১১-০৩-১৯ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- তোমাদের মনে গুপ্ত খুশী অনুভব হওয়া উচিত যে আমরা পরমাত্মা পিতার ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট, ভবিষ্যতের নতুন দুনিয়ার অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্তির জন্যে পড়াশোনা করছি"

প্রশ্ন:-

সদা কোন্ স্মৃতিতে থাকলে দৈব গুণ ধারণ হতে থাকবে ?

উত্তর:-

আমরা আত্মারা শিববাবার সন্তান, বাবা আমাদের কাঁটা থেকে ফুলে পরিণত করতে এসেছেন - সদা এই স্মৃতি থাকলে দৈবগুণ ধারণ হবে। যে সময় কোনও বিকারের আক্রমণ হয় তখন বুঝতে হবে - আমি কাঁটা, আমাকে ফুলে পরিণত হতে হবে ।

ওম্ শান্তি ।

বাচ্চাদের বুদ্ধিতে আছে যে আমরা রূহানী ইউনিভার্সিটিতে বসে আছি। এই নেশাটি থাকা উচিত। সাধারণ রীতি অনুযায়ী স্কুলে যেমন বসো, তেমন করে এখানে বোধহীন হয়ে বসবে না। অনেক বাচ্চারা বুদ্ধু হয়ে বসে। স্মরণে থাকা উচিত - এটা হল উঁচু থেকে উঁচু পরম পিতা পরমাত্মার ইউনিভার্সিটি। আমরা তাঁর স্টুডেন্ট। অতএব তোমাদের কত গর্ব হওয়া উচিত। এ হল গুপ্ত খুশী, গুপ্ত জ্ঞান। প্রত্যেকটি কথা হল গুপ্ত । অনেক বাচ্চাদের এখানে বসেও বাইরের নোংরা চিন্তন আসে। এখানে তোমরা পড়া কর ভবিষ্যতের নতুন দুনিয়া প্রাপ্তির জন্যে। তাই তোমাদের অনেক খুশী হওয়া উচিত। দৈবগুণও হওয়া উচিত। যদিও এখানে সব রকমের ব্রাহ্মণরাই আসে। তোমরা বাইরের নোংরা জগত থেকে বেরিয়ে এখানে আসো। তাই বাচ্চারা, তোমাদের অনেক খুশীতে থাকা উচিত। সমস্ত দুনিয়া এই সময় হল নোংরা। কোথায় কলিযুগী আবর্জনা, কোথায় সত্যযুগী ফুলের বাগান। কলিযুগে একে অপরকে কাঁটা বিদ্ধ করতে থাকে। তোমাদের তো এখন ফুল হতে হবে। অতএব কত খুশীতে থাকা উচিত। আমরা এখন ফুলে পরিণত হচ্ছি। এ হল বাগান। বাবাকে বাগানের মালিক বলা হয়। বাগানের মালিক এসে কাঁটাদের ফুলে পরিণত করেন। এই কথাটি বাচ্চাদের বোঝা উচিত যে আমরা কি রকমের ফুল তৈরি হচ্ছি। এখানে বাগানও আছে । মুরলী শুনে বাগানে গিয়ে ফুলের সঙ্গে নিজের তুলনা করো। আমরা কোন্ ফুল ! আমরা কাঁটা নই তো ? যে সময়ে ক্রোধের আক্রমণ হয় তখন বোঝা উচিত যে আমি কাঁটা, আমার ভিতরে ভূত আছে। এতখানি ঘৃণা অনুভব হওয়া উচিত। ক্রোধ তো সবার সামনে এসে যায়। কাম বিকার সবার সামনে হয় না । সে তো লুকিয়ে করে । ক্রোধ তো বাইরে বেরিয়ে আসে। ক্রোধ করলে তার প্রভাব অনেক দিন থাকে। ক্রোধের নেশা থাকে, লোভেরও নেশা থাকে। নিজের প্রতি নিজে থেকেই ঘৃণা অনুভব হওয়া উচিত। তোমরা জানো, বোঝো আমাদের বাবা ফুলে পরিণত করেন। কাম ও ক্রোধ দুই-ই খুব খারাপ। মানুষের সম্পূর্ণ শোভা নষ্ট হয়ে যায়। এখানে সুন্দর থাকবে তো সেখানে শোভনীয় হয়ে থাকবে। বাবা রোজ বাচ্চাদের বোঝাতে থাকেন যে দৈবীগুণ ধারণ করো। স্বর্গে যেতে হবে, তাই না। এই লক্ষ্মী নারায়ণ হলেন অনেক গুণবান। তাঁদের সামনে মানুষ মহিমা গায় - আমরা হলাম তুচ্ছ, পাপী, কাম বিকারে বশীভূত। আপনি সর্বগুণ সম্পন্ন। তোমরাও বোঝাও স্বর্গ হল ফুলের বাগান এবং নরক হল কাঁটার জঙ্গল। শিববাবা স্বর্গ স্থাপন করেন, রাবণ নরকে পরিণত করে। বিচার করা উচিত আমরা আত্মারা বাবার সন্তান। আমাদের মধ্যে এত আবর্জনা এল কোথা থেকে ? যদি (বিকার রূপী) নোংরা আবর্জনা থাকবে তো বাবার নাম খারাপ করবে। ক্রোধ করবে তাহলে বাবার নিন্দা করানো হবে। ক্রোধের ভূত আসা মাত্রই বাবা বিস্মৃত হবে। বাবার স্মৃতি থাকলে কোনও ভূত আসবে না। যদি কারো মনে দুঃখ দেবে তাতেও প্রভাব পড়ে যায়। একবার ক্রোধ করলে ৬ মাস পর্যন্ত সবার বুদ্ধিতে থাকে যে এই মানুষটি হল ক্রোধী। ফলে সবার দৃষ্টিতে নীচে নেমে যায়। বাপদাদার হৃদয় আসন থেকেও নীচে নেমে যায়। এই দাদাও (ব্রহ্মবাবা) বিশ্বের মালিক হন, ওনার মধ্যেও নিশ্চয়ই বিশেষত্ব রয়েছে । কিন্তু কারো ভাগ্যে না থাকলে কোনো উপায় বের করার চেষ্টাও করে না। এ হল কত সহজ উপায়, শুধুমাত্র বাবাকে স্মরণ করো তো আত্মা স্বচ্ছ হয়ে যাবে। আর কোনো উপায় নেই। এই সময় রাজঋষি তো কেউ নেই, রাজযোগের শিক্ষা প্রদান করেন একমাত্র বাবা। মানুষ, মানুষকে শোধরাতে পারে না। বাবা এসে সবাইকে সঠিক করেন। যারা খুব ভালোভাবে সঠিক পথে চলতে থাকে, তারা সত্যযুগের আদিতে আসে। অতএব কোনোরকম খারাপ স্বভাব থাকলে একদম ত্যাগ করা উচিত। পড়াশোনায়, যোগে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া উচিত। এই কথাও জানা আছে যে সবাই তো আর একরকম উঁচু পদের অধিকারী হবে না। কিন্তু বাবা তো পুরুষার্থ করাবেন। যত খানি সম্ভব পুরুষার্থ করে উঁচু পদের অধিকারী হও। তা নাহলে কল্প-কল্পান্তর প্রাপ্ত হবে না। বাবা বার-বার বোঝাতে থাকেন বাবাকে স্মরণ করো, তাহলে আবর্জনা বেরিয়ে যাবে। জাগতিক সন্ন্যাসীরা হঠযোগ শেখান । এমন ভেবো না হঠযোগ করলে সুস্থ থাকা যায়, তারা কখনও অসুস্থ হয় না। না, তারাও অসুস্থ হয়। ভারতে যখন লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল তো সকলে লম্বা আয়ুর অধিকারী ছিল, সুস্থ-সবল ছিল। এখন তো সবারই আয়ু ছোট হয়েছে। ভারতকে এমন কে করেছে ? সেই কথা কেউ জানে না। একেবারে ঘোর অন্ধকারে আছে। তোমরা যতই বোঝাও কিন্তু তাদেরকে বোঝানো খুব কঠিন কাজ। তবুও গরিব সাধারণ মানুষ বুঝবার চেষ্টা করে। এখানে কোনো লাখপতি আছে কি ? আজকাল লাখ টাকাও কোনো বড় ব্যাপার নয়। আজ লক্ষপতি তো অনেকেই আছে। তাদেরও বাবা সাধারণ ভাবেন। আজ তো কোটিপতিদের কথা হয়। বিবাহ ইত্যাদিতে কত টাকা খরচ করে। বাচ্চারা, তোমাদের খুব যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে যাতে তাদের জ্ঞানের তীর লাগে। বড় বড় মানুষ এম পি ইত্যাদি এলে তারা খুশী মনে এখান থেকে যায় । কিন্তু কারো এত শক্তি নেই যে আওয়াজ ছড়ায় । তোমরা তাদের বোঝাও, কিন্তু যথা যথ ভাবে বুঝতে পারে না। উঁচু থেকে উঁচু হলেন ভগবান, উঁচু থেকে উঁচু হল এই অবিনাশী উত্তরাধিকার । লক্ষ্মী-নারায়ণকে এমন স্বর্গের অবিনাশী উত্তরাধিকার কে প্রদান করেছে ? তাঁরা কোথাকার নিবাসী ? এইসব অনেকেই জানতে পারে না। মিউজিয়ামে অনেকেই আসে, বুঝবার জন্যে। সেবার অনেক চান্স আছে কিন্তু যোগ নেই। বাবাকে স্মরণ করলে প্রফুল্লতার অনুভব হবে। আমরা কারসন্তান। অনেক বাচ্চারা নিয়ম অনুযায়ী পড়া করেনা। বাবার সঙ্গে যোগ নেই। সম্পূর্ণ তো কেউ নেই। নম্বর অনুযায়ী আছে। বাচ্চাদের একান্তে বসে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। এমন বাবার কাছে আমরা স্বর্গের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। এই দুনিয়ায় আমরা-ই সবচেয়ে পতিত হয়েছি, তাই আমাদেরই আবার পবিত্র হতে হবে। এই কথা ভালোভাবে স্মরণ করতে হবে। বাবা সব রকমের পরামর্শ দেন - এমন এমন করো। যেমন রানী ভিক্টোরিয়ার মন্ত্রী গরিব ছিল, রাস্তার আলোয় পড়াশোনা করে উঁচু পদের অধিকারী হয়েছিল। তার উচ্চাশা ছিল। এই পড়াশোনাও গরিবদের জন্যে। বাবা হলেন দীনের নাথ (গরিব নিবাজ) । ধনী বিত্তবান কি ভগবানকে স্মরণ করতে পারবে। তারা বলবে আমাদের জন্য এটাই হল স্বর্গ। আরে, বাবা স্বর্গের স্থাপনা করেন নি। এখন করছেন। বাবাকে স্মরণ করো, পবিত্র তো নিশ্চয়ই হতে হবে। বাচ্চাদের যুক্তি রচনা করা উচিত - কাকে কিভাবে বোঝানো যায় যে ভারতের প্রাচীন যোগ পরম পিতা পরমাত্মা ব্যতীত কেউ শেখাতে পারে না। হঠযোগ হল নিবৃত্তি মার্গের মানুষের জন্যে। বাবা বোঝাতে থাকেন যখন কারো কল্যাণ হওয়ার সময় হবে তখন এমন কথা লিখবে। এখনও সময় আছে তাই এই কথা কারো বুদ্ধিতে নেই।



তোমাদের হল ঈশ্বরীয় মিশন। তোমাদের মানুষকে দেবতায় পরিণত করার সেবা করতে হবে। দুনিয়ায় অনেক রকমের মতামত বেরোয়, তাই সেসবের প্রদর্শনও অনেক হয়। কতখানি অন্ধশ্রদ্ধা আছে। রাত-দিনের তফাৎ। তোমাদের অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের মধ্যেও রাত-দিনের তফাৎ আছে। অনেকে তো কিছুই জানে না। কথা তো খুবই সহজ, নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করো, বাবাকে স্মরণ করো তো পাপ বিনষ্ট হবে। দৈব গুণ ধারণ করো তো এমন স্বরূপে পরিণত হবে। ঢাক ঢোল বাজিয়ে সংবাদ ছড়াও। দেহ-অভিমান না থাকলে গলায় ঢোল ঝুলিয়ে সবাইকে জানান দিতে থাকো যে বাবা এসেছেন। তিনি বলেন আমাকে স্মরণ করো তো তোমরা পতিত থেকে পবিত্র হয়ে যাবে। প্রতিটি ঘরে এই সংবাদ পৌঁছে দিতে হবে। সকলের অবস্থা এখন মরচে ধরা। এই দুনিয়া হল তমোপ্রধান, সবাইকে বাবার সংবাদ পৌঁছে দিতে হবে। শেষ কালে তোমাদের বাহবা হবে। বলবে এরা কামাল করেছে ! এরা এত জাগিয়েছে তবু আমরা কোনো কথা শুনি নি। যারা জেগেছে তারা পেয়েছে, যারা ঘুমিয়েছে তারা হারিয়েছে। বাবা বাদশাহী প্রদান করতে আসেন, তবুও ভাগ্য প্রাপ্তি হয় না। সার্ভিসের যুক্তি রচনা করা উচিত। বাবা এসেছেন তিনি বলেন মামেকম্ স্মরণ করো তো বিকর্ম বিনাশ হবে, পবিত্র হয়ে পবিত্র দুনিয়ার মালিক হবে। স্মরণ না করলে পাপ ভস্ম হবে না। কোনোরকম কাট না থাকলে উঁচু পদ মর্যাদা প্রাপ্ত করতে পারবে। নাহলে পদও কম হবে, সাজাও ভোগ করতে হবে। সার্ভিসের মার্জিন ভালো আছে। চিত্র সঙ্গে নিয়ে গেলে সার্ভিস করতে পারবে। চিত্র এমন ভালো করে তৈরি করা উচিত যাতে খারাপ না হয়। এই চিত্র গুলি ভালো জিনিস। বাকি মডেল তো সব খেলনা। বিখ্যাত ব্যক্তিদের বড় সাইজের চিত্র থাকে। হাজার বছর চলে। তোমাদের এই ৬-টি চিত্র যথেষ্ট। বলো- এই সৃষ্টি চক্র কিভাবে পরিক্রমা করে - আমরা তোমাদের বোঝাব। এই চক্র কে স্মরণ করলে তোমরা চক্রবর্তী রাজা হবে। ব্যাজও খুব ভালো। কিন্তু বাচ্চাদের কাছে এর কোনও মূল্য নেই। এই বিষয়ে তোমরা বোঝাতে থাকলেও তোমাদের অনেক উপার্জন জমা হবে। এই ব্যাজ এমন যে সবসময় নিজের বুকের কাছে রাখবে। এই বাবা (শিববাবা) ব্রহ্মা বাবার দ্বারা এই বর্সা টি প্রদান করছেন। ট্রেনেও যাত্রা করার সময়ে বোঝাতে থাকো। ছোট বাচ্চারাও করতে পারে। তোমাদের কেউ বারণ করবে না। এই ব্যাজ হল এমনই এক জিনিস, হীরে জহরাত, ফল-ফুল , মহল সবকিছু এতেই নিহিত আছে। কিন্তু বাচ্চাদের বুদ্ধিতে এই কথা থাকে না। বাবা অনেকবার বুঝিয়েছেন -সঙ্গে চিত্র অবশ্যই রাখো। তোমাদের কেউ উল্টো কথাও বলবে। কৃষ্ণের সম্বন্ধেও কতো কুকথা বলে দিয়েছে - অপহরণ করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্ত যাদের অপহরণ করেছে বলেছে, কৃষ্ণ তাদেরকে পাটরানীও তো করেছে, তাইনা। বিশ্বের মালিক হয়ে এমন কাজ কি আর করবে। এই জ্ঞানে খুব নেশা থাকা উচিত। আমরা চাই শীঘ্র বিনাশ হোক। এরকমও বলা হয় এখন তো বাবা সঙ্গে আছেন। বাবাকে ত্যাগ করলে তো বাবা আবার ৫ হাজার বছর পরে মিলবেন। এমন বাবাকে আমরা কিভাবে ত্যাগ করব। বাবার কাছে তো আমরা পড়া করি। এই হল ব্রাহ্মণদের উঁচু থেকে উঁচু জন্ম। এমন বাবা যিনি আমাদের রাজত্ব দিচ্ছেন, এর পরে তো আমরা তাঁর সঙ্গে আর মিলব না। কিন্তু গঙ্গার ধারে যারা বাস করে তারা এত গুরুত্ব দেয় না। যারা বাইরে থাকে তারা গুরুত্ব দেয়। এখানেও বাইরের মানুষ সমর্পণ করে। যদি যোগের বল নেই তো কাউকে বোঝালেও সে কিছুই বুঝবে না। অনেকে আসে, লিখে দেয় এমনভাবে বোঝানো হয়েছে, বলে যায় খুব ভালো। বাবা বোঝেন এমনভাবে শুনেছে যা না শোনার মতন। কিছুই বোঝেনি। বাবাকেই জানল না। যদি কিছু বোঝে তো এমন বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে, চিঠি লিখবে। তোমাদের জিজ্ঞাসা করবে তোমরা এমন বাবাকে কিভাবে চিঠি লেখো, বলো। শিববাবা কেয়ার অফ ব্রহ্মা। একদম লেখা আরম্ভ করবে। ব্রহ্মা হলেন রথ তাইনা। কিন্তু বেশি দাম হল তাঁর যিনি এনার মধ্যে প্রবেশ করেন।



সার্ভিস করতে করতে অনেক বাচ্চাদের গলা ক্লান্ত হয়ে যায়। কিন্তু যোগ না থাকলে তীর লাগবে না। একেই ড্রামা বলা হবে। বাবাকে চিনে নিলে বাবার সঙ্গে মিলন না করে থাকতে পারবেনা। ট্রেনে করে আসবে যোগযুক্ত হয়ে, আমরা যাই বাবার কাছে। যেমন বিদেশ থেকে এলে স্ত্রী, সন্তানের কথা মনে পড়ে । এখানে তো আমরা কার কাছে যাই ! অতএব যাত্রার পথে কত খুশী অনুভব হওয়া উচিত । সার্ভিস করতে করতে বাবার কাছে যাওয়া উচিত। বাবা হলেন সাগর, তিনি দেখেন বাচ্চারা ফলো করছে। জ্ঞানের ঢেউ উঠলে দেখে খুশী হন। এই বাচ্চা তো সুপুত্র। সকালে স্মরণের যাত্রায় ব্যস্ত থাকলে খুব লাভ । এমনও নয়, শুধু সকালেই স্মরণ করবে। উঠতে-বসতে, খাওয়া-দাওয়া করতে স্মরণ করবে, তোমরা তো সার্ভিসের যাত্রায় আছো। আচ্ছা !



মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা, বাপদাদার স্মরণ স্নেহ ও গুডমর্নিং। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী সন্তানদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্যে মুখ্য সার :-

১. কারো মনে দুঃখ দেবে না। অন্তরে কোনও ভূত থাকলে পরীক্ষণ করে তাকে বাইরে বের করতে হবে, ফুল রূপে সবাইকে সুখ দিতে হবে।

২. আমরা জ্ঞান সাগরের সন্তান অতএব বুদ্ধিতে যেন জ্ঞানের ঢেউ অবিরাম খেলতে থাকে । সার্ভিস করার যুক্তি রচনা করতে হবে, ট্রেনেও সার্ভিস করতে হবে। তার সাথে পবিত্র হওয়ার জন্যে স্মরণের যাত্রায়ও থাকতে হবে।

বরদান:-

যোগবলের দ্বারা মায়ার শক্তিকে জয় করে সদা বিজয়ী ভব |

জ্ঞান বল এবং যোগ বল হল সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বল। যেমন বিজ্ঞানের বল অন্ধকারকে পরাজিত করে আলোকিত করে দেয়। তেমনই যোগবল সদাকালের জন্যে মায়াকে জয় করে বিজয়ী করে দেয়। যোগবল এতই শ্রেষ্ঠ বল যে মায়ার শক্তি এর সামনে কিছুই নয়। যোগবল যুক্ত আত্মারা স্বপ্নেও মায়ার কাছে পরাজিত হয় না। স্বপ্নেও কোনও দুর্বলতা আসতে পারে না। এমন বিজয় তিলক তোমাদের কপালে অঙ্কিত আছে।

স্লোগান:-

প্রথম নম্বরে আসতে হলে ব্যর্থকে সমর্থে পরিবর্তন করে দাও ।