13.07.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- সকলকে এই আনন্দ-সংবাদ শোনাও যে, পুনরায় এখন বিশ্বে শান্তি স্থাপিত হচ্ছে, বাবা এসেছেন অদ্বৈত আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম স্থাপন করতে"

প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা, তোমাদের বার-বার কেন স্মরণে থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয় ?

উত্তরঃ -
কারণ এভার হেল্দী এবং সদা পবিত্র হওয়ার জন্যই এই স্মরণ, তাই যখনই সময় পাবে (বাবার) স্মরণে থাকবে। সকাল-সকাল স্নানাদি সেরে একান্তে ঘোরাফেরা করো অথবা বসে পড়ো। এখানে তো রোজগারই রোজগার। স্মরণের দ্বারাই বিশ্বের মালিক হয়ে যাবে।

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি বাচ্চারা জানে যে, এ'সময় সমগ্র বিশ্বই শান্তি চায়। এই আওয়াজ শোনা যায় যে, বিশ্বে শান্তি কিভাবে আসবে ? কিন্তু বিশ্বে শান্তি কখন ছিল যে এখন পুনরায় চায় -- তা কেউ জানে না। বাচ্চারা, তোমরাই কেবল জানো যে, বিশ্বে শান্তি তখন ছিল, যখন লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল। এখনও পর্যন্ত লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দির স্থাপন করতেই থাকে। তোমরা যেকোনো কাউকে বলতে পারো যে, ৫ হাজার বছর পূর্বে বিশ্বে শান্তি ছিল, এখন পুনরায় স্থাপিত হচ্ছে। কে স্থাপন করেন ? তা মানুষ জানে না। বাচ্চারা, বাবা তোমাদেরকে বুঝিয়েছেন, তোমরাও কাউকে বোঝাতে পারো। তোমরা লিখতেও পারো। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কারোর সাহস নেই, যে কাউকে লেখে। সংবাদপত্রের আওয়াজ তো শোনে -- সকলেই বলে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। লড়াই ইত্যাদি হলে তখন মানুষ বিশ্বে শান্তি স্থাপনের জন্য যজ্ঞ রচনা করে। কোন্ যজ্ঞ ? রুদ্র-যজ্ঞ রচনা করবে। বাচ্চারা এখন জানে যে, এ'সময় বাবা যাঁকে রুদ্র শিবও বলা হয়ে থাকে তিনি জ্ঞান-যজ্ঞ রচনা করেছেন। বিশ্বে শান্তি এখন স্থাপিত হচ্ছে। সত্যযুগ নতুন দুনিয়ায় যেখানে শান্তি ছিল, অবশ্যই সেখানে রাজত্বকারী-রাও ছিল। নিরাকারী দুনিয়ার জন্য তো এমন বলা হবে না যে, বিশ্বে শান্তি আসুক। ওখানে (পরমধাম) তো শান্তিই শান্তি। বিশ্ব তো মানুষেরই। নিরাকারী দুনিয়াকে বিশ্ব বলা যাবে না। ওটা হলো শান্তিধাম। বাবা বার-বার বোঝাতে থাকেন তথাপি কেউ ভুলে যায়, কারো-কারোর বুদ্ধিতে থাকে তারা বোঝাতেও পারে। বিশ্বে শান্তি কেমন ছিল, এখন পুনরায় শান্তি কিভাবে স্থাপিত হচ্ছে -- একথা কাউকে বোঝানো অতি সহজ। ভারতে যখন আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের রাজ্য ছিল তখন একটিই ধর্ম ছিল। বিশ্বে শান্তি ছিল, এ অতি সহজ করে বোঝানো এবং লেখার মতন কথা। বড়-বড় মন্দির যারা তৈরী করে তাদেরকেও তোমরা লিখতে পারো --- বিশ্বে শান্তি ৫ হাজার বছর পূর্বে ছিল, যখন এনাদের রাজ্য ছিল, যাদের মন্দির তোমরা তৈরী করো। ভারতেই এঁদের রাজ্য ছিল, আর কোনো ধর্ম ছিল না। এ তো সহজ আর বুদ্ধির কথা। ড্রামানুসারে ভবিষ্যতে সবকিছু বুঝে যাবে। তোমরা এই খুশীর খবর সকলকে শোনাতে পারো, সুন্দর-সুন্দর কার্ডে ছাপাতেও পারো। বিশ্বে শান্তি আজ থেকে ৫ হাজার বছর পূর্বে ছিল যখন নতুন দুনিয়া নতুন ভারতে ছিল। লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল। পুনরায় এখন বিশ্বে শান্তি স্থাপিত হচ্ছে। এ'কথা স্মরণ করলেও, বাচ্চারা তোমাদের অত্যন্ত খুশী হওয়া উচিত। তোমরা জানো, বাবাকে স্মরণ করলেই আমরা বিশ্বের মালিক হয়ে যাবো। বাচ্চারা, পুরুষার্থ-ই সম্পূর্ণ প্রাপ্তির আধার। বাবা বুঝিয়েছেন যে, যখনই সময় পাবে বাবাকে স্মরণ করবে। সকালে স্নান সেরে তারপর একান্তে পরিক্রমা করো অথবা বসে পড়ো। এখানে যতটা সম্ভব উপার্জন করে নিতে হবে। এভার-হেল্দী এবং সদা পবিত্র হওয়ার জন্যই স্মরণ। যদিও এখানে সন্ন্যাসীরা পবিত্র হয় তথাপি রোগগ্রস্ত তো অবশ্যই হয়। এ হলোই রোগী (রোগগ্রস্থ) দুনিয়া। ওটা হলো নিরোগী দুনিয়া। এও তোমরা জানো। দুনিয়ায় কেউ কি জানে যে, স্বর্গে সকলে নিরোগী হয়। স্বর্গ কাকে বলে তা কারোরই জানা নেই। তোমরাও এখনই জেনেছো। বাবা বলেন --- কারোর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তোমরাও বোঝাতে পারো। মনে করো, কেউ নিজেকে রাজা বা রাণী বলে। কিন্তু এখন রাজা-রানী তো কেউ হয় না। এও বুদ্ধি থেকে নিষ্কাশিত করে দিতে হবে। মহারাজা-মহারানী শ্রীলক্ষ্মী-নারায়ণের রাজধানী এখন স্থাপিত হচ্ছে। তাহলে অবশ্যই এখানে কোনো রাজা-রানী থাকা উচিত নয়। আমরা রাজা-রানী, একথাও ভুলে যাও। সাধারণ মানুষের মতো থাকো। এদের কাছেও টাকা-পয়সা, সোনা ইত্যাদি থাকে তো, তাই না! এখন আইন-পাস করা হচ্ছে, এ'সব নিয়ে নেবে। তখন সাধারণ মানুষের মতন হয়ে যাবে। এমন যুক্তিও রচিত হচ্ছে। গায়নও রয়েছে, তাই না! 'কারোর চাপা পড়ে রবে ধূলায়, কারোর খাবে রাজায়....' এখন রাজা কারোরটা খায় না। রাজারা তো নেই। প্রজাই প্রজারটা খাচ্ছে। আজকালকার রাজ্য তো অতি বিস্ময়কর। যখন রাজাদের নাম সম্পূর্ণরূপে সমাপ্ত হয়ে যায় তখনই পুনরায় রাজধানী স্থাপিত হয়। এখন তোমরা জানো যে, আমরা এখন ওখানে যাচ্ছি, বিশ্বে যেখানে শান্তি থাকে। সে হলোই সুখধাম, সতোপ্রধান দুনিয়া। আমরা ওখানে যাওয়ার জন্যই পুরুষার্থ করছি। কন্যারা, আড়ম্বরের সঙ্গে বসে বোঝাও, শুধু বাইরের কৃত্রিম আড়ম্বর চাই না। আজকাল আর্টিফিসিয়ালও অনেককিছু বেরিয়েছে, তাই না! এখানে পাক্কা ব্রহ্মাকুমার-কুমারী চাই।

তোমরা ব্রাহ্মণরা বাবার সঙ্গে বিশ্বে শান্তি স্থাপনের কার্য করছো। এমন শান্তি স্থাপন করা বাচ্চাদের, অত্যন্ত শান্তচিত্ত এবং মিষ্টি হওয়া উচিত কারণ তারা জানে -- আমরা বিশ্বের শান্তি স্থাপনের জন্য নিমিত্ত হয়েছি। তাহলে প্রথমে আমাদের অত্যন্ত শান্ত হওয়া উচিত। কথাবার্তাও অত্যন্ত ধীরে-ধীরে, অত্যন্ত রয়্যালিটি-পূর্বক বলতে হবে। তোমরা হলে গুপ্ত। তোমাদের বুদ্ধি অবিনাশী জ্ঞান-রত্নের ভান্ডারে পরিপূর্ণ। তোমরা হলে বাবার উত্তরাধিকারী, তাই না! বাবার নিকটে যত রত্ন-ভান্ডার(খাজানা) রয়েছে, তোমাদের সে'সব ভরে নেওয়া উচিত। সমগ্র ধন-সম্পদ তোমাদের, কিন্তু সে'সাহস নেই তাই নিতে পারো না। যারা নিতে পারবে তারাই উচ্চপদের অধিকারী হবে। কাউকে বোঝানোর অত্যন্ত শখ থাকা উচিত। আমাদেরকেই পুনরায় ভারতকে স্বর্গে পরিনত করতে হবে। কাজ-কর্মাদি করার সাথে-সাথে এ'সেবাও করতে হবে, তাই বাবা অধিক তাড়াতাড়ি করার কথা বলেন। তথাপি হয় সবই ড্রামানুসারেই। প্রত্যেকেই নিজ সময়ানুসারে চলছে, (বাবা) বাচ্চাদেরকেও পুরুষার্থ করাচ্ছেন। বাচ্চাদের নিশ্চয়তা রয়েছে যে এখন অতি অল্প সময় বাকি রয়েছে। এ হলো আমাদের অন্তিম জন্ম, পুনরায় আমরা স্বর্গে যাবো। এ হলো দুঃখধাম, পুনরায় সুখধামে পরিনত হয়ে যাবে। হতে সময় লাগে, তাই না! এ কি সামান্য কোনো বিনাশ, না তা নয়। যেমন নতুন ঘর তৈরী হয় তখন নতুন ঘরের কথাই স্মরণে আসে। ওটা হলো পার্থিব জগতের কথা, তাতে কোনো সম্বন্ধাদি পরিবর্তিত হয়ে যায় কি, না যায় না। এই পুরানো দুনিয়াই তো পরিবর্তিত হয়ে যাবে তাই যে ভালভাবে পড়বে সে রাজবংশে আসবে(জন্ম নেবে)। তা নাহলে প্রজায় চলে যাবে। বাচ্চাদের কত খুশী হওয়া উচিত। বাবা বুঝিয়েছেন যে, ৫০-৬০ জন্ম তোমরা সুখভোগ করো। দ্বাপরেও তোমাদের কাছে অনেক ধন-সম্পত্তি থাকে। দুঃখ তো পরে হয়। যখন রাজারা পরস্পর লড়াই করে, দলাদলি হয় তখন থেকে দুঃখ শুরু হয়। পূর্বে আনাজপাতিও অত্যন্ত সস্তা ছিল। পরে খরা ইত্যাদি হতে থাকে। তোমাদের কাছে অনেক ধন-সম্পদ থাকে। সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান ধীরে-ধীরে আসে। বাচ্চারা, তোমাদের অন্তরে অত্যন্ত খুশী থাকা উচিত। স্বয়ং যদি খুশীতে না থাকে, শান্তিতে না থাকে তবে সে বিশ্বে শান্তিস্থাপন কিভাবে করবে ? অনেকের বুদ্ধিতে অশান্তি থাকে। বাবা আসেনই শান্তির বরদান দিতে। তিনি বলেন, আমাকে স্মরণ করো তাহলে তমোপ্রধান হওয়ার কারণে যে আত্মা অশান্ত হয়ে পড়েছে সে স্মরণের দ্বারাই সতোপ্রধান শান্ত হয়ে যাবে। কিন্তু বাচ্চাদের থেকে স্মরণের পরিশ্রম(খবর) পৌঁছোয় না। স্মরণে না থাকার কারণেই মায়ার তুফান আসে। স্মরণে থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র না হলে সাজাভোগ করতে হবে। পদও ভ্রষ্ট হয়ে যাবে। তখন এমন মনে কোরো না যে, স্বর্গে তো যাবো, তাই না! সাজাভোগ করে সামান্য(পাই-পয়সার) সুখভোগ করা, তা খুব ভাল কি ? মানুষ উচ্চপদলাভের জন্য কত পুরূষার্থ করে। এমন নয় যে, যা পেয়েছো সেই-ই অনেক ভাল। এমন কেউই নেই, যে পুরুষার্থ করবে না। ভিক্ষা করে যে ভিক্ষুক,সেও নিজের পাই-পয়সা জমা করে। অর্থের ক্ষিদে সকলেরই আছে। অর্থের দ্বারা সর্ব বিষয়েই সুখ পাওয়া যায়। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, আমরা বাবার থেকে অগাধ ধন-সম্পদ লাভ করি। অল্প পুরুষার্থ করলে ধন-সম্পদের প্রাপ্তিও অল্প হবে। বাবা ধন-সম্পদ দেন, তাই না! বলাও হয় যে -- ধন-সম্পদ থাকলে আমেরিকা ইত্যাদি দেশ ঘুরে এসো। তোমরা যত বাবাকে স্মরণ করবে আর সার্ভিস করবে ততই সুখ পাবে। বাবা প্রতিটি বিষয়ে পুরুষার্থ করিয়ে উচ্চ অর্থাৎ মহান করে দেন। (লৌকিকে) মনে করে -- বাচ্চারা আমাদের কুলের নাম গৌরবান্বিত করবে। বাচ্চারা, তোমরাও ঈশ্বরীয় কুলের, বাবার নামের মহিমা প্রচার করবে। ইনিই হলেন সত্য-পিতা, সত্য-শিক্ষক, সদ্গুরু। সর্বোচ্চ পিতা হলেন সর্বোচ্চ সত্যিকারের সদ্গুরুও। এও বোঝানো হয় যে, গুরু একজনই হয়, দ্বিতীয় কেউ হয় না। সকলের সদ্গতিদাতা একজনই। সেও তোমরাই জানো। এখন তোমরা পারশবুদ্ধিসম্পন্ন হচ্ছো। পারশপুরীতে রাজা-রানীও পারশনাথ হয়। কত সহজ কথা। ভারতে স্বর্ণযুগ ছিল, বিশ্বে শান্তি কিভাবে হয়েছিল তা তোমরা এই লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্রের দ্বারা বোঝাতে পারো। স্বর্গে (হেভেনে) শান্তি ছিল, এখন এ হলো নরক(হেল)। এখানে অশান্তি আছে। হেভেনে লক্ষ্মী-নারায়ণ থাকে, তাই না! কৃষ্ণকে 'লর্ড কৃষ্ণ'-ও বলা হয়ে থাকে। কৃষ্ণ ভগবানও বলে। এখন লর্ড তো অনেকেই, যাদের কাছে প্রচুর জমি-জায়গা অর্থাৎ ল্যান্ড আছে তাদেরকেও বলা হয় -- 'ল্যান্ড-লর্ড'। কৃষ্ণ সেই বিশ্বের প্রিন্স ছিল, যে বিশ্বে শান্তি ছিল। এও কেউ জানে না যে, রাধা-কৃষ্ণই লক্ষ্মী-নারায়ণ হয়ে যায়।

তোমাদের উদ্দেশ্যে লোকেরা কত কথা বানিয়ে বলে, ঝামেলা করে, তারা বলে যে এরা তো ভাই-বোন বানিয়েবাজিয়ে দেয়। তাদের বোঝানো হয় প্রজাপিতা ব্রহ্মার মুখ-বংশজাত ব্রাহ্মণ, যাদের উদ্দেশ্যে গাওয়া হয়, 'ব্রাহ্মণ দেবী-দেবতায় নমঃ'। ব্রাহ্মণরাও তাদের নমন করে।কারণ তারা হলো সত্যিকারের ভাই-বোন। পবিত্র থাকে। তবে কেন পবিত্রদের সম্মান করবে না। কন্যা পবিত্র হলে তাও পায়ে পড়ে। বাইরে থেকে ভিজিটররা এলে, তারাও কন্যাদের নমন করে। এ'সময় কন্যাদের এত সম্মান কেন ? কারণ তোমরা হলে ব্রহ্মাকুমার-কুমারী, তাই না ! মেজরিটি হলো তোমাদের কন্যাদের। শিবশক্তি পান্ডব-সেনার গায়নও রয়েছে। এরমধ্যে পুরুষও আছে, কিন্তু মেজোরিটি মাতাদের রয়েছে, তাই গায়ন করা হয়। তাই যারা ভালভাবে পড়ে, তারা উচ্চ(পদমর্যাদার) হয়ে যায়। এখন তোমরা সমগ্র ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রী-জিওগ্রাফী জেনে গেছো। চক্রের মাধ্যমেও বোঝানো অতি সহজ। ভারত পারশপুরী ছিল, এখন প্রস্তরপুরী। তাহলে সকলেই প্রস্তরনাথ হয়ে গেলো, তাই না! বাচ্চারা, তোমরা এই ৮৪ চক্রকেও জানো। এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে তাই বাবাকে স্মরণ করতে হবে, যারফলে পাপ কেটে যায় । কিন্তু বাচ্চাদের থেকে স্মরণের পরিশ্রম পৌঁছোয় না কারণ অলসতা। সকালে ওঠে না। আর যদি ওঠেও তাতে আনন্দ উপভোগ করে না। নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, পরে শুয়ে পড়ে। আশাহত হয়ে যায়। বাবা বলেন -- বৎস, এ তো যুদ্ধক্ষেত্র, তাই না! এতে আশাহত হওয়া উচিত নয়। স্মরণের শক্তির মাধ্যমেই মায়ার উপর বিজয়লাভ করতে হবে। এখানে পরিশ্রম করা উচিত। অনেক ভাল-ভাল বাচ্চা আছে যারা যথার্থ রীতিতে স্মরণ করে না। চার্ট রাখলে লাভ-ক্ষতি জানা যায়। বলা হয়, চার্ট আমার স্থিতির উপর আশ্চর্যজনক কাজ করেছে। এমন কোনো বিরল ব্যক্তিই চার্ট রাখে। এও অতি পরিশ্রমের। বহু সেন্টারে মিথ্যাবাদীরা অর্থাৎ ছল-চাতুরে লোকেরাও গিয়ে বসে পড়ে, বিকর্ম করতে থাকে। বাবার ডায়রেক্শন-কে গুরুত্ব না দিয়ে অনেক লোকসান করে দেয়। বাচ্চারা কি জানে যে -- নিরাকার বলে না সাকার ? না জানে না। বাচ্চাদের বার-বার বোঝানো হয় যে -- সর্বদা মনে করবে যে, শিববাবা ডায়রেক্শন দেন। তাহলে তোমাদের বুদ্ধি ওখানেই ব্যস্ত থাকবে।

আজকাল যখন বাগদান হয় তখন চিত্র দেখানো হয়, সংবাদপত্রেও দেয় যে এর জন্য এমন-এমন ভাল ঘর চাই। দুনিয়ার কি হাল হয়ে গেছে, আর কি হওয়ার কথা। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, এখন অনেক মত-মতান্তর রয়েছে। তোমাদের ব্রাহ্মণদের হলো এক মত। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার মত। তোমরা শ্রীমতের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করো, তাই বাচ্চাদেরকেও শান্তিতে থাকতে হবে। যে করবে সে-ই পাবে, তা নাহলে ক্ষতি হয়ে যাবে। জন্ম-জন্মান্তরের ক্ষতি। বাচ্চাদের বলেন, নিজেদের লাভ-ক্ষতি দেখো। চার্ট দেখো, আমরা কাউকে দুঃখ দিইনি তো ? বাবা বলেন, এখন তোমাদের এক-একটি সেকেন্ড অতি মূল্যবান। শাস্তিভোগ করে সামান্যকিছু পাওয়া, এ কোনো বড় বিষয় নয়। তোমরা তো অতি ধনশালী হতে চাও, তাই না! প্রথম-প্রথম যারা পূজ্য ছিল তারাই পূজারী হবে। এত ধন-সম্পদ হবে, সোমনাথ মন্দির তৈরী করবে তবে তো পূজা করবে!সেই হিসেবও রয়েছে। পুনরায় বাচ্চাদের বোঝান, চার্ট রাখলে অনেক লাভ হবে। নোট করা উচিত। সকলকে সমাচার দিতে থাকো, চুপ করে বসে থেকো না। ট্রেনেও তোমরা বুঝিয়ে লিটারেচর দিয়ে দাও। বলো, এ হলো কোটি টাকার সম্পত্তি (মিলকিয়ত)। যখন ভারতে লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল তখন বিশ্বে শান্তি ছিল। এখন বাবা পুনরায় এসেছেন রাজধানী স্থাপন করতে। তোমরা বাবাকে স্মরণ করো তবেই বিকর্ম বিনাশ হবে এবং বিশ্বে শান্তি আসবে। আচ্ছা।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) আমরা বিশ্বে শান্তি স্থাপনের নিমিত্ত ব্রাক্ষণ, আমাদের অতি শান্তচিত্ত হয়ে থাকতে হবে, অত্যন্ত ধীরে বা রয়্যালিটি-পূর্বক বার্তালাপ করতে হবে।

২) অলসতা পরিত্যাগ করে স্মরণের পরিশ্রম করতে হবে। কখনও আশাহত হবে না।

বরদান:-
বিকার-রূপী সর্পকেও শয্যায় পরিণত করা বিষ্ণু-সম সদা বিজয়ী নিশ্চিন্ত ভব

ব্যাখা :-* বিষ্ণুর যে শেষ-শয্যা অর্থাৎ শেষনাগের উপর শয়ন দেখানো হয, তা হলো তোমাদের, বিজয়ী বাচ্চাদের সহজযোগী জীবনের স্মরণচিহ্ন। সহজযোগের মাধ্যমে বিকার-রূপী সর্পও অধীন হয়ে যায়। যে বাচ্চা বিকার-রূপী সর্পের উপর বিজয়প্রাপ্ত করে তাকে আরাম-শয্যায় পরিণত করে, সে বিষ্ণু-সম প্রফুল্লিত এবং নিশ্চিন্ত থাকে। তাই এই চিত্রকে সদা নিজের সম্মুখে দেখো যে, আমি বিকারকে অধীনস্থ করা অধিকারী (আত্মা)। আত্মা সদা আরামের স্থিতিতে নিশ্চিন্ত।

স্লোগান:-
বালক এবং মালিকের ব্যালেন্স দ্বারা পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপায়িত করো।