১৩-০৩-১৯ : প্রাতঃমুরলী ওঁম্ শান্তি! "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - যত বেশী সম্ভব অন্তর্মুখী হয়ে থাকার পুরুষার্থ করবে, বহির্মুখিতায় যেও না, তবেই তোমার পাপ ভস্মীভূত হবে"

প্রশ্ন:-

চড়তী (ঊর্ধ্বারোহী) কলার পুরুষার্থ কি - যা প্রত্যেক বাচ্চাকেই শিখিয়ে থাকেন বাবা ?

উত্তর:-

(১) বাচ্চারা, চড়তী কলায় আরোহণ করতে হলে বুদ্ধির যোগ একমাত্র বাবার সাথেই রাখতে হবে। অমুকে তেমন, সে তো এমন করে, তার মধ্যে এত সব অবগুণ - এসব ব্যাপারে যাবার প্রয়োজন নেই। অন্যের অবগুণ দেখেও মুখ ঘুরিয়ে নেবে। (২) পঠন-পাঠনের প্রতি অপ্রসন্ন হবে না। মুরলীর ভাল-ভাল পয়েন্টগুলি ধারণ করতে থাকো, তবেই চড়তী কলা হতে থাকবে।

ওঁম্ শান্তি!

এখন হচ্ছে জ্ঞানের ক্লাস আর প্রত্যুষে হয় যোগের ক্লাস। কিন্তু কি সেই যোগ ? -তা খুব ভালভাবে (ব্যাখ্যা করে) বোঝাতে হবে। প্রকৃত ধারণার অভাবে লোকেরা হঠ-যোগের ফাঁদে ফেঁসে যায়। এই হঠ-যোগ মানুষই মানুষকে শেখায়। কিন্তু এখানে শেখানো হয় রাজযোগ, যা স্বয়ং পরমাত্মা শিখিয়ে থাকেন। রাজযোগ শেখাবার মতন এমন কোনও রাজা-ই নেই যে রাজ-যোগ শেখাতে পারে। এই লক্ষ্মী-নারায়ণই হলেন ভগবতী-ভগবান, আর ওনারা এমন হতে পেরেছেন, যেহেতু আগে (তেমন মনোযোগ সহকারে) রাজযোগ শিখেছেন, তাই তো ভবিষ্যতের ভগবতী-ভগবান হয়েছেন। একমাত্র এই পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগেই এই জ্ঞান বোঝানো হয়। তাই ওনাদেরকে বলা হয় পুরুষোত্তম। যা পুরোনো আর নতুন দুনিয়ার মধ্যবর্তী সময়। পুরোনো অর্থাৎ বর্তমানের মনুষ্য-জগৎ আর নতুন অর্থাৎ দেবতাদের জগৎ। বর্তমানের শিশু থেকে বৃদ্ধ, মনুষ্য মাত্র সবাই এখন পুরোনো। নতুন দুনিয়ায়, নতুন আত্মারা- যারা দেবতা হন। ওনাদেরকে তখন আর মনুষ্য বলা হয় না। যদিও ওনারা মনুষ্যই কিন্তু দৈবী-গুণধারী। তাই তো ওনাদের দেবী-দেবতা বলা হয়। যারা সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। বাবা বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছেন - "কাম-বিকারই মনুষ্যের মহাশত্রু। রাবণের বিকারগুলির মধ্যে এটাই প্রথম ও প্রধান ভূত। কেউ ক্রোধ বশতঃ রেগে গিয়ে কিছু বললে, লোকেরা বলে ঘেউ-ঘেউ করছো কেন ? বিকারগুলির মধ্যে কাম আর ক্রোধ সবচেয়ে বড় শত্রু মানুষের। লোভ-মোহের বেলায় কিন্তু বলে না যে, ভেউ-ভেউ করছ। বিজ্ঞানের কারণেও মানুষের মধ্যে অহংকার আর ক্রোধ বাড়ে- কখনও যা খুব ক্ষতিকারকও হয়ে ওঠে। কাম-বিকারের ভূত যা আদি-মধ্য-অন্তকেও দুঃখ দেয়। একে অন্যের প্রতি কামের কাটারি চালাতেই থাকে। এইসব বিষয়গুলিকে ভালভাবে বুঝে নিয়ে অন্যদেরকেও বোঝাতে হবে।



বাচ্চারা, প্রকৃত বাবার থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার পাওয়ার প্রকৃত দিশা একমাত্র তোমরা বি.কে.-রা ছাড়া আর কেউই তা জানাতে পারবে না। একমাত্র তোমরাই সে দিশা দেখাতে পারো, কিভাবে অসীম-বেহদের এই বাবার কাছ থেকে এই অমূল্য অবিনাশী উত্তরাধিকার পাওয়া যায়। আর তোমাদের মধ্যে যদি কেউ সঠিক ভাবে বোঝাতে না পারো, বুঝতে হবে এই জ্ঞানের পঠন-পাঠনে সে মনোযোগী নয় আদৌ। তার বুদ্ধির যোগ এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত থাকে। এটাও একটা যুদ্ধক্ষেত্র। এমনটা মোটেই ভেবো না যেন - এটা আর এমন কি ব্যাপার! তুমি না চাইলেও, মনে যেমন ঝড়-তুফান আসবে তেমনি বিকল্প চিন্তাভাবনাও জড়ো হতে থাকবে মনের কোণে। তখন কিন্তু হতাশ হলে চলবে না। যোগের বল দ্বারাই মায়ারাণী পালাবে, যদিও তার জন্য অনেক পুরুষার্থ করতে হয়। নিজেদের কাজকর্ম নিয়ে কত ক্লান্ত হয়ে পড়ো তোমরা, যেহেতু সেই সময় নিজেরা দেহ-অভিমানে থাকো। আবার দেহ-অভিমানের কারণেই অনেক বেশী কথাবার্তায় অর্থাৎ বিস্তারে যেতে হয়। তাই বাবা জানাচ্ছেন- "দেহী-অভিমানী হও।" দেহী-অভিমানী হতে পারলেই, বাবা যেমন ভাবে বোঝাচ্ছেন, তুমিও অন্যকে ঠিক তেমন ভাবেই বোঝাতে পারবে। তবে আগে নিজেকে আত্মা ভেবে বাবাকে স্মরণ করবে। তাই তো বাবা শেখান, বহির্জগতের বাতাবরণে যেও না, অন্তর্মুখী হয়ে থাকো। যদিও বিশেষ কারণে বহির্মুখী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তবুও যখনই সময় পাবে চেষ্টা করবে অন্তর্মুখী হয়ে থাকবার - এমন ভাবে চলতে পারলে, তবেই পাপের কালিমার-জং ভষ্ম হবে। আর পাপ ভষ্ম না হলে, উচ্চ-পদের অধিকারী হওয়া যায় না। জন্ম-জন্মান্তরের পাপ জমা হয়ে আছে যে। সবচেয়ে বেশী পাপ ব্রাহ্মণদের, তার মধ্যেও আবার ক্রমিকানুসার আছে। সে তত উচ্চতায় পৌঁছোবে, যে যত নীচে ছিল। আগামীতে যে রাজকুমার হবে, তাকেই এখন ভিখারী হতে হয়। ড্রামার চিত্রপটকে খুব ভালভাবে জানা উচিত। যে সর্বপ্রথম এসেছে, তাকেই সর্বশেষে যেতে হয়। যে সর্বাগ্রে পবিত্র হয়, সেই আবার সর্বাগ্রে পতিত হয়। বাবা স্বয়ং তখনই আসেন, ওনার (ব্রহ্মার) অনেক জন্মের পরে অন্তিম জন্মে, যখন ওনার বাণপ্রস্থ অবস্থা। যদিও বর্তমান সময়কালটা শিশু থেকে বৃদ্ধ, ছোট-বড় সবারই বাণপ্রস্থ অবস্থা। বাবার উদ্দেশ্যেই তো বলা হয়-"সবার সদগতিদাতা।" আর তা ঘটে একমাত্র এই পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগেই। একথা বি.কে.-দের সর্বদাই যেন স্মরণে থাকে বর্তমান সময়টা পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ। যেমন জাগতিক লোকেদের জন্য এখন কলিযুগ। সঙ্গমযুগ কেবলমাত্র তোমাদের স্মরণে রাখার জন্য, যদিও ক্রমিক অনুসারেই।



বাচ্চারা, জাগতিক কাজকর্মের মধ্যে ব্যস্ত থাকতে হয় তোমাদের অনেকেরই। বাইরের জগৎ থেকে মুখ সরাতে পারলে তবেই প্রকৃত ধারণা আসে। যেমন বলা হয়, মৃত্যুকালে যার যেমন মনের স্থিতি থাকে, তার আগামী জন্ম হয় সেই অনুযায়ী .......। তাই তো মৃত্যু-পথযাত্রীকে কত ভাল ভাল গীত ও শ্লোক শোনানো হয়। জ্ঞান মার্গেও বলা হয়, তেমনটি করা উচিত। তা না হলে তো সেই ছিঃ ছিঃ দুনিয়াতেই আবার যেতে হবে। কিম্বা - অন্ধকে দিশা দেখাও প্রভু, এই ধরণের গীত নিজের নিজেদের ঘরে রাখা উচিত। যদিও এসব মনুষ্য দ্বারাই রচিত, অথচ তাদের কিন্তু সঙ্গমযুগের বিষয়ে কোনও ধারণাই নেই। বর্তমানে সবাই জ্ঞান নেত্রহীন অন্ধ। পরমাত্মা এসে তাদেরকে দিশা দেখায়। পরমাত্মা কেবলমাত্র দু-একজনকে তো আর দিশা দেখাবেন না - পুরো শিবশক্তি সেনাকেই সে দিশা জানাবেন। কিন্তু এই শক্তি সেনাদের (বি.কে.) কাজটা কি? - এরাই বাবার শ্রীমৎ অনুসারে নতুন দুনিয়া স্থাপন করে। তোমরা যে রাজযোগ শেখো, তা একমাত্র ভগবান ছাড়া আর কেউই তা শেখাতে পারে না। অথচ ভগবান কিন্তু নিরাকার। ওঁনার নিজের কোনও শরীর নেই, যেখানে অন্যেরা সবাই শরীরধারী। উচ্চতমেরও উচ্চে একমাত্র এই বাবা। যিনি স্বয়ং শিক্ষক হয়ে তোমাদেরকে পড়ান। তোমরা নিজেরাও তা জানো। তোমাদের মধ্যেও এই জানার ক্রমিক অনুসার আছে, তাই তাদেরকেও এ বিষয়ে সতর্ক করা উচিত। নামী-দামী সংবাদপত্রেও বিজ্ঞাপন আকারে তা প্রকাশিত হওয়া উচিত যে - মনুষ্য অর্থাৎ লোকেরা যে যোগ শেখায়, তা হলো হঠযোগ। এক ও একমাত্র পরমপিতা পরমাত্মা বাবাই প্রকৃত রাজযোগ শেখাতে পারেন, যার দ্বারা মুক্তি ও জীবনমুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু, হঠ-যোগের দ্বারা দুটি পাওয়া যায় না। হঠ-যোগ যা পরম্পরায় চলে আসছে, যথেষ্ট প্রাচীনও। আর এই রাজযোগ, কেবলমাত্র এই সঙ্গমযুগেই বাবা এসে শেখান।



এবার বাবা বলছেন - ভাষণ দেওয়ার আগে টপিক (বিষয়) নির্বাচন করো। কিন্তু তোমরা তা করো না। যেহেতু তোমরা খুব কম সংখ্যকই এমন আছো, যারা শ্রীমৎ অনুসারেই চলো। প্রথমে ভাষণ লিখে, তারপর তা ফাইনাল করে, খুব ভালভাবে স্মরণে রাখবে। যেহেতু বক্তৃতার মতন করে তা ভাষণ করতে হয়। কাগজের লেখা দেখে পড়ে শোনাবে না অবশ্যই। এভাবে বিচার সাগর মন্থন করে ভাষণ করার সাহস কেবল তারই হয়, যে নিজেকে আত্মা মনে করে তারপর ভাষণ করতে শুরু করে। তখন যেন এই ভাব থাকে যে, আমি আমার আত্মা ভাইকেই তা শোনাচ্ছি, তবেই তা শক্তিশালী ভাষণ হবে। তেমন ভাবে ভাষণ করাটাও অনেক উন্নতির দিশা। যেমন পান-সাজানোও তেমন সহজ কাজ (মাসীর ঘর) নয় মোটেই। এমনি করে যতই তুমি পারদর্শী হতে থাকবে, মায়াও তোমাকে ততই আক্রমণ করতে থাকবে। অঙ্গদ, মহাবীর - এরাও তো পরাক্রমশালী বীর ছিলেন, তাই তো তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আহ্বান করে বলতে পেরেছিলো- রাবণ দেখাক দেখি তাদেরকে একচুলও নাড়াতে পারে নাকি। এটা অবশ্য স্থুল কিছু দেখাবার ব্যাপার নয়। এগুলি উপমা দেওয়া হয়, যা পরে শাস্ত্রের গল্প হয়ে যায়। এই কান'-ই একদা পরমাত্মা বাবার সুবর্ণ-রঞ্জিত প্রকৃত জ্ঞান শুনে জ্ঞানী হওয়ার পরে আবার ভক্তি-মার্গের আজব সব লোকগাঁথা শুনে শুনে একদম নির্বোধে পরিণত হয়। ভক্তি-মার্গে যেমন মাথাও ঠুকতে হয় - তেমনি আবার টাকা-পয়সাও খোয়াতে হয়। অধোগতিই হতে থাকে কেবল। এটাই হলো ৮৪-জন্মের সিঁড়ির কাহিনী। ভক্তি মার্গের ধারা কেবলই অধোগতির৷ বাবা এসে এখন ঊর্ধ্বগতির দিশা দেখাচ্ছেন, অর্থাৎ বি.কে.-দের এখন ঊর্ধ্বারোহীর চড়তী কলা। তবে বুদ্ধির যোগ যদি বাবার সাথে না থাকে, তবে কিন্তু অধোগতিতে নামতেই থাকবে। বাবাকে স্মরণ করতে থাকলেই তো ঊর্ধ্বগতিতে এগোতে পারবে। অবশ্য পরিশ্রমও করতে হবে এর জন্য - কিন্তু অনেক বাচ্চাই যে অমনোযোগী। নিজের কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে বাবাকে আর বাবার জ্ঞানকেই ভুলে যায়। ফলে মায়াও তাদের মনে নানাভাবে তুফানে তুলতে থাকে - অমুকে এমন, সে এমন সব কাজ করে, এই ব্রাহ্মণী এরকম, তার মধ্যে এতসব অবগুণ আছে, ইত্যাদি, ইত্যাদি। কিন্ত, তোমার তাতে কি? সর্বগুণ সম্পন্ন তো কেউই নয়। কারও অবগুণকে না দেখে, কেবল গুণ-টুকুই তো গ্রহণ করতে হবে। অবগুণ দেখলে সেদিক থেকে মুখ ঘুড়িয়ে নিতে হবে। কেবলমাত্র বাবার মুরলী শোনো আর তা ধারণ করতে থাকো। তুমি তোমার বুদ্ধিতে এই ভাবকে দৃঢ় করে নাও, মুরলী হলো বাবার বাক্য অর্থাৎ সম্পূর্ণরূপে সঠিক। তবুও যা সঠিক মনে হবে না, তা ছেড়ে দিলেই হলো। কিন্তু এই পাঠের প্রতি অবহেলা করবে না কখনও। ব্রাহ্মণীর বা পাঠের প্রতি বিমুখ হওয়া মানেই বাবার প্রতি বিমুখ হওয়া। এমন অনেক বাচ্চাই আছে, যারা আর সেন্টারেই যায় না। তা সে যে যেমনই হোক না কেন, তোমার সম্পর্ক তো কেবল মুরলীর সাথে। যে কেউই মুরলী পড়ুক না কেন, মুরলী থেকে ভাল-ভাল পয়েন্ট ধারণা করে তা ধারণ করবে। কারও সাথে কথা বলার ইচ্ছা না থাকলে, চুপচাপ মুরলী শুনে চলে যেতে পারো। কিন্তু এমন বিমুখ হবে না যেন, সেন্টারে যাওয়াই বন্ধ করে দিলে। এসবেও কিন্তু ক্রমিক অনুসার আছে।



মিষ্টি বাচ্চারা, এটা খুবই ভাল, খুব ভোরে উঠেই তোমরা স্মরণের যোগে বসো। তখন বাবা আসেন তোমাদেরকে সার্চ-লাইটের আলোর পরশ দিতে। বাবা (ব্রহ্মা) ওনার অনুভবের কথা শোনাচ্ছেন - উনি যখন যোগে বসেন, যে বাচ্চা অনন্য সেই বাচ্চার কথাই প্রথমে মনে পড়ে। তা সে বিদেশেই থাকুক বা কলকাতাতেই থাকুক। সর্বাগ্রে অনন্য বাচ্চাকেই স্মরণ করে তাকে সার্চ-লাইটের পরশ দেন বাবা। যদিও তোমরা বাবার সামনেই বসে আছো, তবুও বাবা আগে তাকেই স্মরণ করেন, যে কখনও সেবার কাজে সর্বদাই ব্যস্ত থাকতো। সেই আত্মা অবশ্যই এখানকার বা আশেপাশের কোনও ঘরে জন্ম নিয়ে থাকবে। তাই তাকে স্মরণ করে বাবা সর্বাগ্রে সার্চ-লাইটের আলোর পরশ তো দেবেনই। যদিও সবাই বাবার বাচ্চা। কিন্তু যারা খুব মনোযোগ সহকারে বেশী করে সেবার কার্য করে - সেসব তো বাবা জানবেনই। তাই তখন বাবা বলেন- আগে এখানে সার্চ-লাইটের আলো দাও, তো তেমনই করা হয়। এখানে বাবা যে ডবল ইঞ্জিনের (শিববাবা + ব্রহ্মাবাবা)। ব্রহ্মাবাবা যে এত উচ্চ-পদ পান, নিশ্চয়ই এনার মধ্যেও অনেক শক্তি আছে। যদিও ব্রহ্মা বলেন- সর্বদাই তোমরা ভাববে যে, শিববাবাই তোমাদের পড়াচ্ছেন। অতএব ওনাকেই স্মরণ করা উচিত। অবশ্য এটাও তোমরা বুঝতে পারো এটা একটা দুই আত্মার শক্তিশালী প্রদীপ। যা আর কারও মধ্যে এমন দুটি আত্মা একত্রে নেই। তাই তো এই দুই আত্মা-প্রদীপের সামনে এলেই, তেজ ও শক্তিতে ভরপুর হয়ে তরতাজা হও তোমরা। প্রভাতের এই সময়টাও খুব কার্যকরী। প্রাতঃস্নান সেরে ছাদে গিয়ে শান্ত পরিবেশে একান্তে গিয়ে বসে পড়ো। তোমাদের জন্যই তো বাবা এত বড় বড় ছাদের ব্যবস্থা করেছেন। পাদরীরাও এমন সাইলেন্সে গিয়ে বসে। যদিও তারা যীশুখৃষ্টকেই স্মরণ করবে। যেহেতু প্রকৃত গড-কে জানে না তারা। প্রকৃত গড-কে স্মরণ করলে তো শিবলিঙ্গের বিষয়টাও বুদ্ধিতে এসে যেতো। তারা তাদের মতন করে তাতেই আনন্দ পায়। তোমাদের কিন্তু তাদের গুণগুলিকেও ধারণ করা উচিত। যেমন দত্তাত্রেয় সবার গুণগুলিকেই গ্রহণ করতো। বাচ্চারা, তোমরাও এক একজন দত্তাত্রেয়, যদিও তা ক্রমিক অনুসারে। একান্তে সাধনার জন্য এই জায়গাটা খুবই ভাল। অতএব যতটা পারো নিজেদের জন্য (পুণ্য) অর্জন করে নাও। বাইরে বেরোলেই তো জাগতিক সবকিছু স্মরণে আসবে। ভোর চার'টার সময়টা খুব ভাল সময়। বাইরে যাবার প্রয়োজনই পড়ে না তখন। ঘরেও বসা হবে আবার পাহারাও দেওয়া হবে। যজ্ঞের প্রতিটি বস্তুকেই রক্ষা করতে হবে, যেহেতু যজ্ঞের এক-একটি সামান্য বস্তুও অনেক মূল্যবান, তাই সতর্কতা সর্বাগ্রে। যদিও এখানে তেমন কেউ আসবে না। লোকেরা জানে, এখানে গয়না-গাঁটি, টাকা-পয়সা কিছুই নেই। এমন কি এটা কোনও মন্দিরও নয়। তবুও চুরি তো আজকাল সর্বত্রই হয়। পুরোনো জিনিসপত্র চুরি করে বিদেশেও নিয়ে যায় আজকাল। জগৎ-টাই এমন নোংরা হয়ে গেছে যে। কাম-বিকারই মানুষের মহাশত্রু। এই কাম-বিকার মানুষকে সবকিছুই ভুলিয়ে দেয়।



বাচ্চারা, খুব প্রত্যুষে তোমাদের একটা ক্লাস হয়- এভারহেল্দী (সুস্বাস্থ্য গঠনের জন্য যোগ) হওয়ার, তারপর এই আর একটা ক্লাস হচ্ছে এভার-ওয়েলদী/জ্ঞান-রত্নে ধনবান হওয়ার (মুরলী ক্লাস) । অর্থাৎ বাবার সাথে যেমন স্মরণের যোগে যোগযুক্ত হতে হবে, তেমনি এই জ্ঞানের পাঠের বিচার-সাগরও নিরন্তর মন্থন করতে হবে। বাবাকে স্মরণ করার সময় অবিনাশী উত্তরাধিকার যেন স্মরণে আসে। এটাই সহজ সরল যুক্তি। বাবা যেহেতু বীজরূপ, তাই কল্পবৃক্ষের আদি-মধ্য-অন্ত সবই ওঁনার জানা। যা তোমরাও জেনেছো এখন। এই বীজরূপকেই স্মরণ করলে পবিত্র হওয়া যায়, আর স্বদর্শণ-চক্রের স্মরণ দ্বারা চক্রবর্তী রাজা হওয়া যায় অর্থাৎ ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ রাজা হওয়া যায়। লোকেরা তো রাজা বিক্রম আর রাজা বিকর্মাজীত দুজনের দুই সময়কালের ক্যালেণ্ডারকে একত্রে মিশিয়ে এক করে দিয়েছে। রাবণের আগমন থেকে বিক্রম সংবৎ শুরু হলো, তারিখও বদলে গেল। ১ থেকে ২৫০০ বছর পর্যন্ত প্রথম ক্যালেণ্ডারে। এরপরে সেখান থেকে আবার ২৫০০ বছর । এই দুয়ে মিলে মোট ৫ হাজার পর্যন্ত। হিন্দুরা তাদের নিজেদের প্রকৃত ধর্মকেই জানে না। একমাত্র এই একটাই ধর্ম-যারা নিজের প্রকৃত ধর্মকে ভুলে অধর্মী বা বিধর্মী হয়। এমনকি ধর্ম-স্থাপকেও ভুলে যায় তারা। তোমরা বি.কে.-রা তাদেরকে বোঝাতে পারো, কবে থেকে শুরু এই আর্য-সমাজের। আর্য অর্থাৎ সত্যযুগের, যারা সংশোধিত। এখনকার যারা, তারা সবাই অনার্য (অজ্ঞানী)! বাবা এসে পুনরায় সবার কু-সংস্কারগুলির সংশোধন করান। যা বি.কে.-দের বুদ্ধিতে পুরো চক্রটাই বর্তমান। ভাল বাচ্চারা, যারা খুব ভালভাবে পুরুষার্থ করে, তারা নিজেরাও তা জানে। তাই তো তারা অন্যদের পুরুষার্থে সাহায্যও করে। আমাদের এই বাবা যে দীনবন্ধু-কৃপাসিন্ধু (গরীব নিবাজ)! দূর-দূরান্তের গ্রামগুলিতেও এই সংবাদ যেন পৌঁছে যায়। মাত্র ৬-খানা চিত্র থাকলেই চলবে। ৮৪-জন্ম চক্রের চিত্রটি খুবই সুন্দর। এই বিষয়ের উপরেই খুব ভাল করে বোঝাবে। কিন্তু মায়া এতই প্রবল যে, সবকিছুই ভুলিয়ে দেয়। অবশ্য এখানে তো ডবল-লাইট (শিব+ব্রহ্মা) একত্রিত হয়ে বসে আছে। বাবার অর্থাৎ শিবের আর এনার অর্থাৎ ব্রহ্মার - যেখানে দু-জনেরই লাইট খুব পাওয়ারফুল। কিন্তু ব্রহ্মাবাবা বলেন- তোমরা কেবল শিববাবার পাওয়ারফুল লাইটকে ধরে থাকো। তবুও বাচ্চারা এনার দিকেই আসতে চায়। তাদের ধারণা, ব্রহ্মার কাছেই তো ডাবল পাওয়ারফুল লাইট পাওয়া যাবে। কিন্তু বাবা স্বয়ং যেখানে বলছেন। এমনও তো প্রবাদ আছে- "তুমি যা বলবে কেবল তাই শুনবো, তুমি যা বলতে বলবে কেবল তাই বলবো।" এর অর্থ এমন নয় যে, এখানেই বসে থাকতে হবে। যদিও ধারণার জন্য শুরুতে ৮-দিনই যথেষ্ট। আর বসাতেই যদি চাও, তবে তো এখানে অনেক বিশাল সংখ্যায় তা হয়ে যাবে তখন।



বিশ্বের রঙ্গমঞ্চে যা কিছুই ঘটে চলেছে সবকিছুই ড্রামার চিত্রপট অনুসারে। এতে তোমাদের আন্তরিক খুশি-ই হওয়া উচিত। আর সেই খুশী অনুভব করতে পারে তারাই, যারা অন্যকেও নিজের মতন করে তৈরি করায়। প্রজার বন্দোবস্ত করতে পারলে, তবেই তো তুমি রাজা হতে পারবে। অবশ্য পাসপোর্টেরও প্রয়োজন আছে। এ বিষয়ে বাবার কাছে জানতে চাইলে, বাবার চট্-জলদি উত্তর - আগে নিজেকে বিচার করো- কোনও অবগুণ নেই তো তোমার মধ্যে? স্তুতি বা নিন্দা সবকিছুই সহ্য করতে হবে। যজ্ঞে যা পাওয়া যাবে, তাতেই নিজেকে খুশীতে রাখতে হবে। যজ্ঞের ভোজনকেই মনের আনন্দে পছন্দ করতে হবে। সন্ন্যাসীরা তো ভোজনের পর থালা ধুয়েও জল খায়, যেহেতু ভোজনের মহত্ত্ব তাদের কাছে অনেক। আগামীতে এমনও দিন আসবে, যখন আনাজ-পত্র পাওয়াই যাবে না। অতএব সবকিছুরই সহ্য শক্তি থাকতে হবে। তবেই তো সফলকাম হতে পারবে। *আচ্ছা!*



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১. কারও কোনও অবগুণ দেখলে মুখ ঘুড়িয়ে নেবে। পঠন-পাঠনের প্রতি বিমুখ হবে না। ★দত্তাত্রেয়র মতন সবার গুণটুকুকেই ধারণ করবে।

২. জাগতিক সবকিছু থেকে বুদ্ধিকে সরিয়ে নিয়ে অন্তর্মুখী হয়ে থাকার অভ্যাস করতে হবে। জাগতিক কাজকর্মের মধ্যে থেকেও দেহী-অভিমানী হয়ে থাকতে হবে। বেশী কথাবার্তার মধ্যে থাকবে না।

বরদান:-

নিজে সুখ স্বরূপ হয়ে প্রত্যেক আত্মকেই সুখী করে মাস্টার সুখদাতা হও

যে বাচ্চারা সদা যথার্থ কর্মই করে, তারা সেই কর্মের প্রত্যক্ষফল, খুশী আর শক্তি পায়। ফলে তাদের মনেও খুশী থাকে, সংকল্প মাত্রও তাদের মনে দুঃখের লহর আসতে পারে না। সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণ অর্থাৎ যাদের দুঃখের নাম-গন্ধও থাকে না- যেহেতু তারা যে সুখদাতার বাচ্চা। এরূপ সুখদাতার বাচ্চারা স্বয়ং মাস্টার-সুখদাতাই হয়। তারা প্রত্যেক আত্মাকেই সদা সুখই দেবে। কখনোই তারা কারওকে দুঃখ দেবে না এবং নিজেরাও কোনও দুঃখ নেবে না।

স্লোগান:-

মাস্টার দাতা হয়ে সহযোগ, স্নেহ আর সহানুভূতি প্রদান করাই হল - ক্ষমাশীল আত্মার লক্ষণ ।