১১-০২-১৯ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- জ্ঞানের তলোয়ারে যোগের ধার চাই, তবেই বিজয় হবে, জ্ঞানে যোগের ধার থাকলে তার প্রভাব নিশ্চয়ই পড়বে"

প্রশ্ন:-

তোমরা হলে ঈশ্বরীয় বার্তা বাহক (খোদার পয়গম্বর), সম্পূর্ণ দুনিয়াকে তোমাদের কোন্ বার্তা দিতে হবে ?

উত্তর:-

সম্পূর্ণ দুনিয়াকে এই বার্তা দাও যে, খোদা বা ঈশ্বর বলছেন - তোমরা সবাই নিজেকে আত্মা ভাবো, দেহ-অভিমান ত্যাগ করো, আমি তোমাদের পিতা, একমাত্র আমাকে স্মরণ কর তো তোমাদের মাথা থেকে পাপের বোঝা নামবে। কেবল এই এক বাবার স্মরণ দ্বারা তোমরা পবিত্র হবে। অন্তর্মুখী বাচ্চারা-ই এমন সংবাদ সবাইকে দিতে পারে ।

ওম্ শান্তি ।

বাবা বুঝিয়েছেন যে মানুষ মাত্রই , সে দৈবী গুণধারী হোক বা অসুরী গুণধারী, তাকে ভগবান বলা যাবে না। এই কথা তো বাচ্চারা জানে - দৈবী গুণধারী মানুষ হয় সত্যযুগে, অসুরী গুণধারী মানুষ হয় কলিযুগে, তাই বাবা লিখিত বক্তব্য তৈরি করেছেন যে তোমরা দৈব গুণধারী মানুষ নাকি অসুরী গুণধারী ? সত্যযুগী নাকি কলিযুগী ? এই সব কথা বোঝা মানুষের পক্ষে কঠিন । তোমরা সিঁড়ির বিষয়টিতে খুব ভালোভাবে বোঝাতে পার। তোমাদের জ্ঞানের বাণ খুব ভালো, কিন্তু তাতে ধার থাকা চাই। যেমন তলোয়ারে ধারালো ধার থাকে। কোনো কোনোটী তীক্ষ্ণ ধারালো হয়। যেমন গুরু গোবিন্দসিং জীর তলোয়ার বিদেশে যায় । সেই তলোয়ারটিকে নিয়ে পরিক্রমা করে। সুন্দর ভাবে পরিষ্কার করে রাখা হয় । কম দামের তলোয়ারও হয়, যে তলোয়ার ধারালো হয়, তার দামও অনেক। বাচ্চাদের কোয়ালিটিও ঠিক এইরকম হয়। কেউ জ্ঞানে খুব ভালো, কিন্তু যোগের ধার কম থাকে। যারা গরিব এবং বন্ধনে আছে, তারা শিববাবাকে অনেক স্মরণ করে। তাদের জ্ঞান কম থাকে, কিন্তু যোগের ধার থাকে অনেক। তারা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হচ্ছে। যেমন অর্জুন -একলব্যের দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়। অর্জুনের চেয়ে একলব্য তীর চালানোতে তীক্ষ্ণ ছিল। অর্জুন অর্থাৎ যারা ঘরে থাকে, যারা রোজ জ্ঞান শোনে। তাদের চেয়ে যারা বাইরে থাকে তারা তীক্ষ্ণ হয়ে যায়। যাদের জ্ঞানের ধার থাকে, তাদের সামনে বাকিরা নত হয় । বলবে এসবই ভবিতব্য। কেউ ফেল হয় বা দেউলিয়া হয় তো কপালের ফের ভাবে। জ্ঞানের সাথে যোগের ধার অবশ্যই চাই। ধার না থাকলে বলা হয় মুখস্থ বিদ্যাযুক্ত পন্ডিত। বাচ্চারাও অনুভব করে। কারো নিজের স্বামীর প্রতি, কারো অন্য কারোর প্রতি প্রেম থাকে। জ্ঞানে খুব তীক্ষ্ণ হওয়া সত্ত্বেও ভিতরে দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। এখানে তো খুব সাধারণ থাকতে হবে।

সবকিছু দেখে শুনেও যেন দেখবে না। একমাত্র বাবার সঙ্গেই প্রীতি থাকবে। তাই তো বলা হয়ে থাকে - হাত কাজ করে যাবে, হৃদয় প্রভুকে স্মরণ করে যাবে.....।



অফিস ইত্যাদি স্থানে কাজ করতে করতে বুদ্ধিতে যেন স্মরণ থাকে যে আমি আত্মা। বাবা আদেশ করেছেন যে আমাকে স্মরণ কর। ভক্তি মার্গেও কাজকর্ম করতে করতে নিজের ইষ্ট দেবতাকে স্মরণ করে। সে তো হল পাথরের মূর্তি। তাতে আত্মা তো নেই। লক্ষ্মী নারায়ণের পূজা করা হয়। সেও তো পাথরের মূর্তি, তাই না। জিজ্ঞাসা কর এঁদের আত্মা কোথায় ? এখন তোমরা জানো যে নিশ্চয়ই কোনও অন্য নাম রূপে আছে। এখন তোমরা আবার যোগবল দ্বারা পবিত্র দেবতায় পরিণত হচ্ছ। তোমাদের সামনে লক্ষ্য বস্তুও রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাবা বোঝাচ্ছেন জ্ঞান সাগর এবং জ্ঞান গঙ্গা এই পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগেই হয়। শুধু এই একটি সময়েই হয়। জ্ঞান সাগর আসেন কল্পের এই পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে। জ্ঞান সাগর হলেন নিরাকার পরম পিতা পরমাত্মা শিব। তাঁর দেহের প্রয়োজন হয়, যাতে কথা বলতে পারেন। বাকি জল ইত্যাদির কোনো ব্যাপার নয়। এই জ্ঞান তোমরা প্রাপ্ত কর সঙ্গম যুগে। যদিও সকলের কাছে আছে ভক্তি। ভক্তি মার্গের মানুষ গঙ্গার জলকেও পূজো করে। পতিত-পাবন তো হলেন একমাত্র বাবা । তিনি আসেন একবার, যখন পুরানো দুনিয়া পরিবর্তন করতে হয়। এবারে এই কথাটি কাউকে বোঝানোর জন্যে বুদ্ধি চাই। একান্তে বসে বিচার সাগর মন্থন করতে হয়। কি লেখা হবে যে মানুষ বুঝে যাক যে জ্ঞান সাগর পরম পিতা পরমাত্মা হলেন একমাত্র শিব। তিনি যখন আসেন তাঁর সন্তান যারা ব্রহ্মাকুমার-কুমারী হয়, তারা জ্ঞান ধারণ করে জ্ঞান গঙ্গায় পরিণত হয়। অনেক জ্ঞান গঙ্গারা রয়েছে, যারা জ্ঞান শোনাতে থাকে। তারা-ই সদগতি করতে পারে। জলে স্নান করে পবিত্র হতে পারবে না। জ্ঞান থাকে সঙ্গমে। এই কথা বোঝানোর যুক্তি চাই। প্রকৃত অন্তর্মুখী হতে হবে। শরীরের অনুভূতি ত্যাগ করে নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করতে হবে। এই সময় আমরা হলাম পুরুষার্থী, স্মরণ করতে করতে যখন পাপ ভস্ম হবে তখন যুদ্ধ আরম্ভ হবে, যতক্ষণ না সবাই খবর পেয়ে যাচ্ছে । ঈশ্বরীয় বার্তা বা মেসেজ তো শিববাবা-ই প্রদান করেন। খোদাকে পয়গম্বর বা বার্তা বাহক বলা হয়, তাই না। তোমরা সবাইকে এই ঈশ্বরীয় বার্তা (পয়গম) দাও যে, "নিজেকে আত্মা ভেবে পরম পিতা পরমাত্মার সাথে যোগ যুক্ত হও তো বাবা প্রতিজ্ঞা করেন যে তোমাদের জন্ম জন্মান্তরের পাপ কেটে যাবে" । এইসব তো বাবা (শিববাবা) ব্রহ্মা মুখ দ্বারা বোঝাচ্ছেন। গঙ্গা নদী কি বোঝাবে । অসীমের (বেহদের) পিতা, অসীমের আত্মা রূপী সন্তানদের বোঝাচ্ছেন - তোমরা সত্যযুগে কত সুখী সম্পদশালী ছিলে, এখন দুঃখী, কাঙাল হয়েছ। এ হল অসীমের বেহদের) বিষয় । বাকি এই চিত্র ইত্যাদি সবই হল ভক্তি মার্গের। ভক্তিমার্গের এইসব সামগ্রী অবশ্যই থাকতেই হবে । শাস্ত্র পাঠ, পূজো অর্চনা করা এইসব ভক্তি, তাই না ! আমি থোড়াই এই শাস্ত্র ইত্যাদি পাঠ করাই। তোমরা পতিত, আমি তো তোমাদের পবিত্র করার জন্যে জ্ঞান প্রদান করি যে, নিজেকে আত্মা নিশ্চয় কর। এখন আত্মা ও শরীর দুই ই হল পতিত। এখন বাবাকে স্মরণ কর তাহলে তোমরা দেবতায় পরিণত হবে। দেহের সকল পুরানো আত্মীয় পরিজনদের প্রতি মমত্ব মিটে যাবে। গায়নও করা হয় তুমি এলে আমরা অন্য কারো থেকে আর শুনব না, একমাত্র তোমার সঙ্গেই সব সম্বন্ধ যুক্ত করব এবং সব দেহধারীদের ভুলে যাব। এখন বাবা তোমাদের সেই শপথ বা প্রমিস স্মরণ করাচ্ছেন। বাবা বলছেন আমার সঙ্গে যোগ যুক্ত হলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। তোমরা নতুন দুনিয়ার মালিক হবে । এটাই হল মুখ্য লক্ষ্য । রাজার সঙ্গে প্রজাও নিশ্চয়ই তৈরি হবে। রাজাদের দাস-দাসী চাই। বাবা সব কথা বোঝান। ভালো ভাবে যোগ যুক্ত না হলে, দৈবী গুণ ধারণ না করলে উঁচু পদের প্রাপ্তি হবে কিভাবে ? ঘরে ছোট ছোট কথায় ঝগড়া কলহ তো হয়, তাইনা ? বাবা লিখে দেন তোমাদের ঘরে কলহ হয় তাই জ্ঞান স্থির থাকে না। বাবা জিজ্ঞাসা করেন স্ত্রী পুরুষ দু'জনেই ঠিক করে চলে ? চলন খুব ভালো চাই। ক্রোধের এতটুকু অংশ যেন না থাকে। এখন তো দুনিয়াতে কত হাঙ্গামা কত অশান্তি আছে। তোমাদের মধ্যে অনেকে জ্ঞান-যোগে তীক্ষ্ণ হয়ে যাবে তো আরও বেশি করে স্মরণ করবে। তোমাদের প্রাক্টিসও ভালো হয়ে যাবে এবং বুদ্ধিও বিশাল হয়ে যাবে।



বাবাকে ছোট চিত্র তেমনি ভালো লাগে না । সব চিত্র বড় বড় হবে। বাইরে মুখ্য স্থানে রাখবে। যেমন নাটকের বড় বড় চিত্র রাখা হয় তাইনা। এমন করে ভালো ভালো চিত্র বানাও যা কখনও খারাপ হবে না। সিঁড়ির বড় চিত্র বানিয়ে এমন জায়গায় রাখ যাতে সবার নজরে পড়ে। এমন পাকা রঙ দিয়ে চিত্র তৈরি কর যাতে জলে ভিজে বা সূর্যের আলোয় খারাপ না হয়। মুখ্য স্থানে রেখে দাও বা কোথাও প্রদর্শনী ইত্যাদি হলে মুখ্য দুই তিনটি বড় বড় চিত্র-ই যথেষ্ট । এই গোলকের চিত্রটিও বাস্তবে দেওয়াল জুড়ে তৈরি হওয়া উচিত। সেই চিত্র তুলে রাখতে ৮-১০ জন লোক লাগে, তবুও। যাতে কেউ দূর থেকে দেখেই একদম ক্লিয়ার বুঝতে পারে।

সত্যযুগে তো অন্য সব ধর্ম হয় না। সেসব তো আসেই পরবর্তী কালে। প্ৰথমে স্বর্গে মানুষের সংখ্যা অনেক কম থাকে। এখন স্বর্গ না নরক - তোমরা এই ব্যাপারে খুব ভালো ভাবে বোঝাতে পার। যে আসবে তাকেই বোঝাতে থাক। পাণ্ডবদের কেমন বিশাল মূর্তি বানানো হয়। তোমরাও তো হলে পাণ্ডব তাই না।



শিববাবা তো সঙ্গমে পড়ান । শ্রীকৃষ্ণ হলেন সত্যযুগের ফার্স্ট প্রিন্স, তোমরা বোঝাতে- বোঝাতে নিজের রাজত্ব স্থাপন করে নাও। কেউ পড়তে-পড়তে পড়া ছেড়ে দেয়। স্কুলেও যখন কেউ পড়া করে না তখন পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। এখানেও অনেকে আছে যারা পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। তাহলে তারা কি স্বর্গে আসবে না ? আমি বিশ্বের মালিক, আমার কাছে যদি কেউ দুটো অক্ষরও শুনে নেয় তাহলেই স্বর্গে আসবে। ভবিষ্যতে অনেকে শুনবে। এই সম্পূর্ণ রাজধানী স্থাপন হচ্ছে, কল্প পূর্বের মতন। বাচ্চারা বোঝে আমরা অনেক বার রাজত্ব নিয়েছি, অনেক বার হারিয়েছি। হীরে তুল্য ছিলাম পুনরায় কড়ি তুল্য হয়েছি। ভারত হীরে তুল্য ছিল। এখন কি হয়েছে ? ভারত তো সেই রূপই হবে তাইনা। এই সঙ্গম-কে পুরুষোত্তম যুগ বলা হয়। উত্তম থেকে উত্তম পুরুষও আছে। বাকি সবাই হল কনিষ্ঠ। যারা পূজনীয় ছিল তারা-ই আবার পূজারী হয়েছে। ৮৪ বার জন্ম নিয়েছে। সেই শরীরও নষ্ট হয়েছে, আত্মাও তমোপ্রধান হয়েছে। *যখন সতোপ্রধান থাকে তখন তো পূজো করে না। চৈতন্যে থাকে*। এখন তোমরা শিববাবাকে চৈতন্যে থেকে স্মরণ কর। তারপরে যখন পূজারী হবে তখন পাথরের পূজো করবে। এখন বাবা হলেন চৈতন্য, তাইনা। পরে তাঁরই পাথরের মূর্তি তৈরি করে পূজো অর্চনা করে। রাবণ রাজ্যে ভক্তি আরম্ভ হয়। আত্মারা সবাই সেই আছে, ভিন্ন ভিন্ন শরীর ধারণ করেছে। পতন হয়, তাই ভক্তি আরম্ভ হয়। বাবা পুনরায় এসে জ্ঞান প্রদান করেন তো দিন আরম্ভ হয়। ব্রাহ্মণরাই দেবতায় পরিণত হয়। এখন তো দেবতা বলা হবে না। ব্রহ্মা তো সত্যযুগে থাকেন না। এখানে ব্রহ্মা তপস্যা করছেন। তিনি তো হলেন মানুষ । শিববাবাকে শিব - ই বলা হয়। ব্রহ্মার মধ্যে আছেন, তবুও শিববাবা-ই বলা হবে। দ্বিতীয় কোনও নাম রাখা হয় না, এনার মধ্যে শিববাবা আসেন। তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর, এই ব্রহ্মার দেহের আধার নিয়ে জ্ঞান প্রদান করেন। তাই চিত্র ইত্যাদি খুব বুঝে শুনে তৈরি করতে হয়। এতে লিখিত বক্তব্য গুলি কাজে লাগে। পতিত-পাবন কি জলের সাগর বা নাকি নদী ? নাকি জ্ঞান-সাগর এবং তাঁর থেকে ইমার্জ হওয়া জ্ঞান গঙ্গা স্বরূপ ব্রহ্মাকুমার এবং কুমারীরা ? এদের বাবা জ্ঞান প্রদান করেন। ব্রহ্মা দ্বারা যারা ব্রাহ্মণ হয় তারা-ই পুনরায় দেবতায় পরিণত হয়। বিরাট রূপের বিশাল চিত্র দেখাতে হবে। এটাই হল মুখ্য চিত্র।



বাবা বোঝান - মিষ্টি বাচ্চারা, তোমাদের নিজের বুদ্ধিকে সিভিল (শিষ্টাচার পূর্ণ) বুদ্ধি করতে হবে। যখন বাবা দেখেন যে, দৃষ্টি ক্রিমিনাল, তখন বুঝতে পারেন চলতে পারবে না। তোমাদের আত্মা এখন ত্রিকালদর্শী হয়েছে, এই কথাও যে বুঝবে, তেমন আত্মা বিরল। বোধহীন আছে অনেক। বাবাকে ত্যাগ করে যায়। বাচ্চারা এই কথা তো বোঝে যে রাজধানী স্থাপন হচ্ছে। সেখানে সব চাই। পরে গিয়ে সব সাক্ষাৎকার হবে। দাস-দাসীও ফার্স্ট ক্লাস হবে। তারা কৃষ্ণের লালন পালন করবে। বাসন ধোওয়ার, খাবার খাওয়ানোর, পরিষ্কার করার সব থাকবে। এখান থেকেই তারা বেরোবে। ফার্স্ট নম্বরের আত্মা নিশ্চয়ই ভালো পদ পাবে। এটা তো বোঝাই যায়। বাবা বাচ্চাদের দেখে বোঝেন মুরলি ক্লাস ভালো করায়, কিন্তু যোগ কম আছে। কোনও স্ত্রী, পুরুষের চেয়ে বেশী বুদ্ধিমতী হয়। একজন জ্ঞানে আছে, বলে বাবা দ্বিতীয় চাকা ঠিক নয়। একে অপরকে সাবধান করতে হবে। প্রবৃত্তি মার্গ কিনা। জুটি একরকম হওয়া উচিত। নিজের মতন তৈরি করতে হবে। পরে তোমরা দুনিয়াকে ভুলে যাবে। এই কথা তো বোঝো যে আমরা হংস, তারা বক পাখি। কারো কোনও অবগুণ আছে কারো আবার অন্য দোষ আছে। মন কষাকষি তো চলতেই থাকে। পরিশ্রম অনেক। আবার খুব সহজও বটে। সেকেন্ডে জীবনমুক্তি। কোনও কড়ি খরচ না করে উঁচু পদ প্রাপ্ত করতে পার। যারা গরিব তারা ভালো সার্ভিস করে। এটা তো জানা আছে না যে, কারা কারা খালি হাতে এসেছে। যারা অনেক কিছু নিয়ে এসেছিল তারা আজ নেই আর গরীবরা উঁচু পদ প্রাপ্ত করছে।

আচ্ছা !



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ, ভালবাসা ও সুপ্রভাত ! ঈশ্বরীয় পিতা ওঁনার ঈশ্বরীয় সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্যে মুখ্য সার :-

১. জ্ঞানের তলোয়ারে স্মরণের ধার ভরতে কর্ম করাকালীন অন্তর্মুখী হয়ে অভ্যাস করতে হবে যে, "আমি হলাম আত্মা । আমি আত্মার প্রতি বাবার আদেশ যে, নিরন্তর আমাকে স্মরণ কর। একমাত্র বাবার সঙ্গে সত্যিকারের প্রীতি রাখ। দেহ এবং দেহের আত্মীয় পরিজনদের প্রতি মমতা ছিন্ন কর।

২. প্রবৃত্তিতে (গৃহস্থে) থেকে একে-অপরকে সাবধান করে হংস রূপে উঁচু পদ নিতে হবে। ক্রোধের অংশটুকুও বের করে দিয়ে, নিজের বুদ্ধিকে সিভিল বুদ্ধি করতে হবে।

বরদান:-

তীব্র পুরুষার্থের দ্বারা সকল বন্ধনগুলিকে ক্রস (অতিক্রম) করে মনোরঞ্জন অনুভবকারী ডবল লাইট ভব

অনেক বাচ্চারা এমন বলে যে, যদিও আমি ঠিক আছি কিন্তু বিভিন্ন কারণ আছে না - সংস্কারের, ব্যক্তিদের, বায়ুমন্ডলের বন্ধন আছে ..... কিন্তু কারণ যাই হোক না কেন তীব্র পুরুষার্থী সব কিছুকে এমন করে ক্রস করে যেন কিছুই নয়। তারা সর্বদা মনোরঞ্জন অনুভব করে। এমন স্থিতিকে বলা হয় উড়ন্ত কলা। আর উড়ন্ত কলার নিদর্শন হল ডবল লাইট। তাদের কোনও রকমের বোঝা বিচলিত করতে পারে না।

স্লোগান:-

প্রতিটি গুণ বা জ্ঞানের কথাকে নিজস্ব সংস্কার বানাও ।