১০-০৩-১৯ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ ০১-০৫-৮৪ মধুবন


বিস্তারে সারের সৌন্দর্য

আজ রচয়িতা বাবা তাঁর নিজের রচনা দেখছেন অর্থাৎ তাঁর প্রথম রচনা ব্রাহ্মণ আত্মাদের দেখছেন l তোমরা শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ আত্মারা সর্বাপেক্ষা প্রথম রচনা, আর এইজন্য বাকি রচনার থেকে তোমরা অধিক প্রিয় l ব্রহ্মা দ্বারা সবচেয়ে উচ্চ থেকেও উচ্চতম রচনা তোমরা মুখ-বংশাবলী মহান আত্মা, ব্রাহ্মণ আত্মারা l দেবতার থেকেও অধিক শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ আত্মা, এমন গায়ন আছে l ব্রাহ্মণই ফরিস্তা তথা দেবতা হয় l যাই হোক, আদি পিতা দ্বারা ব্রাহ্মণ জীবন প্রথম সঙ্গমযুগী জীবন l আদি সঙ্গমবাসী ব্রাহ্মণ আত্মারা জ্ঞানস্বরূপ, ত্রিকালদর্শী এবং ত্রিনেত্রী l যে আত্মারা সাকার সৃষ্টিতে সাকার রূপে পরমাত্মার সাথে মিলিত হয়, তারা সর্ব সম্বন্ধে আকর্ষণ এবং পরমাত্মার অবিনাশী ভান্ডারের অধিকারের দায়িত্ব প্রতিপালনের অনুভব করে l "আমরা ব্রহ্মা বাবা দ্বারা শিববাবাকে দেখেছি, পেয়েছি" - সাকারস্বরূপে ব্রাহ্মণ-সকল এই গীত গেয়েছে, এটা দৈবী জীবনের গীত নয় l সাকার সৃষ্টিতে তোমাদের স্থূল নেত্র দিয়ে পিতৃদ্বয়কে দেখা, তাঁদের সঙ্গে ভোজন গ্রহণ, তাঁদের সঙ্গে চলা, তাঁদের সঙ্গে কথা বলা, তাঁদের থেকে শোনা, প্রতিটা চরিত্র অর্থাৎ দিব্য কার্যকলাপ অনুভব করা, বিচিত্রকে চিত্রে দেখার এই শ্রেষ্ঠ ভাগ্য ব্রাহ্মণ জীবনের l



শুধুমাত্র ব্রাহ্মণই বলে, বাবার রূপে আমরা ভগবানকে দেখেছি l মাতা, সখা, বন্ধু, পতিরূপে আমরা তাঁকে দেখেছি l ঋষি, মুনি, তপস্বী, বিদ্বান, আচার্য, শাস্ত্রী শুধু মহিমাই গেয়েছে l তারা পলকমাত্র দর্শনের অভিলাষী হয়ে থেকে গেছে, তিনি কবে আসবেন, কবে তাঁর সাক্ষাৎ হবে, তাঁর সাথে মিলিত হওয়ার অপেক্ষায় বহু জন্মের চক্রে তারা চলতেই থেকেছে l যতই হোক, ব্রাহ্মণ আত্মারা আনন্দ-উচ্ছ্বলতার সাথে, প্রত্যয়ের সাথে, তাদের হৃদয়ের খুশি আর নেশার সাথে বলে, "আমাদের বাবাকে আমরা পেয়ে গেছি l" তাঁকে পাওয়ার জন্য তারা তৃষ্ণার্ত আর তোমরা সেখানে মিলন উদযাপন কর l

*● ব্রাহ্মণ জীবন অর্থাৎ অবিনাশী, অক্ষয়, অচল, অনড় সর্বপ্রাপ্তিস্বরূপ জীবন l

● ব্রাহ্মণ জীবন এই কল্প বৃক্ষের ফাউন্ডেশন, মূল l

● ব্রাহ্মণ জীবনের আধারে এই বৃক্ষের বৃদ্ধি প্রাপ্তি ঘটে l

● ব্রাহ্মণ জীবনের মূল দ্বারা সমস্ত ভ্যারাইটি আত্মারা বীজ থেকে মুক্তি এবং জীবন মুক্তির প্রাপ্তির জল গ্রহণ করে l

● ব্রাহ্মণ জীবনের আনুকূল্যে ডালপালা বিস্তৃত হয় l

● সুতরাং ব্রাহ্মণ আত্মারা বংশাবলীর সকল ভ্যারাইটির পূর্বজ l

● ব্রাহ্মণ আত্মারা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ কার্যের নবীকরণের সূচনা করে l

● ব্রাহ্মণ আত্মারাই অশ্বমেধ রাজস্ব যজ্ঞ, জ্ঞান যজ্ঞ রচনাকারী শ্রেষ্ঠ আত্মা l

● ব্রাহ্মণ আত্মারা সকল আত্মার ৮৪ জন্মের জন্মপত্রিকা জানে l

● ব্রাহ্মণ আত্মারা ভাগ্যবিধাতার থেকে সকল আত্মার শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের শ্রেষ্ঠ রেখা টেনে আনে l

● ব্রাহ্মণ আত্মারা মুক্তি এবং জীবনমুক্তির অভিমুখে মহান যাত্রায় আত্মাদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার নিমিত্ত l

● ব্রাহ্মণ আত্মারা সকল আত্মাকে বাবার সাথে গণবিবাহ করায় l

● ব্রাহ্মণ আত্মারা তাদের হাত পরমাত্ম হাতে রেখে বন্ধনী বাঁধে l

● ব্রাহ্মণ আত্মারা জন্মের পর জন্ম ধরে সদা পবিত্রতার বন্ধনে বেঁধে যায় l

● ব্রাহ্মণ আত্মারা আমরকথা শুনিয়ে সকলকে অমর বানায় l*

বুঝেছ, কত মহান আর কত দায়িত্বশীল আত্মা তোমরা ! তোমরা পূর্বজ l পূর্বজ যেমন হয়, তেমনই তাদের বংশাবলী তৈরি হয় l তোমরা সাধারণ নও l তোমরা শুধু তোমাদের পরিবারের বা কোন সেবাস্থানের জন্য দায়বদ্ধ নও, এইরকম সীমিত পরিসরের (হদের ) জন্য তোমাদের দায়বদ্ধতা নেই l বিশ্বের আত্মাদের আধারমূর্ত, উদ্ধারমূর্ত তোমরা l প্রত্যেক ব্রাহ্মণ আত্মার বেহদের দায়িত্ব থাকে l যদি কেউ বেহদের দায়িত্ব পালন না করে, তবে নিজের লৌকিক প্রবৃত্তি বা অলৌকিক প্রবৃত্তিতে কখনো উড়তি কলা, কখনো আরোহণ কলা, কখনো চলমান কলা, কখনো নিরস্ত কলা- এইরকম কলাবাজিতেই সময় ব্যয় করে দেবে, সুতরাং সে ব্রাহ্মণ নয়, বরং ক্ষত্রিয় আত্মা l এমন আত্মারা তাদের পুরুষার্থের চমৎকৃত ভাবের কথা বলতে থাকে, "আমি এটা করব, এইভাবে করব", আর 'করব'-র তিরে তাদের লক্ষ্যকে বিদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যায় l লক্ষ্যবস্তুর দিকে শুধুমাত্র নিশানা করা আর নিশানা বিদ্ধ করার মধ্যে ফারাক আছে l তারা শুধু লক্ষ্যের দিকে নিশানা লাগানোর চেষ্টাতেই থেকে যায় l "এখন আমি এটা করব, এইভাবে করব", এইরকমভাবে তারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে চেষ্টা করতে থাকে l এমন আত্মাদের বলা হয় ক্ষত্রিয় আত্মা l ব্রাহ্মণ আত্মারা লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা বানায় না, তারা তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে স্থিত হয় l সবসময় তাদের বুদ্ধিতে সতর্ক নিশানা থাকে l সেকেন্ডের সঙ্কল্পে তারা বিজয়ী হয়ে যায় l বাপদাদা ব্রাহ্মণ বাচ্চা আর ক্ষত্রিয় বাচ্চা উভয়ের খেলা দেখতে থাকেন l ব্রাহ্মণদের বিজয়ের খেলা আর ক্ষত্রিয়দের সদা তির ধনুকের বোঝা ওঠানোর খেলা l তাদের পুরুষার্থে পরিশ্রমের ধনুক সবসময়ই থাকে l তারা একটা সমস্যা সমাধান করার সাথে সাথে আরেকটা সমস্যা দাঁড়িয়ে যায়, সেখানে ব্রাহ্মণ সমাধান স্বরূপ l ক্ষত্রিয় বারবার সমস্যা সমাধান করাতেই লেগে থাকে l সাকাররূপে বাবা যেমন তোমাদের মজাদার গল্প শোনাতেন, ক্ষত্রিয়রা কি করছে ! একটা কাহিনী আছে না যে তুমি ইঁদুর সরালে তো বিড়াল এসে গেল ... ! আজ ধনের সমস্যা, কাল মনের সমস্যা, পরশু শারীরিক অথবা সম্বন্ধ-সম্পর্কের সমস্যা l তারা পরিশ্রমেই ব্যাপৃত থাকে l তাদের একটা না একটা কম্পলেন্ট অবশ্যই থাকবে, সেটা নিজেদেরই হোক বা অন্য কারও l এইভাবে সময়-সময়ে কোনও না কোনো পরিশ্রমে নিযুক্ত বাচ্চাদের দেখে বাপদাদা তাঁর সকরুণ দয়ালু রূপে তাদের ক্ষমাও করে দেন l



সঙ্গমযুগের ব্রাহ্মণ জীবন দিলারামের হৃদয়ে আরাম করার সময় l তাঁর হৃদয়ে আরামে ব'সো l ব্রহ্মা ভোজন খাও আর জ্ঞানামৃত পান কর l শক্তিশালী সেবা কর আর হৃদয় সিংহাসনে আরামে সুখানুভবে থাক l কেন ব্যর্থ পরিশ্রমে ক্লান্ত হচ্ছ ? "হায় রাম!" বলতে নেই, কিন্তু ও বাবা অথবা ও দাদী দিদি তো বলো, নয় কি ? ও বাবা, ও দাদী দিদি আমারটা শোন, কিছু কর ...এটা অধোগামী হওয়া l এই যুগ আরামে থাকার যুগ l রূহানী আনন্দে থাক l এই সুন্দর দিনগুলো রূহানী আনন্দে অতিবাহিত কর l বিনাশী জিনিসের আনন্দ ক'রনা l গাও, নাচো, কিন্তু নিস্তেজ হয়ো না l পরমাত্ম আনন্দে এখন কালাতিপাত করবে না তো, আর কবে করবে ! রূহানী গরিমায় ব'সো l কেন অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছ ? বাবার আশ্চর্য লাগে, পিঁপড়ের মতো ছোট বিষয়ও তোমাদের বুদ্ধি পর্যন্ত পৌঁছে যায়, বুদ্ধিযোগ বিচলিত করে l পিঁপড়ে কামড়ালে যেমন তোমাদের শরীর অস্থির হয়, উসখুস করে, ঠিক একইভাবে, ক্ষুদ্র বিষয়ও তোমাদের বুদ্ধিকে বিচলিত করে দেয় l পিঁপড়ে যদি হাতির কানে যায় তো সেটা হাতিকেও অচেতন করে দেয়, নয় কি ! একইভাবে ব্রাহ্মণ আত্মাও অচেতন হয়ে ক্ষত্রিয় অবস্থায় উপনীত হয় l বুঝেছ, কি খেলা খেল তোমরা ? ক্ষত্রিয় হয়ো না l নয়তো, ত্রেতাযুগী রাজত্বই তোমরা পাবে l সত্যযুগী দেবতারা ভোজনপান করে অবশিষ্ট যা থাকবে, তা' ত্রেতাযুগে ক্ষত্রিয় পাবে l কর্ম-ক্ষেতের প্রথম ফসল ব্রাহ্মণ তথা দেবতাদের লাভ হয়, আর দ্বিতীয় ফসল ক্ষত্রিয়ের l প্রথম ফসলের আর দ্বিতীয় ফসলের স্বাদের মধ্যে কি পার্থক্য হয় সে তো তোমরা জান, নয় কি ! আচ্ছা !



*মহারাষ্ট্র আর ইউ.পি.জোনঃ-* মহারাষ্ট্রের বিশেষত্ব আছে, নাম যেমন মহারাষ্ট্র সেইরকম মহান আত্মারূপী সুন্দর ফুলের তোড়া বাপদাদাকে উপহার দেবে l মহারাষ্ট্রের রাজধানী সুন্দর আর সম্পন্ন l সুতরাং মহারাষ্ট্রকে এমন গণ্যমান্য এবং বিশুদ্ধ চরিত্র আত্মাদের সম্পর্কে নিয়ে আসতে হবে l এই কারণে তোমরা বলেছ, আত্মাদের মহান আত্মায় পরিপক্ক করে সুন্দর ফুলের তোড়া বানিয়ে বাবার সামনে উপস্থাপিত করবে l এখন অন্তিম সময়ে সেই সম্পদেরও পার্ট আছে l তোমাদের সম্বন্ধিতদের পার্ট নেই, কিন্তু তোমাদের সম্পর্কিতদের পার্ট আছে l বুঝেছ তোমরা !



ইউ.পি.তে সপ্তম আশ্চর্যের একটি আশ্চর্য (ওয়ান্ডার অফ দ্য ওয়ার্ল্ড) তাজমহল আছে যা দেশে বিদেশে প্রসিদ্ধ l ইউ.পি. তে যেমন বিশ্বের অন্যতম ওয়ান্ডারফুল জিনিস আছে, সেইরকম যারা ইউ. পি.র তাদের সেবার ওয়ান্ডারফুল প্রত্যক্ষ ফল প্রতীয়মান হতে হবে l যাতে ওয়ান্ডারফুল কাজ করার জন্য এবং ওয়ান্ডার অফ দ্য ওয়ার্ল্ড হওয়ার জন্য দেশে বিদেশে, ব্রাহ্মণ সংসারে তোমরা সুপরিচিত হও l এইরকমই ওয়ান্ডারফুল কাজ তোমাদের করতে হবে l শুধু গীতা পাঠশালা, সেন্টার থাকাই ওয়ান্ডারফুল নয়, যা এখনও কেউ করতে পারেনি, সেটা যদি করে তোমরা দেখাতে পার, একমাত্র তখনই বলা যাবে কিছু ওয়ান্ডারফুল করেছ ! বুঝেছ ! বিদেশীরাও এখন প্রত্যেক সিজনে উপস্থিত হয়ে যায় l যারা বিদেশে রয়েছে, তারা বিদেশের উপকরণের দ্বারা বিশ্বে দুই পিতাকে উপস্থিত করাবে l দৃষ্টিগোচর হওয়া অর্থাৎ এই স্থূল নজরে তারা তাঁদের দেখতে সমর্থ হবে l সুতরাং, বিশ্বের সামনে তোমরা এমন বাবাকে নয়নগোচরে আনবে l বিদেশের তোমরা বুঝেছ, কি করতে হবে তোমাদের ? আচ্ছা - আগামীকাল সমস্ত বরযাত্রী(ডবল বিদেশিরা) চলে যাচ্ছে ! অবশেষে, সেই দিনও আসবে, যখন হেলিকপ্টারও এখানে অবতরণ করবে l সব সাধনই তোমাদের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে l সত্যযুগে যেমন বিমান লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে, এখানে এখন বাস জীপ লাইন দিয়ে তৈরি থাকে l অবশেষে বিমানেরও লাইন হবে l সবাই ভয় পেয়ে এখানে ছুটে আসবে l তারা সবকিছু তোমাদের দিয়ে চলে যাবে l তারা শঙ্কিত হবে আর তোমরা উড়বে l মরণের ভয় তোমাদের নেই ! তোমরা তো আগে থেকেই মৃত l পাকিস্তানে (পার্টিশানের সময়) তোমরা স্যাম্পল দেখেছ, তাই না ? সবাই চাবি দিয়ে চলে গেছে l সুতরাং সমস্ত চাবি তোমরাই নিতে যাচ্ছ l সেসব শুধু তোমরা তত্ত্বাবধান করবে l আচ্ছা !



যারা তাদের জীবনে ব্রাহ্মণ জীবনের বিশেষত্ব রাখে, যারা শুধু স্থূল আরাম করে না, বরংদিলারাম বাবার হৃদয় সিংহাসনে রূহানী খুশি, রূহানী আরাম করে, সদা সঙ্গমযুগের শ্রেষ্ঠ গৌরব বজায় রেখে, যারা ততটাই ভালোবাসায় ডুবে যায় যে তাদের পরিশ্রমই ভালোবাসায় পরিণত হযে যায়, সেইরকম শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ আত্মাদের বাপদাদার স্মরণ- স্নেহ আর নমস্কার l

বরদান:-

জ্ঞানরত্ন ধারণপূর্বক ব্যর্থকে সমাপ্ত ক'রে হোলিহংস ভব

হোলিহংসের দু'টো বিশেষত্ব আছে l এক, জ্ঞানরত্ন কুড়ানো আর দুই, নির্ণয় শক্তি দ্বারা দুধ আর জল আলাদা করা l দুধ আর জলের অর্থ - সমর্থ আর ব্যর্থের নির্ণয় l ব্যর্থকে বলা হয় জলের মতন আর সমর্থ দুগ্ধসম l সুতরাং ব্যর্থকে সমাপ্ত করা অর্থাৎ হোলিহংস হওয়া l সর্বদা বুদ্ধিতে জ্ঞানরত্ন থাকতে দাও l যখন তোমাদের মনন অবিচ্ছিন্নভাবে চলবে, তখন রত্নরাজিতে তোমরা ভরপুর হবে l

স্লোগান:-

সদা যারা নিজের শ্রেষ্ঠ পজিশনে স্থিত থেকে অপজিশন (বিরুদ্ধাচরণ) সমাপ্ত করে তারাই বিজয়ী আত্মা l