১১-০১-১৯ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "বাপদাদা” মধুবন


“মিষ্টি বাচ্চারা - সর্বদা আনন্দে থাকো আর অন্যদেরকেও আনন্দ দাও। এটাই হল সকলের ওপর কৃপা করা। সবথেকে বড় পুণ্য হল কাউকে পথ দেখানো”

প্রশ্ন:-

কার মেজাজ সর্বদা খুশিতে ভরপুর থাকবে? মেজাজ খুশিতে ভরপুর রাখার উপায় কি?

উত্তর:-

যে জ্ঞানের ক্ষেত্রে খুব কুশলী, যে গল্পের মতো করে ড্রামাকে বুঝেছে এবং মনন-চিন্তন করে, সে-ই সর্বদা খুশিতে থাকতে পারবে। খুশিতে থাকার জন্য সর্বদা বাবার শ্রীমৎ অনুসারে চলতে থাকো। নিজেকে আত্মা রূপে নিশ্চয় করো এবং বাবা যেগুলো বোঝান, সেগুলো খুব ভালো করে মন্থন করো। বিচার সাগর মন্থন করতে করতে মেজাজ খুশিতে ভরপুর হয়ে যাবে।

ওম্ শান্তি।

রুহানি পিতা তাঁর রুহানি সন্তানদের সাথে রুহরিহান করছেন। বাচ্চারা জানে যে আমাদের পিতা তো একজনই, তিনিই আমাদেরকে শিক্ষা দেন। শিক্ষকের কাজটাই হলো শিক্ষা দেওয়া। গুরুর কাজ হলো জীবনের লক্ষ্য বলে দেওয়া। বাচ্চারা সেই লক্ষ্যটা বুঝতে পেরেছে। মুক্তি-জীবনমুক্তি প্রাপ্তির জন্য স্মরণের যাত্রা করা অত্যাবশ্যক। দুটোই খুব সহজ। ৮৪ জন্মের চক্রও বুদ্ধিতে আবর্তিত হয়। এটা স্মরণে রাখতে হবে যে এখন আমাদের ৮৪ জন্মের চক্র সম্পূর্ণ হয়েছে, এখন ফেরত যেতে হবে। কিন্তু পাপী আত্মারা তো মুক্তি-জীবনমুক্তিতে যেতে পারবে না। এইরকম ভাবে বিচার সাগর মন্থন করতে হবে। যে করবে, সে ফল পাবে। সে নিজেও খুশিতে থাকবে আর অন্যকেও খুশিতে রাখবে। অন্যদেরকে রাস্তা বলে দিয়ে তাদের কল্যাণ করতে হবে। তোমরা বাচ্চারা জানো যে এটা হল পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ। এই কথাটা কারো কারো মনে থাকে, কারো কারো থাকে না। ভুলে যায়। এই কথাটা মনে থাকলেই খুশির পারদ উচ্চ গ্রামে উঠবে। বাবা, শিক্ষক এবং সদগুরু রূপে মনে থাকলেও খুশির পারদ উচ্চ গ্রামে উঠবে। কিন্তু চলতে চলতে অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব এসে যায়। যেমন পাহাড়ে চড়ার সময়ে ওপরে-নিচে করে উঠতে হয়, বাচ্চাদেরও সেইরকম অবস্থা হয়। কেউ অনেক ওপরে ওঠার পরেও এমনভাবে পড়ে যায় যে আগের থেকে আরও নীচে নেমে যায়। তাদের সমস্ত উপার্জন নষ্ট হয়ে যায়। *যতই দান-পুণ্য করো না কেন, যদি পুণ্য করতে করতে পাপ কর্ম করা শুরু করে দাও তাহলে সমস্ত পুণ্য নষ্ট হয়ে যায়। সবথেকে বড় পুণ্য হল বাবাকে স্মরণ করা। স্মরণের দ্বারা-ই পুণ্য আত্মা হতে পারবে। যদি সঙ্গদোষের প্রভাবে সেই ভুল কর্ম-ই করতে থাকো, তাহলে আগের থেকে আরও নীচে নেমে যাবে। তখন সেই জমার খাতা আর থাকবে না, নষ্ট হয়ে যাবে।* পাপ কর্ম করলে সেটা নষ্ট হয়ে যায়। পাপের পরিমান অনেক বেড়ে যায়। অ্যাকাউন্ট চেক করা হয়। বাবাও বলেন- তোমার পুণ্যের খাতা ছিল, কিন্তু পাপ করতে থাকলে পাপের পরিমাণ একশো গুণ হয়ে যাবে এবং তখন আরও বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে। পাপের মধ্যেও আবার কোনোটা বড়, কোনোটা ছোট হয়। কাম বিকার হল সবথেকে বড় পাপ, তারপরে রয়েছে ক্রোধ, ক্রোধের পরে লোভ। কাম বিকারের বশীভূত হলে সমস্ত সঞ্চয় নষ্ট হয়ে যায়। লাভের পরিবর্তে লোকসান হয়ে যায়। সদগুরুর নিন্দুক এখানে টিকতে পারবে না। বাবার বাচ্চা হয়েও ছেড়ে চলে যায়। কারণ কি? অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাম বিকারের আঘাত লাগার কারণেই এইরকম হয়। এটা খুব বড় শত্রু। এইটার কুশের পুতুলকেই পোড়ানো হয়। ক্রোধ কিংবা লোভের কুশের পুতুল বানানো হয় না। কাম বিকারের ওপরে সম্পূর্ণ বিজয়ী হলেই জগৎ-জিৎ হবে। মানুষ ভগবানের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে বলে - আমরা রাবণের রাজত্বে পতিত হয়ে গেছি, তুমি এসে আমাদেরকে পবিত্র বানাও। সবাই পতিত-পাবনের গান করে। হে পতিতদেরকে পবিত্র করতে সক্ষম, সকল সীতাদের রাম, তুমি এসো। কিন্তু এই কথাটার অর্থ বুঝতে পারে না। এটাও জানে যে বাবা অবশ্যই নুতন দুনিয়া স্থাপন করতে আসবেন। কিন্তু অনেকটা সময় দিয়ে দেওয়ার জন্য মানুষ ঘন অন্ধকারে ডুবে গেছে। দুটো জিনিস রয়েছে - জ্ঞান আর অজ্ঞান। ভক্তি হল অজ্ঞানতা। যার পূজা করে, তাঁর সম্মন্ধে কিছুই জানে না। তাহলে তাঁর কাছে পৌঁছাবে কিভাবে? তাই এত দান-পূণ্য সব বিফল হয়ে যায়। হয়তো অল্পকালের জন্য কাক-বিষ্ঠা-সম সুখ পাওয়া যায়, কিন্তু বাকিটা কেবল দুঃখ আর দুঃখ। বাবা এখন বলছেন, তুমি যদি কেবল আমাকেই স্মরণ করো, তাহলে তোমার সকল দুঃখ দূর হয়ে যাবে। তাই চেক করতে হবে যে আমি কতটা বাবাকে স্মরণ করি যাতে পুরাতন হিসাব সমাপ্ত হয়ে নুতন হিসাব জমা হবে। কেউ কেউ তো কিছুই জমা করে না। সবকিছু স্মরণের ওপরেই নির্ভরশীল। স্মরণ না করলে পাপ ভস্ম হবে কিভাবে? জন্ম-জন্মান্তরের অনেক পাপ জমা আছে। কেবল এই একটা জন্মের জীবন কাহিনী বলে দিলেই জন্ম-জন্মান্তরের পাপ কেটে যাবে না। শুধু এই জন্মের বোঝাটা হালকা হয়ে যায়। তাই অনেক পরিশ্রম করতে হবে। যোগের দ্বারা-ই এতগুলো জন্মের হিসাবপত্র মিটবে। বিচার করতে হবে যে আমি কতটা যোগ করি? আমার কি সত্যযুগের আদিতে জন্ম হওয়া সম্ভব? *যে অনেক পুরুষার্থ করবে, সে-ই সত্যযুগের আদিতে জন্ম নেবে। সে কখনো লুকিয়ে থাকবে না।* সবাই তো সত্যযুগে আসতে পারবে না। পরের দিকে এসে অল্প পদ পাবে। যদি আগে আসে, তাহলে চাকর হবে। এই কথাগুলো তো খুব সহজেই বোঝা যায়। তাই বাবাকে খুব ভালোভাবে স্মরণ করতে হবে। তোমরা জানো যে আমরা নুতন দুনিয়াতে বিশ্বের মালিক হওয়ার জন্য এসেছি। যে বেশি স্মরণ করবে, সে অবশ্যই খুশিতে থাকবে। যদি রাজা হতে চাও তাহলে প্রজাও তৈরি করতে হবে। নাহলে কিভাবে বুঝবে যে আমি রাজা হব। যে সেন্টার খোলার নিমিত্ত হয়, সেবা করে, তারও উপার্জন হয়। তারও অনেক লাভ হয়। সেও তার পুরস্কার পেয়ে যায়। কেউ কেউ ৩-৪টে সেন্টার খোলার নিমিত্ত হয়। যে যতটা করে, সেই অনুসারে প্রত্যেকেই অংশীদার হয়। সবাই মিলে কাঁধে করে এই মায়াবী দুঃখের বোঝাকে সরাচ্ছে। তাই সকলেই পুরস্কার পাবে। যে অনেককে রাস্তা বলে দিচ্ছে, অনেক পরিশ্রম করছে, সে তত উঁচু পদ পাবে। সে খুব খুশিতে থাকবে। নিজের অন্তর-ই জানে যে আমি কতজনকে রাস্তা বলেছি। কতজনকে উদ্ধার করেছি। *সবকিছু করার এইটাই তো প্রকৃত সময়।* খাওয়া-দাওয়ার বন্দোবস্ত তো সকলের হয়ে যায়। অনেকে আছে যারা অন্য কোনো কাজ করে না। যেমন মাম্মা কত সেবা করেছেন। সেবার দ্বারা ওনার অনেক কল্যাণ হয়েছে। অনেক সেবা করতে হবে। যোগের দ্বারাও সেবা হয়। অনেক গভীর ডাইরেকশন প্রাপ্ত হয়। ভবিষ্যতে আরো অনেক পয়েন্ট বেরোবে। দিনে দিনে আরো উন্নতি হবে। নুতন নুতন পয়েন্ট বেরিয়ে আসবে। যে সেবাতে নিযুক্ত থাকে, সে সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পেরে যায়। যে সেবা করে না, তার বুদ্ধিতে কিছুই বসবে না। বিন্দুরূপকে কিভাবে বুঝবে? তোমরা কাউকে জিজ্ঞেস করো যে আত্মা কত বড়? আত্মার দেশ-কাল জিজ্ঞেস করলে কিছুই বুঝতে পারবে না। দুনিয়ার মানুষ পরমাত্মার নাম-রূপ-দেশ-কালের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। তোমরা আত্মার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেই ওরা সংশয় প্রকাশ করবে। কেউই এই ব্যাপারগুলো জানে না। আত্মা এত ছোট বিন্দু, কিন্তু তার মধ্যে সমস্ত পার্ট ভরা আছে। এখানেও অনেকে আছে যারা আত্মা এবং পরমাত্মার ব্যাপারে জানেই না। কেবল বিকারগুলো থেকে সন্ন্যাস গ্রহণ করেছে। সেটাই অনেক। সন্ন্যাসীদের ধর্ম আলাদা। এই জ্ঞান কেবল তোমাদের জন্যেই। বাবা বোঝাচ্ছেন, তোমরা পবিত্র ছিলে, তারপর অপবিত্র হয়ে গেছ। এখন পুনরায় পবিত্র হতে হবে। তোমরাই ৮৪ চক্র ঘোরাও। দুনিয়ার মানুষ এইসব কথার কিছুই জানে না। জ্ঞান এবং ভক্তি সম্পূর্ণ আলাদা। জ্ঞান ওপরে ওঠায়, আর ভক্তি নীচে নামায়। সুতরাং দিন-রাতের মতো পার্থক্য। কোনো মানুষ যতই নিজেকে বেদ শাস্ত্রের অথরিটি মনে করুক না কেন, আসলে তো কিছুই জানে না। তোমরা এখন জানতে পেরেছো। তোমাদের মধ্যেও বিভিন্ন ক্রম রয়েছে। ভুলে যাওয়ার জন্যই খুশি থাকে না। না হলে তো অসীম খুশি হওয়া উচিত। বাবার কাছ থেকে তোমরা এইরকম উত্তরাধিকার পাচ্ছ। বাবা সাক্ষাৎকারও করান। কিন্তু সাক্ষাৎকার হওয়ার পরেও যদি শ্রীমৎ অনুসারে না চলো, তাহলে কোনো লাভ নেই। দুঃখের সময়েই বাবাকে স্মরণ করে। বাবাকে লিব্রেটর (মুক্তিদাতা), রাম, প্রভু ইত্যাদি বলে। কিন্তু তিনি আসলে কে সেটাই জানে না। ভক্তিমার্গে কেউই এইরকম শিক্ষা দেয়নি যে নিজেকে আত্মা অনুভব করে বাবাকে স্মরণ করো। কখনোই না। যদি কেউ এইরকম শিক্ষা দিত, তাহলে তো সেটা পরম্পরা ধরে চলে আসত, তাই না? ভক্তি তো এইভাবেই চলে এসেছে। ভক্তি অনেক রকমের। কিন্তু জ্ঞান কেবল একটাই। মানুষ মনে করে, ভক্তির দ্বারা ভগবানকে পাওয়া যাবে। কিন্তু কিভাবে পাওয়া যাবে? কবে পাওয়া যাবে? এইসব জানে না। কবে থেকে ভক্তি শুরু হয়েছে, কে সবথেকে বেশি ভক্তি করেছে - এইসব কিছুই জানে না। আমরা কি আরো ৪০ হাজার বছর ধরে এইরকম ভক্তি করব? একদিকে দুনিয়ায় মানুষরা ভক্তি করছে, অন্যদিকে তোমরা জ্ঞান পাচ্ছ। মানুষকে বোঝানোর জন্য কতই না পরিশ্রম করতে হয়। তোমরা তো এত প্রদর্শনী করো, কিন্তু তা সত্ত্বেও কোটির মধ্যে কয়েকজন উঠে আসবে। কতজনকে নিজের মতো বানিয়ে নিয়ে এসেছো? কতজন প্রকৃত ব্রাহ্মণ রয়েছে সেই হিসাব এখন করা সম্ভব নয়। অনেক অসত্য সন্তানও রয়েছে। দুনিয়ার ব্রাহ্মণরা কথা শোনায়। এখানে বাবা গীতার কথা শোনান। বাবা যেগুলো শোনান, সেগুলো আবার তোমরা শোনাও। সত্যিকারের গীতা শোনানো তো বাচ্চাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। সকল ধর্মের নিজ নিজ শাস্ত্র রয়েছে। বাস্তবে যত শাস্ত্র রয়েছে, সবই ভক্তিমার্গের সামগ্রী। কেবল গীতা-ই হল জ্ঞানের পুস্তক। গীতা হল মাতা-পিতা। বাবা এসেই সকলের সদগতি করেন। মানুষ তো এইরকম বাবারও গ্লানি করে। আসলে শিববাবার জয়ন্তী হল হিরেতুল্য। সর্বোচ্চ ভগবান-ই হলেন সকলের সদগতি দাতা। অন্য কারোর মহিমা কিভাবে হওয়া সম্ভব? হয়তো দেবতাদের মহিমা করা হয়, কিন্তু বাবা-ই তো দেবতাদেরকে ঐরকম বানান। একদিকে যেমন আমাদের কনস্ট্রাকশন(নির্মাণ) চলছে, তেমনি অন্যদিকে ডেস্ট্রাকশনের(ধ্বংস) কাজও চলছে। অনেকেই আছে যারা কাউকেই বোঝাতে পারে না। তারা স্থূল সেবা করুক। মিলিটারিতে সবরকম কাজের লোক থাকে। যে অশিক্ষিত, তাকে একজন শিক্ষিত ব্যক্তির সামনে অবশ্যই মাথা নোয়াতে হবে। মাম্মা-বাবা যাকিছু করেন, সেটা দেখে শেখো। তোমরাও বুঝতে পারো যে কারা কারা অনন্য বাচ্চা। বাবাকে জিজ্ঞেস করলেও বাবা বলে দেবেন যে অমুককে ফলো করো। যে নিজে সার্ভিসেবল নয়, সে অন্যকে কিভাবে শেখাবে? সে তো আরও সময় নষ্ট করবে। বাবা বোঝাচ্ছেন, যদি নিজের উন্নতি করতে চাও, তাহলে সেটা এখানেই করতে পারো। আমরা কিভাবে ৮৪ জন্ম নিয়েছি, তার ছবি তো রাখাই আছে। যদি নিজে বুঝতে পেরেছ, তাহলে অন্যকেও বোঝাও। কত সহজ বিষয়। আমাদেরকে এইরকম হতে হবে। গতকাল পর্যন্ত এদের পূজা করতাম, কিন্তু আজকে আর করিনা। নলেজ প্রাপ্ত হয়েছে। এইরকম অনেকে এসে নলেজ নেবে। তোমরা যত বেশি সেন্টার খুলবে, তত অনেক আত্মা এসে বুঝবে। এইসব কথা শুনে তাদের খুশির পারদ ঊর্ধগামী হবে। নর থেকে নারায়ণ হতে হবে। এটাই হল সত্যিকারের সত্য-নারায়ন কথা। ভক্তির দ্বারা তো অধঃপতন হয়। জ্ঞান আসলে কি সেটা ওরা জানেই না। বেহদের বাবা এখন তোমাদেরকে যথাযথ ভাবে বোঝাচ্ছেন। বাবা বোঝাচ্ছেন, আমি তো কালকেই তোমাদেরকে রাজত্ব দিয়েছিলাম। সেই রাজত্ব কোথায় গেল ? এটা তোমরাই জানো। এটাই হলো খেলা। কেবল বাবা-ই এই খেলার পুরো রহস্য বলতে পারেন। আমরা বলি- বাবা, তুমিও এই ড্রামার মধ্যে আবদ্ধ। তোমাকে তো এই পতিত দুনিয়ায় এবং পতিত শরীরে আসতেই হবে। মানুষ ঈশ্বরের অনেক মহিমা করে। বাচ্চারা বলছে - বাবা, আমরা তোমাকে ডেকেছি। তাই আমাদেরকে পতিত থেকে পবিত্র করার জন্য অর্থাৎ আমাদের সেবা করার জন্য তোমাকে আসতেই হয়েছে। প্রতি কল্পেই এইভাবে আমাদেরকে দেবতা বানিয়ে তুমি চলে যাও। এটা যেন একটা গল্পের মতো। যে খুব হুঁশিয়ার, তার কাছে তো এটা একটা গল্পের মতোই। বাচ্চারা, তোমাদের মেজাজ সর্বদা খুশিতে ভরপুর থাকতে হবে। বাবাও তো ড্রামা অনুসারে সেবাধারী হয়েছেন। বাবা বলছেন, আমার শ্রীমৎ অনুসরণ করো। নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করো। দেহ অভিমান ত্যাগ করো। নুতন দুনিয়াতে তোমরা নুতন শরীর পাবে। বাবা যেসব শিক্ষা দিচ্ছেন, সেগুলোকে ভালোভাবে মন্থন করো। বুদ্ধির দ্বারা তোমরা বুঝতে পেরেছ যে আমরা এইরকম হওয়ার জন্য এসেছি। এম অবজেক্ট তো তোমাদের সামনেই রয়েছে। ভগবানুবাচ হল - দুনিয়ার মানুষ হয় ভগবানকে মানুষ বলে দেয়, নয়তো নিরাকার বলে দেয়। তোমরা আত্মারাও হলে নিরাকার। শরীর ধারণ করে অভিনয় করছ। বাবাও তাঁর পার্ট প্লে করছেন। যে ভালোভাবে সেবা করবে, সে-ই নিশ্চিত হবে যে আমি অবশ্যই মালার দানা হব। নর থেকে নারায়ন হতে হবে। ফেল হলে অটোমেটিক্যালি রাম-সীতা হয়ে যাবে। যেহেতু স্বয়ং ভগবান পড়াচ্ছেন, তাই ভালোভাবে পড়তেই হবে। কিন্তু মায়া অনেক বিরোধিতা করে, অনেক বিপত্তি নিয়ে আসে। আচ্ছা !



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ, ভালবাসা আর সুপ্রভাত। ঈশ্বরীয় ওঁনার ঈশ্বরীয় সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১. বিচার সাগর মন্থন করে অসীম খুশিতে থাকতে হবে। অন্যদেরকেও রাস্তা বলে দিয়ে তাদের কল্যাণ করতে হবে। সঙ্গদোষের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে কোনো খারাপ কর্ম করা উচিত নয়।

২. মায়াবী দুঃখের বোঝাকে সরানোর জন্য মিলিত ভাবে প্রচেষ্টা করতে হবে। সেন্টার খোলার মাধ্যমে অনেকের কল্যাণের নিমিত্ত হতে হবে।

বরদান:-

ব্রাহ্মণ জীবনে সর্বদা চিয়ারফুল এবং কেয়ারফুল মুডে থেকে কম্বাইন্ড রূপধারী হও

যদি কোনো পরিস্থিতিতে প্রসন্নতার মুড পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে সেটাকে সদকালের প্রসন্নতা বলা যাবে না। ব্রাহ্মণ জীবনে যেন সর্বদাই চিয়ারফুল(উৎফুল্ল) এবং কেয়ারফুল(সাবধান) মুড থাকে। মুড যেন কখনো বদলে না যায়। মুড বদলে গেলে তোমরা বলো যে আজ আমার মুড এইরকম, তাই আমি একান্তে থাকতে চাই। আসলে একলা হয়ে গেলেই মুড বদলে যায়। সর্বদা কম্বাইন্ড রূপধারী হয়ে থাকলে মুড বদলাবে না।

স্লোগান:-

কোনো উৎসব পালন করার অর্থ হল স্মরণ এবং সেবার উৎসাহে থাকা।