12.10.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - মহাবীর হও, মায়ার তুফানের সঙ্গে লড়াই করার পরিবর্তে অচল - অটল হও"

প্রশ্নঃ -
ব্রহ্মা বাবার সামনে অনেক সমস্যা আসা সত্ত্বেও তিনি কখনো ভেঙ্গে পড়েননি -- কেন ?

উত্তরঃ -
বাবার এই নেশা ছিলো যে, আমাকে বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে । এ তো সবই পূর্ব কল্পের মতোই হচ্ছে, কিছুই নতুন নয় । বাবাই তো সবথেকে অধিক গালি খেয়েছিলেন । এরপর কৃষ্ণকেও মানুষ গালি দেয় । আমাদেরও যদি গালি খেতে হয়, তাহলে কি এমন বড় কথা । দুনিয়া তো আমাদের কথা জানেই না, তাহলে অবশ্যই তারা গালি দেবে, তাই কোনো বিষয়েই তিনি ভেঙ্গে পড়েন নি । এমনই তোমরা বাবাকে অনুসরণ করো ।

গীতঃ-
ভোলানাথের মতো অনুপম আর কেউ নেই....

ওম্ শান্তি ।
এ হলো ভক্তিমার্গের মানুষদের গান । জ্ঞান মার্গে গীত ইত্যাদি গাওয়া হয় না, না গান বানানো হয়, আর না তার প্রয়োজন আছে, কেননা এমন মহিমা আছে যে... বাবার থেকে সেকেণ্ডে জীবনমুক্তির উত্তরাধিকার পাওয়া যায় । এতে গীত ইত্যাদির কোনো কথাই নেই৷ তোমরা জানো যে, আমরা অসীম জগতের বাবার কাছ থেকে অসীমের উত্তরাধিকার পাই । ভক্তিমার্গের যে নিয়ম - রীতি আছে, তা এখানে হতে পারে না । বাচ্চারা অনেক কবিতা লেখে, তাও অন্যদের শোনানোর জন্য । তাও তোমরা যতক্ষণ না বোঝাবে, ততক্ষণ কেউ বুঝতে পারবে না । এখন তোমরা বাচ্চারা বাবাকে পেয়েছো, তাই তোমাদের খুশীর পারদ চড়া উচিত । বাবা তোমাদের ৮৪ জন্মের চক্রের জ্ঞানও শুনিয়েছেন । তোমাদের খুশী হওয়া উচিত যে, এখন আমরা স্বদর্শন চক্রধারী হয়েছি । বাবার থেকে এখন বিষ্ণুপুরীর মালিক হচ্ছি । নিশ্চয়বুদ্ধিই বিজয়ন্তী হয় । যাদের নিশ্চয়তা আছে তারা সত্যযুগে যাবেই । তাই বাচ্চাদের সর্বদা খুশীতে থাকা উচিত, তোমরা বাবাকে অনুসরণ করো । বাচ্চারা জানে যে, নিরাকার বাবা যখন থেকে এই তনে প্রবেশ করেছেন, তখন এনার সঙ্গেও নানা হাঙ্গামা হয়েছে । ভাইদের ঝগড়া, শহরে ঝগড়া, এমনকি সম্পূর্ণ সিন্ধুতেও ঝগড়া চলেছিল । বাচ্চারা বড় হলে বলবে, শীঘ্র বিয়ে করো । বিয়ে ছাড়া কিভাবে সংসার চলবে । বাবা গীতা পাঠ মিস করতেন না, যখন জানতে পারলেন যে, গীতার ভগবান শিব, তখন গীতা পাঠও ত্যাগ করলেন । তখন নেশা লেগে গেলো যে, আমি তো বিশ্বের মালিক হবো । এ তো শিব ভগবান উবাচঃ, তখন ওই গীতা পাঠ ছেড়ে দিলেন, তারপর পবিত্রতার উপরও অনেক হাঙ্গামা হয়েছিলো । ভাই, কাকা, মামা ইত্যাদি অনেক ছিলো । এতে তো বাহাদুরী চাই, তাই না । তোমরা হলেই মহাবীর, মহাবীরনী । তোমাদের ওই এক ছাড়া আর কারোর পরোয়া নেই৷ পুরুষ হলো রচয়িতা । রচয়িতা যদি নিজে পবিত্র হয়, তাহলে রচনাকেও পবিত্র হতে হবে । পবিত্র হংস আর অপবিত্র বক কিভাবে একত্রে থাকতে পারে । ক্রিয়েটর তো চট করে হুকুম করবে যে, আমার মতে চলতে হলে চলো, না হলে বেড়িয়ে যাও । তোমরা জানো যে, তাঁর লৌকিক কন্যা বিয়ে করেছিলো, কিন্তু সে যখন জ্ঞান পেয়েছিলো, তখন বলেছিলো, বাহ । বাবা বলেন, তোমরা পবিত্র হও, তাহলে আমরা কেন হবো না । পতিকে উত্তর দিয়ে দিয়েছিলো যে, আমি বিষ দেবো না । ব্যস, এই বিষয়েই অনেকেরই ঝগড়া চলেছে । বড় বড় ঘর থেকে কন্যারা বেড়িয়ে এসেছিলো, কারোর পরোয়া করে নি । যার ভাগ্যে নেই, সে বুঝতেও পারবে না । পবিত্র থাকতে হলে থাকো, না হলে নিজের প্রবন্ধ করো । এই সাহসও তো থাকা চাই, তাই না । বাবার সামনে কতো সমস্যা, হাঙ্গামা এসেছিলো । বাবাকে কখনো ভেঙ্গে যেতে দেখেছো ! আমেরিকা পর্যন্ত খবরের কাগজে বেড়িয়ে গিয়েছিলো । কিছুই নতুন নয় । এ তো পূর্ব কল্পের মতো হয়ে আসছে, এতে ভয়ের কি আছে । আমাদের তো বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার নিতে হবে । নিজের রচনাকে বাঁচতে হবে । বাবা জানেন যে, সমগ্র সৃষ্টি এই সময় পতিত । আমাকেই সবাইকে পবিত্র বানাতে হবে । বাবাকেই সবাই বলে, হে পতিত - পাবন, উদ্ধারকর্তা, এসো । তাই তাঁরই দয়া আসে । বাবা তো দয়ালু, তাই না । বাবা তাই বোঝান - বাচ্চারা, কোনো বিষয়েই ভয় পেও না । ভয় পেলে এতো উঁচু পদ প্রাপ্ত করতে পারবে না । মাতাদের উপরই অত্যাচার হয় । এর নমুনাও আছে । দ্রৌপদীকে নগ্ন করেছে । বাবা তোমাদের ২১ জন্মের জন্য নগ্ন হওয়ার হাত থেকে বাঁচান । দুনিয়া এইসব কথা জানে না । সদগতিদাতা তো আমিই, তাই না । যতক্ষণ না মানুষ দুর্গতি প্রাপ্ত করে, ততক্ষণ আমি কিভাবে এসে সদগতি প্রাপ্ত করাবো । এই সৃষ্টিও পতিত - তমোপ্রধান হতে হবে । প্রতিটি জিনিস অবশ্যই নতুন থেকে পুরানো হয় । পুরানো ঘরকে ত্যাগ করতেই হয় । নতুন দুনিয়া হলো গোল্ডেন এজ আর পুরানো দুনিয়া হলো আয়রন এজ । সর্বদা তো নতুন থাকতে পারে না । বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, এ হলো সৃষ্টিচক্র । আবার নতুন করে দেবী - দেবতার রাজ্য স্থাপন হচ্ছে । বাবা বলেন, আমি আবার নতুন করে তোমাদের গীতা জ্ঞান শোনাই । এখানে রাবণ রাজ্যে দুঃখই আছে । রামরাজ্য কাকে বলা হয় এও কেউ জানে না, আর বোঝেও না । বাবা বলেন, আমি স্বর্গ অথবা রামরাজ্যের স্থাপনা করতে এসেছি । বাচ্চারা, তোমরা অনেকবার রাজ্য প্রাপ্ত করেছো আবার হারিয়েছো । একথা সবার বুদ্ধিতে আছে । ২১ জন্ম সত্যযুগে থাকে, একে বলা হয় ২১ পিঁড়ি অর্থাৎ যখন বৃদ্ধ হয়, তখনই শরীর ত্যাগ করে । কখনোই অকালে মৃত্যু হয় না । এখন তোমরা ত্রিকালদর্শী হয়ে গেছো । তোমরা এখন জানো, আমরা জন্ম - জন্মান্তর ধরে ভক্তি করি । রাবণ রাজ্যেরও দেখো কতো আড়ম্বর । এ হলো শেষের দিকের আড়ম্বর । রামরাজ্য সত্যযুগে হবে --- ওখানে এইসব বিমান, ইত্যাদি সব ছিলো, সেইসব আবার তলিয়ে গেছিলো । আবার এই সময় বের হয়েছে । আবার এইসব অনেকে শিখছে । যারা শিখছে তারা এই সংস্কার নিয়ে যাবে । তারাই এসে বিমান তৈরী করবে । এইসব তোমাদের ভবিষ্যতে সুখ দান করবে । এই বিমান ইত্যাদি ভারতবাসীরাও বানাতে পারে । নতুন কোনো কথা নয় । বুদ্ধি তো আছে, তাই না । এই সায়েন্স তোমাদের আবার কাজে আসবে । এখন এই সায়েন্স তোমাদের দুঃখের জন্য, আবার ওখানে তা সুখের জন্য হবে । ওখানে তো প্রতিটি জিনিসই নতুন হবে । এখন তো নতুন দুনিয়ার স্থাপনা হচ্ছে । বাবাই নতুন দুনিয়ার রাজধানী স্থাপনা করছেন । বাচ্চাদের তাই মহাবীর হতে হবে । দুনিয়াতে তো একথা কেউই জানে না যে, ভগবান এসেছেন ।

বাবা বলেন - গৃহস্থ জীবনে থেকে কমল পুষ্প সমান পবিত্র থাকো । যদিও তোমাদের অনেকেই গালি দেবে, তবুও তোমাদের ভয় পাওয়ার কোনো কথা নেই৷ এনাকেও অনেক গালি দেওয়া হয়েছে । কৃষ্ণও গালি খেয়েছিলো, এমন দেখানো হয় । এখন কৃষ্ণ তো গালি খেতেই পারে না । গালি তো কলিযুগে দেওয়া হয় তোমাদের যে রূপই আছে, আবার পরের কল্পে এই সময় এমনই হবে । মাঝে এমন হবে না । জন্মের পর জন্ম চিত্র এবং চরিত্র পরিবর্তন হতে থাকে । এক আত্মা ৮৪ জন্মে একরকম চিত্র পেতে পারে না । আত্মা সতঃ, রজঃ এবং তমঃতে আসতে থাকে আর চিত্রও পরিবর্তন হতে থাকে । এই ড্রামা বানানোই আছে । ৮৪ জন্মে যে যে চিত্র এবং চরিত্র জন্ম নিয়েছে, তারাই আবার নেবে । এখন তোমরা জানো এঁদের চিত্রের পরিবর্তন হয়ে পরের জন্মে এঁরাই লক্ষ্মী - নারায়ণ হবে । তোমাদের বুদ্ধির তালা এখন খুলে গিয়েছে । এ হলো এখন নতুন কথা । বাবাও নতুন আর কথাও নতুন । এই বিষয় কেউ শীঘ্র বুঝতে পারবে না । ভাগ্যে থাকলে তবেই কিছু বুঝতে পারবে । মহাবীররা কখনো তুফান দেখে ভয় পায় না । সেই অবস্থা পরের দিকে হবে, তাই মহিমা আছে যে, অতীন্দ্রিয় সুখের কথা জিজ্ঞেস করতে হলে গোপ - গোপিনীদের জিজ্ঞেস করো । বাবা এসেছেনই তোমাদের মতো বাচ্চাদের স্বর্গের উপযুক্ত বানাতে । পূর্ব কল্পের মতো এই নরকের বিনাশ তো হতেই হবে । সত্যযুগে তো একই ধর্ম থাকবে । মানুষ চায়ও একত্ব আসুক । এক ধর্ম হওয়া উচিত । এও মানুষ জানে না যে, রাম রাজ্য আর রাবণ রাজ্য আলাদা - আলাদা । এখানে বিকার ছাড়া জন্ম হয় না । বিকারের আবর্জনা আছে তো । এখন বাবার প্রতি নিশ্চয়তা থাকলে শ্রীমৎ অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে চলতে হবে, তাই না । প্রত্যেকেরই নাড়ী দেখা হয় । সেই অনুসারে রায় দেওয়া হয় । বাবাও বাচ্চাদের বলেন, যদি বিয়ে করার ইচ্ছা হয়, তাহলে গিয়ে করো । অনেক মিত্র পরিজন আছে যারা বিয়ে করিয়ে দেবে । তাই প্রত্যেকেরই নাড়ী দেখা হয় । বাবাকে জিজ্ঞেস করে - আমরা এই অবস্থায় আছি, আমরা পবিত্র থাকতে চাই, আমাদের সম্বন্ধী আমাদের ঘর থেকে বের করতে চায় । এখন কি করবো ? একথা জিজ্ঞেস করো যে পবিত্র থাকতে হবে যদি না থাকতে পারো তাহলে গিয়ে বিয়ে করো । আচ্ছা, কারোর যদি বিয়ের সম্বন্ধ হয়, তাহলে তোমরা তাদের খুশী করে দাও, এতে অসুবিধার কিছু নেই৷ কোনো যুগল যখন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তখন কনেকে বলে থাকে -- এই পতি তোমাদের গুরু । আচ্ছা, সেই সময় তোমরা ওদের দিয়ে লিখিয়ে নিও । তুমি তো মানো যে, আমি তোমার গুরু, ঈশ্বর, তাহলে লেখো । আচ্ছা আমি এখন তোমাকে হুকুম দিচ্ছি, পবিত্র থাকতে হবে । এতে তো সাহস চাই, তাই না । লক্ষ্য অনেক বড় । দুইজন একত্রে কিভাবে থাকে, এ সবাইকে দেখাতে হবে । প্রাপ্তি অনেক বড় । আগুন তখনই লাগে যখন প্রাপ্তির খবর জানা থাকে না । বাবা বলেন - যখন এতো বড় প্রাপ্তি হয়, তখন এক জন্ম পবিত্র থাকো, এ আর কি এমন বড় কথা । আমি তোমাদের পতি, ঈশ্বর । আমার আজ্ঞা অনুসারে পবিত্র থাকতে হবে । বাবা যুক্তি বলে দেন । ভারতে এই নিয়ম, স্ত্রীকে বলে দেয়, তোমার পতি ঈশ্বর, তার আজ্ঞা অনুসারে চলতে হবে । পতির পা টিপে দিতে হবে কেননা মনে করে, লক্ষ্মী নারায়ণের পা টিপে দিয়েছিলেন । এই অভ্যাস কোথা থেকে এসেছে ? এই মিথ্যা চিত্র থেকে । সত্যযুগে তো এমন কথা থাকে না । নারায়ণ কি কখনো পরিশ্রান্ত হন যে লক্ষ্মী তাঁর পা টিপে দেবেন ? পরিশ্রমের কোনো কথাই থাকতে পারে না । এ তো দুঃখের কথা হয়ে গেলো । ওখানে দুঃখ কিভাবে আসবে । তাই কতো মিথ্যা কথা লিখে দিয়েছে । বাবার ছোটবেলা থেকেই বৈরাগ্য ছিলো, তাই তিনি ভক্তি করতেন ।

বাবা বাচ্চাদের খুব ভালো যুক্তি বলে দেন । কোনো বাচ্চাকে তার সম্বন্ধী বিরক্ত করলে, বাবা বলেন -- আচ্ছা, বিয়ে করে নাও । স্ত্রী তোমার হয়ে গেলো । এরপর কেউ কিছুই বলতে পারবে না । নিজেরা মিলেমিশে পবিত্র থাকো, সঙ্গী তো হয়ে গেলে । বিলেতে বৃদ্ধ হয়ে গেলে দেখাশোনার জন্য সঙ্গী রেখে দেয় । সিভিল ম্যারেজ করে । বিকারে যাবে না । তোমরা এখন জানো, আমরা এক বাবার সন্তান, নিজেদের মধ্যে ভাই - বোন হয়ে গেলাম । দাদুর কাছ থেকে তোমরা উত্তরাধিকার নাও । বাবাকে পতিত দুনিয়াতেই ডেকে থাকে, হে পতিত পাবন, সব সীতাদের রাম । মানুষ রাম - রাম জপ করে, সীতাকে তো স্মরণ করেই না । তাঁর থেকে বড় তো লক্ষ্মী কিন্তু স্মরণ তো এক বাবাকেই করে । লক্ষ্মী - নারায়ণকে তবুও তো জানে কিন্তু শিবকে কেউই জানে না । আত্মা বিন্দু, আত্মার বাবাও তো বিন্দু হবে, তাই না । আত্মার মধ্যে সমস্ত জ্ঞান আছে । তাঁকে বলা হয় জ্ঞানের সাগর । তোমরা আত্মারাও জ্ঞানের সাগর হও । জ্ঞানের সাগর বসে তোমাদের মতো আত্মাদের বোঝাচ্ছেন । আত্মা হলো চৈতন্য । তোমাদের আত্মা জ্ঞানের সাগর তৈরী হচ্ছে । তোমাদের মধ্যে সম্পূর্ণ সৃষ্টির আদি - মধ্য এবং অন্তের জ্ঞান আছে । মিষ্টি বাচ্চাদের সাহস রাখা উচিত । আমাদের তো বাবার শ্রীমতে চলা উচিত, তাই না । অসীম জগতের পিতা যখন অসীম জগতের সন্তানদের স্বর্গের মালিক বানান, তখন বাবা বলেন, তোমরাও নিজের রচনাকে নিজের হাতে রাখো । সন্তান যদি কথা না শোনে, তাহলে সে সন্তান নয় । সে তো কুপুত্র হয়ে গেলো । আজ্ঞাকারী, আদেশ অনুসারে চলা বাচ্চা হলে বাবার উত্তরাধিকারের অধিকারী হতে পারে । অসীম এই ব্রহ্মাণ্ডের পিতাও বলেন, আমার শ্রীমতে চললে তোমরা এমন শ্রেষ্ঠ হতে পারবে । না হলে প্রজাতে চলে যাবে । বাবা তোমাদের নর থেকে নারায়ণ বানাতে এসেছেন । এই হলো প্রকৃত সত্যনারায়ণের কথা । তোমরা এখানে রাজত্ব প্রাপ্ত করতে এসেছো । এখন মাম্মা - বাবা, রাজা - রানী হচ্ছেন, তোমরাও সাহস করো । বাবা তো অবশ্যই তোমাদের নিজের সমান বানাবে । কেবল প্রজা হওয়াতেই খুশী হওয়া উচিত নয় । তোমাদের পুরুষার্থ করতে হবে -- আমরা বাবার থেকে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নেবো, বলিহারি যাবো । তোমরা যদি তাঁকে ওয়ারিস বানাও, তিনিও তোমাদের ২১ জন্মের জন্য উত্তরাধিকার প্রদান করবেন । বাবাও বাচ্চাদের কাছে বলিহারি যান । বাচ্চারা বলে, বাবা এই তন - মন - ধন সব তোমার । তুমি যেমন বাবাও তেমনই বাচ্চাও । ত্বমেব মাতাশ্চ পিতা ত্বমেব । এক বাবার মহিমা কতো বড় । দুনিয়াতে এই কথা কেউই জানে না । সম্পূর্ণ কথা এই ভারতেরই । বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, এ হলো সেই পাঁচ হাজার বছর পূর্বের লড়াই । এখন স্বর্গের স্থাপনা হচ্ছে । বাচ্চাদের তাই সর্বদা খুব খুশীতে থাকা উচিত । ভগবান তোমাদের দত্তক নিয়েছেন, তাই তোমাদের খুশী হওয়া উচিত । বাচ্চারা, বাবা এখন তোমাদের শৃঙ্গার করছেন । তিনি পড়ানও - অসীম জগতের পিতা হলেন জ্ঞানের সাগর । তিনি তোমাদের সম্পূর্ণ সৃষ্টির আদি - মধ্য এবং অন্তের রহস্য বোঝান । যে বাবাকেই জানে না, সে হলো নাস্তিক । তোমরা বাবা আর রচনাকে জানো, তাই তোমরা হলে আস্তিক । লক্ষ্মী - নারায়ণ আস্তিক নাকি নাস্তিক ? তোমরা কি বলবে ? তোমরা নিজেরাই বলো সত্যযুগে পরমাত্মাকে কেউ স্মরণই করে না । ওখানে সুখ থাকে, সুখে কেউই পরমাত্মার স্মরণ করে না, কেননা পরমাত্মাকে জানেই না । এই সময় তোমরা আস্তিক হয়ে উত্তরাধিকার পাচ্ছো । তারপর ওখানে তোমরা স্মরণই করবে না । এখানে স্মরণ করে কিন্তু ওনাকে জানে না, তাই নাস্তিক বলা হয় । ওখানে জানেও না, তাই স্মরণও করে না । ওরা এও জানে না যে, এই উত্তরাধিকার আমরা শিব বাবার থেকে পেয়েছি, কিন্তু ওদের নাস্তিক বলা হবে না কারণ তারা পবিত্র । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) শ্রীমতে চলার সম্পূর্ণ সাহস রাখতে হবে । কোনো বিষয়ে ভয় পাবে না বা অখুশি হবে না ।

২) নিজের রচনাকে নিজের হাতে রাখতে হবে । তাদেরকে বিকার থেকে বাঁচাতে হবে । পবিত্র থাকার রায় দিতে হবে ।

বরদান:-
এই শরীরকে ঈশ্বরীয় সেবার সম্পদ মনে করে কার্যে লাগিয়ে নষ্টমোহ ভব

যেমন অন্য কারোর কোনো সম্পদ হলে সেই সম্পদের উপর নিজের অধিকার থাকে না, মমতাও থাকে না । এই শরীরও তেমনই ঈশ্বরীয় সেবার জন্য এক সম্পদ । এই সম্পদ আধ্যাত্মিক পিতা দিয়েছেন, তাই অবশ্যই সেই আধ্যাত্মিক পিতার স্মরণ থাকবে । সম্পদ মনে করলে আত্মিকতা আসবে, আপন মনে করার মমতা থাকবে না । এই হলো নিরন্তর যোগী, নষ্টমোহ হওয়ার সহজ উপায় । তাই এখন এই আধ্যাত্মিকতার স্থিতিকে প্রত্যক্ষ করো ।

স্লোগান:-
বাণপ্রস্থ স্থিতিতে যেতে হলে দৃষ্টি - বৃত্তিতেও পবিত্রতার আন্ডারলাইন করো ।