১২-০২-১৯ প্রাতঃ মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - টিচার হলেন বিদেহী, তাই তোমাদের স্মরণের পরিশ্রম করতে হবে, এই স্মরণ করতে করতে যখন পরীক্ষা সম্পূর্ণ হবে, তখনই তোমরা ঘরে চলে যাবে"

প্রশ্ন:-

বাচ্চাদের স্মরণে থাকার পরিশ্রম করতে হবে, কোন্ ধোঁকাতে কখনোই তোমরা আসবে না ?

উত্তর:-

আত্মার সাক্ষাৎকার হল, ঝলমলে রূপে দেখলে - এতে কোনো লাভ নেই, এমন নয় যে সাক্ষাৎকারের দ্বারা বা বাবার দৃষ্টি পড়লেই পাপ মুক্ত হয়ে যাবে অথবা মুক্তি পেয়ে যাবে l তা কিন্তু নয় l এতে তো আরও ধোঁকায় থেকে যাবে l স্মরণের পরিশ্রম কর, এই পরিশ্রমেই কর্মাতীত অবস্থা প্রাপ্ত করবে l এমন নয় যে, বাবা দৃষ্টি দিলেই তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে l তোমাদের পরিশ্রম করতে হবে* l

ওম্ শান্তি l

রুহানী বাবা বসে রুহানী বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন, তিনি পড়ান, যোগও শেখান l যোগ কোনো শক্ত কিছু নয় l বাচ্চারা যেমন পড়ে, যোগ তো তখন টিচারের সঙ্গেই থাকে যে, আমাদের অমুক টিচার পড়ান --- তার তুল্য বানানোর জন্য l লক্ষ্য বস্তু (এইম অবজেক্ট) তো থাকেই l তারা মনে করে যে, আমরা এই নির্দিষ্ট জায়গায় পড়ছি l এখানে টিচারকে বলা যাবে না যে, আমার সঙ্গে যোগ লাগাও l অটোমেটিক্যালি যিনি পড়ান, তাঁর সাথে যোগ লেগেই থাকে l সারাদিন তো তিনি পড়ান না l ওরা তো জন্ম - জন্মান্তর পড়ে এসেছে l অভ্যাস হয়ে যায় l কিন্তু ইনি কোনো দেহধারী টিচার নন l ইনি হলেন বিদেহী টিচার, যাঁর সাথে প্রতি পাঁচ হাজার বছর অন্তর তোমরা মিলিত হও l তিনি নিজেই বলেন, আমি তোমাদের দেহধারী টিচার নই, তাই তোমাদের এই স্মরণ স্থায়ী হয় না l নিজেকে আত্মা মনে করে স্মরণ করাতে হবে যে, আমাকে পরমপিতা পরমাত্মা টিচার পড়াচ্ছেন l যতক্ষণ না পরীক্ষায় পাস করছ ততক্ষণ টিচারকে অবশ্যই স্মরণ করতে হবে l স্মরণ করতে করতে যখন পরীক্ষায় পাস করে যাবে তখন ঘরে চলে যাবে l পরীক্ষা সম্পূর্ণ হলেই এই নাটক শেষ হয়ে যায় l তখন বাচ্চারা, তোমরা জানতে পার যে, আমাদের আত্মার মধ্যে ৮৪ জন্মের পার্ট ভরা আছে যা আমাদের পালন করতে হবে l এও তোমরা এখন জানতে পেরেছ l পরে ওখানে তোমাদের মনে থাকবে না l এখানে তোমরা সম্পূর্ণ জ্ঞান পাও l টিচার বসেই সম্পূর্ণ জ্ঞান বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলেন, যা তোমাদের বুঝতে হবে আর স্মরণেও রাখতে হবে l প্রতি মুহূর্তে বাবা বলেন - মনমনাভব l 'মনমনাভব'-র অর্থও আছে l বাচ্চারা বুঝতে পারে যে, এই শব্দটি সঠিক l বাবা নিজেই বলেন যে, আমাকে স্মরণ কর তাহলে বিকর্ম বিনাশ হবে, এতে সময় তো লাগেই l নিজেকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে l পড়াতে যেমন অনেক বিষয় থাকে, যেমন - ইতিহাস, হিসেব - নিকেশ, বিজ্ঞান ইত্যাদি l ছাত্র বুঝতে পারে যে, আমরা কিভাবে পাস হব l বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে, আমরা এতো নম্বর নিয়ে পাস হব l নিজেকে দেখা উচিত যে, আমরা বাবাকে ভুলে যাই না তো ? অনেকেই লেখে যে, বাবা, মায়া বারেবারে ভুলিয়ে দেয় l মায়ার ঝড় অনেক আসে, ব্যর্থ চিন্তাও (বিকল্প) আসে l না বোঝার কারণে লেখে, বাবা, এতে পাপ লাগবে না তো ? বাবা বলেন, না, পাপ তখনই হবে যখন কর্মেন্দ্রিয়র দ্বারা বিকর্ম করবে l



বাবা বারবার বোঝাতে থাকেন, বাচ্চাদের জ্ঞান তো আছেই, তারা এও জানে যে, বিষ্ণু আর কৃষ্ণের হাতে স্বদর্শন চক্র কেনো দেখানো হয়েছে l দেখানো হয় যে অকাসুর, বকাসুরকে মেরেছিল l এখানে মারার তো কোনো কথাই নেই l এ তো নিজের পাপ কাটার কথা l শিববাবাকেও তো স্বদর্শন চক্রধারী বলা হবে তাই না l ওঁনার তো সম্পূর্ণ চক্রের জ্ঞান রয়েছে l আত্মা বাবার থেকে এই জ্ঞান পেয়েছে যে, এই সৃষ্টির চক্র কিভাবে ঘোরে l স্বদর্শন চক্র ধারণ করে নিজের পাপ ভস্ম করতে হবে l জ্ঞান ধারণ করে বাবাকে স্মরণ কর l বাবার স্মরণ করলেই বিকর্মের বিনাশ হয় l প্রত্যেকেরই নিজেদের জন্য পরিশ্রম করতে হবে l এমন নয় যে, বাবা বসে দৃষ্টি দেবেন আর পাপ কেটে যাবে l বাবা বসে এমন কাজ করেন না l এমনিতে তো তিনি সকলকেই দেখবেন কিন্তু দেখলে বা জ্ঞান দিলেই বিকর্ম বিনাশ হবে না l বাবা তো পথ বলে দেন যে, এমন - এমন কর, তাহলে বিকর্ম বিনাশ হবে l তিনি শ্রীমত দেন l আচ্ছা, মনে কর বাবা এলেন - আত্মা মনে করে আমাদের দেখলেন l এমন নয় যে এতে আমাদের পাপ কেটে যাবে, তা নয় l পাপ কাটে নিজেদের পরিশ্রমে l বাবা যদি বসে এমন করেন তাহলে এ তো এক ব্যবসা হয়ে গেল l বাবা বোঝান যে, তোমরা এমনভাবে তোমাদের বাবাকে স্মরণ করো l বাবা শ্রীমতের দানই করেন l পরিশ্রম নিজের করতে হবে l অনেকেই মনে করে অমুক সাধু - সন্ন্যাসীর দৃষ্টিই সব l কৃপা - আশীর্বাদ নিতে নিতে নামতেই থাকে l তারা কি কৃপা করবে ? তাঁরা তো তাঁদের ব্রহ্ম - মহাতত্বকেই স্মরণ করে l বাবা তো পরিষ্কার ভাবেই রাস্তা বলে দেন যে, এমন এমন করো l এমন গায়নও আছে যে - নগ্ন এসেছিলাম আবার নগ্নই যেতে হবে l এই গায়নও এই সময়েরই l বাবার ভার্সান আবারও ভক্তিতে কাজে আসে l বাবা এখন বলছেন যে - আমাকে স্মরণ কর তাহলে বিকর্ম বিনাশ হবে l বাবা তো শ্রীমত দেন l ড্রামাতে এও তাঁর পার্ট l একেই সাহায্য বলো তোমরা, ড্রামা অনুসারে শ্রীমতের গায়নও আছে l বাবাকে মত দিতে হবে l তিনি বলেন, নিজেকে আত্মা মনে করো l এমন নয় যে তিনি সাহায্য করে কর্মাতীত অবস্থায় নিয়ে যাবেন l তা নয় l এতে সময় লাগে l অনেক পরিশ্রমও করতে হয় l নিজেকে আত্মা মনে করার খুব সুন্দর অভ্যাস করতে হবে l বাস্তবে মায়েরা অনেক সময় পায় l পুরুষের কাজের নেশা থাকে l বাচ্চারা, তোমাদের বাবাকে স্মরণ করতে করতে লটারী নিতে হবে l যাতে সমস্ত জং বের হয়ে যায় l অনেকে ভালো পুরুষার্থী এমন অনুভবও হয় l তারা চার্টও রাখে l ভক্তিতে যেমন দু - তিন ঘন্টা মানুষ আরাধনা করতে বসে যায় l বাণপ্রস্থী গুরু ইত্যাদি অনেকই করে থাকে কিন্তু তাদেরও এতো স্মরণ করে না, যতটা দেবতাদের স্মরণ করে l বাস্তবে দেবততাদের স্মরণ করার কোনো প্রয়োজন নেই, আর না দেবতারা কখনো তা শেখান l



বাচ্চারা, তোমাদের জন্য নতুন কথা নয়, আর না লাখ বছরের কথা l বাবা তো তখনই আসেন যখন স্থাপনা আর বিনাশের কার্য আরম্ভ হয় l বাচ্চারা জানে যে, এই বিনাশ তো কল্পে কল্পে হয়ে থাকে l আগের কল্পেও হয়েছিলো l তোমরা এ কথাও লেখো যে, পাঁচ হাজার বছর পূর্বেও এই বিনাশ হয়েছিল l বাবা তাঁর সাথে মিলনের যে পথ বলে দেন, এ কোনো নতুন কথা নয় l বাবা বলেন যে, আমি কল্পে কল্পে এসে তোমাদের পথ বলে দিই l বাচ্চারা, তোমরা জান যে, এ আমাদের রাজ্যের স্থাপন হচ্ছে l মানুষ যেই দেবতাদের পূজা করে, তাঁদের রাজ্য আবারও স্থাপন হচ্ছে l পাঁচ হাজার বছরের চক্র যা আবারও ঘুরতে থাকে l মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যায় l সকলেই মায়ার মতে চলছে l রাবণকে কেন জ্বালানো হয় এর অর্থ কিছুই জানে না l তোমাদের নাম হল স্বদর্শন চক্রধারী l এ হল তোমাদের লক্ষ্য বস্তু (এইম অবজেক্ট) l বাবার মধ্যে যে জ্ঞান আছে তা তিনি আত্মাদের দিয়েছেন l ড্রামার চক্র যখন সম্পূর্ণ হয় তখন তিনি এসে এই জ্ঞান দেন l বাবা এসেই এই কর্ম করা শেখান l এরপর বাম মার্গে যেতে শুরু করলেই রাত শুরু হয়ে যায় l এরপর আমরা নীচে নামতেই থাকি l সুখ কম হয়ে যায় l বাবার বুদ্ধিতে যেমন সম্পূর্ণ চক্র আছে, তেমনি তোমাদের বুদ্ধিতেও সেই সম্পূর্ণ চক্রের জ্ঞান আছে l বাকি তোমাদের পবিত্র হওয়ার জন্য পরিশ্রম করতে হয় l তোমরা এইজন্যই তাঁকে ডাকো যে, বাবা তুমি এসে আমাদের পতিতদের পবিত্র করো, এরপর জ্ঞানও তো চাই l তোমাদের মানুষ থেকে দেবতা হতে হবে l বাবা আসেন বাচ্চাদের রাজযোগ শেখাতে l অন্য কাউকেই তিনি শেখাতে আসবেন না l মানুষ পতিত পাবন বাবাকে ডাকে -- বাবা, তুমি এসে আমাদের পবিত্র বানাও l এখন তোমরা পুণ্য আত্মা হচ্ছ l এই পৃথিবীর হিস্ট্রি - জিওগ্রাফী আবারও রিপিট হচ্ছে l এ কতো গুহ্য কথা l মানুষ না আত্মাকে আর না পরমাত্মাকে জানে l আত্মা যে যেমন, তেমন তার পার্ট l তাও বাবাই বলে দেন l এ এক আশ্চর্য যে, ছোটো আত্মার মধ্যে কি কি পার্ট ভরা আছে l শুনেই রোমাঞ্চিত হয়ে যায় l কারোর আবার আত্মার সাক্ষাৎকার হয় l আত্মাকে ঝলমলে দেখা যায় কিন্তু তাতে কি লাভ ? এখানে তো যোগ লাগাতে হবে l মানুষ মনে করে, সাক্ষাৎকার হল আর মুক্তি পেলাম l পাপ ভস্ম হয়ে গেল l এ তো আরো ধোকাতে থেকে যায় l বাবা তো সব কথাই বুঝিয়ে বলেন l তিনি বলেন, তোমাদের আমি গুহ্য কথা শোনাই l তোমাদের বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ চক্রের জ্ঞান আছে l ব্যস, বাবাকে আর চক্রকে স্মরণ করতে হবে l টিচারকেও স্মরণ করতে হবে আর নলেজকেও স্মরণ করতে হবে l এই স্মরণ করতে করতে ড্রামা অনুসারে তোমরা কর্মাতীত অবস্থা প্রাপ্ত করবে l যেমন বস্ত্রহ অবস্থায় এসেছিলে, ঠিক তেমনই যেতে হবে l তোমরা দৈবী সংস্কার নিয়েই যাও l ওখানে কোনো জ্ঞান থাকে না l একেই বলা হয় সহজ স্মরণ l যোগ শব্দে মানুষ দ্বিধায় পড়ে যায় l ওরা হল হঠযোগী l সহজ যোগ তো বাবাই শেখান l তোমরা আগে শুনেছিলে - গীতার ভগবান সহজ যোগ শিখিয়েছিলেন কিন্তু তাঁকে কেউ জানত না l একশো ভাগই ভুল বুঝিয়ে দিয়েছে, যাতে মানুষ পতিত হয়ে গেছে l অনেক মত তৈরী হয়েছে l যারা গৃহস্থ জীবনে থাকে তাদের জন্যই এই গীতা শাস্ত্র l তোমরা হলে প্রবৃত্তি মার্গের l আগে তোমাদের পবিত্র প্রবৃত্তি মার্গ ছিল এখন সবাই অপবিত্র হয়ে গেছে l এখন আবারও তোমাদের পবিত্র হতে হবে l বাবা হলেন চির পবিত্র l তিনি শ্রীমত দিতেই আসেন l



বাবা বলেন যে, এই সময় সকলেই তমোপ্রধান হয়ে গেছে l প্রথমে সবাই সতোপ্রধান ছিল l আমরাও যেমন প্রথমে সতোপ্রধান ছিলাম তারপর তমোপ্রধান হয়েছি l যারাই প্রথমে আসেন, যেমন পোপ, পাদ্রী সকলেই প্রথমে সতোপ্রধান থাকেন তারপর অ্যাডিশন হতে হতে সম্পূর্ণ কল্পবৃক্ষ তমোপ্রধান হয়ে যায় l এখন তো জর্জরিভূত অবস্থায় রয়েছে l বাচ্চারা, তোমরা বুঝতে পার যে, আমরাই সতোপ্রধান ছিলাম আবার ক্রমানুসারে তমোপ্রধান হই l আবার সতোপ্রধান হতে হবে l ক্রমানুসারেই তোমরা হতে থাকবে l নাটকের নিয়ম অনুসারে l এই রকম সূক্ষ্মাতিসূক্ষ অনেক কথাই আছে l বীজ যেমন জানে, কেমনভাবে গাছ বের হয় l এই মনুষ্য সৃষ্টিরূপী বৃক্ষের রহস্য বাবাই বুঝিয়ে বলেন l বাগানের মালিকও তো তিনিই l তিনি জানেন, আমার বাগান কত সুন্দর ছিল l বাবার তো জ্ঞান আছে, তাই না l কত ফার্স্টক্লাস ঈশ্বরীয় বাগান ছিল l এখন তো শয়তানের বাগান l রাবণ রাজ্যকে শয়তান বলা হয় l যেখানে সেখানে মহামারী লেগে আছে l এখন বাকি যেসব অ্যাটমিক বোম্ব রয়েছে, তাও তৈরী করে বসে আছে l সবাই বুঝতে পারে, এ কোনো রেখে দেওয়ার জিনিস নয়, এতে অবশ্যই বিনাশ হতে হবে l বিনাশ যদি না হয় তাহলে সত্যযুগ কিভাবে আসবে l এ তো সম্পূর্ণ পরিষ্কার কথা - যদিও দেখানো হয় - মহাভারী মহাভারতের লড়াই লেগেছিল, পাঁচ পাণ্ডব বেঁচে গিয়েছিল l তাঁরাও পরে মারা গিয়েছিল কিন্তু রেজাল্ট কিছুই নেই l এই নাটকও বানানো হয়েছে যা বাবা বসে বোঝান l ভারতকেই লুণ্ঠন করেছিল, এখন আবার রিটার্ন দিচ্ছে l পরের দিকেও দিতে থাকবে l এও তোমরা জানো যে, বিনাশে সবকিছুই শেষ হয়ে যাবে l আমাদের যখন রাজ্য ছিল তখন অন্য কারও রাজ্যছিল না l হিস্ট্রি অবশ্যই রিপিট হবে l ভারত আবার স্বর্গ হবে l লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজ্য আসবে l আমরা আবার এমন হবো l আর কোনো খন্ডের নাম সেখানে থাকবে না l এখন হল কলিযুগের অন্তিম সময়, এরপর লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজত্ব আসবে l আমরা আবার এমন হব l বাবা বলেন, আমি আসি রাজযোগ শেখাতে l কল্প - কল্প অনেকবার তোমরা মালিক হয়েছ l সারা বিশ্বে এদের রাজধানী ছিল l এরা অনেক জ্ঞানী l ওখানে ওদের উপদেষ্টা প্রমুখদের থেকে রায় নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই l এই নাটক বানানো আছে, আবার রিপিট হবে l কৃষ্ণের মন্দিরকে বলা হয় সুখধাম l শিববাবা এসে সুখধাম স্থাপন করেন l খ্রীষ্টানরা নিজেরাই বলে যে, ক্রাইস্টের তিন হাজার বছর পূর্বে ভারতে স্বর্গ ছিল l প্রথমে এক ধর্ম ছিল তারপর অন্য ধর্ম এসেছে l বাচ্চাদের আশ্চর্য হওয়া উচিত যে বাবা আমাদের কিভাবে বাদশাহী দেন l বাবা এসে ভক্তির ফল প্রদান করেন l এ কতো সহজ, কিন্তু তারাই বুঝতে পারবে যারা পুরুষার্থের নম্বর অনুসারে আগের কল্পে বুঝেছিল l আচ্ছা l



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ, ভালবাসা ও সুপ্রভাত ! ঈশ্বরীয় পিতা ওঁনার ঈশ্বরীয় সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১. স্বদর্শন চক্র ধারণ করে নিজের পাপকে ভস্ম করতে হবে l নজরে রেখো -- কর্মেন্দ্রিয়র দ্বারা কোনো পাপ কর্ম যেন না হয় l কর্মাতীত হওয়ার স্বয়ং প্রচেষ্টা করো l

২. সাক্ষাৎকারের আশা রেখো না l সাক্ষাৎকারে মুক্তি পাওয়া যায় না, পাপও কাটে না, সাক্ষাত্কারেও কোনো লাভ নেই l বাবা আর তাঁর জ্ঞানকে স্মরণ করলেই জং দূর হবে l

বরদান:-

নিজেকে নিমিত্ত মনে করে ব্যর্থ সঙ্কল্প বা ব্যর্থ বৃত্তির থেকে মুক্ত থেকে বিশ্ব কল্যাণকারী ভব

আমি বিশ্ব কল্যাণের কার্যে নিমিত্ত - এই দায়িত্বের কথা যদি স্মৃতিতে রাখো তাহলে কখনোই কারোর প্রতি বা নিজের প্রতি ব্যর্থ সঙ্কল্প বা ব্যর্থ বৃত্তি উৎপন্ন হতে পারবে না l দায়িত্ববান আত্মারা একটিও অকল্যাণকারী সঙ্কল্প করতে পারবে না l এক সেকেণ্ডও ব্যর্থ বৃত্তি আসবে না কেননা তার বৃত্তির দ্বারাই বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন হবে তাই সকলের প্রতি তার শুভ ভাবনা আর শুভ কামনার সঙ্কল্প স্বত:ই থাকে l

স্লোগান:-

অজ্ঞানের শক্তি হল ক্রোধ আর জ্ঞানের শক্তি হল শান্তি l