১১-০১-১৭ প্রাত: মুরলী ওম্ শান্তি " বাপদাদা " মধুবন


*" মিষ্টি বাচ্চারা - ২১ জন্মের জন্য সদা সুখী হওয়ার কারণে এই অল্প সময়ের জন্য দেহী - অভিমানী হওয়ার অভ্যাস করো* l "

প্রশ্ন:-

দৈবী রাজধানী স্থাপন করার জন্য প্রত্যেকের কোন্ শখ থাকা উচিত* ?

উত্তর:-

সেবার শখ l জ্ঞান রত্নের দান তোমরা কিভাবে করবে সেই শখ রাখো l তোমাদের উদ্দেশ্যই হলো পতিত মানুষকে পবিত্র করা তাই বাচ্চাদের রাজত্ব বৃদ্ধি করার জন্য অনেক সেবা করতে হবে l যেখানেই মেলা ইত্যাদি হয় , লোক স্নান করতে যায় সেখানেই তোমাদের পর্চা(leaflets) ছাপিয়ে বিলি করতে হবে l ঢাক ,ঢোল পিটিয়েও প্রচার করতে হবে l

গীত:-

তোমাকে পেয়েই আমরা জগত পেয়ে গেছি ........

ওম্ শান্তি l

নিরাকার শিববাবা বসে বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন - বাচ্চারা দেহী - অভিমানী হও l নিজেকে আত্মা ভাবো আর বাবাকে স্মরণ করো l আমরা সকলেই আত্মা , আমাদের শিববাবা এসে পড়ান l বাবা বোঝান যে - সংস্কার সব আত্মার মধ্যেই থাকে l যখন মায়া রাবণের রাজ্য শুরু হয় , অথবা ভক্তিমার্গ শুরু হয় তখন তোমরা দেহ - অভিমানী হয়ে যাও l তারপর আবার যখন ভক্তি মার্গের অন্ত সময় আসে তখন বাবা এসে বাচ্চাদের বলেন - এখন তোমরা দেহী - অভিমানী হও l তোমরা যে সব জপ , দান , পুণ্য কর্ম করেছো ,তাতে কোনো লাভ হয় নি l তোমাদের মধ্যে ৫ বিকার প্রবেশ করাতে তোমরা তোমরা দেহ - অভিমানী হয়ে গেছো l রাবণই তোমাদের দেহ - অভিমানী বানায় l আসলে তোমরা একসময় দেহী - অভিমানী ছিলে তাই আবার নতুন করে তোমাদের অভ্যাস করানো হয় যে নিজেকে আত্মা মনে করো l তোমাদের এই পুরোনো শরীর ত্যাগ করে নতুন শরীর ধারণ করতে হবে l সত্য যুগে এই ৫ বিকার থাকবে না l দেবী - দেবতা , যাদের পবিত্র মনে করা হয় , তারা আত্ম - অভিমানী হওয়ার কারণে ২১ জন্ম সর্বদা সুখে থাকে l তারপর যখন রাবণ রাজ্য শুরু হয় তখন তোমরা আবার দেহ - অভিমানী হয়ে যাও l দেহী - অভিমানীকে সোল কন্সাস আর দেহ - অভিমানীকে বডি কনশাস বলা হয় l নিরাকারী দুনিয়াতে তো সোল কন্সাস আর বডি কনশাস কোনো প্রশ্নই থাকে না l ওই দুনিয়া হলো নীরব দুনিয়া l সেই সংস্কার এই সঙ্গম যুগেই হয় l তোমাদের দেহ - অভিমানী থেকে দেহী - অভিমানী বানানো হয় l সত্যযুগে দেহী - অভিমানী হওয়ার কারণে তোমাদের দুঃখ ভোগ করতে হয় না কারণ তোমরা যে আত্মা এই জ্ঞান তোমাদের থাকে l এখানে তো সবাই নিজেকে দেহ ভাবে l বাবা এসে এখন বোঝান যে বাচ্চারা এখন দেহী - অভিমানী হও তাহলেই বিকর্ম বিনাশ হবে l তখন তোমরা বিকর্মাজীত হতে পারবে l সত্যযুগে শরীরও থাকবে , তোমরা রাজ্যও করবে কিন্তু আত্ম - অভিমানী হবে l সবসময় সুখী থাকবে l সোল কন্সাস হলেই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে তাই বাবা বলেন যে আমাকে স্মরণ করতে থাকো তাহলেই বিকর্ম বিনাশ হবে l দুনিয়ার মানুষ গঙ্গা স্নান করে কিন্তু গঙ্গা কখনোই পতিত - পাবনী নয় l না কোনো যোগ - অগ্নি যার দ্বারা বিকর্ম বিনাশ হবে l এমন এমন বিষয়ে বাচ্চারা সেবা করার সুযোগ পায় l যেমন সময় তেমন সেবা l কতো মানুষ গঙ্গা স্নান করতে যায় l কুম্ভ মেলাতেও সব জায়গায় মানুষ স্নান করে l কেউ কেউ সাগরে যায় , কেউ আবার নদীতেও স্নান করতে যায় l তাই এদের সকলকে বিলি করার জন্য কত পর্চা ছাপাতে হবে l সবাইকে বিলি করতে হবে l পয়েন্টও যেন এই থাকে যে - ভাই - বোনেরা , বিচার করো , পতিত - পাবন , জ্ঞান - সাগরের থেকে নির্গত হওয়া জ্ঞান নদীর দ্বারাই কি তোমরা পবিত্র হতে পারো নাকি এই সাগরের জল বা নদীর জলের দ্বারা ? তোমরা যদি এই রহস্যের সমাধান করতে পারো তাহলেই এক সেকেন্ডে জীবনমুক্তি পেতে পারবে l রাজ্য - ভাগ্যের বর্সাও পেতে পারবে l এমন পর্চা যেন প্রতিটা সেন্টার ছাপায় l নদী তো সব জায়গায় আছে l নদী অনেক দূর থেকে বয়ে আসে l যেখানে সেখানে অনেক নদী আছে l তাহলে লোকে কেন বলে যে এই নদীতে স্নান করলে পবিত্র হবে l স্নান তো তোমরা জন্ম - জন্মান্তর ধরে করো l সত্যযুগে মানুষ স্নান করে l সেখানে সকলেই পবিত্র l এখানে তো শীতের সময়ও কতো কষ্ট করে মানুষ স্নান করতে যায় l তাই তাদের বোঝাতে হবে যে অন্ধের লাঠি হও l সকলকে জাগ্রত করতে হবে l পতিত - পাবন ভগবান এসেই সকলকে পবিত্র বানান l তাই সকল দুঃখী মানুষদেরও পথ বলতে হবে l এইসব ছোটো ছোটো পর্চা সমস্ত ভাষাতেই ছাপা চাই l লাখ - দুলাখ পরিমাণের ছাপতে হবে l যাদের বুদ্ধিতে এই জ্ঞানের নেশা চড়ে আছে , তাদের বুদ্ধিই কাজ করবে l এইসব ছবিও দু তিন লাখ প্রত্যেক ভাষাতেই হওয়া চাই l প্রতিটা জায়গায় গিয়ে এই সেবা কাজ করতে হবে l এই বিষয়ে একটা পয়েন্টই মুখ্য যে , এসে বোঝো কিভাবে এক সেকেন্ডে মুক্তি - জীবনমুক্তি পাওয়া যায় l প্রধান সেন্টারের ঠিকানা দিয়ে দাও , তারপর পড়ুক বা না পড়ুক তাদের বিষয় l তোমাদের বাচ্চাদের ত্রিমূর্তির ছবির উপর বোঝানো উচিত যে ব্রহ্মার দ্বারা অবশ্যই এই স্থাপনার কাজ হয় l দিন প্রতিদিন মানুষ বুঝতে পারবে বিনাশ তো সামনেই l এই ঝগড়া ইত্যাদি বাড়তেই থাকবে l মানুষের জীবনে সম্পত্তি নিয়েও কতো ঝঞ্ঝাট চলতে থাকে l মারামারি পর্যন্ত হয়ে যায় l বিনাশ তো সামনেই হবে l যারা খুব ভালো করে ভাগবত গীতা ইত্যাদি পড়বে তারা বুঝতে পারবে বরাবর এ তো আগেও ঘটেছিলো l তাই তোমাদের বাচ্চাদের খুব ভালো করে বুঝতে হবে জলে স্নান করলেই কি মানুষ পতিত থেকে পবিত্র হতে পারে নাকি যোগ অগ্নির দ্বারা পবিত্র হয় l ভগবান উবাচঃ - আমাকে স্মরণ করলেই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে l যেখানে যেখানে তোমাদের সেন্টার আছে সেখানে বিশেষ বিশেষ সময়ে এই পর্চা বের করা চাই l মেলাও অনেক হয় যেখানে , যেখানে অনেক মানুষ আসে l কিন্তু কোনো কোনো বিশেষ মানুষই বুঝতে পারবে l এই পর্চা বিলি করার জন্যও অনেক লোক চাই যারা অন্তত এইকথা বোঝাতে পারবে l এমন জায়গায় গিয়েই তোমাদের দাঁড়াতে হবে l এ হলো জ্ঞান রত্ন l এই সেবা করার অনেক শখ রাখা চাই l আমরা আমাদের দৈবী বাদশাহী স্থাপন করছি l এ হলো মানুষ থেকে দেবতা বা পতিত থেকে পবিত্র বানাবার মিশন l এও তোমরা লিখতে পারো যে বাবা সকলকে বুঝিয়েছেন " মনমনাভব l " পতিত - পাবন বেহদের বাবাকে যদি স্মরণ করো তাহলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হয়ে যাবে l স্মরণের যাত্রার পয়েন্টও তোমাদের বাচ্চাদের বার বার বুঝিয়ে বলা হয়েছে l বাবাকে বার বার স্মরণ করো l স্মরণ সুখের অনুভূতি করো , শরীরের যাবতীয় কষ্ট দূর হয়ে তোমরা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে l *বাবাই মন্ত্র দিয়েছেন যে আমাকে স্মরণ করো, এমন নয় যে বসে কেবল শিব - শিব জপ করো l শিবের ভক্তরা এইভাবে শিব - শিব মালা জপ করতে থাকে l বাস্তবে এ হলো রুদ্র মালা l শিব আর শালিগ্রাম l মালার ওপরে আছেন শিব l বাকি সব ছোটো ছোটো দানা অর্থাত্ আত্মারা l আত্মা খুবই ছোটো বিন্দু l কালো দানারও মালা হয় l তাই শিবের মালাও বানানো হয়* l আত্মাকে তার নিজের বাবাকে স্মরণ করতে হবে l বাকি মুখে খালি শিব - শিব বললেই হবে না l শিব - শিব বলতে থাকলে বুদ্ধির যোগ আবার বাবার দিকে চলে যাবে l এর অর্থতো কেউই বোঝে না l শিব - শিব জপ করলে বিকর্ম তো বিনাশ হবেই না l যারা মালা জপ করে তাদের কাছে তো এই জ্ঞান নেই যে , বিকর্ম তখনই বিনাশ হয় যখন সঙ্গম যুগে ডাইরেক্ট শিববাবা এসে এই মন্ত্র দেন যে "মামেকম" ( আমাকে ) স্মরণ করো l বাকি যতোই কেউ বসে শিব - শিব করুক , বিকর্ম বিনাশ হবে না l মানুষ কাশীতেও গিয়ে থাকে l তারা শিব - কাশী , শিব - কাশী বলতে থাকে l এও বলে যে কাশীতে শিবের প্রভাব আছে l শিবের মন্দির তো খুব সুন্দর বানানো হয়ে থাকে l এ সবই হলো ভক্তিমার্গের সামগ্রী l তোমরা এই বলে বোঝাতে পারো যে বেহদের বাবা বলেন - আমার সাথে যোগ লাগালেই তোমরা পবিত্র হবে l বাচ্চাদেরও সেবা করার শখ থাকা চাই l বাবা বলেন যে আমাকেই পতিত মানুষদের পবিত্র বানাতে হবে l তোমরা বাচ্চারাও এই পবিত্র বানাবার সেবা করো l *পর্চা নিয়ে গিয়ে সকলকে বোঝাও l সকলকে বলো , এই পর্চা খুব ভালো করে পড়ো l মৃত্যু তো এখন সকলের সামনেই দাঁড়িয়ে আছে l এ হলো দুখধাম l এখন জ্ঞান - স্নান একবার করাতেই তোমরা এক সেকেন্ডেই জীবনমুক্তি পেতে পারো l তাহলে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন নদীতে স্নান করার কি দরকার l আমরা সেকেন্ডে জীবনমুক্তি পেতে পারি সেই কারণেই আমরা ঢাক পেটাই l না হলে তো কেউই এই পর্চা ছাপাবে না l বাচ্চাদের এই সেবার অনেক শখ রাখা দরকার* l এই যা সব বানানো হয়েছে সবই সেবার জন্য l এমন অনেক আছে যাদের সেবার শখই থাকে না l তাদের খেয়ালেই আসে না যে কিভাবে এই সেবা করবো , এই সেবাকাজ করতে হলে খুব চমত্কার বুদ্ধি চাই , যাদের পায়ে দেহ - অভিমানের শিকল এখনও আছে , তারা দেহী - অভিমানী হতে পারবে না l বোঝা যায় এরা আর কি পদ পাবে ? তাদের প্রতি দয়া আসে l সব সেন্টারেই দেখা হয় - কে কে এই পুরুষার্থে তীব্র গতিতে আছে l *কেউ কেউ আকন্দের ফুল , কেউ কেউ আবার গোলাপ ফুল l তোমরা নিজেরা ভাবো , তোমরা অমুক ফুল* l তোমরা যদি বাবার সেবা না করো তাহলে বুঝতে হবে যে তোমরা গিয়ে আকন্দের ফুল হবে l বাবা তো খুব ভালোভাবে তোমাদের বুঝিয়ে বলেন l *তোমরা এখন হীরের মত হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছো l কেউ কেউ সত্যিকারের হীরা আবার কেউ কেউ কালো এবং রুক্ষ l তোমাদের প্রত্যেককেই নিজেদের খেয়াল রাখতে হবে চিন্তা করবে - আমাদের হীরের মতো হতে হবে l নিজেকে জিজ্ঞাসা করো , আমরা কি হীরের তুল্য হয়েছি* ? আচ্ছা l



মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি (সিকিলধে) বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা , বাপদাদার স্মরণ ভালোবাসা এবং সুপ্রভাত l রুহানী বাবার রুহানী বাচ্চাদের নমস্কার l

*ধারণার জন্য মুখ্য সার* :-

১) দেহ - অভিমানের শিকল কেটে দেহী - অভিমানী হতে হবে l সোল কনশাস থাকার সংস্কার ধারণ করতে হবে l

২) সেবার অনেক শখ রাখতে হবে l বাবার মতোই পতিত মানুষকে পবিত্র করার সেবা করতে হবে l সত্যিকারের হীরা হতে হবে l

বরদান:-

শ্রেষ্ঠ আর শুভ বৃত্তির দ্বারা বাণী আর কর্মকে শ্রেষ্ঠ বানিয়ে বিশ্ব পরিবর্তক হও* l

যেসব বাচ্চা নিজের দুর্বলতাকে দূর করে শুভ আর শ্রেষ্ঠ স্বভাব ধারণ করার ব্রত নেয় , তাদের নজরে এই সৃষ্টিও শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন হয় l স্বভাবের সাথে দৃষ্টি আর কর্মেরও সম্পর্ক আছে l কোনো ভালো বা খারাপ বিষয় প্রথমে মানুষ স্বভাবে ধারণ করে তারপর তা বাণী বা কর্মে আসে l স্বভাব শ্রেষ্ঠ হওয়া অর্থাত্ বাণী আর কর্ম ততক্ষণাত শ্রেষ্ঠ হওয়া l মানুষের এই স্বভাব থেকেই ভাইব্রেশন বা বায়ুমন্ডল তৈরী হয় l যারা শ্রেষ্ঠ স্বভাবের ব্রত ধারণ করে তারা তত্ক্ষণাত বিশ্ব পরিবর্তক হতে পারে l

স্লোগান:-

বিদেহী বা অশরীরী হওয়ার অভ্যাস যদি করো তাহলে যে কোনো মানুষের মনের ভাব জানতে পারবে* l