১২-০৩-১৯ প্রাতঃ মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা :-- অন্তর্মুখী হয়ে স্মরণের অভ্যাস করো, চেক করো যে, কতক্ষণ আত্ম - অভিমানী আর পরমাত্ম অভিমানী থাকতে পারো ?"

প্রশ্ন:-

যে বাচ্চারা একান্তে গিয়ে আত্ম - অভিমানী থাকার অভ্যাস করে, তাদের নিদর্শন কি ?

উত্তর:-

তাদের মুখ থেকে কখনোই উল্টাপাল্টা কথা বের হবে না l ২) ভাই - ভাইয়ের সম্পর্কে খুবই প্রেম থাকবে l সদা ক্ষীরখণ্ড হয়ে থাকবে l ৩) ধারণা খুব সুন্দর হবে l ৪) তাদের দৃষ্টি খুব মিষ্টি হবে l কখনোই দেহ - অভিমান আসবে না l ৫) তারা কাউকেই দুঃখ দেবে না l

ওম শান্তি l

রুহানী বাচ্চাদের প্রতি রুহানী বাবা বোঝাচ্ছেন, কেবলমাত্র রুহ বা আত্মা বললে জীব মনে হত না, তাই বাবা বলছেন, নিজেকে আত্মা মনে করতে হবে l আমরা আত্মারা বাবার থেকে এই জ্ঞান পাই l বাচ্চাদের দেহী - অভিমানী হয়ে থাকতে হবে l বাবা আসেনই বাচ্চাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য l যদিও তোমরা সত্যযুগে আত্ম - অভিমানী হও কিন্তু পরমাত্ম - অভিমানী হও না l এখানে তোমরা আত্ম - অভিমানীও হও আবার পরমাত্ম - অভিমানীও হও অর্থাৎ আমরা বাবার সন্তান l এখানে আর ওখানকার মধ্যে অনেক ফারাক l এখানে আছে ঈশ্বরীয় পড়া আর ওখানে পড়ার কোনো কথাই নেই l এখানে প্রত্যেককেই নিজেদের আত্মা মনে করতে হবে আর বাবা আমাদের পড়াচ্ছেন, এই নিশ্চয়তার সঙ্গে শুনলে খুব সুন্দর ধারণা হবে l তোমরা তখন আত্ম -অভিমানী হতে থাকবে l এই অবস্থায় টিকে থাকার লক্ষ্যই খুব বড় l যদিও তা শুনতে খুব সহজ মনে হয় l বাচ্চাদের এই অনুভব শোনাতে হবে যে, আমরা কিভাবে নিজেদের আত্মা আর অন্যদেরও আত্মা মনে করে কথা বলি l বাবা বলেন যে, আমি যদিও এই শরীরে আছি কিন্তু এই আমার প্রকৃত অভ্যাস l আমি বাচ্চাদের আত্মাই মনে করি l আমি আত্মাদের পড়াই l ভক্তিমার্গেও আত্মাই অভিনয় করে এসেছে l এই অভিনয় করতে করতে পতিত হয়ে গেছে l এখন আবার আত্মাকে পবিত্র হতে হবে l তাই যতক্ষণ বাবাকে পরমাত্মা মনে করে স্মরণ না করবে, তাহলে পবিত্র কিভাবে হবে ? এর উপর বাচ্চাদের খুব অন্তর্মুখী হয়ে স্মরণের অভ্যাস করতে হবে l জ্ঞান হলো সহজ l বাকি এই নিশ্চয়তা যেন পাকা থাকে যে, আমি আত্মাই পড়ি, বাবা আমাদের পড়ান, তখন ধারণাও হবে আর কোনো বিকর্ম হবে না l এমন নয় যে, এখন আমাদের কোনো বিকর্ম হয় না l বিকর্মজিত তো অন্তিম সময়ে হবে l ভাই - ভাইয়ের দৃষ্টি খুবই মিষ্টি থাকে l এতে কখনোই দেহ - অভিমান আসবে না l বাচ্চারা বোঝে যে, বাবার এই জ্ঞান খুবই গভীর l উঁচুর থেকে উঁচু যদি হতে হয় তাহলে এই অভ্যাস খুব ভালোভাবে করতে হবে l এই প্রতি দৃষ্টি দেওয়া উচিত l অন্তর্মুখী হওয়ার জন্য একান্তেরও প্রয়োজন l ঘরের কাজের মধ্যে একান্ত সময় পাওয়া যায় না l এখানে তোমরা খুব ভালোভাবে এই অভ্যাস করতে পারো l আত্মাকেই দেখার অভ্যাস করতে হবে l নিজেকেই আত্মা মনে করতে হবে, এখানে এই অভ্যাস করলে তা অভ্যাসে পরিণত হবে l তারপর নিজের অভিনয়ও দেখা উচিত -- আমি কতো পর্যন্ত আত্ম - অভিমানী হয়েছি ? আমরা আত্মাকেই শোনাই, তার সঙ্গেই কথা বলি l খুব ভালোভাবে এই অভ্যাসের প্রয়োজন l বাচ্চারা বোঝে যে, এই অভ্যাস তো ঠিক l আমাদের দেহ ভাব যেন দূর হয়ে যায়, আমরা যেন আত্ম অভিমানী হয়ে যাই, নিজে যেন ধারণা করতে পারি আর অন্যদেরও তা করাতে পারি l চেষ্টা করে নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করা - এই চার্টঈ খুব গভীর l বড় - বড় মহারথীরাও বুঝতে পারেন -- বাবা বিচার সাগর মন্থনের জন্য দিনে - দিনে যে সাবজেক্ট দিচ্ছেন,এ তো খুবই বড় পয়েন্টস l এরপর কখনোই মুখ থেকে কোনো আজেবাজে শব্দ বের হবে না l ভাই - ভাইয়ের মধ্যে খুবই স্নেহের সম্পর্ক তৈরী হয়ে যাবে l আমরা সবাই ঈশ্বরের সন্তান l তোমরা তো বাবার মহিমাকে জানোই l কৃষ্ণের মহিমা আলাদা, তাঁকে বলা হয় সর্বগুণ সম্পন্ন ---কিন্তু কৃষ্ণের কাছে গুণ কোথা থেকে আসবে ? যদিও তাঁর মহিমা আলাদা, তবুও সর্বগুণ সম্পন্ন তো জ্ঞানের সাগর বাবার থেকেই হয়েছেন,তাই না l তাই নিজেকে খুব পর্যবেক্ষণ করতে হবে, প্রতি পদে সম্পূর্ণ পোতামেল রাখতে হবে l ব্যবসায়ীরা সম্পূর্ণ দিনের হিসেব রাতে করেন l তোমাদেরও তো এ হল ব্যবসা l রাত্রে নিজেকে দেখতে হবে যে, সারাদিন আমরা সবাইকে ভাই - ভাই মনে করে কথা বলেছি কি ? কাউকে দুঃখ দিই নি তো ? কেননা তোমরা জানো যে, আমরা সব ভাইরা এখন ক্ষীর -সাগরের দিকে যাচ্ছি l এ হলো বিষয় সাগর l তোমরা এখন না রাবণ রাজ্যে আর না রাম রাজ্যে আছো l তোমরা মাঝখানে আছো তাই নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করতে হবে l দেখতে হবে, কতো পর্যন্ত আমাদের এই ভাই - ভাইয়ের দৃষ্টির অবস্থা রয়েছে ? আমরা সকল আত্মারাই নিজেদের মধ্যে ভাই - ভাই, আমরা এই শরীরের দ্বারা অভিনয় করি l আত্মা অবিনাশী, শরীর বিনাশী, আমরা ৮৪ জন্মের অভিনয় করেছি l বাবা এখন এসেছেন, তিনি বলছেন, আমাকে স্মরণ করো, নিজেকে আত্মা মনে করো l আত্মা মনে করলে ভাই - ভাই হয়ে যাবে l এ কথা বাবাই বুঝিয়ে বলেন l বাবা ছাড়া আর কারোরই এই পার্ট নেই l এ প্রেরণা ইত্যাদির কথা নয় l টিচার যেমন বসে বোঝান, বাবাও তেমনি বাচ্চাদের বোঝান l এ বিচার করার কথা, এতে সময়ও দিতে হয় l বাবা কাজ - করবার করার জন্য অনুমতি তো দিয়েছেন, কিন্তু স্মরণের যাত্রাও জরুরী l তার জন্যও সময় বের করার দরকার l সার্ভিসও সকলের আলাদা - আলাদা l কেউ অনেক সময় বের করতে পারে l ম্যাগাজিনেও যুক্তির সঙ্গে লিখতে হয় যে, এখানে এমন বাবাকে স্মরণ করতে হয় l একে অপরকে ভাই - ভাই মনে করতে হয় l



বাবা এসে সমস্ত আত্মাদের পড়ান l আত্মার মধ্যে দৈবী গুণের সংস্কার তিনি এখনই ভরেন l মানুষ জিজ্ঞেস করে, ভারতের প্রাচীন যোগ কি ? তোমরা বোঝাতে পারো কিন্তু তোমরা এখনো খুব অল্প, তোমাদের নাম এখনো মানুষ জানতে পারে নি l ঈশ্বর যোগ শেখান l অবশ্যই তাঁর বাচ্চারা থাকবে l তারাও জানে যে, এ কথা কেউই জানে না l নিরাকার বাবা কিভাবে এসে পড়ান, তিনি নিজেই বোঝান, আমি কল্পে - কল্পে সঙ্গম যুগে এসে নিজেই বলি, আমি কিভাবে আসি l আমি কার শরীরে আসে এতে দ্বিধার কোনো কথা নেই l এ এক বানানো ড্রামা l আমি এই একজনের মধ্যেই আসি l প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারাই স্থাপনা l ওই বাচ্চাই প্রথমে মুরুব্বী হয় l সেই আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্ম স্থাপন করে l তারপর সেই প্রথম নম্বরে আসে l এই চিত্রের উপরে বোঝানো খুব ভালো l ব্রহ্মার থেকে বিষ্ণু আর বিষ্ণুর থেকে ব্রহ্মা কিভাবে হয় ---একথা আর কেউই বোঝাতে পারে না l এই বোঝানোর জন্য যুক্তির প্রয়োজন l তোমরা এখন জানো যে, বাবা কিভাবে দেবতা ধর্মের স্থাপনা করছেন, এই চক্র কিভাবে ঘোরে, একথা আর কেউই জানতে পারে না l বাবা তাই বলেন, এমন - এমন করে যুক্তি দিয়ে লেখো l যথার্থ যোগ কে শেখাতে পারে ---এ যদি জানতে পারে তাহলে তোমাদের কাছে অনেকেই এসে যাবে l এতো যে অনেক আশ্রম আছে, সবই টালমাটাল হতে থাকবে l এ সবই পরের দিকে হবে, তখন আশ্চর্য হয়ে যাবে যে, এতো সব যে ভক্তি মার্গের সংস্থা, জ্ঞান মার্গের একটাও নেই, তখনই তোমাদের বিজয় হবে l এও তোমরাই জানো যে, প্রতি পাঁচ হাজার বছর অন্তর বাবা আসেন l বাবার কাছে তোমরা শেখো এবং অন্যদেরও শেখাও l কিভাবে কাউকে লিখে বোঝাতে হবে -- এ সবই কল্পে কল্পে যুক্তির সঙ্গে বের হয়, যা অনেকেই জানতে পেরে যায় l বাবা ছাড়া এক ধর্মের স্থাপনা অন্য কেউই করতে পারে না l তোমরা জানো যে - ওই দিকে রাবণ আর এই দিকে রাম l তোমরা রাবণকে জয় করো l ওরা সব হল রাবণ সম্প্রদায় l তোমরা ঈশ্বরীয় সম্প্রদায় খুবই অল্প l ভক্তির কতো শো হয় l যেখানে যেখানে জল আছে, সেখানে মেলা বসে l মানুষ কতো খরচ করে l কত মানুষ ডুবে মারা যায় l এখানে তো এমন কোনো ব্যাপার নেই l তাও বাবা বলেন, আশ্চর্যভাবে আমাকে চেনে, শোনে, শোনায়, পবিত্র থাকে তাও অহো মায়া, তোমার কাছে হার খেয়ে যায় l কল্প - কল্প এমন হয় l অনেকে হেরেও যায় l এ হলো মায়ার সাথে যুদ্ধ l মায়ারও অনেক প্রভাব l ভক্তিকে তো হেলতেই হবে l অর্ধেক কল্প তোমরা প্রালব্ধ ভোগ করো তারপর রাবণ রাজ্য থেকে ভক্তি শুরু হয় l তাদের নমুনাও আছে, বিকারে যায় তাহলে তো দেবতা থাকলো না l কিভাবে বিকারী হয়, এই দুনিয়াতে কেউই তা জানে না l শাস্ত্রে লিখে দিয়েছে বাম মার্গে গেছে কিন্তু কখন গেছে এ কেউই বোঝে না l এই সব কথা খুব ভালোভাবে বুঝতে এবং বোঝাতে হবে l এও তখনই বুঝবে যখন নিশ্চয়বুদ্ধি হতে পারবে l তাদের তখন চেষ্টাও হবে, তারা বলবে, এমন বাবার সঙ্গে আমাদের মিলন করাও কিন্তু প্রথমে তোমরা দেখো যে, ঘরে যাওয়ার পরে এমন নেশা থাকে কি ? নিশ্চয় বুদ্ধি কি থাকে ? যদিও বাবার চিন্তা তাদের থাকে, তারা চিঠিও লেখতে থাকে, আপনিই আমাদের প্রকৃত বাবা, আপনার থেকে আমরা সর্বোচ্চ আশীর্বাদী বর্সা পাই, আপনার সঙ্গে মিলিত না হয়ে আমরা থাকতে পারি না l বিবাহ চুক্তির পরই মিলিত হতে হয় l বিবাহ চুক্তির পরেই বাবার জন্য ছটফট করতে থাকে l তোমরা জানো যে, আমাদের বেহদের বাবা টিচার, সজন ইত্যাদি সবকিছুই l আর সকলের থেকেই তোমরা দুঃখ পেয়েছো, ওদের তুলনায় বাবা সুখ দেন l ওখানেও সবাই সুখ দেয় l এইসময় তোমরা সুখের সম্বন্ধে আবদ্ধ হচ্ছো l



এ হল পুরুষোত্তম হওয়ার পুরুষোত্তম যুগ l এখানে মূল বিষয়ই হল - নিজেকে আত্মা মনে করতে হবে, বাবাকেও ভালোবেসে স্মরণ করতে হবে l এই স্মরণেই খুশীর পারদ ঊর্ধ্বে উঠতে থাকবে l আমরা সবথেকে বেশী ভক্তি করেছিলাম l অনেক ধাক্কা খেয়েছিলাম l এখন বাবা এসেছেন আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে তাই অবশ্যই পবিত্র হতে হবে l দৈবীগুণও ধারণ করতে হবে l পোতামেল রাখতে হবে যে - সারাদিনে কতজনকে বাবার পরিচয় দিয়েছি ? বাবার পরিচয় না দিলে সুখ আসবে না, এই পরিচয় দেওয়ার জন্য উৎসাহ লেগে যায় l এই যজ্ঞতে অনেক বিঘ্নও আসে, অনেকে মারও খায় l আর কোনো সৎসঙ্গ নেই যেখানে পবিত্রতার কথা বলা হয় l এখানে তোমরা পবিত্র হও তাই অসুররা বিঘ্ন সৃষ্টি করে l তোমাদের পবিত্র হয়ে ঘরে যেতে হবে l আত্মা সংস্কারই সঙ্গে নিয়ে যায় l মানুষ বলে যে, যুদ্ধের ময়দানে মৃত্যু হলে স্বর্গে যায়, তাই মানুষ খুশীর সঙ্গে যুদ্ধে যায় l তোমাদের কাছে কমান্ডার, মেজর, সিপাহী ইত্যাদি কোথা থেকে না আসে l স্বর্গে তা কিভাবে আসবে ? যুদ্ধের ময়দানে মানুষের মিত্র - সম্বন্ধী স্মরণে আসে l বাবা এখন বোঝাচ্ছেন, তোমাদের সকলকে ফিরে যেতে হবে l নিজেকে আত্মা মনে করো l ভাই - ভাই মনে করো l বাবাকে স্মরণ করো l যে যতো পুরুষার্থ করবে, ততোই উঁচু পদ পাবে l ওরা বলে যে, আমরা ভাই - ভাই কিন্তু অর্থ কিছুই জানে না l বাবাকেই ওরা জানে না l



মানুষ মনে করে যে, আমরা নিষ্কাম সেবা করি l আমাদের ফলের কোনো ইচ্ছা নেই কিন্তু ফল তো অবশ্যই প্রাপ্ত হয় l নিষ্কাম সেবা তো একমাত্র বাবাই করেন l বাচ্চারা জানে যে, আমরা বাবার কতো গ্লানি করেছি l দেবতাদেরও গ্লানি করেছি l দেবতারা তো কখনোই কারোর প্রতি হিংসা করেন না l তোমরা তো এখানে ডবল অহিংসক হচ্ছো l না তোমরা কাম কাটারি চালাবে আর না ক্রোধ করবে l ক্রোধও অনেক বড় বিকার l অনেকে বলে বাচ্চাদের উপর খুব ক্রোধ করেছি l বাবা বোঝান যে, থাপ্পড় ইত্যাদি কখনোই মারবে না l সেও তোমাদের ভাই, তার মধ্যেও আত্মা আছে l আত্মা কখনোই ছোটো বা বড় হয় না l এ তোমাদের সন্তান নয় বরং ছোটো ভাই l তোমাদের তাকে আত্মা মনে করতে হবে l ছোটো ভাইকে মারা উচিত নয়, তাই কৃষ্ণর জন্য দেখানো হয়েছে, দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতো l বাস্তবে এমন কথাই নেই l এ হলো ভিন্ন - ভিন্ন শিক্ষা l বাকি কৃষ্ণের কি প্রয়োজন পড়েছে মাখনের l উল্টে তারা আবার চুরির মহিমাও করে l তোমরা ভালো মহিমা করবে, তোমরা বলবে, তিনি তো সর্বগুণ সম্পন্ন, ১৬ কলা সম্পূর্ণ কিন্তু এই গ্লানিও ড্রামায় লিখিত l এখন তোমরা তমোপ্রধান হয়ে গেছো l বাবা এসে তোমাদের সতোপ্রধান করেন l তোমাদের পড়ান বেহদের বাবা l তাঁর মতেই তোমাদের চলতে হবে l এই বিষয় খুবই শক্ত l তোমরা তেমন কতো উঁচু পদও পাও l সহজই যদি হতো তাহলে সবাই এই পরীক্ষাতেই লেগে যেতো l এতে অনেক পরিশ্রম l দেহ - অভিমান এলে বিকর্ম হয়ে যায় তাই লজ্জাবতীর দৃষ্টান্ত আছে l বাবাকে স্মরণ করলে তোমরা উঠতে পারবে l আর ভুলে গেলে কিছু না কিছু ভুলেই যাবে l তখন পদও কম হয়ে যায় l শিক্ষা তো সবাইকেই দেওয়া হয়েছিলো যা দিয়ে পরবর্তীতে গীতা লিখিত হয়েছে l গরুড় পুরাণে মুখরোচক কাহিনী লেখা হয়েছে, যাতে মানুষ ভয় পায় l রাবণ রাজ্যে পাপ তো হয়ই কেননা এ হলো কাঁটার জঙ্গল l বাবা বলেন যে, দৃষ্টিরই পরিবর্তন করতে হবে l দীর্ঘ সময় ধরে তোমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছো তাই শরীরের প্রতি ভালোবাসা চলে যায় l বিনাশী জিনিসের প্রতি ভালোবাসা রেখে কি লাভ ? অবিনাশীর প্রতি প্রেম রাখলে অবিনাশী হয়ে যায় l বাচ্চাদের প্রতি বাবার এই নির্দেশ যে, উঠতে বসতে, চলতে ফিরতে বাবাকে স্মরণ করো l আচ্ছা l



মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা, বাপদাদার স্মরণ স্নেহ ও গুডমর্নিং। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী সন্তানদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১. শরীর হল বিনাশী, এর প্রতি ভালোবাসার পরিবর্তে অবিনাশী আত্মার প্রতি প্রেম রাখতে হবে l অবিনাশী বাবাকে স্মরণ করতে হবে l আত্মা - আত্মা, ভাই - ভাই, আমরা ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছি - এই অভ্যাস করতে হবে l

২. বিচার সাগর মন্থন করে নিজের এমন অবস্থা বানাতে হবে যে, মুখ থেকে যেন আজেবাজে কথা বের না হয় l প্রতি পদে নিজের জমা খরচের খতিয়ান পোতামেল) চেক করতে হবে l

বরদান:-

ঈশ্বরীয় সঙ্গে থেকে, উল্টো সঙ্গে আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে সদা সদ্সঙ্গী ভব

যতই খারাপ সঙ্গ হোক না কেন, কিন্তু তোমাদের শ্রেষ্ঠ সঙ্গ তার সামনে অনেক গুণ বেশী শক্তিশালী l ঈশ্বরীয় সঙ্গের সামনে ওইসব সঙ্গ কিছুই নয় l সবই দুর্বল, কিন্তু যখন নিজে দুর্বল হয়ে যাও তখনই উল্টো সঙ্গের আঘাত আসে l যে সর্বদা বাবার সঙ্গে থাকে অর্থাত্ সদা সত্সঙ্গী, সে আর কোনো সঙ্গের রঙে প্রভাবিত হতে পারবে না l ব্যর্থ কথা, ব্যর্থ সঙ্গ অর্থাত্ কুসঙ্গ তাদের আকৃষ্ট করতে পারবে না l

স্লোগান:-

খারাপকে ভালোতে পরিবর্তনকারীই সদা প্রসন্নচিত্ত থাকতে পারে* l