10.09.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা আত্মিক পিতার কাছ থেকে নতুন-নতুন আধ্যাত্মিক বিষয় শুনছ, তোমরা জানো যে আমরা আত্মারা যেমন নিজেদের রূপ পরিবর্তন করে এসেছি, তেমনি বাবাও এসেছেন"

প্রশ্নঃ -
ছোট-ছোট বাচ্চারা যদি বাবার বোঝানোর প্রতি ভালোভাবে মনোযোগ দেয়, তাহলে কোন্ টাইটেল প্রাপ্ত করতে পারে ?

উত্তরঃ -
আধ্যাত্মিক নেতার। ছোট বাচ্চারা যদি কোনো সাহসিকতার কাজ করে দেখায়, বাবার থেকে যা শোনে তার প্রতি ভালোভাবে মনোযোগ দেয় এবং অন্যদেরও বোঝায়, তাহলে সবাই তাদের খুব ভালোবাসবে। বাবার নামও মহিমান্বিত হবে।

গীতঃ-
আকাশ সিংহাসন ত্যাগ করে নীচে নেমে এসো....

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা আহ্বান করলো এবং বাবা সাড়া দিলেন - প্রকৃতপক্ষে, বাচ্চারা কি বলে ? বাবা তুমি আবার রাবণ রাজ্যে এসো। কথিত আছে যে - আবার মায়ার ছায়া পড়েছে, তাই না! মায়া বলা হয় রাবণকে। তাই তারা আহ্বান করে যে - রাবণের রাজ্যে পরিণত হয়েছে, তাই এখন আবার এসো। এখানে রাবণের রাজ্যে অনেক দুঃখ রয়েছে। আমরা এখন অনেক দুঃখী, পাপ আত্মা হয়ে গেছি। এখন স্বয়ং বাবা এখানে উপস্থিত আছেন। বাচ্চারা জানো যে এখন আবার একই মহাভারতের যুদ্ধ হবে। বাবা জ্ঞান এবং রাজযোগ শেখাচ্ছেন। মানুষ আহ্বান করে - হে নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা, নিরাকার জগৎ থেকে এসে সাকার রূপ ধারণ করো! রূপ পরিবর্তন করো। বাবা বোঝাচ্ছেন তোমরাও ওখানেই থাকো - ব্রহ্ম মহাতত্ত্ব অর্থাৎ নিরাকার দুনিয়াতে। তোমরাও রূপ পরিবর্তন করেছ। এটা কেউই জানে না। নিরাকার আত্মারাই এসে সাকার শরীর ধারণ করে, ওটা হলো নিরাকারী দুনিয়া। এটা হলো সাকারী দুনিয়া এবং ওটা হলো আকারী দুনিয়া। ওটা আলাদা। তোমাদের বুদ্ধিতে আছে, আমরা শান্তিধাম বা নির্বাণধাম থেকে আসি। বাবাকে যখন প্রথমে নতুন সৃষ্টি রচনা করতে হয় তখন সূক্ষ্মবতনকেই রচনা করবেন। সূক্ষ্মবতনে তোমরা এখন যেতে পারো, আর কখনো যেতে হয় না। শুরুতে তোমরা সূক্ষ্মবতন থেকে আসো না, সরাসরি আসো। এখন তোমরা সূক্ষ্মবতনে যাওয়া-আসা করতে পারো। পায়ে হেটে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। বাচ্চারা, তোমরা এটা দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পাও। মূলবতনকেও দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পারো কিন্তু যেতে পারবে না। বৈকুণ্ঠকেও দিব্য দৃষ্টির সাহায্যে দেখতে পারো কিন্তু যেতে পারবে না যতক্ষন পর্যন্ত তোমরা সম্পূর্ণ পবিত্র না হও। তোমরা এরকম বলতে পারো না যে, আমরা সূক্ষ্মবতনে যেতে পারি! তোমরা দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পারো যে শিববাবা, দাদা এবং তোমরা বাচ্চারা রয়েছ। তোমরা বাচ্চারা কিভাবে নতুন নতুন আধ্যাত্মিক বিষয় শুনছ। এই বিষয়গুলো দুনিয়াতে কেউ জানে না। যদিও বলে যে ইনকরপোরিয়াল ওয়ার্ল্ড কিন্তু জানে না সেটা কেমন দেখতে। প্রথমত, আত্মকেই জানে না, তাহলে নিরাকারী দুনিয়া সম্বন্ধে কিভাবে জানবে! বাবা প্রথমে এসে আত্মার অনুভব করান। তোমরা হলে আত্মা, তোমরা রূপ পরিবর্তন করেছ অর্থাৎ নিরাকার থেকে সাকার রূপ ধারণ করেছ। এখন তোমরা বোঝ যে, তোমরা আত্মারা কিভাবে ৮৪ জন্ম অতিক্রম করো। এই সম্পূর্ণ ভূমিকা আত্মার মধ্যে রেকর্ডের মতো ভরা আছে। শুরুতে এই কথা শোনাতেন। বাবা বলেন - এখন তোমাদেরকে খুব সূক্ষ্ম এবং মনোমুগ্ধকর বিষয় শোনাচ্ছি। যা তোমরা আগে জানতে না, এখন জেনেছো। নতুন-নতুন পয়েন্ট বুদ্ধিতে আসা-যাওয়া করতে থাকে এইজন্য অন্যদেরও সহজে বোঝাতে পারো। দিনে দিনে ব্রাহ্মণদের এই বৃক্ষের বৃদ্ধি হচ্ছে। এটাই আবার দেবতাদের বৃক্ষ হবে, ব্রাহ্মণরাই বৃদ্ধি প্রাপ্ত করবে। দেখে কত ছোটো মনে হয়! যেমন বিশ্বের মানচিত্রে ভারতকে দেখলে কত ছোটো দেখা যায়! বাস্তবে ভারত অনেক বড়ো। সেইরকম জ্ঞানের জন্য বলা হয় - মনমনাভব অর্থাৎ অল্ফকে (বাবাকে) স্মরণ করো। বীজ কত ছোট হয় কিন্তু অনেক বড় গাছ জন্মায়। সেইরকম এই ব্রাহ্মণকুলও ছোট, ধীরে ধীরে বৃদ্ধি প্রাপ্ত করতে থাকে। তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে এই সময়ে আমরা ব্রাহ্মণ হয়েছি এবং এরপর আবার দেবতা হব। ৮৪ জন্মের সিঁড়ির ছবি তো খুবই ভালো। বাচ্চারা বোঝাতে পারো, যারা ৮৪ জন্ম নিয়েছে তারাই বুঝতে পারে। কেউ ৮৪ জন্ম নেয়, কেউ ৮০ জন্মও নেয়! অন্তত এটা তো বুঝতে পারে আমরা এই দেবতা কুলের। আমরা সূর্যবংশীয় পরিবারে জন্ম নেব। পাশ করতে না পারলে দেরিতে আসবে। সবাই তো একসঙ্গে আসবে না। যদিও অনেকেই এই জ্ঞান গ্রহণ করে কিন্তু একসঙ্গে তো সবাই আসবে না। একসঙ্গে ফিরে যাবে এবং কয়েকজন করে আসবে - এটা বোঝার বিষয় তাই না! সবাই কিভাবে একসঙ্গে ৮৪ জন্ম নেবে ? বাবাকে আহ্বান করতে - বাবা আবার এসে গীতাজ্ঞান শোনাও। তাই দেখানো হয়, যখন মহাভারতের যুদ্ধ হয়, তখনই এসে গীতাজ্ঞান শোনান। একেই রাজযোগ বলা হয়। এখন তোমরা রাজযোগ শিখছো। প্রতি কল্পে, পাঁচ হাজার বছর পর বাবা এসে আমাদের জ্ঞান দান করেন। আমরা সত্য-নারায়ণের কথা শুনি, তাই না! কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় গেছে ? এটা কেউই জানে না। বাবা বোঝাচ্ছেন বাচ্চারা, তোমাদের উপর রাবণের ছায়া পড়েছে, এখন ড্রামা অনুসারে রাবণ রাজ্যের বিনাশ হবে। সত্যযুগে ছিল রাম রাজ্য আর এখন রাবণ রাজ্য। এখন তোমরা বুঝেছ যে আমাদের মধ্যে যে জ্ঞান আছে, তা এই দুনিয়ায় কারোর মধ্যে নেই। নতুন দুনিয়ায় যাওয়ার জন্য আমাদের এই পড়াশোনা একেবারে নতুন ধরনের। গীতাতে কৃষ্ণের নাম লিখেছে কিন্তু সেটা তো পুরাতন কথা। তোমরা এখন নতুন কথা শুনছ। মানুষ বলে - আমরা তো কখনো শুনিনি যে এটা শিব ভগবানুবাচ, আমরা তো কৃষ্ণ ভগবানুবাচ শুনেছিলাম। তোমরা নতুন দুনিয়ার জন্য সবকিছু নতুন বিষয় শুনছ। সকলেই জানে যে ভারত অতি প্রাচীন। কিন্তু কতদিন আগে থেকে ছিল, কিভাবে এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব চলেছিল, সেটা কারোর বুদ্ধিতেই আসে না। কি এমন হলো যাতে এদের রাজত্ব শেষ হয়ে গেল, কারা তাদেরকে পরাজিত করলো - কিছুই বোঝে না। ওরা বলে, সত্যযুগ কয়েক লক্ষ বছর ধরে ছিল। কিন্তু এটা হতেই পারে না যে লক্ষ্মী-নারায়ন কয়েক লক্ষ বছর ধরে রাজত্ব করেছিল। তাহলে তো অনেকজন সূর্য বংশের রাজা ছিলেন। কিন্তু অন্য কারোর তো নামের উল্লেখ নেই। ১২৫০ বছরের কথাই কারোর মনে নেই। লক্ষ্মী-নারায়নের রাজত্ব কতদিন ছিল সেটাই কেউ জানে না। তাহলে কেউ কিভাবে লক্ষ বছরের কথা জানবে। কারোর বুদ্ধিই কাজ করছে না। এখন তোমরা ছোটরা এগুলো ওদেরকে বোঝাতে পারবে। এগুলো আসলে খুবই সহজ। ভারতেরই কাহিনী। সত্য এবং ত্রেতাযুগে ভারতবাসীরাই রাজা ছিল। আলাদা আলাদা ছবিও রয়েছে। ওরা তো হাজার হাজার বছরের কথা বলে, কিন্তু বাবা বলেন - এটা আসলে ৫ হাজার বছরের কাহিনী। আজ থেকে ৫ হাজার বছর আগে লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল, তারপর ক্রমাগত পুনর্জন্ম নিতে হয়েছে। ছোট ছোট কন্যারা যদি বসে থেকে সামান্য কিছুও বোঝায়, তাহলেও মানুষ বুঝবে যে এরা অতি উত্তম জ্ঞানের বিষয়ে পড়াশোনা করেছে। এই আধ্যাত্মিক জ্ঞান কেবল আধ্যাত্মিক পিতা ছাড়া আর কারোর কাছেই নেই। তোমরা বলো যে আমাদেরকে সেই আধ্যাত্মিক পিতা এসেই এই জ্ঞান শুনিয়েছেন। আত্মা তো শরীরের দ্বারা শোনে। আত্মা-ই বলে যে আমি অমুক হব। মানুষ নিজের চেতনাকে অনুভব করে না। আমাদেরকে বাবা এসে অনুভব করিয়েছেন। আমরা আত্মারা পুরো ৮৪ জন্ম নিয়েছি। এইসব বিষয় যদি বসে থেকে বোঝাও তাহলে মানুষ বলবে, এনাদের কাছে তো খুব ভালো জ্ঞান আছে। ঈশ্বর তো নলেজফুল। বলা হয় - ঈশ্বর হলেন নলেজফুল, ব্লিশফুল, লিব্রেটর, গাইড। কিন্তু তিনি আমাদেরকে কোথায় নিয়ে যান, সেটা কেউ জানে না। এটাই বাচ্চারা বোঝাতে পারবে। আধ্যাত্মিক পিতা হলেন নলেজফুল, তাকে ব্লিশফুলও বলা হয়। যখন মানুষ খুব দুঃখী হয়ে যায়, তখন তিনি এসে লিবারেট (মুক্ত) করেন। এটা হলো রাবনের রাজত্ব। বলা হয় হেভেনলী গড ফাদার। যদি কাউকে এই জ্ঞান শোনাও, তাহলে সে সঙ্গে সঙ্গে বলবে যে এই জ্ঞান অন্যদেরকেও শোনান। কিন্তু খুব ভালোভাবে ধারণ করতে হবে। প্রদর্শনীর ছবিগুলো নিয়ে পত্রিকাও আছে। আরো ভালো করে বুঝলে, অনেক সেবা করতে পারবে।

এই কন্যাও (জয়ন্তী বোন) লন্ডনে আমাদের টিচারকে বোঝাতে পারবে। ওখানে গিয়ে এইভাবে সেবা করতে পারবে। এই দুনিয়ায় অনেক ঠকবাজ রয়েছে। রাবণ সবাইকে ঠকবাজ বানিয়ে দিয়েছে। বাচ্চারা এখন সমগ্র জগতের হিস্ট্রি, জিওগ্রাফি বোঝাতে পারবে। লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব কত বছর চলেছিল, তারপর অমুক সাল থেকে ইসলাম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানরা আসে। বৃদ্ধি হতে হতে এই বিভিন্ন ধর্মের বৃক্ষ কত বড় হয়ে গেছে। অর্ধেক কল্প পরে অন্য ধর্মগুলো আসে। এইসব কথা যদি এই কন্যা শোনায়, তাহলে মানুষ বলবে, ইনি তো আধ্যাত্মিক নেতা, এনার কাছে অনেক জ্ঞান আছে। তখন এই কন্যা বলবে, এই জ্ঞান তো ইন্ডিয়াতে পাওয়া যাচ্ছে, স্বয়ং স্পিরিচুয়াল গড ফাদার দিচ্ছেন। তিনি হলেন বীজ। এটা একটা উল্টো বৃক্ষ। বীজ হলেন নলেজফুল। বীজের মধ্যে তো বৃক্ষের জ্ঞান অবশ্যই থাকবে। এটা হলো বিভিন্ন ধর্মের বৃক্ষ। এনাদের রাজত্বকেই ভারতের দিব্য ধর্ম বলা হয়। আগে লক্ষ্মী-নারায়নের রাজত্ব, তারপর রাম-সীতার রাজত্ব। অর্ধেক কল্প এইভাবে চলে তারপর ইসলামীরা আসে। বৃক্ষ ক্রমশঃ বৃদ্ধি পায়। এই কন্যা গিয়ে এইভাবে ভাষণ করুক যে বৃক্ষ কিভাবে সুস্পষ্ট হয়। কিভাবে এই সৃষ্টিচক্র আবর্তিত হয়, সেটাও বোঝাতে পারে। বিদেশে তো অন্য কেউ নেই। এই কন্যা সেখানে গিয়ে বোঝাক যে এখন এই লৌহযুগের অন্তিম সময় এবং স্বর্ণযুগ আসছে। তাহলে ওরা খুব খুশি হবে। বাবা বোঝানোর যুক্তি বলে দিচ্ছেন। এর ওপর মনোযোগ দিতে হবে। ছোটদের মানুষ সম্মান করে। ছোট বাচ্চা কোনো সাহসের কাজ করলে সবাই তাকে ভালোবাসে। বাবা চান যে এইরকম ছোট ছোট কন্যারা এই বিষয়ে মনোযোগ দিলে স্পিরিচুয়াল লিডার হয়ে যাবে। স্পিরিচুয়াল গড ফাদার নিজে বসে থেকে জ্ঞান শোনান। কৃষ্ণকে গড ফাদার বলা ঠিক নয়। গড তো নিরাকার। আমরা আত্মারা সবাই ভাই ভাই। সবাই যখন লৌহযুগে দুঃখী হয়ে যায়, তখন বাবা আসেন। যখন পুনরায় লৌহযুগ হয়ে যায়, তখন স্বর্ণযুগ স্থাপন করার জন্য বাবাকে আসতে হয়। ভারতেই সুপ্রাচীন সুখধাম বা হেভেন ছিল। খুব অল্প মানুষ ছিল। বাকি সকল আত্মা কোথায় ছিল ? নিশ্চয়ই শান্তিধামে ছিল। এইভাবে বোঝাতে হবে। ভয় পেলে চলবে না। এটা তো গল্পের মতো। গল্প তো খুশি হয়ে বলা হয়। ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি, জিওগ্রাফি কিভাবে পুনরাবৃত্ত হয় - এটাকে গল্পও বলতে পারো আবার জ্ঞানও বলতে পারো। তোমাদের এটা ভালোভাবে মনে রাখা উচিত। বাবা বলেন - আমার মধ্যে সম্পূর্ণ বৃক্ষের জ্ঞান রয়েছে, যা এখন আমি পুনরায় শোনাচ্ছি। নলেজফুল বাবা বাচ্চাদেরকে নলেজ দিচ্ছেন। বাচ্চারা গিয়ে জ্ঞান শোনালে তারা বলে - আপনারা অন্যদেরকেও নিয়ে আসুন। বলো - হ্যাঁ, আনতে পারি। কারণ তারা ভারতের প্রাচীন রাজযোগের বিষয়ে জানতে চায়, যার মাধ্যমে ভারত স্বর্গ হয়ে গেল - এটা বোঝানো দরকার। সন্ন্যাসীরা আর কি শোনাবে ? আধ্যাত্মিক জ্ঞান কেবল গীতাতে আছে। তাই তারা গিয়ে শুধু গীতা পাঠ করে শোনায়। অনেকে গীতা পড়ে এবং শিখতে চেষ্টা করে। এটা কি আধ্যাত্মিক জ্ঞান ? এটা তো মানুষের নামের ওপরে ভিত্তি করে বানানো হয়েছে। আধ্যাত্মিক জ্ঞান মানুষ দিতে পারবে না। তোমরা এখন পার্থক্য বুঝতে পারছো - ওই গীতা এবং বাবা যে জ্ঞান শোনাচ্ছেন তার মধ্যে রাত-দিনের পার্থক্য রয়েছে। বাবা জ্ঞান দিয়েছিলেন কিন্তু তারা কৃষ্ণের নাম রেখে দিয়েছে। সত্যযুগে কৃষ্ণের কাছে তো এই জ্ঞান নেই। কেবল বাবা হলেন নলেজফুল। এগুলি কত জটিল বিষয়! কৃষ্ণের আত্মা যখন সত্যযুগে ছিল তখন এই জ্ঞানের অস্তিত্ব ছিল না। ওরা সবকিছু জটিল করে দিয়েছে। বিদেশে গিয়ে সব কিছু বর্ণনা করে বাবার নাম মহিমান্বিত করতে পারো। বক্তৃতাও দিতে পারো। বলো যে, ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি, জিওগ্রাফির নলেজ আপনাদের দিতে পারি - ঈশ্বর কিভাবে স্বর্গ স্থাপন করেন, সেই স্বর্গ কিভাবে নরকে পরিণত হয় ইত্যাদি সবকিছু আমরা আপনাদের কাছে ব্যাখ্যা করতে পারি। বসে বসে এইসব লেখো এবং তারপর দেখো যে কোন্ পয়েন্টটা ভুলে গেছ। তারপর ভালো করে মনে করে লেখো। এরকমভাবে প্র্যাক্টিস করলে ভালোভাবে লিখতে পারবে, ভালোভাবে বোঝাতে পারলে নাম মহিমান্বিত হবে। বাবা এখান থেকে যে কাউকে পাঠাতে পারেন বাইরে সেবা করতে। যদি কেউ গিয়ে বোঝাতে পারো, তাহলে খুব ভালো। সাত দিনেও অনেক দক্ষ হয়ে যেতে পারবে। বুদ্ধিতে বীজ এবং বৃক্ষের জ্ঞানকে ধারণ করে বিস্তারিত ভাবে বোঝাও। চিত্রের মাধ্যমে ভালোভাবে বোঝাতে পারবে। সার্ভিসের শখ থাকা উচিত। অনেক উঁচু পদমর্যাদা পেয়ে যাবে। নলেজ খুব সহজ। এটা তো পুরানো পতিত দুনিয়া, স্বর্গের সাথে তুলনা করলে এই পুরানো পৃথিবী গোবরের মতো, এর থেকে দুর্গন্ধ বেরোয়। ওটা হলো সোনার দুনিয়া আর এটা হলো গোবরের দুনিয়া। তোমরা বাচ্চারা জানো যে, এখন আমরা এই শরীর ত্যাগ করে প্রিন্স-প্রিন্সেস হব। এভাবেই স্কুলে পড়াশোনা করতে আসবো। সেখানেও এইরকম বিমান থাকবে কিন্তু সেগুলো সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত হবে। এই খুশি বাচ্চাদের মধ্যে থাকলে কখনো কোনো বিষয়ে কান্না আসবে না। তোমরা তো বুঝতে পারো যে আমরা প্রিন্স-প্রিন্সেস হব, তাহলে তোমাদের মধ্যে কেন খুশি থাকবে না! ভবিষ্যতে এইরকম স্কুলে যাব, এই এই করবো। কিন্তু বাচ্চারা যে কেন ভুলে যায়, কে জানে ! অনেক নেশা হওয়া উচিত। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এই পুরানো ছিঃ ছিঃ গোবরের মত দুনিয়াকে বুদ্ধি থেকে ভুলে সত্যযুগের দুনিয়াকে স্মরণ করে অসীম খুশি এবং নেশা হওয়া উচিত। কখনো কান্নাকাটি করা উচিত নয়।

২ ) বাবা যে সূক্ষ্ম অথচ মনোমুগ্ধকর বিষয়গুলো শোনাচ্ছেন তা ধারণ করে সবাইকে বোঝাতে হবে। আধ্যাত্মিক নেতার টাইটেল প্রাপ্ত করতে হবে।

বরদান:-
কর্ম করার সময়ে কর্মের বন্ধন থেকে মুক্ত থেকে সহজযোগী স্বতঃ যোগী ভব

যে বাচ্চারা মহাবীর তাদের সাকারী দুনিয়ার কোনো আকর্ষণ নিজের দিকে আকর্ষণ করতে পারবে না। তারা এক সেকেন্ডে নিজেদেরকে দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন এবং বাবার কাছে প্রিয় করে তুলতে পারে। ডাইরেকশন প্রাপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যারা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অশরীরী, আত্ম-অভিমানী, বন্ধনমুক্ত, যোগযুক্ত স্থিতির অনুভব করে তারাই সহজযোগী, স্বত:যোগী, সর্বদা যোগী, কর্মযোগী এবং শ্রেষ্ঠ যোগী। তারা যখন ইচ্ছে, যতক্ষণ ইচ্ছে নিজের সংকল্প এবং শ্বাস এক বাবার স্মরণে স্থির করতে পারে।

স্লোগান:-
একরস স্থিতির শ্রেষ্ঠ আসনে বিরাজমান থাকা - এটাই শ্রেষ্ঠ আত্মার লক্ষণ।