১৪-০৩-১৯ প্রাতঃমুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- যেমন বাবা আর দাদা দু'জনেই নিরহংকারী, নিষ্কাম সেবা করেন, নিজের কোনো লোভ নেই -- বাচ্চারা, তোমরাও এমনই বাবার সমান হও"

প্রশ্ন:-

দীনদয়াল (গরীব নিবাজ) বাবা গরীব বাচ্চাদের ভাগ্য কিসের আধারে উচ্চ বানান ?

উত্তর:-

বাবা বলেন -- বাচ্চারা, ঘরে থেকে সবকিছু সামলাও, সাথে সাথে সর্বদা বুদ্ধিতে এটাই রেখো যে এই সবকিছুই বাবার। ট্রাস্টী হয়ে থাকো তবেই ভাগ্য উঁচু হবে। এতে অনেক সততা চাই। সম্পূর্ণ দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে তবেই যজ্ঞের থেকে পালনা হতে থাকবে। ঘরেও ট্রাস্টী হয়ে শিববাবার ভান্ডারা থেকেই খাই। বাবাকে সব সত্য বলতে হবে।

ওম্ শান্তি ।

ভক্তিমার্গের সৎসঙ্গ থেকে এই জ্ঞানমার্গের সৎসঙ্গ বিচিত্র। তোমাদের ভক্তির অনুভব তো রয়েছে। জানো যে, অনেকানেক সাধু-সন্ত রয়েছে যারা ভক্তিমার্গের শাস্ত্র ইত্যাদি শোনায়। এখানে তো সম্পূর্ণ এর থেকে আলাদা। এখানে তোমরা কার সামনে বসে রয়েছ ? ডবল বাবা আর মা। ওখানে তো এমন হয় না। তোমরা জানো, এখানে তো অসীম জগতের পিতাও রয়েছেন, মাম্মাও রয়েছেন, ছোটো মাম্মাও রয়েছেন। এতসব সম্বন্ধ হয়ে যায়। ওখানে তো এমন কোনো সম্বন্ধ নেই। বাবা, মাম্মা এনারা কারো ফলোয়ার্সও (শিষ্য) নন। ওটা হলো নিবৃত্তিমার্গ। ওদের ধর্মই আলাদা। তোমাদের ধর্মও আলাদা। রাত-দিনের প্রভেদ । এটাও তোমরা জানো যে, লৌকিক পিতার কাছ থেকে এক জন্মের জন্য অল্পকালের ক্ষণভঙ্গুর সুখ পাওয়া যায়। আবার (পরজন্মে) নতুন পিতা, নতুন বিষয় । এখানে তো লৌকিকও রয়েছেন, পারলৌকিকও রয়েছেন, আবার অলৌকিকও রয়েছেন । লৌকিকের কাছ থেকেও উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ পাওয়া যায় আর পারলৌকিকের কাছ থেকেও উত্তরাধিকার সূত্রে অবিনাশী সম্পদ পাওয়া যায়। বাকী এই অলৌকিক পিতা হলেন ওয়ান্ডারফুল, এঁনার থেকে কোনো উত্তরাধিকারের আশীর্ব্বাদ পাওয়া যায় না। হ্যাঁ, এঁনার দ্বারা শিববাবা অবিনাশী সম্পদ দেন, তাই সেই পারলৌকিক পিতাকে অনেক স্মরণ করা হয়। লৌকিককেও স্মরণ করে। কিন্তু এই অলৌকিক ব্রহ্মাবাবাকে কেউ স্মরণ করে না। তোমরা জানো যে, ইনি হলেন প্রজাপিতা, ইনি কোনো একজনের পিতা নন। প্রজাপিতা গ্রেট গ্রেট গ্রান্ড ফাদার। শিববাবাকে গ্রেট গ্রেট গ্রান্ড ফাদার বলা হয় না। লৌকিক সম্বন্ধে লৌকিক ফাদার আর গ্রান্ড ফাদার(পিতামহ) হয়। ইনি (ব্রহ্মা বাবা) হলেন গ্রেট গ্রেট গ্রান্ড ফাদার। এমন না লৌকিককে, না পারলৌকিককে বলা হবে। গ্রেট গ্রেট গ্রান্ড ফাদারের থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার পাওয়া যায় না। এইসব কথা বাবা বসে বোঝান। ভক্তিমার্গের তো কথাই আলাদা। ড্রামায় সেই পার্টও রয়েছে যা পুনরায় চলতে থাকবে। বাবা বলে দেন যে, তোমরা কিভাবে ৮৪ জন্ম নিয়েছ, ৮৪ লক্ষ নয়। বাবা এসে এখন সমগ্র দুনিয়া আর আমাদেরকে নিষ্কলুষ (রাইটিয়াস) বানান। এইসময় কেউ ধর্মাত্মা হতে পারে না। পুণ্য আত্মাদের দুনিয়াই আলাদা। যেখানে পাপাত্মারা থাকে সেখানে পুণ্যাত্মারা থাকে না। এখানে পাপাত্মারা, পাপী আত্মাদেরই দান-পুণ্য করে। পুণ্যাত্মাদের দুনিয়ায় দান-পুণ্য ইত্যাদি করার কোনো প্রয়োজনই নেই। ওখানে এই জ্ঞান-ই থাকে না যে আমরা সঙ্গমে ২১ জন্মের আশীর্ব্বাদ নিয়েছিলাম। না, এই জ্ঞান এখানেই বেহদের পিতার কাছ থেকে তোমরা পাও, যার ফলে ২১ জন্মের জন্য সদা সুখ, স্বাস্থ্য, সম্পদ সবকিছুই প্রাপ্ত হয়। ওখানে তোমাদের আয়ু বৃদ্ধি পায়। নামই হল অমরপুরী। কথিত আছে যে, শঙ্কর পার্বতীকে কথা শুনিয়েছিলেন। সূক্ষ্মলোকে তো এই কথা হতে পারে না। তাও আবার অমরকথা, তা কি একজনকেই শোনানো হয় ? না, তা হয় না। এ হল ভক্তিমার্গের কথা, যার উপর তারা আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে। সর্বাপেক্ষা বড় অলীক কথন হল, ঈশ্বরকে সর্বব্যাপী বলা। এ হল কুৎসা রটানো। বেহদের পিতা যিনি তোমাদের বিশ্বের মালিক বানান তাঁর উদ্দেশ্যে বলা হয় সর্বব্যাপী, মাটির পাত্রের টুকরোতে, পাথরের টুকরোতে, প্রতিটি কণায় কণায় তিনি রয়েছেন। নিজের থেকেও বেশী গ্লানি করে দিয়েছে। আমি তোমাদের কত নিষ্কাম সেবা করি, আমার কোনো লোভ নেই যে প্রথম স্থানাধিকারী হতে হবে। না, অন্যদেরকে তৈরী করার জিম্মেদারী থাকে। একেই বলা হয় নিষ্কাম সেবা।



বাচ্চারা, বাবা তোমাদের নমস্কার করেন। বাবা নিরাকার, কত নিরহংকারী, কোনো অহংকার নেই। পোশাক ইত্যাদিও সেই একই। কিছুই পরিবর্তন হয় নি।নাহলে তারা তো তাদের পোশাকই বদল করে ফেলে। এঁনার পোশাক সেইরকমই সাধারণ। অফিসার-দের ড্রেসও বদল হয়, এঁনার তো সেই সাধারণ একই পোশাক। কোনো পার্থক্য নেই। বাবাও বলেন যে, আমি তো সাধারণ শরীর ধারণ করি। তাও আবার কেমন ? যিনি স্বয়ং নিজের জন্মকে জানেন না যে কতবার পুনর্জন্ম নিয়েছেন। ওরা তো ৮৪ লক্ষ বলে দেয়। শোনা কথা। এতে কোনো লাভ নেই। ওরা তো ভয় দেখায় --- এমন কর্ম করলে গাধা, কুকুর ইত্যাদি হয়ে জন্মাবে, বাছুরের লেজ ধরে সাঁতরে পার হয়ে যাবে। গরু সেখানে কোথা থেকে এল ? স্বর্গের গরুই আলাদা রকমের হয়। সেখানকার গরু ফার্স্টক্লাস হয়। যেমন তোমরা ১০০ শতাংশ সম্পূর্ণ হবে, তেমনই গরুও ফার্স্টক্লাস হবে। কৃষ্ণ কখনও গো-পালন করত না। ওঁনার(গো-পালনের) কি প্রয়োজন। সেখানকার সৌন্দর্য দেখানোর জন্য এমন দেখিয়েছে । এছাড়া এমন নয় যে কৃষ্ণ গো-পালন করত। কৃষ্ণকে গোয়ালা বানিয়ে দিয়েছে। কোথায় সর্বগুণসম্পন্ন সত্যযুগের ফার্স্ট প্রিন্স আর কোথায় গোয়ালা! কিছুই বোঝে না। কারণ দেবতা-ধর্ম তো এখন আর নেই। এই একটিই ধর্ম যা প্রায়ঃ বিলুপ্ত হয়ে যায়। এসব কথা শাস্ত্রে নেই। বাবা বলেন, বাচ্চারা, এই জ্ঞান আমি তোমাদেরকে দিই -- বিশ্বের মালিক বানানোর জন্য । মালিক হয়ে গেলে তখন আর এই জ্ঞানের প্রয়োজন থাকে না। জ্ঞান সর্বদা অজ্ঞানীদের দেওয়া হয়ে থাকে। গায়নও রয়েছে, জ্ঞান-সূর্য প্রকট হয়েছে(প্রগটা), অজ্ঞান অন্ধকার বিনাশের...... এখন শুধু বাচ্চারাই জানে যে, সমগ্র দুনিয়া এখন অন্ধকারে রয়েছে। কত-কত সৎসঙ্গ রয়েছে। কিন্তু এ কোনো ভক্তিমার্গের নয়। এ হলো সদ্গতিমার্গ। একমাত্র বাবাই সদ্গতি করেন। তোমরা ভক্তিমার্গে আহ্বান করেছ যে, তুমি এলে আমরা তোমার হয়ে যাবো। তুমি ব্যতীত দ্বিতীয় আর কেউ নেই কারণ তুমিই জ্ঞানের সাগর, সুখের সাগর, পবিত্রতার সাগর, সম্পদের সাগর। সম্পত্তি-ও দেয়, তাই না। কত ধনবান(মালামাল) বানিয়ে দেন। তোমরা জানো যে, আমরা শিববাবার কাছে ২১ জন্মের জন্য নিজেদের ভান্ডার(ঝোলা) ভরপুর করতে এসেছি অর্থাৎ নর থেকে নারায়ণ হয়ে যাই। ভক্তিমার্গে কথা তো অনেক শুনেছ, তাতে সিঁড়ি নিম্নগামী-ই হয়েছে। কেউ তো উর্ধ্বে আরোহন(চড়তী কলা) করতে পারে নি। কল্পের আয়ুও কত লম্বা-চওড়া করে দেয়। ড্রামার সময়কাল-কে লক্ষ বর্ষ বলে দেয়। এখন তোমরা জেনেছো যে, কল্প হয়-ই ৫ হাজার বর্ষের। ম্যাক্সিমাম ৮৪ জন্ম, আর মিনিমাম এক জন্ম। পর-পর আসতে থাকে। নিরাকারী কল্প বৃক্ষ, তাই না। নম্বরের ক্রমানুসারেই পুনরায় আসে পার্ট করতে। কিন্তু সঠিক তো এটাই যে আমরা হলাম (আত্মা) নিরাকারী বৃক্ষের। সেখান থেকে আবার এখানে আসি ভূমিকা পালন (পার্ট) করতে। ওখানে সবাই পবিত্র থাকে। কিন্তু পার্ট সকলেরই আলাদা আলাদা। এ কথা বুদ্ধিতে রাখো। কল্পবৃক্ষ-কেও(ঝাড়) বুদ্ধিতে রাখো সত্যযুগ থেকে কলিযুগের অন্ত পর্য্যন্ত কাহিনী বাবাই বলেন। একথা কোনো মানুষে বলে না, দাদাও বলে না। সত্গুরু একজনই যিনি সকলের সদ্গতি করেন। বাকী আর সবই ভক্তিমার্গের গুরু। কতই না কর্মকান্ড করে। ভক্তিমার্গের আড়ম্বর(শো) কত। এ হল মরীচিকা(মৃগতৃষ্ণা)। এতেই এমন আবদ্ধ হয়ে গেছে যে কেউ বের করে আনতে গেলে সে নিজেই সেখানে আটকে পড়ে। এও ড্রামায় ফিক্সড হয়ে রয়েছে। কোনো নতুন কথা নয়। তোমাদের এক-একটি মুহুর্ত যে অতিবাহিত হয়ে যায়, সে সবকিছুই ড্রামায় তৈরী হয়ে রয়েছে। তোমরা জানো যে, এখন আমরা বেহদের পিতার কাছ থেকে রাজযোগ শিখে নর থেকে নারায়ণ, বিশ্বের মালিক হই। বাচ্চারা তোমাদের তো নেশা থাকা উচিৎ। বেহদের পিতা পাঁচ-পাঁচ হাজার বছর পরে এই ভারতেই আসেন। তিনিই শান্তির সাগর, সুখের সাগর । এই মহিমা শুধুমাত্র পারলৌকিক পিতার-ই।তোমরা জানো, এই মহিমা সম্পূর্ণ সঠিক। সবকিছুই একজনের থেকেই পাওয়া যায়। তিনিই দুঃখহরণকারী, সুখ প্রদানকারী (সুখদাতা), যার সম্মুখে তোমরা এখন বসে রয়েছ।



তোমরা নিজেদের সেন্টারে বসে থাকলেও যোগ কোথায় লাগাবে। বুদ্ধিতে আসবে যে শিববাবা মধুবনে রয়েছেন। স্বয়ং শিববাবা বলেন যে, আমি সাধারণ বৃদ্ধ শরীরে প্রবেশ করেছি,পুনরায় ভারতকে স্বর্গে পরিনত করতে। আমিও ড্রামার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে রয়েছি। তোমরা আমার কত গ্লানি কর। আমিই তোমাদের পূজনীয় বানাই। এ যেন কালকের কথা। তোমরা কত পূজা করতে। তোমাদের নিজস্ব রাজ্য-ভাগ্য(রাজত্ব) দিয়েছি। সব হারিয়ে ফেলেছো। এখন পুনরায় তোমাদের বিশ্বের মালিক বানাচ্ছি। কখনও কারও বুদ্ধিতে একথা বসবে না। এঁনারা হলেন দৈবী গুণসম্পন্ন দেবতা। এঁনারাও মানুষ, কেউ ৮০-১০০ ফুট লম্বা তো নয়। এমনও তো নয় যে ওঁনাদের আয়ু বেশী তাই ছাদ-সমান বড়(লম্বা) হবে। কলিযুগে তোমাদের আয়ু কম হয়ে যায়। বাবা এসে তোমাদের আয়ু বৃদ্ধি করে দেয়। তাই বাবা বলেন হেল্থ মিনিস্টারকেও বোঝাও। বলো যে, আমরা আপনাকে এমন যুক্তি বলে দেব যেন কখনও আর অসুস্থ হয়ে না পড়েন। ভগবানুবাচ -- নিজেকে আত্মা মনে করে মামেকম্ স্মরণ কর তবেই তোমরা পতিত থেকে পাবন এভারহেল্দী(সদাসুস্থ) হয়ে যাবে। আমরা গ্যারান্টি করছি। যোগীরা পবিত্র হয় তাই তাঁদের আয়ুও বেশী হয়। এখন তোমরা হলে রাজযোগী, রাজঋষি। ওই সন্ন্যাসীরা রাজযোগ শেখাতে পারে না। তারা বলে গঙ্গা হলো পতিত-পাবনী, সেখানে দান কর। গঙ্গাতে কি দান করা যায়, না করা যায় না। মানুষ গঙ্গায় পয়সা ফেলে। পন্ডিতেরা তা নিয়ে যায়। এখন তোমরা বাবার দ্বারা পবিত্র হচ্ছো বাবাকে কি দাও ? কিছুই না, বাবা তো দাতা। তোমরা ভক্তিমার্গে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে গরীবকে দান করতে। অর্থাৎ পতিতদের দিতে। তোমরাও পতিত, যারা নিচ্ছে তারাও পতিত। এখন তোমরা পবিত্র হচ্ছো। তারা পতিত, পতিতকে দান করে। কুমারী যারা প্রথমে পবিত্র হয় তাকেও দান করা হয়, নত-মস্তক হয়, খাওয়ায়, দক্ষিণাও দেয়। বিবাহের পর সব নষ্ট হয়ে যায়। ড্রামায় ফিক্সড রয়েছে আবারও রিপীট হবে। ভক্তিমার্গের পার্টও হয়ে গেছে। আর সত্যযুগের সমাচারও বাবা বলেন। বাচ্চারা এখন তোমরা বুঝতে পেরেছো। প্রথমে অবোধ(অবুঝ) ছিলে। শাস্ত্রে তো ভক্তিমার্গের কথা রয়েছে,এর দ্বারা আমাকে কেউ পায় না। আমি যখন আসি, তখনই এসে সকলের সদ্গতি করি। আর আমি একবারই আসি পুরোনোকে নতুন বানাতে। আমি গরীবের ত্রাতা। গরীবদের সাহুকার বানাই। গরীবরা তো ঝট করে বাবার হয়ে যায়, তারা বলে, বাবা আমরা তোমার। এই সবকিছু তোমার। বাবা বলেন, ট্রাস্টী হয়ে থাকো। বুদ্ধি দিয়ে বোঝো যে, এইসব আমাদের নয়, বাবার। এর জন্য বড় হুশিয়ার(চতুর) বাচ্চা চাই। আবার ঘরে যখন ভোজন বানিয়ে খাও অর্থাৎ যজ্ঞ-র থেকেই ভোজন কর কারণ তোমরাও এই যজ্ঞে সমর্পিত। তাই সবকিছুই এই যজ্ঞের হয়ে গেছে। ঘরেও যদি ট্রাস্টী হয়ে থাকো তবে শিববাবার ভান্ডারা থেকেই খাও। কিন্তু সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা চাই। বিশ্বাসের দৃঢ়তায় যদি গড়বড়(বিচলিত) হয় তবে, যেমন হরিশ্চন্দ্রের উদাহরণ রয়েছে । বাবাকে তো সবকিছুই বলতে হবে। আমি হলাম দীনদয়াল(গরীবের ত্রাতা)।



*গীত*:- অবশেষে সেই দিন এসেছে আজ (আখির ওহ্ দিন আয়া আজ).......



আধাকল্প ভক্তিতে স্মরণ করে শেষে এখন (ঈশ্বরকে) পেয়েছ। এখন জ্ঞান জিন্দাবাদ হবে। অবশ্যই সত্যযুগে আসবে। মাঝে রয়েছে সঙ্গম, যেখানে তোমরা উত্তম থেকে উত্তম(সর্বোত্তম) পুরুষ হও। তোমরা পবিত্র প্রবৃত্তিমার্গীয় ছিলে। পুনরায় ৮৪ জন্ম পরে অপবিত্র হয়ে যাও, আবার পবিত্র হতে হবে। কল্প-পূর্বেও তোমরা এভাবেই হয়েছিলে। কল্প-পূর্বে যে যতখানি পুরুষার্থ করেছিলে, এখনও তাই করবে। নিজের অবিনাশী উত্তরাধিকার নেবে। বাবা সাক্ষী হয়ে দেখেন । বাবা বলেন, তোমরা হলে ম্যাসেঞ্জার(দূত) আর কেউ তো ম্যাসেঞ্জার, পয়গম্বর হতে পারে না। একজনই সত্গুরু রয়েছেন যিনি সদ্গতি করেন। অন্য ধর্মনেতারা আসে ধর্মের স্থাপনা করতে। তাহলে গুরু হলো কিভাবে। আমিই তো সকলকে সদ্গতি প্রদান করি। আচ্ছা!



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার*:-

১. সদা এই নেশাতে থাকতে হবে যে শান্তি, সুখ, সম্পত্তির সাগর বাবাকে আমরা পেয়েছি, আমরা সবকিছু একজনের থেকেই পাই। এখন বাবার সম্মুখে আমরা বসে রয়েছি। তিনি আমাদের পড়াচ্ছেন।

২. নিজের অহংকার ছেড়ে বাবার সমান নিষ্কাম সেবা করতে হবে। নিরহংকারী হয়ে থাকতে হবে। ম্যাসেঞ্জার-পয়গম্বর(দূত) হয়ে সকলকে সমাচার দিতে হবে।

বরদান:-

অকাল তখ্ত (অবিনাশী- সিংহাসন) আর হৃদয়-সিংহাসনে(দিল তখ্ত) বসে সদা শ্রেষ্ঠ কর্ম সম্পাদনকারী কর্মযোগী ভব

বাচ্চারা, তোমরা সকলেই এইসময়েই দুটি সিংহাসন(তখ্ত) লাভ কর -- এক অবিনাশী সিংহাসন, দ্বিতীয় হৃদয়-সিংহাসন। কিন্তু সিংহাসনে তারাই বসতে পারে যাদের নিজের রাজ্য থাকে। যখন ভ্রুকুটি-সিংহাসনে(অকাল তখ্তনসীন) বিরাজমান তখন স্বরাজ্য অধিকারী আর যখন বাবার হৃদয়-সিংহাসনে(দিল তখ্তনসীন) বিরাজমান তখন বাবার অবিনাশী উত্তরাধীকারের অধিকারী। যার মধ্যে রাজ্য-ভাগ্য সবকিছুই চলে আসে। কর্মযোগী অর্থাৎ দুটি সিংহাসনেই বিরাজমান। এমন সিংহাসনে বিরাজিত আত্মার প্রতিটি কর্মই শ্রেষ্ঠ হয় কারণ সব কর্মেন্দ্রিয়গুলি ল' (আইন) এবং অর্ডার(নিয়ম) অনুসারে চলে।

স্লোগান:-

যে সদা স্বমানের সীটে সেট থাকে সে-ই গুণবান আর মহান হয়*।