10-11-2019 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 06-03-85 মধুবন


"সঙ্গমযুগ হল উৎসবের যুগ, ব্রাহ্মণ জীবন উৎসবের জীবন"


আজ হোলিয়েস্ট (পবিত্রতম), হাইয়েস্ট বাবা তাঁর হোলি এবং হ্যাপি হংসদের সাথে হোলি উদযাপন করতে এসেছেন। ত্রিমূর্তি বাবা তিন প্রকারের হোলির দিব্য রহস্য শোনাতে এসেছেন । এমনিতেই সঙ্গমযুগ হল হোলি যুগ । সঙ্গমযুগ হল উৎসবের যুগ । অজ্ঞানী আত্মারা নিজেদেরকে উৎসাহে নিয়ে আসার জন্য উৎসব পালন করে। কিন্তু তোমাদের, অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ আত্মাদের কাছে এই ব্রাহ্মণ জীবন হল উৎসাহের জীবন। উদ্দীপনা, আনন্দে ভরা জীবন। সেইজন্য সঙ্গমযুগই হল উৎসবের যুগ । ঈশ্বরীয় জীবন সদা উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভরা জীবন। সদা আনন্দে নাচতে নাচতে, জ্ঞানের শক্তিশালী অমৃত পান করতে করতে, সুখের গীত গাইতে গাইতে, হৃদয়ের স্নেহের গীত গাইতে গাইতে, নিজেদের শ্রেষ্ঠ জীবন অতিবাহিত করে। অজ্ঞানী আত্মারা এক দিন উদযাপন করে, অল্পকালীন উৎসাহে আসে, তারপর যেমন ছিল সেই অবস্থায় ফিরে যায়। তোমরা উৎসব পালন করে হোলি হয়ে যাও এবং অন্যদেরও হোলি বানিয়ে থাকো। তারা কেবল উদযাপন করে, আর তোমরা উদযাপন করতে করতে সেই স্বরূপ ধারণ করো। মানুষ তিন প্রকারের হোলি পালন করে - এক, পোড়ানোর হোলি (হোলিকা দহন), দুই, একে অপরকে রঙ লাগানোর হোলি, তৃতীয়, মঙ্গল মিলন পালন করবার হোলি। এই তিন প্রকারের হোলির মধ্যেই আধ্যাত্মিক রহস্য নিহিত রয়েছে। কিন্তু জগতের লোক স্থূল রূপে তাকে পালন করতে থাকে। এই সঙ্গমযুগে তোমরা মহান আত্মারা যখন বাবার হও অর্থাৎ হোলি হও, তখন প্রথমে কী করো ? প্রথমে সকল পুরানো স্বভাব সংস্কার যোগ অগ্নির দ্বারা ভস্ম করে থাকো অর্থাৎ পোড়াতে থাকো। এরপরই স্মরণের দ্বারা বাবার সঙ্গের রঙ লাগাও। তোমরাও প্রথমে দহন করবার হোলি পালন করো, তারপর সঙ্গের রঙে রঙিন হয়ে ওঠো । অর্থাৎ বাবা সম হয়ে যাও । বাবা জ্ঞানের সাগর তো বাচ্চারাও সঙ্গের রঙে জ্ঞান স্বরূপ হয়ে যাও । বাবার যা গুণ, তা তোমাদের গুণ হয়ে যায় । বাবার যে শক্তি, তা তোমাদের খাজানা হয়ে যায় । তোমাদের প্রপার্টি হয়ে যায় । তাই সঙ্গের রঙ এমন অবিনাশী ভাবে লেগে যায়, যা জন্ম জন্মান্তরের জন্য এই রঙ অবিনাশী হয়ে যায়। আর যখন সঙ্গের রঙ লেগে যায়, এই অবিনাশী রঙের হোলি উদযাপন করো, তখন আত্মা আর পরমাত্মার, বাবা আর বাচ্চাদের শ্রেষ্ঠ মিলনের মেলা সদাই হতে থাকে। অজ্ঞানী আত্মারা তোমাদের এই আত্মিক হোলিকে স্মরণিক রূপে পালন করা শুরু করে। তোমাদের প্র্যাকটিক্যাল উৎসাহে পূর্ণ জীবন ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্মরণিক রূপে পালন করে অল্পকালের জন্য খুশী হয়ে যায়। প্রতিটি পদক্ষেপে, তোমাদের শ্রেষ্ঠ জীবনে যে যে বিশেষত্ব প্রাপ্ত হয়েছে, সে সব স্মরণ করে অল্প সময়ের জন্য তারাও আমোদে মেতে ওঠে। এই স্মরণিক দেখে বা তার কথা শুনে উৎফুল্ল হও কিনা - যে, আমাদের বিশেষত্বেরই স্মরণিক ! তোমরা মায়াকে দহন করেছো আর তারা হোলিকা দহন করে। তারা এতো মনোরঞ্জক কাহিনী বানিয়ে ফেলেছে যে, সে সব শুনে তোমাদের হাসি পাবে যে, আমাদের জিনিস গুলোকে কী বানিয়ে দিয়েছে ! হোলির উৎসব তোমাদের নানান প্রকারের প্রাপ্তির স্মরণিক হিসেবে পালন করে। এখন তোমরা সর্বদা আনন্দে থাকো। আনন্দে প্রাপ্তির স্মরণিক খুবই আনন্দের সাথে হোলি পালন করে। সেই সময় সব দুঃখ ভুলে যায়। আর তোমরা সদা কালের জন্য সব দুঃখ ভুলে গেছো। তোমাদের আনন্দের প্রাপ্তির স্মরণিক তারা পালন করে।

এটা উদযাপন করবার সময় ছোট বড় সকলে একেবারে হাল্কা হয়ে, হাল্কা রূপে উদযাপন করে। সেই দিন সকলের মেজাজও (মুড) হাল্কা থাকে। অতএব, *এ হল তোমাদের লাইট হওয়ার স্মরণিক* । যখন প্রভুর রঙে রঙিন হয়ে ওঠো, তখন ডবল লাইট হয়ে যাও, তাই না ! তো এই বিশেষত্বেরই স্মরণিক। এছাড়া এই দিন ছোট বড় যে সম্বন্ধেরই হোক, সকলেই সমান স্বভাবে থাকে। সেদিন তো ছোট্ট নাতিটিও তার দাদুকে রঙ লাগায় । সকলে সম্বন্ধ বা বয়সের বিভেদ ভুলে যায়। এটাও তোমাদের বিশেষ সমান ভাব অর্থাৎ ভাই-ভাই-এর স্মৃতি, আর অন্য কোনো সম্বন্ধের দৃষ্টি নয়। এ হল ভাই-ভাই -এর স্মৃতির স্মরণিক। এছাড়াও এই দিন নানান রঙের পিচকারি দিয়ে প্রেম স্বরূপ বানানোর রঙ, সুখের, শান্তির, শক্তির কত কত রঙ লাগাও তোমরা ! এমন রঙ লাগাও যে চিরস্থায়ী হয়ে যায়। মুছে দিতে হয় না। পরিশ্রম করতে হয় না। বরং আরোই সব আত্মারা এটাই চায় যে, সদাই এই রঙে রাঙা হয়ে থাকি। তো সবার কাছে আত্মিক রঙের আত্মিক দৃষ্টির পিচকারি আছে, তাই তো ? তা দিয়ে রঙ খেলো, তাই তো ? এই আত্মিক হোলি বা দোল হল তোমাদের সকলের জীবনের স্মরণিক। এমন ভাবেই বাপদাদার সাথে মঙ্গল মিলন পালন করো যে, বাবা সম হয়ে গেছো। এমন মঙ্গল মিলন পালন করেছো যে, কম্বাইন্ড হয়ে গেছো। কেউই তার থেকে আলাদা করতে পারবে না।

এই দিন হল আবার সেই দিনও যেদিন বিগতকে ভুলে যাওয়া হয়। ৬৩ জন্মের বিগতকে বিস্মৃত হয়ে যাও, তাই তো ? বিগতকে বিন্দু লাগিয়ে দিয়ে থাকো। সেইজন্য হোলিকে (হো = হয়ে লি =গেছে, অতীত হয়ে গেছে) যেটা গত হয়ে গেছে হিসেবেও বলা হয়। যে কোনো প্রকারের কঠিন শত্রুতাকে ভুলে মিলন উদযাপন করবার দিন হিসেবে পালন করা হয়। তোমরাও আত্মার শত্রু আসুরী সংস্কার, আসুরী স্বভাবকে ভুলে প্রভু মিলন পালন করেছো তাই না ! সংকল্পে পর্যন্ত যেন পুরানো সংস্কার স্মৃতিতে না আসে। এও তারা তোমাদের এই ভুলে যাওয়ার বিশেষত্বকে স্মরণিক হিসেবে পালন করছে। তাহলে শুনলে তো কত কত বিশেষত্ব তোমাদের ! তোমাদের প্রতিটি গুণের, প্রতিটি বিশেষত্বের, কর্মের আলাদা আলাদা স্মরণিক বানিয়ে দিয়েছে। যার প্রত্যেক কর্ম স্মরণিক হয়ে যায়, যাকে স্মরণ করেও আনন্দ হয়, সে তবে কতখানি মহান ? বুঝেছো তোমরা - নিজে নিজেকে যে, তুমি কে ? হোলি তো অবশ্যই, কিন্তু কতখানি বিশেষ !

ডবল বিদেশি যদিও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের এই স্মরণিক নাও জানতে পারে, কিন্তু তোমাদের বাবার স্মরণ করবার গুরুত্ব, জগতের মানুষ স্মরণ করে তাকে স্মরণিক বানিয়ে ফেলছে। এবারে বুঝেছো হোলি আসলে কী ? তোমরা সবাই তো রঙে রঙিন হয়ে উঠেছো, যে বাবা ছাড়া তোমাদের দু'নয়নে আর কিছুই নেই। বাবার প্রতি ভালবাসাতেই পান ভোজন, চলন-গমন, নাচতে-গাইতে থাকো তোমরা। পাকা রঙ লেগেছে, নাকি রঙ কাঁচা ? কোন্ রঙ লেগেছে ? কাঁচা রঙ, নাকি পাকা ? বিগতকে গত করে দিয়েছো ? ভুলেও যেন পুরানো কথা স্মরণে না আসে। তোমরা বলো না - কী করব মনে পড়ে যায় যে ! এ সব ভুল করে চলে আসে। নব জন্ম, নতুন বিষয়, নতুন সংস্কার, নতুন দুনিয়া, এই ব্রাহ্মণদের সংসারও হল নতুন সংসার। ব্রাহ্মণদের ভাষাও নতুন। আত্মার ভাষা, তা নতুন নয়কি ! বাইরের দুনিয়ার লোক কী কথা বলে, আর তোমরা কী কথা বলো ! পরমাত্মার সাথেও তোমরা নতুন কথা বলো ! তাহলে ভাষাও নতুন, রীতি নীতিও নতুন। সম্বন্ধ সম্পর্কও নতুন, সব কিছুরই নতুন হয়ে গেছে। পুরানো সমাপ্ত। নতুন শুরু হয়েছে - তাই তোমরা নতুন গীত গাও, পুরানো নয় - কী, কেন হল পুরানো গীত।আহা! বাঃ! অহো! এসব হল নতুন গীত। তাহলে তোমরা কোন্ গীত গাও ? হায় হায় এর গীত গাও না তো ? দুনিয়াতে হায় হায় করার অনেক লোক রয়েছে, তোমরা নও । তো অবিনাশী হোলি পালন করেছো অর্থাৎ বিগতকে গত করে সম্পূর্ণ পবিত্র হয়ে বাবার সঙ্গের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছো। তাহলে হোলি খেলেছো তো ?

সদা বাবা আর আমি, একসাথে । আর সঙ্গমযুগে সদা সাথে থাকবো। আলাদা তো হতে পারে না। এমন উৎসাহ উদ্দীপনা অন্তরে রয়েছে না - "আমি আর বাবা" ! নাকি পর্দার আড়ালে তৃতীয় কেউ আছে ? কখনো ইঁদুর, কখনো বিড়াল বেড়িয়ে আসে নাতো ? সব সমাপ্ত হয়ে গেছে তো ? যখন বাবাকে পাওয়া হয়ে গেছে, তখন সব কিছুই পাওয়া হয়ে গেছে। আর কিছু বাকি থাকে না। না আত্মীয়-স্বজন, না ধন সম্পদ, না শক্তি, না গুণ, না জ্ঞান, না আর কোনো কিছুর প্রাপ্তি থেকে যায়। তো আর বাকি কী চাই ? একেই বলা হয় হোলি খেলা । বুঝেছো তোমরা !

তোমরা কতই না আমোদে থাকো। নিশ্চিন্ত বাদশাহ (বেফিকির বাদশাহ) ! কানাকড়ি শূন্য বাদশাহ । বেগমপুরের বাদশাহ ! এমন আমোদে কেউই থাকতে পারে না। এই জগতের ধনী থেকে ধনী ব্যক্তি বা যত নামকরা ব্যক্তিই হোক না কেন, তুখর শাস্ত্র জ্ঞানীই হোক, বেদজ্ঞ ব্যক্তিই হোক, কিম্বা নবধা ভক্ত, নম্বর ওয়ান বিজ্ঞানীই, যে কোনো অক্যুপেশনেরই হোক, এমন আমোদের জীবন তাদের হতে পারে না। যাতে কিনা কোনোই পরিশ্রম নেই। আছে কেবল ভালোবাসা আর ভালোবাসা। চিন্তা নয়। বরং শুভ চিন্তক, শুভ চিন্তনে থাকো তোমরা । এমন আমোদের জীবন সমগ্র বিশ্বে পরিক্রমা করে যদি নিয়ে আসতে পারো, তো নিয়ে এসো। সেইজন্য তোমরা গীত গেয়ে থাকো না - মধুবনে, বাবার সংসারে কেবল আমোদই আমোদ । খাও, তাতেও আমোদ, ঘুমাও, তাতেও আমোদ। ঘুমের ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয় না। বাবার সাথে ঘুমিয়ে পড়ো তো ঘুমের ওষুধ খেতে হবে না। একা ঘুমাও বলেই তো বলো - হায় ব্লাড প্রেশার, ব্যথা বেদনা ! তখনই ওষুধ খেতে হয়। বাবা সাথে রয়েছে, ব্যস্ বাবা তোমার সাথে শুয়ে আছে, এটাই হল ট্যাবলেট। এমন সময়ও আসবে, যেমন আগে ওষুধ পত্র ব্যবহার হতো না, মনে আছে না ? প্রথম দিকে কতকাল ওষুধ পত্র ছিল না। হ্যাঁ, কিছু মালাই মাখন তোমরা খেয়েছো। ওষুধ পত্র খেতে না তোমরা। সুতরাং, যজ্ঞের আদিকালে যেমন প্র্যাকটিস করানো হয়েছে তোমাদের। ছিল তো পুরানো শরীরই। শেষের দিকে পুনরায় সেই আদি কালেরই রিপিট হবে। বিচিত্র বিচিত্র সব সাক্ষাৎকার করতে থাকবে। অনেকেরই ইচ্ছা আছে না - একবার একটু সাক্ষাৎকার হোক। শেষ পর্যন্ত যারা সুপরিপক্ক হবে, তাদেরই সাক্ষাৎকার হবে। পুনরায় সেটাই সংগঠনের ভাট্টি হবে। তখন সেবাও সমাপ্ত হয়ে যাবে । এখন সেবার কারণে তোমরা এদিকে ওদিকে বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছো। এরপর সব নদী গুলি সাগরে মিশে যাবে। কিন্তু সময় তখন খুবই অস্থির থাকবে। সুযোগ সুবিধার উপকরণ থাকলেও, সেগুলো কাজ করবে না। সেইজন্য বুদ্ধির লাইন খুবই ক্লিয়ার থাকা প্রয়োজন, যাতে সাথে সাথে টাচ হয়ে যায় যে, এখন কী করা উচিত। এক মুহূর্ত দেরী করলে, তো গেলে। তারাও যেমন যদি এক সেকেণ্ডও বোতাম টিপতে দেরি করে তো কী অবস্থা হবে ? এও তেমনি যদি এক সেকেণ্ডও টাচিং হতে দেরি হয়, তাহলে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে যাবে। তারাও তো কত অ্যাটেনশনের সাথে বসে থাকে। আর এ তো হল বুদ্ধির টাচিং । যজ্ঞের প্রথমে যেমন ঘরে বসেই আওয়াজ এল, আহ্বান এলো - চলে এসো, এখানে পৌঁছে যাও, এখনই বেরিয়ে পড়ো। আর সাথে সাথে বেরিয়ে পড়লে। তেমনি শেষের সময়েও বাবার আওয়াজ পৌঁছে যাবে। সাকারে যেমন সব বাচ্চাদের বাবা ডাকতেন। তেমনই আকার রূপে সব বাচ্চাদের কাছে - " এসো - এসো" এমন ডাক আসবে। সবাই চলে আসবে, আর বাবার সাথে সবাই চলে যেও। এই রকমই তোমাদের বুদ্ধি সদা যেন ক্লিয়ার থাকে। আর কোনো দিকে যদি অ্যাটেনশন যায়, তবে বাবার আওয়াজ, বাবার আহ্বান মিস হয়ে যাবে। এ সব তো হবেই ।

টিচাররা ভাবছে - আমরা তো পৌঁছেই যাবো। এও হতে পারে, তোমাদেরকে বাবা সেখানেই নির্দেশ দিলেন ! সেখানেই কোনো বিশেষ কাজ থাকতে পারে। সেখানে হয়তো আরো অনেককে শক্তি দিতে হবে। সাথে করে নিয়ে যেতে হবে। এইরূপও হবে, তবে তা বাবার নির্দেশ অনুযায়ী। মনমৎ অনুসারে নয়। কারো প্রতি স্নেহ বশতঃ নয়। হায় রে আমার সেন্টার, এ সব যেন মনেও না আসে। অমুক জিজ্ঞাসুকে সাথে নিয়ে যাই, কিম্বা ইনি অনন্য বাচ্চা বা ইনি সহযোগী, এমনও করা যাবে না। কারো জন্যও যদি বিন্দু মাত্র অপেক্ষা করো, তাহলে তুমি গেলে। এমন ভাবে প্রস্তুত তো তোমরা ? একেই বলা হয় এভাররেডি । সব সময়ই সব কিছু গুটিয়ে নিয়ে প্রস্তুত। সেই সময় কিন্তু গুটিয়ে নেওয়ার সংকল্প আসবে না। এটা করে নিই, ওটা করে নিই। সাকারে যখন বাবা ছিলেন, মনে আছে না - সার্ভিসেবল বাচ্চা যারা ছিল, তাদের স্থূল ব্যাগ ব্যাগেজ সদা প্রস্তুত থাকতো ! ট্রেন স্টেশনে পৌঁছাতে মিনিট পাঁচেক বাকি, নির্দেশ এলো তোমাদের এখনই যেতে হবে। তাই ব্যাগ ব্যাগেজ তৈরীই থাকতো। ট্রেন আগের স্টেশনে এসে গেছে, সেই সময় তারা রওনা হল। এমনও তো হয়েছে তোমাদের, তাই না ! এও মনের স্থিতি - যেখানে ব্যাগ ব্যাগেজ প্রস্তুত। বাবা ডাকলেন আর বাচ্চারা আজ্ঞে বাবা বলে উপস্থিত হয়ে যাবে। একেই বলা হয় এভাররেডি । আচ্ছা -

এমনই সদা সঙ্গে-র রঙে রঙিন হয়ে, সদা বিগতকে বিদায় দিয়ে বর্তমান আর ভবিষ্যতকে শ্রেষ্ঠ বানাতে সক্ষম, সদা পরমাত্ম মিলন উদযাপনকারী, সদা প্রতিটি কর্ম বাবার স্মরণে থেকে করে থাকে অর্থাৎ প্রতিটি কর্মকে স্মরণিক বানিয়ে থাকে, সদা আনন্দে নাচতে গাইতে গাইতে সঙ্গমযুগের আমোদ উপভোগকারী, এমন বাবা সম বাবার প্রতিটি সংকল্পকে ক্যাচ্ করতে সক্ষম, সদা বুদ্ধিকে শ্রেষ্ঠ এবং স্পষ্ট রাখতে সক্ষম, এমন হোলি হ্যাপি হংসদেরকে বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর নমস্কার !

বাপদাদা সকল বাচ্চাদের পত্রের উত্তর প্রদানকালে দোল যাত্রা বা হোলির অভিনন্দন জানালেন-
চতুর্দিকের দেশবিদেশের সকল বাচ্চাদেরকে স্নেহ পূর্ণ, উৎসাহ-উদ্দীপনায় কোথা থেকে কোথা থেকেই না নিজেদের পুরুষার্থের প্রতিজ্ঞা ভরা সকলের পত্র আর সন্দেশ বাবার কাছে এসেছে। বাপদাদা সকল হোলিহংসকে সদা "যেমন বাবা, তেমনই আমি" - এই স্মৃতির বিশেষ স্লোগান বরদানের রূপে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। যে কোনো কর্ম করবার সময় সংকল্প করার সময় প্রথমেই চেক করো, যা বাবার সংকল্প তা হল এই সংকল্প। যা বাবার কর্ম সেটাই হল আমার কর্ম। সেকেন্ডে চেক করো, আর তারপর তাকে সাকারে পরিণত করো। সদাই বাবা সম শক্তিশালী আত্মা হয়ে সফলতার অনুভব করবে । সফলতা হল তোমাদের জন্মসিদ্ধ অধিকার । এমন সহজ প্রাপ্তির অনুভব করবে। সফলতার নক্ষত্র হলাম আমি স্বয়ং, তাই সফলতা আমার থেকে আলাদা হতে পারে না। সফলতার মালা সদা গলায় পরানো রয়েছে অর্থাৎ প্রতিটি কর্মে অনুভব করতে থাকবে। বাপদাদা আজকের এই হোলির সংগঠনে তোমরা সবাই হোলি হংসদেরকে সম্মুখে দেখছেন আর হোলি উদযাপন করছেন। স্নেহের চোখে সকলকে দেখছেন - সকলের বিশেষত্বের ভ্যারাইটি সৌরভ গ্রহণ করছিলেন। কতই না মিষ্টি সৌরভ প্রত্যেকের বিশেষত্বের। বাবা প্রত্যেক বিশেষ আত্মাকে তাদের বিশেষত্ব সহ দেখতে দেখতে গীত গেয়ে উঠলেন - "বাঃ আমার সহজ যোগী বাচ্চা, বাঃ আমার পদ্মপদম ভাগ্যবান বাচ্চা" । তো সকলে নিজ নিজ বিশেষত্ব আর নাম সহ বাপদাদার সম্মুখে নিজেকে অনুভব করে বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন স্বীকার ক'রো আর সর্বদা বাবার ছত্রছায়ার থেকো। মায়াকে ভয় পাবে না। তা সে ছোটখাটো বিষয়েই হোক বা বড় বিষয়ে। তবে ছোটোকে বড় করবে না। বড়কে বরং ছোটো করবে। উঁচুতে থাকবে, তবে বড় বিষয় ছোট হয়ে যাবে। নীচে থাকলে ছোটখাটো বিষয়ও বড় হয়ে যাবে। সেইজন্য বাপদাদাকে সাথে রাখো, হাতে হাত রাখো, তাহলে ভয় পাবে না। খুব ওড়ো, উড়তি কলাতে সেকেন্ডে সবকিছুকে অতিক্রম করে যাও। বাবার সঙ্গ সর্বদাই সুরক্ষিত রাখে আর রাখবেও। আচ্ছা - সকলকে হারানিধি, আদরের দুলাল বলে বাপদাদা হোলির অভিনন্দন জানাচ্ছেন । আচ্ছা - ( তাহলে তো বাপদাদার সাথে সব বাচ্চারা হোলি পালন করলো অর্থাৎ পিকনিক করলো)

বরদান:-
সর্বোচ্চ বাবা, আমরাও উচ্চ আর আমাদের কাজও উচ্চ - এই স্মৃতিতে শক্তিশালী হয়ে ওঠা বাবার সম ভব

আজকাল যেমন এই জাগতিক দুনিয়ায় কোনো ভি.আই.পি. -র ছেলে বা মেয়ে নিজেকেও ভি.আই.পি. মনে করে। কিন্তু বাবার থেকে উচ্চ তো আর কেউ নেই। আমরা হলাম এমন উচ্চ থেকেও উচ্চ পিতার সন্তান উচ্চ আত্মা - এই স্মৃতি শক্তিশালী বানায়। উচ্চ পিতা, উচ্চ আমরা আর উচ্চ কর্ম - এই স্মৃতিতে যারা থাকে, তারা সর্বদা বাবার সম হয়ে যায় । সমগ্র বিশ্বে তোমাদের থেকে উচ্চ আত্মা তোমরা ছাড়া আর কেউ নেই। সেইজন্য তোমাদেরই গায়ন পূজন হয়ে থাকে।

স্লোগান:-
সম্পূর্ণতার দর্পণে সূক্ষ্ম আসক্তি গুলোকে চেক করো আর মুক্ত হও।