১০-০১-১৬ প্রাতঃমুরলি ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


*"মিষ্টি বাচ্চারা - অর্ধকল্প ধরে তোমাদের মধ্যে যে ৫ বিকারের অসুস্থতা ছিল তা'এখন শেষের মুখে , এইজন্য অপার খুশিতে থাকা উচিত্* "

প্রশ্ন:-

তোমাদের বাচ্চাদের কি ধরনের শখ থাকা উচিত্ , কোন্ কথায় তোমাদের কোনও সম্পর্ক থাকা উচিত্ নয়* ?

উত্তর:-

বাবার থেকে বিশ্ব মালিকানার উত্তরাধিকার পুরোপুরি প্রাপ্ত করার শখ থাকা উচিত্ l মানুষের অনেকরকম হবি থাকে l সেইসব তোমাদের ছেড়ে দিতে হবে l তোমরা স্বয়ং ঈশ্বরের সন্তান , বাবার সাথে ঘরে ফিরে যেতে হবে এইজন্য এই শরীরের সাথে যুক্ত সমস্ত রকম জিনিস তোমাদের ভুলে যেতে হবে l পেটের জন্য লাগবে দুটো রুটি আর বুদ্ধিকে জুড়ে নিতে হবে নতুন দুনিয়ার সাথে* l

গীত:-

ঝড় তাদের কি করতে পারে যাদের সাথী ভগবান* ...

ওম্ শান্তি l

বিশেষ প্রিয় , অটল , মহাবীর সব বাচ্চারা বুঝতে পারছেন, মনে বিভিন্ন রকমের ঝড় আসবে এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় , অসুস্থতা প্রভৃতিও আসবে, কারণ এখন হল শেষ পর্যায়েরই চূড়ান্ত প্রস্তুতি (পিছারীকা পম্প) l মায়া তার প্রবল শক্তি নিয়ে তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে l যাদের নিশ্চয়বুদ্ধি মজবুত তারা জানে শরীরের হিসেবনিকেশও মিটে যাবে l যখন তোমরা কোনও রোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠো , তোমাদের খুব আনন্দ হয় যে , এই রোগ থেকে তোমরা মুক্ত হয়ে যাবে l তোমরা জানো আর মাত্র কিছু দিনই বাকি আছে l পাঁচ বিকারের এই অসুখে তোমরা অর্ধকল্প ধরে ভুগছ যার জন্য মানুষ অজামিল নামক মহাপাতকের মতো পাপাত্মায় পরিণত হয়েছে l এই দুনিয়া আর মাত্র কিছু দিনের l এই অসুখ শেষ হওয়ার মুখে l দুনিয়ার মানুষ এইসব কথা জানেনা l তারা আসুরিক বুদ্ধির l চরম দুর্দশায় তারা হায় হায় করতে থাকে l তোমরা এই ঘটনা দেখতে থাকবে l এইসমস্ত ব্যাপারে তোমাদের কোনও যোগ নেই l এইসব নতুন কোনও কথা নয় , এই সবকিছু হতে হবে l এতে ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই l খুবই অল্প সময় অবশিষ্ট আছে l পেটের জন্য কেবল দুটো রুটিই যথেষ্ট l তোমাদের শখ এখন বাবার থেকে বরসা নেওয়ার l মানুষের বিভিন্ন রকমের শখ থাকে l এখানে তোমাদের সেরকম কোনও শখ রাখা উচিত্ নয় l শরীর সম্বন্ধীয় সমস্ত কিছু ভুলে যাও l এখন আমরা ভগবানের হয়েছি l বাবা, সাজনের সাথে আমাদের ফিরে যেতে হবে l এই সাজনও বড় বিচিত্র , তাঁর কোনও আকার নেই l তিনি নিরাকার হওয়াতে তাঁকে যথার্থরূপে কেউ স্মরণ করতে পারেনা l এই হলো নতুন পদ্ধতি l আত্মাকে পরমাত্মার স্মরণ করতে হবে l অর্ধকল্প ধরে তোমরা তাঁকে এইভাবে স্মরণ করনি l সত্যযুগে শুধু এইটুকুই বুঝতে যে আমরা আত্মা ; এছাড়া অন্য কোনও জ্ঞান ছিলনা l আমি আত্মা ,এক শরীর ছেড়ে অন্য শরীর গ্রহণ করি l এখানে আত্মাকে পরমাত্মা বানিয়ে দিয়েছে ; তারা বলে পরমাত্মা সর্বব্যাপী l এখন যেমন এই পুরনো দুনিয়া তোমাদের জন্য নয় l বুদ্ধি নতুন দুনিয়ার সাথে জুড়ে আছে l কেউ নতুন ঘর তৈরী করলে যেমন তার বুদ্ধি পুরনো ঘর থেকে সরে নতুন ঘরের সাথে জুড়ে যায় l এখন বিভিন্ন ধর্মের মানুষ অধিবেশন ইত্যাদি করে অথচ একজনেরও বুদ্ধিযোগ পরমপিতা পরমাত্মার সাথে জুড়ে নেই l তোমরা এখন বাবাকে খুঁজে পেয়েছ যিনি তোমাদের শেখাচ্ছেন l তিনি জ্ঞানেশ্বর এবং তিনিই যোগেশ্বর l ঈশ্বর যিনি নিজের সাথে যোগ লাগানো শেখান , জ্ঞানেশ্বর অর্থাত্ একমাত্র ঈশ্বরের মধ্যেই জ্ঞান আছে l তিনিই একমাত্র জ্ঞান এবং যোগ শেখাতে পারেন l যাদের দৃঢ় নিশ্চয় আছে , তারা বুঝতে পারে এই দুনিয়াতে তারা অল্প সময়ের জন্য আছে l আমাদের এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে l নাটকে যেমন অ্যাক্টররা জানে তারা সেখানে অল্প সময়ের পার্ট প্লে করছে এবং তারপরে তারা ফিরে যাবে l তারা ক্রমাগত তাদের ঘড়ির দিকে লক্ষ্য রাখে l তোমাদের ঘড়ি বেহদের l তোমরা জানো এটা তোমাদের অন্তিম জন্ম l সুতরাং , তোমাদের অনেক খুশি হওয়া উচিত্ - আমরা এই পুরনো শরীর ছেড়ে বিশ্বের প্রিন্স প্রিন্সেস হতে যাচ্ছি l আমাদের মাম্মা বাবাও প্রিন্স প্রিন্সেস হবেন l তোমাদের বাচ্চাদের দ্রুত গতিতে ধাবিত হয়ে (দৌড়ে) বিজয় মালার প্রথম সারিতে আসতে হবে l যদি বাবাকে কেউ জিজ্ঞেস করে তবে বাবা বলতে পারবেন , তোমার চলন এইরকম, যাতে বোঝা যায় তুমি নিশ্চয়ই বিজয়মালাতে খুব কাছে আসবে l তোমরা নিজেরাই নিজেদের বুঝতে পারবে , আমরা কতদূর পর্যন্ত পাশ করব l কেউ কেউ মনে করে যে তারা কখনও পাশ করবেনা l যদিও আমি বাবার বাচ্চা এবং আমি সমস্ত কিছু সমর্পণ করেছি , বাবার কোলে বসে আছি তবুও যদি আমি কোনও কিছু ধারণ করতে না পারি , আমি উঁচু পদ লাভ করতে পারব না l যারা গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে সেবা করছে তারা এখানে যারা আছে তাদের থেকে ভালো পদ পেতে পারে l এইরকম দেখাও যায় তারা তীব্র গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে l শুধু বাবার সাথে থাকলে কিছু বেশী লাভ হয় l মেঘ সাগরের কাছে আসে , নিজেদের পূর্ণ করে এবং তারপর গিয়ে সর্বত্র বর্ষণ করে l মুরলি চতুর্দিকে যায় l তোমরা মুরলি শোন আর তারপরে অন্যদের শোনাও l যারা ভালো সার্ভিস করে তারা উঁচু পদ লাভ করে l এতে অনেক মেহনত লাগে l যদি তোমরা এখানে মেহনত না করো তোমরা ভূপতিত হবে ,সবকিছু নির্ভর করছে তোমার মেহনতের উপর l নিজের নাড়ি স্পন্দন নিজেই দেখা যায় l বুঝতে পারবে যে এই পুরুষার্থ দ্বারা আমি কি পদ পেতে পারব l যদি তোমরা এখন পুরুষার্থ করে উঁচু পদ না লাভ করতে পারো তবে কল্পে কল্পে এইরকম পদই পাবে l এই হলো বেহদের ড্রামা l এখন তোমরা বেহদের বুদ্ধি লাভ করেছ l বেহদের আদি -মধ্য -অন্তকে জানা খুবই আনন্দের l তবে মায়ার ঝড় এমনই যে তোমাদের দিয়ে কিছু না কিছু ভুল করিয়ে দেয়, ভালো ভালো বাচ্চাদের মায়া জয় করে নেয় l তোমরা আরও যত এগোবে তোমাদের বুদ্ধিও ততই বাড়বে , তোমাদের নাম উজ্জ্বল হবে l এখন দিল্লিতে ধর্মীয় কনফারেন্স হয় l কনফারেন্সে বোঝানোর জন্য খুব ভালো বুদ্ধির প্রয়োজন l কনফারেন্স শুরুর নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে থেকেই সকলের সাথে সকলের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয় l কনফারেন্সের যারা মাথা সর্বপ্রথম তাদের একটা ছোট কমিটি মিটিং হয় , তারপরে বড় কনফারেন্স হয় l পোপ ইত্যাদির জন্য সবরকম সুবিধার বন্দোবস্ত করা হয়ে থাকে l এনাদেরও কনফারেন্সের ক্ষেত্রে অনেক চিন্তা -ভাবনা থাকে l সেইজন্য এইরকম কনফারেন্সে খুব বুদ্ধিমান , অভিজ্ঞ বাচ্চাদের যাওয়া প্রয়োজন এবং সেখানে আমন্ত্রিত বড় বড় ব্যক্তিদের বোঝানো উচিত্ l সর্বপ্রথমে ঠিক করে নিতে হবে বিষয়বস্তর মূল কি - 'বাবা এসেছেন' l এর পূর্বে দেবী-দেবতা ধর্ম সম্পর্কে কেউ জানত না l এখন তোমরা খুশি যে , দেবীদেবতা ধর্মেরও মাথা আছেন l যাঁরা জ্ঞানে পরিপক্ক তাঁরা মনে করেন যে এখন সেই ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করা যায় - "আমাদের বলুন , সব ধর্মের মধ্যে বড় ধর্ম কি ?" সেই ধর্মেরই হেড বানানো উচিত্ l তোমরা বি .কে .-রা সবার মাথা l তোমরা জগত্ মাতা l পদও মাতাদের l এটা দেখানোও হয় যে , কুমারীরা বাণ মেরেছে ভীষ্ম পিতামহ ইত্যাদিকে l এই কুমারীদের সামনে প্রত্যেককে আসতেই হবে l সেইজন্য তোমাদের বোঝাতে হবে উঁচু থেকেও উঁচু কে l তখন তাঁরা বুঝবেন ভগবান যে সর্বব্যাপী সেই জ্ঞান মিথ্যা l এখন তোমরা যুদ্ধের ময়দানে l বাবার পরিচয় দেওয়া তোমাদের জন্য নতুন কিছু নয় l ভালো ভালো বাচ্চারা এই নেশায় মেতে থাকে যে , এই পার্ট আমরা অনেকবার প্লে করেছি l এই পুরনো দুনিয়ার এখন বিনাশ হবে l এই পুরনো শরীর ছেড়ে নতুন করে আবার তোমরা তোমাদের পার্ট প্লে করবে l তোমাদের বুদ্ধি এখন বিশাল এবং অসীম l তোমাদের পুরনো সেই বস্ত্র ত্যাগ করতেই হবে এবং তারপরে তোমাদের ৮৪ জন্মের জন্য নতুন বস্ত্র নিতে হবে l এইসব তোমাদের বুদ্ধিতে সর্বদা থাকা উচিত্ l প্রত্যেক পার্টধারীর নিজের নিজের পার্টের ক্ষেত্রে সচেতন থাকা উচিত্ l তোমরা ৮৪ জন্ম নিয়ে নিজেদের পার্ট প্লে করেছ l সৃষ্টির এই খেলা এখন শেষ হয়ে এসেছে l এই বস্ত্রও এখন জরাজীর্ণ l দুনিয়াও তমঃপ্রধান l যখন আমাদের রাজধানী স্থাপন হয়ে যাবে , তখন বিনাশও শুরু হবে l আমরা গিয়ে পরবর্তী জন্মে বিশ্বের মালিক হয়ে যাব l এখানে যারা পড়ে তাদের এই জন্মেই লাভ হয় l এখন তোমাদের স্মরণে এসেছে যে তোমরা গিয়ে দৈবী জন্ম নেবে এবং তারপরে ক্ষত্রিয় জন্ম নেবে l এই জ্ঞান তোমাদের বুদ্ধিতে ফোঁটায় ফোঁটায় সরু ধারায় বইতে থাকলে একমাত্র তখনই তোমাদের খুশির পারা উঁচুতে থাকবে l যারা ভালো পুরুষার্থী হবে এই জ্ঞান ক্রমাগত তাদের বুদ্ধিতে চলতে থাকবে l বাবা বুঝিয়েছেন , তোমাদের কর্ম করতেই হবে l তারপরেই তোমরা স্মরণের চার্ট বাড়াতে পারবে l এর জন্য রাতের সময় খুব ভালো l সেই সময় কোনও ক্লান্তি থাকেনা l যদি তোমরা সর্বদা এই স্থিতিতে না থাকো, তখন তুফান আসলে, তারা তোমাদের অবসন্ন করে তুলবে l না চাইলেও তুফান এসে যায়, তোমায় ক্লান্ত বানায় l যেমনই হোক , তোমরা যদি ক্রমাগত বাবাকে স্মরণ করো এবং ক্রমাগত এই বিষয়ের নির্যাসটুকু মনের মধ্যে লালন করো , তোমাদের মাথা জ্ঞানে ভরপুর হবে l এটা বাবার অনুভব যে, ঝড় অনেক আসবে l তোমরা যত শক্তিশালী হবে মায়া ততই তোমাদের নীচে নামাবে l এই হলো আইন l বাবা বলেন মায়া অত্যন্ত শক্তিশালী কেননা সে তার রাজত্ব হারাচ্ছে , সুতরাং সে নানারকম ঝড়ের সৃষ্টি করবে l তাকে ভয় পেয়োনা l যদি শরীরের কিছু হয় তবে সেটা কর্মভোগ l তোমরা এতে একদম দমে যেওনা l এই হলো অন্তিম শরীর l খুব অল্প সময় বাকি আছে l এইভাবে স্মরণের দ্বারা তোমরা খুশিতে থাকবে l ড্রামাতে তোমরাই সবচেয়ে বেশী উঁচু পদাধিকারী কারণ তোমরা পরমপিতা পরমাত্মার কোলে রয়েছ l তোমাদের মধ্যেও যারা ভালো পুরুষার্থী তাদের মতো সৌভাগ্যশালী কেউ নেই l এই ঈশ্বরীয় সুখ অনেক উন্নতিসাধন করে l তোমরা বোঝাতে পারো যে , ভারত স্বর্গ ছিলো, অবিনাশী খণ্ড ছিলো এবং সেই সময়ে অন্য কোনও ধর্ম ছিলোনা l সব ধর্ম পরে পরে এসেছে l সূর্যবংশীয় রাজত্ব সমাপ্ত হলে তারপর চন্দ্রবংশীয় রাজত্ব হয় l সেইসব হিস্ট্রি জিওগ্রাফি কেউ জানেনা l এখন তোমরা জেনেছ l কেউ জানেনা সত্যযুগের পর ত্রেতাযুগ এবং সেখানে তখন দুই কলা কমে সেই সুখও কমে যায় l এই জ্ঞান যদি সত্যযুগেই তোমাদের মধ্যে থাকত তবে ভিতরে ভিতরে তোমরা আটকে যেতে l তোমাদের বিবেক বুদ্ধি দংশন হত যে তোমরা নীচের দিকে নেমে আসছ l তোমরা তোমাদের রাজত্ব আনন্দে কাটাতে পারতে না l রাজ্যপাট ভালো লাগত না l এখানেও কেউ কেউ বলে যে তারা স্বর্গের মালিক হবে কিন্তু সেই তাদেরই আবার নীচে নেমে আসতে হবে l কিন্তু তবুও সেখানে রাজধানী পাওয়ার খুশি থাকে l এখন বাবা তোমাদের ত্রিকালদর্শী তৈরী করছেন l এমনকি লক্ষ্মী নারায়ণ, যাঁরা স্বর্গের মালিক তাঁরাও ত্রিকালদর্শী নন l একমাত্র সঙ্গমেযুগে এসেই বাবা তোমাদের তৃতীয় নয়ন প্রদান করে ত্রিকালদর্শী বানান l দেবতাদের কেন অলঙ্কার দেওয়া হয় ? কেননা তাঁরা সম্পূর্ণ স্থিতিতে থাকেন l ব্রাহ্মণেরা ক্রমাগত ওপরে ওঠে এবং নামে l কিভাবে তাঁদের অলংকার দেওয়া যায় ? এটা ঠিক শোচনীয় নয় l এইসব ড্রামার আশ্চর্যজনক রহস্য l একমাত্র ব্রাহ্মণই স্বদর্শন -চক্রধারী l এই জ্ঞানের মাধ্যমে তোমরা দেবতা তৈরী হও l এই সময় তোমরা স্বদর্শন চক্রধারী, ত্রিনেত্রী, ত্রিকালদর্শী l এইসব তোমাদের শিরোনাম l এই সমস্ত কথা বোঝার এবং পরে বোঝাতে হবে l সর্বপ্রথম বাবার পরিচয় দাও l পরমপিতা পরমাত্মার সাথে তোমাদের কি সম্বন্ধ l তাঁর নামই গড ফাদার l তোমরা বলতে পারোনা যে গড ফাদার সর্বব্যাপী l তিনি পিতা l আমরা এমনও লিখি যে পরমপিতা পরমাত্মার সাথে কি সম্বন্ধ ? তোমরা পরম পিতা যখন বলছ তবে তো উনি নিশ্চয়ই পিতা l বাবা কিভাবে সর্বব্যাপী হবেন ! বাবার থেকে তো বিশ্বের মালিকানা নিতে হবে l নতুন দুনিয়ার রচয়িতা l লক্ষ্মী নারায়ণ নতুন দুনিয়ার উত্তরাধিকার লাভ করেন সেখানে দেবতাদের তৃতীয় নয়নের দরকার হয়না l তৃতীয় নয়ন অবশ্যই ব্রহ্মা দ্বারা দেওয়া হয়েছে l ত্রিমূর্তির অর্থ খুব ভালো l উত্সাহজনক পথে তোমাদের বোঝাতে হবে l যাঁরা খুব ভালো মাস্টার তাঁদের বোঝানোর অভ্যাস থাকবে l দিন -দিন কাউকে এইসব বোঝানো আরও সহজ হয়ে যাবে l পরমপিতা পরমাত্মা তোমার কে ? তারা বলবে তিনি তাদের বাবা l বাবা এই দুনিয়ার রচয়িতা l সত্যযুগে দেবী-দেবতাদের রাজ্য ছিলো l তাঁরা নিশ্চয়ই তাঁদের সম্পত্তি পরমপিতা পরমাত্মার কাছ থেকে নিয়েছিলেন l তাঁরা রাজযোগ শিখে রাজত্ব লাভ করেন l আমরা সবাই বী . কে .l কাউকে বোঝাও - আচ্ছা ! তোমরা তো বলো প্রজাপিতা ব্রহ্মা l তবে তো তিনি তোমাদের পিতাই হলেন , তাই না ! তিনিও (শিব) বাবা l তোমরা ব্রহ্মাকুমার ব্রহ্মাকুমারী l আমরা দাদার থেকে উত্তরাধিকার নিচ্ছি , তোমরা নিচ্ছ না l তোমরা এসো এবং এইসব বোঝো , পুরুষার্থ করলে তোমাদেরও প্রাপ্ত হবে l প্রজাপিতা ব্রহ্মা এবং জগদম্বা , দুজন মুখ্য l তোমরা লক্ষ্মী নারায়ণের পদের বরসা লাভ করো l বিভিন্ন উপায়ে তোমাদের বাচ্চাদের সবকিছু বোঝানো হয় l বড় বড় কনফারেন্সে যখন তোমরা যাবে তোমাদের নাম উজ্জ্বল হবে l আমাদের কথা জ্ঞানের আর অন্যদের সবার কথা ভক্তির l আমাদের জ্ঞানের অথরিটি আছে - যে কোনও কাউকে প্রশ্ন করার l কিন্তু যারা বোঝে তারাও এটা তাড়াতাড়ি বুঝতে পারেনা l তারা ক্রমাগত বিনা প্রয়োজনে অনেক বেশী ব্যাখ্যায় যেতে চায় l তারা যদি বুঝে যায় তবে তারা বেআব্রু হয়ে যাবে l লেখা আছে যে কুমারীরা ভীষ্ম পিতামহকে জয় করেছিল l এটা হতেই হবে l ড্রামার এই পার্ট নিশ্চিতভাবে নির্ধারিত l আচ্ছা l



মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি (সিকিলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা বাপদাদার স্মরণ -স্নেহ আর সুপ্রভাত l রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদের নমস্কার l

*ধারণার জন্য মুখ্য সারঃ*-

১) বিজয়মালায় আসতে হলে মাম্মা বাবার সমান সার্ভিস করতে হবে l মুরলি ধারণ করে তারপর অন্যদেরও শোনাতে হবে l রাজকীয় মর্যাদাসম্পন্ন ব্যবহার হতে হবে l

২) নিজের বিশাল বুদ্ধির দ্বারা বেহদের এই ড্রামাকে জেনে অপার খুশিতে থাকতে হবে l তুফানে ভয় পেয়োনা l জ্ঞান মন্থনে বুদ্ধিকে ভরপুর করে রাখো l

বরদান:-

দেহ-অভিমানের অংশমাত্রও ত্যাগ করে মহাবলবান ভব*

সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দেহ -অভিমান l দেহ -অভিমানের সূক্ষ্ম বংশ অনেক বড় l দেহ-অভিমানের বলি দেওয়া অর্থাত্ অংশ আর বংশ সমেত সমর্পিত হওয়া l এইরকম ত্যাগ করতে পারে যারা তারাই মহাবলবান হয় l যদি দেহ-অভিমানের কোনও অংশ থেকে যায় , অভিমানকে নিজের স্বমান বানিয়ে নাও তবে যদিও-বা , অল্প সময়ের জন্য বিজয় প্রাপ্তির আভাস হবে কিন্তু তাতে দীর্ঘ সময়ের পরাজয় লুকিয়ে থাকে l

স্লোগান:-

ইচ্ছা ছিলনা কিন্তু ভালো লেগে গেল - তাও জীবনবন্ধ স্থিতি l