13.09.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- তত্ব-সহ সকল মানুষমাত্রকেই পরিবর্তন করার বিশ্ব-বিদ্যালয় কেবল একটিই রয়েছে, এখান থেকেই সকলের সদ্গতি হয়"

প্রশ্নঃ -
বাবার প্রতি নিশ্চয় হলেই কোন্ রায়ে তৎক্ষণাৎ গুরুত্ব দেওয়া উচিত ?

উত্তরঃ -
যখন নিশ্চয় হয়েছে যে বাবা এসেছেন তখন বাবার সর্বপ্রথম রায় হলো, এ চোখ দিয়ে যা কিছু দেখছো সে'সব ভুলে যাও। একমাত্র আমার মতেই চলো। এই রায়কে তৎক্ষণাৎ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ২) যখন তোমরা অসীম জগতের বাবার হয়েছো তখন পতিতদের সঙ্গে তোমাদের লেন-দেন করা উচিত নয়। নিশ্চয়বুদ্ধিসম্পন্ন বাচ্চাদের কখনও কোনো কথায় সংশয় আসতে পারে না।

ওম্ শান্তি ।
এই ঘর (তোমাদের) ঘরও আবার ইউনিভার্সিটিও। এ'কেই গড ফাদারলী ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি বলা হয়, কারণ সমগ্র জগতের সকল মানুষমাত্রেরই এখানে সদ্গতি হয়। প্রকৃত ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি হলো এ'টাই। ঘরের ঘরও হলো, মাতা-পিতার সম্মুখে বসে রয়েছো আবার ইউনিভার্সিটিও, স্পীরিচুয়্যাল ফাদার বসে রয়েছেন। এ হলো আধ্যাত্মিক নলেজ যা আধ্যাত্মিক পিতার মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়। স্পীরিচুয়্যাল নলেজ স্পীরিচুয়্যাল ফাদার ব্যতীত আর কোনো মানুষ দিতে পারে না। ওঁনাকেই জ্ঞানের সাগর বলা হয় আর জ্ঞানের দ্বারাই সদ্গতি হয়, সেইজন্য জ্ঞানের সাগর, সকলের সদ্গতিদাতা একমাত্র বাবা-ই। বাবার দ্বারা সমগ্র ব্রহ্মান্ডের মানুষই শুধু নয়, প্রতিটি বস্তু ৫ তত্বও সতোপ্রধান হয়ে যায়। সকলের সদ্গতি হয়ে যায়। এ অতি বুঝবার মতন বিষয়। এখন সকলের সদ্গতি হতে হবে। পুরোনো দুনিয়া আর দুনিয়ায় বসবাসকারী সকলেই বদলে যাবে। এখানে যাকিছু দেখো সে'সব বদলে নতুন হয়ে যাবে। গাওয়াও হয় -- এখানে মায়া মিথ্যা, কায়া মিথ্যা.... এ অসত্য খন্ড হয়ে যায়। ভারত সত্যখন্ড ছিল, এখন অসত্য খন্ড(স্থান) হয়ে গেছে। রচয়িতা আর রচনার বিষয়ে মানুষ যা বলবে তা মিথ্যা। এখন তোমরা বাবার দ্বারা জেনেছো -- ভগবানুবাচ। ভগবান তো একমাত্র বাবা-ই, তাই না ! তিনি হলেন নিরাকার, প্রকৃতপক্ষে সমস্ত আত্মাই নিরাকার, পরে এখানে সাকার রূপ ধারণ করে। ওখানে আকার থাকে না। আত্মারা মূলবতন বা ব্রহ্ম মহাতত্বে নিবাস করে। ও'টা হলো আমাদের আত্মা‍দের ঘর, ব্রহ্ম মহাতত্ব। এ হলো আকাশ তত্ব, এখানে সাকারে ভূমিকা পালিত(পার্ট) হয়। ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রী-জিওগ্রাফী রিপীট হয়। এর অর্থও বোঝে না, বলে রিপীট হয়। গোল্ডেন এজ, সিলভার এজ.... তারপর কি ? পুনরায় গোল্ডেন এজ(স্বর্ণযুগ) অবশ্যই আসবে। সঙ্গমযুগ একটিই হয়ে থাকে। সত্যযুগ-ত্রেতা অথবা ত্রেতা আর দ্বাপরের সঙ্গম বলা হয় না, সে'টা বলা ভুল হয়ে যায়। বাবা বলেন -- আমি প্রতি কল্পে, কল্পের সঙ্গমযুগে আসি। আমায় আবাহনও করে তখনই যখন অপবিত্র হয়ে যায়। বলে যে -- তুমি পবিত্র করতে এসো। পবিত্র হয়ই সত্যযুগে। এখন হলো সঙ্গম, একে কল্যাণকারী সঙ্গমযুগও বলা হয়ে থাকে। আত্মা ও পরমাত্মার মিলনের সঙ্গম, একে কুম্ভও বলা হয়। ওরা আবার দেখায় নদীর মিলন। বলে যে, দুই নদীর মিলন, তৃতীয়টি আবার গুপ্ত নদী। এও মিথ্যে। গুপ্ত নদী কখনো হতে পারে কি? বিজ্ঞানীরাও মানবে না যে কোনো গুপ্ত নদী হতে পারে। তীর নিক্ষেপ করায় গঙ্গা বেরিয়ে এসেছে, এ'সব মিথ্যে। গায়ন রয়েছে -- জ্ঞান, ভক্তি, বৈরাগ্য। এই শব্দগুলি গ্রহণ করেছে, কিন্তু অর্থ কিছুই বোঝে না। সর্বপ্রথমে হলো জ্ঞান-দিন সুখ, পরে হলো ভক্তি-রাত দুঃখ। ব্রহ্মার দিন, ব্রহ্মার রাত। এখন তা একজনের তো হবে না, অনেকেরই হবে, তাই না! দিন হলো অর্ধকল্পের, পুনরায় রাতও হয় অর্ধকল্পের। তারপর হয় সমগ্র পুরোনো দুনিয়ার থেকে বৈরাগ্য। বাবা বলেন -- দেহ-সহ যাকিছু তোমরা এই চোখ দিয়ে দেখো সেইসব এই জ্ঞানে ভুলতে হবে। ব্যবসাদি সব কিছুই করতে হবে। বাচ্চাদের দেখভাল করতে হবে। কিন্তু বুদ্ধির যোগসূত্র একের সঙ্গেই স্থাপন করতে হবে। অর্ধেককল্প তোমরা রাবণের মতে চলেছো। এখন বাবার হয়েছো তাই যাকিছু করো তা বাবার রায় অনুসারে করো। তোমাদের লেন-দেন এত সময় ধরে পতিতদের সঙ্গে হয়েছে, তার ফল কি হয়েছে। দিনে-দিনে অপবিত্র হয়েই এসেছো কারণ ভক্তিমার্গ হলোই অবরোহণ কলার পথ। সতোপ্রধান, সতো, রজো, তমো-তে আসতেই হয়। অবরোহণ করতেই হবে। এর থেকে কেউ মুক্ত করতে পারবে না। লক্ষ্মী-নারায়ণেরও ৮৪ জন্ম বলা হয়, তাই না! ইংরেজীর অক্ষর অতি ভাল। গোল্ডেন এজ, সিলভার এজ..... এ'ভাবে খাদ পড়তেই থাকে। এইসময়ে এসে আয়রন এজে'ড হয়েছে। গোল্ডেন এ'জে নতুন দুনিয়া ছিল, নবভারত ছিল। এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল। কালকেরই কথা। শাস্ত্রে লিখে দিয়েছে লক্ষ-লক্ষ বছর। এখন বাবা বলেন -- এখন তোমাদের শাস্ত্র সঠিক নাকি আমি সঠিক? বাবাকে বলা হয় -- বিশ্বের সর্বময়কর্তা(ওয়ার্ল্ড অলমাইটি অথরিটি)। যারা বেদ-শাস্ত্র প্রচুর পড়ে তাদের অথরিটি বলা হয়। বাবা বলেন -- এ'সকল হলো ভক্তিমার্গের অথরিটি। জ্ঞানের জন্য তো আমার গায়ন করে -- তুমি জ্ঞানের সাগর, আমরা নই। সমস্ত মানুষ ভক্তির সাগরে ডুবে রয়েছে। সত্যযুগে কেউ বিকারে যায় না। কলিযুগে তো মানুষ আদি-মধ্য-অন্ত পর্যন্ত দুঃখী হতেই থাকে। বাবা কল্প-পূর্বেও এরকমভাবেই বুঝিয়েছিলেন, পুনরায় এখন বোঝাচ্ছেন। বাচ্চারা বোঝে যে কল্প-পূর্বেও অসীম জগতের পিতার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করেছিলাম পুনরায় এখন পড়ে তা প্রাপ্ত করছি। সময় অতি অল্প। এর তো বিনাশ হয়ে যাবে সেইজন্য অসীম জগতের পিতার থেকে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে নেওয়া উচিত। তিনি বাবা, শিক্ষক, গুরুও। সুপ্রীম ফাদার, সুপ্রীম টিচারও।ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রী-জিওগ্রাফী কিভাবে পুনরাবৃত হয়, সমগ্র নলেজ দেন। এ'সকল আর কেউ বোঝাতে পারে না। এখন বাচ্চারা জানে যে ৫ হাজার বছর পূর্বের মতন এ হলো সেই গীতার ভগবান, শ্রীকৃষ্ণ নয়। মানুষকে ভগবান বলা হয় না। ভগবান তো সবার হলেনই পুনর্জন্ম-রহিত। একে দিব্যজন্ম বলা হয়। তা নাহলে আমি নিরাকার বলবো কিভাবে! আমায় তো অবশ্যই এসে পবিত্র বানাতে হবে তাই যুক্তিও তৈরী করতে হবে। তোমরা জানো যে আমরা আত্মারা হলাম অমর। রাবণ রাজ্যে তোমরা সকলেই দেহ-অভিমানী হয়ে পড়েছো। এছাড়া পরমাত্মা রচয়িতা এবং তাঁর রচনাকে ওখানেও কেউ জানে না। যদি ওখানে জেনে যেতো যে পুনরায় আমাদের এইভাবে পতন হবে তখন তাদের রাজত্বের খুশিই হারিয়ে যেতো সেইজন্য বাবা বলেন -- এই জ্ঞান প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। যখন তোমাদের সদ্গতি হয়ে যায় তখন জ্ঞানের আর প্রয়োজন পড়ে না। জ্ঞানের প্রয়োজনই হয় দুর্গতিতে। এইসময় সকলেই দুর্গতিতে রয়েছে, সকলেই কাম-চিতায় বসে ঝলসে মারা গেছে। বাবা বলেন -- আমার বাচ্চারা, আত্মারা যে শরীরে এসে ভূমিকা পালন করে, তারা কাম-চিতায় বসে তমোপ্রধান হয়ে গেছে। আবাহনও করে যে আমরা অপবিত্র হয়ে গেছি। অপবিত্র হয় কাম-চিতার থেকে। ক্রোধ বা লোভ থেকে অপবিত্রতা হয় না। সাধু-সন্তাদিরা পবিত্র, দেবতারা পবিত্র তাই অপবিত্র মানুষ গিয়ে মাথা নত করে। গায়নও করে -- তুমি নির্বিকারী, আমরা বিকারী। নির্বিকারী দুনিয়া, বিকারী দুনিয়ার গায়নও করাআ হয়, তাই না! ভারতই নির্বিকারী দুনিয়া ছিল। এখন বিকারী। ভারতের সঙ্গে সমগ্র দুনিয়াই বিকারী হয়েছে। নির্বিকারী দুনিয়ায় আজ থেকে ৫ হাজার বছর পূর্বে একটিই ধর্ম ছিল, পবিত্রতা ছিল তাই শান্তি, সমৃদ্ধি তিনটিই বিদ্যমান ছিল। পবিত্রতা হলো প্রথম। এখন পবিত্রতাও নেই তাই শান্তি-সমৃদ্ধিও নেই। জ্ঞানের সাগর, সুখের সাগর, প্রেমের সাগর একমাত্র বাবা-ই। তোমাদেরও এমন প্রিয় বানিয়ে দেয়। এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজধানীতে সকলেই প্রিয়। বাঘে-গরুতে একসাথে জল পান করে। এ হলো একটি দৃষ্টান্ত। ওখানে এরকম দুর্গন্ধময় বস্তু থাকে না। অসুখ, মশা ইত্যাদি এখানে অসংখ্য। ওখানে এসব জিনিস থাকে না। বিত্তশালীদের কাছে ফার্নিচারও ফার্স্টক্লাস থাকে। দরিদ্রদের ফার্নিচারও সাধারণমানের হয়। ভারত এখন দরিদ্র, কত আবর্জনা লেগে রয়েছে। সত্যযুগে কত পরিচ্ছন্ন থাকে। সোনার প্রাসাদ ইত্যাদি কত ফার্স্টক্লাস হবে। বৈকুন্ঠের গরুও দেখো ফার্স্টক্লাস হয়। দেখায় যে কৃষ্ণের কত ভাল-ভাল গরুও আছে। কৃষ্ণপুরীতে গরু তো থাকবে, তাই না! ওখানকার জিনিসপত্র কত ফার্স্টক্লাস হয়। হেভেন তারপর কি? এই পুরোনো খারাপ দুনিয়ায় অনেক আবর্জনা। এ'সব এই জ্ঞান যজ্ঞতে স্বাহা(বিসর্জিত) হয়ে যাবে। কেমন-কেমন বোমা তৈরী করে। বোমা নিক্ষেপ করলে আগুন বেরিয়ে আসে। আজকাল তো এমন জীবানুও ছড়িয়ে দেয়, এমন বিনাশ করে যে অসীমেই সমাপ্ত হয়ে যায়। হাসপাতালাদি তো থাকবে না যে ওষুধপত্র দিতে পারবে। বাবা বলেন -- বাচ্চাদের কোনো কষ্ট হওয়া উচিত নয় সেইজন্য বলা হয় প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মুষলধারে বৃষ্টিপাত। বাচ্চারা বিনাশের সাক্ষাৎকারও করেছে। বুদ্ধিও বলে, বিনাশ তো অবশ্যই হবে। কেউ বলে যে বিনাশের সাক্ষাৎকার হোক তখন মেনে নেব, আচ্ছা মেনো না, তোমাদের মর্জি(ইচ্ছা)। কেউ বলে, আমরা আত্মার সাক্ষাৎকারও করি তখন আমরা মানবো। আচ্ছা, আত্মা তো বিন্দু। দেখে নিলেও কি হবে! এতে কি সদ্গতি হবে ? বলা হয় যে -- পরমাত্মা অখন্ড জ্যোতি-স্বরূপ, হাজার সূর্যের থেকেও তেজোময়। কিন্তু এরকম নয়। গীতায় লেখা আছে -- অর্জুন বলে যে থামো, আমি আর সহ্য করতে পারছি না। এরকম কথা নয়। বাবাকে বাচ্চা দেখবে আর বলবে যে আমরা সহ্য করতে পারছি না, এরকম কিছুই নয়। যেমন আত্মা তেমনই পরমপিতা পরমাত্মা বাবা। কেবল তিনি জ্ঞানের সাগর। তোমাদের মধ্যেও জ্ঞান আছে। বাবা-ই এসে পড়ান আর কোনো কথা নেই। যে-যে যেমন ভাবনায় স্মরণ করে, সেই ভাবনা পূর্ণ করে দিই। সেও ড্রামায় নির্ধারিত। এছাড়া ভগবানকে কেউ প্রাপ্ত করতে পারে না। মীরা সাক্ষাৎকারেই কত খুশি হতো। পরজন্মেও হয়তো ভক্ত হয়েছিল। বৈকুন্ঠে তো যেতে পারবে না। বাচ্চারা, এখন তোমরা বৈকুন্ঠে যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছো। তোমরা জানো যে, আমরা বৈকুন্ঠ, কৃষ্ণ পুরীর হতে চলেছি। এখানে তো সকলেই নরকের মালিক। হিস্ট্রি-জিওগ্রাফী রিপীট হবে, তাই না! বাবা জানে, আমরা আমাদের রাজ্য-ভাগ্য পুনরায় গ্রহণ করছি। এ হলো রাজযোগের বল। বাহুবলের লড়াই তো অনেকবার, অনেক জন্ম চলেছে। যোগবলের দ্বারা তোমাদের এখন উত্তরণ কলা। ‍অবশ্যই জানো যে স্বর্গের রাজধানী স্থাপিত হচ্ছে। যারা কল্প-পূর্বে পুরুষার্থ করেছিল তেমনই করবে। তোমাদের হার্টফেল হওয়া উচিত নয়। যারা পাক্কা নিশ্চয়বুদ্ধিসম্পন্ন তাদের কখনো সংশয় আসতে পারে না। সংশয়বুদ্ধিও অবশ্যই হয়। বাবা বলেছেন -- আশ্চর্য হয়ে শুনবে, কথা বলবে, পালিয়ে যাবে.... ওহ! মায়া তুমি এদের উপর বিজয়প্রাপ্ত করে নাও। মায়া অতি শক্তিশালী। ভাল-ভাল সেবাধারী, সেন্টার পরিচালনাকারীদেরও মায়া থাপ্পড় মেরে দেয়। লেখে যে, বাবা বিয়ে করে মুখ কালো করে ফেলেছি। কাম-কাটারীর কাছে আমরা পরাজিত হয়েছি। বাবা এখন তো তোমার সামনে যাওয়ার যোগ্য নই। পুনরায় লেখে যে, তোমার সামনে আসবো! বাবা লেখে, মুখ কালো করেছো এখন এখানে আসতে পারবে না। এখানে এসে কি করবে! তবুও ওখানে থেকেই পুরুষার্থ করো। একবার পতন মানে পতনই। এরকম নয় যে রাজপদ প্রাপ্ত করতে পারবে। বলাও হয়, তাই না! -- চড়লে বৈকুন্ঠের রস, পড়লে একদম চন্ডাল....হাড়-গোড় ভেঙে যায়। ৫ তলা থেকে পড়ে যায় তখন কেউ-কেউ সত্য (কথা) লেখে। কেউ তো শোনায়ও না। ইন্দ্রপ্রস্থের পরীদের উদাহরণও রয়েছে, তাই না! এ হলো সমগ্র জ্ঞানের কথা। এই সভায় কোনো অপবিত্রের বসার অনুমতি নেই। কিন্তু কোন-কোন অবস্থায় বসাতেও হয়। পতিতই তো আসবে, তাই না! এখন দেখো কত দ্রৌপদীরা আহ্বান করছে, তারা বলে -- বাবা আমাদের নগ্ন হওয়া থেকে রক্ষা করো। বন্ধনে আবদ্ধ (বাঁধেলিয়া) নারীদেরও পার্ট চলছে। কামেশু(কামুক), ক্রোধেশু(ক্রোধী) হয়ে যায়, তাই না! বড় খিটমিট হতে থাকে। বাবার কাছে খবর আসে। অসীম জগতের পিতা বলেন -- বাচ্চারা, এর উপর বিজয়লাভ করো। এখন পবিত্র হও, আমায় স্মরণ করো তবেই গ্যারান্টি রয়েছে যে বিশ্বের মালিক হবে। সংবাদপত্রেও স্বয়ং লিখে দেয় যে কোনো প্রেরনাদাতা আছে যে আমাদের দ্বারা এই বোমা ইত্যাদি তৈরী করায়, এর দ্বারা নিজের কুলেরই বিনাশ হবে। কিন্তু কি আর করা যাবে, ড্রামায় নির্ধারণ করা রয়েছে, দিনে-দিনে তৈরী করতেই থাকে। সময়ও তো বেশী নেই, তাই না! আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) সত্যযুগীয় প্রেমের রাজধানীতে যাওয়ার জন্য অতীব প্রিয় হতে হবে। রাজ-পদের জন্য পবিত্র অবশ্যই হতে হবে। পবিত্রতা হলো প্রথম সেইজন্য কাম-রূপী মহাশত্রুর উপর বিজয়প্রাপ্ত প্রাপ্ত করতে হবে।

২ ) এই পুরোনো দুনিয়ার থেকে অসীমের বৈরাগী হওয়ার জন্য দেহ-সহ যাকিছু এই চোখ দ্বারা দেখো, সেইসব দেখেও দেখো না। প্রতি পদক্ষেপে বাবার রায় গ্রহণ করে চলতে হবে।

বরদান:-
সমস্যাকে উত্তরণ-কলার সাধন অনুভব করে সদা সন্তুষ্টতায় অবস্থানকারী শক্তিশালী ভব

যারা শক্তিশালী আত্মা তারা সমস্যাগুলিকে এমনভাবে পার করে নেয় যেমনভাবে কেউ সোজা রাস্তা সহজেই পার হয়ে যায়। সমস্যাগুলি তাদের জন্য উত্তরণ কলার সাধন হয়ে যায়। প্রতিটি সমস্যা চেনা-পরিচিত অনুভব হয়। তারা কখনোই আশ্চর্যান্বিত হয় না বরং সদা সন্তুষ্ট থাকে। মুখ থেকে কখনও 'কারণ' শব্দটি নির্গত হয় না, বরং সেইসময়েই কারণকে নিবারণে পরিবর্তন করে দেয়।

স্লোগান:-
স্ব-স্থিতিতে স্থিত হয়ে সর্ব পরিস্থিতিকে পার করাই হল শ্রেষ্ঠত্ব ।