14.01.2023 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - এখন তোমাদের কায়া একেবারে পুরাতন হয়ে গেছে, বাবা এসেছেন তোমাদের কায়া কল্পবৃক্ষের মতো বানাতে, তোমাদেরকে অর্ধেক কল্পের জন্য অমর করে তুলতে"

প্রশ্নঃ -
এই অসাধারণ নাটকের মধ্যে কোন্ কথাটি খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে?

উত্তরঃ  
এই নাটকে যে সকল অভিনেতা অভিনেত্রীরা আছে, তাদের চিত্র শুধুমাত্র একবার মাত্রই দেখা যায়, অতঃপর পুনরায় সেই চিত্র আবার ৫ হাজার বছর বাদে দেখতে পাবে। ৮৪ জন্মের ৮৪ টি পৃথক পৃথক চিত্র তৈরি হবে। একজনের কর্ম অন্যজনের থেকে পৃথক হবে । যে যেরকম কর্ম করবে পুনরায় ৫ হাজার বছরের পর সে ঠিক সেই রকম কর্মই করবে - এই বিষয়টি খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে । বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধির তালা এখন খুলে গেছে । তোমরা এই রহস্য এখন সকলকে বোঝাতে পারো।

গীতঃ-
ভোলানাথের মতো অনুপম আর কেউ নেই...

ওম্ শান্তি ।
সব সময় শিব বাবাকেই ভোলানাথ বলা হয়ে থাকে। শংকরকে তা বলা হয় না। তিনি তো বিনাশ করেন আর শিব বাবা স্থাপন করেন। অবশ্যই স্বর্গ স্থাপন করবে আর নরকেরই বিনাশ করবেন। সুতরাং ভোলানাথ শিবকেই জ্ঞানসাগর বলা হয়। বাচ্চারা, এখন তো তোমরা অনুভাবী হয়েছো। অবশ্যই কল্পপূর্বেও শিববাবা এসেছিলেন সুতরাং এখনও তিনি অবশ্যই এসেছেন। তাকে আসতে তো অবশ্যই হবে কারণ নতুন মনুষ্য সৃষ্টির রচনা তাঁকে করতে হবে। যেহেতু এই ড্রামার আদি মধ্য এবং অন্তিমের রহস্য বলতে হবে, সেই কারণেই এখানে তাঁকে অবশ্যই আসতে হবে। সূক্ষ্মলোকে তো তা তৈরি হবে না। সূক্ষ্ম লোকের ভাষা হলো আলাদা আর মূল লোকে তো কোনো ভাষাই নেই। এটা হল টকি । বিগড়ে যাওয়া বস্তুকে আবার সঠিক করে দিতে পারেন একমাত্র বাবা। যখন সমগ্র সৃষ্টি তমোপ্রধান হয়ে যায়, তখন সকলকে সদগতি দাতা ভগবান বলেন যে, আমাকে আসতেই হয়। তাঁর স্মরণও এখানেই হয়। এই নাটকে যে যে মানুষদের ছবি রয়েছে তাদেরকে একবারই দেখতে পাওয়া যাবে । এমন হতে পারে না যে, লক্ষ্মীনারায়ণের চিত্র (চেহারা) সত্যযুগ ছাড়া অন্য কোথাও দেখতে পাওয়া যাবে। তারা যখন পুনর্জন্ম গ্রহণ করবে তো তখন তাদের নাম আর রূপ ভিন্ন হয়ে যাবে। সেই শ্রীলক্ষীনারায়ণের রূপ একবারই দেখা যাবে, পুনরায় ৫ হাজার বছর পরে দেখতে পাওয়া যাবে। ৮৪ জন্মের জন্য ৮৪ টি চিত্র তৈরি হবে । আর প্রতিটা চিত্র একে অপরের থেকে আলাদা হবে । কর্মও কারো সাথে এক হবে না। যে যা কর্ম করছে, সেই একই কর্ম ৫ হাজার বছর পরে পুনরায় করবে। এই বিষয়টি ভালো করে বোঝা দরকার । বাবারও চিত্র রয়েছে। আমরা ভাবি যে নিশ্চয়ই সবার প্রথমে সৃষ্টির রচনা করার জন্য তিনি এসেছিলেন। তোমাদের বুদ্ধির তালা এখন খুলে গেছে, তাই তোমরা এ কথা বুঝতে পারো। এখন পুনরায় অন্যদেরও এমন ভাবেই বুদ্ধির তালা খুলে দিতে হবে। নিরাকার বাবার সাথে অবশ্যই বাচ্চারাও সকলে পরমধামে একসময় ছিল। প্রথমে যখন আমি আসি তখন আমার সাথে ব্রহ্মা-বিষ্ণু শঙ্করও আসে। মনুষ্য সৃষ্টি তো প্রথম থেকেই ছিল তাহলে কখন তা পাল্টে যায়, তার পুনরাবৃত্তি কিভাবে হয়। প্রথমে অবশ্যই সূক্ষ্মলোক রচনা করতে হয়, অতঃপর স্থূল লোকে আসতে হয়। কারণ যে মানুষেরা দেবতা ছিল, এখন তারাই শূদ্র হয়ে গেছে । তাদেরকে পুনরায় ব্রাহ্মণ থেকে দেবতা করে তুলতে হবে। বাবা বলেন যে - পূর্বকল্পে যে জ্ঞান আমি দিয়েছিলাম, তা পুনরায় রিপিট করবো। এখন আমি এসে তোমাদের কাছে বসে রাজযোগ শিখিয়ে দিই। পুনরায় অর্ধেক কল্পের পর ভক্তি শুরু হয়। বাবা নিজে বসে এ'কথা বুঝিয়ে দেন যে পুরাতন সৃষ্টি আবার কিভাবে নতুন হয়ে উঠতে পারে, অন্ত থেকে পুনরায় আদি কেমন ভাবে হয় । মানুষ ভাবে যে পরমাত্মা তো এসেছিলেন কিন্তু তিনি কবে কীভাবে এসেছিলেন তা তারা জানে না, আদি মধ্য অন্তিমের এই রহস্য কীভাবে উদঘাটিত হয়েছিল তাও তারা জানে না।

বাবা বলেন পুনরায় তোমাদের সামনে এসেছি - সকলকে সদগতি প্রদান করতে। মায়া রাবণ এসে সকলের ভাগ্য বিগড়ে দিয়েছে, তাই বিগড়ে যাওয়া বস্তুকে আবার সুন্দর ভাবে তার নিজের স্বরূপে ফিরিয়ে আনার জন্য অবশ্যই কাউকে প্রয়োজন। বাবা বলেন ৫ হাজার বছর পূর্বেও আমি ব্রহ্মার শরীরে প্রবেশ করেছিলাম। সুতরাং মনুষ্য সৃষ্টিও এখানেই তিনি রচনা করেছিলেন। এখানে এসে সৃষ্টিকে আমূল পরিবর্তন করে কায়া কল্প বৃক্ষের মতো বানান। এখন তোমাদের এই শরীর এই দেহ একেবারে পুরাতন হয়ে গেছে, এরপর একে এমন মজবুত করে গড়া হবে যাতে অর্ধেক কল্পের জন্য তোমরা অমর হয়ে যাবে । তখন শরীর পরিবর্তনও খুশী মনে করে যেন পুরানো কাপড় ছেড়ে নতুন কাপড় পড়ছে। ওখানে এইরকম বলা হয় না যে কেউ মারা গেছে, কারণ একে মৃত্যু বলা হয় না। যেমন ভাবে তোমরা বেঁচে থেকেও মরে গেছো, তো প্রকৃতপক্ষে তোমাদের মৃত্যু তো হয়নি। তোমরা তো শিববাবার হয়ে গেছো। বাবা বলেন - তোমরা আমার নয়নের মনি, হারানিধি সন্তান। শিব বাবা বলেন আর ব্রহ্মা বাবাও বলেন । শিব বাবা হলেন নিরাকারী পিতা আর ব্রহ্মা বাবা হলেন সাকারী পিতা। এখন তোমরা বলো যে তুমিই সেই বাবা আর আমরাও সেই যারা পুনরায় এখন এসে মিলিত হয়েছি । বাবা বলেন আমি এসে স্বর্গ স্থাপন করি। রাজত্ব অবশ্যই চাই, সেই কারণেই আমি রাজযোগ শেখাই। পরবর্তীকালে তোমরা রাজত্ব লাভ করবে তখন এই জ্ঞানের প্রয়োজন পড়বে না। তারপর ভক্তিতে এই সকল শাস্ত্র ইত্যাদির প্রয়োজন হবে, মানুষ পড়তে থাকবে। যেমন ভাবে কোনো বিখ্যাত লোক হিস্ট্রি জিওগ্রাফি লিখে যায় আর তার পরবর্তী প্রজন্ম তার অধ্যয়ন করে। অসংখ্য বই রয়েছে, মানুষ সে সকল পড়তেই থাকবে । স্বর্গে এ সকল কিছু থাকবে না, সেখানে শুধুমাত্র একটি ভাষা থাকবে । সুতরাং এখন বাবা বলেন, আমি এসেছি এই সৃষ্টিকে নতুন করে গড়ে তুলতে । প্রথমে নতুন ছিল এখন পুরাতন হয়ে গেছে। আমার সমস্ত পুতকে (বাচ্চাদেরকে) মায়া এসে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল। শাস্ত্রে দেখানো হয় যে রাজা সগর এর পুত্ররা ভষ্মীভূত হয়েছিল... প্রকৃতপক্ষে বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর আর তোমরা তাঁর সন্তান। বাস্তবে সকলেই বাবার সন্তান কিন্তু শুধু তোমরাই এখন প্রকৃতপক্ষে গায়নযোগ্য হয়ে ওঠো। তোমাদের জন্যই বাবা এখানে আসেন। বাবা বলেন - বাচ্চারা, আমি এসেছি পুনরায় তোমাদেরকে সুরজিৎ বানাতে। যারা সম্পূর্ণরূপে কালো অন্ধকারে ডুবে গেছে, প্রস্তরবুদ্ধি হয়ে গেছে আমি এসে তাদেরকে পুনরায় পরশমণির মতো বুদ্ধিসম্পন্ন করে তুলি। তোমরা জানো যে এই জ্ঞানের দ্বারা আমরা পারসবুদ্ধি কীভাবে হয়ে উঠি, এর জন্যই বাবা আমাদেরকে দিয়ে পুরুষার্থ করাতে থাকেন। সুতরাং বাবাকে অবশ্যই এই মনুষ্য সৃষ্টি রচনা করার জন্য এখানেই আসতে হবে। যাঁর দেহে তিনি প্রবেশ করেন, তাঁর মাধ্যমে মুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণদেরকে তিনি তৈরি করেন। সুতরাং ইনি হলেন মাতা। এ অত্যন্ত গোপন এক রহস্য। ইনি তো একজন পুরুষ, এনার মধ্যে বাবা আসেন, তাহলে তিনি মাতা কীভাবে হলেন - এই কথায় অনেকেই অবশ্যই বিভ্রান্ত বোধ করবে ।

তোমরা প্রমাণ দেখিয়ে বলো যে - এঁরা হলেন আমাদের মাতা পিতা, ব্রহ্মা সরস্বতী উভয়ে কল্পবৃক্ষের নিচে বসে আছেন রাজযোগ শিখছেন, সুতরাং অবশ্যই তাদের কোনো গুরুর প্রয়োজন। ব্রহ্মা সরস্বতী এবং তাদের ব্রাহ্মণ সন্তান এদের সকলকেই রাজঋষি বলা হয়। তারা রাজত্ব প্রাপ্তির জন্য যোগ করে। বাবা এসে এখন রাজযোগ এবং জ্ঞান শেখান, যা আর কেউ শেখাতে পারে না। না অন্য কারোর সেই রাজযোগ বিদ্যা রয়েছে। ওরা তো শুধু বলবে যে যোগ শেখো। অনেক রকমের হঠযোগ হয়ে থাকে কিন্তু রাজযোগ কেউ শেখাতে পারে না। ভগবান এসে রাজযোগ শিখিয়েছিলেন তিনি বলেন যে - যখন মনুষ্য সৃষ্টি নতুন ভাবে রচনা করতে হয় তখন তাঁকে কল্প কল্প পুনরায় আসতে হয়। প্রলয় তো কখনো হয় না, যদি প্রলয় হয়ে যায়, তাহলে আমরা আসবো কোথায়? নিরাকার বাবা এসে কি করবেন? তাই বাবা এখন বুঝিয়ে দেন যে সৃষ্টি তো প্রথম থেকেই আছে। ভক্তরা ভগবানকে এখানে ডাকতে থাকে - এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে ভক্তরা আছে। ভগবানকে তখনই আসতে হয় যখন ভক্তরা অত্যন্ত দুঃখী হয়ে থাকে, কলিযুগের অন্তিম সময়ে। যখন রাবণের রাজত্ব শেষ হতে চলেছে, তখন আমাকে আসতে হয়। এখন প্রত্যেকে দুঃখী হয়ে রয়েছে। এক মহাযুদ্ধ সামনে উপস্থিত ।

এ হলো পাঠশালা। এই পাঠশালার একটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে। তোমরা জানো যে সত্য যুগে লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল, পুনরায় এক রাজমুকুটধারীদের রাজত্ব শুরু হয়, অতঃপর অন্যান্য ধর্ম বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় আর তারও পরে রাজত্ব বৃদ্ধি করার জন্য পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ লড়াই ইত্যাদি শুরু হয়। তোমরা জানো যা অতীতে ঘটে গেছে তা আবার রিপিট হবে। আবার লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব আরম্ভ হবে । বাবা, এ সমগ্র বিশ্বের হিস্ট্রি জিওগ্রাফির রহস্য সম্পূর্ণরূপে বুঝিয়ে দেন। ডিটেলে (বিস্তারে) যাওয়ার দরকার নেই। তোমরা জানো যে আমরা সূর্যবংশী সুতরাং পুনর্জন্ম অবশ্যই সূর্যবংশেই নেবো। নাম রূপ তো অবশ্যই পালটাবে। অন্য মাতা পিতাও প্রাপ্ত হবে, এই সমস্ত ড্রামা বুদ্ধিতে রাখতে হবে। বাবা কিভাবে আসেন এখন তোমরা তাও বুঝে গেছো। সাধারণ মানুষের বুদ্ধিতে সেই একই গীতার জ্ঞান রয়েছে। পূর্বে আমাদের বুদ্ধিতেও সেই একই পুরাতন গীতার জ্ঞান ছিল। এখন বাবা এসে এই গোপন রহস্য শোনাচ্ছেন আর শুনতে শুনতে এ সমগ্র রহস্য তোমরা বুঝে গেছো। মানুষ বলে যে পূর্বে তোমাদের অন্য জ্ঞান ছিল, এখন তা আরো ভালো হয়েছে। এখন তোমরা বুঝতে পেরেছ যে কীভাবে ঘর গৃহস্থে থেকেও কমল পুষ্পের মত ফুটে ওঠা যায়। এ হলো সকলের অন্তিম জন্ম । সকলেরই মৃত্যু অনিবার্য। স্বয়ং অসীমের পিতা বলেন যে - তোমরা পবিত্র হওয়ার প্রতিজ্ঞা করো, তবে তোমরা ২১ জন্মের জন্য স্বর্গের মালিক হতে পারবে। এখানে যদি কেউ কদমপতি কোটিপতিও থাকে তবুও তারা দুঃখী । তাদের দেহ পবিত্র হয়নি। তোমাদের দেহ পবিত্র হয়ে ওঠে। তোমরা ২১ জন্ম অকাল মৃত্যু প্রাপ্ত হও না। বাবা বলেন, যে সমস্ত সূর্যবংশী চন্দ্রবংশী বাচ্চারা কাম চিতায় বসে কালো হয়ে গেছে তারাই শুধুমাত্র এখানে আসবে। সে কারণেই রাধা কৃষ্ণ, শ্রীনারায়ণ এদের সবাইকেই কালো দেখানো হয়। এখন তো সকলেই কালো হয়ে গেছে, কাম চিতার উপরে বসার জন্য কালো হয়ে গেছে। এখন তোমাদেরকে কাম চিতা থেকে নিচে নেমে এসে, জ্ঞান চিতার উপরে বসতে হবে। বিষের হস্তবন্ধনকে খুলে ফেলে জ্ঞান অমৃতের বন্ধন বাঁধতে হবে। সকলকে এমন ভাবে বোঝাতে হবে যাতে তারা বলে যে তোমরা তো শুভ কর্ম করছো। যতক্ষণ তোমরা কুমার কুমারী হয়ে আছো ততক্ষণ তোমাদেরকে পুতিগন্ধময় বলা যায় না । বাবা বলেন যে তোমরা কখনো কাদা মেখে নোংরা হয়ো না। পরবর্তীকালে আরো অনেক আসবে, তারা বলবে যে - খুবই ভালো ব্যাপার যে, জ্ঞান চিতার উপর বসলে আমরা স্বর্গের মালিক হতে পারব। সাধারণতঃ ব্রাহ্মণেরাই পাত্র পাত্রীর মেলবন্ধন করিয়ে দেয়। রাজাদের কাছেও ব্রাহ্মণদের আসন আছে, তাদেরকে রাজগুরু বলা হয়ে থাকে। আজকাল তো সন্ন্যাসীরাও গাঁটছড়া বেঁধে দেয় (বিবাহ করায়) । যখন তোমরা এই জ্ঞানের কথা শোনাও তো লোকেরা খুব খুশি হয়। তোমাদের কাছ থেকে তারা চটপট রাখি বেঁধে নেয় । আর তারপর তাদের ঘরে ঝগড়াও অনেক হয়, কিছুটা তো সহ্য করতেই হবে।

তোমরা হলে গুপ্ত শিবশক্তি সেনা। তোমাদের কাছে কোনো অস্ত্রশস্ত্র নেই, দেবীদের হাতে অনেক রকমের অস্ত্রশস্ত্র দেখানো হয়। এইসবই হল জ্ঞানের কথা, এখানে যোগবলের বিষয়ে বলা হয়। বাহুবলের দ্বারা এই সীমাবদ্ধ জাগতিক রাজত্ব প্রাপ্ত হয়। অসীমের রাজত্ব দিতে পারেন একমাত্র অসীমের মালিক। এখানে যুদ্ধের কোন ব্যাপারই নেই। বাবা বলে, আমি কি কখনো একে অপরের সাথে লড়িয়ে দিতে পারি ? আমি তো এখানে এসেছি লড়াই ঝগড়া সব মিটিয়ে দেওয়ার জন্য, যাতে এ সমস্ত বিভেদ মতভেদ সব কিছু ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়, সেই জন্যই তো সকলে পরমাত্মাকে স্মরণ করে। মানুষ বলে - আমাকে রক্ষা করো, কিন্তু ওদিকে এক বাবার প্রতি তাদের নিশ্চয় থাকে না, ফলে তারা অন্যান্য সাহারা খুঁজতে থাকে। তারা একদিকে বলে যে আমাদের মধ্যেও ঈশ্বর আছেন, অন্যদিকে নিজের মধ্যে সেই বিশ্বাস ধরে রাখতে পারে না, গুরুর আশ্রয় গ্রহণ করে। যখন তোমাদের মধ্যে ভগবান আছেন তাহলে গুরুর কাছে কেন যাও ? এখানে তো সবকিছুই পৃথক তত্ত্ব। বাবা বলেন যে, কল্প পূর্বেও আমি এমনভাবেই এসেছিলাম, যেমন ভাবে এখন এসেছি। এখন তোমরা জানো যে রচয়িতা বাবা কিভাবে রচনা করেন, সেটাও ড্রামাতেই আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই চক্রকে না জানতে পারছো, ততক্ষণ পর্যন্ত কি করে জানবে যে এরপর কি হবে? বলা হয় যে এ হলো কর্মক্ষেত্র, আমরা সকলে নিরাকারী দুনিয়া থেকে নিজের নিজের পার্ট পালন করার জন্য এসেছি। সুতরাং এই সমস্ত ড্রামার রচয়িতা এবং নির্দেশক যে কে তা তোমাদের জানা দরকার। আমরা সকল অভিনেতারা এখন জেনে গেছি যে - এই ড্রামা কিভাবে তৈরি হয়েছে, এই সৃষ্টি কিভাবে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়, এখন যেহেতু কলিযুগের অন্তিম সময় তো অবশ্যই সত্যযুগ স্থাপন হওয়া উচিত। এই চক্রের এই চক্র সম্বন্ধে সকলকে বোঝানো অবশ্যই উচিত এবং যারা ব্রাহ্মণ কুলের হবে তারাই একমাত্র বুঝতে পারবে। তবুও যেহেতু তিনি প্রজাপিতা, তাই এই ব্রাহ্মণ কুল ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকবে, বৃদ্ধি তো হওয়ারই ছিল। পূর্বকল্পের মত এখন সবাই পুরুষার্থ করে চলেছে । আমরা শুধু সাক্ষী হয়ে সবকিছু দেখছি, প্রত্যেককে নিজের মুখ দর্পণে দেখতে থাকতে হবে যে - কতদূর পর্যন্ত আমরা যোগ্য হতে পেরেছি, সত্যযুগে রাজধানী নেওয়ার মতো কি? এ হলো প্রতিটি কল্পের খেলা, যে যত সেবার কাজ করবে ততই এই রহস্য উদঘাটন করতে পারবে, তোমরা সবাই অসীম অনন্তের সমাজসেবী। তোমরা সুপ্রীম আত্মার মতানুসারে চলতে থাকো । সুন্দর সুন্দর পয়েন্ট ধারণ করতে হবে, বাবা এসে কালের কবল থেকে আমাদের মুক্ত করে দেন, ওখানে মৃত্যুর কোনো নাম নাম গন্ধ থাকে না। এখন এ হল মৃত্যুর লোক আর সত্যযুগ হল অমর লোক। এখানে আদি মধ্য এবং অন্ত - সর্বদাই দুঃখ আছে আর ওখানে দুঃখের কোনো নাম গন্ধও থাকে না । আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) আমরা নিরাকারী এবং সাকারী দুই বাবার হারানিথি নয়নমণি, আমরা বেঁচে থেকেও রুহানী বাবার উত্তরাধিকারী হয়েছি - এই নেশায় থাকতে হবে ।

২ ) যোগবলের দ্বারা সমগ্র বিশ্বের এই রাজত্ব প্রাপ্ত করতে হবে, পবিত্রতার রাখি আমরা বেঁধে নিয়েছি, তাই সহ্য তো করতে হবে, কখনো পতিত হয়ো না ।

বরদান:-
সুখের সাগর বাবার স্মৃতির দ্বারা এই দুঃখের দুনিয়াতে থেকেও সুখ স্বরূপ ভব

সদা সুখের সাগর বাবার স্মৃতিতে থাকলে তোমরা সুখ স্বরূপ হয়ে যাবে। দুনিয়াতে বহু দুঃখ অশান্তির প্রভাব রয়েছে । কিন্তু বাচ্চারা তোমরা সবার থেকে পৃথক এবং প্রিয়, সুখের সাগরের সাথে রয়েছো তাই সদা সুখী, সদাই খুশির দোলনায় দুলছো। বাচ্চারা তোমরা হলে মাস্টার সুখের সাগর, তাই তোমাদের মনে অন্য কারোর প্রতি দুঃখের সংকল্প আসতেই পারে না। তোমরা দুঃখের দুনিয়া থেকে পৃথক হয়ে সঙ্গম যুগে পৌঁছে গেছো। সমস্ত বন্ধন ছিঁড়ে যাবার পর সুখের সাগরে দোল খেতে থাকো।

স্লোগান:-
মন আর বুদ্ধিকে একটি মাত্র শক্তিশালী স্থিতিতে স্থিত করা - একেই বলা হয় একান্তবাসী হওয়া।