10.01.2023 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - এ হলো তোমাদের জীবন্মৃত (মরজীবা) জন্ম, তোমরা ঈশ্বর-পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার নিচ্ছো, তোমরা খুব বড় লটারি পেয়েছো, সেইজন্য অপার খুশিতে থাকতে হবে"

প্রশ্নঃ -
নিজেকে কীভাবে বোঝাবে, যাতে চিন্তা সমাপ্ত হয়ে যাবে? রাগ চলে যাবে ?

উত্তরঃ  
আমরা হলাম ঈশ্বরের সন্তান। আমাদের বাবার মতন মিষ্টি হতে হবে। যেমনভাবে বাবা মিষ্টি করে বোঝান, ক্রোধ করেন না, তেমনভাবে আমাদেরকেও পরস্পরের সাথে মিষ্টি-মধুর হয়ে থাকতে হবে। মতবিরোধ হওয়া উচিত নয়। কারণ তোমরা জানো যে, যে সেকেন্ড অতিবাহিত হয়ে গেলো, ড্রামায় সেই ভূমিকাই (পার্টই) ছিল। তাহলে চিন্তা কোন্ বিষয়ে করবে? এমন-এমনভাবে নিজেকে বোঝাও তাহলে চিন্তা সমাপ্ত হয়ে যাবে। ক্রোধ পালিয়ে যাবে।

গীতঃ-
এ'টাই হলো বসন্ত (আনন্দ)....

ওম্ শান্তি ।
এ হলো ঈশ্বরীয় সন্তানদের খুশির গান। তোমরা এত খুশির গান সত্যযুগে করতে পারবে না। এখন তোমরা ঐশ্বর্য (খাজানা) পাচ্ছো। এ হলো বড়র থেকেও বড় (সর্ববৃহৎ) লটারি। যখন লটারি পায় তখন খুশি হয়। তোমরা পুনরায় এই লটারির মাধ্যমে স্বর্গে জন্ম-জন্মান্তর ধরে সুখ ভোগ করতে থাকো। এ হলো তোমাদের জীবন্মৃত (মরজীবা) জন্ম। যে জীবিত অবস্থায় মৃতবৎ হয় না, তাকে মরজীবা জন্ম বলবে না। তাদের খুশির পারদ চড়ে থাকতে পারেনা। যতক্ষণ পর্যন্ত জীবন্মৃত অবস্থা না হয়েছে অর্থাৎ বাবাকে আপন না করেছে, ততক্ষণ পর্যন্ত উত্তরাধিকারও সম্পূর্ণরূপে পাবে না। যে বাবার হয়ে যায়, যে বাবাকে স্মরণ করে তাদেরকে বাবাও স্মরণ করেন। তোমরা হলে ঈশ্বরীয় সন্তান। তোমাদের নেশা রয়েছে যে আমরা বাবার থেকে উত্তরাধিকার বা আশীর্বাদ নিচ্ছি, যারজন্য ভক্তরা ভক্তি মার্গে ধাক্কা খেতে থাকে। বাবার সাথে মিলিত হওয়ার জন্য অনেক অনেক উপায় বের করে। বেদ, শাস্ত্র, ম্যাগাজিন ইত্যাদি কত অধিকমাত্রায় পড়তে থাকে। কিন্তু দুনিয়া তো দিনে-দিনে দুঃখীই হতে থাকে। একে তমোপ্রধান হতেই হবে। এই যে বাবুল গাছ রয়েছে, তাই না ! বাবুলনাথ পুনরায় এসে কাঁটার থেকে ফুলে পরিণত করেন। অনেক বড় বড় কাঁটা হয়ে গেছে। খুব জোরে লাগে। একে অনেক প্রকারের নাম দেওয়া হয়েছে। সত্যযুগে তো থাকে না। বাবা বুঝিয়ে থাকেন -- এ হলো কাঁটার দুনিয়া, একে-অপরকে দুঃখ দিতেই থাকে, ঘরেও বাচ্চারা এমন কুপুত্র বেরিয়ে পড়ে যে সে আর জিজ্ঞাসা কোরো না। মা-বাবাকে অনেক দুঃখী করে দেয়। সকলেই আবার এক সমানও হয় না। সবথেকে বেশি দুঃখ দেয় কে ? মানুষ তা জানে না। বাবা বলেন এই গুরুরা পরমাত্মার মহিমাকেই গোপন করে দিয়েছে। আমি তো ওদের অনেক মহিমা করে থাকি। উনি হলেন পরমপূজ্য পরমপিতা পরমাত্মা। শিবের চিত্র অত্যন্ত ভালো। অনেক লোক এমনও রয়েছে যে এটা মানবে না যে শিব হলেন কোনো জ্যোতির্বিন্দু-স্বরূপ, কারণ তারা তো আত্মাই-পরমাত্মা (আত্মা তথা পরমাত্মা) বলে দেয়। আত্মা অতি সূক্ষ্ম, যা ভ্রুকুটির মধ্যস্থলে বসে রয়েছে, তাহলে পরমাত্মা এত বড় আকারের কিভাবে হতে পারে? বিদ্বান আচার্যেরা বি.কে.-দের কথা হেসে উড়িয়ে দেয় যে পরমাত্মার এইরকম রূপ তো হতে পারেনা। উনি হলেন অখন্ড জ্যোতির্ময় তত্ত্ব হাজার হাজার সূর্যের থেকেও তেজোময়। বাস্তবে এ হলো ভুল। এঁনার সঠিক মহিমা তো বাবা স্বয়ং বলে দেন। উনি হলেন মনুষ্য সৃষ্টির বীজরূপ। এই সৃষ্টি হলো একটি উল্টানো গাছ। সত্যযুগ-ত্রেতায় ওঁনাকে কেউ স্মরণ করে না। মানুষের যখন দুঃখ আসে তখন ওঁনাকে স্মরণ করে, হে ঈশ্বর, হে পরমপিতা, পরমাত্মা কৃপা করো। সত্যযুগ-ত্রেতায় দয়া চাওয়ার মতো কেউ থাকেনা। ও'টা হলো রচয়িতা বাবার নতুন রচনা। এই বাবার মহিমাই হলো অপার। তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর, পতিত পাবন। যখন জ্ঞানের সাগর, তাহলে অবশ্যই জ্ঞান দিয়েছিলেন। তিনি হলেন সত্য, চিত্ত, আনন্দ-স্বরূপ। তিনি হলেন চৈতন্য স্বরূপ। জ্ঞান তো আত্মাই ধারণ করে থাকে। মনে করো, আমরা যখন শরীর ছেড়ে চলে যাই তখনও আত্মায় তো জ্ঞানের সংস্কার থাকেই। বাচ্চা হবে তখনও সেই জ্ঞানের সংস্কার থাকবে, কিন্তু অর্গান্স ছোট হওয়ার কারণে বলতে পারে না। বড় হলে তখন স্মরণ করানো হয়ে থাকে, তখন স্মৃতিতে চলে আসে। ছোট বাচ্চারাও শাস্ত্র ইত্যাদি কণ্ঠস্থ করে নেয়। সবই হলো পূর্বজন্মের সংস্কার। এখন বাবা আমাদের নিজের জ্ঞানের উত্তরাধিকার দিয়ে থাকেন। সারা সৃষ্টির জ্ঞান ওঁনার কাছে রয়েছে কারণ উনি হলেন বীজস্বরূপ। আমরা নিজেদের বীজস্বরূপ বলবো না। বীজে অবশ্যই বৃক্ষের আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান থাকবে, তাই না ! সেইজন্য বাবা স্বয়ং বলেন - আমি হলাম সৃষ্টির বীজরূপ ! এই বৃক্ষের বীজ থাকে উপরে। সেই বাবা হলেন সত্য,চিত্ত, আনন্দ-স্বরূপ, তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর। সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান‌ই ওঁনার মধ্যে থাকবে। তাহলে কি থাকবে ? শাস্ত্রের জ্ঞান থাকবে কি ? সে তো অনেকের মধ্যেই রয়েছে। যখন পরমাত্মা, তখন অবশ্যই নতুন কোনো কথা থাকবে, তাই না ! যা কোনো বিদ্বান প্রভৃতিরা জানেনা। যেকোনো কাউকে জিজ্ঞাসা করো -- এই সৃষ্টিরূপী বৃক্ষের উৎপত্তি, পালনা, বিনাশ কিভাবে হয়, এর আয়ু কত, এর বৃদ্ধি কিভাবে হয়...... কেউ একদমই বোঝাতে পারে না।

একমাত্র গীতাই হলো সর্ব শাস্ত্রের শিরোমনি। আর বাকি সব হলো এর বাচ্চাকাচ্চা। যখন গীতা পড়েই কিছু বুঝতে পারেনা তখন বাকি শাস্ত্র পড়ে কি লাভ ? উত্তরাধিকার তো আবারও গীতার থেকেই পাওয়া যাবে। বাবা এখন সমগ্র ড্রামার রহস্য বুঝিয়ে থাকেন। বাবা পাথরবুদ্ধি থেকে পারসবুদ্ধি বানিয়ে পরশনাথে পরিণত করেন। এখন তো সকলেই হলো পাথর-বুদ্ধিসম্পন্ন, পাথরনাথ। কিন্তু ওরা নিজেদের বড় বড় উপাধি দিয়ে নিজেদের পারস-বুদ্ধি মনে করে বসেছে। বাবা বোঝান, আমার মহিমা হলো সবথেকে আলাদা। আমি হলাম জ্ঞানের সাগর, আনন্দের সাগর, সুখের সাগর। তোমরা দেবতাদের এমন মহিমা করতে পারো না। ভক্তরা দেবতাদের সামনে গিয়ে বলে আপনারা হলেন সর্বগুণসম্পন্ন....। বাবার হলো একটিই মহিমা। সেও আমরা জানি। এখন আমরা মন্দিরে যাব, তখন বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ জ্ঞান থাকবে যে এনারা সম্পূর্ণ ৮৪ জন্ম নিয়েছেন। এখন আমাদের কত খুশি থাকে। পূর্বে এই খেয়াল থাকতো নাকি ! না থাকতো না। এখন বোঝে যে আমাদের এরকম হতে হবে। বুদ্ধিতে অনেক পরিবর্তন চলে আসে।

বাবা বাচ্চাদের বোঝান - পরস্পরের মধ্যে অত্যন্ত মিষ্টি (স্বভাবের) হও। বিরোধী (তিক্ত স্বভাবের) হয়ো না। বাবা কখনো কারোর উপর রাগ করেন কি? অত্যন্ত মিষ্টি করে বুঝিয়ে থাকেন। এক সেকেন্ড অতিবাহিত হয়ে গেলে বলা হবে এই ভূমিকাও ড্রামায় ছিল। এরজন্য আর কি চিন্তা করবে ! এমন-এমনভাবে নিজেকে বোঝাতে হবে। ঈশ্বরীয় সন্তানরাও কম নাকি ! না তা নয়। এ তো বুঝতে পারো যে যখন ঈশ্বরীয় সন্তান, তখন অবশ্যই ঈশ্বরের কাছেই থাকবে। ঈশ্বর নিরাকার হলে তার সন্তানও নিরাকার হবে। সেই সন্তানই এখন এখানে এসে বস্ত্র (শরীর) ধারণ করে ভূমিকা পালন করে থাকে। স্বর্গে মানুষেরা হয় দেবী-দেবতা ধর্মের। সকলের হিসাব যদি বসে বের করতে হয় তাহলে মাথা ঘোরাতে হবে। বুঝতে পারে যে নম্বরের ক্রমানুসারে সময়ানুসারে অল্প-অল্প করে জন্ম নিতে থাকবে। আগে তো মনে করা হতো যে মানুষ কুকুর-বিড়াল হয়ে যায়। এখন তো বুদ্ধিতে রাত দিনের পার্থক্য এসে গেছে। এ'সব হলো ধারণা করার মতো কথা (বিষয়)। সারকথায় বুঝিয়ে থাকেন যে এখন ৮৪ জন্মের চক্র সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন এই নোংরা(ছি ছি) শরীরকে ত্যাগ করতে হবে। এ হলো সকলের জরাগ্রস্থ, তমোপ্রধান শরীর, এর থেকে মমত্ব মিটিয়ে ফেলতে হবে। পুরোনো শরীরকে কি স্মরণ করবে ? এখন তো নিজের নতুন শরীরকে স্মরণ করবে, যা সত্যযুগে পাবে। ভায়া মুক্তিধাম হয়ে সত্যযুগে আসবে। আমরা জীবনমুক্তিতে যাই আর সকলে মুক্তিধামে চলে যায়। একে জয়জয়কার বলা হয়ে থাকে। হাহাকারের পর জয়জয়কার হতে হবে। সকলেরই মৃত্যু হবে, কেউ তো নিমিত্ত হওয়ার কারণ হবে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় আসবে। কেবল সাগরই (জল) কি সমস্ত খন্ডকে শেষ করে দেবে নাকি ! না তা দেবে না। সবকিছুকে তো সমাপ্ত হতেই হবে। বাকি ভারত অবিনাশী ভূখন্ড রয়ে যায় কারণ এ হলো শিববাবার বার্থ-প্লে (জন্মভূমি)। এ হয়ে গেল সবথেকে বড় তীর্থস্থান। বাবা সকলের সদগতি করেন, তা কোনো মানুষ জানে না। তাদের এই না জানাও ড্রামায় নির্ধারিত রয়েছে। বাবা বলেন - হে বাচ্চারা, তোমরা কিছুই জানতে না, আমি তোমাদেরকে রচয়িতা এবং রচনার অথবা মানুষ সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের সমস্ত রহস্য বুঝিয়ে থাকি। যাকে ঋষি-মুনিও অন্তহীন-অন্তহীন বলে গেছে। এও বুঝতে নাকি যে সারা দুনিয়ার পাঁচ বিকার হলো সবথেকে বড় শত্রু। রাবণকে ভারতবাসীরা বছর বছর জ্বালাতেই থাকে। তাকে জানে না কেউই কারণ সে (রাবণ) হলো না শারীরিক, না আত্মিক। বিকারের তো কোন রূপই নেই। মানুষ যখন কর্মে আসে তখন জানা যায় যে এর মধ্যে কামের, ক্রোধের ভুত এসেছে। এই বিকারের স্টেজেও উত্তম, মধ্যম, কনিষ্ঠ থাকে। কারোর মধ্যে কাম বিকারের নেশা একদম তমোপ্রধান পর্যায়ের হয়ে যায়, কারো রজো নেশা, কারো সতো নেশা থাকে। কেউ তো বাল-ব্রহ্মচারীও থাকে। মনে করে, দেখভাল করা এও এক ঝঞ্ঝাট। সবথেকে ভালো ওঁনাকেই বলা যাবে। সন্ন্যাসীদের মধ্যেও ভালো সংখ্যায় বাল-ব্রহ্মচারী থাকে। গভর্নমেন্টের জন্যও ভালো, সন্তানের বৃদ্ধি হবে না। পবিত্রতার শক্তি পাওয়া যায়। এই হল গুপ্ত। সন্ন্যাসীরা ও পবিত্র থাকে, ছোট বাচ্চারাও পবিত্র থাকে, বাণপ্রস্থীরাও পবিত্র থাকে। তাহলে পবিত্রতার বল প্রাপ্ত হতেই থাকে। তাদেরও এই নিয়ম চলে আসছে যে বাচ্চাদের এই বয়স পর্যন্ত পবিত্র থাকতে হবে। তখন সেই শক্তিও প্রাপ্ত হয়। তোমরা হলে সতোপ্রধান পবিত্র। এই অন্তিম জন্মে তোমরা বাবার কাছে প্রতিজ্ঞা করো। তোমরা সত্যযুগের স্থাপনা করবে। যে করবে সে পবিত্র দুনিয়ার মালিক হবে, পুরুষার্থের নম্বরের ক্রমানুসারে।

এ হলো ঈশ্বরীয় কুটুম্ব (আত্মীয়)। কল্পে একবার আমরা ঈশ্বরের সঙ্গে থাকি। ব্যস্, তারপর দৈবী ঘরানায় অনেক জন্ম থাকবো। এই একটি জন্মই হলো দুর্লভ। এই ঈশ্বরীয় কুল হলো উত্তম অপেক্ষাও উত্তম (সর্বোত্তম)। ব্রাহ্মণ কুল হলো সবচেয়ে উঁচু স্থান (টিকি)। সর্বনিম্ন কুলের থেকে আমরা ব্রাহ্মণ কুলের হয়ে গেছি। শিববাবা যখন ব্রহ্মাকে রচনা করবেন, তখনই তো ব্রাহ্মণ রচনা করবেন। কত খুশি থাকে, যখন বাবার সার্ভিসে থাকে। আমরা ঈশ্বরের সন্তান হয়েছি আর ঈশ্বরের শ্রীমতানুসারে চলে থাকি। নিজের চালচলনের দ্বারা ওঁনার নাম উজ্জ্বল করে থাকি। বাবা বলেন -- ওরা হলো আসুরীক গুণসম্পন্ন, তোমরা দৈবীগুণসম্পন্ন হতে চলেছো। যখন তোমরা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে, তখন তোমাদের চালচলন অত্যন্ত ভালো হয়ে যাবে। বাবা বলবেন -- এরা হলো দৈবীগুণ সম্পন্ন, পুরুষার্থের নম্বরের ক্রমানুসারেই হয়ে থাকে। আসুরীক গুণসম্পন্নরাও নম্বরের ক্রমানুসারে হয়ে থাকে। বাল-ব্রহ্মচারীও রয়েছে। সন্ন্যাসীরা পবিত্র থাকে সে তো খুবই ভালো। এছাড়া ওরা কারোর সদগতি করতে পারে না। যদি কোনো গুরু সদ্গতি করতে আসতো তাহলে সাথে করে নিয়ে যেত, কিন্তু নিজেই ছেড়ে চলে যায়। এখানে এই বাবা বলেন -- আমি তোমাদের সঙ্গে করে নিয়ে যাব। আমি এসেছিই তোমাদের সঙ্গে করে নিয়ে যেতে। ওরা তো নিয়ে যায় না। নিজেরাই গৃহস্থীদের ঘরে জন্ম নিতে থাকে। সংস্কারের কারণে পুনরায় সন্ন্যাসীদের দলে চলে যায়। নাম-রূপ প্রতি জন্মে বদলে যেতে থাকে। বাচ্চারা, এখন এ'কথা তোমরা জানো যে এখানকার পুরুষার্থ অনুসারে সত্যযুগে পদ পাবে। এ'কথা জানবে না যে আমরা এই পদ কিভাবে পেয়েছি। এ তো এখন জানো যে যেভাবে কল্প-পুর্বে পুরুষার্থ করেছিলে, সেরকমই এখন করবে। বাচ্চাদের সাক্ষাৎকারও করানো হয়েছে যে ওখানে বিয়ে ইত্যাদি কিভাবে হয়ে থাকে। বড় বড় মাঠ, বাগান ইত্যাদি থাকবে। এখন ভারতেই কোটি কোটি আবাদি (জনসংখ্য)। ওখানে তো কিছু লক্ষই থাকে। ওখানে এত তলা বাড়ি হবে নাকি ! না হবে না। এ তো এখন হয়েছে কারণ জায়গা নেই। ওখানে এত ঠান্ডাও থাকবে না। ওখানে দুঃখের কোনো চিহ্নও নেই। না অত্যন্ত গরম হয়, যে পাহাড়ে যেতে হয়। নামই হলো স্বর্গ। এই সময় তো মানুষ কাঁটার জঙ্গলে পড়ে রয়েছে। যত সুখের চাহিদা হয় ততই দুঃখ বাড়তে থাকে। এখন অত্যন্ত দুঃখ থাকবে। লড়াই লাগলে রক্তের নদী বইবে। আচ্ছা!

এই মুরলী সব বাচ্চাদের সামনে শোনালাম। সম্মুখে শোনা হলো নাম্বার ওয়ান, টেপে শোনা হলো নাম্বার টু, মুরলীর থেকে পড়া হলো নাম্বার থ্রি। সতোপ্রধান, সতঃ আর রজঃ। তমঃ তো বলবে না। টেপে হুবহু আসে। আচ্ছা !

বাপদাদা আর মিষ্টি মায়ের হারানিধি বাচ্চাদের স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) নিজের আচার আচরণ এবং দৈবী গুণের দ্বারা বাবার নাম উজ্জ্বল করতে হবে। আসুরীক অবগুণ নিষ্কাশিত করতে হবে।

২ ) এই পুরোনো জরাগ্রস্থ শরীরের প্রতি মমত্ব রাখা উচিত নয়। নতুন সত্যযুগীয় শরীরকে স্মরণ করতে হবে। গুপ্তভাবে পবিত্রতার সহায়তা দান করতে হবে।

বরদান:-
আত্মিক ভাবের (আধ্যাত্মিকতা, রুহানীয়ত) শক্তির দ্বারা দূরে থাকা আত্মাদেরকে সমীপতার অনুভব করানো মাস্টার সর্বশক্তিমান ভব

যেমন সাইন্সের সাধনের দ্বারা দূরের প্রতিটি বস্তু নিকটে অনুভূত হয়, তেমনি দিব্য বুদ্ধির দ্বারা দূরের বস্তু নিকটে অনুভব করতে পারো। যেমন সাথে থাকা আত্মাদেরকে স্পষ্টভাবে দেখে, বলে, সহযোগ দিয়ে এবং নিয়ে থাকো, তেমনই রুহানীয়তের শক্তির দ্বারা দূরে থাকা আত্মাদেরকেও সমীপতার অনুভব করাতে পারো। এরজন্য কেবল মাস্টার সর্বশক্তিমান, সম্পন্ন আর সম্পূর্ণ স্থিতিতে স্থিত হও। আর সঙ্কল্প শক্তিকে স্বচ্ছ করো।

স্লোগান:-
নিজের প্রতিটি সঙ্কল্প, বাণী আর কর্মের দ্বারা অন্যদের প্রেরণা-দানকারীই হলো প্রেরণামূর্তি।