11-10-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 31-03-86 মধুবন


*সর্বশক্তি-সম্পন্ন হওয়ার তথা বরদান প্রাপ্তির বছর*


আজ সমুদয় ভান্ডারের মালিক, নিজের মাস্টার বাচ্চাদের দেখছেন l তারা কতখানি বালক তথা মালিক হয়েছে, সেটাই দেখছেন l এই সময় যে শ্রেষ্ঠ আত্মারা সর্ব শক্তির সমুদায় ভান্ডারের মালিক হয়, সেই মালিক ভাবের সংস্কার ভবিষ্যতেও বিশ্বের মালিক বানায় l তাহলে তিনি কি দেখলেন ? তোমরা বালক তো সবাই, *বাবা আর আমি* এই একটা ব্যাপারে তোমরা সব বাচ্চা তন্ময় হয়ে রয়েছ l বালক ভাবের নেশা তো সবার মধ্যে আছে, কিন্তু যে বালক সেই মালিক অর্থাৎ বাবা সমান সম্পন্ন হওয়া l সুতরাং বালক ভাবের স্থিতি আর মালিক ভাবের স্থিতির মধ্যে তারতম্য লক্ষ্য করেছেন l মালিক ভাব অর্থাৎ প্রতিটা পদক্ষেপ আপনা থেকেই সম্পন্ন স্থিতিতে নিজের হবে আর সবার জন্যও হবে l একেই বলে মাস্টার অর্থাৎ যে বালক সেই মালিক l মালিক হওয়ার বিশেষত্ব হলো যতটাই মালিকভাবের নেশা ততটাই বিশ্ব সেবাধারীর সংস্কার তোমাদের ইমার্জ রূপে সদা প্রতীয়মান হবে l যতটা মালিকভাবের নেশা থাকবে সেইসঙ্গে ততটাই বিশ্ব সেবাধারীর নেশা, দুইয়েরই সমতা হবে l এটাই বাবা সমান মালিক হওয়া l সেইজন্য বাবা এই রেজাল্ট দেখছিলেন যে বালক আর মালিক উভয় স্বরূপ সদাই প্রত্যক্ষ কর্মে পরিলক্ষিত হয় নাকি শুধু নলেজেই সীমাবদ্ধ ! কেননা, নলেজ আর প্রত্যক্ষ কর্মে পার্থক্য আছে l বাবা দেখেছেন সমতার ক্ষেত্রে কিছু ভালো বাচ্চা তাদের প্রত্যক্ষ কর্মে কীভাবে বাবা সমান হয়েছে l কিছু বাচ্চা এখনো বালকভাবে থাকে, কিন্তু মালিকভাবের সেই অধ্যাত্ম নেশাতে বাবা সমান হওয়ার শক্তিশালী স্থিতিতে কখনো স্থিত হয় আর কখনো স্থিত হওয়ার প্রচেষ্টায় সময় চলে যায় l

সব বাচ্চার এটাই শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য যে বাবা সমান হতেই হবে l লক্ষ্য শক্তিশালী l এখন সঙ্কল্প, বোল, কর্ম, সম্বন্ধ-সম্পর্কে লক্ষ্যকে রাখতে হবে l এতেই তারতম্য হয় l কিছু বাচ্চা সঙ্কল্প পর্যন্ত সমান স্থিতিতে স্থিত থাকে l কেউ কেউ সঙ্কল্পের সাথে বাণীতেও পৌঁছে যায় l কখনো কখনো কর্ম পর্যন্তও পৌঁছায়, কিন্তু যখন সম্বন্ধ, সম্পর্কে আসে, হয় তা' সেবার সম্বন্ধেই আসুক বা পরিবারের সম্বন্ধে, সম্বন্ধ আর সম্পর্কে এসে এটা পার্সেন্টেজে কখনো কম হয়ে যায় l বাবা সমান হওয়া অর্থাৎ একই সময়ে সঙ্কল্প, বোল, কর্ম, সম্বন্ধ সবকিছুতে সমান স্থিতিতে থাকা l কেউ দু'টোর মধ্যে এই স্থিতিতে থাকে, কেউ তিনটের মধ্যে l কিন্তু চার স্থিতির বিষয়ে বাবা যা বলেছেন তা'তে কখনো কেউ একটাতে তো কখনো আরেকটাতে হয়ে যায় l বাপদাদা তো বাচ্চাদের প্রতি অতি স্নেহী l স্নেহের স্বরূপ শুধু অব্যক্তের সাথে ব্যক্ত রূপে মিলিত হওয়া নয়, বরং স্নেহের স্বরূপ তোমাদেরকে সমান বানায় l কিছু বাচ্চা এমন ভাবে যে বাপদাদা মোহমুক্ত হচ্ছেন l কিন্তু এটা নির্মোহ হওয়া নয় l এ হলো বিশেষ স্নেহ-স্বরূপ l

বাপদাদা আগে থেকেই তোমাদের বলে দিয়েছেন যে বহুকালের প্রাপ্তির হিসেবে সময় এখন খুব কম, সেইজন্য বাপদাদা বাচ্চাদেরকে বহুকালের জন্য বিশেষ দৃঢ়তার তপস্যা দ্বারা নিজেকে তাপিত করতে সময় দিচ্ছেন অর্থাৎ তোমাদের শক্তিশালী ও পরিপক্ক হওয়ার জন্যই এই বিশেষ সময় দিচ্ছেন l কার্যতঃ, গোল্ডেন জুবিলিতেও তোমাদের সকলের সঙ্কল্প ছিল যে তোমরা সমান হবে, বিঘ্ন বিনাশক হবে, সমাধান স্বরূপ হবে l এই সব প্রতিজ্ঞা বাবার চিত্রগুপ্ত রূপ দ্বারা হিসেবের খাতায় লিপিবদ্ধ আছে l আজও অনেক বাচ্চা দৃঢ় সঙ্কল্প করেছে l সমর্পণ হওয়া অর্থাৎ নিজেকে সর্বপ্রাপ্তিতে পরিপক্ক বানানো l সমর্পিত হওয়ার অর্থই হলো সঙ্কল্প, বোল, কর্ম আর সম্বন্ধ এই চারটেতেই বাবা সমান হওয়া l যে পত্রগুলো তোমরা দিয়েছ সেইসব সদাকালের জন্য সূক্ষ্ম বতনে বাপদাদার কাছে রেকর্ডে থেকে গেছে l সবার ফাইলস্ ওখানে বতনে আছে l প্রত্যেকের এই সঙ্কল্প অবিনাশী হয়ে গেছে l

এই বছর বাচ্চাদের দৃঢ়তার তপস্যা দ্বারা প্রতিটা সঙ্কল্পকে অমর, অবিনাশী বানানোর জন্য, নিজের সাথে বারবার অধ্যাত্ম আলাপ-আলোচনা করে দৃঢ়তার অভ্যাস দ্বারা রিয়েলাইজেশন করার জন্য, এবং রিইনকারনেট স্বরূপ হয়ে তারপরে কর্মে আসার জন্য, এই স্থিতিকে সদাকালের জন্য আরও শক্তিশালী করতে বাপদাদা তোমাদের সময় দিচ্ছেন l সেইসঙ্গে বিশেষ রূপে শুদ্ধ সঙ্কল্পের শক্তি দ্বারা সঞ্চয়ের খাতা আরও বাড়াতে হবে l এখন আরও অন্তর্মুখী হয়ে শুদ্ধ সঙ্কল্পের শক্তির বিশেষ অনুভব করা আবশ্যক l তোমাদের শুদ্ধ সঙ্কল্পের শক্তি দ্বারা সহজে ব্যর্থ সঙ্কল্পকে সমাপ্ত করে শুভ ভাবনা, শুভ কামনা দ্বারা অন্যদেরও পরিবর্তন করতে পারো l এখন এই শুদ্ধ সঙ্কল্পের শক্তির বিশেষ অনুভব সহজেই ব্যর্থ সঙ্কল্পকে সমাপ্ত করে দেয় l শুধু তোমাদের ব্যর্থ সঙ্কল্পই সমাপ্ত করে না, বরং তোমাদের শুদ্ধ সঙ্কল্প, অন্যদেরও প্রতি শুভ ভাবনা, শুভ কামনার স্বরূপ দ্বারা পরিবর্তন করতে পারে l এখন এই শুদ্ধ সঙ্কল্পের শক্তির স্টক নিজের জন্যও সঞ্চয় করার খুব প্রয়োজন l মুরলী শোনার এই আন্তরিক ভালোবাসা খুব ভালো l মুরলী অর্থাৎ রত্ন-ভান্ডার l মুরলীর সব পয়েন্ট শক্তিরূপে জমা করতে হবে - এটা শুদ্ধ সঙ্কল্পের শক্তি বাড়ানো l প্রতি মুহূর্তে শক্তি হিসেবে কার্যে প্রয়োগ কর l এখন এই বিশেষত্বের বিশেষভাবে অ্যাটেনশন রাখতে হবে l শুদ্ধ সঙ্কল্পের শক্তির মহত্ত্বকে এখন যত অনুভব করতে থাকবে ততখানি মন্সা সেবারও সহজে অনুভাবী হতে থাকবে l প্রথমে নিজের জন্য শুদ্ধ সঙ্কল্প শক্তির সঞ্চয় প্রয়োজন আর তারপরে সাথে সাথে তোমরা সব বিশ্ব কল্যাণকারী আত্মা বাবার সাথে বিশ্ব পরিবর্তক আত্মা হবে l এই শুদ্ধ সঙ্কল্পের শক্তি দ্বারা বিশ্ব পরিবর্তন করার অনেক কার্য এখনো বাকি আছে l যেমন *বর্তমান সময়ে ব্রহ্মাবাবা অব্যক্ত রূপধারী হয়ে শুদ্ধ সঙ্কল্পের শক্তি দ্বারা তোমাদের সবাইকে পালন করছেন l সেবার বৃদ্ধির সহযোগী হয়ে অগ্রচালিত করছেন l শুদ্ধ সঙ্কল্পের শক্তির এই বিশেষ সেবা চলছে l সুতরাং ব্রহ্মাবাবা সমান এখন এই বিশেষত্ব তপস্যা রূপে নিজের মধ্যে বাড়ানোর অভ্যাস করতে হবে l তপস্যা অর্থাৎ দৃঢ়তা সম্পন্ন অভ্যাস l সাধারণ কোনকিছুকে তপস্যা বলা হবে না, সুতরাং এখন তপস্যার জন্য সময় দিচ্ছেন l কেন এখনই দিচ্ছেন ? কারণ এই সময় বহুকালের হিসেবে তোমাদের খাতায় জমা হয়ে যাবে l বাপদাদা সবাইকে বহুকালের প্রাপ্তি করানোর নিমিত্ত l বাপদাদা সব বাচ্চাকে বহুকালের রাজ্য ভাগ্য অধিকারী বানাতে চান l বহুকালের সময় খুব অল্প আছে, সেইজন্য তপস্যা রূপে সব বিষয়ের অভ্যাস করার জন্য এই বিশেষ সময় দিচ্ছেন, কারণ এমন সময় আসবে যাতে তোমাদের সবাইকে দাতা ও বরদাতা হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে অনেককে দিতে হবে l সুতরাং সর্ব ভান্ডারের সঞ্চয়ের খাতা সম্পন্ন বানানোর সময় দিচ্ছেন l*

দ্বিতীয়তঃ, বিঘ্ন বিনাশক বা সমাধান স্বরূপ হওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছ তোমরা l সুতরাং, নিজের এবং অন্যদের জন্যেও বিঘ্ন বিনাশক হওয়ার দৃঢ় সঙ্কল্প আর দৃঢ় স্বরূপ উভয়ই হতে দাও l শুধু সঙ্কল্প নয়, বরং স্বরূপ হতে দাও l তাইতো বাপদাদা এই বছর এক্সট্রা চান্স দিচ্ছেন l যারই বিঘ্ন বিনাশক হওয়ার এই বিশেষ ভাগ্য নেওয়ার আছে, তারা এই বছরে নিতে পারো l এই বছরের বিশেষ বরদান আছে l যতই হোক, বরদান নেওয়ার জন্য দু'টো বিষয়ে বিশেষ অ্যাটেনশন দিতে হবে l এক, সদা বাবা সমান দাতা হতে হবে, নেওয়ার কোনও আশা থাকবে না l রিগার্ড পেলে তবেই রিগার্ড দেবে, স্নেহ পেলে তবেই স্নেহী হবে, না ! দাতার বাচ্চা হয়ে আমাকে দিতে হবে l গ্রহণ করার ভাবনা রেখো না l শ্রেষ্ঠ কর্ম যখন করছ তখন পরিবর্তে অন্য তরফে পাওয়ার আশা করা উচিত নয় l শ্রেষ্ঠ কর্মের ফল শ্রেষ্ঠই হয় l এই নলেজ তোমরা জানো কিন্তু করার সময় এই সঙ্কল্প থাকে না l এক, বরদান নেওয়ার পাত্র হওয়ার জন্য সদা দাতা হয়ে করতে থাকা, আর দুই হলো, বিঘ্ন বিনাশক হতে হবে, সুতরাং অন্তর্লীন করার শক্তি আবশ্যক l তোমরা সাগরের বাচ্চা, সাগরের বিশেষত্বই অন্তর্লীন করা l যার মধ্যে অন্তর্লীন করার শক্তি থাকবে সেই শুভ ভাবনা, কল্যাণের কামনা করতে পারবে, সেইজন্য দাতা হও, সাগর হও, অন্তর্লীন শক্তির স্বরূপ হও l এই দুই বিশেষত্ব সদা কর্মে রাখো l কোন কোন সময়, কিছু কিছু বাচ্চা বলে যে ভেবেছিলাম করবো, কিন্তু করতে গিয়ে বদলে গেছে l সুতরাং এই বছর চার বিষয়েই একই সময়ে সমতার বিশেষ অভ্যাস তোমাদের করতে হবে l বুঝেছ ! অতএব, একদিকে রত্ন-ভান্ডার জমা করার আরেকদিকে ন্যাচারাল ভাবে দাতা হয়ে দেওয়ার সংস্কার ধারণ করতে তোমাদের সময় দিচ্ছেন l সুতরাং সদাকালের জন্য বিঘ্ন বিনাশক হতে এবং অন্যকে বিঘ্ন বিনাশক তৈরি করতে তোমাদের নম্বর নিশ্চিত করার চান্স দিচ্ছেন l যা কিছুই হোক, নিজেরা তপস্যা করো আর অন্যের বিঘ্ন সমাপ্ত করতে সহযোগী হও l নিজেকে যদি নতও হতে হয় তবুও সেটা সদাকালের জন্য দোলায় দুলতে থাকা l যেমন লোকে শ্রীকৃষ্ণকে কতো ভালোবাসার সাথে দোলায় l সেইরকম এখন বাবা তোমরা সব বাচ্চাকে নিজের কোলের দোলায় দোলাচ্ছেন l ভবিষ্যতে তোমরা রত্ন জড়িত দোলায় দুলবে আর ভক্তিমার্গে পূজ্য হয়ে দোলায় দুলবে l সুতরাং নত হওয়া, মরে যাওয়া এটা মহত্ত্ব l আমি কেন নত হবো, তার নত হওয়া উচিত - এতে নিজেকে কম মনে ক'রনা l এই নত হওয়া অর্থাৎ মহান হওয়া l এই মরে যাওয়া মরণ নয়, অবিনাশী প্রাপ্তিতে বাঁচা, সেইজন্য সদা বিঘ্ন বিনাশক হতে হবে এবং অন্যকেও বানাতে হবে l এতে ফার্স্ট ডিভিশনে আসার চান্স যে নিতে চায় সে নিতে পারে l চান্স নেওয়ার এই বিশেষ সময়ের মহত্ত্ব বাপদাদা শোনাচ্ছেন l সুতরাং সময়ের মহত্ত্বকে জেনে তপস্যা করো l

তৃতীয়তঃ, সময় অনুসারে বায়ুমন্ডলে যত অশান্তি আর চঞ্চলতা বেড়ে যাচ্ছে, সেই অনুপাতে তোমাদের বুদ্ধির লাইন অনেক ক্লিয়ার হওয়া উচিত, কারণ সময়ের হিসেবে টাচিং আর ক্যাচিং এই দুই শক্তির আবশ্যকতা আছে l প্রথমে বাপদাদার ডিরেকশন তোমাদের বুদ্ধি দ্বারা অবশ্যই ক্যাচ করতে পারতে হবে l যদি লাইন ক্লিয়ার না হয় তবে বাবার ডিরেকশনের সাথে মনমতও মিক্স হয়ে যায় l আর মিক্স হওয়ার কারণে সময়কালে ভুলপথে চালিত হতে পারো l বুদ্ধি যত স্পষ্ট হবে ততই বাবার ডিরেকশন স্পষ্ট ক্যাচ করতে পারবে l আর বুদ্ধির লাইন যত ক্লিয়ার হবে, ততই নিজের উন্নতির জন্য, সেবার বৃদ্ধির জন্য এবং সর্ব আত্মার দাতা হয়ে দেওয়ার জন্য শক্তি সহজে বাড়তে থাকবে আর টাচিং হবে, এই সময় বিশেষ আত্মার জন্য সহজ সেবার এবং স্ব-উন্নতির এটাই যথার্থ সাধন l সুতরাং বর্তমান সময় অনুসারে এই দুই শক্তি অতি আবশ্যক l এই সবই বাড়ানোর জন্য তোমাদের একনামি এবং ইকনমি হতে হবে l এক বাবা, দ্বিতীয় কেউ নয় l অন্যদের প্রতি মোহ অন্য ব্যাপার ! যতই হোক মোহ রং, কিন্তু অন্যের স্বভাবের প্রভাবের কারণে নিজের স্থিতাবস্থায় চঞ্চলতা নিয়ে আসে l অন্যের সংস্কার তোমাদের বুদ্ধিতে দ্বন্দ্ব উৎপন্ন করে l সেই সময় তোমাদের বুদ্ধিতে বাবা থাকেন নাকি সংস্কার ? এমনকি, বুদ্ধি মোহ বা দ্বন্দ্বে প্রভাবিত হলেও কিন্তু বুদ্ধির লাইন সদা ক্লিয়ার হতে দাও l এক বাবা দ্বিতীয় কেউ নয় - একে বলে একনামি l আর ইকনমি কি ? শুধুমাত্র স্থূল ধনের সঞ্চয়কে ইকনমি বলে l সেটাও জরুরি, কিন্তু সময়ও ধন, সঙ্কল্পও ধন, শক্তিও ধন, এই সব কিছুতে ইকনমি হতে হবে l এই গুলো শুধু শুধু ব্যর্থে নষ্ট হতে দিও না l ইকনমি করা অর্থাৎ জমা-খাতায় সঞ্চয়ের হিসেব বাড়ানো l যাদের একনামি আর ইকনমির সংস্কার আছে তারা এই দুই শক্তির (টাচিং আর ক্যাচিং) অনুভব করতে পারবে l আর এই অনুভব বিনাশের সময় করতে পারবে না, এই অভ্যাস এখন থেকেই গড়ে তোলা প্রয়োজন l তাহলেই সময়কালে এই অভ্যাসের কারণে অন্তে শ্রেষ্ঠ মত আর গতি লাভ করতে পারবে l তোমরা ভাবো যে বিনাশের সময় এখনও কিছু বাকি আছে ! ঠিক আছে, দশ বছরই না হয় বাকি আছে, কিন্তু দশ বছর পরে গিয়ে তখন আর এই পুরুষার্থ করতে পারবে না l যতই পরিশ্রম করো না কেন, করতে পারবে না l দুর্বল হয়ে যাবে l তারপরে অন্ত যুদ্ধেই চলে যাবে, সফলতায় নয় l ত্রেতাযুগী তো হতে চাও না, তাইনা ? পরিশ্রম অর্থাৎ তীর আর কামান l আর সদা অনুরাগী হয়ে থাকা, খুশিতে থাকা অর্থাৎ মুরলীধর হওয়া, সূর্যবংশী হওয়া l মুরলী তোমাদের নাচায় আর তির কামান লক্ষ্যবস্তুতে নিশানা লাগানোর পরিশ্রম করায় l সুতরাং কামানধারী নয় মুরলীধর হতে হবে l অতএব, পরে কোনও অভিযোগ ক'রনা আর ব'লনা যে আবার সামান্য কিছু এক্সট্রা সময় দিয়ে দাও l চান্স দাও বা কৃপা করো l এইরকম করা যাবে না, সেইজন্য বাবা আগে থেকেই তোমাদের বলে দিচ্ছেন l হয় পরে এসেছ বা শুরুতে, কিন্তু সময় অনুসারে সবারই লাস্ট স্টেজে পৌঁছানোর সময় l সুতরাং তোমাদের সেইরকম ফাস্ট গতিতে এগিয়ে যেতে হবে l বুঝেছ ! আচ্ছা l

চতুর্দিকের সব স্নেহী বাচ্চাকে, সদা হৃদয় সিংহাসনাসীন বাচ্চাকে, যারা সদা সন্তুষ্টতার ঝলক দেখায় সেই বাচ্চাদের, সদা প্রসন্নতার পার্সোনালিটিতে থাকা বাচ্চাদের, সদা উদার দরাজদিল, অসীম জগতের বিশাল বুদ্ধি ধারণকারী, বিশাল আত্মাদের বাপদাদার স্নেহসম্পন্ন স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার l


বরদান:-
পাঁচ বিকাররূপী শত্রুকে পরিবর্তন করে তাদের সহযোগী বানিয়ে মায়াজিত জগৎজিত ভব

বিজয়ী, অবশ্যই শত্রুর রূপ পরিবর্তন করে l সুতরাং বিকার রূপী শত্রুকে পরিবর্তিত করে তোমরা তাদের সহযোগী স্বরূপ বানাও, যাতে তারা সবসময় তোমাদের কুর্নিশ করে l কাম বিকারকে শুভ কামনা- রূপে, ক্রোধকে আত্মিক নেশার রূপে, লোভকে অনাসক্ত বৃত্তি-রূপে, মোহকে স্নেহের আর দেহ অভিমানকে স্ব-অভিমান রূপে পরিবর্তন করো, তাহলেই মায়াজিত জগৎজিত হয়ে যাবে l

স্লোগান:-
রিয়েল গোল্ডে আমিত্বভাবই অ্যালয়, যা ভ্যাল্যুকে কম করে দেয়, সেইজন্য আমিত্বভাবকে সমাপ্ত করো l