10-05-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 08-01-86 মধুবন


ধরিত্রীর 'পবিত্র' নক্ষত্ররাজি


আজ জ্ঞান সূর্য বাবা তাঁর অনেক রকম বিশেষত্বে সম্পন্ন বিশেষ নক্ষত্রসমূহকে দেখছেন l প্রত্যেক নক্ষত্রের বিশেষত্ব বিশ্বকে পরিবর্তন করার আলোক প্রদান করে l আজকাল বিশ্বে বিশেষ নক্ষত্ররাজির খোঁজ চলছে, কারণ নক্ষত্রের প্রভাব পৃথিবীর উপরে পড়ে l সায়েন্সটিস্টরা আকাশের নক্ষত্রের অন্বেষণ করছে, বাপদাদা নিজের হোলি স্টার্সের বিশেষত্ব দেখছেন l যখন আকাশের নক্ষত্র এত দূর থেকে নিজের ভালো মন্দের প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তাহলে তোমরা হোলি স্টার্স এই বিশ্বকে পরিবর্তন করতে, পবিত্রতা-সুখ-শান্তিময় সংসার বানাতে কত সহজে তোমাদের প্রভাব বিস্তার করতে পার, তোমরা ধরিত্রীর নক্ষত্র, সেইসব তো আকাশের নক্ষত্র l তোমরা ধরিত্রীর নক্ষত্র এই বিশ্বকে অস্থিরতা থেকে রক্ষা ক'রে সুখী স্বর্ণালী দুনিয়ায় পরিণত কর l এই সময় প্রকৃতি এবং ব্যক্তি উভয়ই অস্থিরতা উৎপন্ন করার নিমিত্ত, কিন্তু তোমরা পুরুষোত্তম আত্মারা বিশ্বকে সুখের শ্বাস, শান্তির শ্বাস দেওয়ার নিমিত্ত হও l তোমরা ধরিত্রীর নক্ষত্র সকল আত্মার সব আশা পূরণকারী প্রাপ্তিস্বরূপ নক্ষত্র, সকলের নিরাশা আশায় রূপান্তরকারী তোমরা শ্রেষ্ঠ আশার নক্ষত্র l সুতরাং নিজেদের শ্রেষ্ঠ প্রভাব চেক করো - শান্তি-নক্ষত্র, হোলি-নক্ষত্র, সুখস্বরূপ নক্ষত্র, সদা সাফল্যের নক্ষত্র, সর্ব আশা পূরণকারী নক্ষত্র, সন্তুষ্টতার প্রভাবশালী নক্ষত্র হওয়ার প্রভাব বিস্তারের ঝলক এবং উৎকৃষ্টতা আমার কতটা আছে ! কতদূর পর্যন্ত তোমাদের প্রভাব বিস্তার করেছ ! প্রভাবের স্পীড কতটা ! যেভাবে জাগতিক নক্ষত্রের স্পীড চেক করা হয়, ঠিক সেইভাবে নিজের প্রভাবের স্পীড নিজেই চেক কর, কারণ এই সময়ে বিশ্বে তোমরা সব হোলি নক্ষত্রের আবশ্যকতা আছে l তাইতো বাপদাদা ভ্যারাইটি সব নক্ষত্রদের দেখছিলেন l

আধ্যাত্মিক এই সংগঠন কতো শ্রেষ্ঠ আর কতো সুখদায়ী l নিজেদের এইরকম প্রজ্জ্বলিত নক্ষত্র মনে কর ? লোকে যেমন সেইসব নক্ষত্রকে দেখার জন্য কতো উৎসুক ! এখন এমন সময় আসছে, যখন তোমরা সব হোলি নক্ষত্রকে দেখার জন্য সবাই অগ্রহান্বিত হবে l খুঁজে বেড়াবে তোমাদের, হোলি নক্ষত্রদের, এবং বিস্ময়বোধ করবে শান্তির এই প্রভাব, সুখের প্রভাব এবং স্থায়িত্বের প্রভাব কোথা থেকে আসছে ! এটাতেও তারা রিসার্চ করবে l এখন তো তারা প্রকৃতির মধ্যে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু যখন প্রকৃতির খোঁজে ক্লান্ত হয়ে যাবে তখন এই আধ্যাত্মিক রিসার্চ করার সঙ্কল্প আসবে l তার আগে তোমরা সব হোলি নক্ষত্র নিজেদের সম্পন্ন বানিয়ে নাও l যে কোনও গুণের তা' শান্তির হোক বা শক্তির বিশেষত্ব নিজের মধ্যে ভরে নিতে বিশেষ তীব্র গতিতে উদ্যোগী হও l তোমরাও রিসার্চ কর l সব গুণ তো আছেই, কিন্তু তবুও কমপক্ষে বিশেষভাবে একটা গুণের বিশেষত্বে নিজেকে সম্পন্ন বানাও l ডাক্তাররা যেমন হয়, জেনারেল রোগের নলেজ তো থাকেই, কিন্তু তার সাথে সাথে কারও কারও মধ্যে নির্দিষ্ট কোনও রোগের বিশেষ নলেজ থাকে l সেই বিশেষত্বের কারণে স্বনামপ্রসিদ্ধ হয়ে যায় l সুতরাং সর্বগুণসম্পন্ন হতেই হবে l তবুও একটা নির্দিষ্ট বিশেষত্ব বিশেষভাবে তোমাদের অনুভব করতে হবে, যা তোমরা সেবার জন্য প্রয়োগ করে অগ্রচালিত হও l যেমন, ভক্তিতেও প্রত্যেক দেবীর মহিমাতে, তাঁদের নিজস্ব বিশেষত্ব আলাদা আলাদাভাবে গাওয়া হয়ে থাকে l আর পূজাও হয় সেই বিশেষত্ব অনুসারে, যেমন তারা বিশেষভাবে সরস্বতীকে বিদ্যার দেবী রূপে মান্য করে এবং পূজাও করে l তিনি শক্তিস্বরূপ কিন্তু তাঁর বিশেষত্বের কারণে লোকে বিদ্যার দেবীরূপে পূজা করে l লক্ষীকে ধনদেবী রূপে পূজা করে l এইরকম তোমাদের মধ্যে সর্বগুণ, সর্বশক্তি থাকলেও বিশেষ একটা বিশেষত্বে বিশেষ রিসার্চ করে নিজেকে প্রভাবশালী বানাও l এই বছরে সব গুণের, সব শক্তির রিসার্চ কর l সব গুণের গভীরে যাও l এর গভীরতাতে তোমরা এর মহত্ত্বের অনুভব করতে পারবে l স্মরণের স্টেজের, পুরুষার্থের স্টেজের গভীরভাবে রিসার্চ কর, গভীরতায় যাও, ডিপ অনুভূতি কর l অনুভবের সাগর তলে যাও l শুধু উপরিভাগের তরঙ্গে তরঙ্গিত হওয়াই সম্পূৰ্ণ অনুভব নয়, বরং অন্তর্মুখী হয়ে গভীর অনুভবের সমুদয় রত্নে বুদ্ধিকে পরিপূর্ণ কর, কারণ প্রত্যক্ষতার সময় সমাসন্ন প্রায় l সম্পন্ন হও, সম্পূর্ণ হও তবেই সব আত্মার সামনে থেকে অজ্ঞানতার পর্দা সরে যাবে l তোমাদের সম্পূর্ণতার আলোয় এই পর্দা স্বতঃই উন্মোচিত হবে, সেইজন্য রিসার্চ কর l সার্চলাইট হও, শুধুমাত্র তখনই তোমরা বলতে পার যে তোমরা গোল্ডেন জুবিলি উদযাপন করেছ l

গোল্ডেন জুবিলির বিশেষত্ব, তোমাদের প্রত্যেকের থেকে অনুভব হতে দাও, তোমাদের দৃষ্টি থেকেও তাদের স্বর্ণালী শক্তির অনুভূতি হতে দাও l যেমন, লাইটের কিরণ আত্মাদের গোল্ডেন বানানোর শক্তি দিচ্ছে, সুতরাং তোমাদের প্রতিটা সঙ্কল্প, প্রতিটা কর্ম যেনগোল্ড হয় l তাদের গোল্ডেন বানানোর নিমিত্ত তোমরা l গোল্ডেন জুবিলির এই বছরে নিজেকে পরেশনাথের বাচ্চা মাস্টার পরেশনাথ মনে কর l লোহাসম যেমনই আত্মা হোক না কেন, কিন্তু স্পর্শমণির স্পর্শে লোহাও পরশমণি হয়ে যায় l এতো লোহা, এইরকম ভেবোনা, বরং মনে কর 'আমি পরশমণি l' পরশমণির কাজই হলো, লোহাকেও পরশমণি বানানো l এই লক্ষ আর লক্ষণ স্মৃতিতে রাখ, তবে হোলি নক্ষত্রদের প্রভাব বিশ্বের নজরে আসবে l বর্তমানে অসহায় মানুষ ঘাবড়ে যাচ্ছে, অমুক নক্ষত্র আসছে l পরে খুশি হবে যে হোলি নক্ষত্র আসছে l বিশ্বের চতুর্দিকে হোলি নক্ষত্রের ঝলকানি অনুভব হবে l সবার মুখে থেকে এই আওয়াজ বেরোবে - 'লাকি নক্ষত্র, সফলতার নক্ষত্র এসে গেছে l সুখ-শান্তির নক্ষত্র এসে গেছে l এখন তো দূরবীন নিয়ে দেখে, তাই না ! এরপরে তৃতীয় নয়ন, দিব্য নয়ন দ্বারা দেখবে l কিন্তু এই বছর প্রস্তুতির জন্য l ভালোভাবে নিজেরা প্রস্তুত হও l আচ্ছা - প্রোগ্রামে কি করবে ! বাপদাদা সূক্ষ্ম বতনে এই দৃশ্য ইমার্জ করেছেন, দৃশ্য কি ছিল ?

কনফারেন্সের স্টেজে তো তোমরা শুধু স্পিকারদেরই বসাও, তাই না ! কনফারেন্সের স্টেজ অর্থাৎ স্পিকার্সের স্টেজ l এই রূপরেখা তোমরা তো বানাও, তাই না ! টপিকের ওপরে ভাষণ তোমরা সদাই করে থাক আর তা' ভালোই কর, কিন্তু এই গোল্ডেন জুবিলিতে ভাষণের সময় কম করে প্রভাব অধিক হতে দাও l এই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন স্পিকার্স তাদের প্রভাবশালী ভাষণ করতে পারে, এর রূপরেখা কি হবে ? একদিন আধঘন্টার জন্য এই প্রোগ্রাম রাখ, আর বহির্ভাগের লোক বা বিশেষ বক্তার ভাষণও যদি চলে, তবুও আধঘন্টার জন্য স্টেজের একেবারে সামনে বিভিন্ন বয়সী অর্থাৎ একজন ছোট বাচ্চা, একজন কুমারী, এক পবিত্র যুগলকে বসতে দাও l প্রবৃত্তিতে থাকে এমন এক যুগল যেন থাকে l একজন প্রবীণ যেন থাকে l এই বিভিন্ন মানুষ স্টেজের উপরে অর্ধ-চন্দ্রাকারে বসে থাকবে আর লাইটও উজ্জ্বল হবে না, সাধারণ আলোই উচিত হবে l প্রত্যেককে তিন মিনিটের জন্য নিজেদের গোল্ডেন ভার্সন সম্পর্কে বলতে দাও - এই শ্রেষ্ঠ জীবন বানানোর জন্য তারা কি গোল্ডেন ভার্সন লাভ করেছে, যা দিয়ে নিজেদের জীবন তৈরি করে নিয়েছে ! একজন ছোট কুমার বা কুমারীও গোল্ডেন ভার্সন শোনাবে, বাচ্চাদের জন্য কি গোল্ডেন ভার্সন তারা লাভ করেছে ! কুমারী জীবনের জন্য কি গোল্ডেন ভার্সন লাভ হয়েছে, বাল-ব্রহ্মচারী যুগলের কি গোল্ডেন ভার্সন প্রাপ্ত হয়েছে ! আর প্রবৃত্তিতে থাকা ট্রাস্টি আত্মাদের গোল্ডেন ভার্সন কি লাভ হয়েছে ! বয়োজ্যেষ্ঠ, তার কি গোল্ডেন ভার্সনের প্রাপ্তি হয়েছে ! তাদের প্রত্যেককে তিন মিনিটের জন্য বলতে দাও l কিন্তু লাস্টে গোল্ডেন ভার্সন স্লোগান রূপে সভার সবাইকে পুনরাবৃত্তি করতে দাও l আর যার টার্ন স্লোগান বলার তার উপরে বিশেষ স্পট লাইট যেন থাকে, তাহলে আপনা থেকেই সকলের অ্যাটেনশন সেই ব্যক্তির দিকে যাবে l সাইলেন্সের যেন প্রভাব পড়ে l এমন যেন কেউ ড্রামা করছে, এইরকমই সীন হতে দাও l ভাষণ হতে দাও, কিন্তু দৃশ্য রূপে l তারা অল্পই বলুক, তিন মিনিটের বেশি না বলে l আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন l আর পরের দিন এই একই রূপরেখায় বিভিন্ন পেশায় যারা যুক্ত তাদের দ্বারা হতে দাও l যেমন, হয়তো কেউ কেউ ডাক্তার হবে, কেউ কেউ বিজনেস ম্যান হবে, অফিসার হবে .... এইরকম বিভিন্ন পেশার মানুষ তিন মিনিটের মধ্যেই যেন বলে যে, একজন অফিসারের ডিউটি পালন করেও কোন মুখ্য গোল্ডেন ধারণা প্রয়োগ করে তার কার্যে সফল থাকে l সফলতার সেই মুখ্য পয়েন্ট গোল্ডেন ভার্সন রূপে শোনাতে দাও l ভাষণই হবে, কিন্তু রূপরেখা সামান্য অন্যরকম হওয়ায় এই ঈশ্বরীয় জ্ঞান কতো বিশাল আর সব পেশার মানুষের জন্য তা' কিভাবে বিশেষ, সেটা তিন মিনিটের কথা হিসেবে শুধু অনুভব শোনানো নয়, বরং আরও অনেকে অনুভব করবে l বাতাবরণ এমন সাইলেন্স হতে দাও, যারা শুনছে তাদের কোনরকম বিশৃঙ্খলা তৈরি করার বা কোনকিছু বলার সাহস হবে না l প্রত্যেক ব্রাহ্মণের এই লক্ষ্য থাকতে হবে, যত সময় ধরে প্রোগ্রাম চলে সেই সময়, যেভাবে ট্রাফিক ব্রেকের রেকর্ড বাজলে তোমরা সবাই সাইলেন্সের একই বায়ুমন্ডল তৈরি কর, ঠিক সেইভাবেই এইবার এই বায়ুমন্ডলকে পাওয়ারফুল বানানোর জন্য মৌখিক ভাষণ নয়, বরং শান্তির ভাষণ করতে হবে l 'আমিও একজন স্পিকার এবং এর মধ্যে আমি বেঁধে আছি l' শান্তির ভাষাও কিছু কম নেই l ব্রাহ্মণদের এই বাতাবরণ অন্যদেরও সেই অনুভূতিতে নিয়ে আসে l যতটা সম্ভব অন্য সব কাজকর্ম সমাপ্ত করে সভার সময় বাতাবরণ শান্তিপূর্ণ করার জন্য সব ব্রাহ্মণকে তাদের সহযোগ দিতেই হবে l যদি কারও এইরকম নির্দিষ্ট ডিউটি থাকেও, তাহলে তার সামনে বসা উচিত নয় l সামনে বিশৃঙ্খলা হওয়া উচিত নয় l মনে কর, তিন ঘণ্টার ভাট্টি হবে, তখন তারা এমন বলবে যে ভাষণ ভালো ছিল ! বরং বলবে ভালো অনুভূতি হয়েছে l ভাষণের সাথে তাদের সেই অনুভূতিও তো আসতে হবে, তাই না ! ব্রাহ্মণরা যারাই আসে তাদের এই বোধের সাথে আসা উচিত যে ভাট্টিতে আমাদের অংশগ্রহণ করতে হবে l তোমরা শুধু কনফারেন্স দেখতে এসো না, বরং সহযোগী হয়ে এসো l অতএব, এইভাবে এমন শক্তিশালী বায়ুমন্ডল তৈরি কর, যাতে যেকোনো চঞ্চল আত্মাই অল্প সময়ের জন্য হলেও শান্তি আর শক্তির অনুভব করে যায় l তিন হাজার লোক এখানে বসে আছে এমন নয়, বরং তারা যেন উপলব্ধি করে এই সভা ফরিস্তাদের l কালচারাল প্রোগ্রামের সময় তারা হয়তো হাসতে পারে, আমোদ করতে পারে, কিন্তু কনফারেন্সের সময় শক্তিশালী বাতাবরণ হতে দাও l তখন অন্যান্য যারা আসবে তারাও সেইভাবেই বলবে l যেমন বায়ুমন্ডল তৈরি হয়, অন্যান্য বক্তাও তেমনই বায়ুমন্ডলের অধীন হয় l অতএব, স্বল্প সময়ে তাদের অনেক ধনভাণ্ডার দেওয়ার প্রোগ্রাম বানাও l শর্ট এবং সুইট হতে দাও l যদি আমরা ব্রাহ্মণরা ধীরে বলি, তাহলে বাইরের অন্যান্যরাও ধীরে ধীরে বলবে l আচ্ছা - এখন কি করবে ? নিজেকে বিশেষ নক্ষত্র হিসেবে প্রত্যক্ষ তো করাবে, তাই না ! সুতরাং এই গোল্ডেন জুবিলির বছর নিজেকে বিশেষভাবে সম্পন্ন আর সম্পূৰ্ণ বানানোর বছর হিসেবে উদযাপন কর l না উৎকন্ঠিত হও, আর না অন্যকে উৎকন্ঠায় আনো l প্রকৃতি নিজেই যথেষ্ট উদ্বেগজনক l প্রকৃতি তার নিজের কাজ করছে l তোমরা তোমাদের কাজ কর l আচ্ছা !

যারা সদা হোলি নক্ষত্র হয়ে বিশ্বকে সুখ-শান্তিময় বানায়, মাস্টার পরেশনাথ হয়ে পরশ-মণিসম দুনিয়া বানায়, যারা সবাইকে স্পর্শমণি বানায়, সদা অনুভবের সাগরতলে অনুভবের রত্ন নিজের মধ্যে সঞ্চয় করে, সার্চ লাইট হয়ে অজ্ঞানের পর্দা সরিয়ে দেয়, বাবাকে প্রত্যক্ষ করায়, এইরকম বিশেষ নক্ষত্রদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার l

টিচারদের সাথে:-

১) নতুন দুনিয়া বানানোর চুক্তি গ্রহণ করেছ, তাই না ! সুতরাং সদা নতুন দুনিয়া বানানোর জন্য নতুন উদ্যম, নতুন উৎসাহ থাকে তোমাদের, নাকি বিশেষ উপলক্ষে উৎসাহের উদ্রেক হয় ? কখনো - সখনো উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলে কিন্তু তার দ্বারা নতুন দুনিয়ার স্থাপন হয় না l যাদের সদা উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকে, তারাই নতুন দুনিয়া বানানোর নিমিত্ত হয় l যত নতুন দুনিয়ার কাছাকাছি আসতে থাকবে, ততই নতুন দুনিয়ার বিশেষ বস্তুর বিস্তার হতে থাকবে l নতুন দুনিয়াতে আসবেও তোমরা, নতুন দুনিয়া বানাবেও তোমরা l সুতরাং বানানোতে শক্তিও প্রয়োজন, সময়ও প্রয়োজন, কিন্তু যে শক্তিশালী আত্মা, সে সদা বিঘ্নকে সমাপ্ত করে এগিয়ে যেতে থাকে l সুতরাং তোমরা নতুন দুনিয়ার ফাউন্ডেশন l যদি ফাউন্ডেশন কাঁচা হবে তবে বিল্ডিংয়ের কি হবে ! অতএব, নতুন দুনিয়া বানানোর ডিউটি যাদের আছে, তাদের পরিশ্রম করে ফাউন্ডেশন মজবুত বানাতে হবে l এমন মজবুত বানাও যা ২১ জন্ম কায়েম থাকে l সুতরাং ২১ জন্মের জন্য নিজের বিল্ডিং প্রস্তুত তো করেছ, তাই না ! আচ্ছা !

২) বাবার হৃদয় সিংহাসনাসীন আত্মা, নিজেদের এইরকম অনুভব কর ? এই সময় তোমরা হৃদয়-সিংহাসনে বসে আছ, তারপরে বিশ্ব-রাজ্যের সিংহাসনে বসবে l হৃদয় সিংহাসনাসীন তারাই হয় যাদের হৃদয়ে এক বাবার স্মরণ সমাহিত হয়ে থাকে l যেমন বাবার হৃদয়ে বাচ্চারা সদা সমাহিত হয়ে আছে, সেইরকম বাচ্চাদের হৃদয়ে বাবার স্মরণ সদা এবং স্বতঃই থাকতে দাও l বাবা ব্যতীত আর আছেই বা কি ! সুতরাং তোমরা যে সিংহাসনাসীন, সেই খুশি আর নেশা বজায় রাখ l আচ্ছা !

বিদায়কালে - প্রাতঃ ছ'টায় সদগুরুবারে :-

চারিদিকের স্নেহী সহযোগী বাচ্চাদের উপর সদা বৃক্ষপতির বৃহস্পতি-দশা তো আছেই l আর এই বৃহস্পতির দশা দ্বারা অন্যদের শ্রেষ্ঠ বানানোর সেবায় তোমরা এগিয়ে চলেছ l সেবা আর স্মরণ উভয়তে বিশেষ সফলতা প্রাপ্ত করছ আর করতেও থাকবে l বাচ্চাদের জন্য সঙ্গমযুগই বৃহস্পতির সময় l সঙ্গমযুগের প্রত্যেক মুহূর্ত বৃহস্পতি অর্থাৎ তা' ভাগ্যবান, সেইজন্য তোমরা ভাগ্যবান, তোমরা ভগবানের, ভাগ্য তৈরি কর তোমরা l ভাগ্যবান দুনিয়ার অধিকারী তোমরা l এইরকম সদা ভাগ্যবান বাচ্চাদের স্মরণ-স্নেহ আর গুড মর্নিং !

বরদান:-
ঈশ্বরীয় মর্যাদার আধারে বিশ্বের সামনে এক্সাম্পল হয়ে সহজযোগী ভব

বিশ্বের সামনে এক্সাম্পল হওয়ার জন্য অমৃতবেলা থেকে রাত পর্যন্ত যা ঈশ্বরীয় মর্যাদা আছে, সেই অনুসারে চলতে থাক l অমৃতবেলার মহত্ত্ব বিশেষভাবে জেনে সেই সময় যদি পাওয়ারফুল স্টেজ বানাও, তাহলে তোমাদের জীবন সারাদিন মহান হয়ে উঠবে l অমৃতবেলায় যখন বাবার থেকে পাওয়ারফুল শক্তি ভরে নেবে তখন শক্তিস্বরূপ হয়ে যদি এগিয়ে চলো, তাহলে কোনও কার্যে কঠিন অনুভব হবে না এবং মর্যাদাপূর্বক জীবন যাপন করায় সহজযোগীর স্টেজও নিজে থেকেই তৈরি হয়ে যাবে, তখন বিশ্বের সবাই তোমার জীবনক দেখে নিজেদের জীবন তৈরি করবে l

স্লোগান:-
নিজেদের আচার-আচরণ আর চেহারা দ্বারা পবিত্রতার শ্রেষ্ঠত্বের অনুভব করাও l