12-03-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


*"মিষ্টি বাচ্চারা -- তোমরা বাবার হাত ধরেছো, তোমরা গৃহস্থে থেকেও বাবাকে স্মরণ করতে-করতে তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে"*

*প্রশ্নঃ -

বাচ্চারা, তোমাদের মনে কোন্ আনন্দ উল্লাস থাকা উচিত ? রাজসিংহাসনে বিরাজিত হওয়ার বিধি কি ?*

*উত্তরঃ -

সর্বদা যেন এই উল্লাস থাকে যে, জ্ঞান সাগর বাবা আমাদের প্রতিদিন জ্ঞান রত্নের থালা ভরে ভরে দেন। যতক্ষণ যোগে থাকবে বুদ্ধি ততই কাঞ্চনে পরিণত হবে। এই অবিনাশী জ্ঞান রত্ন সঙ্গেই যায়। সিংহাসনে বিরাজিত হওয়ার জন্য মাতা পিতাকে পুরোপুরি ফলো করো। তাঁর শ্রীমৎ অনুযায়ী চলো, অন্যদেরও নিজের মতন বানাও ।*

*ওম্ শান্তি ।* আত্মারূপী বাচ্চারা এই সময় কোথায় বসে আছে ? বলা হবে বে আত্মিক পিতার ইউনিভার্সিটি অথবা পাঠশালায় বসে আছে। বুদ্ধিতে আছে যে আমরা আত্মিক পিতার সামনে বসে আছি, তিনি আমাদের পিতা, আমাদের সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য বোঝান অথবা ভারতের উত্থান ও পতন কীভাবে হয়, তাও বলে দেন। ভারত যে পবিত্র ছিল এখন পতিত হয়েছে। ভারত মুকুটধারী ছিল তাহলে কে পরাজিত করল ? রাবণ। রাজত্ব হারানো অর্থাৎ পতন হল তাইনা। কেউ রাজা তো নেই। যদি কেউ হয় সে পতিত-ই হবে। এই ভারতে সূর্যবংশী মহারাজা-মহারানী ছিল। সূর্যবংশী মহারাজা ও চন্দ্রবংশী রাজারা ছিল। এইসব কথা এখন তোমাদের বুদ্ধিতে আছে, দুনিয়ায় এই কথা কেউ জানেনা। তোমরা বাচ্চারা জানো আমাদের আত্মিক পিতা আমাদের পড়াচ্ছেন। আমরা আত্মিক পিতার হাত ধরেছি। যদিও আমরা গৃহস্থে বাস করি কিন্তু বুদ্ধিতে রয়েছে এখন আমরা সঙ্গমযুগে দাঁড়িয়ে আছি। পতিত দুনিয়া থেকে আমরা পবিত্র দুনিয়ায় যাই। কলিযুগ হল পতিত যুগ, সত্যযুগ হল পবিত্র যুগ। পতিত মানুষ পবিত্র মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে প্রণাম করে। যদিও দেবতারাও ভারতের মানুষ। কিন্তু তাঁরা দিব্য গুণধারী । এখন তোমরা বাচ্চারা জানো আমরাও পিতা দ্বারা এমন দিব্য গুণ ধারণ করছি। সত্যযুগে এমন পুরুষার্থ করব না। সেখানে তো থাকে প্রালব্ধ। এইখানে পুরুষার্থ করে দিব্য গুণ ধারণ করতে হয়। সর্বদা নিজেকে পরীক্ষা করতে হবে - আমরা বাবাকে কতক্ষণ স্মরণ করে তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হচ্ছি ? বাবাকে যত স্মরণ করবে ততই সতোপ্রধান হবে। বাবা তো হলেন সর্বদা সতোপ্রধান। এখনও দুনিয়াটি পতিত দুনিয়া, পতিত ভারতই আছে। পবিত্র দুনিয়ায় পবিত্র ভারত ছিল। তোমাদের কাছে প্রদর্শনী ইত্যাদিতে বিভিন্ন প্রকারের মানুষ আসে। কেউ বলে যেমন ভোজন জরুরী তেমনই বিকারও হল ভোজন, বিকার ছাড়া বাঁচব না। এবারে এমন কথা তো নয়। সন্ন্যাসীরা পবিত্র থাকে তো তারা মরে যায় নাকি ! এমন কথা যারা বলে তাদেরকে ধরে নেওয়া হয় কোনও অজামিল সম পাপী হবে, যে এমন কথা বলে। তাদের বলা উচিত তোমরা বিকার ছাড়া মরে যাবে নাকি যে ভোজনের সঙ্গে বিকারের তুলনা করছো ! স্বর্গে যারা আসবে তারা হবে সতোপ্রধান। পরে আসে সতো, রজো, তমো, তাইনা। যারা পরে আসে সেই আত্মারা তো নির্বিকারী দুনিয়া দেখেনি। তো সেই আত্মারা এমন কথা বলবে আমরা থাকতে পারব না। যারা সূর্যবংশী হবে তড়িৎ বেগে তাদের বুদ্ধিতে আসবে - কথাটি তো সত্য। যথাযথভাবে স্বর্গে বিকারের নাম-চিহ্ন ছিল না। বিভিন্ন রকমের মানুষ বিভিন্ন রকমের কথা বলে। তোমরা বুঝতে পারো কে কে ফুলে পরিণত হবে ? কেউ তো কাঁটাই থেকে যায়। স্বর্গের নাম হল ফুলের বাগান। এই হল কাঁটার জঙ্গল। কাঁটাও তো অনেক রকমের হয় তাইনা। এখন তোমরা জানো আমরা ফুলে পরিণত হচ্ছি। সঠিকভাবে এই লক্ষ্মী-নারায়ণ হলেন সদাকালের গোলাপ ফুল। তাঁদের বলা হবে ফুলের রাজা (কিং অফ ফ্লাওয়ার্স)। দিব্য ফুলের রাজ্য হয় তাইনা। তারাও নিশ্চয়ই পুরুষার্থ করে থাকবে। পড়াশোনা করেই হবে তাইনা।

তোমরা জানো এখন আমরা হলাম ঈশ্বরীয় পরিবারের। প্রথমে তো ঈশ্বরকে জানতাম না। বাবা এসে এই পরিবার গঠন করেছেন। বাবা সর্বপ্রথম স্ত্রীকে অ্যাডপ্ট করেন তারপরে তার দ্বারা সন্তান রচনা করেন। বাবা এনাকেও (ব্রহ্মাবাবাকে) অ্যাডপ্ট করেছেন তারপর এনার দ্বারা সন্তানদের রচনা করেছেন। এরা সবাই হল ব্রহ্মাকুমার -কুমারী তাইনা। এই সম্পর্ক প্রবৃত্তি মার্গের (গৃহস্থ আশ্রম) হয়ে যায়। সন্ন্যাসীদের হল নিবৃত্তি মার্গ। তাতে কেউ মাম্মা-বাবা বলে না। এখানে তোমরা মাম্মা-বাবা বলো। অন্য সব সৎসঙ্গ গুলি হল নিবৃত্তি মার্গের, এই একমাত্র বাবা-ই আছেন যাঁকে মাতা-পিতা বলে সম্বোধন করা হয়। বাবা বসে বোঝান, ভারতে পবিত্র প্রবৃত্তি মার্গ ছিল, এখন অপবিত্র হয়েছে। আমি পুনরায় সেই প্রবৃত্তি মার্গের স্থাপনা করি। তোমরা জানো আমাদের ধর্ম হল খুব সুখ প্রদানকারী। তাই আমরা পুরানো ধর্মের মানুষদের সঙ্গ কেন করব ! তোমরা স্বর্গে কত সুখী থাকো। হীরা-জহরাতের মহল থাকে। এখানে যদিও আমেরিকা রাশিয়া ইত্যাদি হল বিত্তশালী কিন্তু স্বর্গের মতন সুখ থাকতে পারেনা। সোনার ইঁট দিয়ে কেউ মহল বানাতে পারে না। সোনার মহল থাকেই সত্যযুগে (স্বর্গে )। এখানে সোনা আছেই কোথায় । স্বর্গে তো প্রতিটি জায়গায় হীরা - জহরাত লেগে থাকবে। এখানে তো হীরার দাম অনেক। এইসব মাটিতে মিশে যাবে। বাবা বুঝিয়েছেন নতুন দুনিয়ায় সব খনি ভর্তি হয়ে যাবে। এখন সব খালি হতে থাকবে। দেখানো হয় সাগর, হীরে- জহরাতের থালা প্রদান করেছে। স্বর্গে তো হীরে- জহরাত তোমরা অঢেল প্রাপ্ত করবে। সাগরকেও দেবতা ভাবে। তোমরা বুঝেছ বাবা তো হলেন জ্ঞানের সাগর। সর্বদা যেন এই উল্লাস থাকে যে জ্ঞান সাগর পিতা আমাদের প্রতিদিন জ্ঞান রত্নের, জহরাতের থালা ভরে দেন। যদিও ওই হল জলের সাগর। বাচ্চারা, বাবা তোমাদের জ্ঞান রত্ন দেন, যা তোমরা বুদ্ধিতে ভরে রাখো। যত যোগে থাকবে বুদ্ধি ততই কাঞ্চন হতে থাকবে। এই অবিনাশী জ্ঞান রত্নই তোমরা সঙ্গে নিয়ে যাও। বাবার স্মরণ এবং এই জ্ঞানই হল মুখ্য।

বাচ্চারা তোমাদের মনে অনেক আনন্দ উল্লাস থাকা উচিত। বাবাও হলেন গুপ্ত, তোমরাও হলে গুপ্ত সৈন্য। অহিংসক (নন ভায়োলেন্স), গুপ্ত সৈন্য (আন নোন ওয়ারীয়র্স) বলা হয় কিনা, অমুক হল খুব বীর যোদ্ধা। কিন্তু নাম-চিহ্ন জানা নেই। এমন তো হতে পারেনা। গভর্নমেন্টের কাছে এক একজনের নাম চিহ্ন থাকে। আন নোন ওয়ারিয়ার্স, নন ভায়োলেন্স এইসব নাম হল তোমাদের। সর্ব প্রথম হিংসা হল এই বিকার, যা আদি-মধ্য-অন্ত দুঃখ দেয় তাই বলা হয় - হে পতিত-পাবন, আমরা পতিত, আমাদের এসে পবিত্র করো। পবিত্র দুনিয়ায় একজনও পতিত থাকে না। এইসব তোমরা বাচ্চারা জানো, এখন আমরা ভগবানের সন্তান হয়েছি, পিতার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে, কিন্তু মায়া কিছু কম নয়। মায়ার একটি চড় এমন লাগে যে একদম নর্দমায় ফেলে দেয়। যে বিকার গ্রস্ত হয় তার বুদ্ধি একদম নষ্ট হয়ে যায়। বাবা কত বোঝান - নিজেদের মধ্যে দেহধারীদের সঙ্গে কখনও প্রীতি রাখবে না। তোমাদের প্রীতি ভালোবাসা রাখতে হবে একমাত্র বিচিত্র বাবার সঙ্গে। বাবা কত বোঝান তবুও বোঝে না। ভাগ্যে নেই তাই একে অপরের দেহের আকর্ষণে জড়িয়ে যায়। বাবা কত বোঝান - তোমরাও হলে রূপ। আত্মা ও পরমাত্মার রূপ তো একই। আত্মা ছোট-বড় হয় না। আত্মা হল অবিনাশী। ড্রামাতে প্রত্যেকের পার্ট নির্দিষ্ট আছে। এখন অসংখ্য মানুষ আছে, তারপরে ৯-১০ লক্ষ থাকবে। সত্যযুগের আদি কালে বৃক্ষ খুব ছোট থাকে। প্রলয় তো কখনও হয় না। তোমরা জানো সব মানুষদের আত্মা মূল বতনে বাস করে। তাদেরও বৃক্ষ আছে। বীজ বপন হয়, তখন সম্পূর্ণ গাছ বের হয় তাইনা। সর্ব প্রথম দুটি পাতা বের হয়। এই বৃক্ষ টি হল অসীম জগতের বৃক্ষ, বিশ্ব গোলক নিয়ে বোঝানো কত সহজ, বিচার করো। এখন হল কলিযুগ। সত্যযুগে একটি ধর্ম ছিল। সুতরাং মানুষের সংখ্যাও কম ছিল। এখন অসংখ্য মানুষ, অনেক ধর্ম আছে। এত সংখ্যা প্রথমে ছিল না তারা পরে কোথায় যাবে ? সব আত্মারা-ই পরমধামে চলে যায়। তোমাদের বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে। যেমন বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর তেমনই তোমাকেও তৈরি করেন। তোমরা পড়াশোনা করে এই পদমর্যাদা প্রাপ্ত কর। বাবা হলেন স্বর্গের রচয়িতা তাই স্বর্গ রূপী অবিনাশী উত্তরাধিকার ভারতবাসীদেরই প্রদান করেন। বাকি সবাইকে পরমধাম ফিরিয়ে নিয়ে যান। বাবা বলেন আমি এসেছি বাচ্চাদের পড়াতে। যত পুরুষার্থ করবে তত পদমর্যাদা লাভ করবে। যত শ্রীমৎ অনুযায়ী চলবে তত শ্রেষ্ঠ হবে। সমস্ত কিছু নির্ভর করছে পুরুষার্থের উপরে। মাম্মা - বাবার সিংহাসনে বিরাজিত হওয়ার জন্য পুরোপুরি ফলো করো ফাদার মাদারকে। সিংহাসনে বিরাজিত হতে তাদের আচরণ অনুযায়ী চলো। অন্যদেরও নিজের মতন বানাও। বাবা অনেক প্রকারের যুক্তি বলে দেন। একটি ব্যাজের উপরেই তোমরা কাউকে ভালো করে বসে বোঝাও। পুরুষোত্তম মাস হলে বাবা বলেন চিত্র ফ্রীতে দিয়ে দাও। বাবা উপহার দেন। টাকা পয়সা হাতে এলে নিশ্চয়ই বুঝবে, বাবারও খরচা আছে, তাইনা ? তখন তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দেবে। ঘর তো একটাই, তাইনা। এই ট্রান্সলাইটের চিত্রের প্রদর্শনী হলে অনেকে দেখতে আসবে। পুণ্যের কাজ তাইনা। মানুষকে কাঁটা থেকে ফুলে, পাপ আত্মা থেকে পুণ্য আত্মায় পরিণত করা, একে বিহঙ্গ মার্গ বলা হয়। প্রদর্শনীতে স্টল লাগালে অনেকে আসে। খরচা কম হয়। তোমরা এখানে আসো বাবার কাছে স্বর্গের রাজত্ব নিতে। সুতরাং প্রদর্শনীতেও আসবে, স্বর্গের রাজত্ব কিনতে। এটা তো হল হাট তাইনা।

বাবা বলেন এই জ্ঞানের দ্বারা তোমাদের অনেক সুখ প্রাপ্ত হবে, তাই ভালো রীতি পড়াশোনা করে, পুরুষার্থ করে ফুল পাস হওয়া উচিত। বাবা নিজে বসে নিজের এবং রচনার আদি-মধ্য-অন্তের পরিচয় দেন, অন্য কেউ দিতে পারে না। এখন বাবার সাহায্যে তোমরা ত্রিকালদর্শী হও। বাবা বলেন আমার প্রকৃত রূপ প্রকৃত পরিচয় যথার্থ রীতি কেউ জানেনা। তোমাদের মধ্যেও নম্বর অনুসারে আছে। যদি যথার্থ রীতি জানতো তাহলে বাবাকে ত্যাগ করে যেত না। এই হল পড়াশোনা। ভগবান বসে পড়ান। তিনি বলেন আমি হলাম তোমাদের আজ্ঞাকারী সেবক (ওবিডিয়েন্ট সার্ভেন্ট)। পিতা ও শিক্ষক দুইজনেই হয় আজ্ঞাকারী সেবক। ড্রামায় আমাদের এমনই পার্ট আছে পরে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে যাব।শ্রীমৎ অনুযায়ী চলে পাস উইথ অনার হওয়া উচিত। পড়াশোনা তো খুবই সহজ। সবচেয়ে বেশি বয়স তো তার যিনি পড়াচ্ছেন। শিববাবা বলেন আমি বৃদ্ধ নই। আত্মা কখনো বৃদ্ধ হয় না। যদিও পাথর বুদ্ধি হয়। আমার তো হল পরশ বুদ্ধি, তবেই তো তোমাদের পরশ বুদ্ধিতে পরিণত করতে আসি। কল্পে-কল্পে আসি। অসংখ্য বার তোমাদের পড়াই তবুও ভুলে যাবে। সত্যযুগে এই জ্ঞানের প্রয়োজন থাকে না। বাবা কত ভালো রীতি বোঝান। এমন বাবাকেও ত্যাগ করে চলে যায় তাই বলা হয় মহান মূর্খ দেখতে হলে এখানে এসে দেখো। এমন পিতা যাঁর কাছে স্বর্গ প্রাপ্তি হয় তাঁকেও ত্যাগ করে যায়। বাবা বলেন তোমরা আমার মতানুযায়ী চলবে তো অমরলোকে বিশ্বের মহারাজা-মহারানী হবে। এইটি হল মৃত্যুলোক। বাচ্চারা জানে আমরা সেই পূজ্য দেবী-দেবতা ছিলাম। এখন আমরা কি রূপে পরিণত হয়েছি ? পতিত ভিখারী। এখন আবার সেই প্রিন্স হতে চলেছি। সবার একরস পুরুষার্থ হওয়া সম্ভব নয়। কেউ ভেঙে পড়ে, কেউ ট্রেটর হয়ে যায়। এমন ট্রেটর দের সঙ্গে কথা বলা উচিত নয়। জ্ঞানের কথা ছাড়া অন্য কিছু জিজ্ঞাসা করলে বুঝবে শয়তানি। সু সঙ্গ দ্বারা উদ্ধার, কু-সঙ্গে পতন। যারা জ্ঞানে তীক্ষ্ন হয় বাবার হৃদয়ে স্থান পায়, তাদের সঙ্গ করো। তারা তোমাদের জ্ঞানের মিষ্টি মিষ্টি কথা শোনাবে। আচ্ছা।

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি সার্ভিসেবল, সৎ, আজ্ঞাকারী বাচ্চাদেরকে মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*

*১ )* যিনি হলেন দেহহীন, বিচিত্র, সেই পিতার সঙ্গে ভালোবাসা রাখতে হবে। কোনো দেহধারীর নাম-রূপে বুদ্ধি জড়াবে না। যাতে মায়ার চড় না লাগে, সেইরূপ সাবধানে থাকতে হবে।

*২ )* জ্ঞানের কথা ছাড়া কেউ অন্য কিছু যদি শোনায় তার সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। ফুল পাশ করার জন্য পুরুষার্থ করতে হবে। কাঁটাদের ফুলে পরিণত করার সেবা করতে হবে।

*বরদানঃ-*

কারণের নিবারণ করে চিন্তা এবং ভয় মুক্ত মাস্টার সর্বশক্তিমান ভব*

ব্যাখা: বর্তমান সময়ে অল্পকালের সুখের চিন্তা ও ভয় এই দুটি জিনিসই তো আছে। যেখানে চিন্তা আছে সেখানে নিশ্চিন্ত ভাব থাকতে পারেনা। যেখানে ভয় আছে সেখানে শান্তি থাকতে পারেনা। সুখের সাথে এই দুঃখ অশান্তির কারণ তো আছেই। কিন্তু তোমরা হলে সর্ব শক্তির খাজানায় সম্পন্ন মাস্টার সর্ব শক্তিমান বাচ্চারা দুঃখের কারণ গুলি নিবারণ করতে সক্ষম, প্রতিটি সমস্যার সমাধান স্বরূপ, তাই চিন্তা ও ভয় মুক্ত থাকো। যেকোনও সমস্যা তোমাদের সামনে খেলা রূপে আসে, ভয় দেখাতে নয়।

*স্লোগানঃ-*

নিজের বৃত্তি শ্রেষ্ঠ বানাও, তাহলে প্রবৃত্তি স্বতঃতই শ্রেষ্ঠ হয়ে যাবে ।*