11-03-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


*"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা হলে বাবার সন্তান, তোমরাই মালিক, তোমরা কখনো বাবার শরণ নাও নি, বাচ্চারা কখনো বাবার শরণে আসে না"*

*প্রশ্নঃ -

সর্বদা কোন বিষয়ের মন্থন হলে মায়া কখনো বিরক্ত করবে না ?*

*উত্তরঃ -

আমরা বাবার কাছে এসেছি, ইনি আমাদের বাবাও, শিক্ষকও, আবার সদগুরুও, কিন্তু তিনি নিরাকার । আমাদের মতো নিরাকারী আত্মাদের নিরাকারী বাবাই পড়ান, এই কথা বুদ্ধিতে মন্থন হতে থাকলে খুশীর পারদ চড়তে থাকবে, তখন আর মায়া বিরক্ত করবে না ।*

*ওম্ শান্তি ।* ত্রিমূর্তি বাবা বাচ্চাদের বুঝিয়েছেন । তিনি তো ত্রিমূর্তি বাবা, তাই না । তিনিই হলেন এই তিনের রচয়িতা, সকলের বাবা, কেননা উঁচুর থেকেও উঁচু, তিনিই হলেন বাবা । বাচ্চাদের বুদ্ধিতে আছে যে, আমরা তাঁরই সন্তান । বাবা যেমন পরমধামে থাকেন, তেমনই আমরা আত্মারাও সেখানকার নিবাসী । বাবা এও বুঝিয়েছেন যে, এ হলো নাটক, যা কিছুই হয় তা এই নাটকে একবারই হয় । বাবাও একই বার পড়ান । তোমরা কোনো শরণাগতি নাও না । এই শব্দ হলো ভক্তির -- আমি তোমার শরণাগত । বাচ্চা কখনো কি বাবার শরণে আসে কি ? বাচ্চারা তো মালিক হয় । বাচ্চারা, তোমরা বাবার শরণে আসো নি । বাবা তোমাদের আপন করে নিয়েছেন । বাচ্চারাও বাবাকে আপন করেছে । বাচ্চারা, তোমরা বাবাকে ডাকোও যে, আমাদের নিজের ঘাড়ে আমাদের নিয়ে যাও অথবা আমাদের রাজত্ব দাও । এক হলো শান্তিধাম আর এক হলো সুখধাম । সুখধাম হলো বাবার সম্পত্তি আর দুঃখধাম হলো রাবণের সম্পত্তি । পাঁচ বিকারে আটকে গেলে জীবনে দুঃখই দুঃখ । বাচ্চারা এখন জানে যে -- আমরা বাবার কাছে এসেছি । তিনি বাবাও যেমন তেমনই শিক্ষকও কিন্তু তিনি নিরাকার । আমাদের মতো নিরাকারী আত্মাদের পড়ানও নিরাকারী । তিনি হলেন আত্মাদের পিতা । এই কথা বুদ্ধিতে যদি সর্বক্ষণ মন্থন হতে থাকে তাহলেও খুশীর পারদ চড়তে থাকবে । এ কথা ভুলে গেলেই মায়া বিরক্ত করে । তোমরা এখন বাবার কাছে বসে আছো তাই বাবা আর তাঁর অবিনাশী উত্তরাধিকার স্মরণে আসে । প্রকৃত উদ্দেশ্য তো তোমাদের বুদ্ধিতে আছে, তাই না । স্মরণ তোমাদের শিববাবাকেই করতে হবে । কৃষ্ণকে স্মরণ করা তো খুবই সহজ কিন্তু শিববাবাকে স্মরণ করাই পরিশ্রমের । নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করতে হবে । কৃষ্ণ যদি থাকে, তাহলে তাঁর প্রতি তো সকলেই চট করে আকৃষ্ট হয়ে যাবে । বিশেষ করে মায়েরা তো খুবই চান যে, আমরা যেন কৃষ্ণের মতো সন্তান পাই, কৃষ্ণের মতো পতি পাই । বাবা এখন বলছেন, আমি এসেছি, তোমরা এখন কৃষ্ণের মতো সন্তান অথবা পতিও পাবে অর্থাৎ তাঁর সমান সর্বগুণ সম্পন্ন, ১৬ কলা সম্পূর্ণ, সুখ প্রদানকারী তোমরা পাবে । স্বর্গ অথবা কৃষ্ণপুরীতে সুখই সুখ । বাচ্চারা জানে যে, আমরা এখানে পড়াশোনা করি কৃষ্ণপুরীতে যাওয়ার জন্য । সকলে তো স্বর্গকেই স্মরণ করে, তাই না । কেউ মারা গেলে বলে, অমুকে স্বর্গবাসী হয়েছেন, তাহলে তো খুশী হওয়া উচিত, তালি বাজানো উচিত । নরক থেকে বেরিয়ে স্বর্গে গেছেন, এ তো খুবই ভালো হয়েছে । কেউ যখন বলবে, অমুকে স্বর্গে গেছেন, তখন বলো, কোথা থেকে গেছেন ? অবশ্যই নরক থেকে গেছেন । এতে তো খুবই খুশী হওয়ার কথা । সকলকে ডেকে প্রসাদ খাওয়ানো উচিত, কিন্তু এ তো বোঝার কথা । ওরা এমন বলবে না যে, ২১ জন্মের জন্য স্বর্গে গেছেন । কেবল বলে দেয়, স্বর্গে গেছে । আচ্ছা, তাহলে তার আত্মাকে এখানে আবার ডাকো কেন ? নরকের খাবার খাওযাতে ? নরকে তো ডাকা উচিত নয় । এই কথা বাবা বসেই বোঝান, প্রতিটি কথাই তো জ্ঞানের, তাই না । বাবাকে ডাকে, তুমি আমাদের পতিত থেকে পবিত্র করো, তাহলে অবশ্যই এই পতিত শরীরকে শেষ করতে হবে । সবাই যখন মারা যাবে, তখন কে কার জন্য কাঁদবে ? তোমরা এখন জানো, আমরা এই শরীর ত্যাগ করে নিজের ঘরে যাবো । এখন তা প্রত্যক্ষভাবে দেখানো হচ্ছে যে, কিভাবে শরীর ত্যাগ করবে । দুনিয়াতে এমন পুরুষার্থ অল্প কয়েকজনই করে ।

বাচ্চারা, তোমাদের এই জ্ঞান আছে যে, আমাদের এই শরীর পুরানো । বাবাও বলেন যে, আমি এই পুরানো জুতো রূপী এই শরীরের ধার নিই । ড্রামাতে এই রথই নিমিত্ত হয়ে আছে । এর পরিবর্তন হতে পারে না । এঁকে আবার তোমরা পাঁচ হাজার বছর পরে দেখবে । তোমরা তো এই ড্রামার রহস্য বুঝে গেছো, তাই না । বাবা ছাড়া কারোর মধ্যেই এই শক্তি নেই যে বোঝাতে পারে । এই পাঠশালা খুবই আশ্চর্যজনক, এখানে বৃদ্ধরাও বলবেন যে, আমরা এখানে যাই, এই ভগবানের পাঠশালায় - ভগবান - ভগবতী হওয়ার জন্য । আরে, বৃদ্ধারা কখনোই স্কুলে পড়তে যায় না । তোমাদের যদি কেউ জিজ্ঞেস করে তোমরা কোথায় যাও ? তোমরা বলো, আমরা ঈশ্বরীয় ইউনিভার্সিটিতে যাই । সেখানে আমরা রাজযোগ শিখি । এমন অক্ষর শোনাও যাতে ওরা চমকিত হয়ে যায় । বৃদ্ধরাও বলবে, আমরা ভগবানের পাঠশালাতে যাই । এখানে এই আশ্চর্যের যে, আমরা ভগবানের কাছে পড়তে যাই । এমন আর কেউই বলতে পারবে না । তারা বলবে নিরাকার ভগবান কোথা থেকে এলো ? কেননা তারা তো মনে করে, ভগবান নাম - রূপ থেকে পৃথক । তোমরা এখন বুঝে কথা বলো । প্রত্যেক মূর্তির কাজ তোমরা জানো । তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে, উঁচুর থেকে উঁচু হলেন শিববাবা, আমরা তাঁর সন্তান । আচ্ছা, এরপর সূক্ষ্মবতনবাসী ব্রহ্মা - বিষ্ণু - শঙ্কর, তোমারা কেবল বলার জন্য বলো না । তোমরা তো গভীরভাবে জানো যে, ব্রহ্মার দ্বারা কিভাবে স্থাপনা করা হয় । তোমরা ছাড়া আর কেউই বায়োগ্রাফি বলতে পারে না । নিজেদের বায়োগ্রাফিই জানে না তাহলে অন্যদের কিভাবে জানবে ? তোমরা এখন সবকিছুই জেনে গেছো । বাবা বলেন যে বাচ্চারা, আমি যা জানি তাই তোমাদের বোঝাই । এই রাজত্বও বাবা ছাড়া আর কেউই দিতে পারবে না । ওই লক্ষ্মী - নারায়ণ কোনো লড়াই - ঝগড়া করে এই রাজ্য পায় নি । ওখানে কোনো লড়াই হয় না । এখানে তো কতো লড়াই - ঝগড়া হয় । এখানে কতো মানুষ । বাচ্চারা, এখন তোমাদের মনে এই কথা আসা উচিত যে, আমরা বাবার কাছ থেকে দাদার দ্বারা এই অবিনাশী উত্তরাধিকার পাচ্ছি । বাবা বলেন, তোমরা আমাকে স্মরণ করো । এমন নয় যে, যার মধ্যে প্রবেশ করেছেন, তাঁকেও স্মরণ করো । তা নয়, তিনি বলেন ----মামেকম (আমাকে ) স্মরণ করো । ওই সন্ন্যাসীরা নিজেদের ছবি নাম সমেত দেয় । শিববাবার ছবি কি দেবে ? বিন্দুর উপর নাম কিভাবে লিখবে ? বিন্দুর উপর শিববাবার নাম লিখলে বিন্দুর থেকেও নাম বড় হয়ে যাবে । এ তো বোঝার মতো কথা, তাই না । বাচ্চাদের তাই খুবই খুশী হওয়া উচিত যে, শিববাবা আমাদের পড়ান । আত্মাই তো পড়ে, তাই না । সংস্কার আত্মাই সঙ্গে করে নিয়ে যায় । বাবা এখন আত্মাকে সংস্কারে ভরপুর করছেন । তিনি যেমন বাবাও, তেমনই টিচারও, আবার সদগুরুও । বাবা তোমাদের যা শেখান, তা তোমরা অন্যদেরও শেখাও, তোমরা সৃষ্টিচক্রকে স্মরণ করো আর করাও । তাঁর মধ্যে যে গুণ আছে, তাই তিনি বাচ্চাদেরও দেন । তিনি বলেন, আমি জ্ঞানের সাগর, সুখের সাগর । আমি তোমাদেরও তেমন বানাই । তোমরাও সকলকে সুখ দাও । মন - বচন এবং কর্মে কাউকেই দুঃখ দিও না । সকলের কানেই এই মিষ্টি - মিষ্টি কথা শোনাও যে, তোমরা শিববাবাকে স্মরণ করো, এই স্মরণেই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে । তোমরা সবাইকে এই খবর দাও যে, বাবা এসেছেন, তাঁর থেকে তোমরা এই অবিনাশী উত্তরাধিকার গ্রহণ করো । সবাইকে এই খবর দিতে হবে । অবশেষে খবরের কাগজের লোকেরাও কাগজে দেবে । এ তো তোমরা জানো যে, অন্তিম সময়ে সবাই বলবে ----আহা, প্রভু তোমার লীলা ------তুমিই সবাইকে সদগতি দাও । তুমিই সবাইকে দুঃখ মুক্ত করে শান্তিধামে নিয়ে যাও । এও তো এক জাদুকরী হলো তাই না । ওদের জাদু অল্পকালের জন্য । ইনি তো ২১ জন্মের জন্য মানুষ থেকে দেবতা বানান । এই মনমনাভবের জাদুতেই তোমরা লক্ষ্মী - নারায়ণ হও । জাদুকর, রত্নাকর, এই সব নামই তো শিবববার, নাকি ব্রহ্মাবাবার ? এই ব্রাহ্মণ - ব্রহ্মাণীরা সকলেই এখানে পাঠ গ্রহণ করে । তারা নিজেরা পড়ে তারপর অন্যদেরও পড়ায় । বাবা একা তো পড়ানই না । বাবা তোমাদের একসাথে পড়ান তারপর তোমরা আবার অন্যদের পড়াও । বাবা তোমাদের রাজযোগ শেখাচ্ছেন । সেই বাবা হলেন রচয়িতা, কৃষ্ণ তো তাঁর রচনা, তাই না । উত্তরাধিকার তো রচয়িতার থেকেই পাওয়া যায়, নাকি রচনার থেকে ? কৃষ্ণের থেকে উত্তরাধিকার পাওয়া যায় না । বিষ্ণুর দুই রূপ হলো এই লক্ষ্মী - নারায়ণ । এঁরাই ছোটবেলাতে রাধা - কৃষ্ণ । এই কথাও দৃঢ়ভাবে স্মরণে রেখো । বৃদ্ধরাও যদি তীক্ষ্ণভাবে এগিয়ে যায় তাহলে উচ্চ পদ পেতে পারে । বৃদ্ধাদের আবার কিছু মমত্ব থাকে । নিজেরাই নিজেদের রচনা রূপী জালে আটকে যায় । কতো জনের স্মরণে এসে যায়, ওদের থেকে বুদ্ধিযোগ ছিন্ন করে এক বাবার সঙ্গে জুড়ে রাখাই পরিশ্রমের । তোমাদের জীবন্মৃত হতে হবে । বুদ্ধিতে যদি একবার তীর লেগে যায়, তাহলেই ব্যস্ । এরপর যুক্তি দিয়ে চলতে হয় । এমনও নয় যে কারোর সঙ্গেই কথা বলবে না । গৃহস্থ জীবনে যদিও থাকো, সবার সঙ্গে কথাবার্তা বলো । ওদের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখো । বাবা বলেন ---চ্যারিটি বিগিন্স অ্যাট হোম ।সম্পর্ক যদি নাই রাখো তাহলে তাদের কিভাবে ওদের উদ্ধার করবে ? তাদের প্রতি আসক্তি ছিন্ন করে কর্তব্য পালন করতে হবে । বাবাকে জিজ্ঞেস করে ---বিয়ে করবো কি ? বাবা বলেন, কেন নয়, করো । বাবা কেবল বলেন, কাম হলো মহাশত্রু, তোমরা যদি একে জয় করতে পারো তাহলে জগৎজিৎ হয়ে যাবে । সত্যযুগে সবাই নির্বিকারী থাকে । যোগবলের দ্বারা সেখানে জন্ম হয় । বাবা বলেন, তোমরা নির্বিকারী হও । এক তো এ কথা পাকা করো যে, আমরা শিববাবার কাছে বসে আছি, শিববাবা আমাদের ৮৪ জন্মের কাহিনী শোনাচ্ছেন । এই সৃষ্টিচক্র আবর্তিত হতে থাকে । প্রথমে সতোপ্রধান দেবী - দেবতারা আসে, তারপর পুনর্জন্ম নিতে নিতে তাঁরা তমোপ্রধান হয় । দুনিয়াও পতিত এবং পুরানো হয় । আত্মাই তো পতিত হয়, তাই না । এখানকার কোনো জিনিসেই কোনো সার নেই । কোথায় সত্যযুগের ফল - ফুল আর কোথায় এখানকার । ওখানে কোনো পচা - বাসী জিনিস থাকে না । বাচ্চারা, বাবা তোমাদের ওখানকার সাক্ষাৎকার করিয়ে আনন্দ দান করান । ইনি হলেন আত্মাদের পিতা, যিনি তোমাদের পড়ান । আত্মাই তো এই শরীরের দ্বারা পাঠ গ্রহণ করে, নাকি শরীর ? আত্মার এক শুদ্ধ অহংকার থাকে, আমিই এই অবিনাশী উত্তরাধিকার গ্রহণ করছি, স্বর্গের মালিক হচ্ছি । স্বর্গে তো সবাই যাবে, কিন্তু সকলের নাম তো আর লক্ষ্মী - নারায়ণ হবে না, তাই না । উত্তরাধিকার আত্মাই পেয়ে থাকে । এই জ্ঞান একমাত্র শিববাবা ছাড়া আর কেউই দিতে পারে না । এ তো ইউনিভার্সিটি, এখানে ছোটো বাচ্চা, যুবক সকলেই পড়াশোনা করে । এমন কলেজ কোথাও দেখেছো ? ওরা তো মানুষ থেকে ব্যরিস্টার, ডাক্তার ইত্যাদি হয় । তোমরা এখানে মানুষ থেকে দেবতা হও । তোমরা জানো যে, বাবা আমাদের টিচার এবং সদগুরু, তিনি আমাদের সাথে করে নিয়ে যাবেন । তারপর আমরা আমাদের পড়া অনুসারে সুখধামে এসে পদ পাবো । বাবা তো তোমাদের সত্যযুগকে কখনোই দেখেন না । শিববাবা জিজ্ঞেস করেন - আমি কি সত্যযুগ দেখি ? শরীর দিয়েই তো দেখতে হয়, তাঁর তো নিজের শরীরই নেই, তাহলে কিভাবে দেখবেন ? বাচ্চারা, এখানে তিনি তোমাদের সঙ্গে কথা বলেন, দেখেন যে এই সম্পূর্ণ দুনিয়াই পুরানো । শরীর ছাড়া তো কিছুই দেখা যায় না । বাবা বলেন যে, আমি পতিত দুনিয়া, পতিত শরীরে এসে তোমাদের পবিত্র বানাই । আমি স্বর্গ তো দেখিই না । এমনও নয় যে কারোর শরীরে লুকিয়ে দেখে আসি । তা নয়, আমার পার্টই নেই । তোমরা কতো নতুন নতুন কথা শোনো । তাই এখন তোমাদের এই পুরানো দুনিয়াতে মন লাগানো উচিত নয় । বাবা বলেন, তোমরা যতো পবিত্র হবে, ততই উঁচু পদ পাবে । এই সমস্তই স্মরণের যাত্রার বাজী । লৌকিক যাত্রায়ও মানুষ পবিত্র থাকে, তারপর যখন ফিরে আসে তখন অপবিত্র হয়ে যায় । বাচ্চারা, তোমাদের খুবই খুশী হওয়া উচিত । তোমরা জানো যে, আমরা অসীম জগতের বাবার থেকে এই অসীম জগতের অর্থাৎ স্বর্গের অবিনাশী আশীর্বাদ গ্রহণ করি, তাই আমাদের তাঁর শ্রীমতে চলতে হবে । বাবার স্মরনেই সতোপ্রধান হতে হবে । আমাদের উপর ৬৩ জন্মের জং লেগে রয়েছে, তা এই জন্মেই দূর করতে হবে, আর কোনো সমস্যা নেই । বিষ পানের যে খিদে থাকে, তাই ত্যাগ করতে হবে, এর চিন্তা তো করোই না । বাবা বলেন যে, এই বিকারেই তোমরা জন্ম - জন্মান্তর ধরে দুঃখী হয়ে আছো । কুমারীদের জন্য দুঃখ হয় । বায়োস্কোপে গেলেও খারাপ হয়ে যায়, এতেই নরকে চলে যায় । যদিও বাবা বলেন, দেখলে কোনো ক্ষতি নেই কিন্তু তোমাদের দেখে অন্যেও যেতে থাকবে, তাই তোমাদের যাওয়া উচিত নয় । ইনি হলেন ভাগীরথ । ভাগ্যশালী রথ যিনি নিমিত্ত হয়েছেন এই ড্রামাতে নিজের রথকে ধার হিসাবে দিতে । তোমরা বুঝতে পারো, বাবা এনার মধ্যে আসেন, ইনি হলেন হুসেনের ঘোড়া । ইনি তোমাদের সবাইকে সুখদায়ী করেন । বাবা নিজেই সুখদায়ী, কিন্তু তিনি এই রথ নিয়েছেন । ড্রামাতে এর পার্ট এমনই । এখন আত্মারা যারা কালো হয়ে গেছে তাদের স্বর্ণ যুগের বানাতে হবে ।

বাবা সর্বশক্তিমান নাকি ড্রামা ? এই ড্রামার মধ্যে যে সব অভিনেতা আছে, তারমধ্যে সর্বশক্তিমান কে ? শিববাবা । তারপর রাবণ । অর্ধেক কল্প হলো রামরাজ্য আর অর্ধেক কল্প রাবণ রাজ্য । প্রতি মুহূর্তে বাবাকে লেখে যে, আমরা বাবাকে স্মরণ করতে ভুলে যাই । আমরা উদাস হয়ে যাই । আরে, আমি তোমাদের স্বর্গের মালিক বানাতে এসেছি, তাহলে তোমরা উদাস কেন থাকো ? পরিশ্রম তো করতেই হবে, তোমাদের পবিত্র হতে হবে । এমনিই কি তিলক দিয়ে দেওয়া হবে ? নিজেই নিজেকে রাজতিলক দেওয়ার উপযুক্ত বানাতে হবে -- জ্ঞান আর যোগের দ্বারা । তোমরা বাবাকে স্মরণ করতে থাকো তাহলে তোমরা নিজেই তিলকের যোগ্য হয়ে যাবে । তোমাদের বুদ্ধিতে আছে - শিববাবা আমাদের মিষ্টি বাবা, টিচার এবং সদগুরু । তিনি তোমাদেরও খুবই মিষ্টি করে গড়ে তোলেন । তোমরা জানো যে, আমরা অবশ্যই কৃষ্ণপুরীতে যাবো । প্রতি পাঁচ হাজার বছর অন্তর ভারতকে অবশ্যই স্বর্গে পরিণত হতে হবে । তারপর আবার তা নরকে পরিণত হয় । মানুষ মনে করে, যারা ধনবান, তাদের জন্য এখানেই স্বর্গ, আর গরীবরা নরকে আছে, কিন্তু এমন কিছু নয় । এখানে নরকই । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*

*১ )* বায়োস্কোপ হলো নরকে যাওয়ার রাস্তা, তাই বায়োস্কোপ দেখবে না । স্মরণের যাত্রায় থেকে পবিত্র হয়ে উচ্চ পদ নিতে হবে, এই পুরানো দুনিয়াতে মন লাগাবে না ।

*২ )* মন - বচন এবং কর্মে কাউকেই দুঃখ দেবে না । সকলের কানেই মিষ্টি - মিষ্টি কথা

শোনাতে হবে, সবাইকে বাবার স্মরণ করাতে হবে । বুদ্ধিযোগ এক বাবার সঙ্গেই জুড়তে হবে ।

*বরদানঃ-*

পবিত্রতার শক্তির দ্বারা সদা সুখের সংসারে থাকা বেগমপুরের বাদশা ভব*

সুখ - শান্তির ভিত্তি হলো পবিত্রতা । যে বাচ্চারা মন - বচন এবং কর্ম এই তিনেই পবিত্র হয়, সে-ই হাইনেস আর হোলিনেস হয় । যেখানে পবিত্রতার শক্তি থাকে, সেখানে সুখ - শান্তি স্বতঃতই থাকে । পবিত্রতা হলো সুখ - শান্তির মাতা । পবিত্র আত্মা কখনোই উদাস হতে পারে না । সে বেগমপুরের বাদশাহ হয় আর তার লাইটের মুকুটও একেবারে আলাদা হয় এবং আসন দুই-ই পৃথক হয় । লাইটের মুকুট হলো পবিত্রতার নিদর্শন ।

*স্লোগানঃ-*

আমি আত্মা, শরীর নই, এই চিন্তন করাই হলো স্বচিন্তন ।*