12.01.2023 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা শিক্ষক রূপে তোমাদেরকে মানব থেকে দেবতা বানানোর বিদ্যা শেখাচ্ছেন, তোমরাও শ্রীমৎ অনুসারে অন্যদেরকে পুনরায় দেবতা বানানোর সেবা করো

প্রশ্নঃ -
এখন বাচ্চারা, তোমরা কিরকম শ্রেষ্ঠ কর্ম করে থাকো যার রীতি রেওয়াজ ভক্তিতেও চলে আসছে?

উত্তরঃ  
তোমরা এখন শ্রীমতে চলে নিজের তন-মন-ধন ভারত কেন বিশ্বের কল্যাণের জন্য অর্পণ করেছো। এই রেওয়াজ ভক্তিতে মানুষ ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে দান করে থাকে। তাদেরও আবার সেই দানের বিনিময়ে পরবর্তী জন্ম রাজ-পরিবারে হয়। আর বাচ্চারা, তোমরা সঙ্গমে বাবার সহায়ক হয়েছো তাই তোমরা মানব থেকে দেবতা হয়ে যাও।

গীতঃ-
তোমরা রাত কাটিয়েছ ঘুমিয়ে আর দিবস কাটিয়েছো খেয়ে...

ওম্ শান্তি ।
বাবা বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছেন, যখন বাচ্চারা বুঝতে পারে তখন অন্যদেরকেও বোঝাতে থাকে। না বুঝলে তো অন্যদেরকেও বোঝাতে পারবে না। আর যদি নিজে বুঝলেও অন্যদেরকে না বোঝাতে পারে তার মানে সেও কিছুই বোঝেনি। কোনো কলা কৌশল শিখলে তো সেটা বাস্তবে করে দেখাতে হয়। এই কলাকৌশল বাবা শিক্ষক হয়ে শেখাচ্ছেন যে মানব থেকে দেবতা কিভাবে বানানো যায়। দেবতা অর্থাৎ যাদের চিত্র আছে, তারা মানুষকে দেবতা বানাচ্ছে তার মানে তারা এখন দেবতা নেই। দেবতাদের গুণ গাওয়া হয়ে থাকে - সর্বগুণ সম্পন্ন... এখানে কোনও মানুষের তো এইরকম গুণ গাওয়া হয় না। সাধারণ মানুষ মন্দিরে গিয়ে দেবতাদের গুণ গাইতে থাকে। যদিও পবিত্র তো সন্ন্যাসীরাও থাকে কিন্তু মানুষ তাদের এইরকম গুণগান করে না। সেই সন্ন্যাসীরা তো শাস্ত্র ইত্যাদিও শোনায়। দেবতারা তো কিছু শোনায় না। তারা তো প্রালব্ধ ভোগ করে। আগের জন্মে পুরুষার্থ করে মানুষ থেকে দেবতা হয়েছিলেন। এখন কারো মধ্যে দেবতাদের মতো গুণ নেই, যেখানে গুণ নেই সেখানে অবশ্যই অবগুণ আছে। সত্যযুগে এই ভারতে যথা রাজা-রানি তথা প্রজা সর্বগুণ সম্পন্ন ছিল। তাদের মধ্যে সব গুণ ছিল। সেই দেবতাদেরই গুণ গাওয়া হয়ে থাকে। সেই সময় আর অন্য কোনো ধর্ম ছিলো না। গুণবান দেবতারা ছিলেন সত্যযুগে আর অপগুণ যুক্ত মানুষ আছে কলিযুগে। এখন এইরকম অপগুণ যুক্ত মানুষকে দেবতা কে বানাবে! গাওয়াও হয়ে থাকে মানুষ থেকে দেবতা... এই মহিমা তো হল পরমপিতা পরমাত্মার। এমনিতে তো দেবতারাও হল মানুষ, কিন্তু তাদের মধ্যে গুণ আছে, আর এখানকার মানুষের মধ্যে অপগুণ আছে। গুণ প্রাপ্ত হয় বাবার থেকে, যাঁকে সদ্গুরুও বলা হয়। অপগুণ প্রাপ্ত হয় মায়া রাবণের থেকে। এত গুণবান পুনরায় অপগুণী কিভাবে হয়ে যায়! সর্বগুণ সম্পন্ন আর সর্ব অপগুণ সম্পন্ন কে বানায়! এটা বাচ্চারা তোমরা জানো। গাইতেও থাকে আমি নির্গুণ আমার কোনও গুণ নেই। দেবতাদের কত গুণগান করে। এই সময় তো সেই গুণ কারো মধ্যে নেই। খাদ্য পানীয় ইত্যাদি কতোই না তামসিক প্রকৃতির। দেবতারা হলেন বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের আর এইসময়কার মানুষ হল রাবণ সম্প্রদায়ের। খাদ্য পানীয় কতোই না পাল্টে গেছে! কেবল ড্রেসকে দেখলে হবে না। দেখা হয় খাদ্য পানীয় আর বিকারী ভাবকে। বাবা নিজে বলছেন আমাকে ভারতেই আসতে হয়। ব্রহ্মা মুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণীদের দ্বারা স্থাপনা করাচ্ছি। এটা হল ব্রাহ্মণদের যজ্ঞ তাই না। এখানকার বিকারী ব্রাহ্মণরা হল কুখ বংশাবলী (গর্ভজাত), আর এরা হল মুখ বংশাবলী। অনেক পার্থক্য । জাগতিক ধনী ব্যক্তিরা যে যজ্ঞ রচনা করে সেখানে লৌকিক ব্রাহ্মণ থাকে। এখানে আছেন অসীম জগতের বাবা ধনীর থেকেও ধনবান, রাজাদেরও রাজা। ধনীর থেকেও ধনবান কেন বলা হয়? কেননা ধনী ব্যক্তিরাও বলে আমাকে ঈশ্বর ধন দান করেছেন, ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে দান করে তাই পরবর্তী জন্মে ধনবান হয়। এই সময় তোমরা শিববাবাকে সবকিছু তন-মন-ধন অর্পণ করে থাকো। তাই কতো শ্রেষ্ঠ পদ প্রাপ্ত করবে।

তোমরা শ্রীমত অনুসারে এত শ্রেষ্ঠ কর্ম শিখছো তো তোমাদের অবশ্যই ফল প্রাপ্ত হওয়া উচিত । তোমরা তন-মন-ধন অর্পণ করছো। সেটাও ঈশ্বরের উদ্দেশ্য করছো, কারোর থ্রু দিয়ে। এই রেওয়াজ ভারতেই আছে। তো বাবা তোমাদেরকে খুব ভালো কর্ম করতে শেখাচ্ছেন। তোমরা এই কর্তব্য কেবল ভারত কেন, সমগ্র দুনিয়ার কল্যাণের জন্য করছো। তার জন্য প্রাপ্তিও খুব ভালো হয় - মানুষ থেকে দেবতা হয়ে যাবে। শ্রীমৎ অনুসারে যে যেরকম কর্ম করবে, সেইরকমই ফল প্রাপ্ত হবে। আমি কেবল সাক্ষী হয়ে দেখতে থাকি। কে কে শ্রীমত অনুসারে মানুষ থেকে দেবতা বানানোর সেবা করছে। জীবনে অনেক পরিবর্তন আসে। যারা শ্রীমতে চলে তারাই হল ব্রাহ্মণ। বাবা বলছেন যে আমি বসে বসে ব্রাহ্মণদের দ্বারা শূদ্রদেরকে রাজযোগ শেখাচ্ছি - এটা হল ৫ হাজার বছরের কথা। ভারতেই দেবী-দেবতাদের রাজত্ব ছিল। চিত্র দেখাতে হবে। চিত্র ছাড়া বললে ভাববে - কি জানি এ আবার কোন্ নতুন ধর্ম, এটা হয়ত বিদেশ থেকে এসেছে। চিত্র দেখালে বুঝবে এরা দেবতাদেরকে মান্য করে। তাে বোঝাতে হবে যে শ্রী নারায়ণের অন্তিম ৮৪ তম জন্মে পরমপিতা পরমাত্মা প্রবেশ করেছেন আর রাজযোগ শেখাচ্ছেন। এটা হল ৮৪ তম জন্মেরও অন্তিম মুহূর্ত। যারা সূর্যবংশী দেবতা ছিলেন, তাদের সবাইকে এখানে এসে পুনরায় রাজযোগ শিখতে হবে। ড্রামা অনুসারে পুরুষার্থও অবশ্যই করবে। বাচ্চারা তোমরা এখন সম্মুখে বসে শুনছো, অন্যান্য বাচ্চারা আবার টেপ রেকর্ডারে শুনবে তো বুঝবে যে আমরাও মাতা পিতার সাথে পুনরায় সেই দেবতা হচ্ছি। এই সময় ৮৪ তম জন্মে সম্পূর্ণ বেগর অবশ্যই হতে হবে। আত্মা বাবাকে সবকিছু স্যারেন্ডার করে দেয়। এই শরীর হলো অশ্ব, যেটা স্বাহা হয়ে যায়। আত্মা নিজে বলে আমি বাবার হয়েছি। বাবা ছাড়া আর কেউ নেই। আমি আত্মা এই জীব (শরীর) দ্বারা পরমপিতা পরমাত্মার ডায়রেক্শন অনুসারে সেবা করছি।

বাবা বলছেন - যোগও শেখাও আর সৃষ্টিচক্রের কীভাবে পুনরাবৃত্তি হয় সেটাও বোঝাও। যারা সমগ্র চক্রকে পাস করে আসবে - সে এই কথাগুলিকে শীঘ্রই বুঝতে পারবে। যারা এই চক্রে আসার নয় তারা এখানে বোঝার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে না। এমন নয় যে সমগ্র সৃষ্টির আত্মা বোঝার জন্য আসবে! এদের মধ্যেও প্রজা অনেক আসবে। রাজা রাণী তো একটাই হয় তাই না। যেরকম এক লক্ষ্মী নারায়ণের কথা গাওয়া হয়ে থাকে, এক রাম সীতা গাওয়া হয়ে থাকে। প্রিন্স প্রিন্সেস তো অনেক হবে। মুখ্য তো একজনই হবেন তাই না। তো এইরকম রাজা রাণী হওয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হবে। সাক্ষী হয়ে দেখলে বোঝা যায় - এ ধনী রাজ পরিবারের আত্মা নাকি গরীব ঘরের আত্মা। কেউ মায়ার কাছে কিভাবে পরাজিত হয়, কেউ আবার ভাগন্তীও হয়ে যায়। মায়া একদম কাঁচাই খেয়ে নেয় এইজন্য বাবা বলেন যে রাজী খুশী আছো? মায়ার থাপ্পড় খেয়ে বেহুঁশ বা অসুস্থ তো হচ্ছো না! এইরকম অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে, তারপর বাচ্চারা (বি. কে) তার কাছে যায়, জ্ঞান যোগের সঞ্জীবনী বুটি দিয়ে সুরজিৎ করে দেয়। জ্ঞান আর যোগে না থাকার কারণে মায়া একদম কলা-কায়া বিগড়ে দেয় । শ্রীমত ছেড়ে মনমতে চলতে শুরু করে দেয়। মায়া একদম বেহুঁশ করে দেয়। বাস্তবে সঞ্জীবনী বুটি হল এই জ্ঞানের, এর দ্বারা মায়ার বেহুঁশী থেকে আত্মা সুস্থ হয়ে ওঠে। এই সব কথা এই সময়ের। তোমরাই হলে সীতা। রাম এসে মায়া রাবণের থেকে তোমাদের মুক্ত করছেন। যেরকম বাচ্চাদেরকে সিন্ধ প্রদেশেও রক্ষা করেছিলেন। রাবণ আবার চুরি করে নিয়ে চলে যায়। এখন তোমাদেরকে পুনরায় মায়ার শৃঙ্খল থেকে সবাইকে মুক্ত করতে হবে। বাবার তো করুণা হয়, দেখেন যে কিভাবে মায়া থাপ্পড় লাগিয়ে বাচ্চাদের বুদ্ধিই একদম ঘুরিয়ে দেয়। রামের থেকে বুদ্ধি সরিয়ে রাবণের দিকে করে দেয়। যেরকম এক ধরণের খেলনা আছে। এক দিকে রাম, অন্যদিকে রাবণ। একে বলা যায় আশ্চর্যবৎ বাবার হয়, তারপর রাবণের হয়ে যায়। মায়া খুবই শক্তিশালী। ইঁদুরের মতো কেটে দিয়ে খাবার খারাপ করে দেয়, এইজন্য শ্রীমত কখনও উল্লঙ্ঘন করবে না। এটা হল কঠিন লড়াই, তাই না। নিজের মত মানে রাবণের মত। নিজের মতে চললে তো অনেক ধাক্কা খাবে। অনেকেই বাবার নাম বদনাম করে। এইরকম সব সেন্টারেই আছে। ক্ষতি কিন্তু নিজেরই হয়। সেবাধারী বাচ্চা হলো রূপ বসন্ত, লুকিয়ে থাকে না। দৈবী রাজধানী স্থাপন হচ্ছে, এতে সবাই নিজের নিজের ভূমিকা পালন করবে। যোগের রেস করবে তো নিজেরই কল্যাণ হবে। কল্যাণ মানে একদম স্বর্গের মালিক। যেরকম মা বাবা সিংহাসনাসীন আছেন সেইরকম বাচ্চাদেরকেও হতে হবে। বাবাকে ফলো করতে হবে। না হলে তো নিজের পদ কম হয়ে যাবে। বাবা এই চিত্র কেবল রেখে দেওয়ার জন্য তৈরী করেননি। এর দ্বারা অনেক সেবা করতে হবে। বড় বড় ধনী ব্যক্তিরা লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দির নির্মাণ করেন কিন্তু এটা কারো জানা নেই যে এনারা কবে এসেছেন, এনারা ভারতকে কিভাবে সুখী বানিয়েছেন, যার জন্য সবাই তাদেরকে স্মরণ করছে।

তোমরা জানো যে এক দিলওয়ালার-ই মন্দির হওয়া উচিত । এই একটাই যথেষ্ট। লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দির থেকেও কি হবে! সেটা কোনো কল্যাণকারী নয়। শিবের মন্দির তৈরী করে, সেটাও অর্থ বিহীন। তাঁর অক্যুপেশনকে তো জানেই না। মন্দির তৈরী করে, আর তাঁর অক্যুপেশনকেই জানে না, তো তাদেরকে কি বলবে? যখন স্বর্গে দেবতারা থাকে তখন মন্দির তৈরী হয় না। যারা মন্দির তৈরী করে, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে হবে যে লক্ষ্মী-নারায়ণ কবে এসেছেন? তারা কিভাবে সুখ প্রদান করেছিলেন? তারা কিছুই বোঝাতে পারবে না। এর দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে যার মধ্যে অবগুণ আছে তারাই গুণবানের মন্দির তৈরী করে। তাই বাচ্চাদের মধ্যে সার্ভিস করার শখ রাখতে হবে। বাবারও সার্ভিস করার অনেক শখ আছে তাই তো এইরকম চিত্র তৈরী করে দেন। যদিও চিত্র শিববাবা বানিয়েদেন কিন্তু বুদ্ধি দুজনেরই চলে। আচ্ছা -

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

রাত্রি ক্লাস - ২৮/০৬/৬৮

এখানে সবাই বসে আছে, সবাই বোঝে যে - আমরা হলাম আত্মা, বাবাও বসে আছেন। একেই বলা হয় আত্ম-অভিমানী হয়ে বসা। সবাই এইরকম ভাবে বসে নেই যে আমরা হলাম আত্মা, বাবার সামনে বসে আছি। এখন বাবা স্মরণ করাচ্ছেন তাই স্মরণে আসছে, এটেনশন দেবে। এইরকম অনেকেই আছে, যাদের বুদ্ধি বাইরে চলে গেছে। এখানে বসে থেকেও যেন কান বন্ধ আছে। বুদ্ধি বাইরের জগতে কোথায় না কোথায় ছুটে বেড়াচ্ছে। বাচ্চারা, যারা বাবার স্মরণে বসে আছে, তারাই উপার্জন করছে। অনেকেরই বুদ্ধিযোগ বাইরের জগতে থাকে, তারা মনে হয় এই যাত্রাতেই নেই। সময় ব্যর্থ হয়ে যায়। ব্রহ্মা বাবাকে দেখলেই শিববাবা স্মরণে এসে যাবে। নম্বরের ক্রমে পুরুষার্থ অনুসারে তো আছেই। কারো কারো পাকাপোক্ত সংস্কার হয়ে যায়। আমি হলাম আত্মা, আমার শরীর নেই। বাবা হলেন নলেজফুল, তাই বাচ্চাদেরও নলেজ এসে যায়। এখন বাড়ি ফিরে যেতে হবে। চক্র সম্পূর্ণ হচ্ছে, এখন পুরুষার্থ করতে হবে। অনেক সময় চলে গেছে, আর অল্প সময় অবশিষ্ট আছে... পরীক্ষার দিনগুলিতে অনেক পুরুষার্থ করতে লেগে যাবে। মনে করে, যদি আমরা পুরুষার্থ না করি তাহলে ফেল হয়ে যাবো। পদও অনেক নিম্ন পর্যায়ে হয়ে যাবে। বাচ্চাদের পুরুষার্থ তো চলতেই থাকে। দেহ-অভিমানের কারণে বিকর্ম হয়। এর জন্য একশত গুণ শাস্তি ভোগ করতে হয় কেননা আমার নিন্দা করায়। এমন কর্ম কখনোই করা উচিৎ নয় যার কারণে বাবার নাম বদনাম হয় এইজন্য গাইতে থাকে সদ্গুরুর নিন্দুক কোনও পদ পাবে না। পদ মানে বাদশাহী। বাবা-ই হলেন শিক্ষক। অন্য কোনও সৎসঙ্গে এইম্-অবজেক্ট থাকে না। এটা হল আমাদের রাজযোগ। আর কেউ মুখ দিয়ে এমন কথা বলতে পারবে না যে আমি রাজযোগ শেখাচ্ছি। তারা তো মনে করে শান্তিতেই সুখ আছে? সেখানে তো না দুঃখ না সুখের কথা আছে। সর্বদা শান্তিই শান্তি। তারপর বোঝা যায় এর ভাগ্যে আছে, এ কম সময়ের জন্য সুখ ভোগ করবে। সবার থেকে শ্রেষ্ঠ ভাগ্য তার, যে প্রথম থেকে ভূমিকা পালন করে আসছে। সেখানে তাদের এই জ্ঞান থাকবে না। সেখানে সঙ্কল্পই চলবে না। বাচ্চারা জানে যে আমরা সবাই অবতার নিই। ভিন্ন-ভিন্ন নাম রূপে আসি। এটাই হল ড্রামা, তাই না। আমরা আত্মারা শরীর ধারণ করে এখানে ভূমিকা পালন করি। সেই সমস্ত রহস্য বাবা বসে বোঝাচ্ছেন। বাচ্চারা তোমাদের অন্তরে অতীন্দ্রিয় সুখ বিরাজমান থাকে। অন্তরে খুশী থাকে। বলবে - এটাই হল দেহী-অভিমানী। বাবা এটাও বোঝাচ্ছেন যে তোমরা হলে স্টুডেন্ট। তোমরা জানো যে তোমরা দেবতা অর্থাৎ স্বর্গের মালিক হতে চলেছ। কেবল দেবতাই নয়। আমরা বিশ্বের মালিক হতে চলেছি। এই স্থিতি তখন স্থায়ী থাকবে, যখন কর্মাতীত অবস্থা হয়ে যাবে। ড্রামার প্ল্যান অনুসারে এটা অবশ্যই হবে। তোমরা বুঝতে পারো যে তোমরা ঈশ্বরীয় পরিবারে আছো। স্বর্গের বাদশাহী অবশ্যই প্রাপ্ত হবে। যে যত বেশী সেবা করবে, অনেকের কল্যাণ করবে, তো অবশ্যই তার উচ্চপদ প্রাপ্ত হবে। বাবা বুঝিয়েছেন যে এই যোগের বৈঠক এখানেই হতে পারে। বাইরের সেন্টারে এইরকম হওয়া সম্ভব নয়। ভোর চারটের সময় আসা, যোগযুক্ত হয়ে বসা, সেখানে কিভাবে সম্ভব? সম্ভব নয়। কেবলমাত্র যারা সেন্টারে থাকে, তারাই বসতে পারে। বাইরের আত্মাদেরকে ভুল করেও বলা যাবে না। সময় সেইরকম নয়। এটা এখানেই ঠিক আছে। ঘরেই বসে আছো তোমরা । সেখানে তো বাইরে থেকে আসতে হয়। এটা কেবল এখানকার জন্য। বুদ্ধিতে জ্ঞান ধারণ করতে হবে। আমি হলাম আত্মা। এটা (ভ্রুকুটি) হল আত্মার অকাল সিংহাসন। অভ্যাস করে ফেলতে হবে। আমরা হলাম ভাই-ভাই। ভাই এর সাথে আমি কথা বলছি। নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো তাহলে বিকর্ম বিনাশ হয়ে যাবে। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি আত্মিক বাচ্চাদের প্রতি আত্মিক বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন, শুভরাত্রি আর নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) জ্ঞান যোগের সঞ্জীবনী বুটির দ্বারা নিজেকে মায়ার অচেতনতার থেকে বাঁচাতে হবে। মনমতের উপরে কখনো চলবে না।

২ ) রূপ-বসন্ত (জ্ঞানী যোগী) হয়ে সেবা করতে হবে। মাতা পিতাকে ফলো করে সিংহাসনাসীন হতে হবে।

বরদান:-
নিজের শক্তিশালী স্থিতির দ্বারা দান আর পূণ্য করে পূজনীয় আর গায়ন যোগ্য ভব

অন্তিম সময় যখন দুর্বল আত্মারা তোমাদের অর্থাৎ সম্পূর্ণ আত্মাদের দ্বারা প্রাপ্তির অল্প একটুও অনুভব করবে তখন এই অন্তিম অনুভবের সংস্কার নিয়ে অর্ধেক কল্পের জন্য নিজের ঘরে বিশ্রামী হবে আবার পুনরায় দ্বাপরে ভক্ত হয়ে তোমাদের পূজা আর কীর্তন করবে। এইজন্য অন্তিম সময়ের দুর্বল আত্মাদের প্রতি মহাদানী বরদানী হয়ে অনুভবের দান আর পূণ্য করো। এই সেকেন্ডের শক্তিশালী স্থিতির দ্বারা করা দান আর পূণ্য অর্ধেক কল্পের জন্য পূজনীয় আর গায়ন যোগ্য বানিয়ে দেবে।

স্লোগান:-
পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে যাওয়ার পরিবর্তে সাক্ষী হয়ে যাও, তাহলে বিজয়ী হয়ে যাবে।