13.02.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - শান্তি যদি চাও, তাহলে অশরীরী হও, এই দেহ ভাবে আসলেই অশান্তি হয়, তাই নিজের স্বধর্মে স্থিত থাকো"

প্রশ্নঃ -
যথার্থ স্মরণ কি ? স্মরণের সময় কোন্ বিশেষ বিষয়ের প্রতি নজর রাখা প্রয়োজন ?

উত্তরঃ -
নিজেকে এই দেহ থেকে পৃথক আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করা -- এই হলো যথার্থ স্মরণ । কোনো দেহই যেন স্মরণে না আসে, এই খেয়াল রাখা জরুরী । স্মরণে থাকার জন্য জ্ঞানের নেশা যেন চড়ে থাকে, বুদ্ধিতে যেন এই কথা থাকে যে, বাবা আমাকে এই সম্পূর্ণ বিশ্বের মালিক বানান, আমরা সমস্ত সমুদ্র, সমস্ত ধরণীর মালিক হই ।

গীতঃ-
তোমাকে পেয়ে আমরা সমগ্র দুনিয়াকে পেয়ে গেছি

ওম্ শান্তি ।
'ওম্' শব্দের অর্থ হলো 'অহম', আমি আত্মা । মানুষ আবার মনে করে 'ওম্' শব্দের অর্থ ভগবান, কিন্তু এমন কিছু নয় । 'ওম' শব্দের অর্থ আমি আত্মা, এই শরীর হলো আমার । এমন তো বলা হয় ---ওম শান্তি । অহম আত্মার স্বধর্ম হলো শান্ত । আত্মা তার নিজের পরিচয় দেয় । মানুষ যদিও ওম শান্তি বলে থাকে কিন্তু 'ওম্' এর অর্থ কেউই বুঝতে পারে না । 'ওম্ শান্তি' শব্দ খুব ভালো । আমরা হলাম আত্মা আর আমাদের স্বধর্ম হলো শান্ত । আমরা আত্মারা শান্তিধামের অধিবাসী । এ কতো সহজ অর্থ । এ লম্বা - চওড়া কোনো গল্প নয় । এই সময়ের মানুষ তো এও জানে না যে, এখন কি নতুন দুনিয়া নাকি পুরানো দুনিয়া । নতুন দুনিয়া কখন আবার পুরানো হয়, পুরানো থেকে আবার কখন নতুন দুনিয়া হয় - এ কেউই জানে না । কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, দুনিয়া কখন নতুন হয়, আবার কিভাবে তা পুরানো হয়, তাহলে কেউই তা বলতে পারবে না । এখন তো কলিযুগ, পুরানো দুনিয়া । সত্যযুগকে নতুন দুনিয়া বলা হয় । আচ্ছা, নতুনকে আবার পুরানো হতে কতো বছর সময় লাগে ? এও কেউই জানে না । মানুষ হয়ে এও জানে না, তাই বলা হয়, মানুষ জানোয়ারের থেকেও অধম । জানোয়ার তো নিজেদের কিছুই বলে না, মানুষ বলে, আমরা পতিত হয়েছি, হে পতিত পাবন, তুমি এসো, কিন্তু তাঁকে সম্পূর্ণ জানেই না । পবিত্র অক্ষর কতো সুন্দর । নতুন দুনিয়াই পবিত্র দুনিয়া স্বর্গ হবে । দেবতাদের চিত্রও আছে কিন্তু কেউই বুঝতে পারে না যে, এই লক্ষ্মী - নারায়ণই পবিত্র দুনিয়ার মালিক । এই সব কথা অসীম জগতের পিতা বসেই বাচ্চাদের বোঝান । স্বর্গকে নতুন দুনিয়া বলা হয় । দেবতাদেরই স্বর্গবাসী বলা হবে। এখন তো হলো পুরানো দুনিয়া, নরক । এই মনুষ্য হলো নরকবাসী । কেউ যদি মারা যায়, তখন বলা হয়, উনি স্বর্গবাসী হয়েছেন, তাহলে এখানে তো নরকবাসী, তাই না । এই হিসাবে বলেই দেবে । বরাবর এ নরকই, তবুও যদি বলা হয়, তোমরা নরকবাসী, তখনই বিগড়ে যাবে । বাবা বোঝান যে, দেখতে যদিও বা মানুষের মতো, চেহারা মানুষেরই মতো কিন্তু আচরণ বানরের মতো । এমন গায়নও আছে, তাই না । মানুষ নিজেরাই মন্দিরে গিয়ে দেবতাদের সামনে গায় -- আপনি সর্বগুণ সম্পন্ন --- আর নিজের জন্য কি বলে ? আমরা নীচ, পাপী -- কিন্তু যদি সোজাসুজি বলা হয়, তোমরা বিকারী তখনই ক্ষিপ্ত হবে, তাই বাবা বাচ্চাদের সঙ্গেই কথা বলেন, তাদেরই বোঝান । বাইরের মানুষদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন না, কারণ কলিযুগী মানুষই হলো নরকবাসী । তোমরা এখন হলে সঙ্গমযুগ বাসী । তোমরা এখন পবিত্র হচ্ছো । তোমরা জানো যে, আমাদের মতো ব্রাহ্মণদের শিববাবা পড়ান । তিনিই হলেন পতিত পাবন । বাবা এখন আমাদের মতো সকল আত্মাদের নিয়ে যেতে এসেছেন । এ কতো সহজ কথা । বাবা বলেন --বাচ্চারা, তোমরা আত্মারা শান্তিধাম থেকে এখানে অভিনয় করার জন্য আসো । এই দুঃখধামে সকলেই দুঃখী, তাই মানুষ জিজ্ঞেস করে মনের শান্তি কিভাবে হবে ? এমন কিন্তু বলে না যে - আত্মার শান্তি কিভাবে হবে ? আরে, তোমরা তো বলো, ওম শান্তি । আমার স্বধর্ম হলো শান্তি । তাহলে আবার শান্তি চাও কেন ? তোমরা নিজেদের আত্মা ভুলে দেহভাবে এসে যাও । আত্মারা তো শান্তিধামের অধিবাসী । এখানে এখন শান্তি কোথা থেকে পাওয়া যাবে ? অশরীরী হতে পারলেই শান্তি আসবে । শরীরের সঙ্গে যখন আত্মা আছে, তখন তাকে বলতে বা চলতে - ফিরতে তো অবশ্যই হয় । আমরা আত্মারা শান্তিধাম থেকে এখানে অভিনয় করতে এসেছি । এও কেউ বুঝতে পারে না যে, রাবণই আমাদের শত্রু । রাবণ কবে থেকে আমাদের শত্রু হয়েছে ? এও কেউ জানে না । বড় বড় বিদ্বান, পণ্ডিত আদি একজনও জানে না যে, রাবণ কে, আমরা যার কুশপুত্তলিকা বানিয়ে জ্বালাই । জন্ম - জন্মান্তর আমরা জ্বালিয়ে এসেছি কিন্তু কিছুই জানি না । কাউকে জিজ্ঞেস করো - রাবণ কে ? তারা বলে দেবে, এ সব তো কল্পনা । তারা জানেই না, তাহলে আর কি উত্তর দেবে । শাস্ত্রেও তো আছে -- হে রাম জী, এই সংসার সৃষ্টিই হয় নি । এ সবই হলো কল্পনা । এমন অনেকেই বলে থাকে । এখন এই কল্পনার অর্থ কি ? ওরা বলে যে - এ হলো সংকল্পের দুনিয়া । যে যেমন সঙ্কল্প করে, তেমনই হয়ে যায়, মানুষ অর্থই বুঝতে পারে না । বাবা বসে বাচ্চাদের বোঝান । কেউ তো খুব ভালোভাবেই বুঝে যায়, কেউ আবার বুঝতেই পারে না ।যারা খুব ভালোভাবে বোঝে তাদের বাবার প্রকৃত সন্তান বলা হবে আর যারা বুঝতে পারে না তারা সৎ সন্তান হবে । এখন সৎ সন্তান উত্তরাধিকারী হবেই না । বাবার কাছে যেমন প্রকৃত সন্তান আছে, তেমনি সৎ সন্তানও আছে । প্রকৃত সন্তানরা তো সম্পূর্ণভাবে বাবার শ্রীমতে চলে । সৎ সন্তানরা চলবে না । বাবা বলে দেন যে, এ আমার মতে চলে না, রাবণের মতে চলছে । রাম আর রাবণ, এই দুটো অক্ষর আছে । রাম রাজ্য আর রাবণ রাজ্য । এখন হলো সঙ্গম । বাবা বোঝান যে - এইসব ব্রহ্মাকুমার -ব্রহ্মাকুমারীরা শিববাবার থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকারের আশীর্বাদ নিচ্ছে, তোমরা নেবে ? শ্রীমতে চলবে ? তখন তারা বলে, কোন মত ? বাবা শ্রীমত দেন যে, তোমরা পবিত্র হও । তখন তারা বলে, আমরা পবিত্র থাকতে চাই কিন্তু পতি যদি না শোনে তাহলে আমরা কার কথা শুনবো ? ওরা তো আমাদের পতি পরমেশ্বর, কেননা ভারতে এই কথা শেখানো হয় যে, পতিই তোমাদের গুরু, ঈশ্বর আদি সবকিছুই, কিন্তু এইকথা কেউই বুঝতে পারে না । সেই সময় তারা হ্যাঁ বলে দেয় কিন্তু কিছুই মানে না । তারা আবারও গুরুদের কাছে বা মন্দিরে যেতে থাকে । পতি বলে, তুমি বাইরে যেও না, আমি রামের মূর্তি তোমার জন্য ঘরে এনে দিচ্ছি, তাহলেও তুমি অযোধ্যা আদিতে কেন বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াও । তো শোনেই না । এই হলো ভক্তিমার্গের ধাক্কা । এই ধাক্কা তো অবশ্যই খাবে, কখনোই মানবে না । তারা মনে করে ও তো তাঁর মন্দির । আরে, তোমাদের স্মরণ রামকে করতে হবে নাকি মন্দিরকে । কিন্তু কিছুই বুঝতে পারে না । তাই বাবা বোঝান যে, ভক্তিমার্গে তোমরা বলোও, হে ভগবান, তুমি এসে আমাদের সদগতি করো, কেননা তিনি, ওই একজনই হলেন সকলের সদগতিদাতা । আচ্ছা, তিনি কখন আসেন --তাও কেউ জানে না ।

বাবা বোঝান যে - রাবণই হলো তোমাদের শত্রু । রাবণের বিষয়টি তো আশ্চর্যের ! তাকে জ্বালানো হয় কিন্তু মরে না । রাবণ কি জিনিস, এ কথা কেউই জানে না । বাচ্চারা, এখন তোমরা জানো যে, অসীম জগতের পিতার কাছ থেকে তোমরা অবিনাশী উত্তরাধিকার পাও । মানুষ শিব জয়ন্তীও পালন করে কিন্তু শিবকে কেউই জানে না । সরকারকে তোমরাই বুঝিয়ে বলো যে, শিব তো ভগবান, তিনিই কল্পে - কল্পে এসে ভারতকে নরকবাসী থেকে স্বর্গবাসী, ভিখারী থেকে রাজকুমার তৈরী করেন । তিনিই পতিতকে পবিত্র করেন । তিনিই হলেন সকলের সদগতিদাতা । এই সময় সকল মানুষই এখানে আছে । ক্রাইস্টের আত্মাও কোনো না কোনো জন্মে এসেছেন । ফিরে কেউই যেতে পারে না । এদের সকলেরই সদগতি একমাত্র এই বড় বাবাই করেন । তিনি এই ভারতেই আসেন । বাস্তবে ভক্তি তাঁকেই করা প্রয়োজন, যিনি সদগতি করেন । সেই নিরাকার বাবা তো এখানে নেই । মানুষ তাঁকে সবসময় উপরে মনে করে স্মরণ করে । কৃষ্ণকে কেউ উপরে মনে করে না । আর সকলেরই নীচে, এখানে স্মরণ করা হয় । কৃষ্ণকেও এখনেই স্মরণ করবে । বাচ্চারা, তোমাদের হলো যথার্থ স্মরণ । তোমরা নিজেদের এই দেহ থেকে পৃথক, আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো । বাবা বলেন - তোমাদের কোনো দেহ স্মরণে আসা উচিত নয় । এইকথা খেয়াল রাখা জরুরী । তোমরা নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো । বাবা আমাদের এই সম্পূর্ণ বিশ্বের মালিক বানান । সারা সমুদ্র, সম্পূর্ণ ধরণী, সম্পূর্ণ আকাশের মালিক বানান । এখন তো কতো টুকরো - টুকরো । একে অপরের জায়গায় আসতেই দেয় না । ওখানে এই কথা হয়ই না । ভগবান তো একমাত্র বাবাই । এমন নয় যে সকল বাবাই, বাবা । এমন বলাও হয় যে হিন্দু - চীনী ভাই - ভাই, হিন্দু - মুসলিম ভাই - ভাই, কিন্তু অর্থ কেউ বুঝতেই পারে না । এমন কখনোই বলবে না যে, হিন্দু - মুসলিম ভাই - বোন । তা নয়, আত্মারা নিজেদের মধ্যে সব ভাই - ভাই কিন্তু এই কথা কেউই জানে না । শাস্ত্র ইত্যাদি শুনে সব সত্য - সত্য বলতে থাকে, অর্থ কিছুই বোঝে না । বাস্তবে হলো অসত্য আর মিথ্যা । সত্যখণ্ডে সবাই সত্য বলে । এখানে সব মিথ্যাই মিথ্যা । কাউকে যদি বলো, তুমি তো মিথ্যা বলেছো, তখনই রেগে যাবে । তোমরা যদি সত্যও বলো, তাহলেও কেউ না কেউ তোমাদের গালি দেবে । এখন বাবাকে তো তোমরা ব্রাহ্মণরাই জানো । বাচ্চারা, তোমরা এখন দৈবী গুণ ধারণ করছো । তোমরা জানো যে এখন পাঁচ তত্বও তমোপ্রধান । আজকাল মানুষ ভূতের পূজাও করে । ভূতদের কথাই মনে থাকে । বাবা বলেন যে, নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে স্মরণ করো । ভূতদের স্মরণ করো না । তোমরা গৃহস্থ জীবনে থেকে বুদ্ধির যোগ বাবার সাথে যুক্ত করো । তোমাদের এখন দেহী - অভিমানী হতে হবে । তোমরা যতো বাবাকে স্মরণ করবে, ততই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে । তোমরাই জ্ঞানের তৃতীয় নয়ন পাও ।

তোমাদের এখন বিকর্মজিৎ হতে হবে । ও হলো বিকর্মজিৎ সংবত । তোমরা যোগবলের দ্বারা বিকর্মের উপর জয় পাও । ভারতের যোগ তো বিখ্যাত । মানুষ জানেই না । সন্ন্যাসীরা বাইরে গিয়ে বলেন যে, আমরা ভারতের যোগ শেখাতে এসেছি, তাঁরা তো জানেই না, তাঁরা তো হঠযোগী । তাঁরা রাজযোগ শেখাতেই পারে না । তোমরা হলে রাজঋষি । ওরা হলো এই জগতের সন্ন্যাসী, তোমরা হলে অসীম জগতের সন্ন্যাসী । এ তো রাতদিনের তফাৎ । তোমাদের মতো ব্রাহ্মণরা ছাড়া আর কেউই রাজযোগ শেখাতে পারে না । এ হলো নতুন বিষয় । নতুনরা কেউই বুঝতে পারবে না তাই নতুনদের কখনো অনুমতি দেওয়া হয় না । এ তো ইন্দ্রসভা, তাই না । এই সময় সকলেরই হলো পাথর তুল্য বুদ্ধি । সত্যযুগে তোমরা তো জানো, সকলেরই হবে পরশ পাথর তুল্য বুদ্ধি । এখন হলো সঙ্গম যুগ । তোমাদের পাথর থেকে পরশ পাথরের মতো একমাত্র বাবা ছাড়া আর কেউই তৈরী করতে পারে না । তোমরা এখানে এসেছো পরশ বুদ্ধি হওয়ার জন্য । ভারত বরাবর সোনার পাখির দেশ ছিলো । এই লক্ষ্মী - নারায়ণ তো বিশ্বের মালিক ছিলো, তাই না । এঁরা কখন রাজত্ব করেছেন, এও কেউ জানেই না । আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর পূর্বে এঁদের রাজ্য ছিলো । এরপর তাঁরা কোথায় গেলেন ? তোমরা বলতে পারো, এনারা ৮৪ জন্ম ভোগ করেছেন । এখন তাঁরা তমোপ্রধান হয়েছেন আবারও বাবার দ্বারা সতোপ্রধান হচ্ছেন, ততত্বম (আমিই সেই )। এই জ্ঞান একমাত্র বাবা ছাড়া কোনো সাধুসন্ত ইত্যাদি দিতেই পারেন না । সে হলো ভক্তিমার্গ আর এ হলো জ্ঞানমার্গ । বাচ্চারা, তোমাদের কাছে যে ভালো - ভালো গান আছে, তা যদি তোমরা শোনো তাহলে রোমাঞ্চিত হয়ে যাবে । তোমাদের খুশীর পারদ একদম চড়ে যাবে । এরপর এই নেশাও স্থায়ী থাকা চাই । এ হলো জ্ঞান অমৃত । ওরা মদ্যপান করে তখন নেশা চড়ে যায় । এখানে এ তো হলো জ্ঞান অমৃত । তোমাদের নেশা চলে যাওয়া উচিত নয়, সর্বদা চড়ে থাকা উচিত । তোমরা এই লক্ষ্মী - নারায়ণকে দেখে কতো খুশী হও । তোমরা জানো যে, আমরা শ্রীমতে চলে আবার শ্রেষ্ঠাচারী হচ্ছি । এখানে দেখেও যেন তোমাদের বুদ্ধিযোগ বাবা আর তাঁর অবিনাশী উত্তরাধিকারের প্রতিই লেগে থাকে । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতাপিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ - সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বিকর্মজিৎ হওয়ার জন্য যোগবলের দ্বারা বিকর্মের উপর বিজয় প্রাপ্ত করতে হবে । এখানে দেখেও যেন বুদ্ধিযোগ বাবা আর তাঁর অবিনাশী উত্তরাধিকারের প্রতিই লেগে থাকে ।

২ ) বাবার আশীর্বাদের সম্পূর্ণ অধিকার প্রাপ্ত করতে হলে প্রকৃত সন্তান হতে হবে । এক বাবার শ্রীমতেই চলতে হবে । বাবা যা বোঝান তা নিজে বুঝে অন্যদেরও বোঝাতে হবে ।

বরদান:-
সম্পূর্ণতার আলোকের দ্বারা অজ্ঞানের পর্দা দূর করে সার্চ লাইট ভব

এখন প্রত্যক্ষতার সময় নিকটে আসছে, তাই অন্তর্মুখী হয়ে গুহ্য অনুভবের রত্নের দ্বারা নিজেকে ভরপুর করো, এমন সার্চ লাইট হও যাতে তোমার সম্পূর্ণতার আলোকে অজ্ঞানের পর্দা দূর হয়ে যায়, কেননা তোমরা এই ধরিত্রীর নক্ষত্ররা এই বিশ্বকে দোলাচলের হাত থেকে রক্ষা করে সুখী সংসার, স্বর্নিম সংসার বানাবে । তোমরা পুরুষোত্তম আত্মারা এই বিশ্বের সুখ - শান্তির শ্বাস - প্রশ্বাসের নিমিত্ত ।

স্লোগান:-
মায়া আর প্রকৃতির আকর্ষণ থেকে দূরে থাকো, তাহলে সদা প্রফুল্ল থাকবে ।