13-09-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 22-03-86 মধুবন


*সুখ, শান্তি এবং খুশির আধার - পবিত্রতা*


আজ বাপদাদা চতুর্দিকে তাঁর সমস্ত হোলিনেস এবং হ্যাপিনেস বাচ্চাদের দেখছেন l হোলি আর হ্যাপি হওয়ার উভয় বিশেষত্বের এমন বিপুলসংখ্যক বাচ্চাদের সংগঠিত ভাবে এত বড় সভা সমগ্র ড্রামাতে আর কখনো হতেই পারে না l আজকাল যদিও বা কাউকে হাইনেস বা হোলিনেসের টাইটেল দেওয়া হয়েও থাকে, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে যদি দেখ তবে সেই পবিত্রতা, মহত্ত্ব কিন্তু দেখা যাবে না l বাপদাদা দেখছিলেন এত মহান পবিত্র আত্মাদের এমন সংগঠন কোথায় হতে পারে ! প্রত্যেক বাচ্চার মধ্যে এই দৃঢ় সঙ্কল্প থাকে, 'শুধু কর্মে নয় বরং মন-বাণী-কর্ম এই তিনেই পবিত্র হতে হবে l' সুতরাং পবিত্র হওয়ার এই শ্রেষ্ঠ দৃঢ় সঙ্কল্প আর কোথাও থাকতে পারে না l কোথাও অবিনাশী হতে পারে না, কোথাও সহজ হতে পারে না l অথচ তোমরা সবাই পবিত্রতা ধারণ করা কত সহজ মনে করো, কারণ বাপদাদার থেকে তোমরা নলেজ পেয়েছ আর নলেজের শক্তি দ্বারা তোমরা স্বীকৃত হয়েছ যে "আমি আত্মার অনাদি ও আদি স্বরূপই পবিত্র l যেইমাত্র তোমাদের আদি অনাদি স্বরূপের স্মৃতি এসে গেছে তো এই স্মৃতি তোমাদের শক্তিশালী বানিয়ে সহজ অনুভব করাচ্ছে l তোমরা এখন জেনেছ যে তোমাদের বাস্তবিক স্বরূপ পবিত্র l এই সঙ্গ দোষের স্বরূপ বা প্রভাব অপবিত্র l সুতরাং বাস্তবিকতা আপন করে নেওয়া সহজ হয়ে গেছে, তাই না !

স্বধর্ম, স্বদেশ, স্ব-এর পিতা আর স্ব স্বরূপ, স্ব কর্ম সবকিছুর নলেজ তোমাদের প্রাপ্ত হয়েছে l সুতরাং নলেজের শক্তি দ্বারা কঠিন অনেক সহজ হয়ে গেছে l আজকালকার আত্মারা, যাদের মহান আত্মা বলা হয় তারাও যে বিষয়কে অসম্ভব মনে করে, আন-ন্যাচারাল মনে করে, তোমরা পবিত্র আত্মারা সেই অসম্ভবকে কতো সহজে অনুভব করেছ l পবিত্রতা আত্মস্থ করা সহজ নাকি কঠিন ? সারা বিশ্বের সামনে তোমরা চ্যালেঞ্জের সাথে বলতে পারো যে পবিত্রতা তো আমাদের স্ব-স্বরূপ l যেখানে পবিত্রতা সেখানে নিজে থেকেই সুখ আর শান্তি থাকে, কারণ সেটাই পবিত্রতার শক্তি l পবিত্রতা ফাউন্ডেশন l পবিত্রতাকে মা বলা হয় l আর সুখ-শান্তি তাঁর সন্তান l সুতরাং যেখানে পবিত্রতা আছে সেখানে আপনা থেকেই সুখ শান্তি থাকে, তাইতো তোমরা হ্যাপিও l কখনো তোমরা উদাস হতে পারো না, সদা খুশি থাক l যখন তোমরা হোলি, তখন হ্যাপিও অবশ্যই থাক l পবিত্র আত্মাদের লক্ষণ সদা খুশি l সেটাইতো বাপদাদা দেখছিলেন যে কতো নিশ্চয়বুদ্ধি পবিত্র আত্মারা বসে আছে ! দুনিয়ার লোকে সুখ শান্তির জন্য দৌড়ে বেড়াচ্ছে l কিন্তু সুখ শান্তির ফাউন্ডেশন তো পবিত্রতা l সেই ফাউন্ডেশনকে জানে না, সেইজন্য পবিত্রতার ফাউন্ডেশন মজবুত না হওয়ার কারণে অল্পকালের সুখ শান্তি প্রাপ্ত হলেও, তা' এই আছে তো এই নেই ! সদাকালের সুখ শান্তি পবিত্রতা ব্যতীত অসম্ভব l তোমরা সবাই ফাউন্ডেশনকে আপন করে নিয়েছ, সেইজন্য সুখ শান্তির জন্য তোমাদের ছুটোছুটি করতে হয় না l সুখ শান্তি, পবিত্র-আত্মাদের কাছে নিজে থেকেই আসে l যেমন বাচ্চা মায়ের কাছে নিজে থেকেই যায়, তাই না ! যতই আলাদা করে দাও, তবুও মায়ের কাছে অবশ্যই যাবে l সুতরাং সুখ শান্তির মা পবিত্রতা l যেখানে পবিত্রতা আছে, সেখানে সুখ শান্তি খুশি আপনা থেকেই আসে l তাহলে, তোমরা কি হয়েছ ? বেগমপুরের বাদশাহ l এই পুরানো দুনিয়ার বাদশাহ নয়, কিন্তু বেগমপুরের বাদশাহ l এই ব্রাহ্মণ পরিবার বেগমপুর অর্থাৎ সুখের সংসার l সুতরাং, এই সুখ-সংসার বেগমপুরের বাদশাহ হয়ে গেছ তোমরা l *হিজ হোলিনেসও হয়েছ, তাই না !* মুকুটও আছে, সিংহাসনও আছে l আর বাকী কম কি আছে ! কতো সুন্দর মুকুট ! লাইটের মুকুট, পবিত্রতার চিহ্ন, আর তোমরা বাপদাদার হৃদয় সিংহাসনে বসে আছ l সুতরাং বেগমপুরের বাদশাহদের মুকুটও অনুপম, সিংহাসনও অনুপম l তোমাদের বাদশাহীও বিকল্পহীন তো তোমরাও বিকল্পহীন l

আজকালকার মনুষ্যাত্মাদের এত দৌড়ঝাঁপ করতে দেখে বাপদাদারও বাচ্চাদের প্রতি করুণা হয় l তারা কতো চেষ্টা করে যাচ্ছে l চেষ্টা অর্থাৎ ছুটোছুটি, তারা অনেক পরিশ্রমও করে, কিন্তু প্রাপ্তি কি ? সুখ হবে, কিন্তু সুখের সাথে তাদের কোন না কোন দুঃখও প্রাপ্ত হবে l আর কিছু না হলেও অল্পকালের সুখের সাথে চিন্তা আর ভয় এই দুটো জিনিস তো হবেই হবে ! সুতরাং যেখানে চিন্তা আছে সেখানে নিশ্চিন্ততা হতে পারে না l যেখানে ভয় আছে সেখানে শান্তি হতে পারে না l সুতরাং সুখের সাথে এই দুঃখ অশান্তির কারণ আছেই আর তোমরা সকলে দুঃখের কারণের নিবারণ খুঁজে পেয়েছ l এখন তোমরা সমস্ত সমস্যার সমাধান করে সমাধান স্বরূপ হয়ে গেছ, তাই না ! সমস্যা আসে তোমাদের সাথে খেলা করতে l খেলার জন্য আসে নাকি ভয় দেখানোর জন্য ! ভয় পাও না তো, তাই না ! যেখানে সর্বশক্তির ভান্ডার তোমাদের জন্মসিদ্ধ অধিকার হয়ে গেছে, তাহলে কম কি থেকে যাচ্ছে, তোমরা তো পরিপূর্ণ, তাই না ! মাস্টার সর্বশক্তিমানের সামনে সমস্যা কিছুই না l হাতির পায়ের নিচে যদি পিঁপড়ে চাপা পড়ে তাহলে কি দেখা যাবে ? সুতরাং সমস্যাও তোমরা সব মহারথীদের সামনে পিঁপড়ে সমান l খেলা মনে করলে খুশি থাক, পরিস্থিতি যতই বড় হোক, ছোট হয়ে যায় l আজকাল বুদ্ধির খেলা হিসেবে বাচ্চাদের কি করানো হয় ? যদি বাচ্চাদের অঙ্কের হিসেব কষতে দেওয়া হয় তারা বিরক্ত হয়ে যাবে, কিন্তু খেলাচ্ছলে তারা তাদের অঙ্ক খুশির সাথে করবে l তাহলে সমস্যাসঙ্কুল পরিস্থিতিও তোমাদের কাছে পিঁপড়ে সমান, তাই না ! যেখানে পবিত্রতা, সুখ শান্তির শক্তি আছে সেখানে স্বপ্নেও দুঃখ অশান্তির তরঙ্গ আসতে পারে না l শক্তিশালী আত্মাদের সামনে এই দুঃখ আর অশান্তি সামনে আসার সাহস পায় না l পবিত্র আত্মারা সদা উৎফুল্ল থাকে, এটা স্মৃতিতে রাখ l অনেক রকম বিভ্রান্তি, ঠোকর খাওয়া, দুঃখ অশান্তির জাল বিছানো রাস্তায় ভ্রমিত হওয়া থেকে তোমরা সরে এসেছ, কারণ শুধু একটা বিষয়েই তো দুঃখ আসে না ; বরং একটা দুঃখই তার সব সন্তান-সন্ততি নিয়ে হাজির হয় l যাই হোক, তোমরা সেই জাল থেকে বেরিয়ে এসেছ l এভাবেই নিজেদের ভাগ্যবান ভাবো তাই না !

যারা অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত আজ তারা এখানে বসে আছে l অস্ট্রেলিয়া থেকে যারা আগত, বাপদাদা তাদের তপস্যা ও মহাদানী-ভাবের বিশেষত্বের বর্ণন করেন l সদা সেবার জন্য মনের প্রবল আকাঙ্ক্ষার তপস্যা অন্য অনেক আত্মাকে এবং তোমরা সব তপস্বী আত্মাকে ফল দিচ্ছে l ক্ষেত্রভূমি (ধরণী) অনুসারে বিধি আর বৃদ্ধি উভয়ই দেখে বাপদাদা এক্সট্রা খুশি l যতই হোক, অস্ট্রেলিয়া এক্সট্রা অর্ডিনারী l সেবার ক্ষেত্রে সবার মধ্যে ত্যাগের ভাবনা খুব তাড়াতাড়ি আসে, সেইজন্যই তো এত সেন্টার খুলেছে l তারা ভাবে আমাদের যেমন ভাগ্য প্রাপ্ত হয়েছে তেমন অন্যদেরও ভাগ্য তৈরি করতে হবে l দৃঢ় সঙ্কল্প করাই তপস্যা l সুতরাং ত্যাগ আর তপস্যার বিধি দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হচ্ছে l সেবার মনোভাব অন্য অনেক সীমিত ভাব সমাপ্ত করে দেয় l এই ত্যাগ আর তপস্যা সফলতার আধার হয়েছে, বুঝেছ ! তোমাদের সংগঠনের শক্তি আছে, একজন কেউ বলে তো অন্যজন করে l এমন নয় যে একজন বললে অন্যজন বলে যে এতো হতেই পারে না l এতে সংগঠন ভেঙে যায় l একজন বললো, অন্যজন সোৎসাহে সহযোগী হয়ে প্র্যাকটিক্যালি করলো, এটাই সংগঠনের শক্তি l পাণ্ডবদেরও সংগঠন আছে, তারা কখনো তুমি আমিতে জড়ায় না l তারা শুধু বলে 'বাবা বাবা' আর সব পরিস্থিতি সমাপ্ত হয়ে যায় l দ্বন্দ্বের উৎপত্তি হয় 'আমি তুমি' 'তোমার আমার' বোধে l বাবাকে সামনে রাখলে কোনও সমস্যাই আসতে পারে না l আর সদা নির্বিঘ্ন আত্মারা তীব্র পুরুষার্থ দ্বারা উড়তি কলার অনুভব করে l বহুকালের নির্বিঘ্ন স্থিতিই শক্তিশালী স্থিতি l বারবার যারা বিঘ্ন-বশ হয় তাদের ফাউন্ডেশন কাঁচা হয়ে যায় আর বহুকালের নির্বিঘ্ন আত্মাদের ফাউন্ডেশন মজবুত হওয়ার কারণে নিজেরাও শক্তিশালী আর অন্যদেরও শক্তিশালী বানায় l যেকোন ভাঙা জিনিসকে জুড়লে তা' দুর্বল হয়ে যায় l অনেক কালের শক্তিশালী আত্মা, নির্বিঘ্ন আত্মা অন্তেও নির্বিঘ্ন হয়ে পাস উইথ অনার হয়ে যায় অথবা ফার্স্ট ডিভিশনে যায় l অতএব, সদা এই লক্ষ্য রাখো যে বহুকালের নির্বিঘ্ন স্থিতির অনুভব অবশ্যই করতে হবে l এইরকম ভেবোনা যে বিঘ্ন এসেছিল আর তোমরা সেটা সমাপ্ত করতে সক্ষম হয়েছ, সুতরাং কোনও ব্যাপার নয় l কিন্তু বারংবার বিঘ্নের উৎপত্তি আর সেটার সমাপ্তি, তা'তে টাইম ওয়েস্ট হয়ে যায় l এনার্জি ওয়েস্ট হয়ে যায় l সেই টাইম আর এনার্জি সেবায় নিয়োজিত যদি করো তাহলে একের পদম গুন জমা হয়ে যাবে l সেইজন্য বহুকালের নির্বিঘ্ন আত্মারা, বিঘ্ন-বিনাশক রূপে পূজিত হয় l বিঘ্ন-বিনাশক টাইটেল পূজ্য আত্মাদের l 'আমি বিঘ্ন-বিনাশক পূজ্য আত্মা' এই স্মৃতিতে নির্বিঘ্ন হয়ে নিরন্তর অগ্রগতিতে উড়তি কলায় ওড়ো আর ওড়াও l বুঝেছ ! নিজের বিঘ্ন বিনাশ তো করেছ, কিন্তু অন্যদের জন্য বিঘ্ন-বিনাশক হতে হবে l দেখ, তোমরা এমন নিমিত্ত আত্মাকেও (ডাক্তার নির্মলা ) পেয়েছ, যাকে শুরু থেকে কখনো বিঘ্নের সম্মুখীন হতে হয়নি l সদা নির্লিপ্ত অথচ প্রিয় থেকেছে l সামান্য স্ট্রিক্ট থাকত, সেটাও আবশ্যক l যদি এমন স্ট্রিক্ট টিচার না পাওয়া যেত তাহলে এতটা বৃদ্ধি হতো না l এর আবশ্যকতাও আছে l যেমন, রোগ সরানোর জন্য তেতো ওষুধেরও প্রয়োজন হয়, তাই না ! সেইরকমই ড্রামা অনুসারে নিমিত্ত আত্মাদের সঙ্গেরও তো প্রয়োজন হয়ই l ঠিক যেভাবে আসা মাত্র সে নিজেই সেবার নিমিত্ত হয়েছে, সেভাবেই আত্মারা অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সাথে সাথে সেন্টার খোলার সেবাতে তারা নিমিত্ত হয়েছে l ত্যাগের এই ভাবনার ভাইব্রেশন সমগ্র অস্ট্রেলিয়া ও এর সম্পর্কিত যে জায়গাগুলো আছে সেখানে সেই ভাবে বৃদ্ধি হচ্ছে l তপস্যা আর ত্যাগ যার মধ্যে আছে, সেই শ্রেষ্ঠ আত্মা l সব আত্মাই তো তীব্র পুরুষার্থী, কিন্তু পুরুষার্থী হয়েও নিজের বিশেষত্বে প্রভাবিত করার প্রবণতা অবশ্যই থাকে l সম্পন্ন তো সবাই এখন হচ্ছে, তাই না ! সম্পন্ন হওয়ার সার্টিফিকেট এখনো কারও প্রাপ্ত হয়নি l কিন্তু সম্পন্নতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, নম্বরানুক্রমে l যারা অস্ট্রেলিয়া থেকে তারা লাকি l ত্যাগের বীজ ভাগ্যপ্রাপ্ত করতে তোমাদের সক্রিয় করে তুলছে l শক্তি সেনাও বাপদাদার অতি প্রিয়, কারণ তারা সাহসিনী l যেখানে সাহস আছে সেখানে বাপদাদার সহায়তা সদা সাথে আছে l সদা সন্তুষ্ট থাক তোমরা, তাই না ! সন্তুষ্টতা, সফলতার আধার l তোমরা সবাই সন্তুষ্ট আত্মা, তাইতো সফলতা তোমাদের জন্ম-সিদ্ধ অধিকার l বুঝেছ ! সুতরাং যারা অস্ট্রেলিয়া থেকে তারা নিয়ারেস্ট এবং ডিয়ারেস্ট, সেইজন্য তাদের উপর এক্সট্রা আবদার রয়েছে l আচ্ছা !

*অব্যক্ত মুরলী থেকে বাছাই করা মহাবাক্য (প্রশ্ন - উত্তর )*

*প্রশ্নঃ-* শক্তিসেনার নাম কোন সময়ে মহিমান্বিত হবে ?

*উত্তরঃ-* যখন সংগঠিত রূপে একের গভীরে নিমজ্জিত হওয়ার স্থিতি বা একটাই শুদ্ধ সংকল্পে স্থিত হওয়ার অভ্যাস হবে l সংগঠনে একজনেরও দ্বিতীয় কোনও সংকল্প হবে না l সবাই একনিষ্ঠায়, অশরীরী হওয়ার একই শুদ্ধ সংকল্পে স্থিত হওয়ায় অভ্যস্ত হবে, তখনই সারা বিশ্বে শক্তি সেনার নাম মহিমান্বিত হবে l

*প্রশ্নঃ-* জাগতিক সৈনিক যুদ্ধের ময়দানে কিসের ভিত্তিতে বিজয়ী হয় ? তোমাদের বিজয়ের কাড়া-নাকাড়া কবে বাজবে ?

*উত্তরঃ-* জাগতিক সৈনিক যখন যুদ্ধের ময়দানে যায় তখন তারা এক অর্ডারেই চারিদিকে গুলি চালাতে শুরু করে দেয় l একই সময়, একই অর্ডারে চারিদিকে প্রতিরোধ গড়ে তোলে আর তখনই তারা বিজয়ী হয় l ঠিক একইভাবে, যখন আধ্যাত্মিক সেনা সংগঠিতভাবে, একই সঙ্কেতে আর একই সেকেন্ডে, একরস স্থিতিতে সবাই যখন স্থিত হয়ে যাবে, তখনই বিজয়ের কাড়া-নাকাড়া বাজবে l

*প্রশ্নঃ-* বাবার কোন অর্ডারকে প্র্যাকটিক্যালি অনুসরণ করে এভাররেডি হবে, যাতে এই কলিযুগী পর্বত উঠে যাবে ?

*উত্তরঃ-* বাবা এই অর্ডার করবেন - এক সেকেন্ডে সবাই একরস স্থিতিতে স্থিত হয়ে যাও l যখন সবার সব সঙ্কল্প এক সংকল্পে সমাহিত হয়ে যাবে তখন এই কলিযুগী পাহাড় উঠবে l এই এক সেকেন্ড সদাকালের সেকেন্ড হয়, এমন নয় যে এক সেকেন্ডে স্থিত হলে আর তারপরে নীচে নেমে এলে !

*প্রশ্নঃ- প্রত্যেক ব্রাহ্মণ বাচ্চার দায়িত্ব কি ?

*উত্তরঃ-* পুরো সংগঠনকে একরস স্থিতিতে স্থিত করানোর জন্য সহযোগী হওয়া- এটাই প্রত্যেক ব্রাহ্মণের দায়বদ্ধতা l তোমাদের যেমন সদা শুভ ভাবনা, কল্যাণের ভাবনা থাকে এবং চেষ্টা থাকে অ-জ্ঞানী আত্মাদের জ্ঞানের আলো দেওয়ার, ঠিক তেমনই নিজস্ব দৈবী এই সংগঠনকেও একরস স্থিতিতে স্থিত করার জন্য ও সংগঠনের শক্তি বাড়ানোর জন্য পরস্পরের প্রতি বিভিন্ন রূপে সচেষ্ট হও l এর জন্য প্ল্যান বানাও l এমন আত্ম-সন্তুষ্ট হয়োনা যে 'আমি নিজরূপে ঠিক আছি l'

*প্রশ্নঃ-* পরমাত্ম-জ্ঞানের বিশেষত্ব কি ?

*উত্তরঃ-* সংগঠনের শক্তিই এই পরমাত্ম-জ্ঞানের বিশেষত্ব l ব্রাহ্মণ সংগঠনের এই বিশেষত্ব দেবতা রূপে প্র্যাকটিক্যালি এক ধর্ম, এক রাজ্য, এক মত হিসেবে অব্যাহত থাকে l

*প্রশ্নঃ-* কোন এক দৃষ্টিভঙ্গির সম্পূর্ণ পরিবর্তনই সম্পূর্ণতার কাছে নিয়ে আসবে ?

*উত্তরঃ-* প্রত্যেকের মধ্যে দেহ-অভিমানের মূল সংস্কার আছে, যেটাকে তোমরা নেচার বলো, সেই সংস্কার অংশমাত্রও যেন না থাকে l নিজেদের এই সংস্কারের পরিবর্তন করে বাপদাদার সংস্কারের ধারণা করাই লাস্ট পুরুষার্থ l

*প্রশ্নঃ-* বাপদাদার প্রত্যক্ষতা কোন আধারে হবে ?

*উত্তরঃ-* যখন প্রত্যেকের মধ্যে বাপদাদার সংস্কার দেখা যাবে l বাপদাদার সংস্কার কপি করে, তাঁর সমান হলে তবেই সময় আর শক্তি বাঁচবে আর সারা বিশ্ব বাপদাদাকে সহজে প্রত্যক্ষ করতে পারবে l ভক্তিমার্গে তো লোকগাথা আছে 'যেদিকে তাকাই, সেদিকে শুধুই তুমিই তুমি' কিন্তু প্র্যাকটিক্যালে এখানে যাকেই দেখবে, যেদিকে দেখবে সেদিকে বাপদাদার সংস্কারই দেখতে পাবে l

বরদান:-
কর্তৃত্বপরায়ণতার (দম্ভ) অংশমাত্রকেও ত্যাগ করে স্বমানধারী পুণ্য আত্মা ভব*

যে স্বমানধারী বাচ্চারা সবাইকে মান দেয়, তারা দাতা হয় l দাতা অর্থাৎ দয়ালু l তাদের মধ্যে কখনো কোনও আত্মার প্রতি সঙ্কল্প মাত্রও কর্তৃত্বভাব থাকে না - এটা এইরকম কেন ? এটা করা উচিত নয়, হওয়া উচিত নয়, এটাকে জ্ঞান বলে কি ... এই সবই সূক্ষ্ম রূপে কর্তৃত্বের অংশ l কিন্তু স্বমানধারী পুণ্য আত্মারা হতমানদের আধ্যাত্মিক উন্নতিসাধন করবে, সহযোগী বানাবে, তারা কখনও এই সঙ্কল্প করতে পারে না যে এতো নিজের কর্মের ফল ভোগ করছে, যেমন করবে তেমন তো অবশ্যই পেতে হবে .... তাদের অধঃপাত হওয়াই উচিত ...l তোমরা সব বাচ্চার এইরকম সঙ্কল্প হতে পারে না l

স্লোগান:-
সন্তুষ্টতা আর প্রসন্নতার বিশেষত্বই উড়তি কলার অনুভব করায় l