১৩-০১-১৯ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ ১০-০৪-৮৪ মধুবন


ঈশ্বরীয় প্রেম, ব্রাহ্মণ জীবনের আধার

আজ বাপদাদা তাঁর স্নেহী, সহযোগী, সহজযোগী আত্মাদের দেখছেন l তোমরা সকলেই যোগী আত্মা l এইভাবেই বলা হবে, এটা যোগীদের সভা l তোমরা আত্মারা সবাই যোগী, অর্থাৎ পরমাত্মার প্রিয় আত্মারা এখানে বসে আছো l যারা ঈশ্বরের প্রিয়, তারা বিশ্বপ্রিয় হয়েই যায় l 'আমরা পরমাত্ম-প্রিয়, ঈশ্বরের প্রিয়, জগৎ প্রিয় হয়েছি', সদা এই রূহানী নেশা, রূহানী গর্ব, রূহানী আত্ম-মর্যাদা তোমাদের থাকে ? শুধু এক-আধ মুহূর্তের ক্ষণিক দৃষ্টি বা নজর তাদের উপরে পড়ুক, এর জন্য ভক্তরা তৃষ্ণার্ত থাকে আর তারা এটা মহান ব্যাপার বলে মনে করে l যাই হোক, তোমরা ঈশ্বরীয় প্রেমের উপযুক্ত হয়েছো l ঈশ্বরের প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেছো l এটা কতো মহান ভাগ্য ! এখনকার সব আত্মারা ছোটবেলা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কি চায় ? অবোধ শিশুও তার জীবনে ভালোবাসা চায় l অর্থ চায় পরে, কিন্তু প্রথমে তারা ভালোবাসাই চায় l যদি তাদের ভালোবাসা না থাকে, তারা রসহীন নিরাশাময় জীবনের অনুভব করে l যতোই হোক, তোমরা আত্মারা পরমাত্ম-প্রেম লাভ করেছো, পরমাত্মার প্রিয় হয়েছো, এর থেকেও বড় কোন কিছু আছে ? ভালোবাসা থাকলে দুনিয়া আছে, জীবন আছে l আর ভালোবাসা না থাকলে জীবন শূন্য, জগৎ শূন্য l ভালোবাসা পেয়েছো অর্থাৎ সারা বিশ্ব লাভ করেছো l এই ভালোবাসা তোমাদের শ্রেষ্ঠ ভাগ্য, এমন অনুভব করো তোমরা? এর জন্য দুনিয়া তৃষ্ণার্ত হয়ে আছে l তারা সবাই একফোঁটার পিয়াসী আর তোমরা সব বাচ্চাদের এই পরমাত্ম-ভালোবাসা প্রপার্টি l এই ঈশ্বরীয় প্রেমে পালিত হচ্ছ তোমরা অর্থাৎ ব্রাহ্মণ জীবনে তোমরা অগ্রচালিত হও l এমন অনুভব করো তোমরা ? ভালোবাসার সাগরে ডুবে (লাভলীন ) থাকো ? নাকি শুধু শোনো বা জানো এই সম্পর্কে ? অর্থাৎ সাগরতীরে দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকো আর লক্ষ্য করতে থাকো l শুধু শোনা অথবা জানা, এর অর্থ তোমরা তীরে দাঁড়িয়ে আছো l সত্য বলে স্বীকার করা আর সমাহিত হওয়া, এ হলো ভালোবাসার সাগরে ডুবে যাওয়া অর্থাৎ লাভলীন হওয়া l ঈশ্বরের স্নেহাস্পদ হওয়ার পরেও যদি সাগরে সমাহিত হওয়া বা নিমগ্ন হওয়া অনুভব না করতে পারো, তবে ঈশ্বরের স্নেহাস্পদ হয়ে প্রাপ্তকারী নয়, বরং পিপাসার্ত হয়ে রয়েছো l কাছে আসার পরেও পিপাসু থেকে যাওয়া, এটাকে তোমরা কি বলবে ? শুধু ভাবো, কে তোমাকে তাঁর আপন বানিয়েছেন ! কার প্রিয় হয়েছো ! কার পালনায় পালিত হচ্ছ ! তাহলে কি হবে ? সদা স্নেহে ডুবে থাকার কারণে কোনোরকম অস্থিরতার প্রভাবে তোমরা প্রভাবিত হবে না l তোমরা নিজেকে সদা বিঘ্ন বিনাশক, সমাধান স্বরূপ এবং মায়াজিৎ অনুভব করবে l



তোমরা বাচ্চারা কেউ কেউ বলো, জ্ঞানের গহীন (গুহ্য ) বিষয়গুলো তোমাদের স্মরণে থাকে না l যাই হোক, একটা ব্যাপার, সেটা তো স্মরণে থাকে, 'আমি পরমাত্মার প্রিয়, পরমাত্ম-প্রেমের অধিকারী' ! এই এক স্মৃতির সাথেই তোমরা সদা সমর্থ হবে l এটা সহজ, তাই না ? এটাও যদি তোমরা ভুলে যাও, তবে গোলকধাঁধায় আটকে গেলে ! শুধু এই একটা জিনিসই তোমাদের সর্বপ্রাপ্তির অধিকারী বানায় l সুতরাং সদাসর্বদা এটাই স্মরণে রাখো, অনুভব করো যে তুমি পরমাত্ম-প্রিয়, জগতের প্রিয় l বুঝেছো তোমরা !



পরমাত্ম-প্রেমের সুযোগ্য সব বাচ্চাকে, স্নেহে সমাহিত শ্রেষ্ঠ সকল আত্মাকে, ভালোবাসার পালনার অধিকারী সব বাচ্চাকে, রূহানী গরিমায় থাকা, রূহানী নেশায় থাকা শ্রেষ্ঠ আত্মাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার l



*পার্টিদের সাথে বাপদাদার সাক্ষাৎকারঃ*



১) সবাই তোমরা সহজ যোগী আত্মা, তাই না ! সর্ব সম্বন্ধের স্মরণ তোমাদের সহজ যোগী বানায় l যখন তোমরা সম্বন্ধে থাকো, সবকিছু সহজ l 'আমি সহজযোগী আত্মা', এই স্মৃতি সকল সমস্যার সহজেই সমাপ্তি ঘটায়, কারণ সহজযোগী হওয়া অর্থাৎ সদা বাবার সঙ্গ অনুভব করা l যখন তোমাদের সাথে সর্বশক্তিমান বাবা থাকেন, যখন সর্বশক্তি তোমাদের সাথে, তখন সমস্যা সমাধান রূপে বদলে যাবে l কোনোরকম সমস্যার উদ্ভব হলে বাবার ওপরে ছেড়ে দাও, সমস্যাকে ধর্তব্যের মধ্যে রেখোনা ! এমন সম্বন্ধের অধিকারে সমস্যা সমাপ্ত হয়ে যাবে l 'আমি কি করবো' ! না ! সমস্যা যা কিছু বাবা জানে l 'আমি নির্লিপ্ত, বাবার ঘনিষ্ঠ' l তখনই সব বোঝা বাবার হয়ে যায় আর তুমি হালকা হয়ে যাও l যখন তুমি নিজে হালকা হয়ে যাও, তখন সবকিছু হালকা হয়ে যায় l বোঝার (ভার) বিষয়ে যদি সামান্যতম সঙ্কল্পও চলে, তবে তোমরা ভারযুক্ত হয়ে যাও আর অন্য সব কিছুই ভারী হয়ে যায় l অতএব, ভাবো... 'আমি হালকা, আমি নির্লিপ্ত, আর তখন সবকিছু হালকা হয়ে যাবে l এটাই বিধি l এই বিধির দ্বারাই তোমরা সাফল্য অর্জন করবে l এমনকি, পুরানো হিসেবনিকেশ চুকানোর ক্ষেত্রেও কোনো ভার অনুভব হবে না l এইরকম সাক্ষী হয়ে তোমরা সবকিছু দেখলে, তা' এমনই বোধ হবে, যেন অতীত শেষ হয়ে যাচ্ছে, আর তোমরা বর্তমানের শক্তি দিয়ে সাক্ষী হয়ে দেখছো l জমাও হচ্ছে আর চুকেও যাচ্ছে l জমার শক্তির সাথে চুকানোর ভার আর তোমাদের থাকে না l অতএব, সদা বর্তমান স্মরণে রাখো l যখন একদিক ভারী হয়, তখন আরেকদিক নিজে থেকেই হালকা হয়ে যায় l সুতরাং, বর্তমান যদি ভারী হয়, তখন অতীত হালকা হয়ে যাবে, তাই না ? বর্তমান প্রাপ্তির স্বরূপ সদা স্মৃতিতে যদি রাখো, তবে সব হালকা হয়ে যাবে l সুতরাং পুরানো হিসেব হালকা করার সাধন হলো, বর্তমানকে শক্তিশালী বানাও l যাই হোক না কেন, বর্তমান হয়ই শক্তিশালী l বর্তমানের প্রাপ্তি তোমার সামনে রাখলে সবকিছু সহজ হয়ে যাবে l অতীত শূল থেকে কাঁটায় পরিবর্তিত হয়ে যাবে l এটা কি ? এটা এমন হলো কেন ? না l এটা অতীত l অতীতের দিকে তাকিয়ে কি বা দেখার আছে ? যেখানে নিষ্ঠা আছে সেখানে বিঘ্ন ভারী বলে মনে হয় না l সেসব খেলার মতো l বর্তমানের খুশির আশীর্বাদ দ্বারা এবং রোগের প্রতিকারক (ওষুধ) দ্বারা সব হিসেবনিকেশ চুকিয়ে দাও l



*টিচারদের সাথে* :- প্রতি পদে তোমরা সদা সফলতা অনুভব করো, তাই না ! সবাই অনুভবী আত্মা, তাই না ? অনুভবই সবচেয়ে বড়ো অথরিটি l যাদের অনুভবের অথরিটি আছে তারা প্রতি পদে প্রতিটা কার্যে সর্বতোভাবে সফল হয় l সেবার নিমিত্ত হওয়ার চান্স পাওয়াও একটা বিশেষত্বের লক্ষণ l যে চান্স তোমরা লাভ করেছো, সেগুলোর সাথেই অগ্রচালিত হও l তোমরা নিমিত্ত হয়ে সদা সামনে এগিয়ে চলো এবং অন্যকেও এগিয়ে যেতে সমর্থ বানাও l নিমিত্ত হওয়ার এই ভাবই সাফল্য প্রাপ্ত করায় l বিনয়-নম্র নিমিত্ত হওয়ার বিশেষত্ব সদা তোমার সাথে রাখো l এই বিশেষত্ব তোমাকে সদা বিশেষ বানাবে l নিমিত্ত হওয়ার পার্ট নিজেদেরও লিফ্ট দেয় l অন্যের জন্য নিমিত্ত হওয়া অর্থাৎ স্বয়ং-সম্পন্ন হওয়া l দৃঢ়তার সাথে অবিরত সাফল্য অর্জন করে চলো, সাফল্য নিশ্চিত l যখন তোমাদের এই দৃঢ়তা থাকে, সফলতা তখন নিজে থেকেই এগিয়ে যাবে l

জন্মানোর মুহূর্ত থেকে তোমরা সেবাধারী হওয়ার গোল্ডেন চান্স পেয়েছো, সুতরাং সবচেয়ে বড়ো চ্যান্সেলর হয়ে গেছ, তাই না ? শৈশব থেকেই সেবাধারী হওয়ার ভাগ্য নিয়ে এসেছো l ভাগ্য উদয় করে এসেছো l কতো আত্মাদের শ্রেষ্ঠ ভাগ্য তৈরিতে কর্তব্যের নিমিত্ত হয়েছ l সুতরাং, সবসময় মনে রেখো, 'বাহ্, আমার শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের শ্রেষ্ঠ রেখা ! তোমরা বাবাকে পেয়েছো, সেবা পেয়েছো, সেবাস্থান পেয়েছো আর সেবার সাথে সাথে শ্রেষ্ঠ আত্মাদের শ্রেষ্ঠ পরিবার পেয়েছো l কি পাওনি তোমরা ? রাজ্যভাগ্য সব পেয়েছো তোমরা l সদা এই খুশি থাকা উচিৎ l সঠিক বিধি প্রয়োগে নিরন্তর উন্নতি করতে থাকো l তোমার নিমিত্ত হওয়ার বিধি দ্বারা সেবাতে উন্নতি হতে থাকবে l



*কুমারদের সাথে* :- কুমার জীবনে বেঁচে যাওয়া অর্থাৎ রক্ষা পাওয়াই সবচেয়ে বড়ো ভাগ্য l কতরকম ঝঞ্ঝাট থেকে রক্ষা পেয়েছো তোমরা l কুমার অর্থাৎ বন্ধনমুক্ত আত্মা l কুমার জীবন বন্ধনমুক্ত জীবন l কিন্তু কুমার জীবনে ফ্রি থাকা অর্থাৎ ভার বহন করা l কুমারগণের জন্য বাপদাদার ডিরেকশন হলো, লৌকিক পরিবারে থেকেও অলৌকিক সেবা করতে হবে l লৌকিক সেবা সম্পর্ক তৈরি করার সাধন l এতে যদি তোমরা বিজি থাকো তবে অলৌকিক সেবা করায় সমর্থ হবে l জাগতিক সম্পর্কে থাকাকালীন অলৌকিক সেবা করো l তাহলে বুদ্ধি ভারী হবে না l সকলকে তোমাদের অনুভব শুনিয়ে সেবা করো l লৌকিক সেবা করাকালীন তা' সেবার সাধন হিসেবে করো, তাহলে লৌকিক সাধন সেবার জন্য তোমাদের অনেক চান্স দেবে l তোমাদের লক্ষ্য ঈশ্বরীয় সেবার, কিন্তু সেইসব সাধন, এইরকম বুঝে করো l কুমার অর্থাৎ সাহসী l তোমরা যা চাও করতে পারো, সেইজন্য বাপদাদা সবসময় সাধনের দ্বারা তোমাদের সাফল্য প্রাপ্ত করার পরামর্শ দেন l কুমার অর্থাৎ নিরন্তর যোগী কারণ কুমারদের জগৎ এক বাবা l সমগ্র জগৎ যখন বাবাই, তখন সেই জগৎ ছাড়া তোমাদের বুদ্ধি আর কোথায় যাবে ! সবকিছু যখন একই হয়ে গেছে তখন একেরই তো স্মরণ হবে, তাই না ! আর একের স্মরণ করাও খুব সহজ l অনেক থেকে তো নিস্তার পেলে ! একের মধ্যে সব সমাহিত হয়ে আছে l প্রতি কর্মের দ্বারা অবিরত সেবা করো, তোমাদের দৃষ্টিতে, মুখে সেবা ব্যতীত অন্য কিছু নয় l যার প্রতি তোমাদের ভালোবাসা, তাকে প্রত্যক্ষ করার প্রবল উৎসাহ থাকে l প্রতি পদে বাবা আর সেবা তোমাদের সাথে রাখতে হবে l আচ্ছা l



*বাছাই করা বিশেষ অব্যক্ত মহাবাক্য* -

*কর্মবন্ধন মুক্ত কর্মাতীত, বিদেহী হও*

*বিদেহী এবং কর্মাতীত স্থিতির অনুভব করার বিধিঃ*

১) সীমিত পরিধির (হদের ) আমিত্ব বোধের দেহ-অভিমান থেকে মুক্ত হও l

২) লৌকিক আর অলৌকিক কর্ম এবং সম্বন্ধ উভয় ক্ষেত্রেই স্বার্থভাব থেকে মুক্ত হও l

৩) বিগত জন্মের কর্মের হিসেবনিকেশ এবং ব্যর্থ স্বভাব-সংস্কারে প্রভাবিত হওয়া থেকে মুক্ত হও l

৪) যদি সেবার, সংগঠনের, প্রকৃতির কোনও বিপরীত পরিস্থিতি তোমাদের স্বস্থিতি অথবা শ্রেষ্ঠ স্থিতিকে দ্বিধাগ্রস্ত (নড়বড়ে ) করে তোলে, তাহলে সেটা বন্ধনমুক্ত স্থিতি নয়, এই বন্ধন থেকেও মুক্ত হও l

৫) পুরানো দুনিয়ায় পুরানো অন্তিম শরীরের কোনোরকম ব্যাধি যেন তোমাদের শ্রেষ্ঠ স্থিতি কমা-বাড়ার মধ্যে অ-স্থিত করে না তুলতে পারে, এর থেকেও মুক্ত হও l রোগ-ব্যাধির উপস্থিতি ভবিতব্য, কিন্তু স্থিতি নিচে-ওপরে হওয়া বন্ধনযুক্ত হওয়ার লক্ষণ l স্বচিন্তন, জ্ঞান চিন্তন, শুভ চিন্তক হওয়ার চিন্তনের পরিবর্তে শারীরিক ব্যাধির চিন্তা করা থেকে মুক্ত হও, একেই বলা হয়ে থাকে কর্মাতীত স্থিতি l



কর্মযোগী হয়ে কর্মের বন্ধন থেকে সদা নির্লিপ্ত আর সদা বাবার ঘনিষ্ঠ হও - এটাই কর্মাতীত বিদেহী স্থিতি l কর্মাতীতের অর্থ এই নয় যে কর্ম করার ঊর্ধ্বে যাওয়া l কর্মের নির্লিপ্তি নয়, কর্মের যে কোনো বন্ধনে জড়িয়ে পড়া থেকে নির্লিপ্ত হও l যতবড় কার্যই হোক না কেন, এমন অনুভব হতে দাও যেন তোমরা কাজ করছো না, বরংএকটা খেলা খেলছো তোমরা l যে কোনো পরিস্থিতিই উদ্ভব হোক না কেন, যদি কোনো আত্মা হিসেব-নিকেশ চুকানোর জন্য তোমাদের সম্মুখীন হয়, এমনকি কর্মভোগ অবিরত শরীরের মাধ্যমে তোমাদের সামনে উপস্থিত হয়, তখন সীমিত পরিসরের যেকোনো রকম আকাঙ্ক্ষা থেকে মুক্ত থাকাই বিদেহী স্থিতি l যতক্ষণ এই দেহ আছে, কর্মেন্দ্রিয়ের সাথে এই কর্মক্ষেত্রে নিজের পার্ট অভিনয় করছো, ততক্ষণ বিনা কর্মে এক সেকেন্ডও থাকতে পারবে না, কিন্তু কর্ম করাকালীন কর্মবন্ধনের ঊর্ধ্বে থাকাই হলো কর্মাতীত বিদেহী অবস্থা l সুতরাং, কর্মেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে কর্মের সম্বন্ধে আসতে হবে, কিন্তু কর্মের কোনও বন্ধনে জড়িও না l কর্মের বিনাশী ফলের ইচ্ছার বশীভূত হ'য়ো না l কর্মাতীত অর্থাৎ কর্মের বশবর্তী হওয়া নয়, বরং মালিক হয়ে তথা অথরিটি হয়ে তোমার কর্মেন্দ্রিয়ের সাথে সম্বন্ধে থাকা, বিনাশী আকাঙ্ক্ষা থেকে উদাসীন হয়ে কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা কর্ম করাও l তুমি আত্মা, মালিক, অবশ্যই কর্মাধীন হবে না, বরং অধিকারী হয়ে কর্ম করাতে থাকো l কর্ম করানোর মালিক হয়ে কর্ম করাতে হবে l একেই বলে, কর্মের সম্বন্ধে আসা l কর্মাতীত আত্মার সম্বন্ধ থাকে, কিন্তু বন্ধন নয় l



কর্মাতীত অর্থাৎ দেহ, দেহের সম্বন্ধ, পদার্থ, লৌকিক এবং অলৌকিক উভয় সম্বন্ধ আর বন্ধনের ঊর্ধ্বে অর্থাৎ নির্লিপ্তি l যদিও সম্বন্ধ শব্দ উল্লেখ করা হয়, দেহের সম্বন্ধ, দেহ সম্বন্ধীয় সম্বন্ধ, কিন্তু দেহ এবং সম্বন্ধের মধ্যে যদি অধীনতা থাকে তবে সম্বন্ধও বন্ধন হয়ে যায় l কর্মাতীত অবস্থায় কর্ম সম্বন্ধ এবং কর্ম বন্ধনের রহস্য জানার কারণে তোমরা সদা সবরকম পরিস্থিতিতে খুশি থাকবে, কখনো অখুশি হবেনা l এমন আত্মারা নিজের বিগত জন্মের হিসেব-নিকেশের বন্ধন থেকেও মুক্ত হবে l এমনকি, যদি বিগত জন্মের হিসেব-নিকেশের ফলস্বরূপ দেহের অসুস্থতাই হোক কিম্বা অন্য আত্মাদের সংস্কারের সাথে নিজ মনের সংস্কারের দ্বন্দ্ব, কর্মাতীত আত্মা কর্মভোগের বশবর্তী না হয়ে মালিক হয়ে হিসেব চুকিয়ে দেবে l কর্মযোগী হয়ে কর্মভোগ চুকিয়ে দেওয়াই কর্মাতীত হওয়ার লক্ষণ l যোগের দ্বারা কর্মভোগ সহাস্যে শূল হওয়ার মতো বিষয়কে কাঁটায় পরিবর্তিত করে ভস্ম করবে অর্থাৎ কর্মভোগ সমাপ্ত করবে l তোমাদের কর্মযোগের স্থিতি দ্বারা কর্মভোগের পরিবর্তন করাই কর্মাতীত স্থিতি l ব্যর্থ সঙ্কল্পই কর্মবন্ধনের সূক্ষ্ম রস্যি l কর্মাতীত আত্মা খারাপের মধ্যেও ভালোত্বের অনুভব করবে l এমন আত্মা বলবে, যা কিছু হয় তা' ভালোর জন্যই হয় l আমিও ভালো, বাবাও ভালো, ড্রামাও ভালো l বন্ধন কাটতে এই সঙ্কল্প কাঁচির মতো কাজ করে l বন্ধন যখন কেটে যাবে, তুমি কর্মাতীত হয়ে যাবে l



বিদেহী স্থিতির অনুভব করার জন্য ইচ্ছা মাত্রম্ অবিদ্যা হও l সীমিত পরিসরের ইচ্ছামুক্ত এমন আত্মাই বাবা সমান সকলের সব ইচ্ছা পূরণ করা 'কামধেনু' হবে l বাবার সব ভান্ডার যেমন ধনদৌলতে সদা পরিপূর্ণ, অপ্রাপ্তির কোনো লেশমাত্র থাকে না, তেমন একইভাবে বাবা সমান সর্ব ধনভান্ডারে সদা ভরপুর হও l সৃষ্টি চক্রে তোমাদের পার্ট অভিনয় করাকালীন দুঃখের অনেক চক্র থেকে মুক্ত থাকাই জীবনমুক্ত স্থিতি l এইরকম স্থিতির অনুভব করার জন্য অধিকারী হয়ে, মালিক হয়ে সকল কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা কর্ম পরিচালনকারী হও l কর্ম করো এবং কর্ম সম্পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে, নির্লিপ্ত হয়ে যাও - এটাই বিদেহী স্থিতির অভ্যাস l আত্মার আদি এবং অনাদি স্বরূপ স্বতন্ত্র l আত্মা রাজা, মালিক l মনের কোনো বন্ধন যেন না থাকে l যদি মনের কোনও বন্ধন থাকে, তাহলে এই এক বন্ধন অন্যান্য অনেক বন্ধন নিয়ে আসবে, সেইজন্য স্বরাজ্য অধিকারী অর্থাৎ বন্ধনমুক্ত রাজা হও l এইজন্য তোমার ব্রেক পাওয়ারফুল হতে দাও, যা দেখতে চাও শুধু সেটাই দেখ, যা শুনতে চাও সেটাই শোনো l যখন তোমার এইরকম কন্ট্রোলিং পাওয়ার থাকবে, তখন অন্তে তুমি পাস উইথ অনার হবে অর্থাৎ ফার্স্ট ডিভিশনে আসতে পারবে l

বরদান:-

পবিত্রতার আদি অনাদি বিশেষ গুণের রূপ সহজে আপন ক'রে পূজ্য আত্মা ভব

পূজ্য হওয়ার বিশেষ আধার পবিত্রতা l তোমরা সবরকম পবিত্রতা যতো আপন করো, ততোই সর্বতোভাবে পূজন যোগ্য হয়ে ওঠো l যারা বিধিসম্মতভাবে আদি অনাদি বিশেষ গুণের রূপের সাথে পবিত্রতাকে আপন করে, তাদেরই বিধিপূর্বক পূজন হয়ে থাকে l যারা জ্ঞানী এবং অজ্ঞানী আত্মাদের সম্পর্কে আসে এবং তাদের বৃত্তি, দৃষ্টি, ভাইব্রেশন দ্বারা সম্পর্ক -সম্বন্ধের দায়িত্ব কর্তব্য যথার্থরূপে পালন করে, স্বপ্নেও যাদের পবিত্রতা খন্ডিত হয় না, তারাই বিধিবদ্ধরূপে পূজনীয় হয় l

স্লোগান:-

স্থূল (ব্যক্ত) জগতে থেকে অব্যক্ত ফরিস্তা হয়ে সেবা করলে বিশ্ব কল্যাণের কার্য তীব্রগতিতে সম্পন্ন হবে* l