14.09.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - নিজের স্বচ্ছ চার্ট রাখো তাহলে অবস্থা ভালো থাকবে, চার্ট রাখলে কল্যাণ হতে থাকবে"

প্রশ্নঃ -
কোন্ স্মৃতি পুরানো দুনিয়া থেকে সহজেই পৃথক করিয়ে দেয় ?

উত্তরঃ -
এই স্মৃতি যদি থাকে যে, আমরা কল্প - কল্প বাবার থেকে অসীম জগতের উত্তরাধিকার গ্রহণ করি । এখন আবার শিববাবা আমাদের দত্তক নিয়েছেন -- উত্তরাধিকার দানের জন্য । বাবা আমাদের দত্তক নিয়েছেন, আমরা সত্যিকারের ব্রাহ্মণ হয়েছি । শিববাবা আমাদের গীতা শোনাচ্ছেন । এই স্মৃতি আমাদের পুরানো দুনিয়া থেকে পৃথক করে দেবে ।

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা তোমরা এখানে শিব বাবার স্মরণে বসে আছো, তাই তোমরা জানো যে, তিনি আমাদের আবার সুখধামের মালিক বানাচ্ছেন । বাচ্চাদের বুদ্ধিতে কতো খুশী হওয়া চাই, এখানে বসে বাচ্চারা তো সম্পদ পাচ্ছে, তাই না । অনেক প্রকারের কলেজে, ইউনিভার্সিটিতে কারোর বুদ্ধিতে এই কথা থাকে না । তোমরাই জানো যে, বাবা আমাদের স্বর্গের মালিক বানাচ্ছেন । এই খুশী তো থাকা উচিত, তাই না । এই সময় সব চিন্তা দূর করে এক বাবাকেই স্মরণ করতে হবে । তোমরা এখানে যখন বসো, তখন তোমাদের বুদ্ধিতে এই নেশা থাকা উচিত যে, আমরা এখন সুখধামের মালিক হচ্ছি । সুখ আর শান্তির উত্তরাধিকার আমরা কল্প - কল্প গ্রহণ করি । মানুষ তো কিছুই জানে না । কল্প পূর্বেও অনেক মানুষ অজ্ঞানতার অন্ধকারে কুম্ভকর্ণের নিদ্রায় ঘুমিয়ে শেষ হয়ে গিয়েছিলো । আবারও এমন হবে । বাচ্চারা বুঝতে পারে যে, বাবা আমাদের দত্তক নিয়েছেন, বা আমরা শিববাবার ধর্ম আপন করেছি যিনি আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের স্থাপনা করছেন । আমরা এখন ব্রাহ্মণ । আমরা প্রকৃত গীতার পাঠ শুনছি । আমরা আবার বাবার থেকে রাজযোগ আর জ্ঞানের শক্তিতে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি । এমন - এমন খেয়াল অন্তরে আসা চাই, তাই না । বাবা এসেও তো খুশীর কথা বলেন, তাই না । বাবা জানেন যে, বাচ্চারা কাম চিতাতে বসে কালো ভস্মীভূত হয়ে গেছে, তাই আমি অমরলোক থেকে মৃত্যুলোকে আসি । তোমরা আবার বলো, আমরা মৃত্যুলোক থেকে অমরলোকে যাই । বাবা বলেন - আমি মৃত্যুলোকে যাই, যেখানে সকলের মৃত্যু হয়ে গেছে, তাদের আমি আবার অমরলোকে নিয়ে যাই । শাস্ত্রে তো কি - কি সব লিখে দিয়েছে যে, তিনি সর্বশক্তিমান, তিনি যা চাইবেন তাই করতে পারেন । বাচ্চারা কিন্তু জানে, তাঁকে ডাকাই হয়, হে পতিত পাবন বাবা এসো, এসে আমাদের পতিত থেকে পবিত্র করো । আমাদের দুঃখ হরণ করে সুখ প্রদান করো, এতে জাদুর কোনো কথা নেই । বাবা আসেন কাঁটা থেকে ফুল তৈরী করতে ।

তোমরা জানো যে, আমরা সুখধামের দেবতা ছিলাম, সতোপ্রধান ছিলাম । প্রত্যেককেই সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান অবস্থায় আসতেই হবে । এখানে বসার সময় বাচ্চাদের তো আরো মজা আসা উচিত । সম্পূর্ণ দুনিয়া বাবাকেই স্মরণ করে । হে, লিবরেটর, গাইড, হে পতিত পাবন, এসো । মানুষ তখনই ডাকে, যখন রাবণ রাজ্যে থাকে । সত্যযুগে তো ডাকেই না, এই কথা বোঝার জন্য খুবই সহজ । একথা কে শুনিয়েছেন ? বাবারও মহিমা করবে, টিচার - সৎগুরুরও মহিমা করবে.... এই তিন একই । একথা তোমাদের বুদ্ধিতে আছে । ইনি বাবা - টিচার এবং সৎগুরুও । শিববাবার কাজই হলো পতিতকে পবিত্র করা । পতিত ব্যক্তি অবশ্যই দুঃখী হবে । সতোপ্রধান সুখী আর তমোপ্রধান দুঃখী হয় । এই দেবতাদের কতো সতোগুণী স্বভাব । এখানকার মানুষদের কলিযুগী তমোগুণী স্বভাব । বাকি হ্যাঁ, মানুষ নম্বর অনুসারে ভালো বা মন্দ হয় । সত্যযুগে এমন কখনোই বলা হবে না যে, এ খারাপ । এ এমন । ওখানে মন্দ লক্ষণের কেউই হয় না । ওরা হলোই দৈবী সম্প্রদায় । হ্যাঁ, সাহুকার আর গরীব হতেই পারে । বাকি ভালো বা মন্দ গুণের তুলনা ওখানে হয় না, সবাই ওখানে সুখী থাকে । ওখানে দুঃখের কোনো কথাই নেই, নামই হলো সুখধাম । বাচ্চাদের তাই বাবার থেকে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নেওয়ার পুরুষার্থ করা উচিত । বাবার চিত্র আর লক্ষ্মী নারায়ণেরও রাখতে পারো । বলবে, কেউ তো এঁদের শেখানোর থাকবেন । এ তো ভগবান উবাচঃ, তাই না । ভগবানের নিজের কোনো শরীর নেই । তিনি এসে শরীর লোন নেন । মহিমাও আছে ভাগীরথের, তাহলে অবশ্যই রথের উপর তিনি বিরাজমান । ষাঁড়ের উপর বসে তো আর আসবেন না । শিব আর শঙ্করকে একত্রিত করে দিয়েছে, তাই ষাঁড় দিয়ে দিয়েছে । বাবা তাই বলেন -- তোমাদের কতো খুশী হওয়া উচিত, আমরা বাবার হয়েছি । বাবাও বলেন -- তোমরা আমার । বাবার পদপ্রাপ্তির কোনো খুশী নেই । টিচার তো টিচারই, তাঁকে পড়াতে হবে । বাবা বলেন -- বাচ্চারা, আমি হলাম সুখের সাগর । আমি যখন তোমাদের দত্তক নিয়েছি, তখন তোমরা অতীন্দ্রিয় সুখে ভাসছো । এই দত্তক নেওয়া তো অনেক ধরনের হয় । পুরুষও কন্যাকে এডপ্ট করে । তারা মনে করে, এ আমার পতি, তোমরা এখন বুঝতে পারো -- শিব বাবা আমাদের দত্তক নিয়েছেন । দুনিয়াতে কেউই এই বিষয়কে বোঝে না । তাদের এই গ্রহণ করা হলো - একে অপরের উপর কাম কাটারি চালানোর । মনে করো কোনো রাজা যদি বাচ্চাকে দত্তক নেয়, সুখের জন্য গ্রহণ করে, কিন্তু সে সুখ হলো অল্পকালের সুখ । সন্ন্যাসীরাও তো এডপ্ট করে, তাই না । ওরা বলবে, এ আমাদের গুরু, আর গুরু বলবে, এরা আমার শিষ্য বা অনুসরণকারী । এ কতো ধরণের দত্তক নেওয়ার পদ্ধতি । বাবা আবার বাচ্চাদের এডপ্ট করে । তাদের তো সুখ দেয়, কিন্তু বিয়ে করিয়ে দিলে আবার উত্তরাধিকার দিয়ে দেয় । গুরুর দত্তক নেওয়া কতো সুন্দর, এক নম্বর । এ তো হলো ঈশ্বরের দত্তক নেওয়া আত্মাদের নিজের করার জন্য । বাচ্চারা, তোমরা এখন সব ধরনের দত্তক নেওয়াকে দেখে নিয়েছো । সন্ন্যাসীরা থাকা সত্বেও ডাকতে থাকে - হে পতিত পাবন এসো, এসে আমাদের দত্তক নিয়ে পবিত্র বানাও । সবাই হলো ভাই - ভাই , কিন্তু যতক্ষণ না এসে আপন বানাবে, তাই না । মানুষ বলতে থাকে, বাবা আমরা দুঃখী হয়ে গেছি । রাবণ রাজ্যের অর্থও বুঝতে পারে না । কুশপুত্তলিকা বানিয়ে জ্বালাতে থাকে । যেমন কেউ যখন দুঃখ দেয় তখন মনে করে, এর নামে কেস করা উচিত, কিন্তু রাবণ কবে থেকে শত্রু হয়েছে ? অবশেষে এই শত্রু কি মরবে, নাকি না ? এই শত্রুকে তোমরাই জানো, আর এই শত্রুকে জয় করার জন্যই তোমাদের দত্তক নেওয়া হয় । বাচ্চারা, তোমরা এও জানো যে, বিনাশ হতে হবে, বোম্ব্সও স্বাভাবিকভাবেই তৈরী হয়েছে । এই জ্ঞান যজ্ঞের দ্বারাই বিনাশ জ্বালা প্রজ্জ্বলিত হয় । তোমরা এখন জানো যে, রাবণকে জয় করেই আমরা নতুন সৃষ্টিতে রাজত্ব করবো । বাকি তো সব পুতুল খেলা । রাবণের এই পুতুল তো অনেক খরচ করায় । মানুষ অনেক অর্থ ফালতু নষ্ট করে । এ কতো রাত - দিনের তফাৎ । তারা বিভ্রান্ত হতে থাকে, দুঃখী হতে থাকে, আর ধাক্কা খেতে থাকে । আর আমরা এখন শ্রীমতে চলে শ্রেষ্ঠাচারী সত্যযুগী স্বরাজ্য পাচ্ছি । শ্রেষ্ঠর থেকেও শ্রেষ্ঠ সত্যযুগ স্থাপনকারী শিব বাবা আমাদের শ্রেষ্ঠ দেবতা, বিশ্বের মালিক বানান । শ্রী শ্রী শিব বাবা আমাদের শ্রী বা শ্রেষ্ঠ বানান । শ্রী শ্রী কেবল একজনকেই বলা হয় । দেবতাদেরও শ্রী বলা হয়, কিন্তু তাঁরাও তো পুনর্জন্মে আসে, তাই না । বাস্তবে বিকারী রাজাদেরও শ্রী বলা উচিত নয় ।

এখন তোমাদের কতো বিশাল বুদ্ধির প্রয়োজন । তোমরা জানো যে, আমরা এই পড়া পড়ে ডবল মুকুটধারী তৈরী হই । আমরাই ডবল মুকুটধারী ছিলাম, এখন তো একটি মুকুটও নেই । সকলেই পতিত, তাই না । এখানে লাইটের মুকুট কাউকেই লাগানো যাবে না । এই চিত্রতে যেখানে তোমরা তপস্যাতে বসেছো, সেখানে লাইটের মুকুট দেওয়া উচিত নয় ভবিষ্যতে তোমাদের ডবল মুকুটধারী হতে হবে । বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, আমরা বাবার কাছে ডবল মুকুটধারী মহারাজা - মহারাণী হওয়ার জন্য এসেছি । তোমাদের এই খুশী থাকা উচিত । তোমাদের শিব বাবাকে স্মরণ করা উচিত, তাহলে তোমরা পতিত থেকে পবিত্র হয়ে স্বর্গের মালিক হয়ে যাবে, এখানে কোনো সমস্যার কথা নেই । এখানে তোমরা ছাত্ররা বসে আছো । ওখানে বাইরে মিত্র - সম্বন্ধীদের কাছে গেলে এই ছাত্রজীবন ভুলে যায় । তখন আবার মিত্র - সম্বন্ধী স্মরণে এসে যায় । এ তো মায়ার চাপ, তাই না । হোস্টেলে থাকলে ভালো পড়াশোনা করে । বাইরে এলে সঙ্গদোষে খারাপ হয়ে যায় । এখান থেকে বাইরে গেলে তখন এই ছাত্র জীবনের নেশা হারিয়ে যায় । শিক্ষিকা ব্রহ্মাণীদেরও বাইরে গেলে এতো নেশা থাকবে না, যতটা এখানে থাকলে থাকবে । এই মধুবন হলো হেড অফিস । স্টুডেন্টস টিচারের সামনে থাকে এখানে । এখানে কোনো বৈষয়িক চিন্তা নেই । এখানে রাত - দিনের তফাৎ । কেউ কেউ তো সারাদিন শিব বাবাকে স্মরণ করেই না । শিব বাবার সাহায্যকারীও হয় না । শিব বাবার বাচ্চা হলে, তাঁর সেবা করো । সেবা যদি না করো, তাহলে তো কুপুত্র হয়ে গেলে । বাবা তো বুঝতেই পারেন, তাই না । তাঁর দায়িত্ব হলো বলে দেওয়া -- তোমরা আমাকে স্মরণ করো । আমাকে যদি অনুসরণ করো তাহলে তোমাদের অনেক কল্যাণ । বিকারী সম্বন্ধ হলো ভ্রষ্টাচারী । তাদের ছাড়তে থাকো, তাদের সঙ্গ করো না । বাবা তো বোঝাতেই থাকেন, কিন্তু কারোর ভাগ্যে থাকলে, তবেই না । বাবা বলেন -- তোমাদের চার্ট রাখতে হবে, এতেও অনেক কল্যাণ হবে । কেউ তো এক ঘণ্টাও খুব মুশকিলের সঙ্গে স্মরণ করে । অন্তে তো আট ঘণ্টায় পৌঁছাতে হবে । তোমরা তো কর্মযোগী, তাই না । কারোর তো কখনো কোনো উৎসাহ এলে তখন চার্ট রাখে । এও ভালো । বাবাকে যতো স্মরণ করবে ততই লাভ । এমন মহিমা আছে যে -- অন্তিম সময়ে যে হরিকে স্মরণ করে । বার - বারের অর্থ কি ? যারা ভালোভাবে স্মরণ করে না, তখন জন্ম - জন্মান্তরের যে বোঝা থাকে, তা বার - বার জন্ম দিয়ে সাক্ষাৎকার করিয়ে তখন সাজা দেয় । যেমন কাশী কলবটে সাজা ভোগ করে, চট করে পাপের সাক্ষাৎকার হয় । অনেকেই অনেক ধাক্কা খায় । বাবার এই সেবায় যে বিঘ্ন উৎপন্ন করে, সে তো সাজার উপযুক্ত । বাবার এই সেবায় বাধা সৃষ্টি করে, যাঁর রাইট হ্যান্ড ধর্মরাজ । বাবা বলেন - নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করো কেননা বাবার স্মরণেই তোমরা পবিত্র হতে পারবে । না হলে নয় । বাবা তো প্রতিজ্ঞা করান, করা বা না করা তোমাদের মর্জি । যে করবে, সেই পাবে । অনেকেই আছে, যারা প্রতিজ্ঞা করে, তবুও খারাপ কাজ করতেই থাকে । ভক্তিমার্গে গায়ন আছে -- আমার তো এক, দ্বিতীয় আর কেউই নেই, কিন্তু সেই কথা এখন বুদ্ধিতে আসে যে, আত্মা কেন এমন গান গেয়ে এসেছে । সারাদিন গাইতেই থাকে -- আমার তো এক গিরিধারী গোপাল ----- এ তো সঙ্গম যুগে বাবা আসবেন, তখনই নিজের ঘরে নিয়ে যাবেন, তোমরা তো কৃষ্ণপুরী যাওয়ার জন্য পড়ছো, তাই না । প্রিন্সেস কলেজ হয়, যেখানে প্রিন্স - প্রিন্সেস পড়ে । সে তো হলো জাগতিক কথা । কখনো অসুস্থ হয়, কখনো আবার মারাও যায় । এ তো হলো প্রিন্স - প্রিন্সেস হওয়ার জন্য গড ফাদারলি ইউনিভার্সিটি । এ তো রাজযোগ, তাই না । তোমরা নর থেকে নারায়ণ হও । তোমরা বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে সত্যযুগের প্রিন্স - প্রিন্সেস হও । বাবা বসে কতো মজার কথা শোনান । এসব কথা স্মরণে তো থাকা উচিত, তাই না । কেউ তো এখান থেকে বাইরে গেলে ফেঁসে যায় । বাবার স্মরণও নম্বরের ক্রমানুসারে করে থাকে । যারা বেশী স্মরণ করে, তারা অন্যদেরও স্মরণ করাতে থাকবে । তোমাদের বুদ্ধিতে এই কথা থাকা উচিত যে, কিভাবে অনেকের কল্যাণ করা যায় । বাইরের যারা তারা প্রজাতে দাস - দাসী, আর এখনকার যারা তারা রাজার দাস - দাসী হবে । ভবিষ্যতে সব সাক্ষাৎকার হতে থাকবে । তোমরাও অনুভব করবে যে, বরাবর আমরা সম্পূর্ণ পুরুষার্থ করি নি, তোমরা অনেক চমৎকার দেখবে । যে ভালোভাবে পড়বে সে নবাব হবে । বাবা কতো বলতে থাকেন -- সেন্টারে প্রদর্শনী দেওয়া হয়, তখন তো বাচ্চাদের শিখিয়ে হুঁশিয়ার বানানো উচিত । বাবা তখন বুঝবেন, বি.কে সেবা করতে জানে । সেবা করলে তোমরা উঁচু পদ পাবে, তাই বাবা প্রদর্শনী বানানোর জন্য জোর দেন । এই চিত্র বানানো তো খুব সাধারণ । খুব সাহস করে প্রদর্শনীর চিত্র বানানোতে সাহায্য করা উচিত, তাহলে বাচ্চাদের বোঝাতে সহজ হবে । বাবা বোঝান --- টিচার্স, ম্যানেজার শান্ত । কোনো কোনো ব্রাহ্মণী যখন ম্যানেজার হয়ে যায়, তখন তাদের দেহ অভিমান এসে যায় । তারা নিজেদের অতি চালাক মনে করে । আমরা খুব ভালোভাবে চলি । অন্যদের জিজ্ঞেস করলে দশ কথা শুনিয়ে দেবে । মায়া অনেক বড় চক্করে ফেলে দেয় । বাচ্চাদের তো সেবাতে থাকা উচিত । বাবা হলেন দয়ালু, দুঃখহর্তা, সুখকর্তা, তাই বাচ্চাদেরও এমন হতে হবে, তোমাদের কেবল বাবার পরিচয় দিতে হবে । বাবা বলেন যে - মামেকম্ ( আমাকে ) স্মরণ করো, তাহলে নরকবাসী থেকে স্বর্গবাসী হয়ে যাবে । এ কতো সহজ । বাবা বলেন -- আমাকে স্মরণ করলে তোমরা পতিত থেকে পবিত্র হয়ে শান্তিধাম, সুখধামে এসে যাবে । নিশ্চিত হলে সম্পূর্ণ লিখিয়ে নেওয়া উচিত । এমন লিখেও থাকে যে -- বরাবর ব্রহ্মাকুমার - কুমারীরা শিববাবার থেকে উত্তরাধিকার নেয়, তখন মনে করবে যে, অবশ্যই এমন বাবার হওয়া উচিত । শরণে আসা উচিত । তোমরা তো বাবার শরণে এসেছো অর্থাৎ বাবার হয়েছো ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বাবার সমান দয়ালু, দুঃখহর্তা, সুখকর্তা হতে হবে ।

২ ) সঙ্গদোষ থেকে নিজেকে খুব রক্ষা করতে হবে । এক বাবাকেই অনুসরণ করতে হবে । অনেকের কল্যাণের সেবা করতে হবে । কখনো অহংকারে এসে অতি চালাক হয়ো না ।

বরদান:-
সঙ্কল্পের ইঙ্গিতে সমস্ত কারবার চালিয়ে সদা লাইটের মুকুটধারী ভব

যে বাচ্চারা সদা লাইট থাকে, তাদের সঙ্কল্প বা সময় কখনোই ব্যর্থ যায় না । সেই সঙ্কল্পই তারা নেয় যা সিদ্ধ হবে । যেমন মুখে বললে কথা স্পষ্ট হয়, তেমনই সঙ্কল্পের দ্বারা সমস্ত কারবার চলে । যখন এমন বিধি আপন করে নেবে, তখনই এই সাকার বতন সূক্ষ্ম বতন হবে । এরজন্য সাইলেন্সের শক্তি জমা করো আর লাইটের মুকুটধারী হও ।

স্লোগান:-
এই দুঃখধাম থেকে পৃথক হয়ে যাও, তাহলে কখনোই দুঃখের ঢেউ আসতে পারবে না ।