12-01-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 11-04-85 মধুবন


"উদারতাই আধার স্বরূপ সংগঠনের বিশেষত্ব"


আজ বিশেষ বিশ্ব পরিবর্তনের আধার স্বরূপ, বিশ্বের অসীম সেবার আধার স্বরূপ, যারা শ্রেষ্ঠ স্থিতির আধার স্বরূপ, তাদের বেহদ-বৃত্তি এবং তাদের অমূল্য মধুর বোল দ্বারা অন্যদের মধ্যেও এইরকম উৎসাহ-উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলার আধার স্বরূপ এবং নিমিত্ত নির্মান স্বরূপ, এইরকম বিশেষ আত্মাদের সাথে বাবা মিলিত হতে এসেছেন l সবাই তোমরা নিজেকে এমন আধার স্বরূপ অনুভব কর ? আধার রূপ আত্মাদের এই সংগঠনে এতটাই অসীম দায়িত্ব আছে l আধার স্বরূপ হওয়া অর্থাৎ সদা নিজেকে প্রতি মুহূর্তে, প্রতিটা সঙ্কল্পে, প্রতিটা কর্মে দায়িত্ববান মনে করে চলা l এই সংগঠনে আসা অর্থাৎ অসীম দায়িত্বের মুকুটধারী হওয়া l এই সংগঠন যাকে মিটিং বলো, মিটিংয়ে আসা অর্থাৎ সদা বাবার সঙ্গে, সেবার সাথে, পরিবারের সাথে স্নেহের শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্পের সুতায় গ্রন্থিবদ্ধ হওয়া এবং অন্যকে সংযুক্ত করা, এর আধার রূপ তোমরা l এই নিমিত্ত সংগঠনে আসা অর্থাৎ নিজেকে সকলের জন্য এক্সাম্পল বানানো l এটা মিটিং নয়, কিন্তু সদা মর্যাদা পুরুষোত্তম হওয়ার শুভ সঙ্কল্পের বন্ধনে নিজেকে বাঁধছ l এই সব বিষয়ের আধার স্বরূপ হওয়া - একে বলে আধার স্বরূপ সংগঠন l চতুর্দিকের বিশেষভাবে বাছাই করা রত্ন একত্রিত হয়েছ l মনোনীত হওয়া অর্থাৎ যারা বাবা সমান হয়েছে l সেবার আধার স্বরূপ অর্থাৎ নিজ উদ্ধার এবং সকলের উদ্ধার স্বরূপ l যত নিজের উদ্ধার স্বরূপ হবে, ততই সকলকে উদ্ধার করার নিমিত্ত হবে l বাপদাদা এই সংগঠনের আধার রূপ আর উদ্ধার রূপ বাচ্চাদের দেখছিলেন এবং তিনি বিশেষভাবে তোমাদের বিশেষত্ব দেখছিলেন, তোমরা আধার রূপও হয়েছ, উদ্ধার রূপও হয়েছ l এই দুই বিষয়ে সফলতা পাওয়ার জন্য তৃতীয় কোন বিষয় প্রয়োজন ? আধার রূপ হয়েছ বলেই তো এই নিমন্ত্রণে এখানে এসেছ, তাই না ! আর উদ্ধার রূপ হওয়ার কারণেই তো প্ল্যানস বানিয়েছ l উদ্ধার করা অর্থাৎ সেবা করা l তৃতীয় বিষয় বাবা কি দেখেছেন ? তোমরা যতটা এই বিশেষ সংগঠনের ততটাই উদারচিত্ত l দরাজদিল বা উদারচিত্তের বোল, উদারচিত্তের ভাবনা কতখানি আছে ? কারণ উদারচিত্ত হওয়া অর্থাৎ সদা সর্বকার্যে মুক্তমনা এবং দরাজমনা l কোন বিষয়ে তোমাদের সঙ্কীর্ণতামুক্ত এবং প্রশস্তহৃদয় হওয়া উচিত ? সবার প্রতি শুভ ভাবনা দ্বারা তাদের অগ্রচালিত করতে মুক্তমন হওয়া l যা তোমার তা' আমার, যা আমার তা' তোমার, কারণ সবকিছুই এক বাবার l এই অসীম বৃত্তিতে সঙ্কীর্ণমুক্ত, প্রশস্তহৃদয় হও l উদারহৃদয় হওয়া অর্থাৎ দাতার ভাবনায় পূর্ণ হৃদয়, নিজের প্রাপ্ত করা গুণ, শক্তি, বিশেষত্ব সব কিছুতে মহাদানী হতে দরাজমন হওয়া l বাণী দ্বারা জ্ঞান ধন দান করা, কোন বড় ব্যাপার নয় l কিন্তু তোমাদের গুণ দান করতে হবে আর গুণ দেওয়াতে সহযোগী হবে l এই 'দান' শব্দ ব্রাহ্মণদের উপযুক্ত নয় l নিজের গুণ দ্বারা অন্যকে গুণবান, বিশেষত্বে আত্মাদের পরিপূর্ণ করতে সহযোগী হওয়া - একে বলা হয়ে থাকে মহাদানী, অসঙ্কীর্ণচিত্ততা l এইরকম উদারচিত্ত হওয়া, উন্নতমন হওয়া - এটা ব্রহ্মাবাবাকে ফলো ফাদার করা l এইরকম উদারচিত্তের লক্ষণ কি হবে ?

তিনটে বিশেষ লক্ষণ হবে l এমন আত্মা ঈর্ষা, ঘৃণা আর ক্রিটিসাইজ (সমালোচনা) করা (যেটাকে তোমরা টোনটিং করা বলো ) এই তিন ব্যাপারে সদা মুক্ত হবে l একে বলা হয়, উদারচিত্ত l ঈর্ষা নিজেকেও হয়রান করে, অন্যকেও হয়রান করে l ক্রোধকে যেমন অগ্নি বলা হয়, সেইরকম ঈর্ষাও অগ্নির মতোই কাজ করে l ক্রোধ মহা অগ্নি আর ঈর্ষা ছোট অগ্নি l ঘৃণা কখনও শুভ চিন্তক, শুভ চিন্তন স্থিতির অনুভব করতে দেবে না l ঘৃণা অর্থাৎ নিজেরও পতন আর অন্যেরও পতন ঘটায় l ঠিক একইভাবে, ক্রিটিসাইজ করা - সেটা মজাচ্ছলেই করো বা সিরিয়াস হয়ে করো কিন্তু এটা এত দুঃখ দেয় যেন কেউ চলছে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া l পদাঘাত করা l যেমন, যখন কেউ কাউকে নিজের পা দিয়ে অন্যের পা জড়িয়ে ফেলে দেয় তখন তার ছোট বা বড় আঘাত লাগার থেকেও বড় ব্যাপার যে সে সাহস হীন হয়ে যায় l সেই আঘাতের ব্যাপারেই সে ভাবতে থাকে, যতক্ষণ যন্ত্রণা হবে ততক্ষণ যে আঘাত দিয়েছে কোন না কোন ভাবে তাকেই স্মরণ করতে থাকবে, এটা সাধারণ বিষয় নয় l কারও সম্বন্ধে কিছু বলে দেওয়া খুব সহজ l এমনকি ঠাট্টাচ্ছলে করা আঘাতও অনেক বড় দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায় l এটা দুঃখ দেওয়ার লিস্টে অন্তর্ভুক্ত হয় l তাহলে বুঝেছ তোমরা ! তোমরা যতটা আধার স্বরূপ, ততটাই উদ্ধার স্বরূপ, উদারমতি, উদারচিত্ত হওয়ার নিমিত্ত স্বরূপ l সব লক্ষণ বুঝে নিয়েছ, তাই তো ? যে উদারচিত্ত সে-ই সঙ্কীর্ণতামুক্ত হবে l

সংগঠন তো খুব ভালো l সুপরিচিত সকলে এখানে এসেছে l তোমরা ভালো ভালো প্ল্যানস্ বানিয়েছ l সমুদায় প্ল্যান প্র্যাকটিক্যাল রূপে প্রয়োগ করার নিমিত্ত তোমরা l যত ভালো প্ল্যান বানিয়েছ, তোমরা নিজেরাও ততটাই ভালো l বাবা তোমাদের পছন্দ করেন l সেবার জন্য তোমাদের নিষ্ঠা খুব ভালো l সেবায় সদাকালের সাফল্যের আধার উদারতা l সকলের লক্ষ্য, শুভ সঙ্কল্প খুব ভালো এবং সকলের একই সঙ্কল্প l শুধু একটা কথা অ্যাড করতে হবে l এক বাবাকে প্রত্যক্ষ করতে হবে - একত্রিত হয়ে এককে প্রত্যক্ষ করতে হবে l শুধু এটা অ্যাডিশন করতে হবে l অ-জ্ঞানী লোকও এক বাবার পরিচয় দেওয়ার জন্য এক আঙুল দ্বারা ইশারা করবে l দুই আঙুলে ইশারা করবে না l সহযোগীর চিহ্ন এক আঙুল দিয়েই দেখাবে l তোমরা সব বিশেষ আত্মার বিশেষত্বের চিহ্ন অব্যাহত রয়েছে l

সুতরাং, এই গোল্ডেন জুবিলি উদযাপনের জন্য বা প্ল্যানস্ বানানোর জন্য সদা দু'টো শব্দ স্মরণে রাখবে - 'একতা আর একাগ্রতা l' এই দুই শ্রেষ্ঠ বাহু সফলতার, যার দ্বারা কার্য করা হয় l একাগ্রতা অর্থাৎ ব্যর্থ এবং নাকারাত্মক সঙ্কল্প থেকে সদা মুক্ত, নির্বিকল্প l যেখানে একতা এবং একাগ্রতা আছে, সেখানে সাফল্য গলার হার (মালা) l গোল্ডেন জুবিলির কার্য এই বিশেষ দুই বাহু দ্বারা করতে হবে l দুই বাহু তো সকলের আছে l এই দুই বাহু যুক্ত হলে তোমরা চতুর্ভূজ হয়ে যাবে,সত্যনারায়ণ আর মহালক্ষ্মীকে চতুর্ভূজ দেখানো হয়েছে l তোমরা সবাই সত্যনারায়ণ আর মহালক্ষ্মী l চতুর্ভূজধারী হয়ে সব কার্য করা অর্থাৎ সাক্ষাৎকার স্বরূপ হওয়া l যে কোন কাজ শুধুমাত্র দুই হাতেই কোরো না, সবকিছু চার হাতে করো l সবেমাত্র তোমরা গোল্ডেন জুবিলির শ্রীগণেশ (ঘটস্থাপন) করেছ l গনেশকেও চতুর্ভূজ দেখানো হয় l বাপদাদা প্রতিদিন মিটিংয়ে আসেন l একবারের পরিক্রমণেই তিনি সমগ্র সমাচার জানতে পারেন l কীভাবে তোমরা সবাই বসে আছ, বাপদাদা সেই ফটো তুলছেন l শারীরিকভাবে নয় l তোমাদের মনের স্থিতির আসনের ফটো তোলেন l মুখে কেউ কিছু বলছে, কিন্তু মন থেকে কী বলছে, মনের সেই বোল টেপ করেন l বাপদাদার কাছেও সবার টেপ করা ক্যাসেটস্ আছে l তাঁর কাছে ছবিও আছে, দুইই আছে l ভিডিও, টি. ভি. ইত্যাদি যা চাও তাই আছে l তোমাদের কাছে তো নিজেদের ক্যাসেট আছে, তাই না ! কিন্তু কারও কারও নিজের মনের আওয়াজ বা তাদের সঙ্কল্প ব্যক্ত করতে অপারগ হয় l আচ্ছা l

ইয়ুথ প্ল্যানস সবার ভালো লাগে l এটাও উৎসাহ-উদ্দীপনার ব্যাপার l এটা জোর করে করার বিষয় নয় l তোমাদের হৃদয়ে যে উদ্যম আছে, তা' নিজে থেকেই অন্যদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার বাতাবরণ তৈরি করে l সুতরাং, এটা পদযাত্রা নয় বরং প্রবল উৎসাহ-উদ্দীপনার যাত্রা l এটা শুধুই নিমিত্ত মাত্র l নিমিত্ত রূপে যে কার্যই কর, সেই কার্যে উৎসাহ -উদ্দীপনার বিশেষত্ব যেন থাকে l প্ল্যানস্ সবার পছন্দ l পরবর্তী কালেও চতুর্ভূজ হয়ে অবিরতভাবে যেমন প্ল্যান প্র্যাকটিক্যালি

প্রয়োগ করতে থাকবে তখন আরও অ্যাডিশন হবে l বাপদাদার সবচাইতে যে বিষয় ভালো লেগেছে তা' হলো গোল্ডেন জুবিলি ধুমধামের সাথে পালন করার উত্সাহ-উদ্দীপনার সঙ্কল্প সবার এক l সকলের একই সঙ্কল্পের এই ফাউন্ডেশন উৎসাহ-উদ্দীপনায় পূর্ণ l এই একটা শব্দকে সদা আন্ডারলাইন কর আর অগ্রচালিত হও l *তোমরা এক, এবং এই কার্য একের l যে কোন্ থেকেই কার্য হোক, তা' দেশে হোক বা বিদেশে, যেকোনও জোন, তা' ইস্টে বা ওয়েস্টে, কিন্তু তোমরা এক এবং এটাই একের কার্য l* এটাই সকলের সঙ্কল্প, তাই না ! প্রথমে এই প্রতিজ্ঞা তোমরা করেছিলে, নয় কি ? এই প্রতিজ্ঞা শুধুমাত্র মুখে নয়, বরং তোমাদের মনের মধ্যেকার এই প্রতিজ্ঞা অর্থাৎ অটল সঙ্কল্প l যা কিছুই হয়ে যাক, কিন্তু টলানো যাবে না, অটল l এইরকম প্রতিজ্ঞা সবাই করেছ ? যেমন কোনো শুভ কাজ যখন করতে হয়, তখন প্রথমে সবার মনে প্রতিজ্ঞা করার সঙ্কল্প থাকে, আর সেই সঙ্কল্পের চিহ্নস্বরূপ কড়া (বালা/কঙ্কন) পরে অর্থাৎ দৃঢ় প্রতিজ্ঞার শক্ত বন্ধনে বাঁধা পড়ে l সেই কাজের কর্মকর্তাদের হাতে সুতোরই হোক বা অন্য কোনো কিছুর তৈরি কঙ্কন তারা পরিয়ে দেয় l তাহলে এটা শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্পের গ্রন্থি (গাঁট), তাই তো ? আর আজ যেমন সবাই অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে ভাণ্ডারীতে 'শ্রী গণেশ' করেছে অর্থাৎ তহবিলে সহযোগ দিয়েছে, ঠিক সেইভাবেই এখন এই ভাণ্ডারীও (বাবার বাক্স) রাখো, যার মধ্যে সবাই এটা অটল প্রতিজ্ঞা মনে করে চিরকুট লিখে রাখবে l উভয় ভান্ডার একসাথে থাকলে তবেই সফলতা হবে l আর তা' যেন মন থেকে হয়, লোক দেখানো নয় l এটাই ফাউন্ডেশন l গোল্ডেন হয়ে গোল্ডেন জুবিলি উদযাপন করার আধার এটাই l সেইজন্য শুধুমাত্র একটা স্লোগান স্মরণে রাখ - "না আমি সমস্যা হব, না আমি সমস্যা দেখে চঞ্চল হব l" আমিও সমাধান স্বরূপ হব আর অন্যের জন্যও সমাধানকারী হব l এই স্মৃতি স্বতঃই গোল্ডেন জুবিলিকে সফলতা স্বরূপ বানাবে l যখন ফাইনাল গোল্ডেন জুবিলি হবে তখন তোমাদের গোল্ডেন স্বরূপ সকলের অনুভূত হবে l তোমাদের মধ্যে গোল্ডেন ওয়ার্ল্ড দেখবে l 'গোল্ডেন দুনিয়া আসছে' তোমরা শুধু বলবে তাই নয়, বরং তা' তোমরা প্র্যাকটিক্যালি তাদের দেখাবে l জাদুকর যেমন জাদু দেখানোর কালে অবিরত বলতে থাকে, "এই দেখ" . . . সুতরাং, তোমাদের এই গোল্ডেন চেহারা, চকমকে ললাট, জ্বলজ্বলে নয়ন, ঝলমলে ঠোঁট এই সবকিছু গোল্ডেন এজের সাক্ষাৎকার করাবে l তোমরা যেমন ছবি বানাও তেমনই তো, নয় কি - একই চিত্রে এই মুহূর্তে তোমরা ব্রহ্মা দেখ, পরমুহূর্তে কৃষ্ণ দেখ, বিষ্ণু দেখ l ঠিক একইভাবে তোমাদের যেন সাক্ষাৎকার হয় l এক মুহূর্তে ফরিস্তা, আরেক মুহূর্তে বিশ্ব মহারাজ, বিশ্ব মহারাণী রূপ l এই মুহূর্তে সাধারণ শ্বেত বস্ত্রধারী l এই বিভিন্ন রূপ তোমাদের এই গোল্ডেন মূর্তিতে যেন দৃশ্যগোচর হয় l বুঝেছ !

যখন বাছাই করা এত আধ্যাত্মিক গোলাপের স্তবক একত্রিত হয়েছে l আধ্যাত্মিক এক গোলাপের কত সুগন্ধ হয়, তাহলে এই এত বড় পুষ্পস্তবক কত চমৎকার করবে ! আর প্রত্যেক নক্ষত্রের মধ্যে সংসারও আছে l তোমরা একা নও l সেই সব নক্ষত্রের মধ্যে দুনিয়া নেই l তোমরা সব নক্ষত্রের মধ্যে তো দুনিয়া আছে, তাই না ! চমৎকার তো হওয়ারই আছে ! আর হয়েই আছে l শুধুমাত্র যে উদ্যোগী সেই অর্জুন হবে l বিজয় তো নিশ্চিত, এটা স্থিরীকৃত l যেমনই হোক, তোমাদের অর্জুন হতে হবে l অর্জুন অর্থাৎ নম্বর ওয়ান l এই ভিত্তিতে পুরস্কার দাও l সমগ্র গোল্ডেন জুবিলিতে না সমস্যা হয়েছ, না সমস্যা দেখেছ l নির্বিঘ্ন, নির্বিকল্প, নির্বিকারী - তিন বিশেষত্ব যেন থাকে l এইরকম গোল্ডেন স্থিতিতে যারা থাকে তাদের পুরস্কৃত কর l বাপদাদাও খুশি হন l যে বাচ্চারা বিশাল বুদ্ধির তাদের দেখে খুশি তো হয়ই, তাই না ! যেমন বিশাল বুদ্ধি তেমনই বিশাল হৃদয় l তোমাদের সকলেরই বিশাল বুদ্ধি আছে, তাইতো প্ল্যান বানাতে এখানে এসেছ l আচ্ছা !

সদা নিজেকে আধার স্বরূপ, উদ্ধারকারী স্বরূপ, সদা মুক্তমনা উদার হৃদয়, উদারচেতা, 'সদা এক এবং একেরই কার্য'- এইরকম একরস স্থিতিতে থাকে, সদা একতা এবং একাগ্রতায় স্থিত থাকে, এইরকম বিশাল বুদ্ধি, বিশাল হৃদয়, বিশাল চিত্ত বাচ্চাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার l

মুখ্য ভাই-বোনেদের সাথে :- সবাই মিটিং করেছে l শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্পের সিদ্ধি হয়ই l সদা উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে অগ্রচালিত হওয়াই বিশেষত্ব l মন্সা সেবার বিশেষভাবে ট্রায়াল কর l মন্সা সেবা চুম্বকের মতো l চুম্বক যেমন অনেক দূর থেকেও সূঁচকে টেনে নিতে পারে, ঠিক সেইভাবে ঘরে বসেই তোমাদের মন্সা সেবা দ্বারা আত্মারা তোমাদের কাছে চলে আসবে l এখন তোমরা বাইরে বেশি বিজি থাক, মন্সা সেবাকে ইউজ কর l স্থাপনার্থে যে সমস্ত বড় কাজ হয়েছে তার সাফল্য মন্সা সেবারই l যখন তারা রামলীলা বা গৃহীত কোনও কাজ করে, তখন তা' করার আগে সেই কাজ অনুযায়ী নিজের স্থিতি বজায় রাখতে ব্রত পালন করে l সুতরাং তোমাদেরও সবাইকে মন্সা সেবার ব্রত নিতে হবে l ব্রত ধারণ না করায় তোমরা চঞ্চলতার মধ্যে বেশি থাক, সেইজন্য রেজাল্টে কখনো একরকম তো কখনো আরেকরকম হয় l মন্সা সেবার অভ্যাস অধিকতর প্রয়োজন l মন্সা সেবা করার জন্য লাইট হাউস আর মাইট হাউস হওয়ার স্থিতি প্রয়োজন l লাইট এবং মাইট উভয়ই একত্রে প্রয়োজন l মাইকের সামনে শক্তিমান (মাইটি ) হয়ে বলতে হবে l মাইকও হতে হবে, মাইটও হতে হবে l তোমাদের মুখও মাইক l

সুতরাং মাইট হয়ে মাইক দ্বারা বলো l এমন যেন আমি উপর থেকে পাওয়ারফুল স্টেজে নেমে এসেছি, অবতার হয়ে সবার প্রতি এই বার্তা দিচ্ছি l আমি অবতার বলছি l অবতরিত হয়েছি l অবতারের স্টেজ তো পাওয়ারফুল হবে, তাই না ! উপর থেকে যে নিচে নেমে আসে, তার গোল্ডেন স্টেজ স্থিতি হয়, নয় কি ! সুতরাং যে সময় তোমরা নিজেকে অবতার মনে করবে, তখন সেটাই পাওয়ারফুল স্টেজ l আচ্ছা !

বরদান:-
সাক্ষী হয়ে তোমার উঁচু স্টেজ দ্বারা সকল আত্মাকে সকাশ দিয়ে বাবা সমান অব্যক্ত ফরিস্তা ভব

চলতে ফিরতে সদাসর্বদা নিজেকে নিরাকার আত্মা আর কর্ম করা কালে অব্যক্ত ফরিস্তা মনে কর, তবে সদা খুশিতে উড়তে থাকবে l ফরিস্তা অর্থাৎ যে উঁচু স্টেজে থাকে l দেহের এই দুনিয়ায় অর্থাৎ এই স্থূল জগতে নিরন্তর কিছু ঘটলেও সাক্ষী হয়ে সব পার্ট দেখতে থাক আর সকাশ দিতে থাক l সীট থেকে নেমে সকাশ দেওয়া যায় না l উঁচু স্টেজে স্থিত হয়ে তোমার বৃত্তি এবং দৃষ্টির সহযোগে কল্যাণের সকাশ দাও, মনের মিক্সড স্থিতিতে নয়, তখনই যে কোনো প্রকারের বাতাবরণ থেকে সেফ থাকতে সমর্থ হবে এবং বাবা সমান অব্যক্ত ফরিস্তা ভব'র বরদানী হবে l

স্লোগান:-
স্মরণের শক্তি দ্বারা দুঃখকে সুখে আর অশান্তিকে শান্তিতে পরিবর্তন কর l
 


অব্যক্ত স্থিতির অনুভব করার জন্য বিশেষ হোমওয়ার্ক
ব্রহ্মাবাবার প্রতি ভালোবাসা থাকলে, ভালোবাসার লক্ষণসমূহ প্র্যাকটিক্যালি দেখাতে হবে l ব্রহ্মাবাবার যেমন নম্বর ওয়ান ভালোবাসা মুরলির সাথে ছিল, যা থেকে মুরলীধর হয়েছেন l সুতরাং যার প্রতি ব্রহ্মাবাবার ভালোবাসা ছিল আর এখনও আছে তা' অবিরত প্রতীয়মান হতে হবে l প্রতিটা মুরলি অনেক ভালোবাসার সাথে পঠনপাঠনের দ্বারা তার স্বরূপ হতে হবে l