13.01.2023 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - এখানে তোমাদেরকে সুখ-দুঃখ, মান-অপমান... সব সহ্য করতে হবে, পুরানো দুনিয়ার সুখের থেকে বুদ্ধি সরিয়ে দিতে হবে, নিজের মতানুসারে চলবে না

প্রশ্নঃ -
দেবতা জন্ম থেকেও এই জন্ম খুব ভালো, কীভাবে?

উত্তরঃ  
এই জন্মে তোমরা বাচ্চারা শিববাবার ভান্ডার থেকে খাবার খাও। এখানে তোমরা অপরিসীম উপার্জন করো, তোমরা বাবার আশ্রয়ে আছো। এইজন্য তোমরা নিজের ইহলোক-পরলোক সুখী বানিয়ে নাও। সুদামার মতন দুই মুঠো দিয়ে ২১ জন্মের বাদশাহী প্রাপ্ত করো।

গীতঃ-
কাছে থাকো বা দূরে...

ওম্ শান্তি ।
গানের অর্থ কতো সুন্দর । বাবা বসে বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছেন - আমরা এই সশরীর থাকি বা দূরে কারণ সম্মুখে যোগের শিক্ষা প্রদান করছেন। প্রেরণার দ্বারা তো দেবেন না। আমি কাছে থাকি বা দূরে - স্মরণ তো আমাকেই করতে হবে। ভগবানের কাছে যাওয়ার জন্য তো ভক্তি করে। বাবা বসে বোঝান যে হে জীব এর আত্মারা, এই দেহে নিবাসরত আত্মারা, আত্মাদের সঙ্গে পরম পিতা পরমাত্মা বসে কথা বলেন। পরমাত্মাকে আত্মাদের সাথে অবশ্যই মিলিত হতে হয়, তাই জীব আত্মারা ভগবানকে স্মরণ করে কারণ তারা দুঃখী। সত্যযুগে তো কেউ স্মরণ করে না। এখন তোমরা বাচ্চারা জানো আমরা বহু কালের পুরানো ভক্ত। যখন থেকে মায়া আমাদের বন্ধন যুক্ত করেছে , তখন থেকে ভগবানের, শিবের স্মরণ আরম্ভ হয়েছে কারণ শিববাবা আমাদের স্বর্গের মালিক করেছিলেন, তাই ভক্তরা তাঁর স্মরণিকা রচনা করে ভক্তি করে। এখন তোমরা জানো শিববাবা সম্মুখে এসেছেন ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, কারণ এখন বাবার কাছে ফিরে যেতে হবে। যতক্ষণ এখানে আছি আমরা ততক্ষণ পুরানো দেহকে, পুরানো দুনিয়াকে বুদ্ধিতে ভুলে থাকতে হবে এবং যোগ যুক্ত থাকতে হবে। তবে এই যোগ অগ্নির দ্বারা পাপ ভস্ম হবে। এতেই পরিশ্রম লাগে। পদ মর্যাদাও হল শ্রেষ্ঠতম। বিশ্বের মালিক হতে হবে। মানুষ বলে যে, বিশ্বের মালিক তো হলেন শিববাবা। কিন্তু নয়, বিশ্বের মালিক মানুষ ই হয়। বাবা বসে বাচ্চাদেরকে বিশ্বের মালিক বানাচ্ছেন। বাবা বলেন তোমরাই বিশ্বের মালিক ছিলে, পরে ৮৪ জন্ম নিয়ে এখন কড়ি তুল্য মালিকও রয়ে যাওনি। প্রথম জন্ম এবং এখনকার অন্তিম জন্ম দেখো কতখানি রাত দিনের তফাৎ । কারো স্মরণে আসবে না যতক্ষণ বাবা এসে সাক্ষাৎকার না করাচ্ছেন। জ্ঞান যুক্ত বুদ্ধির দ্বারাও সাক্ষাৎকার হয়। যারা বুদ্ধিমান বাচ্চারা আছে , নিত্য বাবাকে স্মরণ করে, তাদের আনন্দ অনুভব হবে। এখানে তোমরা সব নতুন কথা শুনছো। মানুষ তো কিছুই জানেনা। তারা তো কাহিনী বলে দেয় আর দ্বারে দ্বারে বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। তোমাদেরকে এই বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করা হয়েছে। বাবা বলেন তোমরা আত্মা, আমি পিতা, আমাকে স্মরণ করতে থাকো। বুদ্ধিতে এই সঙ্কল্প যেন থাকে যে আমরা আত্মা, আমাদেরকে বাবার কাছে যেতে হবে, এই সৃষ্টি যেন আমাদের জন্য নয়। এই পুরানো সৃষ্টি তো শেষ হয়ে যাবে। তারপরে আমরা স্বর্গে এসে নতুন মহল বানাবো। দিন-রাত বুদ্ধিতে এই পয়েন্ট চলা উচিত। বাবা নিজের অনুভব বলে দেন। রাত্তিরে নিদ্রার সময় এই চিন্তন করি। এই নাটক এখন পূর্ণ হয়েছে, এই দেহ রূপী বস্ত্রটি ত্যাগ করতে হবে। হ্যাঁ, বিকর্মের বোঝা আছে তাই নিরন্তর বাবাকে স্মরণ করতে হবে। নিজের অবস্থা দর্পণে দেখতে হবে - আমাদের বুদ্ধি সব কিছু থেকে বিরত আছে তো? ব্যবসা ইত্যাদিতে থেকেও বুদ্ধি দিয়ে কাজ করতে হবে। বাবার উপরে কতখানি দায়িত্ব আছে। অসংখ্য বাচ্চারা আছে। তাদের প্রতিপালন করতে হয়। বাচ্চাদের আশ্রয় দিতে হয়। দুঃখী তো অনেকে তাইনা ! দুনিয়ার হট্টগোলে অনেকের দুঃখী অবস্থায় মৃত্যু হয়। এই সময়টি খুব খারাপ। তাই বাচ্চাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য এই গৃহ নির্মাণ হচ্ছে। এখানে তো সব আপন সন্তানরা ই থাকে। কোনো ভয় নেই এবং তার সঙ্গে যোগ বলও আছে। বাচ্চারা সাক্ষাৎকারও করেছে, যারা বাবাকে অবশ্যই স্মরণ করে তো বাবাও তাদের রক্ষা করেন। শত্রুকে ভয়ঙ্কর রূপ দেখিয়ে দূর করে দেন। তোমাদের দেহটি যতদিন আছে, ততদিন যোগে থাকতে হবে। নাহলে দন্ড ভোগ করতে হবে। বড় লোকের সন্তান দন্ডিত হলে তাদের সম্মান নষ্ট হয়। তোমাদেরও সম্মান নষ্ট হবে। বাচ্চাদের জন্য তো আরও কঠিন দন্ড থাকে। অনেকে এরকম আছে যারা বলে এখন তো মায়ার সুখ অনুভব করি, যা হবে দেখা যাবে। অনেকেরই এই পুরানো দুনিয়ার সুখ মিষ্টি অনুভব হয়। এখানে তো সুখ-দুঃখ, মান-অপমান .... সব সহ্য করতে হয়। উচ্চ প্রাপ্তি যদি করতে চাও তবে ফলো করা উচিত, মাতা পিতার আদেশ অনুসারে চলা উচিত। নিজের মত অর্থাৎ রাবণের মত। অর্থাৎ ভাগ্যের উন্নতির দিকে সীমারেখা টেনে দেওয়ার কথা হবে। বাবাকে জিজ্ঞাসা করলে বাবা তৎক্ষণাৎ বলবেন - এ'হল আসুরিক মত। শ্রীমৎ নয়। প্রতিটি কদমে শ্রীমতের প্রয়োজন। চেক করতে হবে কোনও বিকর্ম করে বাবার নিন্দে করছি না তো ? দেবী-দেবতা তখন হতে পারবো যখন এই রকম লক্ষণ হবে। এমন নয় সেখানে অটোমেটিক্যালি লক্ষণ গুলি এসে যাবে। এখানে অত্যন্ত মিষ্টি আচার আচরণ থাকা চাই। আচ্ছা ধরো শিববাবা বলেননি, ব্রহ্মা বাবা বলেছেন, তখনও রেস্পন্সিবল উনিই থাকবেন তাইনা! যদি কোনও ক্ষতি হয় তবুও অসুবিধে নেই। এইসব ড্রামায় ছিল তোমাদের কোনো দোষ থাকবে না। অবস্থা খুব ভালো থাকা উচিত। যদিও তোমরা এখানে বসে আছো, বুদ্ধিতে যেন এই কথাই থাকে যে আমরা ব্রহ্মাণ্ডের মালিক সেখানকার নিবাসী। এই রীতিতে ঘর পরিবারে থেকে, ব্যবসা ইত্যাদি করেও উপরাম হতে থাকবো। যেমন সন্ন্যাসীরা, গৃহস্থ থেকে উপরাম হয়ে যায়। তোমরা তো সম্পূর্ণ পুরানো দুনিয়ার থেকে উপরাম হয়ে যাও। ওই হঠ যোগের সন্ন্যাস আর এই সন্ন্যাসের মধ্যে রাত দিনের পার্থক্য। এই রাজযোগ বাবা শেখাচ্ছেন। সন্ন্যাসীরা শেখাতে পারে না কারণ মুক্তি-জীবনমুক্তি দাতা হলেন একজনই। সকলের মুক্তি এখন হবে কারণ সবাইকে ফিরে যেতে হবে। সাধু সন্তরা সাধনা করে যে, আমরা ফিরে যাবো। এখানে দুঃখই দুঃখ। কেউ আবার বলে আমরা জ্যোতিরা-জ্যোতিতে মিশে যাবো। অনেক প্রকারের মত রয়েছে ।

বাবা বুঝিয়েছেন যে, কোনো কোনো বাচ্চাদের পুরানো সম্বন্ধ গুলি স্মরণে আসে। ওই দুনিয়ার সুখের আশ হলেই , মৃত্যু অবধারিত। তখন তার কদম আর এখানে টিকবে না। মায়া খুব প্রলোভন দেখায় । একটা কিম্বদন্তি আছে, বলে "ভগবানকে স্মরণ করো নাহলে বাজ পাখি এসে যাবে" এই মায়াও বাজ পাখির মতো আক্রমণ করে। এখন যখন বাবা এসেছেন তখন পুরুষার্থ করে উঁচু পদ মর্যাদা প্রাপ্ত না করলে কল্প-কল্পান্তর কখনই প্রাপ্ত হবে না। এখানে বাবার কাছে তোমাদের কোনও দুঃখ নেই, তাই পুরানো দুঃখের দুনিয়াকে ভুলে যাওয়া উচিত তাইনা। সারাদিনের কর্মের চার্ট দেখা উচিত, কতক্ষণ বাবাকে স্মরণ করছি? কাউকে কি জীবনদান করেছি? বাবাও তোমাদের জীবনদান দিয়েছেন তাইনা। সত্য যুগ ত্রেতায় তোমরা অমর থাকো। এখানে কারো মৃত্যুতে কতখানি কান্নাকাটি করে। স্বর্গে দুঃখের নাম নেই। বুঝবে পুরানো বস্ত্র ত্যাগ করে নতুন ধারণ করতে হবে। এই দৃষ্টান্ত তোমাদের জন্য অন্য কেউ এই দৃষ্টান্ত দিতে পারে না। তারা কি পুরানো দেহটি ভুলতে পারে। তারা তো অর্থ ধন একত্র করতে থাকে। এখানে তোমরা যা কিছু বাবাকে অর্পণ করো সে'সব তো বাবা গ্রহণ করেন না, নিজের কাছে রাখেনও না। তা দিয়ে বাচ্চাদের প্রতিপালনই করেন তাই এ'হলেন সত্য শিববাবার ভান্ডার, এই ভান্ডার থেকে ভোজন গ্রহণ করে যারা, তারা এখানেও সুখী থাকে তো জন্ম-জন্মান্তর সুখী থাকে।

তোমাদের এই জন্ম হল দূর্লভ জন্ম। দেবতা জন্মের চেয়েও তোমরা এখানে সুখী থাকো, কারণ তোমরা বাবার আশ্রয়ে আছো। এখান থেকেই তোমরা অপরিসীম উপার্জন করো যা জন্ম-জন্মান্তর ভোগ করবে। সুদামার দুই মুঠো অর্পণের পরিবর্তে ২১ জন্মের জন্য মহল প্রাপ্ত হয়েছিল। ইহলোকও সুখী তো পরলোকও সুখী, জন্ম-জন্মান্তরের জন্য। তাই এই জন্মটিই হলো শ্রেষ্ঠ জন্ম। কেউ বলে শীঘ্র বিনাশ হোক তবে আমরা স্বর্গে যেতে পারবো। কিন্তু এখন তো অনেক খাজানা বাবার কাছে নেওয়ার আছে। এখনও রাজধানী তো নির্মাণ হয়নি। তাহলে শীঘ্র বিনাশ করবেন কীভাবে ! বাচ্চারা এখনও যোগ্য কোথায় হয়েছে ! এখনও বাবা পড়াতে আসেন। বাবার সার্ভিস হলো অপরমঅপার। বাবার মহিমাও হল অপরমঅপার । বাবা যেমন সর্বোচ্চ, সার্ভিসও করেন তেমনই সর্বোচ্চ, তবেই তো বাবার স্মরণিকা রয়েছে। সর্বোচ্চ পিতার সিংহাসন, যে যতখানি পুরুষার্থ করে, সে নিজের ততখানি ভাগ্য নির্মাণ করে। এ'হল অবিনাশী জ্ঞান রত্নের উপার্জন, যা সেখানে গিয়ে অপরিসীম ধন রাশিতে পরিণত হয়। সুতরাং বাচ্চাদেরকে খুব ভালো ভাবে পুরুষার্থ করতে হবে। বাবাকে এখানেও স্মরণ করো তো সেখানেও স্মরণ করো। সিঁড়ি তো আছে না! হৃদয় দর্পণে দেখতে হবে যে আমি বাবার কতখানি সুসন্তান হয়েছি, অন্ধকে পথ বলে দিচ্ছি। নিজের সঙ্গে কথা বললে খুশী অনুভব হয়। যেমন বাবা নিজের অনুভব বলেন - ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও বাবার সাথে কথা বলি, বাবা তোমার সব চমৎকার । ভক্তিমার্গে আমরা তোমরাকে আবার ভুলে যাবো। তোমার কাছ থেকে এতখানি বর্সা (স্বর্গের অধিকার) প্রাপ্ত করার পরেও সত্যযুগে সে কথা ভুলে যাবো। তারপরে ভক্তিমার্গে তোমার স্মরণিক তৈরি করবো। অথচ তোমার অক্যুপেশন ভুলে যাবো। বোধহীন, অজ্ঞানী হয়ে যাই আমরা। এখন বাবা কতো জ্ঞানবান বানিয়েছেন। রাত দিনের তফাৎ আছে। ঈশ্বর হলেন সর্বব্যাপী, এ' তো কোনও জ্ঞানযুক্ত কথা নয়। জ্ঞান তো সৃষ্টি চক্রের চাই। এখন আমরা ৮৪-র চক্র পূর্ণ করে ফিরে যাই, পরে জীবনমুক্তিতে আসতে হবে আমাদের । ড্রামার বাইরে বেরোনো সম্ভব নয়। আমরা হলাই জীবনমুক্তির পথিক।আচ্ছা!

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

রাত্রি ক্লাস - ১৬-১২-৬৮

বাবা কাউ বাচ্চি বলেন, কাউকে মা (মাঈয়া) বলেন ; নিশ্চয়ই কোনো পার্থক্য থাকবে। কারো সার্ভিসের দ্বারা সুগন্ধ ছড়িয়ে যায়, কেউ তো আবার ধুতরা ফুল। এই কথা তো বাবা বুঝিয়েছেন যে এই যেমন তোমরাও আমার সাথে আছো। উপর থেকে বাবা এসেছেন বিশ্বকে পবিত্র বানাতে। তোমাদেরও সেই একই কর্তব্য। সেখান থেকে প্রথমে যে আসে তারা হল পবিত্র। নতুনরা এসে নিশ্চয়ই সৌরভে সুরভিত করবে। বাগানের সঙ্গে তুলনা করা হয়। যেমন সার্ভিস তেমন সুরভিত পুষ্প। বিবেক বলে নিজেকে শিববাবার বাচ্চা বলা আর অধিকারী হওয়া। তাই সেই সৌরভ আসা উচিত। তোমাদের অধিকার রয়েছে। তবেই তো সকলকে নমস্কার করেন। তোমরা বিশ্বের মালিক অবশ্যই হয়ে থাকো, কিন্তু পড়াশোনার আধারে তফাৎ হয়ে যায় । এমন তো হবেই। বাচ্চাদের এই দৃঢ় নিশ্চয় তো আছে যে এই হলো বাবা আর এই হলো চক্র, এটা তো বুদ্ধিতে আছে। তাই বাবা বলেন এর চেয়ে বেশি আর কি বলবেন। শিববাবা ব্যতীত স্বদর্শন চক্রধারী কেউ বানাতে পারে না। হয়ে ওঠে ইশারায়। যারা কল্প পূর্বে হয়েছে তারাই হয়। অসংখ্য বাচ্চারা আসে। পবিত্রতার জন্য অনেক অত্যাচার হয়! যার দ্বারা শিববাবা গীতা শোনান তাকে কত কটু কথা বলে দেয়। শিববাবাকেও কটু কথা বলে। কচ্ছ, মচ্ছ অবতার বলাও কটু বচন, তাইনা ! না জানার দরুন বাবার উপরে, তোমাদের উপরে কত কলঙ্ক লাগিয়ে দেয়। বাচ্চারা কত বুদ্ধি খাটায়। পড়াশোনার দ্বারা কেউ তো অনেক ধনী হয়ে যায়, অনেক উপার্জন করে। এক একটি অপারেশন থেকে দুই হাজার, চার হাজার পায়। আবার কেউ তো পরিবারের প্রতিপালনও করতে পারে না। চিন্তায় থাকে। কেউ আবার জন্ম-জন্মান্তর বাদশাহী প্রাপ্ত করে। কেউ জন্ম-জন্মান্তরের জন্য গরিব হয়। বাবা বলেন তোমাদেরকে বোধ সম্পন্ন বানাই। এখন তোমরা সব কথায় বলবে ড্রামা। সবারই পার্ট আছে। যা পাস্ট হয়েছে সেসব হলো ড্রামা। যা হয় সবই ড্রামা। ড্রামা অনুসারে যা হয় সবই সঠিক। তোমরা যতই বোঝাও, তারা বুঝতে পারে না। এতে ম্যানার্সও ভালো থাকা উচিত। প্রত্যেকে নিজের মধ্যে চেক করবে কোনো ঘাটতি বা দুর্বলতা নেই তো? মায়া খুব কঠিন। তাকে যেমন করেই হোক দূর করতে হবে। সব রকমের দুর্বলতা দূর করতে হবে। বাবা বলেন বাঁধেলীরা বন্ধনে থাকা মাত্রা (বাঁধেলী) সবচেয়ে বেশি স্মরণে থাকে। তারাই ভালো পদের অধিকারী হয়। যত কষ্ট ইত্যাদি ভোগ করে ততই বেশী করে স্মরণে থাকে। হায় শিববাবা বলে থাকে। জ্ঞানের দ্বারা শিববাবাকে স্মরণ করে। তাদের চার্ট ভালো থাকে। এমন যারা অত্যাচার সহ্য করে আসে তারা সার্ভিসেও ভালো রীতি যুক্ত হয়ে যায়। নিজের জীবন উঁচু বানানোর জন্য ভালো সার্ভিস করে। সার্ভিস না করলে তাদের অনুশোচনা হয়। তাদের হৃদয় জুড়ে চাহিদা থাকে যেন সার্ভিসে যেতে পারি। যদিও তারা বোঝে সেন্টার ছেড়ে যেতে হবে, কিন্তু প্রদর্শনীতে সার্ভিস অনেক তাই সেন্টারের চিন্তা না করে সেবায় ছুটে যাওয়া উচিত। আমরা যত দান করবো ততই আমাদের মধ্যে বল আসবে। দানও অবশ্যই করতে হবে। এ'হল অবিনাশী জ্ঞান রত্ন, যার কাছে থাকবে সে-ই দান করবে। বাচ্চাদের এখন সম্পূর্ণ সৃষ্টির আদি, মধ্য, অন্তের জ্ঞান স্মরণে আসা উচিত। সম্পূর্ণ চক্রটি আবর্তিত হওয়া উচিত। শিববাবা এই সৃষ্টির আদি, মধ্য, অন্তকে জানেন। অবশ্যই তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর। সৃষ্টির চক্রের কথা জানেন। এই দুনিয়ার জন্য একেবারেই নতুন জ্ঞান, যা কখনও পুরানো হয় না। ওয়ান্ডারফুল নলেজ তাইনা যা বাবা এসে বলে দেন। যে যতই সাধু মহাত্মা হউক, সিঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে এগিয়ে তো যায় না। একমাত্র বাবা ছাড়া কোনো মানুষই গতি-সদগতি প্রদান করতে পারে না। না মানুষ, না দেবতা প্রদান করতে পারে। কেবল একমাত্র বাবা প্রদান করতে পারেন। দিন দিন বৃদ্ধি হতেই থাকবে। বাবা বলেছিলেন প্রভাত-ফেরীতে এই লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র, সিঁড়ি ট্রান্সলাইটেরও হওয়া উচিত। বিদ্যুৎ সংযুক্ত কোনও এমন জিনিস থাকা উচিত যা আলোকিত করতে থাকবে। তোমরা স্লোগানও দিতে থাকবে। রাজযোগ পরমপিতা পরমাত্মা শেখাচ্ছেন ভাগীরথের দ্বারা। অন্য কেউ রাজযোগের শিক্ষা প্রদান করতে পারে না, তোমরা এই ধরনের কথা অনেক শুনবে।

আচ্ছা! মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চাদেরকে গুড নাইট।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এই নাটক এখন সম্পূর্ণ হচ্ছে তাই এই পুরানো দুনিয়া থেকে উপরাম থাকতে হবে। শ্রীমৎ অনুসারে নিজের ভাগ্য উঁচু বানাতে হবে। কখনও কোনও উল্টো কর্ম বা বিকর্ম করবে না।

২ ) অবিনাশী জ্ঞান রত্নের উপার্জন করতে হবে এবং করাতে হবে। এক বাবার স্মরণে থেকে সুসন্তান হয়ে অনেককে পথ বলে দিতে হবে।

বরদান:-
ত্যাগ আর তপস্যার পরিবেশের (বাতাবরণ) দ্বারা বিঘ্ন বিনাশক হতে যাওয়া সত্য সেবাধারী ভব

বাবার যেমন সবচেয়ে বড় টাইটেল হল ওয়ার্ল্ড সার্ভেন্ট, তেমনই বাচ্চারাও হল ওয়ার্ল্ড সার্ভেন্ট অর্থাৎ সেবাধারী। সেবাধারী অর্থাৎ ত্যাগী এবং তপস্বী। যেখানে ত্যাগ আর তপস্যা আছে সেখানে ভাগ্য তো তাদের সামনে দাসীর মতো আসে। সেবাধারী কেবল দেয়, নেয় না। তাই সদা নির্বিঘ্ন থাকে। অতএব সেবাধারী রূপে ত্যাগ আর তপস্যার পরিবেশ নির্মাণ করলে সদা বিঘ্ন-বিনাশক থাকবে।

স্লোগান:-
যে কোনও রকমের পরিস্থিতির সম্মুখীন করবার সাধন হল - স্ব স্থিতির শক্তি।