভিমান এসে মুরলীর প্রতি ডোন্ট কেয়ার ভাব করে- অর্থাৎ ইঁদুর যেমন এক টুকরো হলুদ পেয়ে নিজেকে খুব বড় মুদী-ব্যবসায়ী মনে করে, ব্যাপারটা তেমনই ....! অনেক বি.কে. এমনও আছে, যারা নিয়ম করে রোজ মুরলী তো পড়েই না, উপরন্তু বলে যে, আমার তো ডাইরেক্ট শিববাবার সাথেই যোগাযোগ আছে। তাদের উদ্দেশ্যেই বাবা বলেন- বাচ্চারা, মুরলীতেই তো রোজই নতুন নতুন পয়েন্ট পাও তোমরা, তাই মুরলী যেন একদিনও বাদ না যায়, অর্থাৎ এই বিষয়ে খুবই অ্যাটেনশন রাখতে হবে তোমাদের।

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি আধ্যাত্মিক বাবার প্রশ্ন- বাচ্চারা, এখানে তোমরা কার স্মরণে যোগযুক্ত হয়ে বসে আছো ? (বাবা, টিচার আর সদগুরু) তোমরা সবাই কি একত্রে এই তিনের স্মরণেই যোগযুক্ত হয়ে বসে আছো ? তোমরা প্রত্যকে নিজেরাই নিজেদের কাছে জানতে চাও, যখন এখানে বসে যোগ করো কেবলমাত্র সেই সময়েই যোগযুক্ত হও, নাকি চলতে-ফিরতে, উঠতে-বসতেও বাবাকে স্মরণ করতে থাকো ? সত্যি, এটা একটা ওয়ান্ডারফুল ব্যাপার। যা আর কোনও আত্মার ক্ষেত্রেই এমনটি কখনই হয় না। যদিও সে সমগ্র বিশ্বের মালিক লক্ষ্মী-নারয়ণের মতন আত্মা হয় তবুও। এমন কি সেই আত্মাকে এমনটাও বলা যাবে না যে, এই একজনই একত্রিত অর্থাৎ বাবা, টিচার এবং সদগুরু। সমগ্র দুনিয়ার কোনও জীব-আত্মার ক্ষেত্রেও তা বলা যাবে না। একমাত্র সেই সুপ্রিম ফাদারের ক্ষেত্রেই তা হয় - যাকে বি.কে.-রা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। বি.কে.-দের অন্তরে সেই বাবাই বিরাজ করেন - বাবা রূপে, টিচারের রূপে আবার সদগুরুর রূপেও। উনিই সেই সুপ্রিম পরমাত্মা। আচ্ছা বাচ্চারা, তোমরা কি কোনও একটি সম্বন্ধেই স্মরণ করো নাকি তিনটি সম্বন্ধেই ? যদিও এই তিনটি সম্বন্ধ একই জনের, অথচ এঁনার কর্ম-কর্তব্য কিন্তু তিন প্রকারের ও তিন গুণে গুণান্বিত। তাই সেই ভাবেই স্মরণ করতে হবে তোমাদের। একমাত্র এই শিববাবাই তোমাদের প্রকৃত বাবা, প্রকৃত টিচার এবং প্রকৃত সদগুরুও বটে। তাই ওনাকে 'এক্সট্রা অডিনারী' বলা হয়। চলতে-ফিরতে, উঠতে-বসতে, যাবতীয় কাজকর্মের মধ্যেও ওঁনাকে স্মরণ করতে হবে। তাই তো বাবাও তা জানতে চাইছেন- তোমরা যখন বাবাকে স্মরণ করো, তখন কি সেই একান্ত আপন ভাবধারায় স্মরণ করো ? আমার বাবা, আমার টিচার, আমার সদগুরু এই ভাবধারায় ? কারণ কোনও দেহধারী তো আর এমনটা হয় না। দেহধারীদের মধ্যে নম্বর ওয়ান হলো কৃষ্ণ। ওনাকে কিন্তু বাবা, টিচার ও সদগুরু একত্রে এই তিন সম্বন্ধে বলা যায় না। এটাই হলো সবচেয়ে ওয়ান্ডারফুল বিষয়। অতএব শিববাবাকে অবশ্যই যথার্থ সত্য উত্তর দেওয়া উচিত- ওনাকে স্মরণের সময় তোমরা কি এই তিনরূপকেই স্মরণ করো ? আচ্ছা, ভোজন কালে তোমরা কি কেবলমাত্র শিববাবাকেই স্মরণ করো, নাকি মন-বুদ্ধিতে তিন সম্বন্ধই স্মরণে আসে তোমাদের ? এক ও একমাত্র পরমাত্মা ছাড়া কোনও আত্মার বিষয়েই এমনটা বলা চলে না। এটাই খুব ওয়ান্ডারফুল বিষয়। সত্যি, কি বিচিত্র মহিমা বাবার ! বাবাকেও ঠিক তেমন ভাবধারায় স্মরণ করতে হবে। তবেই খুব আশ্চর্যজনক ভাবে মন ও বুদ্ধি শুধুমাত্র বাবার দিকেই ধাবিত হতে থাকবে।

বাবা স্বয়ং ওঁনার নিজের পরিচয় জানিয়ে তারপর সমগ্র কল্পের সৃষ্টি-চক্রের এই বিশেষ জ্ঞান শোনান তোমাদেরকে। যুগ কতগুলি, কোন যুগের আয়ুষ্কাল কত এবং কিভাবেই বা সেই অবিনাশী চিত্রপট ক্রমান্বয়ে ঘুরেই চলেছে অবিনাশী নিয়ম অনুসারে। এইসব জ্ঞান স্বয়ং বাবা শোনাচ্ছেন, যিনি নিজেই এসবের রচয়িতা৷ তাই তো ওনাকে স্মরণ করলে, উনিও তোমার সর্ব প্রকারের সহায়তায় এগিয়ে আসবেন। বি.কে.-দের তো আরও সুবিধা, তোমরা এই এক বাবাকেই- বাবা, টিচার আর সদগুরু এই তিন রূপে একসাথেই পাচ্ছো। কোনও আত্মাই যে এমন উচ্চতমেরও উচ্চে অর্থাৎ সর্ব্বোচ্চের হয় না। তবুও মায়া এমনই যে, বাবাকে স্মরণ করার কথাই যে ভুলিয়ে দেয়। ফলে টিচার আর সদগুরুকেও তখন ভুলে যাও তোমরা। তোমাদের প্রত্যেকেরই নিজ নিজ মনে বাবাকে একান্ত আপন করে নিয়ে হৃদয় সিংহাসনে বসিয়ে রাখতে হবে। তবেই তো বাবা তোমাদেরকে বিশ্বের মালিক করে গড়ে তুলবেন। তোমাদের এই বাবা যেমন অসীম জগতের একমাত্র বাবা, তেমনি তোমরাও সেই অসীম জগতের অবিনাশী উত্তরাধিকারের অধিকারী বাচ্চা। এত মহিমান্বিত যে বাবা, তাকে তো চলতে-ফিরতে, উঠতে-বসতে, যাবতীয় কর্ম-কর্তব্য করার সাথে সাথে অবশ্যই স্মরণে রাখতে হবে- এই কথা যেন সদা মন-বুদ্ধিতে সজাগ থাকে। পরমাত্মার একত্রিত এই তিন রূপের কর্ম-কর্তব্য যেমন একই সাথে চলতে থাকে, তাই তো ওনাকে সুপ্রিম বলা হয়।

বিশ্বে শান্তির লক্ষ্যে কত প্রকারের কনফারেন্স ইত্যাদি করে লোকেরা। কিন্তু প্রকৃত অর্থে শান্তি কি -তা প্রমাণিত হচ্ছে ব্রহ্মাকুমারীসের দ্বারা। তাদেরকে বলো, এখানে এলেই তা বুঝতে পারবে, বাস্তবে কারা তা করছে। এখানে এলে তাদেরকে বাবার গুণ ও কর্ম-কর্তব্যের বিষয়গুলি যুক্তিযুক্ত ভাবে বোঝাতে হবে। শিববাবার কর্ম-কর্তব্য আর শ্রীকৃষ্ণের কর্ম-কর্তব্যের মধ্যে যে বিশাল পার্থক্য আছে সেটাও বোঝাতে হবে। সব আত্মাদেরই শরীরের নাম থাকে, কেবলমাত্র শিববাবার ক্ষেত্রেই ওনার আত্মার (পরম+আত্মা) পরমাত্মার মহিমা করা হয়। একমাত্র এই পরম-আত্মাই একাধারে যেমন বাবা, তেমনি টিচার এবং সদগুরুও বটে। উনিই আত্মাদের মধ্যে প্রকৃত জ্ঞানের প্রকাশ ঘটান - কিন্তু তা কিভাবে ? আর জ্ঞান প্রদান করবেন তো কোনও শরীরের দ্বারাই। এই বিশেষ জ্ঞানের প্রদান - এমন মহান কর্ম-কর্তব্য করেন বলেই ওনার এত মহিমা ও গুণ কীর্তন করা হয়। তোমরা বি.কে.-রাও শিব-জয়ন্তীর বিষয়ে তেমনই অনেক কনফারেন্স করে থাকো। সেখানে সকল ধর্মের লোকেদেরকেই ডাকবে তোমরা। তোমাদের মূল বোঝাবার বিষয় হলো ঈশ্বর সর্বব্যাপী নন। ঈশ্বর যদি সবার মধ্যে সর্বব্যাপীই হতেন, তবে তো প্রত্যেক আত্মাই বাবার মতন ভগবান হতেন এবং সে নিজেই তার বাবা, টিচার ও সদগুরুও হতো আর সৃষ্টি-চক্রের আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞানেও জ্ঞানী হতো। কিন্তু তা তো কেউ শোনাতেই পারে না।

বাচ্চারা, তোমাদের মনে খুশীর জোয়ার বইতে থাকা উচিত - উচ্চতমেরও উচ্চ যিনি, তিনিই তোমাদের প্রকৃত বাবা, যার এত মহিমা। যিনি সমগ্র বিশ্বকেই পবিত্র করে তোলেন। এমন কি প্রকৃতিও পবিত্র হয়ে ওঠে। কনফারেন্সের শুরুতে সর্বাগ্রে তোমরা জানতে চাইবে, গীতার প্রকৃত ভগবান কে ? সত্যযুগী দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনাকারী কে বা কারা ? তারা যদি তখন কৃষ্ণের নাম উল্লেখ করে, তবে তো বাবার নামটাই গুম হয়ে যায়। কিম্বা যদি বলে যে, তার তো কোনও নাম বা রূপই নেই, অর্থাৎ এসব কিছুই নেই তার, তবে তো সে বাবা বিহীন অনাথ হয়েই গেলো। আসলে অসীমের এই বাবাকে সঠিকভাবে কেউই জানে না। তাই তো একে অপরের প্রতি এত কাম-বিকারের বশে এসে কতই না অত্যাচার করতে থাকে। একে অপরকে কতই না দুঃখ-কষ্ট দেয়। এইসব বিষয়গুলো তোমাদের মন-বুদ্ধিতে মনন-চিন্তন-মন্থন চলতে থাকা উচিত। একের সাথে অপরের তুলনা করে বুঝিয়ে দেওয়া উচিত। লক্ষ্মী-নারায়ণকেই ভগবান-ভগবতী বলা হয়। বংশানুক্রমে তাদেরই পরম্পরা চলে। অর্থাৎ তারাও সব গড-গডেজ৷ তাই তো তোমরা সব ধর্মেরই লোকেদের আহ্বান করো কনফারেন্সগুলিতে। যারা খুব সুন্দর ভাবে পঠন-পাঠন করে, একমাত্র তারাই সঠিকভাবে বাবার পরিচয় দিতে পারে। বোঝাবার সময় তাদেরকেই ডাকবে তোমরা। তোমরা এমনও লিখে জানাতে পারো, যে, যে কেউ এসে রচয়িতা আর তার রচনার আদি-মধ্য-অন্তের পরিচয় দিতে পারবে, তার আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়া ইত্যাদি সবকিছুরই বন্দোবস্ত করা হবে - যদি সে সঠিকভাবে রচয়িতা ও তার রচনাকে ব্যক্ত করতে পারে। যদিও তোমরা তা জানো, এই বিশেষ জ্ঞান আর কারও পক্ষেই দেওয়া সম্ভব নয়। যদিও সে বিলেত থেকেই আসুক না কেন, কিন্তু রচয়িতা আর তার রচনার আদি-মধ্য-অন্তের পরিচয় দিতে পারলে তার সমস্ত খরচের ভার বহন করবে এই সংস্থা। এমন বিজ্ঞাপন আর কেউই দিতে পারবে না। তোমরা বি.কে.-রা হলে প্রকৃত বাহাদুর। তোমরাই আবার মহাবীর-মহাবীরঙ্গনা! একমাত্র তোমরাই তা জানো- এই লক্ষ্মী-নারায়ণ কিভাবে এমন বাদশাহী পেয়েছিলো, কি ছিল তাদের সেই বাহাদুরি। মন-বুদ্ধিতে এসব কথার মনন-চিন্তন চলতে থাকা উচিত। তোমাদের মনে রাখতে হবে, কত উন্নত কার্য-কলাপ করছো তোমরা। সমগ্র বিশ্বকে পতিত থেকে পবিত্র বানাচ্ছো তোমরা বি.কে.-রা। মনোযোগের সাথে বাবাকে আর অবিনাশী উত্তরাধিকারকে স্মরণ করতে হবে। কেবলমাত্র শিববাবাকে স্মরণ করালেই চলবে না, সাথে সাথে ওনার মহিমার বর্ণনাও করতে হবে। এমন মহিমা একমাত্র নিরাকারেরই হতে পারে। কিন্তু যিনি নিজেই নিরাকার তিনি নিজের পরিচয় জানাবেন কিভাবে ? রচনার আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান প্রদানের জন্য তো মুখেরও প্রয়োজন আছে। আর সেই মুখের আবার কত মহিমাও হয়। স্থূল জগতে মানুষ সেই 'গোমুখে' যায় তীর্থযাত্রা করতে। সেখানে যেতে তাদের কতই না ধাক্কা খেতে হয়। সেই গোমুখ নিয়ে কতই না আজগুবি সব গল্পও বানানো হয়েছে। যেমন- তীর মারার পর সেখান থেকে যে গঙ্গার প্রবাহ শুরু হয়, সেই গঙ্গাকেই আবার পতিত-পাবনী বলা হয়। কিন্তু জল কি কখনও পতিতকে পবিত্র বানাতে পারে ? - মোটেই না। পতিত-পাবন তো একমাত্র নিরাকার শিববাবা। এইভাবে বাবা বি.কে.-দেরকে কত কিছুই শেখাতে থাকে। বাবা তোমাদেরকে বুঝিয়ে বলেন- বাচ্চারা, তোমরা এভাবে করো এটা, ওটা ওভাবে করো .....!

এমন কেউই নেই যে সে এসে রচয়িতা বাবা এবং ওঁনার রচনার পরিচয় দেবে। সাধু-সন্ন্যাসী, ঋষি-মুনিরাও এসবের কিছুই জানে না, তারা কেবল নেতী-নেতী (এটা নয়, এটা নয়, অন্য কোনোটা) করে অবশেষে জানায়, তারাও সঠিক জানে না। তবে তো তারা নাস্তিকই হলো। অপেক্ষা কর, তাদের মধ্যে কেউ আস্তিক বেরোয় কি না। তোমরা বি.কে.-রাই সেই নাস্তিক থেকে আস্তিক হয়েছো। একমাত্র তোমরাই অসীমের বাবাকে জেনেছো, তাই তো বাবা তোমাদেরকে কত উন্নত করে গড়ে তুলছেন। লোকেরা কিন্তু এই বাবার উদ্দেশ্যেই বলতে থাকে-"ও গড্-ফাদার, তুমি এসো। এসে আমাদেরকে মুক্ত করো।" তাই বাবা বোঝাচ্ছেন- বর্তমান সময়কালটা সমগ্র বিশ্বেই চলছে রাবণের রাজত্ব। সবাই এখন ভ্রষ্টাচারী, এরাই আবার আগামীতে হবে শ্রেষ্ঠাচরী। বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে কিন্তু একথা বসে গেছে। যেহেতু তোমরা জানো যে, কল্পের শুরুতে যে নতুন দুনিয়ায় সৃষ্টি হয়, তা থাকে পবিত্র। বাবা তো আর অপবিত্র দুনিয়ার রচনা করবেন না। তাই তো বাবা আসেন পবিত্র দুনিয়া স্থাপনের উদ্দেশ্যে। যাকে বলা হয় শিবালয়। বাবা স্বয়ং যেখানে শিব, তিনি তো শিবালয়-ই তৈরি করবেন। কিভাবে সেই শিবালয় তৈরি হয়, তোমরা বি.কে.-রাই তা জানো। এর জন্য মহাপ্রলয়, জলমগ্ন, ইত্যাদি হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। অথচ শাস্ত্রে তো কত কিছুই লেখা আছে। শাস্ত্রে আছে যে, অবশেষে পঞ্চপাণ্ডব জীবিত থাকার পর তারা হিমালয় পাহাড়ে চড়তে চড়তেই বরফের মাঝে তাদের সলিল সমাধি হলো। এর পরের কোনও ঘটনা আর জানা যায় না। বাচ্চাদের সামনে বসে এগুলির প্রকৃত মর্মার্থগুলিকে যুক্তি সহকারে বোঝাতে থাকেন বাবা। আবার একথাও বলেন- তোমরা বি.কে.-রাই জানো যে, এই বাবা প্রকৃত অর্থে যেমন তোমাদের বাবা, তেমনি টিচার এবং সদগুরুও বটে। সত্যযুগের স্বর্গরাজ্যে কোনও মন্দির থাকে না। সেখানে কেবল দেবী-দেবতাই থাকেন। যাদের স্মরণে পরে এই সময়কালে মন্দির স্থাপন করা হয়। আর এসবই ঘটে থাকে অবিনাশী নাটকের চিত্রপট অনুসারে, যা পূর্ব নির্দ্দিষ্ট ও পূর্ব রচিত। প্রতিনিয়তই কল্পের চক্র ঘুরতে থাকে এবং সেকেন্ড বাই সেকেন্ড নতুন নতুন ঘটনা ঘটতেই থাকে। এদিকে বাবাও বাচ্চাদেরকে খুব সুন্দর সুন্দর ডাইরেকশানও দিতে থাকেন। এমন অনেক দেহ-অভিমানী বাচ্চা আছে, যারা নিজেরাই ভেবে নেয়, সবকিছুই জেনে গেছে তারা। ফলে মুরলীও আর পড়ে না তারা। মুরলীর কোনো কদরও করে না। তবুও বাবা তাদের প্রতি আর্জি জানান, অনেক সময় খুব সুন্দর সুন্দর মুরলীও তো চলে, অতএব মুরলী যেন একদিনও বাদ না যায়। যে ১০-১৫-দিনের মুরলী তাদের বাদ পড়েছে, সময় সুযোগে তা যেন পড়ে নেয় তারা। বাবা এবার বাচ্চাদের বলছেন- তোমরা, অন্যদেরকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারো- রচয়িতা ও তার রচনার আদি-মধ্য-অন্তের এই জ্ঞান কেউ এসে জানাতে পারলে তার যাবতীয় খরচা ইত্যাদি যা কিছু সব এই সংস্থাই দেবে৷ এমন ভয়ানক চ্যালেঞ্জ একমাত্র সে দিতে পারবে, যে কি না এসবের বিষয়ে সম্যক জানবে। টিচার নিজে উত্তর জানলে তবেই তো স্টুডেন্টকে সে বিষয়ে প্রশ্ন করবে। যে বিষয়ে জানবে না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করবেই বা কি প্রকারে ?

এমন অনেকে আছে, যারা মুরলীকে ডোন্ট কেয়ার করে। তারা ভাবে তাদের তো ডাইরেক্ট শিববাবার সাথেই কানেকশন আছে। কিন্তু শিববাবা যা শোনাচ্ছেন তা তো শুনতে হবে। কেবলমাত্র ওঁনাকে স্মরণ করলেই তো চলবে না। মুরলীর মাধ্যমেই তো তা শোনা যায়। বাবা কত মিষ্টি মধুর সুরে বলেন- "আমার মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা..... !" এত সত্ত্বেও মায়া তোমাদেরকে একেবারেই মিথ্যা অহংকারী করে দেয়। যেমন প্রবাদ বাক্য আছে যে, নেংটি ইঁদুর এক টুকরা হলুদ পেয়েই নিজেকে বিশাল মুদী-ব্যাবসায়ী ভবে নেয় ! তেমনি অনেকেই এমন আছে, যারা একেবারেই মুরলী পড়ে না। কত নতুন নতুন পয়েন্ট তো মুরলী থেকেই পাওয়া যায়। আসলে এসব বিষয়গুলি তেমন ভাবে আনতে হবে বোধে। তেমনি বাবার স্মরণে বসলে একথাও মনে রাখতে হবে যে, এই বাবা একাধারে যেমন বাবা, তেমনি টিচারও এবং সর্বোপরি সদগুরুও বটে। এই তিন সম্বন্ধে একত্রিত সমাহার বলেই তো এই বিশেষ জ্ঞানের পাঠ পড়াতে পারেন উনি। তাই তো সবকিছুই এত সহজ-সরল ভাবে বাচ্চাদেরকে বোঝাতে পারেন। তোমাদের ব্যক্তিত্ত্বও তেমন বাবারই মতন৷ যেমন উন্নত বাবা - তেমনই সুযোগ্য সন্তানদের প্রকাশ- "সন্ শোজ ফাদার"! তেমনি "ফাদার শোজ সন্"! পুত্র যেমন বাবার মুখ উজ্জ্বল করে, বাবাও তেমনি পুত্রের মুখ উজ্জ্বল করে। আসলে এই উজ্জ্বলতা হলো আত্মার, যার প্রকাশ ঘটান স্বয়ং পরমাত্মা। ফলে বাচ্চাদেরও কর্তব্য চর্তুদিকে বাবার বাণীর প্রকাশ ঘটানো। বাবাও তেমনি বাচ্চাদের রেহাই দেন না, কখনও বলেন এখানে যাও, ওখানে যাও, আজ এখানে, কাল সেখানে.... যাও। কিন্তু পরমাত্মা বাবাকে কেউই এমন অর্ডার করার নেই। লোকেরা এইসব নিমন্ত্রণ ইত্যাদি জানতে পারে খবরের কাগজের মাধ্যমে। বর্তমান দুনিয়ায় সবাই যে নাস্তিক। একমাত্র এই বাবা এসেই বি.কে.-দেরকে আস্তিক করে গড়ে তোলেন। সমগ্র দুনিয়াটাই যেন এখন মূল্যহীন কানাকড়ির মতন "ওয়ার্থ নট পেনী"! আমেরিকার কাছে যত বিপুল পরিমাণ ধন-সম্পদই থাকুক না কেন, প্রকৃত অর্থে তাও "ওয়ার্থ নট পেনী"! -এমন বিনাশী যা কিছু সবই তো ধ্বংস প্রাপ্ত হবে। সমগ্র দুনিয়াতে একমাত্র বি.কে.-রাই "ওয়ার্থ এ পাউন্ড"- অর্থাৎ (জ্ঞান-রত্নে) সম্পদশালী হয়ে গড়ে উঠছো। সেখানে (স্বর্গ-রাজ্যে) কেউই কাঙ্গালি থাকে না।

বাচ্চারা, সদা এই বিশেষ জ্ঞানের মনন-চিন্তন-মন্থন করতে করতে খুব খুশীতে থাকতে হবে। তাই তো প্রবাদ আছে- অতীন্দ্রিয় সুখের বিষয়ে জানতে চাইলে গোপী-গোপিনীদের (বি.কে.-দের) কাছে তা জানতে চাও। এসব ঘটনা কেবল সঙ্গম যুগেরই। এই সঙ্গমযুগের প্রকৃত ধারণাটাই লোকেদের নেই। বিহঙ্গ-মার্গের সেবায় হয়তো বা বাবার এই মহিমার কথা অনেক বেশী করে প্রচার করা যবে৷ তাই তো বলা হয়- "হে প্রভু, তোমার লীলা চমৎকার।" কিন্তু এই সত্যটা কারও জানা নেই যে, এক ও একমাত্র ভগবান, যিনি একাধারে- বাবা, টিচার আবার সদগুরুও। তবুও বাবা কিন্তু বাচ্চাদের শিখিয়েই চলেছেন। এসব ভেবে বি.কে.-দেরও উচিত এসবের প্রতি মনোযোগ সহকারে তা গ্রহন করে স্থায়ী ভাবে জ্ঞানের নেশায় বুঁদ হয়ে মজা উপলব্ধি করা। যে নেশার ঘোর অন্তিমকাল পর্যন্ত যেন স্থায়ী হয়। কিন্তু এখনও অনেকের নেশাই যেন সোডার জলের মতন উবে যায় ক্ষণে ক্ষণে। সোডার তো ধর্মই তা। যাকে বেশী সময় ধরে রেখে দিলে নোনতা জলে পরিণত হয়। তেমনটা যেন না হয়। এসব কথা অন্যদের বোঝাতে গেলে তারা তখন হতভম্বই হবে। যদিও তখন বলবে- বেশ ভাল, বেশ ভাল, পরে সময় করে তা আবার বোঝার চেষ্টাও করবে। তারপরেই জীবনযাত্রায় সেই ধারায় জীবনকে ঢেলে সাজাবে, এমনটা বলাও খুব মুস্কিলের। বাবা কিন্তু কোনও চাকরি-বাকরী, ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত ইত্যাদি কিছুই বন্ধ করতে বলেন না। বাবার মূল কথা হলো- "পবিত্রতা ধারণ করো, আর যা কিছু পড়ানো হচ্ছে, তা স্মরণে রাখো।" এমনটা তো সব বাবাই বলবেন, উপরন্তু উনি আবার টিচারও। যে পাঠ আবার একেবারেই স্বতন্ত্র ও পৃথক ধরনের। যা কোনও মনুষ্য পড়াতে পারে না। বাবা (ব্রহ্মার) এই ভাগ্যশালী রথে বসে তোমাদেরকে পড়ান। এবার বাবা বোঝাচ্ছেন- বাচ্চারা, তোমাদের মস্তিষ্কের সিংহাসনে অকাল মূঢ়ত আত্মার অবস্থান। তোমাদের যার যার কর্মফলের কর্ম-কর্তব্যের ভূমিকার পার্ট সেই আত্মাতেই খোঁচিত আছে। এখন নিশ্চয় বিশ্বাসযোগ্যই মনে হচ্ছে তোমাদের কাছে। এছাড়া জাগতিক যা কিছু বলা হয়েছে সে সবই তো আর্টিফিসিয়াল। একথা খুব ভাল রীতিতে ধারণ করার জন্য, কাপড়ের খুঁটে গিঁট লাগিয়ে নাও৷ সেই গিঁটে হাত পড়লেই যেন তা স্মরণে আসে। অনেকে তো আবার এমনও আছে, গিঁট কেন বাঁধা হয়েছে - সেকথাই ভুলে যায় বেমালুম৷ কিন্তু তোমাদেরকে তা পাক্কা স্মরণে রাখতে হবে। বাবাকে স্মরণ করার সাথে সাথে জ্ঞানকেও ধারণ করতে হবে। আত্মার যেমন মুক্তি আছে আবার জীবন-মুক্তিও আছে।

বাচ্চারা, খুবই মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চা হতে হবে তোমাদের। যদিও বাবা মনে মনে তাই জানেন। কল্পে-কল্পে প্রতিকল্পেই এই বাচ্চারাই এই বিশেষ জ্ঞানের পাঠ পড়ে থাকে। আবার পুরুষার্থের ক্রমানুসারে অবিনাশী উত্তরাধিকারও পেয়ে থাকে এই বাচ্চারাই। তবুও টিচার তো পুরুষার্থ করাবেই। যেহেতু তোমরা মুহূর্তে মুহূর্তেই তা ভুলে যাও, তাই বাবা বারবার স্মরণ করাতে থাকেন তোমাদেরকে। অতএব এক শিববাবাকেই স্মরণ করতে থাকো। যিনি একাই বাবা, টিচার এবং সদগুরুও। যদিও ছোট বাচ্চারা তেমন ভাবে বুঝে স্মরণ করতে পারে না। ছোট্ট কৃষ্ণকে কি আর বলা যাবে, কৃষ্ণই বাবা, কৃষ্ণই টিচার আবার কৃষ্ণই সদগুরুও ? যে কৃষ্ণ সত্যযুগের প্রিন্স হবে, সে আবার গুরু হবে কি প্রকারে ? গুরুর প্রয়োজন পড়ে তো যখন কেউ দুর্গতিতে থাকে। তাই তো কথিত আছে, সদগতিদাতা বাবা এই সঙ্গম যুগেই এসে সবার সদগতি করেন। এছাড়াও লোকেরাই তো কৃষ্ণকে কয়লার মতন কালো করে দেখিয়েছে। তার যর্থার্থ মর্মার্থ বুঝিয়ে বাবা বলেন- বর্তমান সময়কালে সবাই কাম-চিতায় বসে বসে একেবারে কুৎসিৎ কয়লার মতন কালো হয়ে গেছে। সত্যযুগে সবাই থাকে উজ্জ্বল গৌরবর্ণ। এইসব গুহ্য কথাগুলিই খুব ভালভাবে বুঝতে হবে। গীতা তো সবাই পড়ে। একমাত্র ভারতবাসীরাই সকল শাস্ত্রের মান্যতা দেয়। ঘরে সবারই চিত্রাদি তারা রাখে। তাই তাদের আর কি বা বলা যায়। এটাই হলো ব্যাভিচারী ভক্তি৷ আর অব্যাভিচারী ভক্তি হলো একমাত্র শিববাবা। যে জ্ঞান পাওয়া যায় একমাত্র শিববাবার থেকেই। যে জ্ঞান জাগতিক জ্ঞান থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বতন্ত্র। অর্থাৎ আধ্যাত্মিক জ্ঞান। *আচ্ছা!*

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা পরমাত্মা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) বিনাশী বস্তুতে মত্ত না হয়ে অলৌকিক উৎসাহে থাকো- 'ওয়ার্থ নট পেনী' থেকে 'ওয়ার্থ পাউন্ড'-এ (কানা কড়ি তুল্য থেকে হীরে তুল্য) পরিবর্তিত হচ্ছো তোমরা। স্বয়ং ভগবান পড়াচ্ছেন বি.কে.-দেরকে। বি.কে.-দের এই পাঠ জাগতিক পাঠের থেকে ভিন্নতর।

২) ব্রহ্মার সন্তান বি.কে., প্রকৃত ব্রাহ্মণ অর্থাৎ আস্তিক হয়ে এমন ভাবে বিশ্বের সেবা করতে হবে, যাতে বাবার মুখ উজ্জ্বল হয়। অহমিকায় এসে কখনও যেন মুরলী ক্লাস বাদ না পড়ে।

বরদান:-
প্রতিটি পদক্ষেপেই বরদাতার থেকে বরদান প্রাপ্ত করে পরিশ্রম মুক্ত থাকা অধিকারী আত্মা ভব

ব্যাখ্যা :- যে স্বয়ং বরদাতার প্রিয় সন্তান, প্রতি পদক্ষেপেই সে বরদাতার থেকে স্বততঃই বরদান পায়। বরদানের দ্বারাই সে মূলতঃ প্রতিপালিত হয় । তাই বিনা পরিশ্রমেই এত শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি পাওয়াকেই প্রকৃত বরদান বলা হয়। ফলে সে জন্ম জন্ম প্রাপ্তির অধিকারী হয় আর সদাকালের জন্য প্রতিটি পদক্ষেপেই বরদাতার বরদান পেতে থাকে। ফলে সেই অধিকারী আত্মার দৃষ্টি, বচন, সম্বন্ধে কেবল বরদান আর বরদান।

স্লোগান:-
সময়ের গতির তীব্রতার সাথে তাল মিলিয়ে পুরুষার্থের গতিকেও তীব্র করো।