১০-০২-১৯ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত-বাপদাদা" রিভাইসঃ ১৯-০৪-৮৪ মধুবন


ভক্তি প্রবণ ভালবাসার ভাবনা সম্পন্ন আত্মা এবং জ্ঞানী আত্মার বৈশিষ্ট্য

আজ বাপদাদা দেখছেন যে, সকল বাচ্চাদের মধ্যে কোন্ কোন্ বাচ্চা ভক্তি প্রবণ ভালোবাসা নিয়ে বাবার কাছে এসেছে আর কোন্ কোন্ বাচ্চা বাবাকে যথাযথভাবে চিনে, পাওয়ার জন্য অর্থাৎ উচ্চ - মহান হওয়ার জন্য বাবার কাছে পৌঁছেছে। দু'রকম বাচ্চারাই বাবার ঘরে পৌঁছেছে। যাদের কেবল ভক্তিমূলক ভালোবাসা রয়েছে, তারা তাদের ভালোবাসার ফল স্বরূপ নিজ নিজ যোগ্যতা অনুসারে খুশি, শান্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের ফল প্রাপ্ত করে এবং তাতেই খুশি হয়ে যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভক্তিমার্গের ভালোবাসা আর বর্তমান সময়ে বাবার পরিচয়কে জেনে বাবা এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসা - এই দু'য়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ভক্তিমার্গের ভালোবাসা হল অন্ধশ্রদ্ধা, ইন্ডাইরেক্ট ভাবে মিলিত হওয়ার জন্য ভালোবাসা, তা হল স্বল্পকালীন স্বার্থ-মিশ্রিত ভালোবাসা। কিন্তু বর্তমান সময়ে জ্ঞানের ভিত্তিতে বাচ্চাদের যে ভালবাসা, তা ভক্তিমার্গের ভালোবাসার থেকে অনেক শ্রেষ্ঠ। কারণ এই ভালোবাসা ইন্ডাইরেক্ট ভাবে কোনো দেব আত্মাদের দ্বারা নয়, ডাইরেক্ট বাবার প্রতি ভালোবাসা। বাবার পরিচয় তো রয়েছে, কিন্তু ভক্তি প্রবণ ভাবনার দ্বারা জানা আর জ্ঞানের দ্বারা জানা - এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। জ্ঞানের দ্বারা জানা অর্থাৎ বাবা আসলে কে এবং কেমন, আমি প্রকৃতপক্ষে কে এবং কেমন - সেটাকে রীতিমতো জানা অর্থাৎ বাবার সমান হওয়া। বাবাকে তো সকলেই জেনেছে, কিন্তু ভক্তিমূলক ভালবাসার দ্বারা জেনেছ না জ্ঞানের দ্বারা জেনেছ ? এই পার্থক্যটা বুঝতে হবে। বাপদাদা আজকে এরূপ কিছু বাচ্চাদের ভালোবাসাকে দেখছেন। ভক্তিমূলক ভালোবাসার দ্বারা বাবাকে জানলেও অবিনাশী উত্তরাধিকার পেয়ে যায়। কিন্তু তফাৎটা হল -অবিনাশী সম্পদের অধিকারী হওয়া আর সম্পূর্ণ সম্পদের অধিকারী হওয়া। যাদের ভক্তিমূলক ভালোবাসা রয়েছে আর যাদের প্রকৃত জ্ঞান রয়েছে তারা দুজনেই স্বর্গের ভাগ্য অর্থাৎ জীবনমুক্তির অধিকার পেয়ে যায়। কিন্তু পদের মধ্যে অন্তর হয়ে যায়। উভয়েই ‘বাবা’ শব্দ উচ্চারণ করে এবং আনন্দের সাথে উচ্চারণ করে। তাই এই ‘বাবা’ শব্দটাকে বোঝা এবং উচ্চারণ করার ফল স্বরূপ উত্তরাধিকারের প্রাপ্তি তো হবেই। জীবনমুক্তির অধিকারী তো হয়ে যায়, কিন্তু অষ্টরত্ন, একশো আট বিজয়ী রত্ন, ১৬ হাজার এবং তারপরে ৯ লাখ। এদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। ১৬ হাজারের মালাও রয়েছে, ১০৮-এর মালাও রয়েছে। ১০৮ এর মধ্যে আবার বিশিষ্ট ৮ জন রয়েছেন। সকলেই মালার দানা হয়। উভয়কেই মালার দানা বলা হবে। ১৬ হাজারের মালার দানাও খুশি এবং নেশার সাথে বলবে ‘আমার বাবা’, ‘আমার রাজ্য’। কিন্তু কেউ রাজ-সিংহাসনের অধিকারী হয়, কেউ রাজ-পরিবারের অধিকারী হয়, কেউবা আবার রাজ-পরিবারের সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকার অধিকারী হয়। এইরকম পার্থক্য হয়ে যায়।



ভক্তি মূলক ভাবনা প্রবণ আত্মা এবং জ্ঞানী আত্মা উভয়েরই নেশা থাকে। উভয়েই খুব ভালভাবে প্রভুপ্রেমের কথা শোনায়। এমনভাবে সেই প্রেম স্বরূপে স্থিত হয়ে যায় যে দুনিয়ার প্রতি তাদের কোনো হুঁশই থাকে না। ‘আমার তো এক শিববাবা-ই’ - এমন ভালবাসার গীতও ভালই গায়। কিন্তু শক্তি স্বরূপ হয় না। সবাই দেখে যে সে খুশিতেই রয়েছে। কিন্তু মায়ার ছোট্ট একটা বিঘ্ন এলেই এই ভক্তি প্রবণ আত্মারা খুব তাড়াতাড়ি ঘাবড়ে যায়। হয়তো একটু আগেই খুব আনন্দ সহকারে বাবার গীত গাইছিল, কিন্তু একটু পরেই কোনো ছোট মায়াবী বিঘ্ন এলেই সেই খুশির গীতের পরিবর্তে ‘কি করব?’, ‘কিভাবে করব?’, ‘কি হবে?’, ‘কিভাবে হবে?’ - এইরকম ‘কি-কি’-এর গীত গাইতেও তারা কম যায় না। জ্ঞানী আত্মারা নিজেকে সর্বদা বাবার সাথী অর্থাৎ মাস্টার সর্বশক্তিমান মনে করার জন্য মায়াবী বিঘ্নগুলোকে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। ‘কি-কি’-এর গীত গায় না। ভক্তি প্রবণ আত্মারা কেবল প্রেমের শক্তিতেই আগে এগিয়ে যায়। মায়ার বিরোধিতা করার শক্তি ওদের থাকে না। জ্ঞানী আত্মাদের যেহেতু বাবার সমান হওয়ার লক্ষ্য থাকে, তাই তারা সর্ব-শক্তির অনুভবের দ্বারা মায়ার বিরোধিতা করতে পারে। এবার নিজেই নিজেকে প্রশ্ন কর যে আমি কে ? ভক্তি প্রবণ আত্মা নাকি জ্ঞানী আত্মা ? বাবা তো ভক্তি প্রবণ আত্মাদেরকে দেখেও খুশি হন। ‘আমার বাবা’- বলার সাথে সাথে অধিকারী তো হয়েই গেছ। সেই অধিকার নেওয়ার দাবীদারও হয়ে গেছ। পুরোটা নেবে ? নাকি কিছুটা নেবে… সেটা তো নিজ পুরুষার্থ অনুসারে যতটা ঝুলি ভরতে চাইবে ততটাই ভরতে পার, কারণ ‘আমার বাবা’ বলার সাথে সাথে সেই চাবি তো তোমরা ঘুরিয়েই দিয়েছ। আর অন্য কোনো চাবি নেই। কারণ বাপদাদা হলেন সাগর। অফুরন্ত রয়েছে, অসীম রয়েছে। যাদের নেওয়ার কথা, তারাই ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। দাতা কখনো ক্লান্ত হন না। কারণ তাঁকে তো কোনো পরিশ্রম করতে হয় না। দৃষ্টি দেওয়ার মাধ্যমেই অধিকার দিয়ে দিয়েছেন। যারা নিচ্ছে তাদেরও কোনো পরিশ্রম হওয়ার কথা নয়, কিন্তু অবহেলা বশতঃ হারিয়ে ফেলে। তারপর নিজের সেই দুর্বলতার কারণে হারানো বিষয় পুনরায় প্রাপ্ত করার জন্য পরিশ্রম করতে হয়। হারিয়ে ফেলার পর পুনরায় প্রাপ্ত করা, প্রাপ্ত করার পর পুনরায় হারানো - এইরকম ভাবে পরিশ্রম করার জন্যই ক্লান্ত হয়ে যায়। যারা সাবধান এবং হুঁশিয়ার, তারা সর্বদাই প্রাপ্তি স্বরূপ থাকে। সত্যযুগে যেভাবে দাসীরা সর্বদা সেবা করার জন্য আশেপাশে থাকে, সেইরকম বর্তমান সময়েও জ্ঞানী আত্মা অর্থাৎ বাবার মতো শ্রেষ্ঠ আত্মাদের আশেপাশে সকল শক্তি এবং সকল গুণ সেবাধারী রূপে সর্বদা সাথে থাকে। যেকোনো শক্তি কিংবা গুণকে আহ্বান করলেই হাজির হয়ে যায়। এইরকম স্বরাজ্য অধিকারী আত্মারাই বিশ্বের রাজ্য অধিকারী হয়। সুতরাং পরিশ্রমের অনুভব যেন না হয়। প্রত্যেক শক্তি, প্রত্যেক গুণের দ্বারা নিজেকে সর্বদা বিজয়ী অনুভব কর। যেভাবে তোমরা ড্রামাতে দেখাও যে রাবণ তার সাথীদেরকে হুঙ্কার করে আহ্বান করে আর ব্রাহ্মণ আত্মা, স্বরাজ্য অধিকারী আত্মা, নিজ শক্তি এবং গুণসমূহকে হুঙ্কার করে আহ্বান করে। এইরকম অধিকারী কি হয়েছ ? নাকি সঠিক সময়ে এইসকল শক্তিকে ব্যবহার করতে পার না। যে রাজা দুর্বল, তাকে কেউ মানে না। উল্টে রাজাকেই প্রজাদের কথা শুনতে হয়। কিন্তু বাহাদুর রাজা সবাইকে নিজের আদেশ অনুসারে পরিচালনা করে এবং রাজত্ব প্রাপ্ত করে। সুতরাং সহজ বিষয়কে কঠিন করা এবং তারপর ক্লান্ত হয়ে যাওয়া - এটা অবহেলা করার লক্ষণ। নামেই রাজা, অথচ অর্ডার করলে কেউ আসে না - এটাকে কি বলা উচিত ? *অনেকে এইরকম বলে - আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে সহ্যশক্তির প্রয়োজন, কিন্তু পরে স্মরণে এসেছিল। সেই সময়ে চিন্তা করেও সহ্যশক্তিকে ব্যবহার করতে পারিনি। অর্থাৎ ডেকেছ আজকে আর এলো কালকে। এটা কি অর্ডার অনুসারে হল ? কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার অর্থ - নিজ শক্তি অর্ডার অনুসারে চলে না*। সেবাধারী যদি সঠিক সময়ে সেবা না করে, তাহলে সেই সেবাধারীকে কি বলা উচিৎ ? তাই সর্বদা স্বরাজ্য অধিকারী হয়ে সকল শক্তি এবং গুণকে নিজের এবং অন্যের সেবাতে ব্যবহার কর । বুঝেছ? কেবল ভক্তি প্রবণ হয়ো না, শক্তিশালী হও। আচ্ছা - বিভিন্ন প্রকারের আত্মাদের এই মেলা দেখে তো খুশি হচ্ছে, তাই না? মধুবন নিবাসীরা তো কত মেলা দেখে, কত রকম গ্রুপ আসে। এইরকম ভ্যারাইটি ফুলের বাগিচা দেখে বাপদাদাও খুশি হন। স্বাগত। ‘শিবঠাকুরের বরযাত্রী’-র যে গায়ন রয়েছে, সেটাই এখন চাক্ষুষ করছ। ‘বাবা-বাবা’ বলতে বলতে সবাই যাত্রা শুরু করেছে এবং মধুবনেও পৌঁছে গেছে। এবার সম্পূর্ণ লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে। আচ্ছা!



সর্বদা শ্রেষ্ঠ অধিকার প্রাপ্তকারী বিজয়ী আত্মাদেরকে, সর্বদা অধিকারের সাথে সর্বশক্তিসমূহ দ্বারা সেবা করতে সক্ষম শক্তিশালী আত্মাদেরকে, সর্বদা রাজ্য সিংহাসনের অধিকারী হতে সমর্থ অধিকারী আত্মাদেরকে বাপদাদার স্মরণ ভালোবাসা এবং নমস্কার।



*পৃথক-পৃথক পার্টির সাথে অব্যক্ত বাপদাদা সাক্ষাৎ*



*পাঞ্জাব জোন:-* সকল পাঞ্জাব নিবাসীই তো মহাবীর, তাই না? কেউ ভীতু নয় তো? কোনো বিষয়ে ভয় করে না তো ? *সব থেকে বড় ভয় হল মৃত্যুভয়। তোমরা তো সকলেই মৃত। মৃত ব্যক্তির আবার কিসের মৃত্যুভয় !* তখনই মৃত্যুভয় আসে, যখন ভাবো যে এখনও এই কাজটা করা বাকি আছে, এই কাজটা করতে হবে…। যদি কোনো কাজ সম্পূর্ণ না হয়, তখনই মৃত্যু ভয় আসে। কিন্তু তোমরা তো সকল কার্য সম্পূর্ণ করে এভাররেডি রয়েছ। এই পুরাতন খোলস ত্যাগ করার জন্য এভাররেডি রয়েছ, তাই কোনো মৃত্যুভয় নেই। *তোমরা তো অন্যান্য ভীত আত্মাদেরকে শক্তিশালী বানানোর নিমিত্ত, দুঃখের সময়েও সুখ দেওয়ার নিমিত্ত*। তোমরা হলে সুখদাতার সন্তান। যেভাবে রাত্রিবেলা একটা রাতের প্রদীপ চারিদিক আলো করে দেয়, সেইরকম তোমরা আত্মারা হলে দুঃখের সময়ে সুখ দেওয়ার নিমিত্ত। তোমাদের কি সর্বদা এইরকম সুখ দেওয়ার ভাবনা থাকে ? সর্বদাই সুখ দিতে হবে, শান্তি দিতে হবে। শান্তিদাতার সন্তানরা হল শান্তিদেব। সুতরাং শান্তিদেব কারা? কেবল বাবা নয়, তাঁর সাথে তোমরাও। হে শান্তি দেওয়ার নিমিত্ত শান্তিদেবতারা, তোমরা শান্তি দেওয়ার এই কার্য করছ তো ? *দুনিয়ার লোক জিজ্ঞেস করে যে তোমরা কি কাজ কর ? তাই তোমরা সবাইকে এটাই বল - বর্তমান সময়ে যেটা সবথেকে বেশি প্রয়োজন, আমরা সেই কাজটাই করছি। ঠিক আছে, কাপড়-খাবার না হয় দেবে, কিন্তু সবথেকে প্রয়োজনীয় জিনিস হলো শান্তি। সুতরাং যে জিনিসটা সকলের প্রয়োজন, সেটাই আমরা দিচ্ছি। এর থেকে বড় সেবা আর কি আছে ? মন শান্ত থাকলে অর্থও সঠিক কাজে ব্যবহৃত হবে*। মন শান্ত না থাকলে সেই অর্থবল-ই সমস্যা তৈরি করবে। *এখন এমনভাবে শান্তির শক্তিশালী তরঙ্গ চারিদিকে ছড়াও, যাতে সকলে অনুভব করে যে গোটা দেশের মধ্যে এটাই হল শান্তির জায়গা*। একে অপরের মুখ থেকে শুনবে আর এখানে অনুভব করার জন্য আসবে যে অল্প সময়ের জন্য গেলেও অনেক শান্তি পাওয়া যায়। এইরকম আওয়াজ যেন চারিদিকে ছড়িয়ে যায় যে এই সেবাস্থানটাই হল শান্তির একমাত্র কোণ। যতই অশান্ত আত্মা হোক না কেন, সবাই যেন বুঝতে পারে- যেভাবে রোগী হাসপাতালে পৌঁছে যায়, সেইরকম অশান্তির সময়ে এই শান্তির জায়গাতেই যাওয়া উচিত। এইরকম তরঙ্গ চারিদিকে ছড়াও। কিভাবে ছড়াবে ? এজন্য দু' একজন আত্মাকে হলেও ডেকে এনে অনুভব করাও। একজনের কাছ থেকে আরেকজন শুনবে, তার থেকে আরেকজন - এইভাবে ছড়াতে থাকবে। যে খুব অশান্ত, তাকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে শান্তির অনুভব করাও। যেকোনো ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক হলেই তাকে শান্তির অনুভব করার বার্তা দাও। পাঞ্জাব নিবাসীদেরকে বিশেষভাবে এই সেবাটা করতে হবে। এখন আওয়াজ জোরালো করার সুযোগ রয়েছে। এখনও তারা একটা স্থানের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই স্থানের পরিচয় নেই, কেবল খুঁজছে। একটা ঠিকানা থেকে বিমুখ হয়ে গেছে। বুঝে গেছে যে ওটা কোনো ঠিকানা নয়। এইরকম ঘুরে বেড়ানো আত্মাদেরকে কি তোমরা সহজে ঠিকানা বলে দিতে পারবে না ? এই সেবাটাই কর। যদি কারফিউও জারি হয়, তাহলেও যোগাযোগ তো থাকে, তাই না ? যাদের সাথে সম্পর্ক রয়েছে, তাদেরকে যদি অনুভব করাও, তাহলে ঐ আত্মারাই চারিদিকে আওয়াজ ছড়াবে। ওদেরকে দুই এক ঘণ্টার জন্য হলেও যোগ শিবির করাও। যদি সামান্য শক্তিরও অনুভব করে, তাহলেই অনেক খুশি হবে, ধন্যবাদ জানাবে। যখন লক্ষ্য থাকে যে আমাকে করতেই হবে, তখন রাস্তাও মিলে যায়। এইভাবে নাম সুপ্রসিদ্ধ করে দেখাও। পাঞ্জাবের ভূমি যতটা শক্ত, ঠিক ততটাই তোমরা নরম করতে পার। আচ্ছা।



*২ )* সর্বদা নিজেকে ফরিস্তা অর্থাৎ ডবল লাইট অনুভব কর ? এই সঙ্গমযুগের অন্তিম স্বরূপ তো ফরিস্তা, তাই না ? ব্রাহ্মণ জীবনের প্রাপ্তিটাই হল ফরিস্তা জীবন। যার শরীর এবং শারীরিক পরিজনদের সাথে কোনো রিস্তা অর্থাৎ সম্বন্ধ নেই, তাকেই ফরিস্তা বলা যাবে। শরীর এবং শারীরিক পরিজনদের সাথে সম্বন্ধ শেষ হয়েছে, নাকি একটু হলেও আটকে আছে ? যদি একটুও সূক্ষ্ম আকর্ষণ রূপী রশি থেকে যায়, তাহলে উড়তে পারবে না, নিচে চলে আসবে। তাই ফরিস্তা মানে যার কোনো পুরানো সম্বন্ধ নেই। যেহেতু জীবনটাই নুতন পেয়েছ, তাই সবকিছুই নুতন। সংকল্প, সম্বন্ধ, অক্যুপেশন সবকিছুই নুতন। স্বপ্নেও পুরাতন জীবনের কথা মনে আসতে পারে না। যদি সামান্য দেহভানও আসে, তার অর্থ এটাই যে নিশ্চয়ই কোনো সম্বন্ধ আছে। সেইজন্যেই দেহভান আসে। যার সাথে সম্বন্ধ থাকে তার কথাই তো মনে আসে। সুতরাং দেহভান আসার অর্থ হল দৈহিক কোনো সম্বন্ধ রয়েছে। শরীরের সাথে যদি সামান্যতম আকর্ষণও থাকে, তাহলে উড়বে কিভাবে ? ভারী বস্তুকে যতই উপরে ছোঁড়া হোক না কেন, সে পুনরায় নিচে নেমে আসে। তাই ফরিস্তা মানে যে হাল্কা, বোঝাহীন। জীবিত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করার অর্থই হল বোঝমুক্ত হওয়া। যদি সামান্য কিছু এখনও আছে, তাহলে সেটা শীঘ্রই শেষ করো। নাহলে যখন সময়ের বাঁশি বাজবে, তখন সবাই উড়তে থাকবে, আর যাদের বোঝা রয়েছে তারা নিচেই থেকে যাবে এবং যারা উড়বে তাদেরকে দেখতে থাকবে। তাই ভালোভাবে চেক করবে যে কোনো সূক্ষ্ম রশিও থেকে যায়নি তো ? বুঝেছ ? তাই আজকের এই বিশেষ বরদান সর্বদা মনে রাখবে - *‘তোমরা আত্মারা হলে নির্বন্ধন ফরিস্তা, বন্ধনমুক্ত আত্মা।’* ফরিস্তা শব্দটা কখনও ভুলবে না। ফরিস্তা মনে করলেই উড়ে যাবে। বরদাতার এই বরদান স্মরণে থাকলেই সর্বদা সমৃদ্ধশালী থাকবে।



*৩ )* সর্বদা নিজেকে শান্তির সন্দেশ প্রদানকারী, শান্তির বার্তা প্রচারকারী সন্দেশ বাহক (সন্দেশী) মনে করে ? ব্রাহ্মণ জীবনের কাজই হল বার্তা দেওয়া। এই কর্তব্যটিকে কখনও ভুলে যাও না তো ? প্রতিদিন চেক কর যে আমার মতো শ্রেষ্ট আত্মার যে শ্রেষ্ঠ কর্তব্য রয়েছে, সেটা কতটা পালন করেছি ? কতজনকে বার্তা দিয়েছি? কতজনকে শান্তির দান দিয়েছি ? তোমরা হলে মহান-দাতা, বরদাতা আত্মা, যারা সবাইকে বার্তা দেয়। কত টাইটেল (উপাধি) তোমাদের। বর্তমান দুনিয়ায় যত বড় বড় টাইটেল রয়েছে, তোমাদের তুলনায় সেইসব টাইটেল ছোটো। ওখানে তো আত্মারা টাইটেল দেয়। কিন্তু এখানে স্বয়ং বাবা বাচ্চাদেরকে টাইটেল দেন। তাই নিজের বিভিন্ন টাইটেলকে স্মরণে রেখে খুশিতে থাক এবং সেইরকম সেবাতেই সদা নিযুক্ত থাক । টাইটেল মনে থাকলেই সেবাটাও মনে পড়ে যাবে। আচ্ছা!



*বরদান:- একাগ্রতার শক্তি দ্বারা পর-বশীভূত স্থিতিকে পরিবর্তন করতে সক্ষম অধিকারী আত্মা হও*



ব্রাহ্মণ আত্মা মানে অধিকারী আত্মা। সে কখনও কোনো কিছুর বশীভূত হতে পারে না। নিজের দুর্বল স্বভাব সংস্কারের বশীভূতও হতে পারে না, কারণ, ‘স্ব-ভাব’ কথার অর্থই হল নিজের প্রতি এবং সকলের প্রতি আত্মিক ভাব। তাই দুর্বল স্বভাবের বশীভূত সে হয় না এবং অনাদি-আদি সংস্কারের স্মৃতি দ্বারা দুর্বল সংস্কারও সহজেই পরিবর্তন হয়ে যায়। একাগ্রতার শক্তি পর-বশীভূত স্থিতিকে পরিবর্তন করে মালিক ভাবের স্থিতির আসনে সেট করে দেয়।

বরদান:-

একাগ্রতার শক্তি দ্বারা পর-বশীভূত স্থিতিকে পরিবর্তন করতে সক্ষম অধিকারী আত্মা হও

ব্রাহ্মণ আত্মা মানে অধিকারী আত্মা। সে কখনও কোনো কিছুর বশীভূত হতে পারে না। নিজের দুর্বল স্বভাব সংস্কারের বশীভূতও হতে পারে না, কারণ, ‘স্ব-ভাব’ কথার অর্থই হল নিজের প্রতি এবং সকলের প্রতি আত্মিক ভাব। তাই দুর্বল স্বভাবের বশীভূত সে হয় না এবং অনাদি-আদি সংস্কারের স্মৃতি দ্বারা দুর্বল সংস্কারও সহজেই পরিবর্তন হয়ে যায়। একাগ্রতার শক্তি পর-বশীভূত স্থিতিকে পরিবর্তন করে মালিক ভাবের স্থিতির আসনে সেট করে দেয়।

স্লোগান:-

ক্রোধ হল জ্ঞানী আত্মার মহাশত্রু।