১২-০১-১৯ প্রাতঃ মুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- তোমরা কল্যাণকারী বাবার বাচ্চাদের কর্তব্য হলো সবার কল্যাণ করা, সবাইকে বাবার স্মরণ করিয়ে তাদের জ্ঞান দান করা"

প্রশ্ন:-

বাবা কোন্ বাচ্চাদের মহারথী বলে সম্বোধন করেন, তাদের লক্ষণ কি ?

উত্তর:-

যারা সঠিক রীতিতে নিজেরা অধ্যয়ন করে এবং অন্যদেরও করায় তাদের উপর বৃহস্পতির দশা থাকে, যারা নিজের এবং অন্যদের উন্নতির সবসময় খেয়াল রাখে, যারা এই যজ্ঞের সেবায় অস্থি দেয় ( সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ ) বাবার কাজে সহযোগী হয়ে উঠে -- সে-ই হলো মহারথী । এমন মহারথী বাচ্চাদের সম্পর্কে বাবা বলেন -- এরা হলো আমার সুসন্তান ।

ওম্ শান্তি ।

আজকাল বাচ্চারা শিব জয়ন্তীর প্রস্তুতি করছে, কার্ড ইত্যাদি ছাপাচ্ছে । বাবা তো অনেকবার বুঝিয়েছেন সম্পূর্ণ কথাই গীতার উপর ভিত্তি করে । মানুষের দ্বারা রচিত গীতা পড়তে পড়তে অর্দ্ধকল্প ধরে অধঃপতিতই হয়েছে । একথা তোমরা বাচ্চারা বুঝেছ -- অর্ধকল্প দিন,অর্ধকল্প রাত । বাবা এখন বিষয়বস্তু বলে দিচ্ছেন তার উপরেই মন্থন করতে হবে । তোমরা লিখতে পার ভাই এবং বোনেরা এসে বোঝ -- এক গীতাই হলো জ্ঞানের শাস্ত্র বাকি সব ভক্তির । জ্ঞানের শাস্ত্র একটাই যা পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে বেহদের বাবা পরমপিতা পরমাত্মা ত্রিমূর্তি শিব এসে শোনান, লিখতে হবে, তিনি ব্রহ্মা দ্বারা শোনাচ্ছেন । যার ফলে ২১ জন্মের জন্য সদ্গতি প্রাপ্তি হবে । জ্ঞানের গীতা দ্বারা ২১ জন্মের জন্য অবিনাশী বর্সা প্রাপ্তি হয়, তারপর ৬৩ জন্ম ধরে ভক্তির গীতা চলে যা মানুষকে শোনানো হয়েছে । বাবা তো রাজযোগ শিখিয়ে সদ্গতি করিয়ে দেন । তারপর আর শোনার প্রয়োজন পড়ে না । এই গীতা জ্ঞানের দ্বারা দিন শুরু হয়ে থাকে । জ্ঞানের সাগর বাবাই গীতা শোনান, যার জন্য ২১ জন্ম সদ্গতি প্রাপ্ত হয়ে যায় । অর্থাত্ একশ শতাংশ পবিত্রতা, সুখ শান্তির অটল অখণ্ড সত্যযুগের দৈবী স্বরাজ্য প্রাপ্তি হয় । ২১ জন্মের জন্য উত্তরণ ঘটে । মানুষ দ্বারা রচিত গীতা অধঃপতন ঘটায় । ভক্তির গীতা আর জ্ঞানের গীতার ভালভাবে বিচার সাগর মন্থন করা উচিত।



এটাই হল মূল বিষয় যা মানুষ জানে না । তোমরা লেখ ত্রিমূর্তি শিব জয়ন্তীই শ্রীমৎ ভগবত্গীতা জয়ন্তী, যা সবাইকে সদ্গতি প্রদান করে । তোমরা এও বলতে পার শিব জয়ন্তী-ই বিশ্বে শান্তি নিয়ে আসে । প্রধান শব্দটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ যার উপর সব নির্ধারণ করছে । তোমরা সবাইকে বলতে পার মানুষ, মানুষকে সদ্গতি দিতে পারে না । ভগবান সদ্গতি করতে আসেন -- পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে যা এখন হয়ে চলেছে । এই ২-৩ টি পয়েন্টই হলো প্রধান । শিব আর কৃষ্ণের পার্থক্য তো গীতাতে আছেই । ত্রিমূর্তি শিব ভগবান দ্বারা সঙ্গমযুগে গীতা শুনলে সদ্গতি প্রাপ্ত হয় । এভাবে যখন পয়েন্টস নিয়ে কেউ বিচার সাগর মন্থন করে, তখন তা অন্যদেরও প্রভাবিত করে । মানুষ কখনওই মানুষকে সদ্গতি দিতে পারে না । শুধুমাত্র একজনই ত্রিমূর্তি পরমপিতা পরমাত্মা শিব যিনি একজন শিক্ষক, সদ্গুরু তিনিই এই পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে এসে সবাইকে সদ্গতি প্রদান করছেন । কার্ডে অল্পবিস্তর লেখ । উপরে লেখা উচিত কলিযুগের কড়িহীন পতিত মানুষ থেকে সত্যযুগে হীরেতুল্য পাবন দেবী-দেবতা হওয়ার জন্য ঈশ্বরীয় নিমন্ত্রণ । এমনটা লিখলে মানুষ খুশি হয়ে বোঝার জন্য যেতে চাইবে । সদ্গতি দাতা বাবারই শিব জয়ন্তী উদযাপন করা হয় । একদম পরিষ্কার ব্যাখ্যা। মানুষ ভক্তি মার্গে কত শাস্ত্র পড়ে, মাথা ঠোকে।



এখানে এক সেকেন্ডে বেহদের বাবা দ্বারা মুক্তি জীবন মুক্তি পাওয়া যায়। যখন বাবার হয়ে ওঁর কাছ থেকে নলেজ নেওয়া হয় তখন জীবনমুক্তি অবশ্যই প্রাপ্ত হবে । প্রথমে মুক্তিতে গিয়ে যেমন পুরুষার্থ করবে, তেমনি জীবনমুক্তিতে অবশ্যই আসবে । জীবন মুক্তি অবশ্যই প্রাপ্তি হবে, সে প্রথমেই আসুক বা শেষে আসুক । প্রথমে জীবনমুক্তিতে আসে তারপর জীবনবন্ধে । এমনই প্রধান পয়েন্টস গুলো যদি ধারণ করে তবুও অনেক সার্ভিস করতে পারবে । যদি বাবাকে জেনে থাক তবে অন্যদের ও তাঁর পরিচয় দাও। কাউকে পরিচয় না দেওয়া অর্থাত্ জ্ঞান নেই । বোঝানো তো হয় কিন্তু ভাগ্যে নেই । কল্যাণকারী বাবার বাচ্চাদের কল্যাণ করা উচিত, নয়তো বাবা বুঝবেন এ শুধু কথার কথাই বলে যে আমি শিব বাবার বাচ্চা, কল্যাণ তো করে না। বিত্তবান বা গরিব সবার কল্যাণ করা উচিত । প্রথমে কিন্তু গরিবদেরই আনবে কেননা ওদের সময় আছে । ড্রামাতে এমনটাই নির্ধারিত । একজন বিত্তশালী যদি এখন আসে তবে তার পিছনে পিছনে অনেক আসবে । যদি এখন এমন মহিমা প্রচার হয়ে থাকে তবে প্রচুর সংখ্যক আসবে

তোমাদের ঈশ্বরীয় পদ মর্যাদা । তোমরা নিজের এবং অন্যদেরও কল্যাণ কর । যে নিজের কল্যাণ করতে পারেনা সে অন্যদেরও কল্যাণ করতে পারবে না । বাবা হলেন কল্যাণকারী, সবার সদ্গতি দাতা । তোমরাও সাহায্যকারী তাই না ! তোমরা জান ওদের ভক্তি মার্গের দশা। সদ্গতি মার্গের দশা একটাই যে ভালোভাবে পড়ে আর অন্যদেরও শিক্ষা প্রদান করে তার উপর বৃহস্পতির দশা থাকে আর তাকেই মহারথী বলা হয় । নিজের মনকে জিজ্ঞাসা কর আমি মহারথী কিনা, অমুক -অমুকের মত দৃষ্টান্ত অনুযায়ী সার্ভিস করছি কিনা । পেয়াদা কখনও কাউকে জ্ঞান শোনাতে পারে না । যদি কারও কল্যাণ না করতে পারে তবে নিজেকে কল্যাণকারী বাবার বাচ্চা কেন বলে ! বাবা তো পুরুষার্থ করাবেন । এই যজ্ঞ সেবায় অস্থি দেওয়া উচিত । শুধু খাও দাও আর ঘুমাও - একি কোনও সার্ভিস! এমন হলে তো প্রজাকূলের দাস-দাসী হতে হবে । বাবা তো বলেছেন পুরুষার্থ করে নর থেকে নারায়ণ হয়ে ওঠো। বাধ্য বাচ্চাদের দেখে বাবাও খুশি হবেন। লৌকিক বাবাও যখন দেখেন এ তো খুব ভালো পদ মর্যাদা পাবে তখন তিনিও দেখে খুশি হন । পারলৌকিক বাবাও এমনটাই বলেন। বেহদের বাবাও বলেন আমি তোমাদের বিশ্বের মালিক বানাতে এসেছি। এখন তোমরা অন্যদেরও বানাও। শুধু পেট পূজা করলে কি লাভ হবে । সবাইকে শুধু এটাই বল যে, শিববাবাকে স্মরণ কর । ভোজন করার সময়ও একে অপরকে বাবার কথা স্মরণ করাও যদি সবাই বলবে এর শিববাবার প্রতি কত ভালবাসা । এতো সহজ তাইনা ! এতে কি ক্ষতি হবে, অভ্যাসে পরিণত হলে ভোজনও করবে, বাবাকেও স্মরণ করবে। দৈবী গুণ ও অবশ্যই ধারণ করতে হবে । এখন তো সবাই ডেকে বলছে হে পতিত-পাবন এসো । নিশ্চয়ই তবে পতিত । শঙ্করাচার্যও শিবকে স্মরণ করে কেননা তিনিই পতিত-পাবন । অর্দ্ধকল্প ভক্তি করার পরই ভগবান আসেন । এই হিসেব কারও জানা নেই । বাবা বোঝান -- যজ্ঞ, তপ, দান ইত্যাদি করলে আমাকে পাওয়া যায় না। এর মধ্যে গীতাও এসে যায় । এসব শাস্ত্র ইত্যাদি পড়লে কারও সদ্গতি হয়না । গীতা, বেদ, উপনিষদ সব ভক্তি মার্গের । বাবা তো বাচ্চাদের সহজ রাজযোগ আর জ্ঞান প্রদান করেন, যার দ্বারা রাজত্ব প্রাপ্তি হয় । এরই নাম রাজযোগ । এখানে ধর্মীয় পুস্তকাদির কোনও প্রশ্নই নেই । টিচার পড়াচ্ছেন পদ প্রাপ্ত করানোর জন্য, সুতরাং অনুসরণ করা উচিত ।



সবাইকে বল শিববাবাকে স্মরণ কর । তিনিই সব আত্মাদের পিতা । শিববাবাকে স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হবে । একে অপরকে সতর্ক করে উন্নতি করতে হবে । যত স্মরণে থাকবে বা স্মরণ করবে ততই নিজের কল্যাণ হবে । স্মরণের যাত্রা দ্বারা সারা বিশ্বকে পবিত্র করে তুলবে । স্মরণে থেকে ভোজন তৈরি করলে তাতেও শক্তি বৃদ্ধি হবে । সেইজন্যই তোমাদের ব্রহ্মা ভোজনের অনেক মহিমা । ভক্তরা ভোগ বিতরণ করতে করতেও রাম -রাম বলতে থাকে । রাম নামের দান দেয় । তোমাদের বুদ্ধিতে প্রতিটি মুহূর্ত বাবার স্মরণ থাকা উচিত । বুদ্ধিতে সারাদিন জ্ঞান রমণ করা উচিত । বাবার কাছে সম্পূর্ণ রচনার আদি-মধ্য -অন্তের আছে না ! উচ্চ থেকে উচ্চতর ভগবান যাঁকে স্মরণ করলেই উচ্চপদ প্রাপ্তি করতে পারবে তবে দ্বিতীয় আর কাউকে কেন স্মরণ করবে । বাবা বলেন শুধুমাত্র আমাকে স্মরণ করার জন্য দ্বিতীয় সব কিছু ছাড়তে হবে । এ বলো অব্যভিচারী স্মরণ। যদি স্মরণে না থাকে তবে গিট বেধে রাখ । নিজের উন্নতির জন্য, উচ্চ পদ প্রাপ্তি করার জন্য পুরুষার্থ অবশ্যই করতে হবে । শিববাবা আমাদের টিচার, যিনি আমাদেরও টিচার তৈরি করছেন । তোমরা সবাই পান্ডা তাই না ! পান্ডাদের কাজ হলো পথ বলে দেওয়া । এত জ্ঞান প্রথমে তোমাদের তো ছিলই না। সবাই বলে প্রথমে তো পড়া ছিল কানাকড়ি পয়সা তুল্য । তা তো অবশ্যই । ড্রামা অনুসারে তোমরা তেমনই পড়ছ যা কল্প প্রথমে পড়েছিলে, আবার কল্পের শেষে গিয়ে এমনটাই পড়বে। শেষে গিয়ে তোমাদের সব সাক্ষাত্কার হবে । সাক্ষাত্কার হতে দেরি হয় না । বাবারও( ব্রহ্মা) শীঘ্রই সাক্ষাত্কার হয়েছিল । অমুক -অমুক রাজা হবে, এমন তাদের পোশাক হবে । শুরুতে বাচ্চাদের অনেক সাক্ষাত্কার হতো আবারও শেষে গিয়ে হবে, তারপর স্মরণ করবে । আচ্ছা !



মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ স্মরণ ভালবাসা আর গুড মর্নিং । রূহানী বাবার রূহানী বাচ্চাদের নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১. ভোজন করার সময় একে অপরকে স্মরণ করাও । স্মরণে ভোজন গ্রহণ কর । এক শিববাবার প্রতিই প্রকৃত ভালবাসা রেখ ।

২. যজ্ঞ সেবায় অস্থি দিতে হবে । বাবার সম্পূর্ণ সহযোগী হতে হবে ।

বরদান:-

নিশ্চয় বুদ্ধি হয়ে দুর্বল সংকল্পের জালকে সমাপ্ত করতে সমর্থ স্বরূপ সফলতা সম্পন্ন ভব

এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ বাচ্চা দুর্বল সংকল্পকে নিজেরাই ইমার্জ করে -- ভাবে জানা নেই কি হবে, হবে কি হবে না ••• এইভাবে দুর্বল সংকল্পের দেওয়াল গড়ে ওঠে আর সফলতা ঐ দেওয়ালের ভিতরে চাপা পড়ে যায় । মায়া এসে দুর্বল সংকল্পের জাল বিছিয়ে দেয় আর ঐ জালেই আটকে পড়ে, সেইজন্য আমি নিশ্চয় বুদ্ধি বিজয়ী, সফলতা আমার জন্মসিদ্ধ অধিকার -- এই স্মৃতি দ্বারা দুর্বল সংকল্পকে সমাপ্ত কর ।

স্লোগান:-

তোমার তৃতীয় জ্বালামুখী নেত্র খোলা থাকলে মায়া শক্তিহীন হয়ে পড়বে |