13.10.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


প্রশ্নঃ -
সঙ্গমে এমন কোন্ নলেজ পেয়ে থাকো যার জন্য সত্যযুগের দেবতাদের মোহজীত বলা হয় ?

উত্তরঃ -
সঙ্গমে বাবা তোমাদের অমরকথা শুনিয়ে অমর আত্মা সম্পর্কে নলেজ দিয়েছেন। তোমরা জ্ঞান প্রাপ্ত করেছ । এটা অবিনাশী পূর্ব নির্ধারিত ড্রামা, প্রত্যেক আত্মাই নিজ-নিজ ভূমিকা পালন করছে। আত্মা এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করে, এখানে কান্নাকাটি করার কোনও প্রয়োজন নেই। এই নলেজ প্রাপ্ত করে বলেই সত্যযুগের দেবতাদের মোহজীত বলা হয়। ওখানে মৃত্যুর কোনও ব্যাপার নেই। খুশির সাথে পুরানো শরীর ত্যাগ করে নতুন শরীর ধারণ করে ।

গীতঃ-
নেত্রহীনকে পথ দেখাও.....

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি-মিষ্টি রূহানী বাচ্চাদের রূহানী বাবা বলছেন পথ তো তোমাদের দেখাই কিন্তু প্রথমে নিজেকে আত্মা নিশ্চিত করে বসো । দেহী-অভিমানী হয়ে বসলে অতি সহজেই পথ দেখতে পাবে। ভক্তি মার্গে অর্ধকল্প ধরে ঠোক্কোর খেয়েছ । ভক্তি মার্গে অনেক সামগ্রী। বাবা বুঝিয়েছেন অসীম জগতের বাবা একজনই, আমিই তোমাদের পথ বলে দিই। দুনিয়ার কেউ জানেই না কোন্ সে পথ যা বাবা বলে দেন । মুক্তি-জীবনমুক্তি, গতি সদ্গতির পথ তিনি বলে দেন। মুক্তি বলা হয় শান্তিধামকে । আত্মা শরীর ছাড়া কথা বলতে পারে না। কর্মেন্দ্রিয় দ্বারাই আওয়াজ হয়, মুখ না থাকলে আওয়াজ কোথা থেকে বেরোবে । আত্মা কর্মেন্দ্রিয় পেয়েছে কর্ম করার জন্য । রাবণ রাজ্যে তোমাদের দ্বারা বিকর্ম হয়, এই বিকর্ম ছিঃ ছিঃ কর্ম করিয়ে দেয়। সত্যযুগে রাবণ নেই সুতরাং সেখানে কর্ম অকর্ম হয়ে যায়। ওখানে ৫ বিকার নেই, তাই তাকে স্বর্গ বলা হয়। ভারতবাসীরা স্বর্গবাসী ছিল, এখন তাদের নরকবাসী বলা হয়। বিষয় বৈতরণী নদীতে তারা ধাক্কা খেতে থাকে। সবাই একে অপরকে দুঃখ দিতেই থাকে। এখন বাবাকে ডেকে বলে, বাবা এমন জায়গায় নিয়ে চল যেখানে দুঃখের লেশ পর্যন্ত নেই। ভারত যখন স্বর্গ ছিল দুঃখের লেশ পর্যন্ত ছিল না। স্বর্গ থেকে নরকে এসেছ, এখন আবার স্বর্গে ফিরে যেতে হবে। এটাই খেলা। বাবা বসে বাচ্চাদের বোঝান প্রকৃত সত্সঙ্গ এটাই। তোমরা এখানে যে সত্য বাবাকে স্মরণ করো, তিনিই উচ্চ থেকে উচ্চতর ভগবান। তিনি হলেন রচয়িতা, ওঁনার কাছ থেকেই অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্তি হয়। বাবাই বাচ্চাদের উত্তরাধিকার দিয়ে থাকেন। লৌকিক পিতা থাকা সত্বেও স্মরণ করে বলে হে ভগবান, হে পরমপিতা পরমাত্মা দয়া কর। ভক্তি মার্গে ধাক্কা খেতে-খেতে হয়রান হয়ে গেছে। ডেকে বলে বাবা, সুখ, শান্তি প্রদান কর । এই উত্তরাধিকার তো বাবাই দিতে পারেন ২১ জন্মের জন্য। হিসেব করা উচিত। সত্যযুগে যখন রাজ্য ছিল তখন অল্প সংখ্যক মানুষ ছিল। এক ধর্ম ছিল, এক রাজত্ব ছিল। তাকেই বলা হয় স্বর্গ, সুখধাম।

নতুন দুনিয়াকে বলা হয় সতোপ্রধান, পুরানো দুনিয়াকে তমোপ্রধান বলা হয় । প্রতিটি জিনিস প্রথমে সতোপ্রধান থাকে তারপর সতো-রজো-তমোপ্রধান হয়। ছোট বাচ্চাদের সতোপ্রধান বলা হয়। ছোট বাচ্চাদের মহাত্মা (মহান আত্মা) থেকেও উচ্চ বলা হয়। মহান আত্মা জন্ম গ্রহণ করে তারপর বড়ো হয়ে বিকারগ্রস্ত হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যায়। ছোট বাচ্চারা তো বিকার কাকে বলে জানেই না। সম্পূর্ণ সরলতায় ভরা থাকে সেইজন্যই মহাত্মা থেকেও উচ্চ বলা হয়। দেবতাদের মহিমা করা হয় সর্বগুণ সম্পন্ন বলে। সাধুদের জন্য এই মহিমা কখনোই করা হয় না। বাবা হিংসা আর অহিংসার অর্থও বুঝিয়েছেন। কাউকে মারধর করা একে হিংসা বলা হয়। সবচেয়ে বড় হিংসা হলো কাম-বাসনা । দেবতারা হিংসার আশ্রয় নেয় না, কাম-বাসনাও চরিতার্থ করে না ।

বাবা বলেন আমি এসেছি তোমাদের মানুষ থেকে দেবতা করে তুলতে। দেবতারা থাকে সত্যযুগে। এখানে কেউ-ই নিজেকে দেবতা বলতে পারবে না। মনে করে আমরা নীচ পাপী এবং বিকারী । সুতরাং নিজেদের দেবতা বলবে কীভাবে, সেইজন্যই হিন্দু ধর্মের বলে পরিচয় দেয়। বাস্তবে আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম ছিল। হিন্দুস্তান থেকে হিন্দু শব্দটি এসেছে। ওরা তারপর হিন্দু ধর্ম বলে দিয়েছে। তোমরা যদি বলো আমরা দেবতা ধর্মের, তবুও ওরা হিন্দু বলবে। ওরা বলবে তোমাদের কলমও (কল্প বৃক্ষের সারিতে) হিন্দু ধর্মের। পতিত হওয়ার জন্য নিজেদের দেবতা বলতে পারে না।

এখন তোমরা জেনেছ আমরা পূজ্য দেবতা ছিলাম, এখন পূজারী হয়েছি। পূজাও প্রথমে শিবের করতে তারপর ব্যভিচারী পূজারী হয়েছ । একজনই বাবা, যাঁর কাছ থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্তি হয়। অনেক রকমের দেবীরা আছে, তাদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্তি হয় না। ব্রহ্মার কাছ থেকেও তোমাদের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় না। এক নিরাকার বাবা, দ্বিতীয় সাকার বাবা। সাকারী বাবা থাকতেও হে ভগবান, হে পরমপিতা বলতেই থাকে। লৌকিক বাবাকে এমনভাবে ডাকবে না। সুতরাং উত্তরাধিকার বাবার কাছ থেকেই পাওয়া যায়। লৌকিকে পতি আর পত্নী হাফ পার্টনার সুতরাং তাদেরও অর্ধেক অংশ পাওয়া উচিত। প্রথমে অর্ধেক অংশ স্ত্রীকে অবশিষ্ট অংশ বাচ্চাদের দেওয়া উচিত। কিন্তু আজকাল তো বাচ্চাদেরই সম্পূর্ণ সম্পত্তি দিয়ে দেওয়া হয়। কেউ-কেউ সন্তানদের প্রতি এতো মোহগ্রস্ত হয় যে, মনে করে আমার মৃত্যুর পর বাচ্চারাই তার অংশীদার হবে। আজকাল তো বাচ্চারা বাবার মৃত্যুর পর মায়ের কোনও খোঁজ খবর নেয় না। কেউ-কেউ আবার মাতৃ-স্নেহী হয়ে থাকে। আবার কেউ মাতৃ-দ্রোহীও হয়। বেশিরভাগ মাতৃ-দ্রোহী হয়।সমস্ত টাকাপয়সা উড়িয়ে দেয়। কিছু দত্তক নেওয়া সন্তানও এমন হয় যারা ভীষণ যন্ত্রণা দেয়। বাচ্চারা বলে বাবা আমাদের সুখের পথ বলে দাও যেখানে শান্তি আছে। রাবণ রাজ্যে তো সুখ হতে পারে না। ভক্তি মার্গে তো এটাও বোঝেনা যে শিব আর শঙ্কর আলাদা। শুধুই মাথা ঠুকতে থাকে, শাস্ত্র পড়তে থাকে। আচ্ছা, এসব করে কি পাবে কিছুই জানে না। সবার শান্তি আর সুখদাতা তো একজনই বাবা। সত্যযুগে সুখের সাথে শান্তিও আছে। ভারতেও সুখশান্তি ছিল, এখন নেই সেইজন্যই ভক্তি করতে-করতে দরজায়-দরজায় ধাক্কা খেতে থাকে। তোমরা এখন জানো শান্তিধাম, সুখধামে নিয়ে যান একমাত্র বাবা। বাচ্চারা বলে বাবা আমরা শুধু তোমাকেই স্মরণ করব, তোমার কাছ থেকেই অবিনাশী উত্তরাধিকার গ্রহণ করব । বাবা বলেন দেহ সহ দেহের সব সম্বন্ধ ভুলে যেতে হবে। এক বাবাকেই স্মরণ করতে হবে। আত্মাকে এখানেই পবিত্র হতে হবে। স্মরণ না করলে সাজা খেতে হবে। পদও ভ্রষ্ট হয়ে যাবে। সেইজন্যই বাবা বলেন - স্মরণ করার প্রচেষ্টা করো । বাবা আত্মাদের বোঝান। এমন কোনও সত্সঙ্গ নেই যেখানে বলা হয় রূহানী বাচ্চারা। এ হলো রূহানী জ্ঞান, যা রূহানী বাবার কাছ থেকেই বাচ্চারা পেয়ে থাকে। রূহ অর্থাত্ নিরাকার। শিবও নিরাকার তাইনা। তোমাদের আত্মাও খুব ছোট বিন্দু। তাকে দিব্য দৃষ্টি ছাড়া দেখা যায় না। বাবাই দিব্য দৃষ্টি প্রদান করেন। ভক্তরা বসে হনুমান, গনেশ ইত্যাদি পূজা করে থাকে, ওদের সাক্ষাত্কার কিভাবে হবে। বাবা বলেন দিব্য দৃষ্টি দাতা একমাত্র আমি। যে অনেক ভক্তি করে তাকে সাক্ষাত্কার আমিই করিয়ে থাকি। কিন্তু এতে কোনো লাভ হয়না। শুধুমাত্র খুশি অনুভব হয়। পাপ তো তারপরও করে থাকে, কিছুই প্রাপ্তি হয়না। পড়াশোনা ছাড়া কিছুই হওয়া যায় না। দেবতারা সর্বগুণ সম্পন্ন। তোমরাও এমন হয়ে ওঠো না ! সবকিছুই তো ভক্তি মার্গের সাক্ষাত্কার। প্রকৃতপক্ষেই তোমরা কৃষ্ণের সাথে দোল খাও, স্বর্গে তার সাথেই থাকো । সেও এখন পড়াশোনা করছে। যত শ্রীমতে চলবে ততই উচ্চ পদ পাবে। শ্রীমত ভগবানের গায়ন-ই আছে । কৃষ্ণের শ্রীমত বলা হয়না। পরমপিতা পরমাত্মার শ্রীমত দ্বারাই কৃষ্ণের আত্মা এই পদ প্রাপ্ত করেছে। তোমাদের আত্মাও দেবতা ধর্মে ছিল অর্থাত্ কৃষ্ণের ঘরানায় ছিল। ভারতবাসীরা তো জানেই না রাধা-কৃষ্ণের মধ্যে প্রকৃত সম্পর্ক কি । একে অপরের কে হয় । দুজনেই ভিন্ন-ভিন্ন রাজ্যে ছিল, স্বয়ম্বরের পর লক্ষ্মী-নারায়ণ হয়। এইসব বিষয়ে বাবাই এসে বোঝান। এখন তোমরা স্বর্গের প্রিন্স প্রিন্সেস হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছ। প্রিন্স প্রিন্সেসদের স্বয়ম্বর হওয়ার পর নাম বদলে যায়। বাবা বাচ্চাদের এমনই দেবতা করে গড়ে তোলেন, যদি বাবার শ্রীমতে চল তবেই। তোমরা হলে মুখ বংশাবলী, ওরা হলো কুখ বংশাবলী। কাম চিতায় বসার জন্য লৌকিক ব্রাহ্মণরা দুজনকে বন্ধনে আবদ্ধ করে অভিলাষ পূরণে সাহায্য করে। তোমরা প্রকৃত ব্রাহ্মণরা কাম চিতা থেকে জ্ঞান চিতায় বসার জন্য আবদ্ধ করে থাকো। সুতরাং সেইসব ছাড়তে হয়। বাচ্চারা এখানে কত লড়াই ঝগড়া করে, টাকাপয়সা নষ্ট করে থাকে। দুনিয়া ভীষণ নোংরা হয়ে গেছে। সবচেয়ে নোংরা জিনিস হলো বায়োস্কোপ। ভালো-ভালো বাচ্চারা এই বায়োস্কোপ দেখে খারাপ হয়ে যায়। সেইজন্য বি.কেদের বায়োস্কোপ দেখতে মানা করা হয়। তবে হ্যাঁ, যে মজবুত তাকে বাবা বলেন ওখানে গিয়েও তোমরা সার্ভিস কর। ওদের বুঝিয়ে বল এতো সীমিত সময়ের বায়োস্কোপ, অসীম জগতেরও বায়োস্কোপ আছে, সেই বায়োস্কোপ থেকেই এসব মিথ্যে বায়োস্কোপ তৈরি হয়েছে।

বাচ্চারা তোমাদের এখন বাবা বুঝিয়েছেন ‐ মূলবতন যেখানে সব আত্মাদের নিবাস আর মাঝখানে সূক্ষ্মবতন । এটা হলো সাকার বতন। সমস্ত খেলা এখানেই চলে । এই চক্র ঘুরতেই থাকে। তোমরা ব্রাহ্মণ বাচ্চাদেরই স্বদর্শন চক্রধারী হতে হবে। দেবতাদের নয়। কিন্তু ব্রাহ্মণদের অলঙ্কার দেওয়া হয় না কেননা পুরুষার্থী । আজ ভালো তো কাল আবার নীচে নেমে যায়। সেইজন্যই দেবতাদের দেওয়া হয়। কৃষ্ণকে দেখানো হয়েছে স্বদর্শন চক্র দিয়ে অকাসুর-বকাসুরকে বধ করছে। দেবতারা তো অহিংসার প্রতীক তারা হিংসার আশ্রয় কেন নেবে ! এসবই ভক্তি মার্গের জন্য। যেখানেই যাও শিবলিঙ্গ দেখা যায় শুধুমাত্র ভিন্ন-ভিন্ন নামকরণ করা হয়েছে। কত মাটির মূর্তি তৈরি করে অলঙ্কৃত করে,হাজার টাকা খরচ করে । মূর্তি তৈরি করে তার পূজা করে, পালন করে এবং তারপর তাকে জলে ফেলে দেয়। মাটির পুতুল পূজা করতে কত খরচ করে, কিন্তু কিছুই প্রাপ্তি হয় না। বাবা বোঝান এসবই হলো পয়সা নষ্ট করার ভক্তি। নিচেই নেমেছে সবাই। বাবা আসেন তখন সবার উত্তোরণের কলা শুরু হয়। সবাইকে শান্তিধাম-সুখধামে নিয়ে যান পয়সা নষ্ট করার কোনও প্রশ্নই নেই। ভক্তি মার্গে তোমরা পয়সা নষ্ট করতে -করতে বিকারগ্রস্ত হয়ে গেছ। বিকার, নির্বিকার হওয়ার কথা বাবাই বসে বোঝান। তোমরা এই লক্ষ্মী-নারায়ণ বংশে ছিলে না ! এখন বাবা তোমাদের নর থেকে নারায়ণ হয়ে ওঠার শিক্ষা দিচ্ছেন। ভক্তি মার্গে ওরা কত তিজরীর কথা, অমরকথা শোনায়। সব মিথ্যা। তিজরীর কথা তো এটা, যে জ্ঞানের দ্বারা আত্মার তৃতীয় নেত্র খুলে যায়। সম্পূর্ণ চক্র বুদ্ধিতে এসে যায়। তোমরা জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র পেয়েছ, অমরকথাও শুনছ। অমর বাবা তোমাদের কথা শোনাচ্ছেন অমরপুরীর মালিক করে তুলছেন। ওখানে তোমাদের মৃত্যু হয় না। এখানে তো কাল (অকালে মৃত্যু) মানুষকে কত ভীত করে তোলে । ওখানে ভয় পাওয়ার, কান্নাকাটির কোনও প্রয়োজনই নেই। খুশির সাথে পুরানো শরীর ত্যাগ করে নতুন শরীর ধারণ করে। এখানে মানুষ কত কান্নাকাটি করে এটা হলো কান্নার দুনিয়া। বাবা বলেন এই ড্রামা পূর্ব নির্ধারিত। প্রত্যেকেই নিজ-নিজ ভূমিকা পালন করছে । দেবতারা হলো মোহজীত। এই দুনিয়াতে অনেক গুরু তাদের অনেক রকম মত। প্রত্যকের নিজ-নিজ মত। একজন সন্তোষী দেবী যার পূজা করে থাকে। সন্তোষী দেবী তো সত্যযুগে, এখানে কিভাবে হতে পারে। সত্যযুগে দেবতারা সবসময়ের জন্য সন্তুষ্ট থাকে । এখানে তো কিছু না কিছু প্রত্যাশা থাকে। ওখানে কোনও প্রত্যাশা থাকেনা। বাবা সবাইকে সন্তুষ্ট করে দেন।তোমরা পদ্মপতি হয়ে যাও। কোনো অপ্রাপ্তি থাকে না যে প্রাপ্তির চিন্তা করতে হবে। ওখানে চিন্তা করার প্রয়োজন পড়ে না। বাবা বলেন সবার সদ্গতি দাতা আমি। বাচ্চারা তোমাদের ২১ জন্মের জন্য খুশি দিয়ে থাকি। এমন বাবাকে তো স্মরণ করা উচিত। স্মরণ দ্বারাই তোমাদের পাপ ভস্মীভূত হবে আর তোমরা সতোপ্রধান হয়ে যাবে। এসবই বোঝার বিষয়। অন্যদের যত বেশি করে বোঝাবে ততই প্রজা তৈরি হবে, আর উচ্চ পদ পাবে। এসব কোনও সাধু মুনির কথা নয় । ভগবান বসে ব্রহ্মা মুখ দ্বারা শোনাচ্ছেন, তোমরা এখন সন্তুষ্ট দেবী -দেবতা হয়ে উঠছ। তোমাদের এখন ব্রত রাখা উচিত সবসময়ের জন্য পবিত্র থাকা কেননা পবিত্র দুনিয়াতে যেতে হলে পতিত হলে চলবে না। বাবা এই ব্রত শিখিয়েছেন। মানুষ তো অনেক রকম ব্রত তৈরি করেছে । আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এক বাবার মতে চলে সদা সন্তুষ্ট থেকে সন্তোষী দেবী হতে হবে। এখানে কোনও রকম আকাঙ্ক্ষা যেন না থাকে। বাবার কাছ থেকে সর্বপ্রাপ্তি সম্পন্ন করে পদ্মপতি হতে হবে।

২ ) সবচেয়ে দূষিত নোংরা জিনিস হলো বায়োস্কোপ। তোমাদের বায়োস্কোপ দেখায় নিষেধ আছে। তোমরা হলে বাহাদুর, সুতরাং সীমিত আর সীমাহীন জগতের বায়োস্কোপের রহস্য অন্যদের বোঝাও। সার্ভিসে তত্পর হও।

বরদান:-
ফুলস্টপের স্টেজ দ্বারা প্রকৃতির অস্থিরতা স্টপ করে প্রকৃতিপতি ভব

বর্তমান সময় অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে। ফাইনাল পেপারে একদিকে প্রকৃতি আর অন্যদিকে পাঁচ বিকারের ভয়ঙ্কর রূপ দেখা যাবে। তমোগুণী আত্মাদের আক্রমণ আর পুরানো সংস্কার সবকিছুই শেষ মুহূর্তে সুযোগ নেবে। এমন সময় সমাহিত শক্তি দ্বারা এক মুহূর্তে সাকারী, মুহূর্তে আকারী আর নিরাকার স্থিতি হওয়ার অভ্যাস করতে হবে। দেখেও না দেখা, শুনেও না শোনা। যখন এমনই ফুলস্টপের স্টেজ হবে তখনই প্রকৃতিপতি হয়ে প্রকৃতির অস্থিরতা স্টপ করতে পারবে।

স্লোগান:-
নির্বিঘ্ন রাজ্য অধিকারী হওয়ার জন্য নির্বিঘ্ন সেবাধারী হও ।