12.01.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা অনেক সময় পরে আবার বাবার সঙ্গে মিলিত হয়েছো, তাই তোমরা বাবার অত্যন্ত হারানিধি বাচ্চা"

প্রশ্নঃ -
নিজের স্থিতিকে একরস বানানোর উপায় কি ?

উত্তরঃ -
সদা স্মরণে রেখো, যে সেকেণ্ড পার হয়েছে, তা ড্রামা । কল্প পূর্বেও এমনই হয়েছিলো । এখন তো নিন্দা - স্তুতি, মান - অপমান সবই সামনে আসবে, তাই নিজের স্থিতিকে একরস বানানোর জন্য অতীতের চিন্তন ক'রো না ।

ওম্ শান্তি ।
আত্মারূপী সন্তানদের তাদের পিতা বোঝাচ্ছেন । আত্মাদের পিতার নাম কি ? শিববাবা । তিনি হলেন সমস্ত আত্মাদের পিতা । সব আত্মারূপী বাচ্চাদের নাম কি ? আত্মা । জীবের নাম হয়, আত্মার নাম একই থাকে । বাচ্চারা এও জানে যে, সৎসঙ্গ অনেক আছে । এ হলো প্রকৃত সত্য সঙ্গ, যা সত্য বাবা রাজযোগ শিখিয়ে আমাদের সত্যযুগে নিয়ে যান । এমন অন্য কোনো সৎসঙ্গ বা পাঠশালা হতে পারে না । এও বাচ্চারা, তোমরা জানো । বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ সৃষ্টিচক্র আছে । বাচ্চারা, তোমরা হলে স্বদর্শন চক্রধারী । বাবা বসে বোঝান যে, এই সৃষ্টিচক্র কিভাবে ঘোরে । কাউকে বোঝাতে হলে চক্রের সামনে দাঁড় করিয়ে দাও । এখন তোমরা এইদিকে যাবে । বাবা জীবাত্মাদের বলেন, নিজেকে আত্মা মনে করো । এ কোনো নতুন কথা নয় ? তোমরা জানো যে, আমরা কল্পে - কল্পে এই কথা শুনি, এখন আবারও শুনছি । তোমাদের বুদ্ধিতে কোনো দেহধারী বাবা, টিচার বা গুরু নেই । তোমরা জানো যে, বিদেহী শিববাবা আমাদের টিচার এবং গুরু । আর কোনো সৎসঙ্গ আদিতে এমন কথা বলা হয় না । মধুবন তো একটাই । ওরা তো এক মধুবন বৃন্দাবনে দেখায় । ওই জায়গা ভক্তিমার্গে মানুষ বসে বানিয়েছে । প্রত্যক্ষ মধুবন তো এটাই । তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে, আমরা সত্যযুগ, ত্রেতা থেকে শুরু করে পুনর্জন্ম গ্রহণ করতে করতে এখন সঙ্গম যুগে এসে উপস্থিত হয়েছি পুরুষোত্তম হওয়ার জন্য । বাবা এসে আমাদের স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছেন । ৮৪ জন্ম কারা এবং কিভাবে নেয়, এও তোমরাই জানো । মানুষ তো কেবল বলেই দেয়, কিছুই বোঝে না । বাবা খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে বলেন । সত্যযুগে সতোপ্রধান আত্মারা ছিলো, শরীরও ছিলো সতোপ্রধান । এই সময় তো সত্যযুগ নেই, এ হলো কলিযুগ । আমরা স্বর্ণযুগে ছিলাম । এরপর চক্র ঘুরতে ঘুরতে, পুনর্জন্ম নিতে নিতে আমরা লৌহযুগে এসে গেছি, আমাদের আবারও চক্র ঘুরতে হবে । এখন আমাদের ঘরে ফিরে যেতে হবে । তোমরা তো হারানিধি বাচ্চা, তাই না । হারানিধি তাদের বলা হয়, যারা হারিয়ে যায়, তারপর অনেক সময়ের পরে মিলিত হয় । তোমরা পাঁচ হাজার বছর পরে এসে মিলিত হয়েছো । বাচ্চারা, তোমরাই জানো যে - এ সেই বাবা, যিনি পাঁচ হাজার বছর পূর্বে আমাদের এই সৃষ্টি চক্রের জ্ঞান দান করেছিলেন । তিনি আমাদের স্বদর্শন চক্রধারী বানিয়েছিলেন । এখন আবার সেই বাবা এসে মিলিত হয়েছেন আমাদের জন্মসিদ্ধ অধিকার দান করার জন্য । বাবা এখানে আমাদের অনুভব করান । এতে আত্মার ৮৪ জন্মের অনুভবও এসে যায় । এইসব বাবা বসে বোঝান । যেমন তিনি পাঁচ হাজার বছর পূর্বেও বুঝিয়েছিলেন - মানুষকে দেবতা আর কাঙ্গালকে মুকুটধারী বানানোর জন্য । তোমরা বুঝতে পারো যে, আমরা ৮৪ বার পুনর্জন্ম গ্রহণ করেছি, যারা এতো জন্মগ্রহণ করে নি, তারা এখানে শেখার জন্য আসবেই না । কেউ - কেউ অল্প বুঝবে । নম্বরের ক্রমানুসার তো থাকেই, তাই না । তোমাদের নিজের - নিজের ঘর - গৃহস্থীতে থাকতে হবে । সবাই তো আর এখানে এসে বসে যাবে না । তারাই এখানে রিফ্রেশ হতে আসবে, যারা খুব ভালো পদ পেতে চাইবে । কম পদ যারা পাবে তারা খুব বেশী পুরুষার্থ করবে না । এই জ্ঞান হলো এমনই, যাতে অল্প কিছু পুরুষার্থ করলেও তা ব্যর্থ হবে না । সাজা ভোগ করে আবার এসে যাবে । পুরুষার্থ ভালোভাবে করলে সাজাও কম হয় । স্মরণের যাত্রা ছাড়া বিকর্ম বিনাশ হবে না । এ কথা তো প্রতি মুহূর্তে নিজেকে স্মরণ করাও । কোনো মানুষ যদি পাও, প্রথমে তো তাদের এই কথা বোঝাতে হবে যে - নিজেকে আত্মা মনে করো । এই নাম তো পরে শরীরের জন্য পেয়েছো, কাউকে তো শরীরের নাম ধরেই ডাকবে । এই সঙ্গম যুগে অসীম জগতের পিতা আত্মা রূপী সন্তানদের ডাক দেন । তোমরা বলবে আত্মাদের বাবা এসেছেন । বাবা বলবেন - আত্মারূপী বাচ্চারা । প্রথমে আত্মা, তারপর বাচ্চাদের নাম নেওয়া হয় । আত্মারূপী সন্তানরা, তোমরা জানো যে, আত্মাদের পিতা কি বোঝান । তোমাদের বুদ্ধি জানে যে - শিববাবা এই ভাগীরথে বিরাজমান, আমাদের তিনিই সহজ রাজযোগ শেখাচ্ছেন । আর কোনো মানুষ মাত্র নেই, যার মধ্যে বাবা এসে রাজযোগ শেখাবেন । এই বাবা আসেনই পুরুষোত্তম সঙ্গম যুগে, আর কোনো মানুষই কখনো এভাবে বলতে পারবে না, বোঝাতেও পারবে না । এও তোমরা জানো যে, এই শিক্ষা এই বাবার নয় । ইনি তো এই কথা জানতেনই না যে, কলিযুগ শেষ হয়ে সত্যযুগ আসবে । এনার এখন কোনো দেহধারী গুরু নেই, আর তো সব মানুষ বলবে যে, আমার অমুক গুরু । অমুক জ্যোতি জ্যোতিতে মিলিয়েছে । সকলের গুরু হলো দেহধারী । ধর্ম স্থাপকও দেহধারী । এই ধর্ম কে স্থাপন করেছেন ? পরমপিতা, পরমাত্মা ত্রিমূর্তি শিববাবা ব্রহ্মা বাবার দ্বারা স্থাপন করেছেন । এনার শরীরের নাম ব্রহ্মা । খৃস্টানরা বলবে, ক্রাইস্ট এই ধর্ম স্থাপন করেছেন । তিনি তো দেহধারী । তাঁর ছবিও আছে । এই ধর্মের স্থাপকের চিত্র কি দেখানো হবে ? শিবেরই দেখাবে । শিবের চিত্রও কোথাও বড় আবার কোথাও ছোটো বানানো হয় । তিনি তো হলেন বিন্দু । তাঁর নাম - রূপও আছে কিন্তু তিনি অব্যক্ত । এই চোখের দ্বারা তাঁকে দেখা যায় না । বাচ্চারা, শিববাবা তোমাদের রাজ্য - ভাগ্য দিয়ে গিয়েছেন, তাই তো তোমরা তাঁকে স্মরণ করো, তাই না । শিববাবা বলেন, মন্মনাভব । আমি তোমাদের বাবা, আমাকে তোমরা স্মরণ করো । তোমরা কারোর স্তুতি করবে না । আত্মার বুদ্ধিতে কোনো দেহ স্মরণে না আসে, এ খুব ভালোভাবে বোঝার মতো কথা । আমাদের শিববাবা পড়ান । সারাদিন এই কথা রিপিট করতে থাকো । শিব ভগবান উবাচঃ - প্রথম - প্রথম তো অল্ফ ( আল্লাহ ) কে বোঝাতে হবে । এ কথা দৃঢ়ভাবে না বোঝালে বে ( বাদশাহী ) কে বোঝাতে গেলে বুদ্ধিতে বসবে না । কেউ কেউ বলে দেয় যে, একথা সঠিক । কেউ আবার বলে, একথা বুঝতে তো সময় চাই । কেউ বলে, চিন্তা করে দেখবো । অনেক ধরনের লোক আসে । এ হলো নতুন কথা । পরমপিতা পরমাত্মা শিব আত্মাদের বসে পড়ান । চিন্তা চলতে থাকে যে, কি করা যায় যাতে মানুষ এ কথা বুঝতে পারে । শিবই হলেন জ্ঞানের সাগর । আত্মাকে জ্ঞানের সাগর কিভাবে বলা হবে, যার কোনো শরীরই নেই । জ্ঞানের সাগর হলে অবশ্যই তিনি কখনো জ্ঞানই শুনিয়েছিলেন তাই তাঁকে জ্ঞানের সাগর বলা হয় । এমনিতে কেন বলবে ? কেউ অনেক পড়লে বলা হয়, এ তো অনেক বেদ - শাস্ত্র পড়েছে, এইজন্য শাস্ত্রী অথবা বিদ্বান বলা হয় । বাবাকে জ্ঞানের সাগর অথরিটি বলা হয় । অবশ্যই কিছু করে গেছেন । প্রথমে তো জিজ্ঞেস করা উচিত, এখন কলিযুগ নাকি সত্যযুগ ? নতুন দুনিয়া নাকি পুরানো দুনিয়া ? এইম অবজেক্ট তো তোমাদের সামনে উপস্থিত । এই লক্ষ্মী - নারায়ণ যদি থাকতো তাহলে তাদের রাজত্ব থাকতো । এই পুরানো দুনিয়া, কাঙ্গাল অবস্থা থাকতো না । এখন তো কেবল এঁদের চিত্র আছে । মন্দিরেও মডেলস দেখানো হয় । তা না হলে তাঁদের মহল, বাগান আদি কতো বড় - বড় হতো । কেবলমাত্র মন্দিরে তো থাকতোই না । প্রেসিডেন্টের বাড়ী কতো বড় । দেবী - দেবতা তো বড় বড় মহলে থাকবেন । সেখানে অনেক জায়গা থাকবে । ওখানে ভয় পাওয়ার কোনো কথা থাকে না । সর্বদা ফুলের বাগান থাকে । কাঁটা থাকেই না । সে হলো বাগিচা । ওখানে তো কাঠ - লাঠি জ্বালানো হয় না । কাঠে তো ধোঁয়া হয়, তখন কষ্টের অনুভব হয় । ওখানে আমরা খুব অল্প সংখ্যায় থাকি । পরের দিকে বৃদ্ধি হতে থাকে । ওখানে খুব সুন্দর - সুন্দর বাগান থাকবে, সুগন্ধ আসতে থাকবে । ওখানে জঙ্গল থাকবেই না । এখন তোমরা অনুভব করো, দেখতে তো আর পাও না । তোমরা ধ্যানে অনেক বড় বড় মহল ইত্যাদি দেখে আসো, তেমন তো এখানে তৈরী করতে পারো না । সাক্ষাৎকার হলো তারপর মিলিয়ে গেলো । সাক্ষাৎকার তো করেছো, তাই না । ওখানে রাজা, প্রিন্স - প্রিন্সেস থাকবে স্বর্গ খুবই রমণীয় হবে । এখানে যেমন মহীসুর প্যালেস ইত্যাদি অতি সুন্দর, ওখানেও হাওয়া শীতল অনুভব হবে । সুন্দর ঝর্ণা বইতে থাকবে । আত্মা মনে করে, আমরা খুব সুন্দর সুন্দর জিনিস বানিয়েছি । আত্মার তো স্বর্গ স্মরণে আসে, তাই না ।

বাচ্চারা, তোমাদের অনুভব হয় যে, কি - কি হবে, আমরা কোথায় থাকবো । এই সময় এই স্মৃতি থাকে । চিত্র দেখো, তোমরা কতো সৌভাগ্যবান । ওখানে দুঃখের কিছুই থাকবে না । আমরা তো স্বর্গে ছিলাম, তারপর নেমে এসেছি । এখন আবার স্বর্গে যেতে হবে । আমরা কিভাবে যাবো ? দড়িতে আটকে যাবো কি ? আমরা আত্মারা তো শান্তিধামে থাকি । বাবা তোমাদের এখন মনে করিয়ে দিয়েছেন, তাই তোমরা এখন আবার দেবতা তৈরী হচ্ছো আর অন্যদেরও তৈরী করছো । কতোজন ঘরে বসেও সাক্ষাৎকার করে । বন্ধনে আবদ্ধরা তো কখনোই দেখতে পারে না যে কিভাবে আত্মা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে । নিজের ঘরের পথ কাছে এসে গেলে আত্মা খুশী হয় । আত্মা মনে করে, বাবা আমাদের জ্ঞান দান করে শৃঙ্গার করাতে এসেছেন । অবশেষে একদিন কাগজেও প্রকাশ পাবে । এখন তো নিন্দা - স্তুতি, মান - অপমান সবই সামনে আসে । আত্মা জানে যে, পূর্ব কল্পেও এমনই হয়েছিলো, যে সেকেণ্ড পার হয়ে গেছে, তার চিন্তা করা উচিত নয় । পূর্ব কল্পে এইভাবেই কাগজে বের হয়েছিলো । এরপর পুরুষার্থ করা হয় । হাঙ্গামা যা হয়েছিলো, তা হয়ে গেছে । নাম তো হয়ে গেছে, তাই না । এরপর তোমরা রেসপন্ড করো । কেউ পড়ে, কেউ আবার পড়ে না । সময়ই পায় না । তারা অন্য কাজে লেগে যায় । তোমাদের বুদ্ধিতে এখন আছে যে - এ হলো অসীম জগতের ড্রামা । এ টিক - টিক করে চলতে থাকে, চক্র ঘুরতে থাকে । এক সেকেণ্ডে যা অতিক্রান্ত হয়েছে, তা আবার পাঁচ হাজার বছর পরে রিপিট হবে । যা হয়ে গেছে, তা সেকেণ্ডের পরে খেয়ালে আসে । এই যে ভুল হয়ে যায়, তাও ড্রামাতে নিহিত । পূর্ব কল্পেও এমনই ভুল হয়েছিলো, যা অতীত হয়ে গেছে । ভবিষ্যতে এমন আর করবে না । তোমরা পুরুষার্থ করতে থাকো । তোমাদের বোঝানো হয়, মুহূর্তে মুহূর্তে এমন ভুল ভালো নয় । এই কর্ম ভালো নয় । মনে অনুতাপ হয় যে - আমার দ্বারা এমন খারাপ কাজ হলো । বাবা বোঝাতে থাকেন - এমন করো না, এতে কারোর দুঃখ হবে । বারণ করা হয় । বাবা বলে দেন - এই কাজ করো না, না বলে জিনিস নিলে তাকে চুরি বলা হয় । এমন কাজ করো না । কটু কথা বলো না । আজকাল দুনিয়া দেখো কেমন - কেউ যদি পরিচারকের উপর রাগ করে, তাহলে সেও শত্রুতা করতে শুরু করবে । ওখানে তো বাঘ আর ছাগল নিজেদের মধ্যে ক্ষীরখণ্ড হয়ে থাকে । নুনজল আর ক্ষীরখণ্ড । সত্যযুগে সমস্ত মনুষ্য আত্মারা নিজেদের মধ্যে ক্ষীরখণ্ড হয়ে থাকে । আর এই রাবণের দুনিয়াতে সব মানুষই নুনজল । বাবা এবং সন্তানও নুনজল । কাম তো মহাশত্রু, তাই না । কাম কাটারি চালিয়ে একে অপরকে দুঃখ দেয় । এই সম্পূর্ণ দুনিয়া হলো নুনজল । সত্যযুগী দুনিয়া হলো ক্ষীরখণ্ড । এই কথা দুনিয়া আর কি জানবে ? মানুষ তো স্বর্গকে লাখ বছর বলে দেয় ॥ তাই কোনো কথাই বুদ্ধিতে বুঝতে পারে না । যারা দেবতা ছিলো, তাদেরই স্মৃতিতে আসে । তোমরা জানো যে, এই দেবতারা সত্যযুগে ছিলো । যারা ৮৪ জন্মগ্রহণ করবে, তারাই এসে পড়বে আর কাঁটা থেকে ফুল তৈরী হবে । এই বাবার একটাই ইউনিভার্সিটি, যার থেকে শাখা বের হতে থাকে । ঈশ্বর যখন আসবেন, তখন তাঁর সাহায্যকারী তৈরী হবে, যাদের দ্বারা ঈশ্বর নিজে রাজত্ব স্থাপন করবেন । তোমরা মনে করো, আমরা ঈশ্বরের সাহায্যকারী । ওরা শরীরের সেবা করে, আর এ হলো আত্মিক সেবা । বাবা আমাদের মতো আত্মাদের আত্মিক সেবা শেখাচ্ছেন, কেননা আত্মাই এখন তমোপ্রধান হয়ে গেছে । বাবা আবার তাকে সতোপ্রধান তৈরী করছেন । বাবা বলেন যে - মামেকম ( আমাকে ) স্মরণ করো তাহলে বিকর্ম বিনাশ হবে । এ হলো যোগ অগ্নি । ভারতের প্রাচীন যোগের তো মহিমা আছে, তাই না । আর্টিফিশিয়াল যোগ তো অনেক হয়ে গেছে, তাই বাবা বলেন, স্মরণের যাত্রা বলা ঠিক । শিববাবাকে স্মরণ করতে করতে তোমরা শিবপুরীতে চলে যাবে । সে হলো শিবপুরী । আর ও হলো বিষ্ণুপুরী । এ হলো রাবণ পুরী । বিষ্ণুপুরীর পিছনে হলো রামপুরী । সূর্যবংশীর পরে হলো চন্দ্রবংশী । এ তো অতি সাধারণ কথা । অর্ধেক কল্প হলো সত্যযুগ আর ত্রেতা, আর অর্ধেক কল্প হলো দ্বাপর আর কলিযুগ । এখন তোমরা সঙ্গম যুগে আছো । এও কেবল তোমরাই জানো । যে খুব ভালোভাবে ধারণা করে, সে অন্যকেও বুঝিয়ে বলতে পারে । আমরা এখন পুরুষোত্তম সঙ্গম যুগে আছি । একথা যদি কারোর বুদ্ধিতে স্মরণে থাকে তাহলে সম্পূর্ণ ড্রামাও বুদ্ধিতে এসে যাবে, কিন্তু কলিযুগী দেহের সম্বন্ধী আদি স্মরণে আসতে থাকে । বাবা বলেন যে - তোমাদের এক বাবাকেই স্মরণ করতে হবে । সর্বের সদগতিদাতা, রাজযোগ শেখান একজনই, তাই বাবা বুঝিয়েছেন যে, শিববাবারই জয়ন্তী হয়, যিনি সম্পূর্ণ দুনিয়ার পরিবর্তন করেন । তোমরা ব্রাহ্মণরাই জানো যে, এখন আমরা পুরুষোত্তম সঙ্গম যুগে আছি । যারা ব্রাহ্মণ, তাদের বুদ্ধিতেই রচয়িতা এবং রচনার জ্ঞান আছে । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এমন কোনো কর্ম ক'রো না, যাতে কেউ দুঃখ পায় । কটু কথা বলবে না । অনেক ক্ষীরখণ্ড হয়ে থাকতে হবে ।

২ ) কোনো দেহধারীর স্তুতি করবে না । বুদ্ধিতে যেন থাকে যে, আমাদের শিববাবা পড়ান, সেই একেরই মহিমা করতে হবে, ঈশ্বরীয় সেবাধারী হতে হবে ।

বরদান:-
নিজের অব্যক্ত শান্ত স্বরূপের দ্বারা বায়ুমণ্ডলকে অব্যক্ত বানিয়ে সাক্ষাৎকার মূর্তি ভব

সেবার যেমন আরো অনেক প্রোগ্রাম বানাও, তেমনই ভোর থেকে রাত পর্যন্ত স্মরণের যাত্রায় কিভাবে আর কতক্ষণ থাকবে এই প্রোগ্রামও তৈরী করো, আর মাঝে মাঝে দুই - তিন মিনিটের জন্য সঙ্কল্পের ট্রাফিককে স্টপ করো, কেউ যখন ব্যক্ত ভাবে বেশী দেখা দেবে, তখন তাকে না বলে নিজের অব্যক্ত শান্ত রূপ এমন ধারণ করো, যাতে সেও ইশারায় বুঝে যায়, এতে বায়ুমণ্ডল অব্যক্ত থাকবে । অভিনবত্বও দেখা যাবে আর তোমরা সাক্ষাৎকার করানোর জন্য সাক্ষাৎকার মূর্তি হয়ে যাবে ।

স্লোগান:-
সম্পূর্ণ সত্যতাই হলো পবিত্রতার আধার ।