14.06.2022 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - ২১ জন্মের পূর্ণ প্রালব্ধ প্রাপ্ত করার জন্য বাবার কাছে সম্পূর্ণ বলি চড়ো, অসম্পূর্ণ নয়, বলি চড়া অর্থাৎ বাবার হয়ে যাওয়া"

প্রশ্নঃ -
কোন্ গুপ্ত বিষয়কে বোঝার জন্য অসীম জগতের বুদ্ধির প্রয়োজন ?

উত্তরঃ  
এ হলো অসীম জগতের বানানো ড্রামা, যা অতীত হয়ে গেছে, তাই ড্রামা । এখন এই ড্রামা সম্পূর্ণ হয়ে এসেছে, আমরা ঘরে ফিরে যাবো, তারপর আবার নতুন ভাবে পার্ট শুরু হবে, এই গুহ্য বিষয় বোঝার জন্য অসীম জাগতিক বুদ্ধির প্রয়োজন । অসীম জগতের রচনার জ্ঞান অসীম জগতের পিতাই প্রদান করেন ।

প্রশ্নঃ -
মানুষ কোন্ বিষয়ে হায় - হায় করে কান্নাকাটি করে, আর তোমরা বাচ্চারা খুশী হও ?

উত্তরঃ -
অজ্ঞানী মানুষ সামান্য অসুস্থতাতেও কান্নাকাটি করে, তোমরা বাচ্চারা কিন্তু খুশী হও, কেননা তোমরা বুঝতে পারো, এও তোমাদের পুরানো হিসেব - নিকেশ পরিশোধ হচ্ছে ।

গীত :-
তুমি রাত ঘুমিয়ে কাটালে ঘুমিয়ে, দিন কাটালে খেয়ে, অমূল্য এ জীবন বৃথা চলে যায়...

ওম্ শান্তি ।
বাস্তবে ওম্ শান্তি বলারও প্রয়োজন নেই, কিন্তু কোনো না কোনো বাচ্চাকে বোঝাতেই হয়, পরিচয় দিতেই হয় । আজকাল অনেকেই আছে, যারা 'ওম্ শান্তি - ওম্ শান্তি' জপতেই থাকে । অর্থ তো বোঝেই না । 'ওম্ শান্তি', অর্থাৎ আমি আত্মার স্বধর্ম শান্ত । এ তো ঠিক আছে, আবার 'ওম্ শিবোহম্'ও বলে দিয়েছে, এ কিন্তু ভুল হয়ে গেলো । বাস্তবে এই গীত ইত্যাদিরও কোনো প্রয়োজন নেই । দুনিয়াতে আজকাল কানরস (বাইরের জগতের নানান চর্চা) অনেকই আছে । এই সব কানরসে লাভ কিছুই নেই । মনরস তো এখনই আসে এই এক বিষয়ের । বাবা বাচ্চাদের সম্মুখে বসে বোঝান, তিনি বলেন, তোমরা তো অনেক ভক্তি করেছো, এখন ভক্তির রাত সম্পূর্ণ হয়ে প্রভাত হচ্ছে । প্রভাতের অনেক গুরুত্ব । এই প্রভাতের সময়ই বাবাকে স্মরণ করতে হবে । প্রভাতের সময় ভক্তিও অনেক করা হয় । মানুষ মালাও জপ করে । এ সবই ভক্তিমার্গের নিয়ম চলে আসছে । বাবা বলেন - বাচ্চারা, এই নাটক সম্পূর্ণ হয়ে আসছে, আবার এই চক্র রিপিট হবে । ওখানে তো ভক্তির কোনো প্রয়োজন নেই । মানুষ নিজেই বলে, ভক্তির পরেই ভগবানকে পাওয়া যায় । তারা ভগবানকে স্মরণ করে, কারণ তারা দুঃখী । যখন কোনো বিপদ উপস্থিত হয় বা অসুস্থতা আসে, তখনই ভগবানকে স্মরণ করে, ভক্তরাই ভগবানকে স্মরণ করে । সত্যযুগ, ত্রেতাতে ভক্তি থাকে না । নাহলে সম্পূর্ণ ভক্তি অর্চনা হয়ে যাবে । ভক্তি, জ্ঞান এবং তারপরে আসে বৈরাগ্য । ভক্তির পরে দিন আসে । নতুন দুনিয়াকে দিন বলা হয় । ভক্তি, জ্ঞান আর বৈরাগ্য, এই অক্ষরই ঠিক । বৈরাগ্য কিসের ? পুরানো দুনিয়া, পুরানো সম্বন্ধ ইত্যাদি থেকে বৈরাগ্য । মানুষ চায়, আমরা মুক্তিধামে বাবার কাছে যাবো । ভক্তির পরে আমরা অবশ্যই ভগবানকে পাবো । ভক্তরাই ভগবান বাবাকে পায় । ভক্তদের সদ্গতি দান করা ভগবানেরই কাজ । তোমাদের আর কিছুই করতে হবে না, কেবল বাবাকে চিনতে হবে । বাবা হলেন এই মনুষ্য সৃষ্টি রূপী ঝাড়ের বীজ, একে উল্টো ঝাড় বলা হয় । বীজ থেকে কীভাবে গাছ নির্গত হয়, এ তো বড় সহজ । তোমরা এখন জানো যে - এই বেদ শাস্ত্র, গ্রন্থ ইত্যাদি পাঠ করা, জপ - তপ করা, এ সবই হলো ভক্তিমার্গ । ভগবানকে পাওয়ার এ কোনো প্রকৃত মার্গ নয় । প্রকৃত মার্গ তো ভগবানই দেখান - মুক্তি এবং জীবনমুক্তির । তোমরা জানো যে, এই ড্রামা এখন সম্পূর্ণ হয়ে এসেছে । যা অতীত হয়ে গেছে, সে সবই ড্রামা । একথা বোঝার জন্য অনেক বড় অসীম জাগতিক বুদ্ধির প্রয়োজন । অসীম জগতের মালিকই এই সম্পূর্ণ সৃষ্টির আদি - মধ্য এবং অন্তের অর্থাৎ অসীম জগতের জ্ঞান প্রদান করেন । তাঁকে বলা হয় জ্ঞানেশ্বর, রচয়িতা । জ্ঞানেশ্বর অর্থাৎ ঈশ্বরের মধ্যে জ্ঞান থাকে, একে বলা হয় রুহানী আধ্যাত্মিক জ্ঞান । গড ফাদারলি নলেজ । তোমরাও গড ফাদারলি স্টুডেন্ট হয়েছো । বরাবর ভগবান উবাচঃ হলো - আমি তোমাদের রাজযোগ শেখাই, তাহলে ভগবান টিচারও হলেন । তোমরা যেমন স্টুডেন্টও আবার বাচ্চাও । বাচ্চারা ঠাকুরদাদার কাছ থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে । এ তো বড় সহজ কথা । বাচ্চা যদি উপযুক্ত না হয়, তখন বাবা পদাঘাত করে বের করে দেন, যারা কাজকারবারে খুব ভালো সাহায্য করে, তারাই ভাগ পায় । তাই বাচ্চারা, তোমরাই ঠাকুরদাদার সম্পদের অধিকারী । তিনি হলেন নিরাকার । বাচ্চারা জানে যে, আমরা আমাদের ঠাকুরদাদার কাছ থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি । তিনিই স্বর্গের স্থাপনা করেন । তিনি নলেজফুল । ব্রহ্মা - বিষ্ণু - শঙ্করকে পতিত পাবন বলা হবে না । তাঁরা তো হলেন দেবতা । তাঁদের সদগতিদাতাও বলা যাবে না । সদগতিদাতা হলেন এক । স্মরণও সবাই একজনকেই করে । বাবাকে না জানার কারণে বলে দেয় যে, সকলের মধ্যেই পরমাত্মা আছেন । কারোর যদি সাক্ষাৎকার হয়ে যায়, তাহলে মনে করে যে, হনুমান দর্শন করিয়েছেন । মনে করে, ভগবান তো সর্বব্যাপী । কোনো জিনিসের প্রতি যদি ভাবনা থাকে তাহলে সাক্ষাৎকারও হয়ে যায় । এখানে তো হল পঠন-পাঠনের কথা । বাবা বলেন, আমি এসে বাচ্চাদের পড়াই । তোমরা দেখোও থাকো যে তিনি কীভাবে পড়ান, যেমন অন্য টিচাররা সাধারণ রীতিতে পড়ান । ব্যারিস্টার হলে, তিনি তার মতন ব্যারিস্টার তৈরী করবেন । এ তো তোমরাই জানো যে, এই ভারতকে স্বর্গ কে বানিয়েছিলেন ? আর ভারতে থাকা সূর্যবংশী দেবী - দেবতারা কোথা থেকে এসেছেন ? মানুষ কিছুই জানে না । এখন হলো সঙ্গম । তোমরা এই সঙ্গমে দাঁড়িয়ে আছো, অন্যরা কেউই সঙ্গমে নেই । এই সঙ্গমের মেলা দেখো কেমন । বাচ্চারা বাবার সঙ্গে মিলিত হতে এসেছে । এই মেলা হলো কল্যাণকারী । বাকি আর যা কুম্ভ ইত্যাদির মেলা হয়, তার থেকে কিছুই প্রাপ্তি হয় না । প্রকৃত কুম্ভের মেলা বলা হয় এই সঙ্গমকে । এমন গাওয়াও হয় যে, আত্মা - পরমাত্মা পৃথক আছে বহুকাল, তাই সুন্দর এক মেলার আয়োজন করে দিয়েছে । এই সময় কতো সুন্দর । এই সঙ্গমের সময় কতো কল্যাণকারী, কেননা এই সময়ই সকলের কল্যাণ হয় । বাবা এসে সবাইকে পড়ান, তিনি হলেন নিরাকার, স্টার । বোঝানোর জন্য লিঙ্গ রূপ দেখানো হয়েছে । বিন্দু রাখলে কেউই কিছু বুঝতে পারবে না । তোমরা বোঝাতে পারো যে, আত্মা হলো এক স্টারের মতো । বাবাও স্টার । আত্মা যেমন, তেমনই পরমপিতা পরমাত্মা । কিছুই তফাৎ নেই । তোমাদের আত্মারা নম্বরের ক্রমানুসারে আছে । কারোর বুদ্ধিতে কিছু নলেজ আছে, আবার কারোর বুদ্ধিতে কম কিছু । তোমরা এখন বুঝতে পারো যে, আমরা আত্মারা কিভাবে ৮৪ জন্ম ভোগ করি । প্রত্যেককেই তার হিসেব - নিকেশ ভোগ করতেই হবে । কেউ অসুস্থ হয়, তার হিসাবও এইভাবে শোধ করতে হবে । এমন নয় যে, ঈশ্বরীয় সন্তান কেন এমন ভোগ করবে ! বাবা বুঝিয়েছেন যে - বাচ্চারা, জন্ম - জন্মান্তরের পাপ জমা আছে । যদিও কুমারী হয়, কুমারীর দ্বারা কি পাপ হবে ? কিন্তু এ তো অনেক জন্মের হিসেব - নিকেশ শোধ হবে, তাই না । বাবা বুঝিয়েছেন যে, এই জন্মের পাপও যদি না শোনাও, তাহলে তা অন্দরে বৃদ্ধি পেতে থাকবে । বলে দিলে তা আর বৃদ্ধি হবে না । ভারত সবথেকে এক নম্বর পবিত্র ছিলো, এখন ভারত সবথেকে পতিত । তাই তাদের পরিশ্রমও বেশী করতে হয় । যারা বেশী সেবা করে, তারা বুঝতে পারে যে আমরা উঁচু নম্বরে যাবো । কিছু হিসেব - নিকেশ থেকে গেলে অবশ্যই তা ভোগ করতে হবে । সেই ভোগও খুশীর সঙ্গেই করে । অজ্ঞানী মানুষের যদি কিছু হয়, তাহলে একদম হায় - হায় করে কান্নাকাটি করে । এখানে তো খুশীর সঙ্গে ভোগ করতে হবে । আমরাই পাবন ছিলাম, আবার আমরাই সবথেকে পতিত হয়ে যাই । অভিনয় করার জন্য আমরা এমন দেহ রূপী বস্ত্র প্রাপ্ত করেছি । এখন আমাদের বুদ্ধিতে এসেছে যে, আমরাই সবথেকে বেশী পতিত হয়ে গেছি । তাই আমাদের খুব পরিশ্রম করতে হবে । তোমাদের আশ্চর্য হওয়া উচিত নয় যে, অমুকের এমন অসুখ কেন হলো ! আরে দেখো, কৃষ্ণের নামেরও এমন গায়ন আছে - শ্যামলা, গোরা । যারা চিত্র বানায় তারা তো বুঝতেই পারে না । ওরা তো রাধাকে গৌর বর্ণের আর কৃষ্ণকে কালো দেখিয়ে দেয় । মনে করে যেহেতু রাধা কুমারী, তাই তার মান রাখে । তারা মনে করে, রাধা কীভাবে কালো হবে ? এই কথা তোমরা এখন বুঝতে পারো । যারা দেবতা কুলের ছিলো তারাই এখন নিজেদের হিন্দু ধর্মের মনে করছে ।

তোমরা শ্রীমতে চলে নিজের কুলকে উদ্ধার করো । সম্পূর্ণ কুলকে পবিত্র বানাতে হবে, তাদের উদ্ধার করে উপরে নিয়ে আসতে হবে । তোমরাই তো উদ্ধারকারী সেনা, তাই না । বাবাই তোমাদের দুর্গতি থেকে উদ্ধার করে সদগতি দান করেন, তিনিই ক্রিয়েটর, ডায়রেক্টর, মুখ্য অ্যাক্টর - এমন গায়ন আছে । কিভাবে অ্যাক্টর হলেন, পতিত পাবন বাবা এসে এই পতিত দুনিয়াতে সবাইকে পবিত্র বানান, তাহলে মুখ্য হলেন, তাই না । ব্রহ্মা - বিষ্ণু - শঙ্করকে কেউ করনকরাবনহার বলবে না । তোমরা এখন অনুভবের দ্বারা বলতে পারো - বাবা যাঁকে করনকরাবনহার বলেন, তিনিই এই সময় তাঁর পার্ট প্লে করছেন । তিনি এই সঙ্গমেই পার্ট প্লে করেন, কেউই তাঁকে জানে না । মানুষ ১৬ কলা থেকে নীচে নামতে থাকে । ধীরে ধীরে কলা কম হয়ে যায় । প্রতি জন্মে কিছু না কিছু কলা কম হতে থাকে । সত্যযুগে ৮ জন্মগ্রহণ করতে হয় । এক - এক জন্মে ড্রামা অনুসারে কিছু না কিছু কলা কম হতে থাকে। এখন আবার হলো উত্তরণের কলা । যখন সম্পূর্ণ উত্তরণ করবে তখন আবার ধীরে ধীরে নামতে থাকবে । বাচ্চারা জানে যে, এখন এই রাজধানী স্থাপন হচ্ছে । রাজধানীতে তো সব প্রকারের প্রজা প্রয়োজন । যে খুব ভালোভাবে শ্রীমতে চলে, সে উচ্চ পদ প্রাপ্ত করে, তাও যখন জিজ্ঞেস করবে, তখন না বলবেন ! বাবাকে যখন নিজের পোতামেল (দৈনিক চার্ট) দেবে, তখনই বাবা রায় দিতে পারবেন। এমন নয় যে, বাবা সবকিছুই জানেন । তিনি তো সম্পূর্ণ দুনিয়ার আদি - মধ্য এবং অন্তকে জানেন । এক - একজনের মনের মধ্যে বসে তো আর জানতে পারবেন না । তিনি হলেন নলেজফুল। বাবা বলেন, আমি আদি - মধ্য এবং অন্তকে জানি, তাই তো বলতে পারি যে, তোমরা এমন - এমনভাবে নেমে যাও । তারপর আবার এমনভাবে উঠতে থাকো । এই পার্ট হলো ভারতেরই । ভক্তি তো সবাই করে । যে সবথেকে বেশী ভক্তি করে, তার তো আগে সদ্গতি প্রাপ্ত করা উচিত । তিনি পূজ্য ছিলেন, আবার তিনিই ৮৪ জন্মগ্রহণ করেছেন । ভক্তিও তিনি নম্বরের ক্রমানুসারেই করেছেন । যদিও তোমরা এই সময় জন্ম পেয়েছো, তবুও তো গত জন্মের পাপ জমা আছে, তাই না । তা দূর হয় স্মরণের শক্তিতে । এই স্মরণই হলো কঠিন । তোমাদের জন্য বাবা বলেন যে - তোমরা স্মরণে বসো, তাহলে তোমরা নিরোগী হতে পারবে । বাবার থেকে সুখ, শান্তি, পবিত্রতার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় । নিরোগী কায়া আর দীর্ঘায়ু প্রাপ্ত হয় কেবলমাত্র স্মরণের দ্বারা । জ্ঞানের দ্বারা তোমরা ত্রিকালদর্শী হও । ত্রিকালদর্শীর অর্থও কেউ জানে না । ঋদ্ধি - সিদ্ধি যারা করে, তারাও অনেকই আছে । এখানে বসেও লণ্ডনের পার্লামেন্ট ইত্যাদি দেখতে থাকবে কিন্তু এই ঋদ্ধি - সিদ্ধিতে কিছুই লাভ নেই । দিব্য দৃষ্টির দ্বারা দর্শনও হয়, এই নয়নের দ্বারা কিন্তু নয় । এই সময় সকলেই কালো হয়ে গেছে । তোমরা বলি চড়ো অর্থাৎ বাবার হয়ে যাও । বাবাও সম্পূর্ণ বলি চড়েছিলেন, যে অসম্পূর্ণ বলি চড়ে, তার প্রাপ্তিও অর্ধেকই হয় । বাবাও তো বলি চড়েছিলেন, তাই না । যা কিছুই তার ছিলো সবই সমর্পণ করে দিয়েছেন । এতো এতো সংখ্যায় যে বলি চড়ে, তারা ২১ জন্মের জন্য প্রাপ্তি লাভ করে, এখানে জীবঘাতের কোনো কথাই নেই । জীবঘাত যারা করে, তাদের মহাপাপী বলা হয় । আত্মা নিজের শরীরকে আঘাত করলো, এ তো কোনো ভালো কথা নয় । মানুষ অন্যের গলা কাটে বা নিজের গলা কাটে, তাই তাদের জীবঘাতী, মহাপাপী বলা হয় ।

বাবা মিষ্টি - মিষ্টি বাচ্চাদের কতো ভালোভাবে বুঝিয়ে বলেন । তোমরা জানো যে, বাবা কল্পে - কল্পে, কল্পের সঙ্গম যুগে এই কুম্ভের মেলায় আসেন । ইনি হলেন সেই মাতা - পিতা । মানুষ বলে, বাবা আপনিই আমার সবকিছু । বাবা বলেন - হে বাচ্চারা, তোমরা আত্মারা হলে আমার । তোমরা জানো যে, শিব বাবা পূর্ব কল্পের মতো আবার এসেছেন । যিনি সম্পূর্ণ ৮৪ জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁকেই আবার সাজাচ্ছেন । তোমাদের আত্মা জানে যে, বাবা হলেন নলেজফুল, তিনিই পতিত - পাবন । তিনিই এখন তোমাদের এই সম্পূর্ণ জ্ঞান দান করছেন । তিনিই হলেন জ্ঞানের সাগর, এতে শাস্ত্রের কোনো কথা নেই । এখানে তো তোমাদের দেহ সহিত সবকিছু ভুলে নিজেকে আত্মা মনে করতে হবে । এক বাবার যদি হও, বাকি সবকিছুই ভুলে যেতে হবে । অন্য সঙ্গের সঙ্গে বুদ্ধিযোগ ছিন্ন করে এক সঙ্গেই জুড়তে হবে । এমন গেয়েও থাকে যে - আমি তোমার সঙ্গেই জুড়বো । বাবা আমরা সম্পূর্ণ বলিহারি যাবো । বাবাও বলেন, আমিও তোমাদের কাছে বলিহারি যাই । মিষ্টি বাচ্চারা, আমি তোমাদের সম্পূর্ণ বিশ্বের রাজত্বের মালিক বানাই, আমি তো নিস্কামী । মানুষ যদিও বলে, তারা নিস্কাম সেবা করে, কিন্তু ফল তো প্রাপ্ত হয়, তাই না । বাবা যে নিস্কাম সেবা করেন, এও তোমরা জানো । আত্মা যে বলে, আমি নিস্কাম সেবা করি, এ কোথা থেকে শিখেছে ! তোমরা জানো যে, বাবাই নিস্কাম সেবা করেন । তিনিই আসেনই কল্পের এই সঙ্গম যুগে । এখনো তিনি তোমাদের সম্মুখেই বসে আছেন । বাবা নিজেই বলেন, আমি তো হলাম নিরাকার । আমি তোমাদের এই উত্তরাধিকার কিভাবে দান করবো ? সৃষ্টির আদি - মধ্য এবং অন্তের জ্ঞান কীভাবে শোনাবো ? এতে প্রেরণা দেওয়ার কোনো কথাই নেই । মানুষ শিব জয়ন্তী পালন করে, তাহলে অবশ্যই আমি আসি, তাই না । আমি এই ভারতেই আসি । তিনি ভারতের মহিমা শোনান । ভারত তো সম্পূর্ণ পবিত্র ছিলো, আবার এখন নতুন করে তৈরী হচ্ছে । বাবার তাঁর বাচ্চাদের প্রতি কতো প্রেম । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) শ্রীমতে চলে নিজের কুলকে উদ্ধার করতে হবে । সম্পূর্ণ কুলকে পাবন বানাতে হবে । বাবাকে নিজের সত্যিকারের পোতামেল (চার্ট) দিতে হবে ।

২ ) স্মরণের শক্তিতে নিজের কায়াকে নিরোগী বানাতে হবে । বাবার প্রতি সম্পূর্ণ বলিদান (সমর্পণ) যেতে হবে । বুদ্ধিযোগ অন্য সঙ্গের সাথে ছিন্ন করে একের সঙ্গেই জুড়তে হবে ।

বরদান:-
'এক বাবা, দ্বিতীয় আর কেউই নয়', এই স্মৃতির দ্বারা নিমিত্ত রূপে সেবা করে সর্ব আকর্ষণ মুক্ত ভব

যে বাচ্চারা সদা 'এক বাবা দ্বিতীয় আর কেউই নয়' - এই স্মৃতিতেই থাকে, তাদের মন - বুদ্ধি সহজেই একাগ্র হয়ে যায় । তারা সেবাও নিমিত্ত রূপেই করে, তাই তাদের এতে কোনো আকর্ষণ থাকে না । আকর্ষণের নিদর্শন হলো - যেখানে আকর্ষণ থাকবে, সেখানেই বুদ্ধি চলে যাবে, মন দৌড় দেবে, তাই সব দায়িত্ব বাবাকে অর্পণ করে ট্রাস্টি বা নিমিত্ত হয়ে দেখভাল করো, তাহলেই আকর্ষণ মুক্ত হয়ে যাবে ।

স্লোগান:-
বিঘ্নই আত্মাকে শক্তিশালী করে, তাই বিঘ্ন দেখে ভয় পেও না ।