12.02.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদের উপার্জন করার অনেক শখ থাকা উচিত, এই অধ্যয়ণেই হলো উপার্জন"

প্রশ্নঃ -
জ্ঞান বিহীন কোন্ খুশীর কথাও বিঘ্ন রূপে পরিণত হয় ?

উত্তরঃ -
সাক্ষাৎকার হওয়া, এইটা খুশীর ব্যাপার হলেও কিন্তু যথার্থ রূপে জ্ঞান না থাকলে আরোই মুষরে পড়ে। মনে করো কারোর বাবার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে, বিন্দু দেখলে তো কি আর বুঝবে, আরোই মুষরে পড়বে। সেইজন্য জ্ঞান বিহীন সাক্ষাৎকার হলে কোনো লাভ নেই। এতে আরোই মায়ার বিঘ্ন আসতে থাকে। কারোর সাক্ষাৎকারের উল্টো নেশাও চড়ে যায়।

গীতঃ-
ভাগ্যকে জাগিয়ে আমরা এসেছি...

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি আত্মা রূপী বাচ্চারা গান শুনেছে। কুমারীরাও শুনেছে যে এইটা হলো পাঠশালা। পাঠশালাতে কোনো না কোনো ভাগ্য তৈরী করা হয়। লৌকিকে তো অনেক রকমের ভাগ্য আছে। কেউ সার্জেন হওয়ার, কেউ ব্যারিস্টার হওয়ার ভাগ্য তৈরী করে। ভাগ্যকে এইম্ অবজেক্ট বলা হয়। ভাগ্য তৈরী করা ছাড়া পাঠশালাতে কি পড়বে! এই ক্ষেত্রে এখন বাচ্চারা জানে যে আমরাও এসেছি ভাগ্য করে। নূতন দুনিয়ার জন্য নিজের রাজ্য - ভাগ্য নিতে এসেছি। এই রাজযোগ হলোই নূতন দুনিয়ার জন্য। তাদের হলো পুরানো দুনিয়ার জন্য। তারা পুরানো দুনিয়ার জন্য ব্যারিস্টার, ইঞ্জিনিয়ার, সার্জেন ইত্যাদি তৈরী হয়। সেই সব হতে হতে এখন পুরানো দুনিয়ার জন্য টাইম তো খুবই কমে গেছে। সেই সব তো শেষ হয়ে যাবে। ওই ভাগ্য তো এই মৃত্যুলোকের জন্য অর্থাৎ এই জন্মের জন্য। তোমাদের এই অধ্যয়ণ হলো নূতন দুনিয়ার জন্য। তোমরা নূতন দুনিয়ার জন্য ভাগ্য তৈরী করে এসেছো। নূতন দুনিয়াতে তোমাদের রাজ্য - ভাগ্য প্রাপ্ত হবে। কে পড়ান ? অসীম জগতের পিতা, যাঁর থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করার থাকে। যেমন ডাক্তারের থেকে ডাক্তারির উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়, সেইটা হয়ে যায় এই জন্মের উত্তরাধিকার। এক উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় বাবার থেকে, দ্বিতীয় উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় নিজের অধ্যয়ণের দ্বারা। আচ্ছা, আবার যখন বৃদ্ধাবস্থা হয় তখন গুরুর কাছে যায়। কি চাহিদা থাকে ? বলে আমাদের শান্তিধামে যাওয়ার শিক্ষা দাও। আমাদের সদ্গতি দাও। এখান থেকে বের করে শান্তিধামে নিয়ে যাও। এখন বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়, টিচারের থেকেও উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় এই জন্মের জন্য, এছাড়া গুরুর থেকে কিছুই প্রাপ্তি হয় না। টিচারের কাছে পড়ে কিছু না কিছু উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। টিচার হবে, সেলাই টিচার হবে-- কারণ জীবিকার তো দরকার আছে না! বাবার উত্তরাধিকার থাকা সত্ত্বেও পড়াশুনা করে যেন আমিও নিজেরটা উপার্জন করতে পারি। গুরুর থেকে তো কিছুই উপার্জন হয় না। হ্যাঁ, কেউ কেউ গীতা ইত্যাদি ভালো করে পড়ে তারপর গীতার উপর ভাষণ ইত্যাদি করে । এই সমস্ত হলো অল্প সময়ের সুখের জন্য। এখন তো এই মৃত্যুলোকে আছে সামান্য সময়। পুরানো দুনিয়া শেষ হতে চলেছে। তোমরা জানো যে আমি এসেছি নূতন দুনিয়ার ভাগ্য তৈরী করতে। এই পুরানো দুনিয়া ধ্বংস হতে চলেছে। বাবার থেকে প্রাপ্ত বা নিজের সব ভূ- সম্পত্তি ভস্মীভূত হয়ে যাবে। তোমাদের হাত আবার শূন্য হয়ে যাবে। এখন তো উপার্জন চাই-- নূতন দুনিয়ার জন্য। পুরানো দুনিয়ার মানুষ তো সেইটা করাতে পারবে না। নূতন দুনিয়ার জন্য উপার্জন করাতে সক্ষম হলেন শিববাবা। এখানে তোমরা নূতন দুনিয়ার জন্য ভাগ্য তৈরী করতে এসেছো। একমাত্র এই বাবা হলেন তোমাদের বাবাও, টিচারও, গুরুও । আর তিনি আসেনও সঙ্গমে। ভবিষ্যতের জন্য উপার্জন করার প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। এখন এই পুরানো দুনিয়াতে সামান্য কিছুদিন আছে। এইটা দুনিয়ার মানুষ জানে না। বলবে নূতন দুনিয়া আবার কখন আসবে, এই ব্যাপারে অনেকে এমনও আছে যারা বলে - এরা সব মিথ্যা বলার জন্য। এইরকম বুঝদারও অনেক আছে। বাবা বলবেন নূতন দুনিয়া স্থাপন হবে। বাচ্চা বলবে এইটা হলো মিথ্যে গল্পকথা। তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা মনে করো নূতন দুনিয়ার জন্য ইনি হলেন আমাদের পিতা, টিচার, সদ্গুরু। বাবা আসেনই শান্তিধাম, সুখধামে নিয়ে যেতে। কেউ ভাগ্য তৈরী করে না- যদিও কিছু বোঝে না। একই বাড়ীতে স্ত্রী পড়াশুনা করছে, পুরুষ পড়াশুনা করবে না, বাচ্চারা পড়াশুনা করবে তো মা- বাবা পড়াশুনা করবে না। এইরকম হতে থাকছে। শুরুতে আত্মীয়ের আত্মীয়ও এসেছিলো কিন্তু মায়ার ঝড়ের প্রভাবে আশ্চর্য ভাবে শুনেছে, অন্যদেরকেও এই জ্ঞান শুনিয়েছে, তারপর বাবাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। গাওয়াও হয়েছে আশ্চর্য ভাবে শোনে, বাবার হবে, পাঠ পড়বে- তবুও-- হায় ড্রামার যা প্রকৃতি। বাবা নিজে বলেন- হায় ড্রামা, হায় মায়া। ড্রামারই ব্যাপার, তাই না ! স্ত্রী- পুরুষ একে অপরকে ডিভোর্স দেয়। বাচ্চারা বাবাকে ত্যাগ করে দেয়, এখানে তো সেইটা নেই। এখানে ডিভোর্স দিতে পারে না। বাবা তো এসেছেনই বাচ্চাদের সত্যিকারের উপার্জন করাতে। বাবা কি আর কাউকে খাদে ফেলতে পারেন! বাবা তো হলেনই পতিত- পাবন, পরম করুণাময়। বাবা এসে গাইড হয়ে দুঃখ থেকে লিবারেট বা মুক্ত করেন আর গাইড হয়ে সাথে নিয়ে যান। এইরকম কোনো লৌকিক গুরু বলবে না যে আমি তোমাদেরকে সাথে নিয়ে যাবো। এইরকম গুরু কখনো দেখেছো, কখনো শুনেছো ? গুরুদের তোমরা জিজ্ঞাসা করো-- আপনাদের যে এতো ফলোয়ার্স আছে, আপনারা দেহত্যাগ করলে কি এই ফলোয়ার্সদেরকে সাথে নিয়ে যাবেন ? এইরকম তো কখনো কেউ বলবে না যে আমি ফলোয়ারদেরকে সাথে নিয়ে যাবো। এইটা তো হতে পারে না। কখনো কেউ বলতে পারে না যে আমি তোমাদের সবাইকে নির্বাণধাম বা মুক্তিধামে নিয়ে যাবো। এইরকম প্রশ্নও কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারে না যে আমাকে আপনি সাথে নিয়ে যাবেন ? শাস্ত্রতে আছে ভগবানুবাচ, আমি তোমাদের নিয়ে যাবো। মশার ঝাঁকের মতো সব যায়। সত্যযুগে তো মানুষ কম হয়। কলিযুগে তো অনেক মানুষ। শরীর ত্যাগ করে বাকি আত্মারা তাদের হিসাব - পত্র মিটিয়ে ফেলে চলে যাবে। যেতে অবশ্যই হবে, এতো মানুষ থাকতে পারে না। বাচ্চারা, তোমরা ভালো করে জানো- এখন আমাদের যেতে হবে আপন গৃহে। এই শরীর তো ত্যাগ করতে হবে। আমি মরলে এই দুনিয়াও আমার কাছে মৃত হবে। নিজেকে শুধুমাত্র আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। এই পুরানো পোষাক তো ছাড়তে হবে। এই দুনিয়াও হলো পুরানো। যেইরকম পুরানো বাড়ীতে বসে নূতন বাড়ী সামনে তৈরী হতে থাকলে মনে করবে যে আমাদের জন্য তৈরী হচ্ছে। বুদ্ধি চলে যাবে নূতন বাড়ীর দিকে। ওটাতে এইটা তৈরী করো, এই করো। মায়া মমতা সমস্ত পুরানোর থেকে সরে গিয়ে নূতনের সাথে জুড়ে যাবে। সে হলো পার্থিব জগতের কথা। এইটা হলো অসীম জগতের কথা। পুরানো দুনিয়ার প্রতি মায়া-মমতা সরিয়ে নূতন দুনিয়ার প্রতি মায়া- মমতা থাকতে হবে। তোমরা জানো যে এই পুরানো দুনিয়া তো শেষ হয়ে যাবে। নূতন দুনিয়া হলো স্বর্গ। সেখানে আমরা রাজার পদ প্রাপ্ত করবো। যত যোগে থাকবো, জ্ঞানের ধারণা করবো, অন্যদেরকে বোঝাবো, ততই খুশীর পারদ উপর দিকে উঠবে। পরীক্ষা খুবই কঠিন। আমরা ২১ জন্মের জন্য স্বর্গের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি। বিত্তশালী (সাহুকার) হওয়া তো ভালো কথা তাই না ! সৃষ্টি চক্রকে স্মরণ করবে, যে যত নিজ সম তৈরী করবে ততোই লাভ। রাজা হতে চাও তো প্রজা তৈরী করতে হবে। প্রদর্শনীতে এতো লোক আসে। তারা সকলে প্রজা হতে থাকবে, কারণ এই অবিনাশী জ্ঞানের বিনাশ তো হয় না। বুদ্ধিতে এসে যাবে- পবিত্র হয়ে পবিত্র দুনিয়ার মালিক হতে হবে। পুরুষার্থ বেশী করলে তবে প্রজাতে উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে। তা না হলে সামান্য ক্ষমতার প্রজা হবে। নম্বর অনুযায়ীই তো হয় না। রাম রাজ্যের স্থাপনা চলছে। রাবণ রাজ্যের বিনাশ হয়ে যাবে। সত্যযুগে তো থাকবেই দেবতারা।

বাবা বুঝিয়েছেন- স্মরণের যাত্রার দ্বারা তোমরা সতোপ্রধান দুনিয়ার মালিক হবে। মালিক তো রাজা - প্রজা সকলেই হয়। প্রজাও বলবে আমাদের ভারত হলো সবার থেকে উচ্চ । বরাবর ভারত অনেক উঁচুতে ছিলো। এখন কি আর আছে! ছিলো অবশ্যই। এখন তো একদমই গরীব হয়ে গেছে। প্রাচীন ভারত সব থেকে বিত্তশালী ছিলো। তোমরা জানো যে- আমরা এই ভারতবাসীরা অবশ্যই সবার থেকে উচ্চ দেবী- দেবতা কুলের ছিলাম। আর কাউকে দেবতা বলা যায় না। এখন তোমরা এই কন্যারা পড়াশুনা করছো আবার অন্যান্যদের বোঝাতে হবে। মানুষকে বোঝাতে তো হবে। তোমাদের কাছে চিত্রও আছে, তোমরা প্রমাণ সহ বলতে পারো - এনারা এই পদ পেল কি করে ? তিথি-তারিখ সমেত তোমরা প্রমাণ করতে পারো। এখন আবার এই পদ প্রাপ্ত করছো শিববাবার থেকে। ওঁনারও চিত্র আছে। শিব হলেন পরমপিতা পরমাত্মা। বাবা বলেন ব্রহ্মা দ্বারা তোমাদের যোগবলের দ্বারা ২১ জন্মের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। সূর্যবংশী দেবী - দেবতা বিষ্ণুপুরীর তোমরা মালিক হতে পারো। শিববাবা দাদা ব্রহ্মার দ্বারা এই উত্তরাধিকার দিচ্ছেন। প্রথমে এঁনার আত্মা শোনে, আত্মাই ধারণ করে। মুখ্য ব্যাপার তো হলোই এইটা। চিত্র তো শিবের দেখানো হয়। এই চিত্র হলো পরমপিতা পরমাত্মা শিবের। ব্রহ্মা- বিষ্ণু- শঙ্কর হলেন সূক্ষ্মবতনের দেবতাগণ। প্রজাপিতা ব্রহ্মাকে তো অবশ্যই এখানে দরকার। প্রজাপিতা ব্রহ্মার বাচ্চারা ব্রহ্মা কুমার- কুমারীরা সংখ্যায় অনেক। যতক্ষণ না ব্রহ্মার বাচ্চা হবে, তো ব্রাহ্মণ হতে পারবে না, তবে কি করে শিববাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করবে। দেহের জন্ম তো নয়। বলাও হয় মুখবংশাবলী। তোমরা বলবে আমরা হলাম প্রজাপিতা ব্রহ্মার মুখবংশাবলী। তারা গুরুদের ফলোয়ার্স হয়। এখানে তোমরা একজনকেই বাবা, টিচার, সদ্গুরু বলো। এঁনাকে (ব্রহ্মা) বলো না। নিরাকার শিববাবাও আছেন, জ্ঞানের সাগর তিনি । সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান প্রদান করেন। টিচারও সেই নিরাকারই, যিনি সাকার (ব্রহ্মা বাবা) দ্বারা জ্ঞান শোনান। আত্মাই বলে। আত্মা বলে আমার শরীরকে বিরক্ত ক'রো না। আত্মা দুঃখী হলে তাকে বোঝাতে হবে বিনাশ সম্মুখে দন্ডায়মান, পারলৌকিক বাবা আসেনই শেষে- সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। এছাড়া যাই কিছু আছে, এই সব বিনাশ হওয়ার। একে বলা হয় মৃত্যুলোক। স্বর্গ তো এখানে পৃথিবীর উপর হয়। দিলওয়ারা মন্দির তৈরী করা হয়েছে। নীচে তপস্যা করছে, উপরে স্বর্গ। নয় তো কোথায় দেখাবে। উপরে দেবতাদের চিত্র দেখিয়েছে। তারা তো এখানেই থাকবে। বোঝানোর অকাট্য যুক্তি চাই। মন্দিরে গিয়ে বোঝানো উচিত- এইটা হলো শিববাবার স্মৃতি স্বরূপ, যে শিববাবা আমাদের পড়াচ্ছেন। শিব হলেন বাস্তবে বিন্দু, কিন্তু বিন্দুকে কি করে পূজা করা যাবে, ফলয- ফুল কি করে চাপানো হবে-- সেইজন্য বড় রূপ তৈরী করা হয়েছে। এতোটা কেউ হয় না। গাওয়াও হয় ভ্রূকুটির মাঝখানে ঝলমল করে অদ্ভুত এক তারা। খুবই সূক্ষ্ম হয়, বিন্দু। বড় কিছু হলে তো সায়েন্স ইত্যাদি তাড়াতাড়ি সেইটা ধরে ফেলতো। না এ এতটা হাজার সূর্যের থেকে তেজোময়, কিছুই না। কোনো-কোনো ভক্তও তো আসে, বলে আমি এই রকম আকৃতি দেখতে পাই। বাবা বুঝতে পারেন, তার পরমপিতা পরমাত্মার সম্পূর্ণ পরিচয় প্রাপ্ত হয়নি। এখনও ভাগ্যই খোলেনি। যতক্ষণ না বাবাকে জানবে, এইটা না বুঝবে যে আত্মা হলো বিন্দু সম, শিববাবাও হলেন বিন্দু, ওঁনাকে স্মরণ করতে হবে। এইরকম বুঝে যখন স্মরণ করবে তখন বিকর্ম বিনাশ হবে। এছাড়া এইটা দেখা যায়, এইরকম দেখছি- ঐরকম দেখছি-- একে মায়ার বিঘ্নই বলা হবে। তোমাদের তো এখন খুশী রয়েছে যে আমরা বাবাকে পেয়েছি। বাবা বলেন, কৃষ্ণের সাক্ষাৎকার করে অনেক খুশীতে ডান্স ইত্যাদি করে কিন্তু এর থেকে কোনো সদ্গতি হয় না। এই সাক্ষাৎকার তো অনায়াসেই হয়ে যায়। যদি ভালো করে না পড়বে তবে প্রজা হবে। সাক্ষাৎকারের লাভও তো পাওয়া যাবে না! ভক্তি মার্গে কঠোর পরিশ্রম করে, তবে সাক্ষাৎকার হয়। এক্ষেত্রে সামান্য পরিশ্রম করলেই সাক্ষাৎকার হয় কিন্তু লাভ কিছুই নেই। কৃষ্ণপুরীতে গিয়ে সাধারণ প্রজা ইত্যাদি হবে। এখন তোমরা বাচ্চারা জানো শিববাবা আমাদের এই নলেজ শোনাচ্ছেন। বাবার আদেশ হলো পবিত্র অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু কেউ-কেউ পবিত্রও থাকতে পারে না, কখনো পতিতও লুকিয়ে চলে আসে। তারা নিজেদেরই লোকসান করে। নিজেকে ঠকায়। বাবাকে ঠকানোর ব্যাপার নেই। বাবাকে ঠকিয়ে কি কোনো আর কোনো পয়সা নেওয়ার ব্যাপার আছে কি ? শিববাবার শ্রীমত অনুযায়ী সঠিক রাস্তায় না চললে তো কি হাল হবে। বোঝা যাবে ভাগ্যে নেই। পড়াশুনা করে না তারা, অন্যদেরকে আরোই দুঃখ দিতে থাকে। তাই এক তো অনেক শাস্তি পেতে হবে, দ্বিতীয়তঃ পদও স্খলন হয়ে যাবে। নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করতে নেই। বাবা তো বুঝবেন যে, তোমাদের চলন ঠিক নেই। বাবা তো উপার্জন করার রাস্তা বলে দেন, কেউ চলুক বা না চলুক, তার ভাগ্য। শাস্তি পেয়ে শান্তিধামে তো ফিরে যেতেই হবে। পদ ভ্রষ্ট হয়ে যাবে। কিছুই প্রাপ্তি থাকবে না। আসে তো অনেকেই কিন্তু এখানে তো বাবার থেকে উত্তরাধিকার গ্রহণ করার ব্যাপার আছে। বাচ্চারা ফলে বাবা আমি তো স্বর্গের সূর্যবংশী রাজার পদ প্রাপ্ত করবো। এ হল রাজযোগ ! স্টুডেন্ট স্কলারশিপও তো নেয়, তাই না! পাশ করে যারা স্কলারশিপ পায়। এই মালা তাদেরই তৈরী হয়েছে যারা স্কলারশিপ নিয়েছে। যেমন যেমন পাশ করবে সেইরকম স্কলারশিপ প্রাপ্ত হবে। এই মালা তৈরী হয়ে আছে। স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্য যারা- বৃদ্ধি পেতে পেতে হাজার হয়ে যায়। রাজার পদ হলো স্কলারশিপ। যারা ভালো করে পাঠ পড়ে তারা গুপ্ত থাকতে পারে না। অনেক নতুনরাও পুরানোদের থেকে এগিয়ে যাবে। যেমন দেখো কোনো কন্যারা এলে, বলে আমার তো এই পড়াশুনা খুবই ভালো লাগে, আমি পণ করছি যে এই শারীরিক পাঠের কোর্স সম্পূর্ণ করে আবার এই পড়াশুনাতে রত হবো। নিজের হীরে তুল্য জীবন তৈরী করবো। আমরা নিজেদের সত্যিকারের উপার্জন করে ২১ জন্মের জন্য উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করবো। কতো খুশী হয়। জানে যে এই উত্তরাধিকার এখন না নিলে তো আর কখনোই পাওয়া যাবে না। পড়াশুনার শখ থাকে, তাই না! কারোর তো বোঝার সামান্যতমও শখ নেই। পুরানোদেরও এতো শখ নেই, যতটা নূতনদের আছে। ওয়ান্ডার ! তাই না ! বলবে ড্রামা অনুসারে ভাগ্যে নেই তো ভগবানই বা কি করবেন। টিচার তো পড়াশুনা করান। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) নিজের দুর্বলতাকে লুকানোও নিজেকে ঠকানো, সেইজন্য কখনোই নিজেকে ঠকাতে নেই।

২ ) নিজের উচ্চ ভাগ্য তৈরী করার জন্য কোনো নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ করতে নেই। পড়াশুনার শখ থাকতে হবে। নিজ সম তৈরী করার সেবা করতে হবে।

বরদান:-
প্রতি পদক্ষেপে আদেশ অনুযায়ী চলে মায়াকে কুর্বান করানো সহজযোগী ভব

যে বাচ্চারা প্রতি পদক্ষেপে আদেশ অনুযায়ী চলে তাদের সামনে সমগ্র বিশ্ব বলি প্রদত্ত হয়। প্রথমে তোমরা বাবার প্রতি নিজেকে অর্পণ করো আর নিজের শ্রেষ্ঠ স্বমানে থেকে প্রতিটি আজ্ঞা অনুসারে চলতে থাকলে, তবে জন্ম- জন্মান্তরের বিপত্তি থেকে মুক্তি পাবে। এখন সহজযোগী আর ভবিষ্যতে সহজ জীবন হবে। তো এইরকম সহজ জীবন তৈরী করো।

স্লোগান:-
নিজেকে পরিবর্তন করে অন্য আত্মাদেরকে পরিবর্তন করাই হলো জীবন দান দেওয়া।