10.02.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - সবাইকে এই খুশীর খবর শোনাও যে, ভারত পুনরায় স্বর্গ হতে চলেছে, হেভেনলী গড ফাদার এসে গেছেন"

প্রশ্নঃ -
যে বাচ্চাদের স্বর্গের মালিক হওয়ার নেশা থাকে তাদের লক্ষণ কেমন হবে ?

উত্তরঃ -
তাদের মনে কোনোরূপ দুঃখ আসতে পারে না। তাদের মধ্যে এই নেশা থাকে যে, আমি হলাম শ্রেষ্ঠ আত্মা, অসীম জগতের বাবা আমাদেরকে এইরকম (লক্ষ্মী-নারায়ণ) তৈরী করছেন। তাদের আচার-আচরণ অনেক রাজকীয় হবে। তারা অন্যদেরকে এই খুশীর খবর না শুনিয়ে থাকতে পারবে না।

ওম্ শান্তি ।
বাবা বুঝিয়ে দেন আর বাচ্চারাও এটা জানে যে, মুখ্যতঃ ভারত তথা সমগ্র বিশ্বে এই খুশীর খবর পৌঁছে দিতে হবে। তোমরা সবাই হলে বার্তা বাহক, অত্যন্ত খুশীর এই সুখবর সবাইকে দিতে হবে যে, ভারত পুনরায় স্বর্গ হচ্ছে অথবা ভারতে পুনরায় স্বর্গের স্থাপন হচ্ছে। বাবা, যাঁকে হেভিনলী গড ফাদার বলা হয়, তিনিই স্বর্গের স্থাপনা করতে এসেছেন। বাচ্চারা তোমাদের প্রতি এই নির্দেশ আছে যে, এই খুশীর খবর সবাইকে ভালো রীতিতে শোনাও। প্রত্যেকেই নিজের ধর্ম নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে। তোমরাও উদ্বিগ্ন থাকো, তোমরা খুশীর খবর শোনাতে থাকো, ভারতে সূর্যবংশী দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা হচ্ছে অর্থাৎ ভারত পুনরায় স্বর্গ হচ্ছে। তোমাদের মধ্যে এই খুশি হওয়া চাই - এখন আমরা স্বর্গের মালিক হতে চলেছি। যাদের মধ্যে এই খুশী থাকে, তাদের কোনোপ্রকারের দুঃখের অনুভব হয়না। এটাতো বাচ্চারা জানে যে, নতুন দুনিয়া স্থাপন করতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অবলা নারীদের উপর অনেক অত্যাচার হয়। বাচ্চাদের সর্বদাই এই স্মৃতিতে থাকতে হবে যে, আমরা ভারতে অসীম জগতের খুশীর খবর শোনাচ্ছি। যেরকম বাবা পর্চা (প্রচার পত্র) ছাপিয়েছেন, ভাই-বোনেরা এসে এই খুশীর খবর শোনো। সারাদিন এই চিন্তাই থাকে যে, কিভাবে সবাইকে এই খুশীর খবর শোনাবো। অসীম জগতের বাবা অসীম জগতের আশীর্বাদ দিতে এসেছেন। এই লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র দেখে সারাদিন খুশীতে থাকতে হবে। তোমরা হলে শ্রেষ্ঠ আত্মা, এইজন্য তোমাদের মধ্যে কোনোরূপ বন্য আচরণ যেন না থাকে। তোমরা জানো যে, তোমরা বাঁদরের থেকেও অধম ছিলে। এখন বাবা তোমাদেরকে এইরকম দেবী-দেবতা তৈরি করছেন। তাই তোমাদের অনেক খুশীতে থাকতে হবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাচ্চাদের মধ্যে না সেই খুশী থাকে আর না সেই উৎসাহের সাথে সবাইকে এই খুশীর খবর শোনায়। বাবা তোমাদেরকে বার্তাবাহক বানিয়েছেন। সকলের কানে এই খুশীর খবর দিতে থাকো। ভারতবাসীরা এটা জানেইনা যে, আমাদের আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম কবে রচিত হয়েছিলো? তারপর কোথায় গেলো? এখন তো শুধু চিত্রই আছে। অন্যান্য সকল ধর্ম আছে, কিন্তু শুধু আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম নেই। ভারতের মধ্যেই এইসব চিত্র আছে। ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপন করেন। তাই তোমরা সবাইকে এই খুশীর খবর শোনাও তো তোমাদের মধ্যেও এই খুশী থাকবে। প্রদর্শনীতে তোমরা সবাইকে এই খুশীর খবর শোনাও, তাইনা! এখানে এসে অসীম জগতের বাবার থেকে অসীম জগতের আশীর্বাদ নাও। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ স্বর্গের মালিক ছিলেন, তাই না। তাহলে তাঁরা কোথায় গেলেন ? এটা কেউই বুঝতে পারেনা, এইজন্য বলা হয় যে, মুখটা মানুষের মতো, কিন্তু আচার-আচরণ একদম বাঁদর সমান। এখন তোমাদের মুখমন্ডল মানুষের মতো আর আচার-আচরণ দেবতাদের মতো হচ্ছে। তোমরা জেনে গেছো যে, তোমরা পুনরায় সর্বগুণ সম্পন্ন হচ্ছো। আবার অন্যদেরকেও এই পুরুষার্থ করাতে হবে। প্রদর্শনীতে সেবা করা তো খুব ভালো। যার গৃহস্থ ব্যবহারের কোনো বন্ধন নেই, বাণপ্রস্থী আছে অথবা বিধবা আছে, কুমারী আছে, তাদের তো সেবা করার অনেক সুযোগ আছে। তাদের সেবাতে লেগে যাওয়া উচিৎ। এই সময় বিবাহ করা মানে নিজের সর্বনাশ করা, বিবাহ না করাই ভালো। বাবা বলেন যে, এই মৃত্যুলোক, পতিত দুনিয়ার বিনাশ হয়ে যাবে। পবিত্র দুনিয়ায় যেতে হবে, তাই তোমাদেরকে সেবাতে লেগে যাওয়া উচিত । এখন তোমাদের প্রদর্শনীর পর প্রদর্শনী করতে হবে। যে সেবাধারী বাচ্চা হবে, তার সেবা করার অনেক শখ থাকবে। কোনো কোনো বাচ্চা বাবাকে বলে যে, বাবা আমি চাকরী ছেড়ে দেবো? বাবা দেখেন যে, এই বাচ্চা ভালো সেবা করতে পারে, তখন তাকে সেবা করার জন্য সম্মতি দেন। এইরকম খুশীর খবর সবাইকে শোনানো চাই। বাবা বলেন যে, এসে নিজের রাজ্য-ভাগ্য গ্রহণ করো। তোমরা ৫ হাজার বছর আগেও রাজ্য-ভাগ্য নিয়েছিলে, এখন পুনরায় গ্রহণ করো। শুধু আমার শ্রীমতে চলো।

দেখতে হবে যে আমার মধ্যে কি কি অপগুণ আছে? তোমরা এই ব্যাজের উপর তো অনেক সেবা করতে পারো, এটা সেবা করার খুব ভালো সাধন। হয়তো এই ব্যাজের ক্রয়মূল্য খুবই কম, কিন্তু এর দ্বারা অনেক উঁচু পদ প্রাপ্ত করতে পারো। সাধারণ মানুষ পড়াশোনা করার জন্য বই আদি ক্রয় করতে অনেক অর্থ ব্যয় করে। এখানে তো বইপত্রের কথা নেই। শুধু সকলের কানে এই খুশীর খবর দিতে হবে, এটাই হলো বাবার সত্য মন্ত্র। অন্যরা তো মিথ্যা মন্ত্র দিয়ে দেয়। মিথ্যা জিনিসের কোনো মূল্য হয়না। হীরের মূল্য হয়, নাকি পাথরের। এই যে গায়ন আছে যে, এক একটি কথা লক্ষ টাকার সমান। সেটা এই জ্ঞানের জন্যই বলা হয়েছে। বাবা বলেন যে, শাস্ত্র তো অনেক আছে। তুমি অর্ধকল্প পড়াশোনা করে এসেছো, তার থেকে তো কিছু প্রাপ্ত হয়নি। এখন তোমাদেরকে জ্ঞানরত্ন দিচ্ছি। সেটা তো হল শাস্ত্রের অথরিটি। বাবা তো হলেন জ্ঞানের সাগর। তাঁর এক একটি জ্ঞানের পয়েন্ট লক্ষ কোটি টাকার সমান। তোমরা বিশ্বের মালিক হও। সেখানে গিয়ে পদ্মপতি হও। এই জ্ঞানেরই মহিমা হয়। তারা তো শাস্ত্র আদি পড়ে কাঙ্গাল হয়ে যায়। তাই এখন এই জ্ঞানরত্নের দানও করতে হবে। বাবা খুব সহজ যুক্তি বলে দেন। বলো, তোমরা নিজের ধর্মকে ভুলে বাইরে দিকভ্রান্ত হচ্ছো। তোমরা ভারতবাসীরা আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের ছিলে, সেই ধর্ম এখন কোথায় গেল? ৮৪ লক্ষ যোনী বলার কারণে কোনো কথাই বুদ্ধিতে বসেনা। এখন বাবা বোঝাচ্ছেন যে, তুমি আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের ছিলে, পুনরায় ৮৪ জন্ম নিয়েছো। এই লক্ষ্মী-নারায়ণও আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের ছিলেন, তাই না। এখন ধর্মভ্রষ্ট-কর্মভ্রষ্ট হয়ে গেছেন। অন্যান্য সব ধর্ম আছে, শুধু আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মই নেই। যখন এই ধর্ম ছিলো, তখন অন্য কোনো ধর্ম ছিলো না। কত সহজ আছে। ইনি হলেন বাবা, আর ইনি দাদা। প্রজাপিতা ব্রহ্মা আছেন তো বি.কে-রাও অগণিত হবে, তাই না। বাবা এসে রাবণের জেল থেকে, শোক বাটিকা থেকে মুক্ত করেন। শোক বাটিকার অর্থও কেউ বোঝে না। বাবা বলেন যে, এটা হল শোকের অর্থাৎ দুঃখের দুনিয়া। সেটা তো হল সুখের দুনিয়া। তোমরা নিজেদের শান্তির দুনিয়া আর সুখের দুনিয়াকে স্মরণ করতে থাকো। নিরাকারী (Incorporeal World) দুনিয়া বলা হয়, তাই না। ইংরাজি শব্দ তো খুব ভালো। ইংরাজি তো চলেই আসছে। এখন তো অনেক ভাষা হয়ে গেছে। মানুষ কিছুই বোঝেনা - এখন বলে যে, নির্গুণ বাল্য সংস্থা....নির্গুণ অর্থাৎ কোনো গুণ নেই। এইরকমই সংস্থা বানিয়ে দেয়। নির্গুণেরও অর্থ বোঝেনা। অর্থ না বুঝেই নাম রেখে দেয়। এরকম অনেক সংস্থা আছে। ভারতে একটাই আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের সংস্থা ছিলো, আর অন্য কোনো ধর্ম ছিলো না। কিন্তু মানুষ ৫০০০ বছরের পরিবর্তে কল্পের আয়ু লক্ষ বছর লিখে দিয়েছে। তাই এখন তোমাদের, সবাইকে এই অজ্ঞান অন্ধকার থেকে বের করতে হবে। সেবা করতে হবে। যদিও এই নাটক দৈবনির্দিষ্ট আছে, কিন্তু শিব বাবার যজ্ঞ থেকে খাবে, পান করবে, আর সেবা কিছুই করবেনা তো ধর্মরাজ অবশ্যই শাস্তি দেবে, এইজন্য বাবা এখন সাবধানী দিচ্ছেন। সেবা করা তো খুব সহজ আছে। প্রেম-পূর্বক কাউকে বোঝাতেই পারো। বাবার কাছে কারোর এমন সমাচার আসে যে, আমি মন্দিরে গিয়েছিলাম, গঙ্গাঘাটে গিয়েছিলাম। সকালে উঠে মন্দিরে যায়, ধর্মীয় মানসিকতা যুক্ত আত্মাদের বোঝানো সহজ হবে। সবথেকে ভালো হলো লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরে গিয়ে সেবা করা। আচ্ছা, তাঁদেরকে এইরকম তৈরী করেছেন শিববাবা, সেখানে গিয়ে বোঝাও। জঙ্গলে আগুন লেগে যাবে, এইসব কিছু শেষ হয়ে যাবে, তারপর তোমাদের অভিনয়ও সমাপ্ত হয়ে যাবে। তোমরা গিয়ে রাজবংশে জন্ম নেবে। রাজ্যপদ কিভাবে প্রাপ্ত হবে, সেটা পরে জানতে পারবে। নাটকে আগে থেকেই অল্প একটু শুনিয়ে দেবো। তোমরা জেনে যাবে যে, তোমরা কি পদ পাবে। যে বেশী দান-পূণ্যাদি করবে, সে রাজার পদ প্রাপ্ত করবে, তাই না। রাজার কাছে ধন-সম্পদ অনেক থাকে। এখন তোমরা অবিনাশী জ্ঞান রত্নের দান করতে থাকো।

ভারতবাসীদের জন্যই এই জ্ঞান আছে। বলো, আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের স্থাপনা হচ্ছে, পতিত থেকে পবিত্র বানাতে বাবা এসেছেন। বাবা বলেন যে, আমাকে স্মরণ করা কত সহজ আছে। কিন্তু এতটাই তমোপ্রধান বুদ্ধি হয়ে গেছে যে, কিছুই ধারণা হয় না। বিকারের প্রবেশ হয়। বণ্য পশুও অনেক ধরনের হয়, কারোর মধ্যে ক্রোধের পরিমান অনেক বেশী থাকে, প্রত্যেক পশুর স্বভাব আলাদা-আলাদা হয়। দুঃখ দেওয়ার জন্য ভিন্ন ভিন্ন স্বভাবের হয়। সবথেকে প্রথম দুঃখদায়ী বিকার হলো কাম কাটারি চালানো। রাবণের রাজ্যেই এই বিকার থাকে। বাবা তো প্রত্যেকদিন বোঝাতে থাকেন যে, অনেক ভালো ভালো বচ্চীরা আছে, বেচারী জেলের মধ্যে বন্দী আছে, যাকে বন্ধনে আবদ্ধ বলা হয়। বাস্তবে তাদের মধ্যে যদি জ্ঞানের পরাকাষ্ঠা হয়ে যায়, তাহলে তাদেরকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না। কিন্তু মোহের ধাগাও কম নয়। সন্ন্যাসীদেরও ঘর-পরিবারের কথা স্মরণে আসে, অনেক কষ্ট করে সেই মোহের ধাগা কাটাতে হয়। এখন তোমাদেরকে তো মিত্র-সম্বন্ধী আদি সবাইকে তো ভুলতেই হয়, কেননা এই পুরানো দুনিয়াই শেষ হয়ে যাবে। এই শরীরকেও ভুলে যেতে হবে। নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। পবিত্র হতেই হবে। ৮৪ জন্মের অভিনয় তো করতেই হবে। তার আগে তো কেউই বাড়ি ফিরে যেতে পারবে না। এখন নাটক সম্পূর্ণ হচ্ছে। বাচ্চারা তোমাদের মধ্যে অনেক খুশী থাকা চাই। এখন আমরা নিজেদের ঘরে ফিরে যাচ্ছি। অভিনয় সম্পূর্ণ হয়েছে, উৎকন্ঠা হওয়া চাই যে- বাবাকে সবসময় স্মরণ করবো। স্মরণের দ্বারাই বিকর্ম বিনাশ হবে। ঘরে গিয়ে পুনরায় সুখধামে আসবো। কেউ মনে মনে ভাবে যে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই দুুনিয়া ছেড়ে চলে যাবো। কিন্তু যাবে কোথায় ? প্রথমে উঁচু পদ পাওয়ার জন্য পরিশ্রম তো করতেই হবে, তাই না। প্রথমে নিজের নাড়ি দেখো - তোমরা কতখানি যোগ্য হতে পেরেছো? স্বর্গে গিয়ে কি করবে? প্রথমে তো যোগ্য হতে হবে, তাই না! বাবার সুপুত্র বাচ্চা হতে হবে। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ যোগ্য সুপুত্র আছেন, তাই না। বাচ্চাদেরকে দেখে ভগবানও বলেন যে, এ খুব ভালো, সেবা করার যোগ্য আছে। আবার কোনো কোনো বাচ্চাকে বলতে হয় যে, এ সেবা করার যোগ্য নয়। নিজেই নিজের পদ নষ্ট করে। বাবা তো সত্য কথা বলেন, তাই না। আহ্বানও করে - পতিত-পাবন এসো, এসে সুখধামের মালিক বানাও। তারা তো অসীম সুখ প্রার্থনা করে। তাই বাবা বলেন যে, কিছু তো সেবা করার যোগ্য হও। যে আমার ভক্ত হবে, তাকে এই খুশীর খবর শোনাও যে, এখন শিববাবা আশীর্বাদ দিতে এসেছেন। তিনি বলেন যে, - আমাকে স্মরণ করো আর পবিত্র হও তো পবিত্র দুনিয়ার মালিক হয়ে যাবে। এই পুরানো দুনিয়ায় আগুন লেগে যাবে। সামনে তোমাদের লক্ষ্যকে দেখো, তাহলে অনেক খুশীতে থাকতে পারবে। কারণ তোমাদেরকে এরকম হতে হবে। সারাদিন বুদ্ধিতে এটাই স্মরণ থাকলে কখনোই কোনো পাপকর্ম হবেনা। আমরা এরকম হতে চলেছি, তাহলে আমরা খারাপ কাজ কি করে করতে পারি ? কিন্তু কারোর বুদ্ধিতে না থাকলে তো এরকম যুক্তিও রচনা করতে পারেনা, নিজের উপার্জন করে না। প্রাপ্তি তো অনেক শ্রেষ্ঠ হয়। ঘরে বসে সবাইকে নিজের উপার্জন করতে হবে আর অন্যদেরকেও করাতে হবে। ঘরে বসে এই স্বদর্শন চক্র ঘোরাও। অন্যদেরকেও স্বদর্শন চক্রধারী বানাতে হবে। যত বেশী পরিমান আত্মাদেরকে স্বদর্শন চক্রধারী বানাবে, তত বেশী তোমার পদও শ্রেষ্ঠ হবে আর এই লক্ষ্মী-নারায়ণের মতো হতে পারবে, তোমাদের উদ্দেশ্যই এটা আছে। সবাই সূর্যবংশী হওয়ার জন্যই তো হাত তোলে। এই চিত্রও প্রদর্শনীতে অনেক কাজে আসবে। এর উপর বোঝাতে হবে। আমাদেরকে সর্বোচ্চ বাবা যাকিছু শোনাচ্ছেন, সেটাই আমরা শুনি। ভক্তিমার্গের কোনো কথা শুনতে আমরা পছন্দ করি না। এই চিত্র তো খুব ভালো জিনিস আছে। এর উপর তোমরা খুব ভালো সেবা করতে পারো। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) নিজের নাড়ি টিপে দেখতে হবে যে, আমি কতখানি যোগ্য হতে পেরেছি ? যোগ্য হয়ে সেবা করার প্রমাণ দিতে হবে। জ্ঞানের পরাকাষ্ঠার দ্বারা বন্ধনমুক্ত হতে হবে।

২ ) এক বাবার শ্রীমতে চলে অপগুণগুলিকে ভিতর থেকে বের করে দিতে হবে। দুঃখদায়ী স্বভাবকে ছেড়ে সুখদায়ী হতে হবে। জ্ঞানরত্নের দান করতে হবে।

বরদান:-
নিয়তি নির্ধারিত জেনেও শ্রেষ্ঠ কর্মগুলির প্রত্যক্ষরূপ দান করে সর্বদা সমর্থ ভব

ব্যাখ্যা :- নতুন শ্রেষ্ঠ জগৎ সৃষ্টি হতে চলেছে, এই নিশ্চিত ভবিষ্যতকে জেনেও *সমর্থ ভব*-র বরদানী বাচ্চারা শুধুমাত্র কর্ম আর ফলের, পুরুষার্থ আর প্রালব্ধের, নিমিত্ত আর নির্মাণের কর্ম দর্শন অনুসারে নিমিত্ত হয়ে কার্য করে। জগৎবাসী কোনো আশার আলো দেখতে পায় না। আর তোমরা বলো যে, এই কার্য অনেকবার হয়েছে, এখনও হয়েই আছে। কেননা স্ব-পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রমাণের সামনে কোনো প্রমাণের আবশ্যকতাই নেই। সাথে সাথে পরমাত্ম কার্য সর্বদা সফল হয়ে আছেই।

স্লোগান:-
কথা কম, কাজ বেশী - এই শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য মহান বানিয়ে দেবে।